PDA

View Full Version : যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘনের খতিয়া&a



কাল পতাকা
12-13-2015, 06:38 AM
বিশ্বব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘনের খতিয়ান (১)


বর্তমান পৃথিবীর সকল অশান্তির মূল ঘটক এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে মানবতা ধ্বংস ও মানবাধিকার লংঘনের মধ্যে দিয়ে। তাইতো প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দস্যুবৃত্তি ও মানবাধিকার লংঘন করেই চলেছে। যেন সৃষ্টিকর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পৃথিবীর গজব হিসাবে পাঠিয়েছেন। দেশে দেশে মানবতা ধ্বংস ও মানবাধিকার লংঘন করে এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের খলনায়ক হয়ে পরবর্তীতে বিশ্বের এক নম্বর কুফুরিশক্তি সম্পন্ন দেশে পরিনত হয়েছে। এ পর্যন্ত আসতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে, সৃষ্টি করতে হয়েছে অনেক ইতিহাস। এ ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই ঘৃণিত রুপটি, যা মানবত ধ্বংস, মানবাধিকার লংঘন এবং গোটা পৃথিবীকে ক্ষত বিক্ষত করার করুণ ইতিহাস। দস্যুবৃত্তিই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পেশা। আজ যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধন সম্পদ, সহায় সম্পত্তি, টাকা-পয়সা সবই বিভিন্ন দেশ থেকে জোর পূর্বক দস্যুতা ও প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা। এরা মূলত পরের ধন সম্পদের উপরই পুদ্দারী করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দস্যুতার শিকার হয়নি পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই। কিভাবে তারা মানবতা ও মানবাধিকারকে গলাটিপে হত্যা করেছে, সুন্দর এ পৃথিবীকে করেছে রক্তাক্ত, করছে ধ্বংসস্তুপে। যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবী ধ্বংসের দানব রুপে আর্বিভূত হয়েছেন। তাদের আগ্রাসনের শিকার হয়নি এমন দেশ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন সবার উপরই খবরদারী শুরু করেছে । ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিকল্প গণমাধ্যম উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া তার বার্তায় উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দস্যুবৃত্তির নানা অজানা কাহিনী। তাদের আসল চেহারা পৃথিবীবাসীর সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে এ বিকল্প গণমাধ্যম। মানবাধিকারের ফেরিওয়ালা সেজে মানবাধিকার ধ্বংসের মহানায়ক হয়ে যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম তারা চালিয়েছে তা কিছুটা হলেও তুলে ধরেছে উইকিলিকস। যা টনক নাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ মানবতা ধ্বংসের নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্টগণ। যারা ইতিহাসে মানবতা ধ্বংসের জন্য কুখ্যাত হয়ে রয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীতে কোন সাম্রাজ্যবাদই চিরস্থায়ী হয়নি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদও হবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই ধ্বংসের সীমানায় পৌছে গেছে। বিশ্বব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব খর্বের কথা প্রকাশ পেয়েছে এফবিআইয়ের সামপ্রতিক রির্পোটগুলোতে। কথায় আছে আলো নিবানোর আগে নাকি একটু বেশিই জ্বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পতনের আগে একটু বেশি কুকর্ম করে নিচ্ছে। এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবতা ধ্বংস, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, দস্যুতা বর্ণনা করতে গেলে একটি বিরাট আকৃতির বই হয়ে যাবে। কারণ তাদের কুকর্মের ফিরিস্তি অনেক দীর্ঘ। কিন্তু সচেতন পৃথিবীবাসী ও পৃথিবী গড়ার কারিগর এ তরুণ সমাজের উদ্দ্যেশে আংশিক কুকর্মের বর্ণনা পেশ করা হল, যাতে সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংসের নায়করা এর গুরুত্ব অনুধাবন করে সাম্রাজ্যবাদের শিকড়কে পৃথিবী থেকে উপড়ে ফেলে, একটি শান্তি, সুখের নির্মল পৃথিবী গড়তে পারেন।

