PDA

View Full Version : আকাবিরের বাণীঃ আল্লাহর যিকির



abudujanah
03-04-2019, 02:03 PM
فَإِذَا قَضَيْتُمُ الصَّلَاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِكُمْ . قال ابن عباس رضي الله عنهما ‏:‏ أي بالليل والنهار، في البر والبحر والسفر والحضر والغنى والفقر والمرض والصحة والسر والعلانية‏ .‏
যখন তোমরা নামায সম্পন্ন করো তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত (সর্বাবস্থায়) অবস্থায় আল্লাহর যিকির করো। সূরা নিসা : 103
01 - হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. বলেন, আয়াতের উদ্দেশ্য হল, রাতে, দিনে, স্থলে, জলে, সফরে, বাড়িতে, স্বচ্ছল অবস্থায়, অসচ্ছল অবস্থায়, অসুস্থ থাকা কালে, সুস্থ থাকা কালে, গোপনে, প্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করো।
┈┈

وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ .
যে সব নারী পুরুষ অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করে।- সূরা আহযাব : 35
02 - হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. বলেন 'অধিক পরিমাণে যিকির করে' বলে উদ্দেশ্য, তারা প্রত্যেক নামাযের পর, সকালে, সন্ধ্যায়, যখন ঘুমোতে যায়, যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, যখন ঘর থেকে (কোথাও) বের হয় এবং যখন ঘরে ফিরে আসে সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করে।
-আল আযকার- নববী : 10
┈┈

قال ابن القيم رحمه الله تعالى : إن في دوام الذكر في الطريق والبيت والحضر والسفر والبقاع تكثيرا لشهود العبد يوم القيامة فإن البقعة والدار والجبل والأرض تشهد للذاكر يوم القيامة .
-الوابل الصيب : ٨١
03 - রাস্তায়, ঘরে, সফরে, মাঠে ময়দানে তথা সর্বত্র আল্লাহর যিকির করার দ্বারা কেয়ামতের দিন বান্দার পক্ষে সাক্ষ্য দানকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কারণ, (যেখানে যেখানে যিকির করা হয়েছে ওসব) মাঠ, বাড়িঘর, পাহাড়-পর্বত ও জমি সবই কেয়ামতের দিন যিকিরকারীর পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ. আল ওয়াবিলুস সাইয়িব : 81
┈┈

الشهرة الحقيقية في السماء، ومِن أعظم أسبابها كثرةُ ذكر الله تعالى، قال الله تعالى في الحديث القدسي : إن ذكرني في نفسه ذكرتُه في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرتُه في ملأ خير منهم .
- الشيخ عبد العزيز الطريفي فك الله اسره
04 - 'সত্যিকার প্রসিদ্ধি' (যা আপনার জন্য উপকারী হবে) তা ওটাই যা আসমানে হয়। আর এর অন্যতম উপায় হল, অধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকির করা। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‏
إن ذكرني في نفسه ذكرتُه في نفسي، وإن ذكرني في ملأ ذكرتُه في ملأ خير منهم .
বান্দা আমাকে মনে মনে স্মরণ করলে আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। কোনো মজলিসে স্মরণ করলে তার মজলিস অপেক্ষা উত্তম মজলিসে আমি তাকে স্মরণ করি।
-শাইখ আব্দুল আজীজ আত তারিফী ফাক্কাল্লাহু আসরাহু
┈┈

قال ثابت البناني رحمه الله ‏:‏ إني أعلم متى يذكرني ربي عز وجل ففزعوا منه وقالوا‏: كيف تعلم ذلك فقال‏:‏ إذا ذكرته ذكرني ‏.‏
05 - একবার হযরত সাবেত আল বুনানী রহ. (তাঁর সামনে উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে) বললেন, আল্লাহ কখন আমাকে স্মরণ করেন তা আমি জানি। উপস্থিত লোকজন তার কথায় অবাক হয়ে যায়। তারা জিজ্ঞেস করে, কীভাবে জানেন? তিনি উত্তর দেন, আমি যখন আল্লাহকে স্মরণ করি তখন তিনি আমাকে স্মরণ করেন।
- হযরত সাবেত আল বুনানী রহ.
┈┈

الذكر يقوي القلب والبدن .
-الإمام ابن القيم رحمه الله تعالى في الوابل الصيب

06 - যিকির দেহ ও মন দু'টোকেই শক্তিশালী করে।
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.; আল ওয়াবিলুস সাইয়িব
┈┈

لو سمعت صرير أقلام الملائكة وهي تكتب اسمك من الذاكرين لمت شوقا لقول لا إله إلا الله .
الإمام ابن القيم رحمه الله تعالى
07 : ফেরেশতারা যখন আপনার নাম যিকিরকারীদের মধ্যে লিপিবদ্ধ করেন তখন আপনি যদি তাঁদের কলমের আওয়াজ শুনতে পেতেন তাহলে যিকিরের প্রতি অত্যাধিক ভালোবাসার কারণে মারাই যেতেন।
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.
┈┈

