PDA

View Full Version : ইমাম মাহদির আগমনের পথ !!! চমৎকার



আবু মুজাহিদ
09-10-2018, 07:14 AM
খোরাসানঃ ইমাম মাহদির হাতে বাইয়াত ও যুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে হাদিস
মূলত রাসুল (সাঃ) এর যুগে বৃহত্তর খোরাসান বলতে এর সীমানা নিম্ন লিখিত ভূখণ্ডের সমষ্টিকে বুঝায়, যার মূল কেন্দ্র হচ্ছে বর্তমান আফগানিস্তান। বিস্তৃতি নিম্নরূপঃ
“উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তান (হেরাত, বালখ, কাবুল, গাজনি, কান্দাহার দিয়ে বিস্তৃত), উত্তর ও দক্ষিন-পূর্ব উজবেকিস্তান (সামারকান্দ, বুখারা, সেহরিসাবজ, আমু নদী ও সীর নদীর মধ্যাঞ্চল দিয়ে বিস্তৃত), উত্তর-পূর্ব ইরান (নিশাপুর, তুশ, মাসহাদ, গুরগান, দামাঘান দিয়ে বিস্তৃত), দক্ষিন তুর্কমেনিস্তান (মেরি প্রদেশ – মার্ভ, সানজান), দক্ষিন কাজিকিস্তান, উত্তর ও পশ্চিম পাকিস্তান (মালাকান্দ, সোয়াত, দীর ও চিত্রাল), উত্তর পশ্চিম তাজিকিস্তান (সুগ্ধ প্রদেশের খোজান্দ, পাঞ্জাকেন্ত দিয়ে বিস্তৃত)”।
আসুন, প্রথমে আমরা খোরাসান ও সেখান থেকে বাহিনী বের হওয়া, ইমাম মাহদির নিকট বাইয়াত গ্রহণের ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা এবং সেই খোরাসানী বাহিনীর গন্তব্য সম্বলিত হাদিসগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে নেই।
আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“পূর্বদিক (খোরাসান) থেকে কিছু লোক বের হয়ে আসবে, যারা ইমাম মাহদির খিলাফত প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠা সহজ করে দিবে”।
(সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৩, হাদিস নং ২৮৯৬; সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ৩, হাদিস নং ৪০৮৮)
অপর বর্ণনায়, হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যখন তোমরা দেখবে, কালো পতাকাগুলো খোরাসানের দিক থেকে এসেছে, তখন তাদের সাথে যুক্ত হয়ে যেও। কেননা, তাদেরই মাঝে আল্লাহর খলীফা মাহদি থাকবে”।
(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৭৭; কানজুল উম্মাল, খণ্ড ১৪, পৃষ্ঠা ২৪৬; মিশকাত শরীফ, কেয়ামতের আলামত অধ্যায়)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উনি বলতে ছিলেন,
“ঐ দিক থেকে একটি দল আসবে (হাত দিয়ে তিনি পূর্ব দিকে ইশারা করলেন)। তারা কালো পতাকাবাহী হবে। তারা সত্যের (পূর্ণ ইসলামী শাসনের) দাবী জানাবে, কিন্তু তাদেরকে দেওয়া হবে না। দুইবার বা তিনবার এভাবে দাবী জানাবে, কিন্তু তখনকার শাসকগণ তা গ্রহণ করবে না। শেষ পর্যন্ত তারা (ইসলামী শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব) আমার পরিবারস্থ একজন লোকের (ইমাম মাহদির) হাতে সোপর্দ করে দিবে। সে জমিনকে ন্যায় এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে ভরে দিবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে অন্যায় অত্যাচারের মাধ্যমে ভরে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যদি কেউ ঐ সময় জীবিত থাকো, তবে অবশ্যই তাদের দলে এসে শরীক হয়ে যেও – যদিও বরফের উপর কনুইয়ে ভর দিয়ে আসতে হয়”।
(আবু আ’মর আদ দাইনিঃ ৫৪৭, মুহাক্কিক আবু আবদুল্লাহ সাফেঈ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন)
হযরত হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিবারস্থ (আহলে বাইত) লোকদের উপর আশু বিপদাপদের বর্ণনা দিচ্ছিলেন,
“শেষ পর্যন্ত আল্লাহ পাক পূর্বদিক থেকে কালো পতাকাবাহী লোকদেরকে পাঠাবেন। যারা ঐ কালো পতাকাবাহী লোকদেরকে সাহায্য করল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে সাহায্য করবেন। যে তাকে ছেড়ে দিল, আল্লাহ তায়ালাও তাকে ছেড়ে দেবেন। তারপর ঐ কালো পতাকাবাহী দল এমন এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) এর কাছে আসবে – যার নাম আমার নামের মতো হবে। তারা ঐ ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) এর উপর শাসনব্যবস্থার দায়িত্ব সোপর্দ করবে। সুতরাং, আল্লাহ তায়ালাও তাদেরকে সহযোগিতা করবেন”।
(আলফিতান, নুয়া’ইম ইবনে হাম্মাদঃ ৮৬০)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদিন আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপস্থিত হলাম। এ সময়ে বনু হাশিমের কয়েকজন যুবক এসে হাজির হল। তাদের দেখার পর রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চোখদুটো লাল হয়ে গেল এবং চেহারার রং বদলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এই অবস্থা দেখে আমি বললাম, ‘আমরা আপনার চেহারায় অপ্রীতিকর কিছু দেখতে পাচ্ছি যে!’
