PDA

View Full Version : প্রশ্ন:*ইরাকে তাগুত সরকারের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা এবং তাতে যোগদান করার বিধান কী?



Ahmed1402
07-24-2019, 04:07 PM
প্রশ্ন:*ইরাকে তাগুত সরকারের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করা এবং তাতে যোগদান করার বিধান কী?

প্রশ্নকর্তাঃ আবু উবাইদাহ

উত্তর:

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء المرسلين و على آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد

প্রশ্নকারী ভাই, আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনাকে তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। জেনে রাখা দরকার, তাগুত সরকারের অধীনে চাকুরী করা- ইরাকেই হোক বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে, যেখানে কুফুরী বিধিবিধান অগ্রাধিারযোগ্য, যার পরিচালনার দায়িত্বও তাদের হাতে; এমতাবস্থায় বিষয়টি তিন বিধানের কোনো একটির বাইরে না।

হয়তো কুফরী হবে অথবা হারাম হবে নতুবা মাকরূহ হবে। প্রত্যেকটি বিধান তার কারণ অনুপাতে প্রযোজ্য।

সুতরাং চাকুরীর মাধ্যমে যদি সরকার ও সরকারি লোকদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করা, তাদের এবং তাদের বিধিবিধান ও নীতিমালার সাহায্য-সহযোগিতা করা উদ্দেশ্য হয়; চাই তা দাওয়াতের মাধ্যমে হোক, পরিচালনার মাধ্যমে হোক অথবা স্বইচ্ছায় তাদের আদালতে গিয়ে হোক, তাহলে সন্দেহ নেই যে, এ জাতীয় চাকুরী সরাসরি শিরক, স্পষ্ট কুফুরী এবং আল্লাহর দ্বীন থেকে সরে যাওয়া।

যে এ জাতীয় চাকুরীতে লিপ্ত সে তাগুতদেরকে পরিত্যাগ করার মূলনীতি ভঙ্গ করেছে। প্রকৃত বিষয় যাচাই করা ছাড়া তার ইসলাম গ্রহণযোগ্য না।

আর যদি চাকুরীর মাধ্যমে মানুষের উপর যুলুম ও অন্যায়ভাবে তাদের মাল ভক্ষণ যেমন- কর, ট্যাক্স, বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে শুল্ক ইত্যাদির কালেক্টর হয়ে তাগুতী হুকুমতের সাহায্য করা হয় অথবা ব্যবসায়ী, কৃষকশ্রেণী ও এ জাতীয় নিরীহ লোকদেরকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করে তাদের ঋণের উপর সুদ ভক্ষণে তাগুতের সহযোগিতা করা হয়, তাহলে এ ধরণের কর্মচারী সুদী লেনদেনের লেখক বা স্বাক্ষী হিসেবে বিবেচিত হবে।*এ ধরণের চাকুরী করা অকাট্য হারাম এবং কবীরা গোনাহ।

যে এর সাথে জড়িত সে তাগুতকে পরিপূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে এ বিধানটির উপর আমল করেনি। এর দ্বারা মুসলমানের ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে যে গোনাহে লিপ্ত বা যে গোনাহের কাজে সহযোগিতা করছে সে হিসেবে তার ঈমান দুর্বল হতে থাকে।

যদি চাকুরী করার ক্ষেত্রে উল্লিখিত দুটি বিষয়ের কোনোটি বা দুটিই কারো মাঝে না পাওয়া যায়, যেমন- ওয়াকফের ইমাম-খতিব, মুয়াজ্জিন; শিক্ষামন্ত্রনালয়ের শিক্ষক বা কর্মচারি, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা, পৌরসভার চাকুরিজীবি। ইত্যাদি চাকুরিকে কমপক্ষে এতটুকু তো ধরা যায় যে, সে তাগুত সরকারের সংখ্যা বাড়াচ্ছে, তাদের মাঝে নিজেকে খাটো করছে।

এসব চাকুরি করতে গিয়ে যদি কোনো প্রকার গোনাহে লিপ্ত না হয়, তাহলে এ ধরণের চাকুরি তৃতীয় প্রকার বিধানের অন্তর্ভূক্ত হবে, যা ইতিপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি। তা হচ্ছে মাকরূহ। যে এ প্রকার কাজে শামিল হলো না সে তাগুতকে পরিত্যাগ করার বিধান পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করলো।

দ্বিতীয় প্রকার মাসআলা প্রসঙ্গে শায়খ ওয়ালিদ আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসী হা. তার রিসালা আল-ইশরাক্বাহ ফী সুআলাতি সুওয়াক্বাহ-এ বলেন,

