PDA

View Full Version : সারা দেশে ৫ দিনে আটক ৭ হাজার, নেপথ্যে পৌরনি



shotter torbary
11-15-2015, 08:03 PM
৫ দিনে আটক ৭ হাজার, নেপথ্যে পৌরনির্বাচন
২০১৫ নভেম্বর ০৯ ২১:৫৪:৫২

নাশকতার আশঙ্কায় দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের অংশ হিসেবে গত পাঁচ দিনে প্রায় ৭ হাজার ব্যক্তিকে আটকও করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ধরপাকড়কে গণগ্রেফতার হিসেবে অভিযোগ করছেন রাজনৈতিক দলগুলো। এ ধরনের আটকের ঘটনাকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের দূরে রাখতে সরকারের এক ধরনের অপকৌশল বলে মনে করছে বিএনপি। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক লোকসমাগম ঠেকাতে এই গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলেও মনে করেন বিএনপি নেতারা।
এদিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট কোনো গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়াই আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া এ ধরনের আটককে মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবীরা।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ৫ নভেম্বর থেকে ৬টি মহানগর ও ৩২টি জেলায় র্যাদব, পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএন-র সমন্বয়ে যৌথবাহিনী এ অভিযান চালাচ্ছে। তবে রংপুর মহানগরে শুধুমাত্র পুলিশ বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। ইতোপূর্বে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে এমন ৩২টি জেলাকে এ অভিযানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোককে যৌথবাহিনী আটক করছে।
দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের বিভাগীয় প্রধানদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনে শুধুমাত্র ৬টি বিভাগীয় শহরে ১৮১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ শ জন, রাজশাহীতে ২৩৮ জন, সিলেটে ৩২ জন, বরিশালে ৫০, খুলনায় ১৭৮ জন ও রংপুরে ১২১ জন।
সরকারের দাবি, আটকরা গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী এবং তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আটকরা সরকারবিরোধী আন্দোলনে গাড়ি ভাংচুর, আগুন-পেট্রোল ও ককটেল বোমা নিক্ষেপসহ বিভিন্ন নাশকতা মামলার আসামী।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলছে। যারা দেশী-বিদেশীদের হত্যা করে, বোমা মারে, বোমার মারার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাদেরই আটক করা হয়েছে বা হবে।
এদিকে আটকদের বিষয়ে সরকারের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলের নেতারা বলছেন, বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আটক করা হয়েছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন থেকে নেতা-কর্মীদের দূরে রাখতে এটা সরকারের এক ধরনের অপকৌশল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দ্য রিপোর্টকে বলেন, বিরোধী দল বা বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নেতা-কর্মীদের আটক করা হচ্ছে। সামনে পৌরসভা নির্বাচন। ওই নির্বাচন থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীকে দূরের রাখার জন্য মিথ্যা মামলার নাটক সাজানো হচ্ছে। যাতে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে অংশ না নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক লোকসমাগম যাতে না হয় তার জন্য সরকার গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তবে খালেদা জিয়ার দেশে আসার ব্যাপারে তিনি নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ বলতে পারেননি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান দ্য রিপোর্টকে বলেন, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলছে, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দলীয় ব্যানারে পৌরসভা নির্বাচনের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, এটি অসৎ উদ্দেশ্যে করা। কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্ত। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে যাতে তারা একক জয়লাভ করতে পারে নেতা-কর্মী আটক সে পরিকল্পানার অংশ। নেতা-কর্মীরা যাতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে এলাকা ছাড়ে। কিন্তু তারা দেশের জনগণের কাছে মিথ্যাচার করছে, যে নাশকতার অভিযোগে আটক করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নেতা-কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করা হচ্ছে। এটা সব ধরনের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। তারা হিটলারি ও বাকশালী কায়দায় দেশ চালাতে নেতা-কর্মীদের আটক করছে।
বিএনপির অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, এগুলো বাজে কথা। কে বিএনপি, কে জামায়াত-শিবির করে, এগুলো দেখছি না। যারা নাশকতার চেষ্টা বা পরিকল্পনা করছে, তাদের ধরা হচ্ছে। কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ে আটক করা হচ্ছে না।
যারা আটক হচ্ছে তাদের বেশীরভাগই বিএনপির নেতাকর্মী বলে দাবি করা হচ্ছে এ কথার জবাবে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের বাঁচাতে আটকরা মিথ্যা বলে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী দিলরুবা শারমিন এ বিষয়ে বলেন, গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া রাতের আঁধারে কোনো ব্যক্তিকে আটক মানবাধিকার লঙ্ঘন। গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া কাউকে আটক করতে হলে উচ্চ আদালতের আদেশ মেনে করতে হবে।
দ্য রিপোর্টকে দিলরুবা শারমিন আরও বলেন, রাতের আঁধারে কাউকে ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে আটকের সুযোগ নেই। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের একটি আদেশেও রয়েছে। সেই আদেশ মেনে আটক করতে হবে। আর যদি কাউকে আটক করা হয় তবে তাকে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতে হবে এবং আটক ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনকে জানাতে হবে।

এক নজরে ৬টি বিভাগের আটকের চিত্র
চট্টগ্রামে ৬ দিনে অন্তত ১২ শ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ মধ্যে জেলার ১৪টি উপজেলায় আটক হয়েছে ১ হাজার ৪৮ জন। মহানগরীতে আটক হয়েছে প্রায় দেড় শ জন। আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশ বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল দ্য রিপোর্টকে জানান, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে গত ৫ নভেম্বর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশের সহযোগিতায় যৌথবাহিনী নগরীর বিভিন্ন অপরাধমূলক এলাকাতে অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানে কোনো নিরীহ লোককে হয়রানি করা হচ্ছে না।
বিশেষ অভিযানে খুলনা মহানগরীর ৮টি থানা ও খুলনা জেলার ৯টি থানায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বেশীরভাগই জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার দ্য রিপোর্টকে জানান, আটকদের মধ্যে অধিকাংশই নাশকতার পরিকল্পনাকারী ও পলাতক আসামী। নাশকতার আশঙ্কায় আর গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের তথ্য অফিসার শরিফুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে জানান, ৬ নভেম্বর থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজশাহী ৯টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের বিএনপি-জামায়াতের ১২ জন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এর সংখ্যা আরও বেশী বলে স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন।
এ ছাড়া সিলেটে বিশেষ অভিযানে ৩২ জনকে আটক করা হয়েছে। রংপুরে ১২১ জনকে। এদের মধ্যে বিএনপির ২৭ জন এবং ৯৪ জন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী রয়েছেন।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী, খুলনার মুহাম্মদ আবুতৈয়ব, রাজশাহীর মাইনুল হাসান জনি, বরিশালের বিধান সরকার, সিলেটের মনোয়ার জাহান চৌধুরী ও রংপুরের ব্যুরো প্রধান সুশান্ত ভৌমিক]
(দ্য রিপোর্ট/এনএস/এসআর/আইজেকে/সা/নভেম্বর ০৯, ২০১৫)

Ahmad Faruq M
11-16-2015, 03:59 PM
জাযাকাল্লাহ,
ভাই যেকোন নিউজ পোষ্ট এর ক্ষেত্রে অবশ্যই নেউজ লিঙ্কসহ দিয়ে দিবেন।