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“আমরা আহলে বাইতের জন্য আল্লাহ দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে নির্বাচন করেছেন। আমার পরিবারের সদস্যরা আমার অবর্তমানে বিপদ, দেশান্তর ও অসহায়ত্বের শিকার হবে। এমনকি পূর্ব দিক থেকে এমন কিছু লোক আগমন করবে, যাদের পতাকা হবে কালো। তারা কল্যাণ (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করবে; কিন্তু এরা (বনু হাশিম) দেবে না। অগত্যা তারা যুদ্ধ করবে ও জয়লাভ করবে। এবার তারা যা (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করেছিল, (বনু হাশিম) তা প্রদান করবে। কিন্তু এবার তারা তা (নেতৃত্ব) গ্রহণ না করে আমার বংশের এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) কে তা (নেতৃত্ব) ফিরিয়ে দিবে। সেই ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) পৃথিবীটাকে ন্যায়নীতি দ্বারা এমনভাবে ভরে দিবে, যেমনটি পূর্বে তা অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। তোমাদের যে লোক সেই সময়টি পাবে, সে যেন উক্ত বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে হলেও”।
(সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৬)
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যখন কালো পতাকাগুলো পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে বের হবে, তখন কোন বস্তু তাদেরকে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে না। এমনকি এই পতাকাকে ইলিয়ায় (বাইতুল মুকাদ্দাসে) উত্তোলন করা হবে (খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে)”।
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২২৬৯;মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ৮৭৬০)
প্রতিহত করতে না পারলেও সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা তৈরির ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে। ইমাম জুহরি বলেছেন, আমার কাছে এই বর্ণনা পৌঁছেছে যে,
“খোরাসান থেকে কালো পতাকা বের হবে। সেটি যখন খোরাসানের ঘাঁটি থেকে অবতরণ করবে, তখন ইসলামের খোঁজে অবতরণ করবে। কোন বস্তু তাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না অনারবদের পতাকাগুলো ব্যতীত, যেগুলো পশ্চিম দিক থেকে আসবে”।
(কানাজুল উম্মাল, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১৬২)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে অবশ্যই কালো পতাকাবাহী দল আসবে। ঘোড়ার সিনা পর্যন্ত রক্তে ডুবন্ত থাকবে”।
(মাজমাউজ জাওয়াইদ)
হযরত বুরাইদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমার পরে অনেক বাহিনী আসবে। তোমরা অবশ্যই খোরাসানের বাহিনীতে যোগ দিবে”।
(ইবনে আদি)
ইমাম যুহরি বলেছেন,
“পূর্ব থেকে কালো পতাকা এগিয়ে আসবে, যাদের নেতৃত্ব দেবে এমন এক দল লোক, যারা হবে ঝুলপরিহিত খোরাসানি উস্ট্রীর মতো, লম্বা চুল ও দাঁড়ি বিশিষ্ট। তাদের বংশ হবে গ্রামীণ আর নাম হবে উপনাম। তারা দামেস্ক নগরীকে জয় করবে। তাদের থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রহমত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে”।
(আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬)
খোরাসান থেকে বের হওয়া এই কালো পতাকাবাহী এই বাহিনী ইমাম মেহেদীর হাতে বাইয়াত গ্রহণের পূর্বে ইরাকের কুফা নগরীতে সিরিয়ার বনু কাল্ব গোত্রীয় কুরায়শি শাসকের (হাদিসের বর্ণনাগুলোতে ‘সুফিয়ানি’ হিসাবে এসেছে) মোকাবিলা করবে।
আরতাত (রাঃ) বলেন,
“সুফিয়ানি কুফায় প্রবেশ করবে। তিনদিন পর্যন্ত সে দুশমনদের বন্দীদেরকে সেখানে আটকে রাখবে এবং সত্তর হাজার কুফাবাসীকে হত্যা করে ফেলবে। তারপর সে আঠার দিন পর্যন্ত আঠার দিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তাদের (কুফাবাসীদের) সম্পদগুলো বণ্টন করবে। তাদের (কুফাবাসীদের) মধ্যে একদল খোরাসানে ফেরত যাবে। সুফিয়ানির সৈন্যবাহিনী আসবে এবং কুফার বিল্ডিংগুলো ধ্বংস করে সে খোরাসানবাসীদেরকে তালাশ করবে। খোরাসানে একটি দলের আবির্ভাব ঘটবে, যারা ইমাম মাহদির দিকে আহ্বান করবে। অতঃপর মাহদি ও মানসুর (একজন সেনাপতি) উভয়ে উভয়ে কুফা থেকে পলায়ন করবে। সুফিয়ানি উভয়ের তালাশে সৈন্য প্রেরণ করবে। অতঃপর যখন মাহদি ও মানসুর মক্কায় পৌঁছে যাবে, তখন সুফিয়ানির বাহিনীকে ‘বায়দা’ নামক স্থানে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। এরপর