* শ্যাময়েল হান্টিংটন একজন ইহুদী পন্ডিত। ‘সভ্যতার সংঘাত’ নামে একটি বই লিখেছেন তিনি। পুস্তকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় পাশ্চাত্য সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য ইসলামকে হুমকি হিসাবে উপস্থাপন করা । এটাও প্রমাণ করা যে, ইসলাম ও মুসলিমের সাথে বস্তুবাদী কথিত গণতান্ত্রিক পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্ধ এবং সংঘাত অনিবার্য। তার এই ত্বত্ত আমেরিকা ও ইউরোপের বৈদেশিক নীতির মূল চালিকাশক্তি। বৈদেশিক নীতি ছাড়াও আর্ন্তজাতিক যে কোন ইস্যু এবং অভ্যন্তরীন নীতি নির্ধারনে আমেরিকা ও ইউরোপ ইসলাম ও মুসলমানদেরকে প্রতিপ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্বের তাবৎ সম্পদের সিংহ ভাগ নিয়ন্ত্রন করে ইহুদী ও খিষ্টান বলয়াধীন শক্তিগুলো । প্রায় সত্তর ভাগ মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় ইহুদীদের দ্বারা। আমেরিকা ও ইউরোপের সরকারগুলো কার্যত ইহুদী খৃষ্টান স্বার্থ সংরক্ষণে শতভাগ নিষ্ঠাবান। তারা মানবতাকে পদদলিত করে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট পন্থায়। তারা তখনই হিংস জানোয়ার হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। যখন তাদের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ নিয়ে কতটা হীন, ঘৃন্য, জঘন্য ও পাপিষ্ট হতে পারে শয়তানের প্রতিভূ হতে পারে, তার একটি খন্ড চিত্র নিম্নে প্রদান করা হল:
১. আফগানিস্তানে তালেবান নির্মূলে ইঙ্গ-মার্কিন সামরিক অভিযান এখনো চলছে। কলম্বাসের আমেরিকা ও ভাস্কোদাগামার ভারতে আসার নৌপথ চিহিৃত করার পর ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গরা বিশ্বব্যাপী খৃষ্টীয় প্রধান্য বিস্তারের জন্য যে আগ্রাসন, হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল। আফগানিস্তানে হামলা তারই আধুনিক সংস্করণ।
২. কলম্বাস আমেরিকা যাবার পথ চিহিৃত করার পর ব্যবসা ও ধর্ম প্রচারের লয়ে দলে দলে ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গরা আমেরিকা যাতায়াত শুরু করে দেয়। তবে মূল কাজ ছিল দস্যুতা। আমেরিকার বা আদিবাসী যারা রেড ইন্ডিয়ান বলে চিহিৃত, তাদের সহায় সম্পত্তি শক্তিবলে দখল করা। আমেরিকার শ্বেতাঙ্গদের উল্লেখযোগ্য ব্যবসা ছিল দাস ও মাদক ব্যবসা। আর উভয় প্রকার ব্যবসাই ছিল রেড ইন্ডিয়ানদের স্বার্থবিরুধী। দাস ব্যবসার মাধ্যমে যেখানে তারা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করত এবং এই শক্তি দিয়ে রেড ইন্ডিয়ানদের উপর হামলা চালাত। তাদের জমাজমি দখল করে নির্দোষ দাসত্বের মাধ্যমে চাষাবাদ করাত। আর মাদক ব্যবসার মাধ্যমে গোটা অধিবাসীদের মধ্যে মাদকাসক্তি ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। সেখানে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য খৃষ্টান ধর্মাবলম্বী শ্বেতাঙ্গরা রেড ইন্ডিয়ানদের সংখ্যালঘুতে পরিনত করার জন্য সংক্রামক ও মরণব্যাধী ছড়ায়, ব্যাপক মাদকাসক্তির বিস্তার ঘটায়। নির্বিচারে গণহত্যা চালায় ও পালের পর পাল বুনো মেষ হত্যা করে পরিকল্পিত খাদ্য সংকট ও দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করে। আজকে ওবামা বুশের পূর্ব পুরুষরা যারা ধর্মীয় উন্মাদের হাত থেকে বাচাঁর জন্য ইউরোপ থেকে পালিয়ে আমেরিকা গিয়েছিল, তারা আনন্দ উল্লাসের জন্য রেড ইন্ডিয়ানদের ও তাদের খাদ্যের প্রধান উৎস বুনো মেষ হত্যা করত।
এর ফলে আধিবাসীরা এক পর্যায়ে রোগ ব্যাধি, খাদ্যভাব ও গণহত্যার শিকার হয়ে সংখ্যালগু জনগোষ্ঠিতে পরিনত হয় এবং বহিরাগতদের নির্দেশে অনুর্বর ও অস্বাস্থ্যকর স্থানে অমানবিক পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হয়। বর্তমানে সভ্যতার ছোঁয়া থেকে তারা সম্পূর্ণ বঞ্চিত। দিন দিন তাদের সংখ্যা কেবল হ্রাসই পাচ্ছে। এ হল আমেরিকার আদি ইতিহাস!!
