PDA

View Full Version : শাইখ যাওয়াহিরি এর বার্তা



abcd1
11-02-2015, 09:12 AM
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
শাইখ আইমান আল জাওয়াহিরি (হাফিজাহুল্লাহ) এর নতুন অডিও বার্তা
“ এসো জেরুজালেম স্বাধীন করতে ঐক্যবদ্ধ হই”
ডাউনলোড
https://archive.org/details/Abu_263
বার্তাটির সারসংক্ষেপ ঃ
তিনি ফিলিস্তিনিদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কাফির ইয়াহুদিদের উপর ছুরি হামলার জন্য।এটি ফিলিস্তিন স্বাধীন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ।
তিনি বলেছেন মিসরে এবং শামে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন এবং মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান ফিলিস্তিন স্বাধীন করার জন্য
ইসলামকে ধ্বংস করতে রাফিজি (শিয়া) ও ক্রুসেডাররা ঐক্যবদ্ধ যেমনটি অতীতে তাতাররা ও ফ্রাঞ্জরা (ক্রুসেডার) ছিল
জাওয়াহিরি সকল মুজাহিদিনদের নিজেদের মধ্যে মারামারি বন্ধ করতে বলেছেন ।
শাম হচ্ছে ফিলিস্তিন মুক্ত করার দরজা এবং আবারও মুজাহিদিনদের নিজেদের মধ্যে মারামারি বন্ধ করতে বলেন
তিনি আলী (রাঃ) ও মুয়াবিয়াহ (রাঃ) এর উদাহরন দেন। তিনি বলেন আলী (রাঃ) ও মুয়াবিয়াহ (রাঃ) কোন ভুমি দখল করতে পারেননি যখন তারা নিজেদের মাঝে যুদ্ধ করেছিল
তিনি বলেন আমরা চাই উম্মাহ সিদ্ধান্ত নিবে কে জনগনের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং নবুওতের আদলে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত করবে
জাওয়াহিরি (হাঃ)
তিনি বলেছেন যারা ইসরাইলকে সমর্থন করে তাদের অবশ্যই এর জন্য মূল্য দিতে হবে ।
তিনি বলেন আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েল এর কাছে ইসলামিক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে ।
ইংরেজি অনুবাদ করেছেন
Maghrebi witness
@MaghrebiWW1

Ahmad Faruq M
11-02-2015, 11:23 PM
জাযাকাল্লাহ,
জি ভাই সত্যিকারে ইসলামী খেলাফত ফিরিয়ে আনার জন্য আহবান করা হয়েছে, মিথ্যা বা খারেজী খেলাফত নয়।

কাল পতাকা
11-03-2015, 03:09 AM
শাইখ আইমান আল জাওয়াহিরি (হাফিজাহুল্লাহ) এর নতুন অডিও বার্তা
এসো জেরুজালেম স্বাধীন করতে ঐক্যবদ্ধ হই

এর উপর ভিত্তি করে এক ভাই বলছিল এখানে aq, isis ও অন্যান্য সবাইকে এক হয়ে আক্রমন করার কথা বলা হয়েছে। আর মুসলমান কখনো খারেজিদের সাথে মিলতে পারে না। তাই তাদের খুরুজটা নিশ্চিত নয়।

" ভাই এখানে তাদেরকে আপন অবস্থায় থেকে এক হতে বলা হচ্ছে না বা খেলাফত দ্বারা খারেজি খিলাফাহ বুঝানো হচ্ছে না "

এখানে পূর্ণ শরিয়াহ মেনে এক হতে বলা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা আমাকে সহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।

abcd1
11-03-2015, 05:02 PM
খিলাফাত নিয়ে ইসলামিক স্টেট এর সাথে আল কায়েদার মতবিরোধ আছে। আল কায়েদা খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করতে চায় সেটা তারা অনেক আগে থেকেই বলে আসছে এবং তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সত্যি কথা বলতে জাওয়াহিরি (হাঃ) জাবহাত আল নুসরাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসলামিক স্টেট এর সাথে কাজ করতে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে। আপনারা বলেন আল কায়েদা যদি ইসলামিক স্টেট কে খারেজী ভাবত তাহলে কি জাওয়াহিরি (হাঃ) নুসরাকে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দিতেন? এই অডিওতেও তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইয়াহুদি ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে কাজ করতে বলেন
অজানা সত্যি হচ্ছে শামে এত ফিতনার পরও অনেক ফ্রন্টলাইনে ইসলামিক স্টেট এর সাথে নুসরার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে এখনও কিছু ভাই সত্য না জেনে তাদেরকে খারেজী বলে যাচ্ছে।

কাল পতাকা
11-04-2015, 09:59 AM
আখি abcd1,
খিলাফত নিয়ে আল-কায়েদার সাথে নয় বরং শরিয়ার স্পষ্ট নুসুসের সাথে তাদের তাগুত রূপি খিলাফাহ যার উপর ঈমান না আনলে সবাইকে তাকফির করছে তা বিরোধ পূর্ণ।

" সত্যি কথা বলতে জাওয়াহিরি (হাঃ) জাবহাত আল নুসরাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসলামিক স্টেট এর সাথে কাজ করতে "

ভাই আপনাকে! আবার একটু কষ্ট করে বয়ানটা শুনুন। কোথাও আপনার উপরের কথার দিকে তো ইঙ্গিত নেইই বরং ইসলামিক স্টেট এর নামই কোথাও নেয়া হয় নাই।
বরং বলা হয়েছে সমস্ত জাবাহাত ( বাহিনী ) সমূহকে একত্র হতে। এর দ্বারা যেমন কুফফাররা উদ্দেশ্য হবে না তেমনি খাওয়ারেজরাও উদ্দেশ্যিত হবে না।

" অজানা সত্যি হচ্ছে শামে এত ফিতনার পরও অনেক ফ্রন্টলাইনে ইসলামিক স্টেট এর সাথে নুসরার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল "

ভাই প্রথম কথা হচ্ছে অজানা সত্যির কোন ভিত্তি ইসলামে নেই। তারপরও এক সাথে যুদ্ধ করার দ্বারা এই কথা প্রমানিত হয় না যে তারা খাওয়ারেজ নয়। কারন আল্লাহর নবী (সাঃ) কাফেরদের সাথে মিলেও তো যুদ্ধ করেছেন।
আই-এস যে এমন অনেকের সাথেই যুদ্ধ করেছে যাদেরকে এখন তারা তাকফির করছে যেমন ফ্রি সিরিয়ান আর্মি, জাবহাতুল ইসলামিয়ার সব দল।

" কিছু ভাই সত্য না জেনে তাদেরকে খারেজী বলে যাচ্ছে "

ভাই ইহা এখন আর না জানা বিষয় নয়। এটা উপর শরীয়তের স্পষ্ট দলিল প্রমাণিত । বরং যারা এখনো তাদেরকে সঠিক বলছে তারাই মূলত শরিয়াহ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।

musafir2
11-04-2015, 03:01 PM
মুহতারাম abcd1 ভাই ! অনুগ্রহ পুর্বক নিচের লেখাটি পড়ুন !

শাইখআবুওয়ালিদ(রাহিমাহুল্লাহ)রজবানবন্দিরঅডিও
-----ভাই, এই ঘটনাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তবে ফেসবুক থেকে পাওয়া বিধায় অনেকে বিশ্বাস করতে চাইবে না। যদি পসিবল হয় এটি ভাইদের জানিয়ে সত্যতা যাচাই করা যায় কিনা..যদি সময় পান। ব্যস্ততা নাই।
------------------------------------------------------------------
#শাইখ আবু ওয়ালিদ(রাহিমাহুল্লাহ)র জবানবন্দির অডিও --যাকে ও তার স্ত্রীকে আইসিস নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে।।[ যিনি ছিলেন আইসিস তথা দাওলাহর একজন প্রাক্তন বিচারক,দাওলাহর খারেজীপনার কারণে তিনি দাওলাহ ত্যাগ করেন]

***পড়ুন, জানুন-আইসিস আসল রূপ, তাদের ভিতরকার ভন্ডামী,তাদের খারেজীপনার দৃষ্টান্ত...[নিশ্চয়ই মৃত্যু পথ যাত্রী ব্যক্তি মিথ্যা বলে না]

ﺑﺴﻢﺍﻟﻠﻪﺍﻟﺮﺣﻤﺎﻥﺍﻟﺮﺣﻴﻢ
কলামুন উপত্যকায় আইএসের প্রধান বিচারপতী শাইখ আবুল ওয়ালীদ-এর অডিও বার্তার অনুবাদ ৷
.." আমাদের সম্পর্কে যা শোনার আমাদের থেকেই শোনো, তৃতীয় ব্যক্তি থেকে নয় "..

