PDA

View Full Version : কুরআনে কারীমের বহু আয়াতে জিহাদ বিল মালকে কেন জিহাদ বিন নফস (তথা স্বশরীরে জিহাদ) এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে?



Mimbarut Tawhid
06-02-2019, 02:51 PM
কুরআনে কারীমের বহু আয়াতে জিহাদ বিল মালকে কেন জিহাদ বিন নফস (তথা স্বশরীরে জিহাদ) এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে?

প্রশ্ন নং ৪৯০

প্রশ্ন:
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آَمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} الحجرات 15

প্রকৃত মুমিন তো তারা, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর কোনও সন্দেহে পড়েনি এবং আপন মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। প্রকৃতপক্ষে (ঈমানের দাবিতে) তারাই সত্যবাদি।- সূরা হুজুরাত ১৫


উক্ত আয়াতে কারীমাসহ আরো অনেক আয়াতে জিহাদ বিল মালকে জিহাদ বিন নফসের আগে আনা হল কেন? অথচ সকলেরই জানা যে, মালের চেয়ে জান অধিক মূল্যবান। এমনকি অনেক সময় জান বাঁচানোর জন্য ব্যক্তি তার সকল সম্পদও উজার করে দেয়। উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের হিফাজতে রাখুন।

নিবেদক
--------

উত্তর:
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله


কুরআনে কারীমে জিহাদের আয়াতসমূহে একটি সূক্ষ্ম ভেদ হল: সূরা তাওবায় জিহাদের বাইয়াতের আয়াতটি ছাড়া অন্য সকল আয়াত, যেগুলোতে জিহাদ বিল মাল ও জিহাদ বিন নফস উভয়ের কথা একসাথে আলোচিত হয়েছে, সেগুলোতে জিহাদ বিল মালকে জিহাদ বিন নফসের আগে আনা হয়েছে। সূরার তারতীব অনুযায়ী সেগুলো সর্বমোট দশটি আয়াত:

এক: সূরা নিসা
لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ

যে মুসলিমগণ কোনও ওজর না থাকা সত্বেও (যুদ্ধে যোগদান না করে) বসে থাকে, তারা এবং আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদকারীগণ সমান নয়। যারা নিজেদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে যারা বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।- সূরা নিসা ৯৫

দুই: সূরা আনফাল
{إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ}

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করেছে ...।- সূরা আনফাল ৭২

তিন-চার-পাঁচ-ছয়-সাত: সূরা তাওবা
{الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ}

যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে ...।- সূরা তাওবা ২০
এছাড়াও এ সূরায় ৪১, ৪৪, ৮১ ও ৮৮ নং আয়াত।

আট: সূরা হুজুরাত
{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمْ الصَّادِقُونَ}

প্রকৃত মুমিন তো তারা, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, তারপর কোনও সন্দেহে পড়েনি এবং আপন মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে। প্রকৃতপক্ষে (ঈমানের দাবিতে) তারাই সত্যবাদি।- সূরা হুজুরাত ১৫

নয়: সূরা হাদিদ
{لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنْ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا}

তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের আগে (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা (এবং যারা পরবর্তীতে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারা) সমান নয়। মর্যাদায় তারা সেসব লোক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যারা (মক্কা বিজয়ের) পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে।- সূরা হাদিদ ১০

দশ: সূরা সাফ
{تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ}

তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের উপর ঈমান রাখবে এবং তোমাদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করবে।- সূরা সফ ১১


আর একটি মাত্র আয়াত, যেটিতে নফসকে মালের আগে আনা হয়েছে, সেটি হল,
{إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنْ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمْ الْجَنَّةَ}

আল্লাহ্ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে ক্রয় করে নিয়েছেন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।- তাওবা ১১১


অধিকাংশ আয়াতে মালকে জানের আগে আনা হয়েছে এ কারণে নয় যে, জানের চেয়ে মালের শ্রেষ্ঠত্ব বেশি। বরং এ কারণে যে, জিহাদ বিন নফস যদিও শ্রেষ্ঠতর, কিন্তু মাল ছাড়া তা পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়।

