PDA

View Full Version : ইসলামে দণ্ডবিধি (হদ-তাযির)- ০৭: এক. বয়কট ও বর্জন



ইলম ও জিহাদ
09-12-2018, 07:04 PM
কুরআন হাদিসে বিভিন্ন প্রকারের তাযিরের কথা এসেছে। ফুকাহায়ে কেরাম তাযিরে বিভিন্ন প্রকার শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন-
১. বর্জন ও বয়কট।
২. নির্বাসন।
৩. বন্দী করে রাখা।
৪. প্রহার।
৫. হত্যা ... ইত্যাদি।


এক. বর্জন ও বয়কট
কেউ কোন হারাম কাজে লিপ্ত হলে কিংবা কোন ফরয-ওয়াজিব ছেড়ে দিলে, মুনাসিব মনে হলে তাকে বর্জন ও বয়কটের মাধ্যমে তার শাস্তি হতে পারে। কুরআনে কারীমে স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর ব্যাপারে এই শাস্তির কথা এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:


{وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا}


যে সকল স্ত্রীর ব্যাপারে তোমরা অবাধ্যতার আশঙ্কা কর, তাদেরকে (প্রথমে) বুঝাও এবং (তাতে কাজ না হলে) তাদের সাথে একই বিছানায় শয়ন ছেড়ে দাও এবং (তাতেও সংশোধন না হলে) তাদের প্রহার করতে পার। অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খুঁজো না। নিশ্চিত জেনো- আল্লাহ সবার উপরে, সবার বড়। [ নিসা: ৩৪]




বুঝিয়ে কাজ না হলে আল্লাহ তাআলা অবাধ্য স্ত্রীর বিছানা স্বামী থেকে আলাদা করে দিতে বলেছেন। এতেও কাজ না হলে প্রহারের বৈধতা দিয়েছেন। এটা তার অবাধ্যতার শাস্তি।



এ আয়াতে কারীমাটি তাযিরের অধ্যায়ে একটি মৌলিক দলীলরূপে বিবেচ্য। এখান থেকে কয়েকটি বিধান জানা যায়:
- হুকুকুল্লাহ বা হুকুকুল ইবাদ- এর যে কোনটার সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধ, যেগুলোর কারণে সমাজে বিশৃংখলা বা সমাজের লোকজনের কষ্ট হতে পারে, সেগুলোর বিপরীতে তাযির করা যাবে। কেননা, স্ত্রীর অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাআলা স্বামীকে তাযিরের অধিকার দিয়েছেন; অথচ স্ত্রীর অবাধ্যতার কষ্ট শুধু স্বামী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ, তাহলে যেসকল অপরাধের কারণে সমাজ নষ্ট হবে, জনগণের কষ্ট হবে; সেগুলোর কারণে তো এর আগেই শাস্তি জায়েয হবে, যাতে অপরাধী দমন হয় এবং সমাজে বিশৃংখলা না হয়, লোকজন কষ্ট থেকে রেহাই পায়।

- তাযিরের ক্ষেত্রে ক্রমানুবর্তিতা গ্রহণ করতে হবে। অল্পতে কাজ হলে বেশি দেয়া যাবে না। কেননা, আল্লাহ তাআলা প্রথমেই বিছানা পৃথক করার কিংবা প্রহার করার বৈধতা দেননি। প্রথমে বুঝাতে বলেছেন। কাজ না হলে তখন বিছানা পৃথক করতে বলেছেন। তাতেও কাজ না হলে তৃতীয় পর্যায়ে প্রহারের বৈধতা দিয়েছেন। এই ক্রমানুবর্তিতার বিধান সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

ইবনুল হুমাম রহ. (৮৬১হি.) বলেন,

وهو مشروع بالكتاب، قال الله تعالى {فعظوهن واهجروهن في المضاجع واضربوهن فإن أطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا} [النساء: 34] أمر بضرب الزوجات تأديبا وتهذيبا. اهـ

তাযিরের বৈধতা কুরআনে কারীম দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, [তাদেরকে (প্রথমে) বুঝাও এবং (তাতে কাজ না হলে) তাদের সাথে একই বিছানায় শয়ন ছেড়ে দাও এবং (তাতেও সংশোধন না হলে) তাদের প্রহার করতে পার। অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খুঁজো না।] শিষ্টাচার ও সংশোধনের জন্য আল্লাহ তাআলা স্ত্রীদের প্রহার করার আদেশ দিয়েছেন। [ ফাতহুল কাদির: ৫/৩৪৫]


ইবনুল উখুওয়্যাহ্ রহ. (হি.৭২৯) বলেন,
ولأن الله - تعالى - أباح الضرب للزوج عند نشوز الزوجة وقسنا عليه سائر المعاصي على حسب ما يراه الإمام أو نائبه. اهـ