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য ৷ এবং দুরুদ বর্ষিত হোক তার রাসূলের উপর ৷আল্লাহ বলেন: হে ঈমানদাররা, যখন তোমাদের কাছে কেউ কোন সংবাদ নিয়ে আসে তখন তা যাচাই করে দেখো ৷ আমার এই বক্তব্য তার জন্য যে কলামুনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে ৷ যে বিভিন্ন বিষয় সত্য-মিথ্যার
ব্যাপারে দোদুল্য মান ৷ কলামুনে এমন কোনো ব্যক্তি আছে কি যার ব্যাপারে কুৎসা রটানোর ক্ষেত্রে সব মানুষ এক হয়েছে, যেমনটি আমার মতো নাছোর বান্দার
বেলায় হয়েছে ৷ তাদের দাবি আমিই না কি কলামুনে জিহাদ নষ্ট করেছি ৷ কলামুনে চলমান বিশৃংখলার জন্য তারা আমাকেই দায়ী করে ৷

হে সত্যের অনুরাগী, তুমি রাসূলের হাদীসকে স্মরণ করো ৷ তিনি বলেছেন, শাম হলো পবিত্র ভূমী, শামে আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ লোকদের সমাগম ঘটবে ৷ হে আল্লাহর বান্দা, তুমি কি মনে করো, যে ব্যক্তি নিজের দেশ ছেড়ে সুদূর
কলামুনে হিজরত করেছে, নিজ দেশে সকল আমদ- প্রমদের বুস্তু ত্যাগ করে, পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে কলামুন উপত্যকার প্রস্তরময় ভূমীতে
আবাসন গেড়েছে ৷ সে কি জিহাদ করতে এসেছে না কি ফাসাদ সৃষ্টির জন্য এসেছে?
মুজাহীদদের হত্যা করার জন্য এসেছে, না কি
তাগুতের সাথে লড়াই করার জন্য? (শাইখ আবুল
ওয়ালীদ ফিলিস্তিন থেকে শামে হিজরত
করেছিলেন ৷ তাই তিনি একথা বলেন)

হে ভায়েরা, আল্লাহর একথা স্মরণ করুন: যারা ইমান এনেছে, অতপর হিজরত করেছে ও জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের আশা করতে
পারে ৷

কিন্তু আফসোস, আমি আবুল ওয়ালীদের বিরুদ্ধে যারা ভিবিন্ন অপবাদ রটাচ্ছে তাদের যদি একটি প্রমাণও থাকতো তাহলে আমার দুঃখ থাকতো না ৷ আমার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের যত অভিযোগ আছে, আমি সেগুলো উত্তর দিচ্ছি ৷
এবং তাদের কিছু লোকের (আইএসের) ফেতনা সৃষ্টির বিষটিও স্পষ্ট করছি ৷ আমি ছয়টি বিষয় নিয়ে কথা বলবো ৷

১: আল্লাহ শাক্ষী ৷ খাওয়ারিজ আকীদার সবচেয়ে বিরধী ছিলাম আমি ৷ আমার শাসনাধীন ব্যক্তিদের শিখাতাম যে, বাজ্যিক এবাদতের মাধ্যমে মুসলিমকে মুসলিম বলতে হবে ৷ তাকে কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ না তার থেকে এমন কাজ প্রকাশ পায় যা স্পষ্ট কুফুরী ৷সন্দেহ সংশয়ের ভিত্বিতে কাউকে তাকফির করা যাবে না ৷ কবিরা গুনাহের কারণে কাউকে কাফের বলা যাবেনা ৷এবং ভিন্ন মতকে ও কাফের বলা যাবে না ৷ অসতর্কতা বসত কোন কথার কারণেও তাকফির করা যাবে না ৷
আমি তাদেরকে শরীআতের স্পষ্ট অস্পষ্ট দলীলগুলোর পার্থক্য বুঝাতাম৷এবং কোন জিনিসগুলো ইমানের মূল বিষয় (যেগুলো না
থাকলে ইমান হারা হয়ে যায়) আর কোন বিষয়গুলো ইমানের পারিপার্শিক বিষয় তা শিখাতাম ৷ এবং শিখাতাম কোন কোন বিদআত মুসলিমকে কাফির বানিয়ে দেয়, আর কোন কোন বিদআত করার কারণে কাফির হয় না বরং গুনাহ হয় ৷ সুতরাং আশ্চর্যের বিষয় এতো কিছুর পরও তারা আমাকে কি করে খাওয়ারিজ বলে ৷

২: আমি যখন প্রথম কলামুনে আসি, তখন দেখলাম যারা নিজেকে আইএস সমর্থক মনে করে, তাদের সংখ্যা খুব কম ৷ তারা পরস্পরে বিভেদে লিপ্ত ৷
আমি সাদ্ধানুযায়ী তাদের সংশোধনের চেষ্টা করলাম ৷ কিন্তু আমি অবাক হলাম যখন দেখলাম কিছু ব্যক্তিকে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যারা তার উপযুক্ত নয় ৷
সঠিক বণ্টন করা হচ্ছে ৷ আয় ব্যয়ের কোন হিসাব-নিকাসের ব্যবস্থা নেই৷ ইমারত পরিচালোনায় তারা কোন পরামর্শের প্রয়োজন মনে করছে না ৷
নিরাপত্তার বিষয়টি ছিলো দূর্বল ৷ কিছু লোককে পেলাম যারা আইএসের নাম বেচে খাচ্ছে ৷ "হদ" কায়েম করার ব্যাপারে বিচার- বিশ্লেষণের প্রয়োজন মনে করা হতো না ৷
গনিমত বণ্টেনেও ছিলো অনিয়ম ৷ সেগুলো মূলত গনিমত নয় ৷ বরং সাধারণ মুসলিমদের মুর্তাদ ও কাফের আপবাদ দিয়ে তাদের থেকে কেড়ে
নেওয়া গাড়ি ও বিভিন্ন সম্পদ ৷ বাস্তবে তাদের এই তাকফির করার শরয়ী বৈধতা ছিল না ৷ ঈমান-আকীদার চর্চা ছিলো না ৷ ইসলামী সিষ্টাচারের অভাব ছিলো ৷ আমি নথি-পত্র ঘেটে দেখলাম, কলামুনে প্রতিমাসে ২৫০ জন সৈন্যের ভাতা আসতো ৷ বাস্তবে সেখানে সৈন্য সংখ্যা ছিলো ৫০ থেকে ৮০ জন ৷ এই বিশৃংখোল পরিবেশে সবচেয়ে বেদনাদায়ক যে বিষয়টি, তাহলো কলামুন থেকে মোটা অংকের অর্থ খেলাফার প্রধানদের নিকট
পৌঁছতো ৷ অথচ যুদ্ধরত সৈন্যরা খাদ্য পানীয় ও পোশাক সল্পতায় ভুগতো৷ এসব নেতাদের স্বজ্ঞানে করা হতো ৷