৩. ইউরোপীয়রা যখন প্রথম আমেরিকায় পর্দাপন করে। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এক কোটি দশ লাখ আদিবাসী বাস করত। ইউরোপীয় গণহত্যার কারণে বর্তমানে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এদের সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে দশ লাখেরও নীচে। কানাডায় মাত্র পাঁচ লাখের মত রেড ইন্ডিয়ান বেঁচে আছে যা সেখানকার মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ মাত্র। তবে তারা যে পরিবেশে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে তাতে এপিচি, মাইকান, সুবিকেট, বিউথাক, নারাংগানসেট, ওয়াম, পানাগ প্রভূতি উপজাতীয়দের মত নিশ্চিহৃ হতে বেশি সময় লাগবে না। শ্বেতাঙ্গদের নির্মূল অভিযানের শিকার হয়ে এসব উপজাতি সমূহ নিশ্চিহৃ হয়ে যাচ্ছে।
৪.আমেরিকার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর শ্বেতাঙ্গরা মার্কিন নাগরিক পরিচয়ে বাণিজ্যের নামে রণপ্রস্তুতি নিয়ে এশিয়ার উদ্দ্যেশে তরী ভাসায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছর পরই মার্কিন বাণিজ্য ও রণতরী মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় গিয়ে হাজির হয়। প্রথমে তারা শুরু করে আদিম ব্যবসা যা প্রাচ্যের জাতিসংঘের কাছে গর্হিত অপরাধ হিসাবে চিহিৃত। প্রথমে এই ব্যবসায় বৃটিশরা মনোনিবেশ করে। পরে মার্কিনীরা এতে ভাগ বসায়। এই ব্যবসায় শতকরা ৫শ ভাগের বেশি লাভ হত। এই লাভজনক ব্যবসাকে নিরাপদ করার লয়ে মার্কিনীরা উঠেপড়ে লাগে।
৫. মার্কিন বণিকরা ইজমির ও অটোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আফিম ক্রয় করে ভূমধ্য সাগরে পাড়ি দিয়ে আটলান্টিক সাগর হয়ে উত্তমাশা অন্তরীপ ঘূরে ভারত মহাসাগর ও দণি চীন সাগর দিয়ে চীনের ক্যান্টনে নিয়ে যেত। এ জন্য তাদেরকে মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও আধুনিক লিবিয়ার জলসীমা ব্যবহার করতে হত। বাণিজ্য তরীগুলো এসব দেশের বন্দর থেকে খাদ্য ও পানীয় সংগ্রহ করত। সেজন্য এসব দেশকে মার্কিন বণিকদের বড় অংকের কর দিতে হত। যা মার্কিন সরকার ১৭৮৭ সালে মার্কিন বণিকদের নিরাপত্তা বিধান ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত একটি স্বাক্ষর করতে মরক্কোকে বাধ্য করে। একই ধরণের চুক্তি স্বাক্ষর করতে ১৭৯৬ সালে লিবিয়াকে এবং ১৭৯৭ সালে তিউনিসিয়াকে বাধ্য করে।
৬. এতেও মার্কিনীরা সন্তুষ্ট হল না। তারা উল্লেখিত দেশ গুলোর ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার জন্য ১৮০১-১৮০৫ সাল পর্যন্ত প্রথমে লিবিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহন করে। মার্কিন রণতরীর বহর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলী অবরোধ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেফারসনের অনুমোদনক্রমে যুদ্ধমন্ত্রী চিমোথি পিকারিং এর নির্দেশে তিউনিসিয়া ও লিবিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল যথাক্রমে উইলিয়াম এটন ও জমস এল ক্যাথকাট লিবিয়ায় সামরিক অভ্যূথান ঘটানোর ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারা লিবিয়ার শাসকের ভাই মিসরে নির্বাসিত হামেদ করমানের সাথে চুক্তি করে। ক্ষমতা দখলের জন্য মার্কিনীরা তাকে সামরিক ও আর্থিক সাহায্য করবে এই শর্তে যে, তিনি মার্কিনীদের বাণিজ্য শুল্ক বৃদ্ধি করবেন। পাশাপাশি তিউনিসিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল উইলিয়াম এটমকে তার সেনাবহিনীর সর্বাধিনায়ক করবে। অতঃপর এটম ও কারমনেলির সমর্থকরা মার্কিন মেরিন সেনা ও নৌ বাহিনীর গোলন্দাজ বাহিনীর সমর্থনে লিবিয়ার দেরনা শহর দখল করে নেয়। এ অবস্থায় ত্রিপলীর শাসনকর্তা ইউসুফ কারমানলি মার্কিনীদের সাথে এক অসম চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য হন। এটম লিবিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধানের পদটি দখল করে । এই কৃতিত্বের জন্য ম্যাসাচুয়েটস কর্তৃপ তাকে দশ হাজার একর ভূ-সম্পত্তি উপহার দেয়। একই কায়দায় অনুরুপ একটি চুক্তি সম্পাদনে করতে বাধ্য করা হয় মরক্কোকেও। এভাবে করে মার্কিনীরা দস্যুতার মাধ্যমে আস্তে আস্তে পৃথিবীতে সাম্র্যাজ্যবাদের কালো হাত প্রসারিত করে।