সেনাবাহিনি প্রস্তুত করার জন্য ইনফাক ফি সাবিলিল্লাহ জরুরী। জিহাদ বিল মাল ছাড়া জিহাদ বিন নফস পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى} আয়াতটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সাথে বাইয়াতবদ্ধ হওয়ার মাকাম। আল্লাহ তাআলা অতীব মূল্যবান বস্তু (তথা জান্নাত) পেশ করেছেন। তাই বান্দার জন্যও আবশ্যক তা খরিদ করার জন্য তার সামর্থ্যাধীন সর্বোচ্চ দামী সম্পদ পেশ করা। আর তা হল নফস। এ কারণে এ আয়াত, যেটিতে আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লার ইহসানের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, সেটিতে জিহাদ বিন নফসকে জিহাদ বিল মালের আগে আনা হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই মূলত সকল প্রাণের মালিক। এতদসত্বেও মুমিনদের থেকে তিনি তা বিনিময় দিয়ে কিনে নিচ্ছেন। আর সে বিনিময় হচ্ছে জান্নাত।


এজন্য বলবো, অধিকাংশ আয়াতে মালকে জানের আগে আনা হয়েছে ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে। কেননা, যতক্ষণ মাল ব্যয় না করা হবে, ততক্ষণ জিহাদ বিন নফস পূর্ণ হবে না। যেমন কবি বলেন,

الجود بالمال جود فيه مكرمة والجود بالنفس أقصى غاية الجود

সম্পদ উৎস্বর্গকরণে মহত্ব যদিও রয়েছে, পরম উৎস্বর্গ কিন্তু নফস উৎস্বর্গেরই মাঝে।



তদ্রূপ, সকলেরই জানা যে, শরীয়ত নির্ধারিত জরুরতে খামসার মাঝে মালের চেয়ে জানের শ্রেষ্ঠত্ব বেশি। সূরা সাফের আয়াতে কারীমার তাফসীরে আদওয়াউল বায়ানে আল্লামা শানকিতি রহ. এই শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ইশারা করেছেন। তিনি বলেন,

এ আয়াতে কারীমার {وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ} অংশে জিহাদ বিল মালকে জিহাদ বিন নফসের আগে আনা হয়েছে। আর {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنْ الْمُؤْمِنِينَ} আয়াতে জানকে মালের আগে আনা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, {اشْتَرَى مِنْ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ}

এর মাঝে একটি সূক্ষ্ম ভেদ রয়েছে। সূরা সাফের আয়াতের মাকাম হচ্ছে, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর মাধ্যমে লাভজনক ব্যবসার তাফসীর ও বিবরণ দেয়া।

জিহাদের হাকিকত হল: সামর্থ্য ও প্রচেষ্টা ব্যয় করা। আর মাল হল জিহাদের স্নায়ু। সেনাবাহিনির মূল মদদ এটিই। অস্ত্রের জিহাদের চেয়ে এর গুরুত্ব বেশি। মালের দ্বারাই অস্ত্র কেনা হবে। (মাল ব্যয়ে) কখনোও কখনোও সৈন্য ভাড়াও নেয়া যায়। যেমন, বর্তমান সেনাবাহিনিগুলোকে বিদেশ থেকে ভাড়া নেয়া হয়। মাল দ্বারাই সেনাবাহিনি প্রস্তুত করা হবে। এজন্য যখন জিহাদের অনুমতির আয়াত নাযিল হল; আল্লাহ তাআলা অসু্স্থ ও দুর্বল লোকদের মাজূর গণ্য করলেন। তাদের পাশাপাশি সেসব গরীব লোকদেরও মাজূর গণ্য করলেন, যারা নিজেকে প্রস্তুত করার (আর্থিক) সামর্থ্য রাখে না। পাশাপাশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও মাজূর গণ্য করলেন; যেহেতু তাদের প্রস্তুত করার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা তাঁর কাছে ছিল না। যেমনটা আল্লাহ তাআলার এ বাণীতে বলা হয়েছে,

{لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلا عَلَى الْمَرْضَى} ... {وَلا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنْ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلاَّ يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ}.