আলহামদু লিল্লাহ ৷ আমি কলামুনে আসার পর এসব বিশৃংখলা শোধরানোর চেষ্টা করলাম ৷ সৈন্যদের মাঝে ঐকতা সৃষ্টি করলাম ৷ মাত্র
কয়েক সাপ্তায় ৮০০-র বেশি সৈন্যকে খিলাফার পতাকা তলে সমবেত করলাম ৷ শরিয়া বোড গঠন করলাম ৷ হিসাব বিভাগ তৈরি করলাম৷ গরীবদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করলাম ৷ কর্মকরতাদের জন্য ঈমান-আক্বীদা চর্চার ব্যবস্থা করলাম ৷এরপর শুরু হলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ৷ কলামুন উপত্যকা কোনো সামরিক উপস্থিতি চায় নি ৷
চেয়েছিলো দ্বীনের সঠিক জ্ঞানপিপাষু ৷ যে মানুষকে ইসলাম শিক্ষা দিবে ৷ তার চতুরপার্শে মানুষকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করবে ৷ সে মুহূর্তে করনীয় ছিলো সকল শক্তি দিয়ে ফেতনার মুকাবিলা করা ৷ আর আমি সে চেষ্টাই করে ছিলাম ৷ কিন্তু আফসোস সেই ব্যক্তিদের জন্য যারা আমার পিছু নিলো ৷ সাহায্য করার পরিবর্তে দূরে সরে গেলো ৷ আমার বিরুদ্ধে
ষড়যন্ত্রে মেতে উঠলো ৷ ফলে আমরা সেই বিপদের মুখমুখি হলাম, যার আশঙ্কা আমরা করতাম ৷ আল্লাহ একমাত্র সাহায্যকারী ৷

৩: আমার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ আনা হয় ৷ আমি না কি ইদ্রীসের আসতানা গুরিয়ে দিয়েছি ৷(ইদ্রীস হলেন ফ্রি সিরিয়ান আর্মীর একজন কমান্ডার ৷ ফ্রি সিরিয়ান আর্মী হলো সিরিয়ার এরটি জাতীয়তাবাদী সেকুলার গ্রুপ) আল্লাহ সাক্ষী আছেন, ইদ্রীসের হত্যাকাণ্ডের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমার অগচরে তাকে হত্যা করা হয়েছে ৷ একদিন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায় করলাম ৷ তখন সংবাদ শুনলাম, ইদ্রীস তার দলবল নিয়ে আমাদেন সৈন্যদের উপর আক্রমণ করেছে৷
ইদ্রীসকে গ্রেফতার করে আনা হলে আমি তার রিমান্ড মনজুর করলাম ৷ তাকে শাস্তির আদেশ দিলাম ৷ কিন্তু আমি যখন তদন্ত শুরু করলাম, অবাক
হলাম ৷আমাদের সৈন্যরাই ইদ্রীসের আস্তানায় প্রথম আক্রমণ করেছে ৷ তাদের সামরিক চৈকিগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে ৷এবং ইদ্রীস খিলাফার সৈন্যদের কাছে আত্মসমর্পন করে ছিলো ৷ এরপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এদের সাথে(আইএসের সাথে) আরথাকবো না ৷ আমি দাউলার খেলাফত থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলাম ৷ তখন খেলাফার কয়েক জন বড় বড়
কর্মকরতা আমাকে চাপ দিলো ৷ তারা বললো, যদি আমি আলাদা হয়ে যাই তাহলে তারা আমাকে হত্যা করবে ৷ আর তাদের দাবি ছিলো ইদ্রীস তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে খিলাফার উপর আক্রমণ করার সম্ভাবনা ছিলো ৷ তাই আমরা আগেই আক্রমণ করেছি ৷ কিন্তু আমি তাদের বললাম, স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া আমি কোন মুসলমানকে হত্যার আদেশ দিতে পারি না ৷ এই ঘটনার চারদিন পর আমি ইদ্রীসকে নিরপরাধ ঘোষণা দিয়ে তাকে মুক্তির আদেশ দিলাম ৷ এবং ভুল ফায়সালা করার কারণে আমি জনসমুক্ষে আমাকে একশত ব্যত্রাঘাত করার আদেশ করলাম ৷ আর আমি যা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী আছেন ৷ (ইদ্রীসকে পরে জবাই করে হত্যা করা হয় )

৪: দ্বিতীয় যে হত্যাকাণ্ডের আপবাদ আমাকে দেওয়া হয়, তা হলো "মুকন্না"র হত্যাকাণ্ড ৷ (মুকন্না হারাকাতে হাযাম গ্রুপের একজন কমান্ডার) আল্লাহ কছম মুকন্না হত্যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ মুকন্না ও তার কয়েক জন সাথীকে খেলাফার সৈন্যরা কিডনেপ করে নিয়ে আসে ৷ এবং মুকন্না ও তার সাথীদের হত্যা করা হয় ৷ আল্লাহ সাক্ষী, মুকন্না হত্যার
বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না ৷ এবিষয়ে কয়েক জন ভাই শাক্ষী আছেন৷ ভাই আবু আহমদ আর- রংকুসাই, আবু নামের, আবু বিলকীস, আবু মুহান্নাদ, এই ভাইরা শাক্ষী আছেন যে মুকন্না হত্যার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷

৫: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো আবু উসামা আল-বানিয়াসীর হত্যাকাণ্ড ৷ (আবু উসামা কলামুনে আইএসের সাবেক বিচারক ছিলেন)
আল্লাহর কসম তার হত্যাকাণ্ডের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমাকে বিচারকের দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে, যদিও আমি তা গ্রহণে রাজি ছিলাম না ৷ শরিয়া বিভাগের একজন কর্মকরতা ভাই আবুল বারাআ আমাকে বিচারকের দায়ীত্ব নিতে বলেন ৷ এবং পূর্বের বিচারপতী আবু মাহরুসকে অপসারণ করার আদেশ করেন ৷
আমাকে সকল উপরস্ত কর্মকরতাদের তদারকি করার আদেশ করেন ৷ প্রয়োজনে তাদের উপর বল প্রয়োগের আদেশ করেন ৷ ভাই আবু উসামাকে
শাক্ষাৎ করার জন্য আমার দফতরে ডেকে পাঠালাম ৷ একটি চিরকুটে শাক্ষাৎ তলব করে ভাই উসামার কাছে পুলিশ পাঠালাম ৷ আমি উপস্থিত সকলকে বললাম, এটা শাক্ষাতনামা, গ্রেফতারি পরওয়ানা নয় ৷ আমি তোমাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য পাঠাচ্ছি না ৷ তোমরা শুধু তার কাছে এই পত্রটি দিবে ৷ এই শাক্ষাতনামার উপর আমি উনিশ জনকে শাক্ষী
রেখে ছিলাম ৷ পুলিশ বাহিনী ফিরে এসে জানায় আবু উসামা তাদের উপর আক্রমণ করে ৷ ফলে তারা আবু উসামার উপর গুলি করতে বাদ্ধ হয়৷ আল্লাহর কসম, আমি চাইনি ভাই আবু উসামাকে হত্যা করা হোক ৷ নিরপরাধ জীবন হত্যা করা থেকে আমি আল্লাহর কাছে পানাহ চাই ৷
রাসূল সঃ বলেছেন: কাবা শরীফ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করা আল্লাহর কাছে এতটা জগন্য নয়, যতটা জগন্য কোন নিরাপরাধ মুসলিমকে হত্যা করা ৷
তবে যারা আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনে যে আমি পুলিশকে বলেছি আবু উসামাকে জীবিত হোক বা মৃত ধরে নিয়ে আসবে, তাদের এই অভিযোগ মিথ্যা ৷ তারা সেখানে উপস্থিত ছিলো না ৷ তাদের সংখ্যা মোট চার জন ৷ এবং এই চার শাক্ষীর তিন জনই ছিলেন জেলবন্দী ৷ তাদের শাক্ষী গ্রহণযোগ্য নয় ৷ ঘটনার পর থেকে তিন মাস ধরে আমি এই দাবি করে আসছিলাম, আবু উসামা হত্যার তদন্তের জন্য একটি টিম গঠন
করা হোক ৷ এবং হত্যাকারীদের তলব করা হোক ৷কিন্তু তারা কেউ আমার কথায় কান দেয়নি ৷

