PDA

View Full Version : ...একটি জরুরি বিষয়ে বিজ্ঞদের ফতোয়া চাচ্ছি।



নুরুদ্দিন
10-19-2018, 07:24 PM
উম্মাহর সম্মানিত আলিম ভাইয়েরা, আসসালামু আলাইকুম।
আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মহল্লার ইমামের পিছনে সালাত আদায় করছি না ইমামে'র আকিদাগত বিদ'আদের কারণে। আল্লাহ আরশে নয় বরং সর্বত্র বিরাজমান। ইমাম সাহেব এরকম আরো কিছু ভুল ধারণায় বিশ্বাসী। আমি ইমামকে বুঝাতে চেয়েছিলাম যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা আরশে সমাসীন তবে তাঁর ক্ষমতা, জ্ঞান সর্বত্র। কিন্তু তিনি এই মতের প্রায় উল্টো।
তাই ইমামের পিছনে সালাত আদায় না করে জামাতের পূর্বে একাকি আদায় করি, এবং পরে তাদের সাথে ভান করি। কিন্তু গত এক বছর ধরে ব্রেইনে প্রেশারের দরুন মারাত্বক মাথাব্যথায় ভুগছি। দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন জামায়াত ছেড়ে দিয়ে একাকি সালাত আদায় করাটা আমার উপর অত্যন্ত ভারি বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। অনেক কষ্ট হয়। মাথাব্যথা অনেক অনেক বেড়ে যায় একাকি, চুপিচুপি সালাত আদায় করতে গিয়ে। বাসায় আদায় করলেও এমন হয় হৈ হুল্লোড়ের দরুন। এখন আমি কি করব?
ইমামের পিছনেই কি পড়ব নাকি এভাবেই চলব?
আমার জন্য কি শারিয়াহ কোনো ধরণের সহজ পন্থা অবলম্বন করার অনুমতি দিবে?
আমি কি ঐ ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করব নাকি একাকিই?
(বিঃদ্রঃ শুধুমাত্র আলিম ভাইয়েরা কিংবা এই বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানী ভাইয়েরাই উত্তর দিবেন ইনশাআল্লাহ।)

আল্লাহ আমাকেসহ সবাইকে উত্তম পন্থায় দীন পালনের তাওফিক দান করুন।

খুররাম আশিক
10-19-2018, 09:08 PM
আখি, আপনার প্রশ্নের উত্তর অভিজ্ঞ ভাইয়েরা দিবেন। আর আপনার জন্য দুয়া তো করতে পারি। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ করুন, আমিন।

হিন্দের মুহাজির
10-20-2018, 11:17 AM
উম্মাহর সম্মানিত আলিম ভাইয়েরা, আসসালামু আলাইকুম।
আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মহল্লার ইমামের পিছনে সালাত আদায় করছি না ইমামে'র আকিদাগত বিদ'আদের কারণে। আল্লাহ আরশে নয় বরং সর্বত্র বিরাজমান। ইমাম সাহেব এরকম আরো কিছু ভুল ধারণায় বিশ্বাসী। আমি ইমামকে বুঝাতে চেয়েছিলাম যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা'য়ালা আরশে সমাসীন তবে তাঁর ক্ষমতা, জ্ঞান সর্বত্র। কিন্তু তিনি এই মতের প্রায় উল্টো।
তাই ইমামের পিছনে সালাত আদায় না করে জামাতের পূর্বে একাকি আদায় করি, এবং পরে তাদের সাথে ভান করি। কিন্তু গত এক বছর ধরে ব্রেইনে প্রেশারের দরুন মারাত্বক মাথাব্যথায় ভুগছি। দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছি। এখন জামায়াত ছেড়ে দিয়ে একাকি সালাত আদায় করাটা আমার উপর অত্যন্ত ভারি বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। অনেক কষ্ট হয়। মাথাব্যথা অনেক অনেক বেড়ে যায় একাকি, চুপিচুপি সালাত আদায় করতে গিয়ে। বাসায় আদায় করলেও এমন হয় হৈ হুল্লোড়ের দরুন। এখন আমি কি করব?
ইমামের পিছনেই কি পড়ব নাকি এভাবেই চলব?
আমার জন্য কি শারিয়াহ কোনো ধরণের সহজ পন্থা অবলম্বন করার অনুমতি দিবে?
আমি কি ঐ ইমামের পিছনেই সালাত আদায় করব নাকি একাকিই?
(বিঃদ্রঃ শুধুমাত্র আলিম ভাইয়েরা কিংবা এই বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানী ভাইয়েরাই উত্তর দিবেন ইনশাআল্লাহ।)

আল্লাহ আমাকেসহ সবাইকে উত্তম পন্থায় দীন পালনের তাওফিক দান করুন।

اسأالله العظيم رب العرش العظيم ان يشفيك
ﻻﹶبَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ .

নুরুদ্দিন
10-21-2018, 11:11 AM
জাযাকাল্লাহু খাইরান, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করে আমাকে সাহায্য করুক।
...
সম্মানিত ভাইদের অনুরোধ করছি একটা সমাধান বাতলে দেন আপনারা।

Taalibul ilm
10-22-2018, 12:16 PM
ভাই আপনি বিষয়টি নিয়ে আপনার স্থানীয় আলেমদের সাথে আলাপ করেন। এটি আলোচনার জন্য ফোরামে প্রশ্নের দরকার নেই।

আর এই বিষয়টি একটি ইখতেলাফী বিষয় যে ব্যাপারে অনেক আগে থেকে উম্মাহতে ভিন্নমত রয়েছে। এই ব্যাপারে ফোরামে আলোচনা / বিতর্ক কাম্য নয়।

নুরুদ্দিন
10-22-2018, 06:56 PM
যাজাকাল্লাহ ভাই। যে বিষয় ফোরামের জন্য উপকারী নয় তা ফোরামে দেয়া থেকে বিরত থাকব ইন শা আল্লাহ।

soldier of Islam
10-22-2018, 07:55 PM
ছোটখাটো বিষয় ফোরামে না আনাই ভালো।

Muhammad bin maslama
10-23-2018, 09:33 PM
প্রিয় ভাইয়েরা, এক ভাই প্রশ্ন করেছে এদেশের সরকারের অধিনে ইসলামিক কোনো সেক্টরে চাকরি করা জায়েজ হবে কি না????

হেলাল
10-24-2018, 06:40 AM
জাযাকাল্লাহ।
ভাই আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা দান করুন,আমিন।

হক তালাশ
10-24-2018, 12:43 PM
সুবহানাল্লাহ, ভাইয়েরা এই বিষয়টাকে ইখতেলাফি বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন অথচ এটা আকিদার বিষয় আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

আবুল ফিদা
10-24-2018, 02:26 PM
সুবহানাল্লাহ, ভাইয়েরা এই বিষয়টাকে ইখতেলাফি বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন অথচ এটা আকিদার বিষয় আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

আক্বিদার ক্ষেত্রেও একাধিক মাযহাব রয়েছে আর এই ফোরামে আক্বিদার ক্ষেত্রে একাধিক মাযহাবের ভাইরা আছেন, আর যে ইস্যুতে কথা হচ্ছে এই ইস্যুতে আক্বিদার মাযহাবগুলো মাঝে সম্ভাবত মতানৈক্য আছে, সুতরাং এই মতানৈক্য আকিদার আলোচনা ফোরামে না করে অফলাইনে সমাধান করে নেওয়া উত্তম হবে ইনশাআল্লাহ, ফোরামে এই বিষয়ে আলোচনা করলে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। আল্লাহু আ‘লাম।

কালো পতাকা
10-24-2018, 03:14 PM
সুবহানাল্লাহ, ভাইয়েরা এই বিষয়টাকে ইখতেলাফি বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন অথচ এটা আকিদার বিষয় আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

আমিন প্রিয় ভাই আমাদের আকিদা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র আকীদাই আমাদের আকীদা আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা পেতে শায়খ তামিম আদনানী নিম্নোক্ত বইটা পড়েন আশা করি এই বইটা পড়লে সংশয় টা দূর হবে ইংশাআ্ল্লাহ

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র আকীদাই আমাদের আকীদা ┇ Shaikh Tamim Al Adnani

https://ia802904.us.archive.org/1/items/TamimAladnani_391/Aqeedah.pdf

খুররাম আশিক
10-24-2018, 06:33 PM
কালো পতাকা ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ।

Muslim of Hind
10-24-2018, 07:51 PM
[SIZE=4]