দুর্বল লোকদের (জিহাদে না যাওয়াতে) কোনও গুনাহ নেই এবং রুগ্ন ও সেই সকল লোকদেরও নয়, যাদের কাছে খরচ করার মত কিছু নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কল্যাণকামী হয়। মুহসিন-সৎলোকদের সম্পর্কে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সেই সকল লোকেরও (কোনও গুনাহ) নেই, যাদের অবস্থা এই যে, যখন আপনি তাদের জন্য কোন বাহনের ব্যবস্থা করবেন এই আশায় তারা আপনার নিকট আসল আর আপনি তাদেরকে বললেন, আমার কাছে তো তোমাদেরকে দেয়ার মত কোন বাহন নেই, তখন তাদের কাছে খরচ করার মত কিছু না থাকার দুঃখে তারা এভাবে ফিরে গেল যে, তাদের চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল।- সূরা তাওবা ৯১-৯২


একইভাবে অপর দিকে যারা অস্ত্রের মাধ্যমে (স্বশরীরে) জিহাদ করার সামর্থ্য রাখে না; যেমন, মহিলা ও শারীরিকভাবে দুর্বল লোকেরা; তারাও কখনোও কখনোও মাল দিয়ে জিহাদ করতে পারে। যেমন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فَقَدْ غَزَا.

যে ব্যক্তি (জিহাদের সরঞ্জাম ও খরচাদি সরবরাহ করে) আল্লাহর রাস্তার কোন মুজাহিদকে (জিহাদের জন্য) প্রস্তুত করে দিল, সেও জিহাদ করল।- বুখারি ২৬৮৮

পক্ষান্তরে দ্বিতীয় আয়াতের বিষয়বস্তু হচ্ছে: পারস্পরিক বিনিময়, প্রস্তাব পেশ ও উৎস্বর্গের আহ্বান। কিংবা যাকে বলা যায় পারস্পরিক দরাদরি ও দামাদামি। এজন্য এখানে নফসকে আগে আনা হয়েছে। কেননা, নফসই হচ্ছে কোন ব্যক্তির সামর্থ্যাধীন সর্বাপেক্ষা মূল্যবান বস্তু। এর বিপরীতে আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন জান্নাত, যা উপহার দেয়ার মতো সবচেয়ে দামি বস্তু। আদওয়াউল বায়ান ৮/১৮৪-১৮৫


এ বিশেষত্বের কারণেই আল্লাহর রাস্তায় দানের সওয়াব সাতশত গুন থেকে নিয়ে আরো অনেক অনেক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

مَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

যারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায ব্যয় করে তাদের উপমা একটি শস্য দানার ন্যায়, যা থেকে সাতটি শীষ উদগত হয়, যার প্রতিটি শীষে থাকে একশত করে দানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।- সূরা বাকারা ২৬১

আপনার প্রশ্নের মোটামুটি এ হল সংক্ষিপ্ত জওয়াব। এটি মূলত শায়খ সুলতান ইবনে বিজাদ আলউতাইবি লিখিত আননাফাকা ফি সাবিলিল্লাহ (النفقة في سبيل الله) রিসালার সারসংক্ষেপ। রিসালাটি আপনি এ মোবারক মিম্বারের সাইটে পেয়ে যাবেন।

উত্তর প্রদানে
শায়খ আবুল ঈয আননজদী
সদস্য, শরয়ী বিভাগ মিম্বারুত তাওহিদ


================================


[1] لماذا قدم الجهاد بالمال في كثير من آيات القرآن على الجهاد بالنفس رقم السؤال: 490
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته،

قال تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آَمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} الحجرات 15
لماذا تم تقديم الجهاد بالمال على الجهاد بالنفس في الأيه الكريمة وفي ايات أخر، مع العلم ان النفس أغلى من المال وأن الأنسان قد يدفع كل ماله مقابل ان يحافظ على نفسه.
حفظكم الله
السائل: ضرغام
المجيب: اللجنة الشرعية في المنبر
الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله
إن من الأسرار اللطيفة في آيات الجهاد بالقرآن، تقديم الجهاد بالمال على الجهاد بالنفس في جميع الآيات التي جمعت بينهما إلا آية بَيْعة الجهاد بسورة التوبة، وهي على وجه الحصر عشر آيات كالتالي حسب ترتيب السور:
1) النساء قوله تعالى: {لا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُوْلِي الضَّرَرِ وَالْمُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ} (النساء: 95).
2) الأنفال قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ} (الأنفال: 72).
3) التوبة قوله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ} (التوبة: 20)، والآيات 41 و 44 و 81 و 88 بالتوبة.
4) الحجرات: قوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمْ الصَّادِقُونَ} (الحجرات: 15).
5) الحديد: قوله تعالى: {لا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنْ الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا} (الحديد: 10).
6) الصف: قوله تعالى: {تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ} (الصف: 11).