৬: সকলের জানা উচিৎ যে আমি তিন মাস যাবৎ আবু উসামা হত্যার তদন্ত দাবি করে আসছিলাম ৷ এবং বিচারকের দায়ীত্ব থেকেও অব্যহতি নিয়ে ছিলাম ৷ তিন মাস ধরে আমি কলামুনে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই আছি ৷
খেলাফার কোন কাজের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি ৷ কারণ আমি অনেক শরিআত বিরোধী কর্কাণ্ড তাদের মাঝে দেখেছে ৷ যেমন তারা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত টিম গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করছিলো ৷ কলামুনে শরিয়া কাউনসিল গঠন করার দাবি করে ছিলাম ৷ যে কাউনসিল সকল বিভাগের উপর তদারকি করার অধীকার রাখবে ৷ তারা তাও প্রত্যাখ্যান করেছে ৷ সকলের জানা উচিৎ আমরা জাহান্নামে যাওয়ার জন্য দুনয়া ত্যাগ করিনি ৷ আমি যদি ভুল করে থাকি বা কারো উপর জুলুম করে থাকি তাহলে এর জন্য আমি ক্ষমা চাই ৷ মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থণা করি, তিনি যেন পাপের শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে দেন ৷ পরকালে নয় ৷ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য ৷ তিনি তার দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম।

আসলে ভাই আপনার এখলাসের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই। তবে আমি বলবো আপনি সত্য অনুসন্ধানে আরও উদার হওন।

abcd1
11-04-2015, 06:39 PM
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
“খিলাফত নিয়ে আল-কায়েদার সাথে নয় বরং শরিয়ার স্পষ্ট নুসুসের সাথে তাদের তাগুত রূপি খিলাফাহ যার উপর ঈমান না আনলে সবাইকে তাকফির করছে তা বিরোধ পূর্ণ।”
আইএস এর সাথে যারা দ্বিমত পোষণ করে আইএস তাদের তাকফির করে এ কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সিরিয়ায় “জুনুদ আল আকসা” এর একটি উধাহরন। তারা তো আইএসকে বায়াহ দেয় নি । তাদের খলিফাকে বৈধ মনে করে না, আইএস তো তাদের তাকফির করে নি। লিবিয়ায় আল কায়েদার শাখা “আনসার আল শারিয়াহ” তো তাদের বায়াহ দেয় নি।তাদের খলিফাহ কে বৈধ মনে করে না। আইএস তো তাদের তাকফির করে নি। বরং তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাগুত হাফতারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ইয়েমেনে আল কায়েদা তো আইএসকে বায়াহ দেয় নি তাদের খলিফাহকে বৈধ মনে করে না। আইএস তো তাদের তাকফির করে নি। সম্প্রীতি জাবহাত আল নুসরাকে বায়াহ দেওয়া তুর্কিস্তানই ইসলামিক পার্টি আরেকটি উধাহরন, আইএস তাদের কখনো তাকফির করে নি । এভাবে আরও অনেক উধাহরন দেওয়া যায় ।

“ভাই আপনাকে! আবার একটু কষ্ট করে বয়ানটা শুনুন। কোথাও আপনার উপরের কথার দিকে তো ইঙ্গিত নেইই বরং ইসলামিক স্টেট এর নামই কোথাও নেয়া হয় নাই। ”
ভাই এই বিষয়ে আমি এই অডিওর কথা বলিনি । সেটা কিছুদিন আগে জাওয়াহিরি (হাঃ) ইসলামিক স্প্রিং এর সিরিজে এ কথা বলেছিলেন। GIMF মিডিয়া সেই বার্তাগুলি প্রকাশ করেছিল
Sh. Ayman's 2nd part of 'Islamic Spring' series - Small summary
Describes IS Caliphate as non-legitimate but calls ALL Mujahideen in Iraq/Syria to work together for the greater benefit
Says the Crusader attack is bigger than our differences. Sh. Ayman says we agree on IS on many things
for example establishing Sharia courts, ordering good and blaming evil, fighting the enemies of Allah, but disagrees with many things
or example the fight against the other Mujahideen groups, the killing of Peter Kassig, the "refusal" to go to Shar'i court with other grps
Still, Sh. Ayman's call upon all Mujahideen in Iraq/Syria to put their hands together to fight the common enemy and stop the infighting ।
একটু ভাল করে দেখেন তিনি ইরাক/ সিরিয়া মুজাহিদিনদের ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। এখানে স্পষ্ট তিনি আইএসকে বুঝিয়েছেন।
“ভাই ইহা এখন আর না জানা বিষয় নয়। এটা উপর শরীয়তের স্পষ্ট দলিল প্রমাণিত । বরং যারা এখনো তাদেরকে সঠিক বলছে তারাই মূলত শরিয়াহ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে”
ভাই আল কায়েদার প্রায় সব নেতাই তাদেরকে খারেজী বলার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন । জাওয়াহিরি (হাঃ) তিনি কখনো আইএসকে খারেজী বলেননি । আলশাবাব এর নেতারা তাদের কখনো খারেজী বলে নি। আল কায়েদা এরাবিক পেনুসুএলা এর উচ্চ পর্যায়ের নেতা শাইখ হাতেম (রহঃ) তিনি প্রকাশে তাদেরকে খারেজী বলার বিরোধিতা করেছিলেন ।তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ড্রন হামলায় শহীদ হন ।আল্লাহ্* তাকে কবুল করুন। আচ্ছা আপনি বলেন তারা কি শরিয়াহ থেকে মুখ ফিরিয়েছেন ।
সিরিয়ায় কারা মুসলিমদের রক্ত হালাল করেছিল এ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ হাসান ভাইয়ের নোটটি পড়ুন
https://dawahilallah.net/showthread.php?697-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A 6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%8F%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A 7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A 6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%AC

Hazi Shariyatullah
11-04-2015, 11:13 PM
জাযাকাল্লাহ... কালা পতাকা ভাই এবং মুসাফির-২ ভাই।
সত্য বিষয়টা তুলে ধরার জন্যে ধন্যবাদ।
abcd1 ভাই যেখানে, (জবাব দানে) আমরা আছি সেখানে।
--------------
আমি আর কি জবাব দেব? সবি তো ভাইয়েরা দিয়ে দিয়েছেন আল হামদুলিল্লাহ।
তবে abcd1 ভাইয়ের কিছু ভুল ধারনা ভাঙ্গার জন্যে অকাট্য কিছু প্রমান পেশ না করে পারছি না।

ভাই বলেছেন "যদি ইসলামিক স্টেট কে খারেজী ভাবত তাহলে কি জাওয়াহিরি (হাঃ) নুসরাকে একসাথে কাজ করার নির্দেশ দিতেন?"
সুবহানাল্লাহ! কথিত দাউলাপন্থীরা খারেজী এটা সারা দুনিয়ার মুজাহিদ উলামা-উমারা জানেন কিন্তু আপনি জানেননা দেখে আমি হতবাক!
আপনি কি এর প্রমান চান ? দেখুন নিচের লিঙ্কে প্রায় ৪০ জন প্রসিদ্ধ মুজাহিদ উলামা উমারার বক্তব্য এই link এ : -
https://www.sendspace.com/file/dnpyuc

৬ মাস /১ বছর পূর্বের দাউলার ব্যাপারে দেওয়া বক্তব্যকে বর্তমানে দাওলার পক্ষ্যে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিনিয়ত দাউলার তাকফিরি ও খারিজী চেহারা উম্মাহর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই ব্যাপারে আশা করি উপরের লিঙ্ক টির বক্তব্য পড়লেই বুঝতে সক্ষম হবেন।

একটা সত্য কথা যা বলা হয়ে থাকে, শাক দিয়ে মাছ ঠাকা যায় না ।

আরো কিছু প্রমান দেখেন যেগুলো পথভ্রষ্ট 'দাউলা' তাদের অফিশিয়াল "দাবিক" (দাম্ভিক) ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছেঃ-

