PDA

View Full Version : আলকায়দা/আই এস কাকে মানবেন কাকে ছাড়বেন। ÷



RJ rahi islam
12-18-2015, 10:56 PM
একই দেশে একাধিক জিহাদকারী দলের ব্যাপারে হুকুম
-শাইখ আব্দুল ক্বাদির ইবনে আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাকে বন্দীত্ব থেকে মুক্ত করুন)
.

অনুবাদকের কথাঃ
العمدة في إعداد العدة للجهاد في سبيل الله শাইখ আব্দুল ক্বাদির ইবনে আব্দুল আজিজ এর জিহাদের প্রস্তুতি বিষয়ক এক অনন্য সংকলন। এর الرد على شبهة متعلقة بالإمارة অধ্যায়টি আত-তিবইয়ান পাবলিকেশন্স (At-Tibyan Publications) “The Refutation of Doubts Concerning Bayah and Imarah” শিরোনামে প্রকাশ করে। এই প্রবন্ধটি এই অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপুর্ণ অংশ ما الموقف من تعدد الجماعات العاملة للإسلام ؟ (What is the stance concerning numerous groups working for Islam? ) এর অনুবাদ।

দ্বীনের স্বার্থে জামায়াতবদ্ধ হয়ে কাজ করা ওয়াজিব। বর্তমানে ইসলামের জন্য যে অসংখ্য দল কাজ করছে, তাদের ব্যাপারে হুকুম কি? আর কোন দলের সাথে মুসলমানদের কাজ করা উচিত? আমাকে একাধিকবার এই প্রশ্নটি করা হয়েছে। সকলের উপকারার্থে আমি এই প্রবন্ধে এই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ।
আমি বলি: শরীয়তের ফরয বিষয়গুলোর মাঝে সবচাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ ফরয হলো মহাসম্মানিত আল্লাহ তাআলার রাস্তায় জিহাদ করা, যার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার দ্বীনকে বিজয়ী করা, উম্মাহ্*কে অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে উদ্ধার করা এবং ইসলামী খিলাফত প্রতিষ্ঠিত করা। এই ফরয যদি মুসলমানদের জীবন থেকে অনুপস্থিত হয়ে পড়ে, তবে মুসলমানেরা ফরয কর্তব্য পালন না করার জন্য গুনাহ্*গার হয়ে পড়ে (তারা ব্যতীত যারা এর পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে), যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
من مات وليس في عنقه بيعة مات ميتة جاهلية
“যদি কেউ এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, তার গর্দানে কোন বায়াতের দায়বদ্ধতা নেই, তবে সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুকে বরণ করেছে।”
আর এখানে “গর্দানে বায়াতের দায়বদ্ধতা” দ্বারা যা বুঝানো হচ্ছে তা হলো, খলিফার প্রতি বায়াত, অন্য কারো বায়াত এখানে উদ্দেশ্য নয়। ইসলামের জন্য নিয়োজিত কোন দল যদি এই পথে না চলে তবে সেই দল ভুল করছে এবং দ্বীনের ব্যাপারে অবহেলা করছে, এমনকি যদিও সেই দল দ্বীনের অপর কিছু ফরয বিষয়াদি প্রতিষ্ঠিত করে থাকে।
সুতরাং, মুসলমানদের উপর ফরয হলো, সেই জামায়াতকে সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থন করা যে জামায়াত আল্লাহ্*র রাস্তায় জিহাদ করে। আর এছাড়া বাকি দলগুলোর ব্যাপারে কথা হচ্ছে, কোন মুসলমানের জন্য তাদেরকে সাহায্য করায় দোষের কিছু নেই, যদি সেই মুসলমান দুইটি শর্ত পূরণ করে: প্রথমত, এই সাহায্য করাকে সে যদি নিজের উপরে ফরয জিহাদ থেকে পিছিয়ে থাকার অযুহাত হিসেবে পেশ না করে; আর দ্বিতীয়ত, এই অন্যান্য দলগুলোকে সে যে ধরনের সাহায্য করে তা তার জিহাদ সম্পর্কিত কাজের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় এবং সে সর্বদা এই দলগুলোকে জিহাদের ফরয হবার বিষয়ে তাগিদ ও উপদেশ দিয়ে যায়। মহাসম্মানিত আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتَعَاوَنُواْ عَلَى الْبرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
"নেক কাজ করতে ও তাকওয়া অর্জন করতে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করো; তবে পাপ কর্ম ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো না। (সূরা মায়িদাহ, আয়াতঃ ২)"
আর যে সকল দলগুলো জিহাদের জন্য কাজ করে না তারা সংখ্যায় অনেক হলেও এতে অসুবিধা নেই, তারা একে অপরকে ক্ষতি না করলেই হলো। কিন্তু যে সকল দলগুলো জিহাদের জন্য কাজ করে, তাদের একাধিক হওয়া হারাম, কারণ শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়া জিহাদ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, আর জিহাদের কাজে লিপ্ত একাধিক দলের উপস্থিতি শুধুমাত্র মুসলমানদের শক্তিকেই খর্ব করে।
আর একাধিক দলের উপস্থিতির নিষিদ্ধ হওয়া, এমনকি এর হারাম হওয়ারও অনেক দলিল আছে। এর মাঝে অন্যতম হলো মহাসম্মানিত আল্লাহ তাআলার উক্তি:

وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللّهِ جَمِيعًا وَلاَ تَفَرَّقُواْ
আর তোমরা একযোগে আল্লাহ্*র রজ্জুকে সুদৃঢ়রূপে ধারণ করো এবং বিভক্ত হয়ে যেয়ো না। (সূরা আলে ইমরান, আয়াতঃ ১০৩)

তিনি আরও বলেন:

وَلاَ تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَـئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
এবং তাদের সদৃশ হয়ো না, যাদের নিকট প্রকাশ্য প্রমাণ আসার পর তারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও বিরোধ করেছে, এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। (সূরা আলে ইমরান, আয়াতঃ ১০৫)
আর আল্লাহ্*র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

لا ضرر ولا ضرار
“(ইসলামে) কোন যারার (অন্যের ক্ষতিসাধন) ও যিরার (পারস্পরিক ক্ষতি-সাধন) নেই”,
যা আবু সাঈদ রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে দারাকুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন। আর তার থেকে হাকিম রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, আর তার বর্ণনায় দারাকুতনী রহমতুল্লাহি আলাইহি কথাগুলোর সাথে এই কথাগুলো যুক্ত হয়েছে,

من ضَارَّ ضره الله، ومن شَاقَّ شَقَّ الله عليه
“যদি কেউ ক্ষতি সাধন করে তবে আল্লাহ্* তার ক্ষতি সাধন করবেন। আর যদি কেউ যুলুম করে তবে আল্লাহ্* তার উপরে যুলুম করবেন।”
আর আমি বলি: নিজেরা বিভক্ত হয়ে যাবার চাইতে বড় আর কোন ক্ষতি মুসলমানদেরকে আক্রান্ত করতে পারে? আর মুসলমানেরা যদি অসংখ্য দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে তবে তারা কি করে তাদের প্রতিরক্ষার জন্য শক্তি ও সামর্থ্য অর্জন করবে, যার দ্বারা তারা শত্রুর মোকাবেলা করবে? আর ঈমানভিত্তিক আনুগত্যের সম্পর্ক ব্যতীত ইসলামের শক্তি কখনোই অর্জন করা যায় না, আর এটা তখনই সম্ভব হয় যখন মুসলমানেরা একে অপরকে পরস্পর আনুগত্যাধীন করে একটি বৃহৎ ঐক্য গঠন করে। ঠিক যা আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَـئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللّهُ إِنَّ اللّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর মুমিন পুরুষগণ ও মুমিনা নারীগণ হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎকাজের আদেশ দেয় এবং অসৎকাজ হতে নিষেধ করে, আর নামায কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে, এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতিশয় সম্মানিত ও মহাজ্ঞানী। (সূরা তাওবা, আয়াতঃ ৭১)
উপরের আয়াতটির প্রতি লক্ষ্য করুন। আপনি দেখবেন যে, আল্লাহ তাআলা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকে নামায কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার উপরে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, এমনকি যদিও এই দুইটি বিষয় (নামাজ ও যাকাত) ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত। আর খুব সম্ভবত এর পেছনে যে সূক্ষ্ম কারণ লুকিয়ে আছে তা হলো, মুসলমানদের পক্ষে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা ছোট-ছোট দলবদ্ধভাবে নামায ও যাকাত প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলেও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের জন্য যা প্রয়োজন তা হলো শক্তি ও সামর্থ্য, যা শুধুমাত্র ঈমানদারদের পরস্পরের মধ্যে আনুগত্য ও মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আর যখন এই আয়াতের শুরুতে ঈমানদারদেরকে পরস্পর পরস্পরের বন্ধু (আউলিয়া) হিসেবে উল্লেখ করা হলো, তখন এর পর নামায ও যাকাতের উপরে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকে প্রাধান্য দেয়াটা সত্যিই বড় যথাযথ ব্যাপার হয়েছে, যেন এর দ্বারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের গুরুত্বের উপরে জোর দেয়া যায়। আর এটি মহা সম্মানিত আল্লাহ তাআলার এই আদেশের অনুরূপ:

وَالَّذينَ كَفَرُواْ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ إِلاَّ تَفْعَلُوهُ تَكُن فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ
আর যারা কুফরী করে তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, তোমরা যদি এরূপ (ঐক্যবদ্ধ হওয়া) না করো তবে ভূ-পৃষ্ঠে ফিৎনা ও মহাবিপর্যয় হবে। (সূরা আনফাল, আয়াতঃ ৭৩)
অপর কথায়, কাফেররা যেরূপে নিজেদের মাঝে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বের কর্তব্য পালন করে, সেরূপে ঈমানদারগণ যদি নিজেদের মাঝে বন্ধুত্ব ও আনুগত্যের সম্পর্ক রক্ষা করে না চলে তবে পৃথিবীতে ফিৎনা ও মহাবিপর্যয় সৃষ্টি হবে এবং তা ব্যাপকতা লাভ করবে। এর কারণ হলো, কাফেররা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হচ্ছে, আর তারা ঈমানদারদেরকে ঐক্যবদ্ধরূপে না পেয়ে বরং পৃথক পৃথক দলে বা ব্যক্তি বিশেষের রূপে দেখতে পাচ্ছে, এর ফলে তাদের জন্য ঈমানদারদেরকে শক্তি ও সামর্থ্যে পরাজিত করা, দ্বীনের জন্য হত্যা করা ও নির্যাতন করা অনেক সহজ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর তারা জমিনে কুফরী আইনের প্রচলন করছে, এর পর কোন ফিৎনা ও ফাসাদ এর চাইতে বড় হতে পারে? আর মহাসম্মানিত আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

وَلَوْلاَ دَفْعُ اللّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الأَرْضُ
আল্লাহ যদি এক দল মানুষকে অপর দলের দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে নিশ্চয়ই পৃথিবী অশান্তি ও ফাসাদে ভরে যেত। (সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ২৫১)
সুতরাং, কাফেরদেরকে এবং তাদের সৃষ্ট অশান্তি ও ফাসাদকে প্রতিহত করার জন্য যে শক্তি ও সামর্থ্যের প্রয়োজন তা মুসলমানদের কাছে কিভাবে আসবে যদি মুসলমানেরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে থাকে? সুতরাং, এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, নিজেদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টির ফলে আজ মুসলমানেরাই পৃথিবীতে সৃষ্ট অশান্তি ও ফাসাদের জন্য দায়ী। আর মহাসম্মানিত আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদেরই হাতের কামাই (সূরা শূরা, আয়াতঃ ৩০)