تفقَّدوا الحلاوة في ثلاثة أشياء : في الصلاة ، وفي الذِّكر ، وفي قراءة القرآن، فإن وجدتم وإلاَّ فاعلموا أن الطريق مُغلق . الحسن البصري رحمه الله
08 - তিনটি জিনিসে স্বাদ তালাশ করুন। নামাযে, যিকিরে এবং কোরআন তেলাওয়াতে। যদি পান তাহলে তো ভালো। যদি না পান তাহলে মনে রাখুন, আপনার জন্য রাস্তা এখনো বন্ধ।
-হযরত হাসান বসরী রহ.
┈┈

قال الإمام ابن القيم رحمه الله : ما دُفعت شدائد الدنيا بمثل التوحيد ولذلك كان دعاء الكرب بالتوحيد
لا إله إلا الله العظيم الحليم لا إله إلا الله رب العرش العظيم . الفــوائــد : ٥٣
09 - পার্থিব বিপদ আপদ থেকে মুক্তি লাভের জন্য তাওহীদের (স্বীকারোক্তি) সমতুল্য আর কিছু নেই। তাইতো বিপদ থেকে মুক্তির দোয়ার শুরুটা তাওহীদ দিয়েই হয়।
لا إله إلا الله العظيم الحليم لا إله إلا الله رب العرش العظيم . (لا اله الا انت سبحانك اني كنت من الظالمين)
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.; আল ফাওয়ায়েদ : 53
┈┈

‏قـــال الإمام ابن القيم رحمه الله تعالى : أربعة تجلب الرزق : قيام الليل، وكثرة الإستغفار بالأسحار، وتعاهد الصدقة، والذكر أول النهار وآخره .
- زاد المعاد : ٣٧٨/٤
10 - চারটি আমল রিযিকে প্রশস্ততা আনে। কিয়ামুল লাইল-তাহাজ্জুদের নামায। শেষ রাতে বেশি বেশি ইস্তেগফার করা। বেশি বেশি দান-সদকা করা এবং দিনের শুরুতে ও শেষে আল্লাহ তাআলার যিকির করা।
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.; যাদুল মা'আদ : 4/378
┈┈

من أسباب زوال الهموم وغفران الذنوب الصلاة على النبي ﷺ . ويوم الجمعة يكون أثر الصلاة أعظم .
قال النبي ﷺ للمصلي عليه : (تُكفى همك ويُغفر لك ذنبك).
-الشيخ عبد العزيز الطريفي فك الله أسره
11 - গুনাহ মাফ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি লাভের উপায়গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল, (অধিক পরিমাণে) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরুদ পড়া। জুমআর দিন দুরুদ পড়ার প্রভাব আরও বেশি।
(অধিক পরিমাণে) দুরুদ পড়তেন এমন এক সাহাবীকে লক্ষ্য করে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
-শাইখ আব্দুল আজিজ আত তারিফী হাফি.
┈┈

‏يقول الإمام ابن القيم رحمه الله تعالى : من مغرب يوم الخميس إلى مغرب الجمعة كل ثانية فيها خزائن من الحسنات فليُكثر من الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم .
12 - বৃহস্পতিবারের মাগরিব থেকে জুমআর দিনের মাগরিব পর্যন্ত প্রতিটি সেকেন্ড নেকি ও সওয়াবের একেকটি খাযানা-ভান্ডার। অতএব (পুরো সময়টাতে যত বেশি সম্ভব) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ পড়ুন। (এবং ওই ভান্ডারগুলো নেকি দিয়ে পূর্ণ করুন)
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.
┈┈

٥٤ : قال ابن القيم رحمه الله : الدعاء إذا كان وقت إجابة ‏كآخر ساعة من الجمعة،
‏ثم صادف خشوعا،
‏واستقبال القبلة على طهارة،
‏ورفع الداعي يديه،
‏وبدأ بحمدالله والثناء عليه،
‏وصلى على رسوله صلى الله عليه وسلم،
‏وقدم بين يديه الاستغفار،
‏وألحّ على الله في المسألة،
‏وتوسل إليه بأسمائه وصفاته،
‏وقدم بين يديه صدقة،
‏فإن هذا الدعاء لا يكاد يرد أبدا .
13 : দোয়া যখন কবুল হওয়ার মুহূর্তে করা হয়। যেমন, জুমার দিনের শেষ সময়। সঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোও যুক্ত হয়,
পবিত্র অবস্থায় দোয়া করা।
কেবলামুখী হওয়া দোয়া করা।
দুই হাত তুলে দোয়া করা।
দোয়ার পূর্বে আল্লাহ তাআলার হামদ ও সানা পড়া।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লামের প্রতি দরুদ পড়া।
তওবা ও ইস্তেগফার করা।
দোয়ার সময় খুব পীড়াপীড়ি করে চাওয়া। আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলীর ওসিলা দিয়ে দোয়া করা।
দোয়ার পূর্বে কিছু সদকা করা।
এভাবে দোয়া করা হলে সেই দোয়া কিছুতেই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। অবশ্যই কবুল করা হয়।
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.

হেলাল
03-06-2019, 04:13 AM
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন,আমিন।