PDA

View Full Version : মুফতি ভাইদের কাছে একটি ফতোয়া জিজ্ঞাসা।



ফুরসান৪৭
08-02-2018, 10:19 AM
মুফতি ভাইদের কাছে একটি ফতোয়া জিজ্ঞাসা।
কোন মুসাফির যদি ওয়াতনে ইকামাহ করে তাহলে সে কখন মুসাফির হবে? শরীয়তে শহর/গ্রাম বলতে কি বুঝানো হয়েছে। আমাদের দেশে শহরের সিমা কতটুকু জানালে আপনার দ্বীনি ভাইয়েরা উপকৃত হবেন।এবং হানাফি মাজহাব ও সালাফিদের মতামত বিস্তারিত দিলে উপকৃত হবো।

خالد سيف الله
08-03-2018, 06:02 AM
ওয়াতনে একামাহ থেকে ছফরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে ঐ অঞ্চলের সিমানা অতিক্রম করার জিবরাইল সে মুসাফির ববলে বিবেচিত হবে৷

বাংলাদেশর মুহাক্কিক ওলামাগনের মতে যেই সমস্ত গ্রামে চেয়ারম্যান মেম্বার আছে উহা শহর ৷ অন্যথায় গ্রামছাড়া

Diner pothe
08-03-2018, 04:51 PM
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده. والصلاة والسلام على نبي الذي لا نبي بعده. اما بعد:
উত্তর: হানাফি মাজহাব মতে, কোন ব্যক্তির ৭৮ কিলোমিটার সফরের পর কোন এলাকায় ইকামাতের নিয়তে পনের দিন বা ততোধিক অবস্থানের জায়গাকে ওয়াতনে ইকামাহ বলে। যদি ইকামাতের নিয়ত না করে বরং নিয়ত ছাড়াই অবস্থান করতে থাকে তাহলে মুকিম হবে না। অনুরূপ যদি পনের দিনের কম অবস্থানের নিয়ত করে তাহলেও মুকিম হবে না। যখন কোন ব্যক্তি কোন এলাকায় ইকামাতের নিয়ত করে মুকিম হলো, তখন সে ঐ এলাকা থেকে যদি আবার ৭৮ কিলোমিটার সফরের নিয়তে বের হয়, তাহলে ঐ এলাকার সিমানা অতিক্রম করার পর সে মুসাফির বলে গণ্য হবে এবং কসর করবে।
শরীয়তে শহর/গ্রাম বলতে কি বুঝানো হয়েছে। আপনার এ কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে, আপনার প্রশ্ন হলো, শহরের কোন জায়গা অতিক্রমের পর থেকে কসর শুরু হবে? অনুরূপ গ্রামের কোন জায়গা অতিক্রমের পর থেকে কসর শুরু হবে?
যদি আপনার উদ্দেশ্য এটা হয়, তাহলে উত্তর হলো,
শহরের সীমা অতিক্রম করার পর কসর শুরু হবে। এক শহরের মধ্যে অনেকগুলো এলাকা থাকে। অনেক মহল্লা, ওয়ার্ড- ইত্যাদি থাকে। এ সবগুলো মিলে একটি এলাকা ধরা হবে এবং এর সীমা অতিক্রম করার পর কসর শরু করবে।
আর গ্রামের ক্ষেত্রে গ্রামের সীমা অতিক্রম করার পর কসর করবে।
মোটকথা: পুরা শহর একটি গ্রামের হুকুমে আর একটি গ্রামের হিসাবতো স্পষ্টই।
শহরের সীমা হলো, শহরের আবাদির সীমা অর্থাৎ যেখানে শহরের আবাদি শেষ সেখানে তার সীমাও শেষ।
فقط. والله تعالى أعلم بالصواب.