মাহদি মক্কা থেকে বের হয়ে মদিনায় যাবেন এবং ওখানে বনু হাশেমকে মুক্ত করবেন। এমন সময় কালো পতাকাবাহী লোকেরা এসে পানির উপর অবস্থান করবে। কুফায় অবস্থিত সুফিয়ানির লোকেরা কালো পতাকাবাহী দলের আগমনের কথা শুনে পলায়ন করবে। কুফার সম্মানিত লোকেরা বের হবে যাদেরকে ‘আসহাব’ বলা হয়ে থাকে, তাদের কাছে কিছু অস্ত্র শস্ত্রও থাকবে এবং তাদের মধ্যে বসরা’বাসীদের থেকে একজন লোক থাকবে। অতঃপর কুফাবাসী সুফিয়ানির লোকদেরকে ধরে ফেলবে এবং কুফার যে সব লোক তাদের হাতে থাকবে, তাদেরকে মুক্ত করবে। পরিশেষে কালো পতাকাবাহী দল এসে মাহদির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে”।
(আল ফিতানঃ ৮৫০, মুহাক্কিক আহমদ ইবনে সুয়াইব এই হাদিসটির সনদকে ‘লাবাসা বিহা’ বা ‘বর্ণনাটি গ্রহণ করা যেতে পারে’ বলেছেন)
‘মানসুর’ সম্পর্কে হযরত হিলাল ইবনে আমর বর্ণনা করেন, আমি হযরত আলী (রাঃ) কে বলতে শুনেছি, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“এক লোক মা-আরউন্নহর (নদীর ওপার) থেকে রওনা হবে, যার নাম হবে হারছ হাররাছ। তার বাহিনীর সম্মুখ অংশের সেনাপতির নাম হবে মানসুর, যে (খেলাফত বিষয়ে) মুহম্মদ বংশের জন্য পথ সুগম করবে বা শক্ত করবে, যেমনটি কুরাইশ আল্লাহর রাসুলকে ঠিকানা দান করেছিল। তার সাহায্য সহযোগিতা করা কিংবা তার ডাকে সাড়া দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য বলে বিবেচিত হবে”।
(সুনানে আবী দাউদ, হাদিস নং ৪২৯০)
আমু নদীর ওপারে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার দেশগুলোকে ইসলামের পরিভাষায় ‘মা-আরউন্নহর’ বা ‘নদীর ওপার’ বলা হয়। উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান,কাজিকিস্তান এর অন্তর্ভুক্ত যা কিনা বৃহত্তর খোরাসানের একটি অংশ।
মুহম্মদ বিন হানাফিয়্যা (রহঃ) বলেন,
“বনু আব্বাস থেকে পতাকাবাহী দল বের হবে। অতঃপর খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী অন্য আরেকটি দল আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের পাগড়ীগুলো কালো বর্ণের হবে এবং জামা সাদা বর্ণের হবে। কালো পতাকাবাহী দল সুফিয়ানি (সিরিয়ার বনু কাল্ব গোত্রীয় কুরায়শি শাসক) এর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে দেবে। শেষ পর্যন্ত তারা বাইতুল মুকাদ্দাসে এসে উপস্থিত হবে এবং তাদের নেতৃত্ব ইমাম মাহদির হাতে সোপর্দ করে দেবে। তাদের কাছে সিরিয়া থেকে তিনশত লোক আসবে। এদের (খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী) বের হওয়া এবং মাহদির হাতে নেতৃত্ব সোপর্দ করার মাঝে ৭২ মাসের (৬ বছরের) ব্যবধান থাকবে”।
(কিতাব আল ফিতানঃ ৮৫১, দুর্বল হাদিস)
হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের নিকট তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক (খোরাসান) থেকে কতগুলো কালো পতাকা আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।
বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,
“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”।
(সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন,
“কালো পতাকা পূর্ব দিক থেকে আর হলুদ পতাকা পশ্চিম দিক থেকে আগমন করবে। সিরিয়ার কেন্দ্রভূমি তথা দামেস্কে উভয় পক্ষের মোকাবিলা হবে”।
(আল ফিতান, নুয়া’ইম ইবনে হাম্মাদ)
উমর বিন মুররাহ আল জামালী (রাঃ) বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“নিশ্চই খোরাসান থেকে একদল কালো পতাকাবাহী লোকের আবির্ভাব ঘটবে এবং তাঁদের একদল তাঁদের ঘোড়াগুলো দড়ির সাহায্যে বাইতাল লাহ্যিয়া (গাজা, ফিলিস্তিন) এবং হারাস্তার (দামেস্ক, সিরিয়া) মধ্যবর্তী স্থানে জাইতুন গাছের সাথে বাধবে”। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সেখানে কি কোন জাইতুন গাছ আছে’? তিনি বলেন, “যদি সেখানে জাইতুন গাছ নাও থাকে তাহলে শীঘ্রই সেখানে জাইতুন গাছ জন্মাবে এবং খোরাসান থেকে কালো পতাকাবাহী দল বের হয়ে আসবে এবং তারা তাঁদের ঘোড়াগুলো এইসব জাইতুন গাছের সঙ্গে বাঁধবে”।
(কিতাব আল ফিতানঃ ৮৬১, পৃষ্ঠা ২১৫, দুর্বল হাদিস)
উপরের সবগুলো হাদিস সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করলে যেটা প্রতীয়মান হয়, তা হলঃ
>খোরাসানের থেকে যে বাহিনীটি বের হবে তাদের হাতে কালো পতাকা থাকবে।
>তাদের পাগড়ীগুলো কালো বর্ণের হবে এবং জামা সাদা বর্ণের হবে।