[SIZE=5][COLOR="#FF0000"][B]আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ'র আকীদাই আমাদের আকীদা ┇ Shaikh Tamim Al Adnani

https://ia802904.us.archive.org/1/items/TamimAladnani_391/Aqeedah.pdf

আখি আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আল্লাহ আপনাকে উত্তম জাঝা দান করুন, আমিন।

karimul islam
10-25-2018, 06:34 AM
প্রিয় ভাইয়েরা!বিশেষভাবে তালিবুল ইলম ভাই!আমার জানামতে আল্লাহ আরশে সমাসীন এ জাতীয় আয়াতের ব্যাখ্যায় মুয়াফাসসিরদের ভিন্নমত আছে। কিন্তু আমাদের মানহাজ হচ্ছে সালাফদের আকিদা গ্রহন করা।এ কারনে খলাফদের মতানৈক্যের কারনে বিষয়টা আমরা ইখতিলাফী বলা উপযুক্ত মনে হয়না। এ ব্যাপারে আমাদের সালাফরা কি বলেছেন?আমার খুদ্র জ্ঞানে আমি সালাফদের মাঝে এ ব্যাপারে মতানৈক্য পাইনি।সালাফদের আকিদা ছিল الاستواء معلوم والكيفية مجهول العلم به واجب والسوال عنها بدعة
আল্লাহ আরশে সমাসীন এটা জানা আছে। কিভাবে সমাসীন কাইফিয়্যাত জানা নেই। সমাসীনের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখা আবশ্যক ।কিভাবে সমাসীন এ প্রশ্ন করা বিদয়াত।
কোন ভাইয়ের যদি সালাফদের মতানৈক্য জানা থাকে আমাকে জানিয়ে উপকৃত করবেন।
২য় একটি বিষয় হচ্ছে আল্লাহ আরশে সমাসীন এ জাতীয় আয়াতের যদিও মুয়াফাসসিরদের মাঝে মতানৈক্য আছে কিন্তু আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এ আকিদা পূর্ববর্তী কোন হক আলেম পোষন করতেন বলে আমার জানা নেই।
এটা ছিল মুতাযিলাদের আকিদা। এ আকিদা কোন হক আলেম পোষন করতেন কিনা এ বিষয়টা কো ভাইয়ের জানা থাকলে জানাতে পারেন। বাতিলদের মতানৈক্য এটা মতানৈক্য নয়।
আমি আবার বলছি আমার জ্ঞান অনেক কম। আমার জানা না ও থাকতে পারে। কোন ভাই জানালে কৃতজ্ঞ হব। এ বিষয়টার সমাধান আমার দৃষ্টিতে খুবই জরুরী।

asadhasan
10-25-2018, 06:43 PM
ভাই এই বিশয় টা ধিক্কার দিবেন কারন এই বিষয় আমাদের অনেকেরিই জানা নাই কারন ইমামা মালেক রহঃ বলেন যে আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর সমসীন কেউ যদি এই বিশয় নিয়ে ইখতেলাফ করেন আর তাহল যে আল্লাহ তায়ালা কি আমাদের মত বসেন আর তার কুরছি আমাদের মত তাহলে তার ইমান চলে যাওয়ার আশংকা আছে

abu hatem ar razi
10-27-2018, 11:31 AM
[quote=হক তালাশ;54515]সুবহানাল্লাহ, ভাইয়েরা এই বিষয়টাকে ইখতেলাফি বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন অথচ এটা আকিদার বিষয় আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারনা থাকা প্রয়োজন। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।[/quote
আখি ফিল্লাহ,ভাইয়েরা ইখতিলাফি বলে বিষয়টা উড়িয়ে দিচ্ছেন- এভাবে বলাটা ঠিক হবনা।মডারেটর ভাইয়েরা কিন্তু আমাদের আকীদা ও সিফাতের ক্ষেত্রে ভুল আকীদাও অনুসরণ করতে বলছেননা।
তারা শুধু বলতে চাচ্ছেন(আমার বুঝ অনুযায়ী) আকীদার শাখাগত সুক্ষ্ম ও জটিল বিষয়গুলোতে একাধিক মাযহাব রয়েছে।এবং উম্মাহর আহলুস সু্ন্নাহ ওয়াল জামাআর আলেমদের মাঝেই এই বিষয়গুলোতে অনকেক আগে থেকে ইখতিলাফ চলে এসেছে।আর এই ফোরাম এসব নিয়ে আলোচনার জায়গা না।
এই বিষয়ে নুরুদ্দীন ভাইয়ের উদ্দেশ্য আরেকটা কমেন্ট করেছি।সেখানেও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে।