৭. লিবিয়া ও মরক্কোকে মার্কিন পরিকল্পনা সফল হবার পর তারা নজর দেয় তিউনিসিয়ার প্রতি। তিউনিসিয়ায় হামলা চালানোর অজুহাত দাঁড় করানোর জন্য সেখানকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত শাসনকর্তার সাথে ঔদ্ধাত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। ফলে শাসনকর্তা তাকে দেশ থেকে বহিস্কার করতে বাধ্য হন। আর সেই অজুহাতে ১৮০৫ সালের ১লা আগষ্ট জন রজার্ট এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন নৌ বহর কোন প্রকার সতর্কবানী ছাড়াই তিউনিসিয়ায় প্রচন্ড গোলাবর্ষন শুরু করে। পাশাপাশি রজার্ট তিউনিসিয়ার শাসকের কাছে একটি চুক্তির খসড়া পাঠিয়ে বলেন, এতে স্বাক্ষর না করলে তার রাজধানীকে গোলার আঘাতে গুড়িয়ে দেয়া হবে। বাধ্য হয়ে সরকার প্রধান সে অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
৮. ১৮১৫ সালে কমোডর স্টিফেন ডেকাডুর ও কমোডর উইলিয়াম ব্রিজের নেতৃত্বে জলদস্যু দমনের নামে দু-স্কোয়াড্রন মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ আলজেরিয়ার উপকূলে এসে হাজির হয়। আলজেরিয়ার জনগণকে ধোঁকা দেয়ার জন্য জাহাজে বৃটিশ পতাকা উড়িয়ে স্কোয়াড্রন দু’টি পোতাশ্রয়ে প্রবেশ করে আলজেরীয় নৌ-বহরকে ধ্বংস করে দেয়। এর পর আলজিয়ার্স শহরের উপর প্রচন্ড গোলা বর্ষন শুরু করে । পাশাপাশি আলজিয়ার্সের গর্ভনর ড. ওমরের কাছে বশ্যতামূলক এক চুক্তিনামা পাঠায়, যাতে মার্কিন বণিকদের বিশেষ সুযোগ ও ভূমিসহ অধিকার প্রদানের কথা বলা হয়। চাপের মুখে মার্কিনীরা গর্ভনরকে সে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।
৯. এই সময় মার্কিনীরা আবারো নতুন করে তিউনিসিয়া ও ত্রিপোলী ও মৌরিতানিয়ায় আগ্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়তি দাবী-দাওয়া আদায় করে নেয়।
১০. ভারত মহাসাগরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লয়ে মার্কিনীরা বর্তমান ওমান ও থাইল্যান্ডকে এক অধীনতামূলক চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করে।

চলবে .........

কাল পতাকা
12-14-2015, 06:01 AM
১১. ১৮৮২ সালে আলেকজান্দ্রিয়ার ওপর ব্যাপক গোলাবর্ষনের পর মিসরকে দখল করে নিতে বৃটিশকে সহযোগিতা করেছিল মার্কিন স্কোয়াড্রনের চারটি যুদ্ধ জাহাজ। গোলার আঘাতে আলেকজান্দ্রিয়াকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার পর শত শত মিসরীয়দের লাশ মাড়িয়ে বৃটিশ বাহিনীর সাথে সেখানে অবতরণ করে মার্কিন মেরিন সেনা।
১২. ১৮২০ এর দশকে মার্কিনীরা সুমাত্রার উত্তর ও উত্তর পশ্চিম উপকূলে নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্টার মানসে নানা প্রকার রোগ ছড়িয়ে দেয়। যে করণে সেখানে মৃত্যুহার বেড়ে যায়। এতে সুমাত্রা বাসীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা যায়। মার্কিন নাবিকেরা উদ্দেমূলক ভাবে নানা ঔদ্ধাত্যপূর্ণ ও গর্হিত আচরণের মাধ্যমে এই অসন্তোষকে আরো বাড়িয়ে দিলে স্থানীয় জনগণ ১৮৩১ সালে মার্কিন বণিক ও মৈত্রী নামক একটি জাহাজে হামলা চালায়। এর প্রতিশোধ গ্রহনার্থে ১৮৩২ সালে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ পোটেম্যাক কুয়ালাবাটুতে ভিড়ে এবং এর নাবিকরা বন্দরে অবতরণ করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে দেড়শ মুসলিম শাহাদাত বরণ করেন এবং দুইশত জন আহত হয়। মার্কিনীদের উদ্দেশ্য যাতে কোন প্রকারে স্থানীয় বাসিন্দারা টের না পায়, সে জন্য পোটেম্যাকে ওলন্দাজ পতাকা উড়ান হয়েছিল।
১৩. ১৮৪২ সালে ছয়টি যুদ্ধ জাহাজ বিশিষ্ট এক মার্কিন নৌ-বহরের কমান্ডার চালর্স উইলিয়াম সুলু দ্বীপপুঞ্জের শাসক সুলতান মুহাম্মদকে একটি অধীনতামূলক মার্কিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।