>তাদের পোশাক ঢিলে ঢালা হবে, চুল ওয়ালা হবে, তাদের বংশ গ্রামীন হবে।
>আসল নামের পরিবর্তে তারা উপনামে পরিচিত হবে।
>যদিও তাদের কেউ প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে পশ্চিমা শক্তি।
>তারা এ সকল প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে ঠিকই খোরাসান থেকে বের হয়ে ইরাকের দিকে এগুবে।
>এরপর তাদের (কালো পতাকাবাহী খোরাসানিদের দলের) কোন এক নেতা যার নাম হবে ‘মানসুর’, সে ইমাম মাহদিকে সহায়তা করবে। মানুষদেরকে তার দিকে ডাকবে।
>এক পর্যায়ে এই কালো পতাকাবাহী খোরাসানিদের সঙ্গে ইমাম মাহদি (যদিও তখনও তার আত্মপ্রকাশ ঘটেনি, শুধু কালো পতাকাবাহী খোরাসানিদের দলে মিশে আছেন) নিয়েই মক্কাতে পৌছবে।
>সেখানে কোন এক খলীফার তিনপুত্রের দ্বন্দের প্রেক্ষিতে যখন হজ্জ মৌসুমে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এবং তার সাথে উপস্থিত থেকে এই খোরাসানের কালো পতাকাবাহীরাই প্রথম বাইয়াতের সৌভাগ্য অর্জন করবে। (পরবর্তীতে ঘটনার পরিক্রমায় সিরিয়ার ‘আবদাল’ বা শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ ও ইরাকের ‘আসাইব’ বা সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিবর্গ মক্কায় এসে ইমাম মাহদির নিকট বাইয়াত হবে)।
>এরপর এই খোরাসানের কালো পতাকাবাহী বাহিনীসহ ইরাকে গমন করে সে অঞ্চলকে মুক্ত করবেন।
>পরে তিনি সিরিয়ার অভিমুখে যাত্রা করে বনু কাল্ব গোত্রীয় কুরায়শি শাসক এর সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে দেবে। (যা হাদিসে ‘কালবের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত)।
>যেহেতু এই বাহিনী ইমাম মাহদির নেতৃত্বাধীন থাকবে, হাদিসে বর্ণিত সকল যুদ্ধেই এই কালো পতাকাবাহী খোরাসানি বাহিনীর সকল যোদ্ধা ইরাক, বৃহত্তর সিরিয়া (সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন, প্যালেস্টাইন, বাইতুল মাকদিস বা জেরুজালেম) তে কাল্বের যুদ্ধ, পেছন দিককার শত্রুর সাথে যুদ্ধ, রোমানদের (পশ্চিমা খ্রিস্টানদের) সাথে মহাযুদ্ধ থেকে শুরু করে ইস্তাম্বুল বিজয় পর্যন্ত সব যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করবে। কারণ, তারা ইমাম মাহদির খেলাফত প্রতিষ্ঠাকে সহজ করে দিবেন। এবং সর্বশেষে সকল বিজয়ের পর যখন জেরুজালেমে খেলাফত প্রতিষ্ঠা হবে, তখন তারা সেখানে এই কালো পতাকা উড়িয়ে তাদের ঘোড়াগুলোকে জাইতুন গাছের সাথে বেধে তারা ক্ষান্ত হবে।
যেহেতু খোরাসানের এই বাহিনী ইমাম মাহদির সঙ্গী হবে তাতে বুঝা যায় যে, এটি শেষ জামানার অংশ হিসাবে হতে হবে। আসুন, আমরা একটু মিলিয়ে নেই, হাদিসের ধারাবাহিকতায় আমরা কোন জামানায় বসবাস করছি। অন্যথায়, খোরাসান থেকে যে বাহিনীই কালো পতাকা নিয়ে বের হোক না কেন তার গুরুত্ব অনুধাবন করা যাবে না।
হযরত হুজায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“নবুওয়াত ব্যবস্থা তোমাদের মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করেন। অতঃপর যখন ইচ্ছা, তখন তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর) তোমাদের মাঝে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং তা আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (খুলাফায়ে রাশিদিন এর যুগ)। অতঃপর তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর হানাহানির রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহ তাআলার যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (রাজতন্ত্র)। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিলুপ্তি ঘটবে। তারপর জবর দখল তথা আধিপত্য বিস্তারের রাজত্ব কায়েম হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় দুনিয়াতে কিছুকাল বিরাজমান থাকবে (নানা ভূখণ্ডে বর্তমান একনায়কতন্ত্র ও রকমারি বাদ ও তন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত স্বৈর শাসকগণ) । তারপর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, তখন এরও অবসান ঘটবে। অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েম হবে। এ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ রইলেন”।
(মুসনাদে আহমদঃ ৪/২৭৩)