মতবরোধহীন সাধারণ ফিকহী মাসআলাও তো ফোরামে আলোচিত হয়না,আকীদার ঐক্যমতপূর্ণ মাসআলাওনা।তাহলে আকীদার ইখতেলাফি মাসআলা আলোচনার জায়গা যে ফোরাম নয় তা তো সহজেই অনুমেয়।

আখি ফিল্লাহ,"এটা আকীদার বিষয়,আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন" আপনার এই কথাগুলো সত্য।কিন্তু পাশাপাশি এটাও মনে রাখা জরুরী যে আল্লাহ তায়ালার জাত ও সিফাতের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করা অসম্ভব। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পরিচয় সেই সব মুহকাম ও সুস্পষ্ট সিফাতগুলো দিয়েই লাভ করতে হবে যেগুলো দিয়ে আল্লাহ তায়ালা তার নিজের পরিচয় দিয়েছেন।যেসব সিফাতি নামে আমরা তার তাসবীহ পড়ি।যেমন সুরা হাশরের শেষ তিন আয়াত,আলআসমাউল হুসনা,সুরা ইখলাস,রহমান রহীম......
আর অনেক সিফাত আছে যেগুলোর ব্যাখ্যা ও কাইফিয়্যাত জানা আমাদের সাধ্যের বাইরে।যেমন ওয়াজহুন ইয়াদুন ইস্তিওয়া আলাল আরশ।
এসব সিফাতের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের নীতি কি ছিল বলুন?
ইজমালি ভাবে ইমান আনা, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় না যাওয়া।এসব নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া বেশি বেশি আলোচনা করা সালাফ অপছন্দ করতেন।এমনকি সালাফ এ কথাও বলেছেন-و السوال عنها بدعۃ
সুতরাং মডারেটর ভাইয়েরা যদি এ বিষয়ে ফোরামে আলোচনা করতে নিষেধ করে থাকেন তাহলে তো তারা কোন ভুল করছেন না।বরং সালাফের মানহাজ অনুসরণ করছেন।যদি এ বিষয়ে ফোরামে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে দেখবেন বিতর্ক শুরু হবে কিন্তু শেষ হবেনা।
অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টাতে অনিচ্ছা সত্বেও আলোচনা করতে হল।ভুল থাকলে সংশোধন করে দেওয়ার অনুরোধ।
আর ফোরামের নীতিমালা পরিপন্হী হয়ে থাকলে অবশ্যই যেন মডারেটর ভাইয়েরা এডিট বা ডিলিট করে দেন।
]

abu hatem ar razi
10-27-2018, 11:34 AM
{মডারেটর ও আলিম ভাইদের কাছে জোরদার অনুরোধ-আমার লেখায় যদি ইলমী কোন ভুল থাকে অথবা ফোরামের নীতিমালা পরিপন্হী কোন বিষয় এসে যায় তাহলে যেন অবশ্যই তাম্বীহ করেন।এডিট করে দেন,প্রয়োজনে লেখা ডিলিটও করতে পারেন।}