১৪. ১৮৫০ সালের ২৩ জুন মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ব্রুনাইর সুলতান ওমর আলীকে বাধ্য করে মার্কিনীরা। অতঃপর ১৮৯৬ সালে ব্রুনাইর উত্তরাংশের বিরাট এলাকা মার্কিনীদের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিতেও সুলতানকে বাধ্য করে। এরপর সুলতান বাধ্য হন আমেরিকান ট্রেডিং কোম্পানী অব বোর্ণিও’র প্রধান কর্মকর্তা টোরিকে এমবোয়ানা ও মারুদুর রাজা হিসাবে নিয়োগ করতে। সুলতান রাজাকে স্বাধীন সার্বভৌম শাসকদের মত আইন প্রনয়ন, মৃত্যু দন্ড দান, মুদ্রা তৈরি ও প্রচলন, প্রতিরা বাহিনী গঠনসহ নানাবিধ মতা প্রদানে ও বাধ্য হন।
১৫. ১৮৯৯ সালে আজকের ফিলিপাইনের তৎকালীন সুলতান জামাল উল কিরামের সাথে মার্কিনীরা এক সমঝোতা চুক্তিতে উপনীত হয়। কিন্তু স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার পর ১৯১৩ সালে মার্কিনীরা সকল মুসলিম এলাকা দখল করে নেয় এবং তাদেরকে সংখ্যালঘু জাতিতে পরিনত করা হয়। যে কারণে ফিলিপাইন এখন একটি খৃস্টান রাষ্ট্র।
১৬. ১৯৭০ সালের মধ্যে কৌশলে ৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা অফিসার মিসরীয় সশস্ত্র বাহিনীতে চাকরি নেয়, যার মধ্যে জেনারেল স্টোন কায়রোতে মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর চীপ স্টাফ এবং কর্নেল চেইলি লঙ সুদানে মোতায়েনকৃত মিসরীয় সশস্ত্র বাহিনীর চীপ অব স্টাফের পদ দখল করে। এরপর ইরিত্রিয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিনীরা মিসর-ইথিওপিয়া যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয় এবং যুদ্ধে মিসরীয়দের পরজয় ঘটে। এই যুদ্ধে মিসর আর্থিক এবং সামরিক দিক থেকে ব্যাপক দুর্বল হয়ে পড়ে। আর সে সুযোগে ১৯৮২ সালে বৃটিশ মিসরকে দখল করে নেয়। এক্ষেত্রে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজগুলোও বৃটিশকে সহায়তা করে। কর্নেল চেইলি লঙ এতে নেতৃত্ব দেয়। পাশাপাশি তারা ইথিওপিয়া থেকে ইরিত্রিয়াকে আলাদা করে ফেলে একটি খৃষ্টান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।
১৭. রুশ গবেষক বনদারেভস্কি তার ‘মুসলিম জনগণের শক্রর স্বরুপ’ বইতে লিখেছেন, এক হাতে বাইবেল আর অন্যহাতে ডলারের হালি নিয়ে মার্কিন উপনিবেশবাদীরা তাদের পশ্চিমা প্রতিযোগিদের মধ্যে এবং মুসলিম শাসকদের মধ্যে বিরোধ বিবাদ জাগিয়ে তোলে, তারা অস্ত্র শস্ত্র বিক্রি করে এবং অস্ত্রের হুমকি প্রদর্শন করে এভাবে তারা অটোমান সাম্রাজ্য, পারস্য উপসাগর, জাঞ্জিরার দ্বীপ ও সুলু দ্বীপ মালায় ঘাঁটি গেড়ে বসার চেষ্টা করে, এটা ছিল মার্কিনীদের প্রথম পর্যায়ের আগ্রাসন মূলক তৎপরতা। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন আগ্রাসনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রুশ, ফরাসী ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট একটি জোট গঠিত হয়, যা মিত্রশক্তি নামে পরিচিত লাভ করে। ১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময় মিত্রশক্তি যখন ইউরোপের পরাজিত জাতিগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে ব্যস্ত, তখন মার্কিনীরা এদের অগোচরে জাপানে পারমানবিক বোমা হামলা চালায়। এই হামলা করা হয় শরীকদের না জানিয়েই। ৬ ও ৯ আগস্টের এই বোমা হামলায় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসিকা শহর দুটি ধ্বংস হয়ে যায় এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে লাখ লাখ লোক প্রাণ হারায় ও আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে। বোমা হামলার ক’দিন পর ১৪ আগস্ট জাপান বিনা শর্তে সে অঞ্চলের মার্কিন সমর অধিনায়ক ডগলাস ম্যাক আর্থারের কাছে আত্মসমর্পন করে। ফলে ম্যাক আর্থার জাপানের ভাগ্য নিয়ন্ত্রা হয়ে যান। অন্য মিত্রদের সেখানে নাক গলানোর কোন সুযোগ ছিল না। ফলে সেখানে মার্কিন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। একটানা ৬ বছর জাপানকে স্বীয় নিয়ন্ত্রনে রেখে সকল প্রকার শোষন শেষে ১৯৫১ সালে শান্তি চুক্তির নামে জাপানীয়দের মার্কিন অধীনতামূলক এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জাপানের বোনিন ও রিউকু দ্বীপ দু’টিতে মার্কিন নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জাপানে মার্কিন সেনা ঘাঁটি স্থাপিত হয়। চুক্তির শর্তানুসারে জাপান এখনো শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের অধিকার থেকে বঞ্চিত।