আর তাছাড়া অপর হাদিসে, হযরত আবু উবাইদা (রাঃ) এবং মু’আজ বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“ইসলামের সূচনা হয়েছে নবুওয়াত ও রহমতের শাসনের মাধ্যমে। এরপর হবে খেলাফত ও রহমতের শাসন। এরপর হবে অত্যাচার লুটেরা বাদশাদের শাসন। এরপর হবে অহংকারী প্রভাবশালী বাদশাদের শাসন, তখন জমিনে অন্যায়, অবিচার, ফেতনা ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়বে। সেকালের লোকেরা রেশম (সিল্ক), ব্যভিচার (পরকীয়ার পাশাপাশি বয়ফ্রেন্ড-গার্ল ফ্রেন্ডের নামে চলমান বহুল প্রচলিত সামাজিকভাবে স্বীকৃত উঠতি বয়সী অবিবাহিতদের জেনা) এবং মদকে হালাল করে ফেলবে। আল্লাহর সাথে সাক্ষাত পর্যন্ত এর মাধ্যমেই তাদেরকে রিজিক দেওয়া হবে এবং সাহায্য করা হবে”।
(শুয়াইবুল ঈমান আল বায়হাকি, ৫/১৬)
উপরের হাদিসদ্বয়ের প্রেক্ষিতে আমরা যে যুগের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছি, তা হচ্ছে অন্যায়, অবিচার ও ফেতনা ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ার যুগ। আল্লাহ তা’আলার জমিনে সর্বোচ্চ শাসন ব্যাবস্থা (sovereignty) একমাত্র আল্লাহর হওয়া উচিৎ। যদি আল্লাহর জমিনে আল্লাহর কানুন ব্যতীত মানুষের তৈরি কোন কানুন বাস্তবায়নের অপচেস্টা চালানো হয়, তবে অবশ্যই জমিনে অন্যায় অবিচার ও ফেতনা ফ্যাসাদে ভরে যাবে।
১৯২৪ সালে উসমানি খেলাফতের ভেঙ্গে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব আজ ৫৭ টি ভূখণ্ডে বিভক্ত হয়ে বর্তমানে একনায়কতন্ত্র ও রকমারি বাদ ও তন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত স্বৈর শাসকদের দ্বারা শাসিত। ‘অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে’ – মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তিই প্রমাণ করে সারা বিশ্বে ইসলামী শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজত্বের লাগাম মুসলিমদের হস্তগত হবে। কখনো এর ব্যতিক্রম হবে না। কারণ, বিভিন্ন বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা যথা সময়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। ইতিহাসে তার বহু প্রমাণ রয়েছে। এবং আমরা সেই রকমই একটি ‘ট্রাঞ্জিকশন ফেজ’ এ আছি।
এবার আমরা খোরাসানের দিকে তাকাই। আশির দশকে খোরাসানের কেন্দ্রস্থল আফগানিস্তান সমাজতন্ত্র নামক পাগলা ঘোড়ার সওয়ার তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্বারা আক্রান্ত হয়। দীর্ঘ দশ বছরের (১৯৭৯ – ১৯৮৯) যুদ্ধের পর পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন শুধু পরাজিতই হয়নি, কয়েক বছরের মাথায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে আমু নদীর ওপারে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার দেশগুলো যাকে ইসলামের পরিভাষায় ‘মা-আরউন্নহর’ বা ‘নদীর ওপার’ বলা হয়, সে সব দেশঃ উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান,কাজিকিস্তান এর অন্তর্ভুক্ত যা কিনা বৃহত্তর খোরাসানের একটি অংশ, সমাজন্ত্রমুক্ত হয়ে স্বাধীনভূখণ্ডরূপে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও এই যুদ্ধকে মুসলিম জাহান ধর্মযুদ্ধ হিসাবে গ্রহণ করে এবং ‘সে যেন উক্ত বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে হলেও’ এর উপর আমল করার মতোই সকল মুসলিম ভূখণ্ড হতে মুজাহিদরা আগমন করে। যদিও এদের কারও হাতেই কালো পতাকা ছিল না।
১৯৮৯ সালে রাশিয়ানরা ফিরে গেলে তাদের দালালদেরকে কাবুল থেকে হটিয়ে ১৯৯২ সালে ইসলামিক স্টেট অফ আফগানিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে একটি রঙ্গিন পতাকা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনেকের মধ্যে পশ্চিমারা পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। আর একে কেন্দ্র করে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয় এবং দেশের আইন শৃঙ্খলার ব্যপক বিপর্যয় দেখা যায়। একদিকে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত দেশের পুনর্গঠনের চ্যলেঞ্জ অন্যদিকে যুদ্ধ ফেরত নেতাদের ‘রকমারি বাদ আর তন্ত্র’ এর উপর ভিত্তি করে ক্ষমতার লড়াই।
অবশেষে গ্রাম্য এক কওমি মদ্রাসার শিক্ষক গুটি কয়েক দরিদ্র ছাত্রদের নিয়ে শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। একের পর এক প্রদেশ তাদের নিয়ন্ত্রণে আসতে থাকে। অবশেষে ১৯৯৬ সালে কাবুলের নিয়ন্ত্রন নেওয়ার পর তারা দেশের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রনের ঘোষণা দেয়। জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত রঙ্গিন পতাকা হটিয়ে উড়িয়ে দেয় ইসলামিক ভূখণ্ডের সত্যিকার পতাকা ‘লিওয়া’ – সাদার ভিতরে কালো রঙ্গের কালিমা খচিত। আর সেনাবাহিনীর পতাকা হল ‘ আর রায়া’ – কালোর ভিতরে সাদা রঙ্গের কালিমা খচিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও যুদ্ধের সময় কালো পতাকা ব্যবহার করতেন, যা ‘উকাবা’ নামে পরিচিত।