মুহতারাম নুরুদ্দীন ভাই,
আল্লাহ তায়ালা আপনাকে পূর্ণ সুস্হতা দান করুন।
ভাই,সুস্হতা লাভের জন্য আপনাকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।আপনি বিষয়টাকে আরেকটু স্বাভাবিক করে ভাবুন।এত কঠিনভাবে বিষয়টাকে দেখবেননা।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এসব নিয়ে এত পেরেশান হবেননা,নিজের উপর চাপ প্রয়োগ করবেননা।
আপনাকে হালকা করার জন্য আমি কিছু বিষয় লিখছি। আশা করি আপনি এতে চিন্তার খোরাক পাবেন।
আপনি ওই ইমাম সাহেব যদি আশআরী বা মাতুরিদী মাসলাকের অনুসারী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি তাকে আশআরী মাতুরিদী মাজহাব অনুযায়ী লেখা কিতাব শরহে আকায়েদ দেখাতে পারেন।ওটাতে স্পষ্ট লেখা আছে-تعالي عن المكان والزمان..,.,.,
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সময় ও স্হানের উর্ধে।আশা করি এতে তিনি "সর্বত্র বিরাজমান" কথাটা থেকে সরে আসবেন।কারণ ওটা আশআরী মাতুরিদী বা সালাফী- মোটকথা আহলুস সুনৃনাহ ওয়াল জামাআর কারো মাজহাবই নয়।শরহে আকায়েদ ছাড়াও আশআরী মাতুরিদী মাসলাকের সব কিতাবেই এটা আছে।
হ্যা,এরপর হয়তো তার সঙে আপনার ইস্তেওয়া আলাল আরশ( আক্ষরিক অনুবাদ-আরশে সমাসীন হওয়া)ইয়াদুন ওয়াজহুন ইত্যাদী বিষয়ে মতানৈক্য থাকতে পারে।থাকলে থাকুক,আপনি জামাতে নামাজ পড়তে কোন অসুবিধা নেই।মনে রাখতে হবে এসব সুক্ষ্ম ও জটিল বিষয়গুলোতে উম্মাহ কখনই একমত হবেনা,একটি প্লাটফর্মে এসে দাড়াবেনা।
কারণ অনেক আগে থেকে এসব বিষয়ে মতানৈক্য বিদ্যমান,শতশত পৃষ্ঠা লেখা হয়েছে।কিন্তু সমাধান আসেনি।
আকীদার মাজহাবগুলোর ক্ষেত্রে একদিকে আছেন ইবনে তাইমিয়া,ইবনুল কায়্যিম,ইবনে কাসীর,জাহাবী, ইবনে আব্দুল হাদী এবং আরো কেউ কেউ এবং সকলেই মনীষী।[সালাফি মাসলাক]
আবার অন্যদিকে আছেন আবুল হাসান আশআরী থেকে ইবনে হাজার আসকালানী,ইমাম নববী থেকে তাজুদ্দীন সুবকী,ইবনুল জাওযী থেকে ইবনে কুদামা,ইবনে আব্দুল বার থেকে কুরতুবী
আবু মানসুর মাতুরীদী থেকে ইবনুল হুমাম,রাজি,গাজালী থেকে সাদুদ্দীন তাফতাজানী,ইউসুফ বিন তাশফিন থেকে সালাউদ্দীন আইয়ুবী, এমনকি ইবনে হজম জাহেরী(!)র মতো মনীষীরা।(আশআরী ও মাতুরিদী)।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও তার অনুসারীরা তাদের বিপরীত মাজহাবটিকে ভুল মনে করতেন,তখনকার বাদশা ছিলেন তার বিপরীত মাসলাকের অনুসারী।যার কারণে ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে জেলে যেতে হয়েছে। কিন্ত তার পরও ইমাম ইবনে তাইমিয়া সুলতানের প্রতি অানুগত্যশীল ছিলেন,তার সঙে মিলে জিহাদ এবং তার পিছনে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিতেন।অর্থাত আকীদার মৌলিক ও ঐক্যমতপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন,সেগুলোকে ওয়ালা বারার ভিত্তি বানিয়েছিলেন আর মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হননি।ল,সেগুলোকে ওয়ালা বারার মূল ভিত্তি বানাননি।
আবার ইবনে হাজার ইবনুল হুমামরাও আকীদার ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়া রহ:কে ভুল মনে করতেন,কিন্তু তবু তাকে গোমরাহ বলেননি। বরং শ্রদ্ধার সঙে তার নাম উচ্চারণ করেছেন,শাইখুল ইসলাম সম্বোধনে ভূষিত করেছেন।
নববী ইবনে হাজররা সিফাতের ক্ষেত্রে তাবীল করতেন।কেউ কেউ তাদেরকে অনুসরণ করেছেন আবার কেউ কেউ তাদের এই মাসলাককে ভুল বলেছেন।কিন্তুু কেউই তাদেরকে গোমরাহ বলেননি,পরিত্যাগও করেননি।

