PDA

View Full Version : ইসলামে দণ্ডবিধি (হদ-তাযির)- ০৩



ইলম ও জিহাদ
07-31-2018, 11:01 AM
হদের প্রকারভেদ

হানাফি মাযহাবে ছয় প্রকার অপরাধের শাস্তি হদের অন্তর্ভুক্ত:
১. যিনা।
২. মদপান।
৩. মদ ব্যতীত অন্য কোন নেশাজাত দ্রব্য সেবনে মাতাল হয়ে পড়লে। অবশ্য এর শাস্তি মদপানের শাস্তির সমান তথা আশি দোররা।
৪. কজফ তথা পূত-পবিত্র কোন স্বাধীন মুসলমানকে যিনার অপবাদ দেয়া ।
৫. চুরি।
৬. রাহাজানি।

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহ. (১২৫২হি.) ইবনে কামাল পাশা রহ. (৯৪০হি.) থেকে বর্ণনা করেন,
وهي ستة أنواع: حد الزنا، وحد شرب الخمر خاصة، وحد السكر من غيرها والكمية متحدة فيهما، وحد القذف، وحد السرقة، وحد قطع الطريق. اهـ

হদ ছয় প্রকার: ১. যিনার হদ। ২. মদপানের হদ। ৩. মদ ব্যতীত অন্য কোন মাদক সেবনে মাতাল হওয়ার হদ। তবে শাস্তির পরিমাণ উভয়টাতে একই। ৪. কজফ তথা যিনার অপবাদ লাগানোর হদ। ৫. চুরির হদ। ৬. রাহাজানির হদ। [রদ্দুল মুহতার: ৪/৩]



হদসমূহের উপর কিঞ্চিত আলোকপাত

১. যিনা
যিনার শাস্তি: অবিবাহিত হলে একশো বেত্রাঘাত আর বিবাহিত হলে রজম তথা প্রস্তারাঘাতে হত্যা। বেত্রাঘাত কুরআনে কারীমের আয়াত দ্বারা, আর রজম হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
{الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ}

যিনাকারী পুরুষ ও যিনাকারী নারী: প্রত্যেককে একশত চাবুক মারবে। তোমরা যদি আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখ, তাহলে তাদের প্রতি করুণাবোধ যেন আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে। আর মুমিনদের একটা দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। [নূর: ২]

হাদিসে এসেছে,
لا يحل دم امرئ مسلم يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله إلا بإحدى ثلاث النفس بالنفس والثيب الزاني والمارق من الدين التارك للجماعة.

যে মুসলমান স্বাক্ষী দেয়- আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং আমি আল্লাহর রাসূল; তিন কারণের কোন একটা ব্যতীত তার রক্ত হালাল নয়: জানের বদলায় জান, বিবাহিত যিনাকার এবং মুসলমানদের জামাআত পরিত্যাগকারী দ্বীনত্যাগী (মুরতাদ)। [সহীহ বুখারী: হাদিস নং ৬৪৮৪ , সহীহ মুসলিম: হাদিস নং ৪৪৬৮]

ইসলামে রজমের বিধান শুরু হয় ইয়াহুদিদের দিয়ে। দুই ইয়াহুদি নারী-পুরুষ যিনা করে। ইয়াহুদিরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে আসে। তিনি তাদের উভয়কে প্রস্তারাঘাতে হত্যা করেন এবং বলেন,
اللهم إني أول من أحيا أمرك إذا أماتوه

হে আল্লাহ! তারা যখন তোমাদের আদেশ মিটিয়ে দিয়েছে, তখন সর্ব প্রথম আমি তা যিন্দা করলাম। [সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, বাবু রজমিল ইয়াহুদ; সহীহ বুখারী, কিতাবুল হুদুদ, বাবুররজমি ফিল বালাত্ব।]

মায়িয আলআসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু যিনা করে ফেলেন। তিনি তাওবা করে লজ্জিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিজ অপরাধ স্বীকার করে হদ কায়েম করতে বলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু তিনি বার বার হদ কায়েমের জন্য আবেদন করতে থাকেন। এভাবে চার বার করার পর তিনি রজমের আদেশ দেন। ফলে তাকে প্রস্তারাঘাতে হত্যা করা হয়। [সহীহ বুখারী, কিতাবুল হুদুদ, বাব: আর-রজমু বিল মুসাল্লা; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, বাব: মানিতারাফা আলা নাফসিহি বিয-যিনা।]

জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা যিনা করে ফেলেন। তিনি তাওবা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে হদ কায়েমের আবেদন জানান। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মায়িয আলআসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো তাকেও রজম করে হত্যা করেন। [সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, বাব: মানিতারাফা আলা নাফসিহি বিয-যিনা।]

এক লোক এক বাড়িতে কর্মচারি ছিল। সে বাড়ির মালিকের স্ত্রীর সাথে যিনা করে ফেলে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উপর হদ কায়েম করেন। কর্মচারি লোকটি অবিবাহিত ছিল তাই তাকে একশো বেত্রাঘাত করেন এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দেন। আর মালিকের স্ত্রী বিবাহিত হওয়ায় তাকে রজম করে হত্যা করেন। [সহীহ বুখারী, কিতাবুশ শুরূত, বাবুশ শুরূতিল্লাতি লা তাহিল্লু ফিলহুদুদ; সহীহ মুসলিম, কিতাবুল হুদুদ, বাব: মানিতারাফা আলা নাফসিহি বিয-যিনা।]

উল্লেখ্য যে, হানাফি মাযহাব মতে উক্ত নির্বাসন হদ হিসেবে নয়, সিয়াসত হিসেবে। ইমামুল মুসলিমিন যদি কাউকে নির্বাসন দেয়া উচিৎ মনে করেন তাহলে দিতে পারেন। অন্যথায় নির্বাসন দেয়া জরুরী নয়। আর যদি নির্বাসন দিতে গেলে উক্ত লোক মুরতাদ হয়ে যাওয়ার বা গোমরাহ হয়ে যাওয়ার বা অন্যদের ক্ষতি করার সম্ভাবনা থাকে কিংবা অন্য কোন অনিষ্টের সম্ভাবনা থাকে তাহলে নির্বাসন দেয়া উচিৎ হবে না। [দেখুন : শরহু মুখতাসারিত ত্বহাবি, ৬/১৬২-১৬৩; বাদায়িউস সানায়ি: ৫/৪৯৬]


যিনা কিভাবে প্রমাণ হবে?
যিনা প্রমাণ হতে চার জন আদেল-ন্যায়পরায়ণ পুরুষের সাক্ষ্য জরুরী। মহিলাদের সাক্ষ্য হদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
{وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ}

তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা অশ্লীল কাজ (তথা যিনা) করে, তাদের সম্পর্কে নিজেদের মধ্য হতে চার জন্য সাক্ষী রাখ। [নিসা: ১৫]

তবে যিনাকার ব্যক্তির নিজের স্বীকারোক্তির দ্বারা যিনা সাব্যস্ত হয়ে যাবে, যদিও অন্য কোন সাক্ষী না থাকে। তবে স্বীকারোক্তি কতবার লাগবে সে ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। হানাফি মাযহাব মতে চার মজলিসে চার বার স্বীকারোক্তি লাগবে। যেমন- হযরত মায়িয আলআসলামি রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার মজলিসে চার বার স্বীকারোক্তি নিয়েছেন।

নওজোয়ান
08-03-2018, 07:42 PM
জাযাকাল্লাহু খাইরান। আল্লাহ তায়ালা আপনার ইলম ও আমলের মধ্যে বরকত দান করুন। আমিন।