PDA

View Full Version : আকাবিরের বাণীঃ কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত ও তাদাব্বুর



abudujanah
03-29-2019, 05:44 PM
كان عثمان رضي الله عنه يقول : لو طهرت قلوبنا لما شبعت من كلام الله عزوجل
1- হযরত উসমান রাযি. বলতেন, যদি আমাদের অন্তর যথাযথ পরিশুদ্ধ হতো তাহলে আল্লাহর কালাম দ্বারা অন্তর কখনোই তৃপ্তি লাভ করতো না।
-সীরাত উসমান বিন আফফান রাযি., আলী সাল্লাবী : 25
┈┈
٢ - تفقَّدوا الحلاوة في ثلاثة أشياء : في الصلاة ، وفي الذِّكر ، وفي قراءة القرآن، فإن وجدتم وإلاَّ فاعلموا أن الطريق مُغلق . الحسن البصري رحمه الله
02 - তিনটি জিনিসে স্বাদ তালাশ করুন। নামাযে, যিকিরে এবং কোরআন তেলাওয়াতে। যদি পান তাহলে তো ভালো। যদি না পান তাহলে মনে রাখুন, আপনার জন্য রাস্তা এখনো বন্ধ।
-হযরত হাসান বসরী রহ.
┈┈
إن من كانوا قبلكم رأوا القرآن رسائل من ربهم، فكانوا يتدبرونها بالليل، وينفذونها في النهار .
-الإمام الحسن البصري رحمه الله
৩ - তোমাদের পূর্বে যাঁরা ছিলেন (সাহাবায়ে কেরাম রাযি.) তাঁরা কোরআনকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বা চিঠি মনে করতেন। তাঁরা রাতের বেলা গভীর চিন্তা ভাবনার সাথে কোরআন তেলাওয়াত করতেন আর দিনের বেলা সে মোতাবেক আমল করতেন।
- হযরত হাসান বসরী রহ.
┈┈
- كان قتادة رحمه الله تعالى يقول : اعمروا به قلوبكم واعمروا به بيوتكم يعني بالقرآن .
৪ - কোরআন দ্বারা তোমরা তোমাদের অন্তর ও গৃহ দু'টোকেই আবাদ করো।
-হযরত কাতাদাহ রহ.
┈┈
- قَالَ ابنُ تَيمية رَحِمه اللهِ : قِراءَةُ القُرآنِ عَلى الوجَهِ المَأمُورِ بهِ تُورِثُ القلب الإيمَان العَظِيم تزيده يَقِينًا وطُمَأنِينَةً وشِفَاءً . مجموع الفتَاوى : ٢٨٣/٧
৫ - যথাযথভাবে কোরআন তেলাওয়াত করা হলে এর দ্বারা অন্তরে ঈমান, ইয়াকিন এবং প্রশান্তি বৃদ্ধি পায় এবং এর মাধ্যমে অন্তরের ব্যাধিসমূহ থেকে সুস্থতা লাভ হয়।
-শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.; মাজমূউল ফাতাওয়া : 7/283
┈┈
٤٩ - من تدبر القرآن طالبا الهدى منه تبين له طريق الحق .
- شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله
৬ - যে ব্যক্তি কোরআন থেকে হেদায়েত গ্রহণের উদ্দেশ্যে গভীর চিন্তা ভাবনার সাথে কোরআন তেলাওয়াত করে তার সামনে অবশ্যই 'হক রাস্তা' স্পষ্ট হয়ে যায়।
-শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ.
┈┈
৭ - কোনো বান্দার জন্য গভীর চিন্তা ভাবনার সাথে কোরআন তেলাওয়াত করা অপেক্ষা দুনিয়া ও আখেরাতে অধিক উপকারী এবং নাজাতের জন্য অধিক সহায়ক আর কিছু নেই।
-ইমাম ইবনুল কাইয়িম রহ.; মাদারিজুস সালিকীন : 1/85
┈┈
৮- কোরআন বুঝার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা হল, গুনাহ, (বিশেষত) অহংকার ও প্রবৃত্তির অনুসরণ। এসবের কারণে অন্তরে অন্ধকার সৃষ্টি হয় এবং জং ধরে যায়।
-আল্লামা ইবনে কুদামা মাকদিসী রহ.; মুখতাসারু মিনহাজিল কাসিদীন : 1/53
┈┈
৯ - কেউ কোরআন শেখার পর যদি তা ভুলে যায় তাহলে নিশ্চিত এটা তার গুনাহেরই ফল। কারণ, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ .
তোমাদের উপর যে মসিবতই আসে তা তোমাদেরই কর্মফল।-সূরা শুরা : 30
কোরআন ভুলে যাওয়ার চেয়ে বড় মসিবত আর কী হতে পারে ?
-ইমাম যাহহাক বিন মুযাহিম রহ.
┈┈
٣ - ‏قال الضياء المقدسي : ‏أوصاني العماد المقدسي فقال : ‏أكثر من قراءة القرآن ولا تتركه ‏فإنه يتيسر لك الذي تطلبه على قدر ما تقرأ‏ ، ‏قال : ‏فرأيت ذلك وجربته كثيراً ‏فكنت إذا قرأت كثيراً تيسر لي من سماع الحديث وكتابته الكثير ‏وإذا لم أقرأ لم يتيسر لي .
- ذيل طبقات الحنابلة : ٣/٢٠٥
১০ - একবার শাইখ ইমাদুদ্দিন মাকদিসি রহ. আমাকে উপদেশ দিয়ে বললেন, (প্রতিদিন) বেশি পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করবে। কিছুতেই যেন তেলাওয়াত না ছুটে। কারণ, তুমি যা অন্বেষণ করছো তা তোমার জন্য সেই পরিমাণ সহজ হবে যেই পরিমাণ তুমি কোরআন তেলাওয়াত করবে। (বেশি হলে বেশি। কম হলে কম) এরপর আমি বহুবার পরিক্ষা করে দেখেছি যে, যখনই তেলাওয়াত বেশি করতাম তখন বেশি পরিমাণে হাদিস শোনা ও লেখা আমার জন্য সহজ হতো। আর যখন তেলাওয়াত না করতাম (বা কম করতাম) তখন হাদিস শোনা ও লেখা ওরকম সহজ হতো না।