সুতরাং, বর্তমানে তারা (জিহাদকারী জামায়াত) যদি একাধিক হয়ে থাকে তবে এখন করণীয় কি? এক্ষেত্রে আমি যা মনে করি – আর আল্লাহই ভালো জানেন – তা হলো, নতুন জামাআত বা দলগুলোর উচিত সবচাইতে পুরনো জামাআত বা দলটির সাথে যোগদান করা। আর একইভাবে সকল মুসলমানদের উচিত জিহাদী জামাআত বা দলগুলোর মাঝে যেটি সবচাইতে পুরনো সেটির সাথে যোগদান করা। আর নতুন কোন জামাআত বা দলের প্রতি যদি কোন আনুগত্যের শপথ প্রদান করা হয়েও থাকে তবে সেটি বাতিল হয়ে যাবে, আর এক্ষেত্রে সেই নতুন জামাআত বা দলটি পুরনো জামাআত বা দলটির উপস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞাত না অজ্ঞাত ছিল তা বিবেচনা করা হবে না।

এর পক্ষে আমার দলিল হলো আবু হুরাইরা রাদিয়াআল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদীসটি: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

كانت بنوا إسرائيل تسوسهم الأنبياء كلما هلك نبي خلفه نبي، وإنه لا نبي بعدي وستكون خلفاء فتكثر». قالوا: فما تأمرنا؟ قال: «فوا ببيعة الأول فالأول، وأعطوهم حقهم، فإن الله سائلهم عما استرعاهم
“বনী ইসরাইলের মানুষেরা নবীগণের দ্বারা শাসিত ও দিক নির্দেশনা প্রাপ্ত হতো। যখনই একজন নবী ইন্তেকাল করতেন, অপর কোন নবী তখন তাদের দায়িত্বে নিযুক্ত হতেন। আর নিশ্চয়ই, আমার পরে কোন নবী নেই, তবে খলীফা আছে যাদের সংখ্যা অনেক হবে।” সাহাবাগণ রাদিয়াআল্লাহু আনহুম জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে আপনি আমাদেরকে তখন কি করার আদেশ দেন?” তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সর্বপ্রথম জনের বায়াতের দাবি পূর্ণ করো, তারপর যে সর্বপ্রথম তার। আর তাদের অধিকার আদায় করবে, কারণ আল্লাহ তাদেরকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবেন যে ব্যাপারে তিনি তাদেরকে দায়িত্বশীল করেছেন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

আর এই হাদীসটিকেই আমি যা বলছি তার পিছনে দলিল হিসেবে ব্যবহার করছি, কারণ ঠিক যে কারণে অসংখ্য খলীফার উপস্থিতি শরীয়তে একটি হারাম বা অবৈধ বিষয়, ঠিক সেই একই কারণে একাধিক (জিহাদকারী) দলের উপস্থিতিও শরীয়তে একটি হারাম বা অবৈধ বিষয় – আর সে কারণ হলোঃ মুসলমানদের ঐক্য রক্ষা করা। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কারণটিকে একাধিক হাদীসে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন। এর মাঝে অন্যতম একটি হাদীস হলো ইমাম মুসলিম থেকে প্রাপ্ত হাদীস, যা আরজাফাহ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إنه ستكون هَنَات وهَناتٌ، فمن أراد أن يفرق أمر هذه الأمة وهى جميع فاضربوه بالسيف كائنا من كان
“ভবিষ্যতে ফিৎনা দেখা দিবে, এবং তা আরও বেশী পরিমাণে দেখা দিতে থাকবে। সুতরাং, যদি কেউ এই উম্মাতের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে যখন কিনা সমগ্র উম্মাহ্* ঐক্যবদ্ধ আছে, তবে তাকে তরবারির দ্বারা আঘাত করো সে যেই হোক না কেন।”
এছাড়া তিনি আরও বর্ণনা করেছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