শুরু হল খোরাসানের কেন্দ্রস্থলে কালো পতাকাবাহী দলের যাত্রা। পশ্চিমা বিশ্ব হারালো তাদের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রন। শুরু হল দাজ্জালি মিডিয়ার প্রচার যুদ্ধ। মিডিয়াতে দেখাতে লাগলো এই দলকে। কিন্তু এ কারা। জামা সাদা বর্ণের আর পাগড়ীগুলো কালো বর্ণের। পোশাক ঢিলে ঢালা , অনেকেই চুল ওয়ালা, পশ্চিমা মিডিয়াই বিশ্বকে জানিয়ে দিল এরা সব পশ্চাৎপদ গ্রামীন। মাদ্রাসার ছাত্র। আরবীতে বলে ‘তালিব এ ইলম’। আর বহু বচন ‘তালিবান’। আর পশ্চিমা মিডিয়া বিশ্বের সামনে এদেরকে এই ‘তালিবান’ উপনামে পরিচয় করিয়ে দিল (আসল নামের পরিবর্তে তারা উপনামে পরিচিত হবে)।
পশ্চিমা মিডিয়ার বদৌলতে জানা গেল তাদের শাসন ব্যবস্থায় তাদের কঠোর অবস্থান। কিন্তু বিচার হয় কাফের, মুনাফিক আর ফাসেকদের হৃদয় কাঁপানো আইন – শরিয়াহ আইনে। শুরু হল চতুর্মূখী অপপ্রচার। এবং প্রথমেই বেঁছে নেওয়া হল সেই পুরনো অস্ত্র নারী শিক্ষা। পশ্চিমা মিডিয়ার বদৌলতে সারা বিশ্বে জানানো হল এরা ‘নারী শিক্ষা’ ও ‘কর্মক্ষেত্রে নারী’ এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আমি নিজেও জানতাম তাই। অথচ সত্য কখনও চাপা থাকে না।
২০০১ সালে তালেবানদের পররাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের মুখপাত্র সাইয়েদ রহমতুল্লাহ হাশেমী যখন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার জন্য যান, তখন তিনি ১০ ই মার্চ ২০০১ এ ক্যালিফোর্নিয়া উনিভার্সিটিতে একটি পাবলিক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। যার ভিডিও ইউটিউবে আসে কেবল ২০১১ এর ১ লা এপ্রিলে (১০ বছর পর!!!!)।
৪১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের এই ভিডিওর ১৪ মিনিট থেকে সে তুলে ধরেন কোন কোন মন্ত্রালয়ে নারীরা কাজ করছে। মেডিকেলসহ কোন কোন ক্ষেত্রে ছাত্রর চেয়ে ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। Taliban Spokesman in University of Southern California লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে ইনশাল্লাহ পাওয়া যাবে।
শুধু তাই নয়, তখন তিনি নিউ ইয়র্কের এক টিভি চ্যানেলে চার্লি রোজ এর সাথে একটি সাক্ষাতকার দেন। সেখানেও কিছু অপ্রিয় সত্য সামনে এসেছে। সেই ভিডিও ইউটিউবে এসেছে ১০ বছর পর ৩১ শে জুলাই ২০১১ সালে। Taliban representative in an interview with Charlie Rose লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে ৩ টি পার্টে ইনশাল্লাহ পাওয়া যাবে।
এমন কি একজন ব্রিটিশ মহিলা সাংবাদিক ইভোনি রিডলি, গোয়েন্দা সন্দেহে তাদের হাতে বন্দি হন এবং তালেবান নেতা মোল্লা উমর এর সাক্ষাত লাভে সক্ষম হন। বন্দি হতে মুক্তির বেশ পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনিও নিজে মুখে বর্ণনা করেছেন তিনি আফগানিস্তানে কি দেখেছেন। Yvonne Ridley – From Captive to Convert লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে উনার অভিজ্ঞতা বর্ণনার ভিডিও ইনশাল্লাহ পাওয়া যাবে।
যাই হোক, সময় গড়িয়ে এল ২০০১। এবার সরাসরি প্রতিবন্ধকতার পালা। (যদিও তাদের কেউ প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে পশ্চিমা শক্তি)।
২০০১ এ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সমগ্র পশ্চিমা জোটের স্থল ও আকাশ যোগে আক্রমণ। জোট ও তাদের মিত্রদের (জাতীয়তাবাদী) পতাকার সংখ্যা ২০১১ সালে এক পর্যায়ে ৪৯ এ এসে ঠেকলঃ আলবেনিয়া, আরমেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলজিয়াম, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এল সালভাদর, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জর্জিয়া, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জর্ডান, রিপাবলিক অব কোরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবারগ, মালয়েশিয়া, মঙ্গোলিয়া, মন্তেনিগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া রিপাবলিক অফ মেসিডোনিয়া, টোঙ্গা, তুর্কি, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। নাম দেওয়া হল ISAF (International Security Assistance Force).