উলামাদের তাকফির ও আল কায়েদার প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপঃ-
---------------------- ------------------- ---------------------
মুসলিম আলিমদেরকে তাকফিরের ক্ষেত্রে অজ্ঞদের প্রভাব সবচেয়ে ঘৃণ্য একটি কাজ, এটাই খারেজী এবং রাফেজীদের মূল সমস্যা।
তানজীমুদ দাওলার স্পষ্ট বক্তব্য হল শাইখ ড. আব্দুল্লাহ আল- মুহাইসিনী হলেন শামের মুরতাদদের একজন নেতা। যেমন তানজীমের ভাষ্য হল (তিনি হলেন মুরতাদদের পৃষ্টপোষক)। ( অফিশিয়াল দাবিক ম্যাগাজিন নবম সংখ্যা, শাবান ১৪৩৬ হিঃ পৃঃ ৫৯ )

জাওয়াহিরী, মুজাহিদ শায়খ উসামা বিন লাদেন রহঃ এর রাজনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নতুন এক রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন। একারনে জাওয়াহিরী ক্রুসেডারদের ভূমিকে নিরাপদ রেখেছেন, তাগুতদের নিরাপদ রেখেছেন, আরব বসন্তের পরবর্তী তাগুতদের নিরাপদ রেখেছেন, ‘ জামাতুল ইখওয়ানের তাগুতদের নিরাপদ রেখেছেন, মুরতাদ সেনাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন, সাধারণ রাফেজী এবং নিম্ন শ্রেনীর রাফেজীদের নিরাপদ রেখেছেন। বরং বিষয়টি এ পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, শরীয়ত বাস্তবায়ন না করার মধ্যেই যেন বাহ্যিক মাসলাহাত(ফায়দা) রয়েছে। (অফিশিয়াল দাবিক ম্যাগাজিন দশম সংখ্যা, রমযান, ১৪৩৬ হিঃ পৃঃ ৬৭)

তানজীমুদ দাওলাহর সাহিত্য সাময়িকী, তাদের শব্দ প্রয়োগ ও তাদের চিন্তা অনুসারে উপরোক্ত এই অভিযোগ ঈমান ভঙ্গের দুটি কারণ প্রমাণ করার প্রচেষ্টা বুঝায়।
১. প্রথম কারণঃ তানজীমে আল-কায়েদার আমীর ড. আইমান আয যাওয়াহিরী হলেন- ক্রুসেডার, তাগুত ও তার বাহিনী এবং মুরতাদ সংসদ ও রাফেজীদের সাহায্যকারী, অর্থাৎ যে নামেই ডাকা হোক তিনি হলেন যুগের সকল কাফিরের সাহায্যকারী। (নাউজুবিল্লাহ)
২. দ্বিতীয় কারনঃ তিনি মাসলাহাতের অজুহাতে আল্লাহ্*র শরীয়াহকে বর্জন করেছেন। (নাউজুবিল্লাহ)

তানজীমুদ দাওলার অফিসিয়াল বর্ননায় আবু মুহাম্মদ আদনানী বলেছেন, তানযীম পরিস্কার ঘোষণা করেছে ইসলাম ভঙ্গের অনেকগুলো কারণ এমন আছে যাতে তানযীমে আল কায়েদা এবং তার আমীর ড. জাওয়াহিরী পতিত হয়েছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি হল তাগুতকে কাফির না বলা, মুশরিকদের তাকফির না করা। আল্লাহ্*র বিধান্মত শাসনের পরিবর্তে অধিকাংশের শাসন মেনে নেওয়া, খৃষ্টান এবং মূর্তিপূজারকদের সাথে সাথে বন্ধুত্ব।
তাদের সাথে সম্পৃক্ত একজনের সাক্ষ্য যা তারা তাদের অফিসিয়াল সাময়িকিতে প্রচার করেছে। সেখানে সে বলেছে, জাওয়াহিরী অনেক লোককে তার বক্র চিন্তার জালে ফেলে দিয়েছে যা জিহাদ ও অস্ত্র উত্তোলনের সাথে সাংঘর্ষিক; এবং যা সন্ধির পথে আহ্বান করে ও জনপ্রিয়তাকে লালন করে যা কিনানার শহর ও অন্যান্য শহরের নব্য ফির’আউনদের সাথে বন্ধুত্ব পর্যন্ত পৌছায়। ( দাবিক ম্যাগাজিন, ষষ্ট সংখ্যা, রবিউল আউয়াল, ১৪৩৬ হিঃ পৃষ্টা ৫১)

ঐ সাক্ষ্যের মধ্যে এটা ও আছে যে, তারা নতুন এক রাজনীতির অনুশীলন করে যার প্রতি জাওয়াহিরী ও তার মত লোকজন আহ্বান করেন, যার কারনে তিনি হক এবং বাতিলের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না, ফলে তিনি তাগুতের প্রশংসা করেন এবং তাগুতের প্রতি আহ্বান করেন, আর হক ও আহলে হকদের নিন্দা করেন এর মাধ্যমে তিনি তানযীমে আল-কায়েদাকে ধ্বংস করেন। ( দাবিক ম্যাগাজিন, ষষ্ট সংখ্যা, রবিউল আউয়াল, ১৪৩৬ হিঃ পৃষ্টা ৫১

তানযীমুদ দাওলার সাথে সম্পৃক্ত এই ব্যক্তি বলে যে, তার বায়াত আল কায়েদার আমীর ডা. জাওয়াহিরীর হাতে ছিল, তবে সে বায়াত ভেঙে গেছে, কারণ জাওয়াহিরী আল্লাহ্*র বিধান ছাড়া অন্য বিধান অনুযায়ী রায় প্রদান করেন। এ জাতীয় আরো অনেক কারণ রয়েছে, যেমন ঐ সাক্ষাতে সে বলেছে ‘আমি ডা. জাওয়াহিরীর কাছে বায়াত ছিলাম কিন্তু বায়াতের শর্ত ভেঙ্গে গেছে। আর জাওয়াহিরী ধারণাপ্রসূত মাসলাহাতের মত কাল্পনিক দলীলের মাধ্যমে আহকামে শরীয়্যাহর প্রতিষ্টাকে বর্জন করেছেন। (দাবিক ম্যাগাজিন, ষষ্ট সংখ্যা, রবিউল আউয়াল, ১৪৩৬ হিঃ পৃষ্টা ৫৩)

এই সাক্ষী আরো উল্লেখ করেন যে, আল কায়েদা তাগুতের সংবিধানকে অস্বীকার করে না। (আল জারকা, সংখ্যাঃ ৬ পৃঃ ৪৫ )

এবং আল-কায়েদা তাওহীদ বিনষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে শরয়ী মাসলাহাতের উপর আমল করে। ( সংখ্যা, ৬ পৃঃ ৪৫ )

তানযীমুদ দাওলাহ তাদের অপর এক পর্যালোচনায় তাদের সাথে সম্পৃক্ত আরো একজনের সাক্ষ্য বর্ননা করেছে, সেখানে তারা বলেছে যে, জাওয়াহিরী পূর্বে জাওলানীকে নির্দেশদেন মুরতাদদের সাথে যুক্ত হওয়ার, আর মুরতাদদের সাথে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনটাই স্বতন্ত্রভাবে রিদ্দাহ, যেমনটি আনযীম সেই সাক্ষীদের বর্ণনায় বলেছে—‘জাওয়াহিরী জাওলানীকে নির্দেশ দেন মুরতাদ জাবহাতুল ইসলামীয়্যাহর সাথে যুক্ত হওয়ার। (দাবিক ম্যাগাজিন সংখ্যাঃ ১০, রমযান, ১৪৩৬ হিঃ পৃঃ ৭)