মনে রাখতে হবে
আকীদার মৌলিক ও সুস্পষ্ট বিষয়গুলো পুরো উম্মাহ একমত এবং এসব বিষয়ে কারো কোনো ইখতেলাফ নেই।যেমন- আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার উলুহিয়্যত,রুবুবিয়্যত, রহমত, খলক,ইত্যাদী সিফাত।মুমিনের সঙে বন্ধুত্ব আর কাফিরের সাথে শত্রুতা।....
আল্লাহ তায়ালার মুহকাম বা সুস্পষ্ট গুনবাচক নামসমূহ।
আর আকীদার কিছু শাখাগত বিষয় আছে সুক্ষ্ম ও জটিল।যেমন আল্লাহ তায়ালার "ইয়াদ"(যার শাব্দিক অর্থ হাত)ওয়াজহুন(যার শাব্দিক অর্থ চেহারা)...
এসব সুক্ষ্ম ও জটিল বিষয়ে আকীদার একাধিক মাজহাব ও মাসলাক রয়েছে।আশআরী, মাতুরীদী সালাফি...
মৌলিকভাবে আমাদেরকে ঐক্যমতের বিষয়গুলো বেশি বেশি আলোচনায় আনতে হবে,এগুলোকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে,এগুলোকে ওয়ালা বারার মূল ভিত্তি বানাতে হবে।
আর মতবিরোধপূর্ণ সুক্ষ্ম ও জটিল মাসআলাগুলোর ব্যাপারে ইজমালি ইমান আনতে হবে,তাফসিলি আলোচনায় মশগুল হওয়া,বিতর্ক ও মুনাজারায় লিপ্ত হওয়া, একে কেন্দ্র করে বিভক্ত হওয়া, এগুলোকে ওয়ালা বারার মূল ভিত্তি বানানো ইত্যাদী থেকে বেচে থাকতে হবে।
এসব বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম যেমন নিশ্চুপ থাকতেন আমাদেরও উচিত চুপচাপ থাকা।

শেষ করছি শায়েখ আবু কাতাদার একটা আলোচনা থেকে আমার কিছু দৃষ্টিভঙি তুলে ধরার মাধ্যমে।
ইউটিউবে আবু কাতাদা শায়েখের একটা আলোচনা দেখলাম শাইখুল ইসলাম জাহেদ কাউসারী রহ: প্রসঙে।যেখানে তিনি জাহেদ কাউসারীর "এনসাইক্লোপিডিক" সুবিস্তৃত ইলমের স্বীকৃতি দিয়েছেন।এবং তুরস্কে কামাল আতাতুর্কের বিরুদ্ধে তার ঐতিহাসিক প্রতিবাদী ভুমিকারও প্রশংসা করেছেন।মনে রাখতে হবে জাহেদ কাউসারী কিন্তু এ যুগের আশআরী মাতুরিদী মাদরাসার সবচেয়ে বড় প্রতীক।তো ইসলাম ও আহলে ইসলামের প্রতি আন্তরিকতা,মুমিনের সাথে ওয়ালা কাফের থেকে বারা,ইমানের মৌলিক বিষয়গুলোতে ঐক্যমত এবং জাহেলি মতবাদগুলোর প্রতি তিব্র ঘৃণা এগুলোই হল সেই মহার্ঘ্য মৌলিক বিষয় যাকে কেন্দ্র করে আমরা শাখাগত সুক্ষ্ম ও জটিল ইখতেলাফগুলো ভুলে থাকতে পারি,এবং মতভিন্নতার মাঝেও সম্প্রিতীর বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারি।এর কারণেই বহু সালাফি কাউসারীকে আর বহু আশআরী ইবনে তাইমিয়া রহ:কে ভালবাসে।
এবং এই কারণেই শায়খ আবু মুসআব আযযারকাবী বলেছেন আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া বিদআতপন্হীর দুই পা আমার কাছে ঘরে বসে থাকা সহীহ আকীদার লোকদের চেয়ে উত্তম।
শেষ কথা হল,আখি আপনি জামাতে সালাত আদায় করতে পারেন।এটাই আপনাকে আমরা পরামর্শ দিব।প্রয়োজনে আপনি ফতোয়ার কিতাবগুলোতে বিদআতী ইমামের পিছনে নামাজ আদায়ের বিধান দেখে নিন। যদি সেখানে এদের পিছনে নামাজ আদায়ের কথা বলা থাকে তাহলে আদায় করুন।আর যদি একাকী সালাত আদায়ের কথা থাকে তাহলে তো আপনার পেরেশানী কেটে গেল।কারন আপনি ফতোয়া অনুযায়ী আমল করছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে বোঝার তাওফিক দান করুন এবং আমাদেরকে ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেন।
আমীন