এর মাঝে বৃহত্তর খোরাসানের সিমারেখার মধ্যে কালো পতাকাবাহীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমানে আফগানিস্তানে দাজ্জালি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরতদের মধ্যে একটি বড় অংশ উজবেকিস্থান, কাজাকিস্থান, তুর্কমেনিস্থান, তাজিকিস্থান থেকে আগত। আর সর্বশেষ সংযোজন পাকিস্তানের সোয়াত এলাকার তালিবানরা।
১৫ ই জুন ২০০৯ থেকে ২৩ শে জুলাই ২০১০ পর্যন্ত সর্বশেষ ISAF প্রধান জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাক ক্রিস্টাল (Stanley A. McChrystal) অবসরের পর The Real News Network (www.therealnews.com) সাক্ষাতকারে বলেনঃ
“He (Obama) now believes very strongly that united states has to get out, there is no way that US is going to win in Afganistan, no way they can win in Pakistan either, that the US has no understanding of the forces that unleashed in Afganistan, does not understand the Poshtun population”.
সাক্ষাতকারটি দেখতে হলে The Light Reloaded Pt. 7 (The Battle For Khorasan) লিখে ইউটিউবে সার্চ দিলে ৯ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপের ২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডে এটি দেখা যাবে ইনশাল্লাহ।
এখন পর্যন্ত ৪৯ টি দেশের অনেকেই চলে গেছে আফগানিস্তান ছেড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালের শেষ পর্যন্ত সকল সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছে।
২০১৪ সালে সকল বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহারের পর যদি আফগানিস্তান এই কালো পাগড়ী সাদা জামা ওয়ালা কালো পতাকামুক্ত হয়, তাহলে এরা হাদিস মোতাবেক সেই বাহিনী নয়। কিন্তু যদি এর পরে তারা আবার ক্ষমতা নিয়ে নেয়, তাহলে তারা ৪৯ টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত সেই পশ্চিমা জোট বাহিনীর পরাজয় আর মাইক দিয়ে বাড়ি বাড়ি বলতে হবে না, এরা হাদিসের শর্ত ‘যদিও তাদের কেউ প্রতিহত করতে পারবে না, কিন্তু যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে পশ্চিমা শক্তি’ পূরণ করে ফেলবে।
খেয়াল করার বিষয় হল, বর্তমানে ঠিক সিরিয়াতে যখন বনু কাল্ব গোত্রের শাসক বাশার আল আসাদ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা’আর সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত (পূর্বের লিখাতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে), খোরাসানের এই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জুন ২০১৩ তে ১২০জন যোদ্ধা সিরিয়াতে যোগ দেয়। (সূত্রঃ ডন, জুলাই ১৪, ২০১৩)।
আর এই বাহিনী যদি ইমাম মাহদি আগমনের পূর্বে আত্মপ্রকাশকৃত সেই বাহিনী হয়, তবে তাদেরকে আর একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। হযরত ইয়াজিদ ইবনে সানাদি বর্ণনা করেন, হযরত কাব (রাঃ) বলেছেন,
“মাহদির আত্মপ্রকাশের একটি লক্ষণ হল, পশ্চিম দিক থেকে পতাকা আসবে। বনু কানদা’র এক খোঁড়া ব্যক্তি সেই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবে”।
(আস সুনানুল ওয়ারিদাতুল ফিল ফিতান)
অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হল, ২০০১ সালে যখন পশ্চিমারা খোরাসানের এই কালো পতাকাবাহী বাহিনীটিকে আক্রমণ করে তখন তাদের জয়েন্ট চীফ কমান্ডার ছিল এয়ার ফোর্স জেনারেল রিচার্ড মাইয়ের (Richard Myers)। সে এক পা খোঁড়া।
সে জন্ম গ্রহণ করে কানসাস শহরে যার কিনা কানাডার সাথে সীমানা এবং এই শহরের বেশির ভাগ অধিবাসী কানাডা থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে সেই শুরু থেকে। আর কানাডাকে আরবীতে ‘কানদা’ (كندا) বলে। বাকিটা আল্লাহই ভালো জানেন।
তাই, কোন উপসংহারে না পৌঁছালেও বিশ্বাসী বান্দা হিসাবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে হাদিসে বর্ণিত বৃহত্তর খোরাসানের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ডগুলোর প্রতিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতির উপর এবং অপেক্ষায় থাকবো আমরা ২০১৪ সালে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