فالذي قلناه ونقوله: ( أننا نحب للأخ الموحد أن يكون بعيداً عن هذه الحكومات من باب كمال اجتنابه لها، ولا شك أن منهاج حياة كل موحد هو قوله تعالى: {أن اعبدوا الله واجتنبوا الطاغوت} فذلك معنى لا إله إلا الله، لكن منه ما هو شرط للإيمان وتركه ناقض للإيمان، كاجتناب عبادة الطاغوت واجتناب التحاكم إليه مختاراً واجتناب حراسة تشريعاته وقوانينه الكفرية أو القسم على احترامها ونحو ذلك، ومنه ما هو من كمال الإيمان وتركه ناقص للإيمان وليس بناقض للإيمان كيسير الركون والمداهنة أو تكثير سواد ظلمهم ونحو ذلك من المعاصي. أهـ

আমরা যা বলেছি এবং বলে যাবো, তাওহীদবাদী ভাইয়ের উচিৎ তাগুত সরকার থেকে পরিপূর্ণরূপে দূরে থাকা। কোনো রকম সন্দেহ নেই যে, প্রতিটি মুমিনের জীবনপদ্ধতি হবে এ আয়াতটি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে পরিত্যাগ করো।

এ হচ্ছে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অর্থ। কিন্তু যে বিষয়টি ঈমানের জন্য শর্ত, যা ছেড়ে দিলে ঈমানের মধ্যে কমতি চলে আসবে, তা হচ্ছে, তাগুতের উপাসনা পরিত্যাগ করা, নিজ ইচ্ছায় তাদের আদালতে যাওয়া থেকে বিরত থাকা, তাদের বিধিবিধান ও আইন-কানুন সংরক্ষণ করা বা শ্রদ্ধা করা থেকে বেচে থাকা, ইত্যাদি।

আর যে বিষয়টি ঈমানকে পরিপূর্ণ করে, যাকে ছেড়ে দিলে ঈমান হ্রাস হয়ে যায়; তবে ঈমান নষ্ট হয়ে যায় না, যেমন- তাদের উপর আস্থা রাখা ও তাদের সাথে সন্ধিচুক্তি করাকে সহজভাবে দেখা বা যুলুমের ক্ষেত্রে তাদের দল ভারি করা, ইত্যাদি বিভিন্ন রকম গোনাহ থেকে নিজেকে হেফাজত করা।


এরপর শায়খ হাফিজাহুল্লাহ মাসআলার টিকায় বলেন,

ولا يفهم من هذا التهوين من شأن هذه المعاصي، فإن فيها ما هو من الكبائر ولكن المراد تمييزها عن المكفرات، ومن كان له قلب يكفيه الوعيد الذي ذكره الله عز وجل في كثير من الآيات كقوله تعالى في الركون اليسير: {ولولا أن ثبتناك لقد كدت تركن إليهم شيئاً قليلاً إذا لأذقناك ضعف الحياة والضعف الممات ثم لا تجد لك علينا نصيرا.]

এখানে এ কথা মনে করার কোনো অবকাশ নেই যে, এ আলোচনা দ্বারা এসব গোনাহকে হালকাভাবে দেখা হয়েছে; কারণ, এ প্রত্যেকটি গোনাহই কবিরা গোনাহ। বরং এখানে এ সব গোনাহকে কুফুরী গোনাহ থেকে আলাদা করা উদ্দেশ্য। যার হৃদয় আছে তার জন্য আয়াতে কারিমায় উল্লেখিত আল্লাহর ধমকিই যথেষ্টে।

আল্লাহ তাআলা সরল আস্থা পোষণ করার ব্যপরে বলেন,

আমি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখলে আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন। তখন আমি অবশ্যই আপনাকে ইহজীবন ও পরজীবনে দ্বিগুণ শাস্তির আস্বাদন করাতাম। এ সময় আপনি আমার মোকাবেলায় কোনো সাহয্যকারী পেতেন না। -সূরা ইসরা:৭৪-৭৫

এ বিধান ব্যপকভাবে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে অবস্থিত তাগুত সরকারের অধীনে কাজ করা এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

পক্ষান্তরে ইরাকে তাগুত সরকারের অধীনে চাকুরি করা এবং তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা- যেখানের বর্তমান অবস্থা কারো অজানা নয়, যেখানে তাগুত সরকার যুদ্ধের আগুন জালিয়ে দিয়েছে, ক্রশপুজারী ও তাদের মুশরিক সহযোগী এবং ইসলামের ঝাণ্ডাবাহী ও তাওহিদী দলের মঝে আগুন প্রজ্জলিত করেছে, আল্লাহর বান্দা ও শয়তানের সহচরদের মাঝে সংঘাতের চাকা ঘুরাচ্ছে।