১৮. ইন্দোচীন ছিল ফ্রান্সের উপনিবেশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান একে দখল করে নেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর একদিকে ইন্দোচীন স্বাধীনতার দাবী তোলে, অন্যদিকে ফ্রান্স সেখানে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ অবস্থায় ইন্দোচীনকে উত্তর ভিয়েতনাম, দক্ষিণ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও লাওস এই চারটি রাষ্ট্রে ভাগ করা হয়। দক্ষিণ ভিয়েতনামে ফ্রান্সের পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এমতাবস্থায় দক্ষিণ ভিয়েতনামবাসীরা স্বাধীনতার জন্য এবং উত্তর ভিয়েতনামবাসীরা উভয় ভিয়েতনামকে একত্র করার জন্য আন্দোলন শুরু করে। দক্ষিণ ভিয়েতনামের পুতুল সরকার মার্কিন মদদে সে আন্দোলন দমনের প্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর্যায়ে মার্কিনীরা সেখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। বিশ্বব্যাপী এর প্রতিবাদ জানান হয়। এমনকি খোদ মার্কিনীরা পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করে। কিন্তু মার্কিন প্রশাসন সকল প্রকার প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সেখানে মার্কিন সৈন্য প্রেরণ করতে থাকে। সর্বমোট পাঁচ লাখ মার্কিন সৈন্য সেখানে জড়ো করা হয়। তারা ভিয়েতনামের পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে এবং পাইকারী ভাবে আবাল বৃদ্ধ বনিতা সহ এক কোটিও বেশি মানুষ হত্যা করে। মার্কিনীরা নির্বিচারে বোমা মেরে হাসপাতাল, শিশুদের স্কুল, ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করে। বেসামরিক এলাকায় নাপাম বোমা ফেলে নিরপরাধ নারী-পুরুষকে হত্যা করে। ১৯৬৫ সাল থেকে মোট ৭০ লাখ টনের ও বেশি বোমা ভিয়েতনামে ফেলা হয়; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বোমার তিনগুনেরও বেশি । মার্কিন হিসাব মতে, এক লাখ ভিয়েতনামবাসী কেবল এই বোমার আঘাতে আগুনে পুড়ে মারা যায়। ধ্বংস হয় দু’শ হাসপাতাল ও সাতশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কথিত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ঠেকানোর সেই মার্কিনীদের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে মার্কিন হিসাব অনুযায়ী ২৩ লাখ লোক প্রাণ হারায়। অবশ্য আমেরিকাও কম মূল্য দেয়নি। তাদের পাঁচ হাজার বিমান ও প্রায় দু’হাজার হেলিকপ্টার এই যুদ্ধে ধ্বংস হয়। হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারায়। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাপী ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরুধী প্রতিবাদ তীব্র হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক চাপের কারণে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্যের লাশ ভিয়েতনামে রেখে আমেরিকা সে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
১৯. কম্বোডিয়ায় অন্তদ্বন্দের সুযোগে মার্কিন সৈন্য সেখানে প্রবেশ করে এবং মার্কিন বিরুধিদের উপর পাইকারী হত্যাযজ্ঞ চালায়। তারা লাখ লাখ কম্বোডিয়ার জনগণকে হত্যা করে। শেষ পর্যন্ত তারা বিশ্বনিন্দা মাথায় নিয়ে পরাজয়ের গ্লানি মুখে মেখে কম্বোডিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