তানজীমে আল-কায়েদার আমীর ডা. জাওয়াহিরীর দিকে সম্বন্ধকৃত উল্লেখিত বিষয়গুলো ঘুরেফিরে ইসলাম ভঙ্গের দুটি কারনের মধ্যে আবর্তিত হয় (ক) কাফিরদের পৃষ্টপোষকতা (খ) আল্লাহ্*র নাযিলকৃত বিধান ব্যাতীত অন্য বিধানে ফয়সালা করা। এই সমস্ত ইঙ্গিতের অধিকাংশই প্রমাণ করে যে, সম্বোধনের ক্ষেত্রে তানযীমুদ দাওলার প্রবল ইচ্ছা হল আক্বীদার দিকটা দৃঢ় করা অর্থাৎ তানযীমে আল কায়েদা হচ্ছে একটি মুরতাদ দল, তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে, তাদের জান মাল হরণ করা বৈধ।
আল-কায়েদা বদলে গেছে
এ কারনে তানযীমে দাওলা তাদের অফিশিয়াল ভাষণে জাবহাতুল ইসলামীয়্যাহর ক্ষেত্রে এমন সব উপাধী ব্যবহার করেছে যা সাধারণত কাফিরদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। উদাহরন হিসেবে, তাদের অফিশিয়াল বর্ননায় আবু মুহাম্মদ আদনানীর ভাষ্য হল জাবাহাতুল ইসলামিয়্যাহর অনিষ্টের দল, আহলে সালুলের দল। (আবু মুহাম্মদ আদনানীর বয়ানের শিরনাম-‘অতঃপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যাবাদীদের উপর দেই আল্লাহ্*র লা’নাত; আল ফুরকান মিডিয়া, মিনিট-৮ )
মুজিয়াহিদদের হত্যা করার আরেকটি ঘটনায় তানযীমুদ দাওলাহ গর্ব করে, এই ঘোষণা দেয় যে, দাওলাতুল ইসলামিয়্যাহ ক্বালামুনের পূর্বাঞ্ছলের জাবাহাতুন নুসরার আমীর এবং ক্বালামুন অঞ্চলের জাইশুল ইসলামের আমীরকে হত্যায় কামিয়াব হয়েছে। (দাবিক ম্যাগাজিন সংখ্যাঃ ৯ ১৪৩৬ হিঃ পৃষ্টা ৩৬)



তাকফীরের ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি
----------------------------------

“সাহওয়াত” শব্দের যত্রতত্র ব্যবহার
--------------------------------

“সাহওয়াত” শব্দটি মুজাহিদদের ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। আমেরিকার ইরাক হামলার পর আল- কায়দাকে মোকাবেলা করার ও স্থানীয়ভাবে জনগনের মাঝে কথিত শান্তি শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্য আমেরিকা ইরাকের কিছু সুন্নি গ্রুপদের নিয়ে কয়েকটি মিলিশিয়া গ্রুপ তৈরী করে । এদের কাজ ছিল আমেরিকান হামলা পরবর্তী ইরাকের গোত্রীয় লড়াই বন্ধে উদ্যোগ নেয়া। মুলতঃ এসব মিলিশিয়া গ্রুপকেই সাহওয়াত বলা হতো। (কিন্তু দাওলা এই শব্দটি মুজাহিদদের উপর ব্যবহার করা শুরু করে। এই শব্দ ব্যবহার করে মুজাহিদদেরকে মুরতাদ কাফের বলতে থাকে। -অনুবাদক)
যেমন তাদের বিভিন্ন অফিসিয়াল লেখায় এর উল্লেখ আছেঃ
("সাহওয়াত একটি পরিভাষা । এর দ্বারা তাদেরকেই উদ্দেশ্য করা হয় যাদেরকে আমেরিকান অথরিটি মুরতাদদের (অর্থাৎ মুজাহিদদের) মাঝে শৃংখলা বজায় রাখার জন্য ব্যবহার করে।) পৃষ্ঠা ২০, দাবিক ম্যাগাজিন, ১ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৫ হিঃ।

(এবার দেখুন এই শব্দটিকে তারা কিভাবে মুজাহিদদের উপর ব্যবহার করেছে। )

আহরার আশ শাম
----------------
তারা এই শব্দটিকে ব্যপকভাবে আলকায়দা ইন ইয়েমেনের উপরও প্রয়োগ করেছে। যেমন দাওলার অফিসিয়াল ম্যাগাজিনে আলকায়দা ইন ইয়েমেনের সমালোচনা করতে গিয়ে দাওলা বলেছেঃ
"আর তাদের (আলকায়দা ইন ইয়েমেন এর) কিছু বিবৃতিতে "আহরার আশ শামের" মত মুরতাদ দলের (!) নেতাদের প্রতি সহানুভুতি পাওয়া যায়"। পৃষ্ঠা ২৩, দাবিক ম্যাগাজিন, ষষ্ঠ সংখ্যা,রবিউওল আওয়াল , ১৪৩৫ হিঃ। (উল্লেখ্যঃ দাওলার সুসাইড এ্যাটাকে আহরার আশ শামের সুপ্রিম কমান্ড কাউন্সিলের সকল নেতৃবৃন্দ শহীদ হওয়ার পর আলকায়দা ইন ইয়েমেন তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোক বার্তা পাঠায়। আলকায়দা ইন ইয়েমেনের এই ঘটনাকেই দাওলা "মুরতাদদের প্রতি সহানুভুতিশীল" প্রতিক্রিয়া বলে অভিহিত করে।

(জাইশুল ইসলাম ও আহরার আশ শাম। সিরিয়া ফ্রন্টে এই দুটি দলই হল সাহওয়াতদের প্রধান দল। ) পৃষ্ঠা ৩৬, দাবিক ম্যাগাজিন, ৯ম সংখ্যা,শাবান , ১৪৩৫ হিঃ।
(মুরতাদ ইসলামিক ফ্রন্ট) পৃষ্ঠা ৭, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ।

সিরিয়ার একটি স্থানীয় গ্রুপ দাওলার আনুগত্য না করার কারন বর্ননা করতে গিয়ে দাওলাহর এক দায়িত্বশীল লিখেছেঃ "তারা ( অর্থাৎ ঐ গ্রুপ) দাওলার বিরোধীতা করার কারন হল দাওলা "ইসলামিক ফ্রন্টকে" কাফের ঘোষনা দিয়েছে।" পৃষ্ঠা ৭৫, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ।

লক্ষ্য করুন,
সিরিয়ায় "ইসলামিক ফ্রন্ট" নামে মুজাহদিদদের যে কোয়ালিশনটি আছে তা গঠিত হয়েছে "আহরার আশ শাম, আলবিয়াতু সুকূর আশ শাম, কাতাইব আনসার আশ শাম, জাইশুল ইসলাম, লিওয়া আত তাওহীদ ও লিওয়া আল হাক্ক" নামক মুজাহিদ সংঘঠনগুলোর মাধ্যমে। ইসলামিক ফ্রন্টকে মুরতাদ (!) বলে দাওলা এসব মুজাহিদ সংগঠনগুলোর সবাইকে সুস্পষ্টভাবে বারবার মুরতাদ ঘোষনা দিচ্ছে। ভালো তো ! তারা এখন এসব মুজাহিদদের সবাইকে মুরতাদ বানিয়ে ইসলাম থেকে বের করে দিলো। এবার তাদের জান মাল দাওলার জন্য "হালাল"(!) হয়ে গেলো !!!

জাবহাত আন নুসরাহ
---------------------
দাওলার পরিভাষায় "মুরতাদদের (!) সাথে কোয়ালিশন" করার কারনে, দাওলা আল-কায়দার সিরিয়া ব্রাঞ্চ "জাবহাত আন নুসরাহ / আল নুসরাহ ফ্রন্টকে"ও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া মুরতাদ ঘোষনা দিয়েছে। যদিও বাহিরে বাহিরে দাওলা সেটা প্রকাশ করেনা।যেমন তাদের দাবিক ম্যাগাজিনে তারা লিখেছেঃ

(বাহ্যিকভাবে কেউ কেউ দেখাচ্ছে যে তারা ইসলামের জন্য লড়াই করছে, এবং এটাও দেখাচ্ছে যে তাদের শরীয়াহ কায়েম করার নিয়্যত আছে। যেমন জাওলানির (আলকায়দার সিরিয়া আমীর) নুসরাহ ফ্রন্ট সহ এই কোয়ালিশনের অন্যান্ন গ্রুপগুলো। তাদের এই "কথিত" শরিয়াহ কায়েমের প্রচেষ্টা তাদের মুরতাদ হওয়া থেকে কোনও বাধা হয়ে দাড়াবে না। এই কোয়ালিশনে যোগদান করার কারনে এবং কোয়ালিশনের দলগুলোর সাথে মিলে দাওলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কারনে, তারা কেবল দাওলাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেনা, বরং তারা একটা "প্রতিষ্ঠিত শরীয়াহর" বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তারা শরীয়ার পরিবর্তে অন্য কিছু কায়েম করতে চাচ্ছে। আর এটা স্পষ্টতঃ কাফের ও মুরতাদ হয়ে যাওয়ার কারন। পৃষ্ঠা ৫৪, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ।