নওজোয়ান
08-03-2018, 07:38 PM
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده. والصلاة والسلام على نبي الذي لا نبي بعده. اما بعد:
উত্তর: হানাফি মাজহাব মতে, কোন ব্যক্তির ৭৮ কিলোমিটার সফরের পর কোন এলাকায় ইকামাতের নিয়তে পনের দিন বা ততোধিক অবস্থানের জায়গাকে ওয়াতনে ইকামাহ বলে। যদি ইকামাতের নিয়ত না করে বরং নিয়ত ছাড়াই অবস্থান করতে থাকে তাহলে মুকিম হবে না। অনুরূপ যদি পনের দিনের কম অবস্থানের নিয়ত করে তাহলেও মুকিম হবে না। যখন কোন ব্যক্তি কোন এলাকায় ইকামাতের নিয়ত করে মুকিম হলো, তখন সে ঐ এলাকা থেকে যদি আবার ৭৮ কিলোমিটার সফরের নিয়তে বের হয়, তাহলে ঐ এলাকার সিমানা অতিক্রম করার পর সে মুসাফির বলে গণ্য হবে এবং কসর করবে।
শরীয়তে শহর/গ্রাম বলতে কি বুঝানো হয়েছে। আপনার এ কথা থেকে বুঝা যাচ্ছে, আপনার প্রশ্ন হলো, শহরের কোন জায়গা অতিক্রমের পর থেকে কসর শুরু হবে? অনুরূপ গ্রামের কোন জায়গা অতিক্রমের পর থেকে কসর শুরু হবে?
যদি আপনার উদ্দেশ্য এটা হয়, তাহলে উত্তর হলো,
শহরের সীমা অতিক্রম করার পর কসর শুরু হবে। এক শহরের মধ্যে অনেকগুলো এলাকা থাকে। অনেক মহল্লা, ওয়ার্ড- ইত্যাদি থাকে। এ সবগুলো মিলে একটি এলাকা ধরা হবে এবং এর সীমা অতিক্রম করার পর কসর শরু করবে।
আর গ্রামের ক্ষেত্রে গ্রামের সীমা অতিক্রম করার পর কসর করবে।
মোটকথা: পুরা শহর একটি গ্রামের হুকুমে আর একটি গ্রামের হিসাবতো স্পষ্টই।
যে সমস্ত জেলা শহরে সিটি আছে, সেখানে সিটি অতিক্রম করার পর কসর করবে। যেমন: ঢাকা শহর। এখান থেকে কেউ যদি সফর শুরু করে, তাহলে সিটি অতিক্রম করার পর কসর করবে। সুতরাং ঢাকা থেকে সফর করলে গাবতলী, কাঁচপুর ব্রীজ, সদরঘাট, আব্দুল্লাহপুর ব্রীজ পার হওয়ার পর কসর করবে। আর যে শহরে সিটি নেই, সেখানে যতটুকু জায়গাকে শহর ধরা হয়, তা অতিক্রমের পর কসর করবে।
فقط. والله تعالى أعلم بالصواب.

জাযাকাল্লাহু খাইরান ফিদ্দারইন। আল্লাহ তায়ালা আপনার ইলমও আমলের মধ্যে বরকত দান করুন। আপনার ইলম দ্বারা আমাদের সকলকে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

diner pothik
08-04-2018, 06:41 PM
জাযাকুমুল্লাহ

ফুরসান৪৭
08-06-2018, 09:37 PM
জাযাকাল্লাহ ভাই। দ্বীনের পথিক ভাই আপনার কাছে আরো কিছু বিষয় জানতে চাই। সর্বক্ষেত্রে দলিল দিলে ভাল হয়
ভাই শহর বলতে কি একটা ইউনিয়ন কে বলা যাবে? নাকি যে গ্রামে ওয়ার্ড মেম্বার আছে সেটাকেও শহর বলা যাবে? যদি না বলা যায় তাহলে শরীয়ত কায়েম থাকলে তাদের উপর কি জুম্মার সালাত ওয়াজিব হবে না?
আরেকটা কথা শরিয়তের পরিভাষায় শহরের সংগা কি? সে হিসেবে পুরা ঢাকা কি একটা শহর হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। এবং আরবি বাংলায় ইবারত সহ দলিল উল্লেখ করলে আরো ভালো হবে।

Diner pothe
08-14-2018, 06:26 PM
জাযাকাল্লাহ ভাই। দ্বীনের পথিক ভাই আপনার কাছে আরো কিছু বিষয় জানতে চাই। সর্বক্ষেত্রে দলিল দিলে ভাল হয়
ভাই শহর বলতে কি একটা ইউনিয়ন কে বলা যাবে? নাকি যে গ্রামে ওয়ার্ড মেম্বার আছে সেটাকেও শহর বলা যাবে? যদি না বলা যায় তাহলে শরীয়ত কায়েম থাকলে তাদের উপর কি জুম্মার সালাত ওয়াজিব হবে না?
আরেকটা কথা শরিয়তের পরিভাষায় শহরের সংগা কি? সে হিসেবে পুরা ঢাকা কি একটা শহর হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। এবং আরবি বাংলায় ইবারত সহ দলিল উল্লেখ করলে আরো ভালো হবে।
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين* والصلاة والسلام على النبي الكريم* وعلى أله واصحابه اجمعين* اما بعد:
হাদিসে নির্দিষ্টভাবে শহরের কোন সংজ্ঞা দেয়া হয় নি। যার ফলে শহরের সংজ্ঞা নিয়ে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। প্রত্যেক ইমাম তার যুগ অনুযায়ী সংজ্ঞা দিয়েছেন। এর প্রত্যেকটিই শহরের সংজ্ঞা। যে এলাকার অবস্থা এ সংজ্ঞার যে কোন একটার সাথে মিলবে সেটাই শহর বলে গণ্য হবে।