২০. কোরিয়াকে বিভক্ত করা এবং উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে যে তিক্ততা, তারও নাটোর গুরু এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাদেরই কলকাঠি নাড়ানোতে কোরিয়ার লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষ অকাতরে প্রাণ হারায়। তাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়ার মানুষকে এখনো সীমাহীন কষ্টের জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
২১. ইন্দোনেশিয়ায় কমিউনিষ্ট বিপ্লব ঠেকানোর নামে মার্কিনীরা সেখানে সামরিক অভ্যূথান ঘটিয়ে সুহার্তোকে ক্ষমতায় বসায়। সুহার্তো নিষ্ঠুরতার সাথে মার্কিন বিরুধী হিসাবে পরিচিত লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করে । কিন্তু এই মার্কিন পদসেবককে একটি দৃঢ খৃষ্টান রাষ্ট্র হিসাবে পূর্ব তিমুরকে স্বাধীনতা না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ অবস্থান নিলে তাকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসাবে চিহিৃত করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে চলৎশক্তিহীন আব্দুল ওয়াহিদকে ক্ষমতায় বসায়। মার্কিন পদলেহী আব্দুল ওয়াহিদ বিনা বাক্যব্যয়ে পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতা দিয়ে দেন। কিন্তু তারপরও তার শেষ রক্ষা হয়নি। কলার খোসার মত তাকেও ছুঁড়ে ফেলা হয়।
২২. শ্রীলংকায়ও কথিত কমিউনিষ্টদের বিপ্লব ঠেকাতে মার্কিনীরা সেখানে এক সামরিক অভ্যূথান ঘটায়। এই সামরিক সরকার কমিউনিষ্ট দমনের নামে মূলত নিরপরাদ মার্কিন বিরুধী জনগণকে ব্যাপকভাবে হত্যা করে। এ সময় লাখ লাখ লোক প্রাণ হারায়। এখনও সেখানে তামিল বিদ্রোহ লাগিয়ে রাখা হয়েছে।
২৩. ১৯৫৮ সালে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে আমেরিকা আইয়ুব খানকে পাকিস্তানের ক্ষমতায় বসায়। কিন্তু আইয়ুব খান স্বাধীন পররাষ্ট নীতি গ্রহণ করলে কৌশলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য পাক-ভারত যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়া হয়।
২৪. সুদান যাতে একটি মুসলিম দেশ হিসাবে টিকে থাকতে না পারে, সেজন্য স্বাধীনতার শুরুতেই সেখানকার খৃস্টানদের বিদ্রোহ করার জন্য উস্কিয়ে দেয়া হয়। সেখানে এখনো যৃদ্ধ চলছে। এযুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ লোক প্রাণ হারায় এবং ৬০ লাখ উদ্বাস্তোতে পরিনত হয়েছে। খৃস্টান বিদ্রোহীদের কাজে লাগিয়ে মুসলিম দেশ সুদান কে দু’ভাগ করে দক্ষিণ সুদান নামে একটি খৃস্টান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়া হয়েছে ২০১০ সালে। আর মার্কিন সৃষ্ট যুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে হেগের আর্ন্তজাতিক অপরাথ ট্রাইবুনালকে দিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারির পরওয়ানা জারী করা হয়।
২৫. ইরাক। তার আর্থিক ও সামরিক শক্তি মার্কিন-ইসরাঈলের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ায়। মার্কিন মদদে ইসরাঈল একদিন কোন রুপ ঘোষনা ছাড়াই ইরাকের পারমানবিক চুল্লির উপর হামলা চালায় এবং তা ধ্বংস করে দেয়। এরপরও ইরাকের সামরিক শক্তিতে শংকিত মার্কিনীরা ইরাককে ইরানের সাথে যুদ্ধে বাধিঁয়ে দেয়। দীর্ঘ আট বছর এই যুদ্ধ চলার পরও শংকামুক্ত হতে না পেরে ইরাককে কুয়েতের প্রতি লেলিয়ে দিয়ে তার সামরিক শক্তি ও স্থাপনা ধ্বংস করার অজুহাত দাড় করায়। কুয়েতমুক্ত করার নামে মার্কিনীরা ইরাকের সকল সামরিক শক্তি ও স্থাপনা ধ্বংস করে। দু’লাখ ইরাকী সৈন্যকে ট্যাংকের নিচে পিষে মারে। ইরাকের বিরুদ্ধে আর্ন্তজাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরাকের কোটি কোটি শিশু খাদ্য ও ঔষুধের অভাবে মারা যায়। তাছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বার বিমান হামলা চালিয়ে ইরাকের হাজার হাজার বেসামরিক লোককে হত্যা করা হয়। আজকে ইরাক আগ্রাসনের কথা সবারই জানা। বিশ্বকে তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ মানুষ কে হত্যা করল, ইরাক জীবন্ত কবরস্থানে পরিনত করল, হাজার হাজার বাড়ী ঘর বোমায় উড়িয়ে দিল। এই সব দস্যুবৃত্তির পক্ষে কি কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে?