শুধু তাই নয়, দাওলা জাবহাত আন নুসরাহকে দূর থেকে সাহওয়াতদের সহযোগিতাকারী মুরতাদ মনে করছেনা, বরং তাদের ভাষ্যমতে নুসরাহ সাহওয়াতদের মুল সংগঠকদের একটি । নুসরাহ সাহওয়াতদের মুল খুটি। যেমন তাদের ম্যগাজিনে তারা লিখেছেঃ
( জাওলানী মুল খেলোয়াড় হিসেবে "খবিস সাহওয়াতদের" দলে যোগ দিয়েছে। ) পৃষ্ঠা ৫১, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ

(প্রথমদিকে সিরিয়ায় সাহওয়াতদের এই খবিস কোয়ালিশন গঠিত হয় "জাইশুল মুজাহিদীন, ইসলামিক ফ্রন্ট, জাবহাত সাউওয়ার সূরিয়া (সিরিয়ান রেভ্যুলুশনারী ফ্রন্ট), ফ্রী সিরিয়ান আর্মী ও জাওলানীর নুসরাহ ফ্রন্ট এর সমন্বয়ে। ) পৃষ্ঠা ৫১, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ।

(সাহওয়াতদের গ্রুপগুলো যাদের মধ্যে জাওলানীর নুসরাহ ফ্রন্টও রয়েছে, দা'রা সিটির মুজাহিদদের (আইসিসের) উপর আক্রমন করে।) পৃষ্ঠা ৫৮, দাবিক ম্যাগাজিন, ৯ম সংখ্যা,শাবান , ১৪৩৬ হিঃ।

(কোন কোয়ালিশনের লক্ষ্য সাধনে সহযোগিতা করলেই তাতে যোগদান করা বুঝাবে । কোয়ালিশনে যোগদান করার জন্য এটা শর্ত নয় যে, কাগজে কলমে দস্তখত দিয়ে ঘোষনা দিতে হবে যে আমি এই কোয়ালিশনে যোগদান করেছি। কিছু নামধারী জিহাদী বারবার এই বাতীল কথা বলছে যে, জাওলানীর নুসরাহ ফ্রন্ট সাহওয়াতদের সাথে কোয়ালিশন করেনি। পৃষ্ঠা ৫১, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ। (অর্থাৎ জাবহাত আন নুসরাহ সাহওয়াতদের কোয়ালিশনে যোগদান না করলেও যেহেতু তাদের কাজ কোয়ালিশনের পক্ষে গেছে, সুতরাং তারাও সাহওয়াতদের অন্তর্ভুক্ত। কি আজব মুলনীতি !

(সুতরাং জাওলানীর নুসরাহ ফ্রন্ট ত্যাগ করে তাদের বেশির ভাগ সৈন্যই দাওলার কাতারে যোগ দিয়েছে। এখন নুসরাহ ফ্রন্টে বাকি রয়েছে কেবল এমন লোকরাই যাদের অন্তরে দলান্ধতা ও মুরজিয়াদের আকীদাহ বিদ্বমান রয়েছে। (শুধু তাই নয়) তাদের অন্তরে রয়েছে "মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুরতাদদের সহযগিতা করার মানসিকতা"।) পৃষ্ঠা ৭২, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা,রমজান , ১৪৩৬ হিঃ।


আল-কায়দা

এবার দেখুন আলকায়দা সম্পর্কে দাওলার বক্তব্যগুলো কি কিঃ
--------------------------------------------------------
(আলকায়দা বিকৃত (পথভ্রষ্ট) হয়ে গেছে। আলকায়দা এখন রূপ পাল্টে সম্পুর্ণ বদলে গেছে। আলকায়দার সাথে দাওলার বিরোধ এমন নয় যে , অমুক ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে কিনা হবেনা, কিংবা অমুককে বাইআত দেয়া হবে কিনা হবে না। অথবা দ্বন্দটা এমন জিনিস নিয়েও নয় যে, অমুক সাহওয়াত দলের সাথে লড়াই করব কি করব না। বরং তাদের সাথে আমাদের দ্বন্দটা হল তাদের "ভঙ্গুর দ্বীন (শরীয়ত) চর্চা ও বিকৃত মানহাজের" কারনে। আলকায়দা , আলকায়দার অনুসারি ও তাদের জিহাদ থেকে দাওলা মুক্ত। তাদের (আলকায়দার) মানহাজ হল, তারা "মিল্লাতে ইবরাহীমের পথ অনুসরন করে ত্বাগুতকে অস্বীকার করার পরিবর্তে "শান্তি আলোচনা ও সংখ্যাগরিষ্টতার (গনতন্ত্রের) পিছনে ছুটছে। তাদের মানহাজ হল এমন এক মানহাজ যা জিহাদের তাওহীদের কথা উচ্চস্বরে বলতে লজ্জা পায়। বরং তারা এর পরিবর্তে "সংগ্রাম, জনগন, জনতা, আন্দোলন-অভ্যুত্থানের" মত শব্দ ব্যবহার করে। আলকায়দা মনে করে (!) নাপাক রাফেজি মুশরিকদের ব্যপারে কথা আছে। তাদেরকে দাওয়াত দিতে হবে , তাদের সাথে লড়াই করা যাবেনা"। (আলকায়দা তাদের এমন অভিযোগ থেকে মুক্ত। -অনুবাদক)। আলকায়দা এখন গনতত্রের পিছনে সওয়ার হয়েছে। তাদেরকে দ্বীনী ভাইয়ের মত মনে করছে। তাদেরকে "উম্মাহ" বলে সম্বধন করছে। এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছে, মুজাহিদদের বিরুদ্ধে লড়াইকারী ও আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য আইনে শাসনকারী "ত্বাগুত (!) ইখওয়ানুল মুসলিমীনের নেতার (মুহাম্মাদ মুরসি)" জন্য (কল্যানের) দোয়া করা হচ্ছে, তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ন আচরন করা হচ্ছে। তাকে বলা হচ্ছে, উম্মাহর আশা-আকাঙ্ক্ষা, উম্মাহর সাহসী সন্তান। এখন "হারবী (মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত) খ্রিস্টান, হিন্দু শিখদের মত মুর্তিপূজারীর' দেশের অংশিদার হয়ে পড়েছে। তাদের সাথে শান্তি ও সহাবস্থান করে থাকতে হবে। না , আল্লাহর কসম ! তা হতে পারেনা। (সুত্রঃ দাওলাহর মুখপাত্র আবু মুহাম্মদ আদনানীর বক্তব্য। আল ফুরকান মিডিয়া থেকে রিলিজ হওয়া "এটি আমাদের মানহাজ নয়, কখনও হবে না" শিরোনামে বক্তব্যের এগারোতম মিনিট থেকে নেয়া ।

সুতরাং "জামাত আদ দাওলা" তাদের অফিসিয়াল স্টেটম্যান্টে এই দাবী করছে যে, আলকায়দা মুর্তি পুজারী ও যুদ্ধরত আহলে কিতাবদের (খ্রিস্টানদের) সাথে বন্ধুত্ব ও তাদের সাথে সহাবস্থান করেছে, ত্বাগুতকে অস্বীকার করার নীতি ত্যাগ করেছে, শরীয়াহ আইন বাস্তবায়ন করার পরিবর্তে গনতন্ত্র কায়েম করার নীতি গ্রহন করেছে, শরীয়াহ আইন ব্যাতিত অন্য আইনে যারা শাসন করছে সেসব ত্বাগুত শাসকদেরকে সম্মানীত মনে করছে। মুশরিকদেরকে তাকফীর করছেনা।

এবার তাদের কথা থেকে এটাই বুঝা যাচ্ছে, ঈমান ভঙ্গ হওয়ার এসব কারনগুলোর মধ্যে যে কোন একটি পাওয়া গেলেই আলকায়দাকে "তাকফীর" করা যায়। সুতরাং আলকায়দার মাঝে এত এত কুফরী (!) পাওয়া গেলো, তাহলে কিভাবে তাদের সাথে ঐক্য হতে পারে ????