*শহরের সংজ্ঞায় ইমাম আবু হানিফা রহ. (মৃত্: ১৫০ হিজরী) বলেন,
أن المصر الجامع ما يجتمع فيه مرافق أهلها ديناً ودنياً
শহর হলো, যেখানে মানুষ নিজের দ্বীনি প্রয়োজন এবং দুনিয়াবী প্রয়োজন মিটাতে পারে। (আল মুহিতুল বুরহানী২/১৫৩)

*ইমাম আবু ইউসুফ রহ.(মৃত: ১৮২ হিজরী) থেকে একাধিক বর্ণনা রয়েছে,
وعن أبي يوسف روايات ذكر في الإملاء كل مصر فيه منبر وقاض ينفذ الأحكام ويقيم الحدود فهو مصر جامع تجب على أهله الجمعة، وفي رواية قال: إذا اجتمع في قرية من لا يسعهم مسجد واحد بنى لهم الإمام جامعا ونصب لهم من يصلي بهم الجمعة، وفي رواية لو كان في القرية عشرة آلاف أو أكثر أمرتهم بإقامة الجمعة فيها،
(ক) যেখানে কাযী থাকে এবং ইসলামের বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠিত থাকে, হদ্ব-কিসাস কায়েম করা হয়।
(খ) যে এলাকার সকল মানুষ ঐ এলাকার সবচেয়ে বড় মসজিদে একত্রিত হলে, সকলের জায়গা হবে না/সংকুলান হবে না।
(গ) যে এলাকায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করে।
(আল মুহিতুল বুরহানী: ২/১৫৩)

*ইমাম আবুল হাসান কারখী রহ.(মৃত: ৩৪০ হিজরী) বলেন,
ذكر الكرخي أن المصر الجامع ما أقيمت فيه الحدود ونفذت فيه الأحكام،
যেখানে ইসলামের বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং হদ্ব-কিসাস কায়েম করা হয়। (বাদায়েউস সানায়ে: ৩/১৯)

*কিছু সংখ্যক হানাফী ফকীহদের মত হলো,
وقال بعض أصحابنا: المصر الجامع ما يتعيش فيه كل محترف بحرفته من سنة إلى سنة من غير أن يحتاج إلى الانتقال
إلى حرفة أخرى،
যেখানে প্রত্যেক পেশাজীবি তার পেশা নিয়ে এক বছর জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, এর মধ্যে তার পেশা পাল্টানোর প্রয়োজন পরে না। (এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সেখানে অনেক মানুষ বসবাস করে) (বাদায়েউস সানায়ে:৩/১৯)

*ইমাম সুফিয়ান সাওরী রহ. (মৃত: ১৬১ হিজরী) বলেন,
وقال سفيان الثوري: المصر الجامع ما يعده الناس مصرا عند ذكر الأمصار المطلقة،
মানুষ যেটাকে শহর বলে মনে করে সেটাই শহর। (বাদায়েউস সানায়ে:৩/২০)

*ইমাম আবু হানিফ রহ. এর অন্য বর্নণায় রয়েছে,
وروي عن أبي حنيفة أنه بلدة كبيرة فيها سكك وأسواق ولها رساتيق وفيها وال يقدر على إنصاف المظلوم من الظالم بحشمه وعلمه أو علم غيره والناس يرجعون إليه في الحوادث وهو الأصح.
বড় গ্রাম। যেখানে হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, একাধিক গলি রয়েছে। আর সেখানে রাষ্ট্র্রপ্রতিনিধি রয়েছে, সে মানুষের মাঝে ইনসাফ করে, মানুষ বিভিন্ন মাসায়েলের ক্ষেত্রে তার দ্বারস্ত হয়। (বাদায়েউস সানায়ে:৩/২০)
উল্লিখিত সবগুলো সংজ্ঞাই শহরের সংজ্ঞা। সুতরাং কোন এলাকার অবস্থা এর যে কোন একটির সাথে মিললে সেটা শহর বলে গণ্য হবে।
এ হিসেবে বাংলাদেশের প্রায় সব গ্রামই শহরের হুকুমে। তাতে জুমআ আদায় করা ওয়াজিব। তবে অজপাড়াগাও, চরাঞ্জলের কিছু গ্রাম যেখানে
দু-তিন শত মানুষের বসবাস, সেখানে জুমআ সহিহ হবে না। এরকম গ্রামের সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক কম।