ইমাম মাহদীর দলকে ধ্বংস করতে যাওয়া বাহিনীর বায়দা প্রান্তরে মাটির নিচে ধ্বসে যাওয়ার যে কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সে পরিস্থিতি নিয়ে মিডিয়ার মিথ্যা, বানোয়াট, ধোঁকা এবং জাদুময়ী অপপ্রচারের আন্দাজ আপনি করতে পারেন।
সারা বিশ্বের জনসাধারণকে মিনার প্রান্তরের বিভিন্ন লাশের ছবি বার বার বিভিন্ন চ্যানেলে টিভি স্ক্রিনে দেখানো হবে আর ইমাম মাহদীকে পুরো ঘটনার জন্য দায়ী করে ‘স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলতে থাকবে। আর সাথে থাকবে সুন্নতি লেবাসধারী সরকারী/দরবারি আলেমদের কুরআন হাদিসের আলোকে পুরো ঘটনার অপব্যাখ্যাওয়ালা টক শো।
আমরা ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছি, বিভিন্ন ভূখণ্ডে কিভাবে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিয়ে তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে দাজ্জালি মিডিয়ার মাধ্যমে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সাধারণ মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে। আর এটি তো আরও অনেক বড় ব্যাপার। মিডিয়ার চালে চলমান এমন অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমান নামধারীরা সেদিন ইমাম মাহদীর কথা মানা তো দূরের কথা, এদের মুখ থেকে কি ধরনের সব প্রতিক্রিয়া বের হতে থাকবে …… এর আন্দাজ করা কঠিন নয়।
পক্ষান্তরে ঐ সকল ব্যক্তি যারা বিবিসি/সিএনএন এর মতো পশ্চিমা দাজ্জালি মিডিয়া ও তাদের বিভিন্ন ভাষাভাষী দালাল মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, সত্যকে গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র কাউকে ভয় করে না, কারও সাথে আপোষ করে না, যাদের অন্তর সদা হক্ক গ্রহণে উন্মুখ – তারা যদি পাহাড়ের গর্তেও অবস্থান করে, ইমাম মাহদীর আবির্ভাবের জ্ঞান তাদের ঠিকই হয়ে যাবে।
যেহেতু “রিসালাত আল খুরুজ আল মাহাদি” কিতাবের ১০৮ পৃষ্ঠায় এসেছে, “১৪০০ হিজরির পরে মানুষ ইমাম মাহদীকে ঘিরে একত্রিত হবে” (এটি হাদিস নয়, কিতাবটিও কোন সনামধন্য কিতাব নয়, সতর্কতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)
আর “আসমাল মাসালিক লিয়্যাম মাহাদিয়্যা মালিকি লি কুল্লু-ইদ দুনিয়া বি ইম্রিল্লাহিল মালিক” কিতাবে কালদা বিন জায়েদ ২১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ “১৪০০ হিজরির সাথে আরও বিশ বা ত্রিশ বছর যোগ কর। এরপরে কোন এক সময়ে মাহদীর আবির্ভাব হবে…”। (এটি হাদিস নয়, কিতাবটিও কোন সনামধন্য কিতাব নয়, সতর্কতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)
তাই বর্তমান ১৪৩৫ হিজরিতে এসে সামনের দিনগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তার উপর উপর সিরিয়াতে বনু কালব গোত্রের দ্বিতীয় শাসক (দ্বিতীয় সুফিয়ানি) এবং তার বর্তমান কার্যক্রম।
হযরত আরতাত (রাঃ) বলেন, “দ্বিতীয় সুফিয়ানির জামানায় বিকট এক আওয়াজ আসবে। আওয়াজটি এতই বিকট হবে যে, প্রত্যেক গোত্রই মনে করবে – তাদের নিকটবর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে।” (আল ফিতান, ৮৫০)
তাই, কোন উপসংহারে না পৌঁছালেও বিশ্বাসী বান্দা হিসাবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে হাদিসে বর্ণিত মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর প্রতিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতির উপর।

Sadhin
09-11-2018, 01:06 AM
জাযাকাল্লাহ অাঁখি অনেক বিষয় জানতে পারলাম, অালহামদুলিল্লাহ ৷

উলামায়ে দেওবন্দ
09-11-2018, 11:43 AM
আল্লাহ আমাদেরকে ঈমাম মাহদীর সাথে মিলিত হয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করার তাওফীক দিন

তানভির হাসান
09-12-2018, 10:18 PM
জাঝাকাল্লাহ ভাই! পুনরায় অনেক কিছু মনে করিয়ে দিয়েছেন!

:------/আল্লাহ আমাদের সকলকে ইমাম মাহদীর সঙ্গী হয়ে কুফ্ফারদের বিরুদ্দে জিহাদ চালিয় জাওয়ার তাওফিক দান করুন।আমিন:---------:

Bara ibn Malik
09-12-2018, 10:25 PM
ভাই,আল্লাহ কবুল করুন, আমিন।

mumtahina07
09-13-2018, 07:26 AM
একসাথে এত কিছু। আলহামদুলিল্লাহ। জাঝাকাল্লাহ খাইরন।