তালেবান
------------
এবার আসুন দাওলা তালেবানের ব্যপারে কি বলে দেখে নেইঃ
দাওলা তার অফিসিয়াল ম্যাগাজিন দাবিকে একটি ছবি পোস্ট করেছিল। তালেবানের অফিসিয়াল পলিটিকাল দফতর খোলার একটি ছবি দেখিয়ে তারা নিচে ক্যাপশন দেয়, "ত্বাগুতের ছায়াতলে প্রতিপালিত তালেবান"। পৃষ্টাঃ ৬২, দাবিক ম্যাগাজিন, ৯ম সংখ্যা,শাবান , ১৪৩৬ হিঃ।

দাওলার এক দায়িত্বশীল তার এক লেখায়ও এই কথার প্রতিধ্বনি করেছে। সে লিখেছে, তালেবানের আমীর মোল্লা উমারও ত্বাগুতের দেয়া প্রতিজ্ঞার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এবং তিনি জাতীয়তাবাদ ও অন্ধ দলীয়তন্ত্র লালন করেন। তার লেখাটির বাক্যগুলো ছিলো এভাবেঃ
(তালেবানের অফিসিয়াল আরবী ম্যাগাজিন ১৪৩৩ হিজরী সনের "আল সুমূদ" তাদের আমীর মোল্লা উমরের একটা বিবৃতি প্রকাশ করে......। তাতে তিনি (মোল্লা উমার) অন্ধ জাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়ীকদের সূরে কথা বলতে দেখা যায়। অনুরূপভাবে তিনি (মোল্লা উমর) ১৪৩৬ হিজরীতে ঈদ উপলক্ষে উম্মাহর প্রতি পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায়ও বিশ্বনেতৃবৃন্দের দেয়া প্রতিশ্রুতি, চুক্তি ও (আন্তঃদেশীয়) সীমান্তরেখার প্রতিও সম্মান জানাতে দেখা যায়। পৃষ্ঠা ৪৬, দাবিক ম্যাগাজিন, ৬ষ্ঠ সংখ্যা,রবিউল আওয়াল ।

তাদের (দাওলার) বক্তব্য হল তালেবানের এই কিতাল তাদের দেশ ও আফগানিস্তানের জাতীয়তা রক্ষার কিতাল। এই লড়াইয়ের পতাকাটিও তাদের কাছে "কুফরী পতাকা"। এমন বর্ননা তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিগুলোতে অহরহ আছে। আপনারা দাবিকের সপ্তম সংখ্যার চব্বিশ পঁচিশ নাম্বার পৃষ্ঠায় চোখ বুলিয়ে দেখে নিতে পারেন।

এমনিভাবে তাদের এক লিডার "আলকায়দা ইন ওয়াজিরিস্তান" শিরোনামের প্রবন্ধেও আলকায়দা ও তালেবান সম্পর্কে কূরুচিপুর্ন কথা বলেছে। সে সাক্ষ্য দিচ্ছে, ওয়াজিরিস্তানের মুজাহিদদের কায়েম করা শাস শরয়ী আইন নয়। বরং তা জাহেলী যুগের ত্বাগুতী শাসন। পড়ুন তাদের ম্যাগাজিনে কি লেখাঃ
(আফসোসের সাথে বলতে হয়, তাদের (আলকায়দা ইন ওয়াজিরিস্তান ও টিটিপি) শাসন কার্যের দায়িত্বশীলদের সবাই আশআরী। এরা দ্বীনের নামে তাদের সম্প্রদায়ের সবাইকে ধোকা (ওয়াসওয়াসা) দিচ্ছে। পৃষ্ঠা ৪৩, দাবিক ম্যাগাজিন, ৬ষ্ট সংখ্যা, রবিউল আওয়াল , ১৪৩৬ হিঃ।

( আমরা দেখতাম আফগানিস্তানের ছাত্ররা তাদের সাধারন মানুষকে তাওহীদ শিক্ষা দিতে গড়িমসি করছে। তাদের বেশিরভাগই শিরকী কর্মকান্ডে লিপ্ত। যেমন কবরে তাওয়াফ (!), তাবীজ তুমারের ব্যবহার। এখনও এসবের উপস্থিতি সেখানে আছে। পৃষ্ঠা ৪১, দাবিক ম্যাগাজিন, ৬ষ্ট সংখ্যা, রবিউল আওয়াল , ১৪৩৬ হিঃ।

(তালেবানের অধিকাংশ লিডাররা পাকিস্তানী মুরতাদ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের (ISI) এর সাথে যোগাযোগ রাখে। তাদের (তালেবানের) বেশিরভাগ সদস্যরা এমন ধরনের শিরকে আকবার (মারাত্বক ধরনের জঘন্য শিরক) এর উপর আছে যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়। যেমন তারা মৃত ব্যক্তির কাছে দোয়া করে(!) , মৃত ব্যক্তির কাছে শাফায়াত কামনা করে, মৃত ব্যক্তির জন্য নামে মান্নত করে, এবং পশু জবাইয়ের সময় মৃত ব্যক্তির নামে পশু জবাই করে, এমন কি মৃত ব্যক্তির কবরে সেজদাও করে। বর্তমানে তালেবানের বেশিরভাগ গ্রুপগুলো নিজেদের দখলকৃত এলাকায় শরিয়াহ আইনের পরিবর্তে তাদের গোত্রীয় আইনেই বিচার (শাসন পরিচালনা) করে, যে এলাকাকে তারা তামকীন পেয়েছে বলে তারা দাবী করে থাকে। সুত্রঃ ফাদ্বীহাতুশ শাম (সিরিয়ার কলঙ্ক) নামক আরবি প্রবন্ধ, পৃষ্ঠা ২০, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা।

(খ্রিস্টান আমেরিকানদের সাথে লড়াই আর ত্বাগুতের সহযোগীদের সাথে লড়াইয়ের মাঝে কোন দ্বী-মত নেই। দাওলা ইরাকে আমেরিকা ও সাহওয়াতদের সাথে একই সাথে লড়াই করেছে, একইবভাবে দাওলা খোরাসানেও (আফগানিস্তানেও) আমেরিকা ও তালেবানের সাথে লড়াই করবে। (অর্থাৎ তালেবান ও আমেরিকা দাওলার চোখে একই রকম শত্রু -অনুবাদক)। ফাদ্বীহাতুশ শাম (সিরিয়ার কলঙ্ক) নামক আরবি প্রবন্ধ, পৃষ্ঠা ২০, দাবিক ম্যাগাজিন, ১০ম সংখ্যা।

এখানে সামান্যই উল্লেখ করলাম, বাকি গুলো অন্য সময়। আরও প্রমান লাগবে কি ?
যার অন্তরে বক্রতা রয়েছে আল্লাহ তায়ালা তাকে হেদায়াত দেন না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দাউলার ফিতনা থেকে হেফাযত রাখুন ।

jajabor
11-05-2015, 06:44 AM
ভাই abcd1 মনে হয় বুঝেছেন । তার হয়ত এর আগে দাওলার ব্যাপারে কোন ধারনা ছিল না ,কখনও হয়ত দাবিক ম্যাগাজিন দেখেন নাই । তাদের HD video দেখে ,আর যেহেতু সবাই খেলাফতের পুনরুত্থানের জন্যই জিহাদ করছেন । আর দাওলা তা করেছে তাই হয়ত তিনি দাওলার পক্ষে কথা বলছেন ।

ভাই abcd1 এমন জেন না হয় যে বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার অর্থাৎ দাওলার খারেজি হওয়ার সব দলিল ,প্রমান দেওয়া হল কিন্তু আপনি সে দিকে ব্রুক্ষেপ না করে দাওলা নিয়ে বসে আছেন । হক তল্লাশিদের থেকে এমনটা কাম্মনা । আল্লাহ আমাদের সঠিক পথে পরিচালনা করুক......।।