২৬. দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ইঙ্গ-মার্কিন প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আরব বিশ্বের হ্রদপিন্ডের উপর বিষফোঁড়া সদৃশ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করা হয়। অতঃপর এই রাষ্ট্রের অস্থিত্ব রক্ষা, স্থিতি ও বিকাশের জন্য মার্কিনীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা আরব নিধন ও ভূ-খন্ড দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকৃত অর্থে প্রতিটি আরব শিশুর রক্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাত রঞ্জিত, তাদের ইঙ্গিতে এখনো সেখানে রক্ত ঝরছে।
২৭. ১৯৫৬ সালে মিসর সুয়েজ খাল জাতীয় করণ করলে বৃটিশ ও ফরাসীরা ইসরাঈলকে মিসরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। ইসরাঈল মিসরের সিনাই এলাকা দখল করে নেয়। মার্কিন মদদে ইসরাঈল ১৯৬৭ সালে জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম সিরিয়ার গোলান মালভূমি, মিসরের গাজা ও সিনাই এলাকা দখল করে নেয়। এ অবস্থায় মিসরীয় শাসকরা মার্কিন সেবাদাসে পরিনত হয় এবং মুসলিম বিশ্বের স্বার্থবিরোধী কাজে মার্কিনীদের সাহায্য করে চলেছে। সামপ্রতিক আরব বিশ্বের জাগরণের ঢেউয়ে ভেসে যায় মার্কিন সেবাদাস মোবারক সরকার। এরপরও মার্কিন ষড়যন্ত্র থেকে নেই। ২৮. স্বাধীনতার শুরু থেকেই আলজেরিয়ার জনগণ সেখানে ইসলামী শাসনব্যবস্থার চালু করার দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু পাশ্চত্য তা হতে দেয়নি। গত নির্বাচনে জনগণের ভোটে ইসলামপন্থীদের ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে মার্কিন ইন্ধনে সেখানে ইসলাম বিরোধী সাময়িক অভ্যুথান ঘটিয়ে সামরিক জান্তা ইসলাম পন্থীদের ওপর বেধড়ক নির্যাতন, নিপীড়ন, জেল জুলুম ও হত্যাযজ্ঞ চালায়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার লোক নিহত হয়েছে।
২৯. প্রামনহীন সন্ত্রাসের অভিযোগে লিবিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
৩০. পাকিস্তানের অয়াজিরিস্তান ও সোয়াতের হামলার ভয়াবহতা এখনো বিদ্যমান।
৩০. কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই মার্কিন দূতাবাসে হামলার অভিযোগে আমেরিকা ৯৯ সালে সুদানের ঔষুধ কারখানায় ও আফগানিস্তানের বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায়। আফগানিস্তান থেকে রুশ সৈন্য চলে যাওয়ার পর সেখানে যাতে ইসলামী শাসন বা কোন স্থিতিশীল সরকার হতে না পারে সেজন্য যুদ্ধ বাঁধিয়ে রাখা হয়। তালেবানরা তা অনুগত রাখতে চেষ্টা করে। তালেবানরা আপোষহীন হতে থাকতে চাইলে শাইখ উসামার (রাঃ) এর অজুহাতে তাদের উপর নেমে আসে যুদ্ধের বিভীষিকা ।
৩১. মার্কিন অস্ত্রবাজার চাঙ্গা রাখার জন্য আমেরিকা আরব, ইসরাইল, চেচনিয়া, বলকান, কুর্দি, কাশ্মির, কুর্দি, আফগান, আরাকান, মিন্দানাও প্রভূতি সংকটের স্থায়ী রুপ দিতে চায়। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে এবং পেন্টাগনে বিমান হামলার পর আমেরিকান সকল কোম্পানীর শেয়ারের দাম পড়ে গেলেও অস্ত্র কোম্পানীর শেয়ারের দাম বেড়ে গেছে।
এছাড়া ১৯৬৭ সালে আমেরিকা পেরুতে হামলা চালায়। গ্রানাডা, পানামা, হাইতিও একাধিকবার মার্কিন হামলার শিকার হয়। এসব ঘটনাও সামগ্রিক চিত্র নয়।

# মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব সন্ত্রাসের জন্মদাতা। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফিরিস্তি অনেক। যুগে যুগে তাদের কৃত সন্ত্রাসের যৎকিঞ্চিত তুলে ধরা হলো :
* বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর আমেরিকা ২১৬ বছর বিভিন্ন দেশে সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং অভিযান পরিচালনা করেছে।
* বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমেরিকান বাহিনী একশো বারের বেশি হামলা ও হস্তক্ষেপ করেছে।
* ১৯৫৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৪০ টির বেশি দেশে হস্তক্ষেপ করেছে।
* দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০ টি দেশে বোমা নিক্ষেপ করেছে। দেশগুলো হল :
চীন-১৯৪৫-৪৬, কোরিয়া-১৯৫০-৫৩, চীন-১৯৫০-৫৩, গুয়েতামালা-১৯৫৪, ইন্দোনেশিয়া-১৯৫৮, কিউবা-১৯৫৯-৬০, গুয়েতামালা-১৯৬০ ,কঙ্গো-১৯৬৪, পেরু-১৯৬৫, লাওস-১৯৬৪-৭৩ ,ভিয়েতনাম-১৯৬১-৭৩, কম্বোডিয়া-১৯৬৯-৭০, গুয়েতামালা-১৯৬৭-৬৯, গ্রানাডা-১৯৮৩, লেবানন-১৯৮৪, লিবিয়া-১৯৮৬, এলসালভেদর-১৯৮০, নিকারাগুয়া-১৯৮০, পানামা-১৯৮৯, ইরাক-১৯৯১-৯৯, সুদান-১৯৯৮ ,আফগানিস্তান-১৯৯৮, যুগোশ্লাভিয়া-১৯৯৯, আফগানিস্তান-২০০৩, ইরাক-২০০৫, লিবিয়া-২০১০