সুতরাং তাদের অধীনে চাকরিরত কোনো শিক্ষককে কাফের বলা না গেলেও এবং কিছু কিছু মুবাহ কাজ যেমন- গনিত ইত্যাদির মত সাধারণ বিষয় যার মাধ্যমে আইন-কানুন ও সরকারি লোকদেরকে সম্মান প্রদর্শন করা হয় না- এসব পাঠদান করার দ্বারা বাহ্যিকভাবে তাকে গোনাহগার সাব্যস্ত করা না গেলেও, পরুক্ষভাবে সে গোনাহগার এ দৃষ্টি কোন থেকে যে, সে জবরদখলকারীদের ছায়ায় মুজাহিদ ভাইদের পরিত্যাগ করেছে, আল্লাহর পথে জিহাদ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজে আইন সে ছেড়ে দিয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,

العدو الصائل الذي يفسد الدين والدنيا لا شئ أوجب بعد الإيمان من دفعه.) أهـ. الفتاوى الكبرى

আগ্রাসী শত্রু যে দ্বীন-দুনিয়া উভয় দিকে অশান্তি সৃষ্টি করে তাকে প্রতিহত করা ঈমানের পর সবচে বড় দায়িত্ব। -আল-ফাতওয়া আল-কুবরা

অতএব, প্রশ্নকারী ভাই, আপনাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তাদের সাথে শামিল হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না, যারা তাওহিদ ও জিহাদের ঝাণ্ডা সমুন্নত করছে।

আপনি আগ্রহী হয়ে উঠুন তাদের মাঝে কাজ করার জন্য, তাদের সাহয্য-সহযোগিতা করার জন্য। যদি সম্ভব না হয় কমপক্ষে তাদের দল ভারি রাখুন। এ ব্যাপারে অবসন্ন না হওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনাকে তার নৈকট্য ও সন্তুষ্টির পথে চলার পেরণা দান করুন।

সংগৃহীত।(www.darulilm.org)

abu ahmad
07-24-2019, 04:28 PM
আল্লাহ তাআলা আপনার মেহনতকে কবুল করুন। আমীন

খুররাম আশিক
07-24-2019, 07:23 PM
আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ। প্রিয় ভাই, প্লিজ, আপনি একটি বাংলা কিতাবের নাম বলুন যেখানে এরকম মাসয়াগুলো পাওয়া যাবে??? তাহলে আমাদের অনেক অনেক উপকার হবে, ইনশাআল্লাহ। প্রিয় ভাই,আল্লাহ আপনার কলমের শক্তি বাড়িয়ে দিন, আমীন। এবিষয়গুলো সাধারণ মুসলিমরা তো জানেই না এমনকি আলিমরা জানে না/ মানে না।

Ahmed1402
07-25-2019, 08:06 PM
প্রিয় ভাই, এরকম মাসয়ালা সংক্রান্ত বাংলা কিতাব খুবই কম। সেক্ষেত্রে আপনার আরবি ভাষা জানা থাকলে ভালো,কারণ আরবি ভাষায় এরকম অসংখ্য কিতাব আছে।আর এরকম সূক্ষ্ম মাসয়ালার সমাধান হকপন্থী আলেম ছাড়া কেউই সাধারণত দিয়ে থাকে না এবং কেউই এগুলো নিয়ে মাথা ঘামায় না।
হকপন্থী আলেমদের ফতোয়া ও মাসায়েল জানতে এই ওয়েবসাইটে যেতে পারেন।��(www.darulilm.org)

sabbir19
07-25-2019, 10:39 PM
মুহতারাম ভাই, আল্লাহ্* আপনার ইলমে বারাক্বাহ দান করুন।
দারুল ইলমে আমি এই বিষয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেছিলাম কিছুদিন আগে, এই ফতোয়াটি চোখে পড়েনি। এটা কি নতুন সংযুক্ত করা হয়েছে নাকি আপনার নিজের লেখা?

Ahmed1402
07-26-2019, 06:15 PM
sabbir19, জি ভাই দারুল ইলমে এই ফতোয়াটি নতুন সংযুক্ত করা হয়েছে। আমার চোখের সামনে ফতোয়াটি পড়ার সাথে সাথে আমি ফোরামে এটি শেয়ার করি।যাতে ভাইয়েরা এই সূক্ষ্ম মাসায়েল টি জানতে পারে।

খুররাম আশিক
07-26-2019, 07:56 PM
প্রিয় মডারেটর ভাইয়েরা, শাইখ আবু ইমরান হাফি এ-র বয়ানে লিংক ইউটিউব এ ছাড়া হয়েছে আপনারা যদি মুফিদ মনে ককরেন তাহলে ইউটিউব লিংকটি ভাইদের জন্য শিইয়্যার করুন। প্রিয় ভাইয়েরা,ইউটিউবে শাইখ আবু ইমরান হাফি লিখে সার্চ করিলে আশা করি লিংকটি পেয়ে যাবেন।