বর্তমানের ওয়ার্ডমেম্বার যেহেতু ইসলামী নয়, তাই মেম্বার থাকা আর না থাকার দ্বারা হুকুমের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য আসবে না।
ইসলামী হুকুমাত থাকা অবস্থায় যদি কোন অজপাড়াগায়, চরাঞ্জলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোন কাযী পাঠানো হয়, সেখানে গিয়ে হদ্ব-কিসাস কায়েম করার জন্য, তাহলে ঐ কাযীর কারণে তা শহর বলে গণ্য হবে। যদি কাযীকে ঐ এলাকা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে তা আবার গ্রামে রুপান্তরিত হবে। (আল মুহিতুল বুরহানী: ২/১৫৩)
وعن محمد رحمه الله أنه قال: كل موضع مصر للإمام فهو مصر حتى أن الإمام إذا بعث إلى قرية نائباً لإقامة الحدود فيهم وقاضياً يقضي بينهم صار ذلك الموضع مصراً، وإذا عزله ودعاه إلى نفسه عادت قرية كما كانت.

*বর্তমানের উলামায়ে কেরাম পূরা ঢাকা সিটিকে একটি এলাকা বলে ফতোয়া দিয়েছেন। এর স্বপক্ষে দলিল হলো,
ইমাম মুহাম্মদ রহ. (মৃত: ১৮৯ হিজরী) এর কিতাবুল মাবসুতে আছে,
قلت أرأيت إذا خرج من مصره وهو يريد السفر فحضرت الصلاة وأمامه من مصره ذلك دار أو داران قال يصلي صلاة المقيم ما لم يخرج من مصره ذلك حتى يخلف ذلك المصر.
(মাবসুতের রাবী ইমাম আবু সুলাইমান আল জাওযাজানী রহ. বলেন) আমি ইমাম মুহাম্মদকে প্রশ্ন করলাম, এক ব্যক্তি সফরের উদ্দেশ্যে তার শহর থেকে বের হয়েছে, কিন্তু তার সামনে এখনো শহরের দু-একটি বাড়ি বিদ্যমান আছে অর্থাৎ সে এখনো পুরাপুরিভাবে শহর থেকে বের হয়নি। তাহলে সে কি কসর করবে না পূরা নামাজ পড়বে? উত্তরে ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন, পুরাপুরি ভাবে শহর থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত সে কসর করবে না; বরং মুকিম হিসেবে পূর্ণ নামাজ আদায় করবে। (কিতাবুল মাবসুত; ইমাম মুহাম্মদ রহ.: ১/১৩৮)
এখানে ইমাম মুহাম্মদ পুরা শহরকে একটি এলাকা ধরেছেন। তাই পুরা শহর একটি এলাকা বলে গণ্য হবে।

আরেকটি কথা, আমাদের অনেক সাথী ভাই মনে করেন, দারুল হারবে জুমআ, ঈদের নামাজ নেই। এ ধারনা ঠিক নয়। বরং দারুল হারবেও এগুলো আদায় ওয়াজিব।

আরো বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: নিচে উল্লিখিত কিতাবের সফর অধ্যায়।
(১) মাজউল আনহুর
(২) মাবসুতে সারাখসী
(৩) ফতোয়ায়ে শামী
(৪) মারাকিল ফালাহ
(৫) আল বাহরুর রায়েক
ইত্যাদি সহ আরো ফিকহের কিতাবাদী
فقط. و الله اعلم بالصواب

নওজোয়ান
08-16-2018, 03:11 PM
জাযাকাল্লাহ।

Muhammad bin maslama
08-16-2018, 10:18 PM
জাযাকাল্লাহ।
পুরাতন সাথীদের কমেন্ট চাই।

FAISALROSID
08-26-2018, 10:51 PM
Jajhakallah khairan