তাছাড়া স্ত্রীর অবাধ্যতায় আল্লাহ তাআলা স্বামীকে প্রহারের বৈধতা দিয়েছেন। অন্য সকল অপরাধকে আমরা এর উপর কিয়াস করতে পারি। ইমাম বা তার নায়েব যেমনটা মুনাসিব মনে করেন, শাস্তি দেবেন। [ মাআলিমুল ক্বুরবাহ্: ১/২৫০]


ইমাম জাসসাস রহ. (৩৭০হি.) বলেন,
إذا خاف نشوزها وعظها فإن قبلت وإلا هجرها في المضجع فإن قبلت وإلا ضربها. اهـ

যখন স্ত্রীর থেকে অবাধ্যতার আশঙ্কা করবে- তাকে বুঝাবে। যদি গ্রহণ করে তো ভালই, অন্যথায় তাকে বিছানায় পরিত্যাগ করবে। যদি গ্রহণ করে তো ভালই, অন্যথায় প্রহার করবে। [ আহকামুল কুরআন: ২/২৩৮]




হাদিস শরীফেও বয়কটের নজীর রয়েছে। গযওয়ায়ে তাবুকে তিনজন সাহাবী শরীক হননি। তারা হলেন- কাব ইবনে মালেক রাদি., হেলাল ইবনে উমাইয়া রাদি. ও মুরারাহ্ ইবনে রবী রাদি.। সাহাবায়ে কেরামসহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম তাদেরকে পঞ্চাশ দিন বয়কট করে রেখেছিলেন। পঞ্চাশ দিন পর আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে তাদের তাওবা কবুল করে তাদের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল করেন:


{وَعَلَى الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لَا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ}

এবং সেই তিন জনের প্রতিও (আল্লাহ সদয় দৃষ্টি দিয়েছেন) যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত মুলতবী রাখা হয়েছিল। অবশেষে যখন এ পৃথিবী বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল, তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠল এবং তারা উপলব্ধি করল- আল্লাহর পাকড়াও থেকে স্বয়ং তার আশ্রয় ছাড়া কোথাও আশ্রয় পাওয়া যাবে না: তখন আল্লাহ তাদের প্রতি দয়াপরবশ হলেন, যাতে তারা তারই দিকে মনোনিবেশ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [ তাওবা: ১১৮]


ইমাম আবুল আব্বাস কুরতুবী রহ. (হি.৬৫৬) বলেন,
(قرله : نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن كلامنا - أيها الثلاثة -) هو دليل على وجوب هجران من ظهرت معصيته ، فلا يسلم عليه إلا أن يقلع وتظهر توبته . اهـ


কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম লোকজনকে আমাদের তিন জনের সাথে কথা বলতে নিষেধ করে দেন এটি প্রমাণ করে, যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে গুনাহে লিপ্ত হবে, তাকে বর্জন করা ফরয। কাজেই তাকে সালাম দেয়া যাবে না যতক্ষণ না সে তা থেকে বিরত হয় এবং তার মাঝে তাওবা সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয়। [ আলমুফহিম: ২২/১৩৫]


তাদের ঘটনা বিস্তারিত বুখারী ও মুসলিম শরীফে দেখা যেতে পারে।


তদ্রূপ বেদআতীদেরকেও বর্জন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যাতে তারা তাদের বিদআত পরিত্যাগ করে এবং লোকজন তাদের গোমরাহি থেকে সতর্ক ও নিরাপদ থাকতে পারে।

বি.দ্র.

এই প্রকারের বর্জন ও বয়কট ঐ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মুসলিমকে তিন দিনের অধিক বর্জন করতে নিষেধ করেছেন। যেমন- হযরত আবু আইয়ূব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

[لا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث يلتقيان فيصد هذا ويصد هذا وخيرهما الذي يبدأ بالسلام]

কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয় তিন দিনের অধিক তার (দ্বীনি মুসলিম) ভাইকে পরিত্যাগ করে চলবে যে, দুজন দেখা হয়ে গেলে সেও মুখ ফিরিয়ে নেবে, সেও মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাদের দুজনের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি হলো- যে আগে সালাম দেবে। [ সহীহ বুখারী ৬২৩৭, সহীহ মুসলিম ৬৬৯৭]

খুররাম আশিক
09-12-2018, 07:50 PM
প্রিয় আখি, জাযাকাল্লাহ। আল্লাহ আপনার মেহনত কবুল করুন, আপনার উপস্থিতি আমাদের জন্য খুব দরকার। প্রিয় আখি, প্রকাশ্য গোনাহ যেমন দাড়ি কাটা। কেও দাড়ি কাটলে তাকে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকলে জায়েয হবে???