أما الآية الفريدة التي قُدمت فيها النفس على المال فهي قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنْ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمْ الْجَنَّةَ} (التوبة: 111).

فتقديم المال على النفس في معظم الآيات ليس لفضله على النفس، بل إن الجهاد بالنفس أعظم ولكنه لا يتم إلا بالمال، فالإنفاق في سبيل الله لازم لإعداد الجيوش ولا يتم الجهاد بالنفس إلا بعد الجهاد بالمال، أما آية {إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى} فهذا مقام المبايعة مع الله وقد عرض الله سلعة غالية فوجب على العبد أن يقدم في شرائها أغلى ما يملك وهي النفس، فلذلك قدمت النفس على المال في هذه الآية التي تُبَيِّن كرم الله عز وجل فإنه يملك نفوس الخلق جميعا ومع ذلك فقد اشتراها من المؤمنين بالعِوض وهو الجنة.

ولذلك أقول إن تقديم المال على النفس في معظم الآيات هو تقديم ترتيب إذ لا يتم الجهاد بالنفس إلا بعد بذل المال، أما تقديم النفس على المال في آية المبايعة فهو تقديم تفضيل، كما قال الشاعر:

الجود بالمال جود فيه مكرمة والجود بالنفس أقصى غاية الجود

ومعلوم كذلك أن النفس مقدمة على المال في الضروريات الشرعية الخمس، وقد أشار إلى هذا التقديم والتأخير العلامة الشنقيطي في تفسيره (أضواء البيان) عند تفسير آية الصف، فقال: (في هذه الآية الكريمة تقديم الجهاد بالمال على الجهاد بالنفس في قوله تعالى: {وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ} (الصف: 11). وفي آية إن الله اشترى من المؤمنين، قدم النفس على المال فقال: {اشْتَرَى مِنْ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ}، وفي ذلك سر لطيف. أما في آية الصف، فإن المقام تفسير وبيان لمعنى التجارة الرابحة بالجهاد في سبيل الله.
وحقيقة الجهاد بذل الجهد والطاقة، والمال هو عصب الحرب، وهو مدد الجيش. وهو أهم من الجهاد بالسلاح، فبالمال يُشترى السلاح، وقد تُستأجر الرجال كما في الجيوش الحديثة من الفرق الأجنبية، وبالمال يُجَهز الجيش، ولذا لما جاء الإذن بالجهاد أعذر الله المرضى والضعفاء، وأَعْذَرَ معهم الفقراء الذين لا يستطيعون تجهيز أنفسهم، وأَعْذَرَ معهم الرسول صلى الله عليه وسلم إذ لم يوجد عنده ما يجهزهم به كما في قوله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلا عَلَى الْمَرْضَى} إلى قوله: {وَلا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنْ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلاَّ يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ}.

وكذلك من جانب آخر، قد يُجَاهِد بالمال من لا يستطيع بالسلاح كالنساء والضعفاء، كما قال صلى الله عليه وسلم: مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فَقَدْ غَزَا.

أما الآية الثانية، فهي في معرض الاستبدال والعرض والطلب أو ما يسمى بالمساومة، فقدم النفس لأنها أعز ما يملك الحي، وجعل في مقابلها الجنة وهي أعز مايو هب) (أضواء البيان) ج 8 ص 184 - 185.

ولهذه الأهمية خُصَّت النفقة في سبيل الله بتضعيف ثوابها إلى سبعمائة ضعف إلى أضعاف كثيرة، قال تعالى: {مَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنْبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنْبُلَةٍ مِائَةُ حَبَّةٍ وَاللَّهُ يُضَاعِفُ لِمَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ} (البقرة: 261).
هذا ملخص للجواب عن سؤالك وهو ملخص من رسالة (النفقة في سبيل الله) للشيخ سلطان بن بجاد العتيبي تجدها منشورة في هذا المنبر المبارك.

أجابه، عضو اللجنة الشرعية:
الشيخ أبو العز النجدي