-শাইখ জিয়াউদ্দিন মাকদিসি রহ.
┈┈
﴿ ٱلرَّحْمَٰنُ (١) عَلَّمَ ٱلْقُرْءَان ﴾
لَمَّا كَانَتْ هَذِهِ السُّورَةُ لِتَعْدَادِ نِعَمِهِ الَّتِي أَنْعَمَ بِهَا عَلَى عِبَادَه قَدَّمَ النِّعْمَةَ الَّتِي هِيَ أَجَلُهَا قَدْرًا ، وَأَكْثَرُهَا نَفْعًا ، وَأتَمُّهَا فائدة ، وَأَعْظَمَهَا عائدة : وَهِيَ نِعْمَةُ تَعْلِيمِ القُرآن .
فَإنهَا مَدَارَ سَعَادَةِ الدَّارَيْنِ ، وَقُطْب رَحَى الخَيْرَيْنِ ، وَعِمَاد الأَمْرَيْنِ .
- الإمَّام الشّوكَانِي رحمه الله تعالى
১১ - করুনাময় আল্লাহ। তিনি কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। মানুষ সৃষ্টি করেছেন। সূরা আর রহমান :1-3
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে যতো নেয়ামত দিয়েছেন এ সূরায় (সূরা আর রহমানে) তিনি তা উল্লেখ করেছেন। ওসব নেয়ামতের মধ্যে যে নেয়ামতটি সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে উপকারী, যার উপকারিতা পূর্নাংগ ও ব্যাপক তা হল, কোরআন শিক্ষা দানের নেয়ামত। এ নেয়ামতের কথা তিনি অন্য সব নেয়ামতের আগে (সূরার একদম শুরুতে এমনকি মানুষকে সৃষ্টি করার কথা বলারও আগে) উল্লেখ করেছেন। এর কারণ, এ নেয়ামতটিই হল ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের মূলভিত্তি এবং উভয় জগতের কল্যাণের বুনিয়াদ ও কেন্দ্রবিন্দু।
- ইমাম শাওকানী রহ.
┈┈
كان ابن هبيرة رحمه الله يقول : من مكائد الشيطان تنفيره عباد الله من تدبر القرآن لعلمه أن الهدى واقع عند التدبر .
- ذيل طبقات الحنابلة
১২ : কুরআনে কারীমের তাদাব্বুর (বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তাভাবনা) করা থেকে আল্লাহর বান্দাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখা শয়তানের একটি চক্রান্ত। কারণ, সে জানে কুরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করলে তারা হেদায়েত পেয়ে যাবে।
-হযরত ইবনে হুবায়রা রহ.; যাইলু তাবাকাতিল হানাবেলা
┈┈
১৩ - আমি প্রথমে নিজেকে এরপর আপনাদের সবাইকে একটি উপদেশ দিচ্ছি। তা হল, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করুন এবং অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করুন এবং কোরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করুন। বিশেষ করে জেহাদ বিষয়ক সূরাগুলো- যেমন সূরা আনফাল, সূরা তওবা ইত্যাদি- গভীর চিন্তা ভাবনার সাথে তেলাওয়াত করুন। এর পাশাপাশি আযকার ও দোয়া কোনও অবস্থাতেই যেন না ছুটে।
-মুহসিনুল উম্মাহ শহীদ শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.
┈┈
১৪ - আমি আমার মুসলিম ভাই-বোনদের খেদমতে আরয করব, অন্তরে ঈমান মজবুত করা এবং সব ধরনের ফিতনা থেকে, (বিশেষ করে) নেফাক থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আমাদের জিহবা যেন সব সময় আল্লাহ তা'আলার যিকিরে সিক্ত থাকে। এ উদ্দেশ্যে আমরা প্রতিদিন (অর্থ বুঝে) চিন্তা ভাবনার সাথে কমপক্ষে এক পারা কোরআন তেলাওয়াত করবো। এর দ্বারা আমাদের অন্তর আলোকিত হবে এবং বিবেক বুদ্ধি শানিত হবে। (চিন্তা ভাবনার সাথে) কোরআন তেলাওয়াতের দ্বারা আমাদের এমন অন্তর্দৃষ্টি হাসিল হবে যা দ্বারা আমরা ইসলামের শত্রুদেরকে চিনতে পারবো। ওরা কাফের-মুশরিক হোক কিংবা (মুসলিম নামধারী) মুনাফিক হোক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُم مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ .

হে লোক সকল! তোমাদের কাছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে উপদেশবানী এসেছে এবং অন্তরের রোগের নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। সূরা ইউনুস : ৫৭
-মুহসিনুল উম্মাহ শহীদ শাইখ উসামা বিন লাদেন রহ.
┈┈
১৫ - যারা খেলাফতের গুরু দায়িত্ব বহন করতে চায় তাদের জন্য দুটি আমল অবশ্য কর্তব্য। একটি হল, তাহাজ্জুদের নামাজ। দ্বিতীয়টি হল, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত।
-মাওলানা আসেম উমর হাফি