من أتاكم وأمركم جميع على رجل واحد يريد أن يشق عصاكم أو يفرق جماعتكم فاقتلوه
“তোমরা যখন এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির অধীনে তোমাদের সকল বিষয়াদি অর্পন করে একতাবদ্ধ থাকো, তখন যদি কোন ব্যক্তি এসে তোমাদের মাঝে বিভক্তি ও বিভাজনের বীজ বপন করতে উদ্যত হয়, তবে তাকে হত্যা করো।”
এছাড়াও আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إذا بويع لخليفتين فاقتلوا الآخر منهما
“যদি দুইজন খলীফাকে আনুগত্যের বায়াত প্রদান করা হয়, তবে সেই দু’জনের মাঝে পরবর্তীজনকে হত্যা করো।”
সুতরাং, এই হাদীসগুলো লক্ষ্য করুন, যেখানে পরে বায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হত্যা করতে বলা হচ্ছে। আর ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন,

إذا لم يندفع شَرُّه إلا بقتله فإنه يقتل وإن كان أفضل من الخليفة الأول، فإن ظهور الفاضل لا يُبطل بيعة المفضول المنعقدة
“আর যদি তার (যাকে পরে বায়াত দেয়া হয়েছে) সৃষ্ট এই সমস্যাটিকে সমাধানের জন্য তাকে (যাকে পরে বায়াত দেয়া হয়েছে) হত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় না থাকে, তবে তাকে হত্যা করা হয়, এমনকি যদিও সে প্রথম খলীফার থেকে গুণাবলীতে উৎকৃষ্ট হয়ে থাকে, কারণ পরে উৎকৃষ্ট গুণাবলীর খলীফার আবির্ভাব হওয়া পূর্বের অপেক্ষাকৃত কম গুণাবলী সম্পন্ন খলীফার সাথে কৃত আনুগত্যের বায়াতকে নষ্ট করে দেয় না”। (সহীহ মুসলিম বি শারহুন নববী)

আর বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নিজেকে খলীফা হিসেবে দাবি করে আসা দ্বিতীয় ব্যক্তিটিকে হত্যা করা অবশ্যই উম্মাতের জন্য একটি ক্ষতি ও ফিৎনা, কারণ এক্ষেত্রে এমন একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হচ্ছে যে ব্যক্তি খলীফা হবার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলীর অধিকারী হয়েই খলীফা হবার দাবি করছে। কিন্তু এরপরও এমন ব্যক্তিকে হত্যা করতে বলা হচ্ছে যেন এর চাইতেও বড় ক্ষতিকর জিনিস থেকে উম্মাহকে রক্ষা করা যায়, তা হচ্ছে উম্মাতের মাঝে বিভক্তির সৃষ্টি। আর এর থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, ইসলামী শরীয়তে মুসলমানদের ঐক্য রক্ষা করা কেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এটা এমন একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত যেখানে অনেক ফিকহী কায়েদা (মূলনীতি) প্রয়োগের উদাহরণ মিলে। এর মাঝে অন্যতম উসুল হলো:
يُتَحمل الضرر الخاص لدفع الضرر العام
“সাধারণ ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য বিশেষ ক্ষতি সহ্য করা যায়,”
الضرر الأشد يُزال بالضر الأخف
“অপেক্ষাকৃত অল্প ক্ষতির মাধ্যমে বড় ক্ষতিকে দূর করা হয়” এবং
إذا تعارض مفسدتان روعي أعظمهما ضررا - تمُنع - بارتكاب أخفهما
“যখন দুইটি ক্ষতির যেকোন একটি অবধারিত, তখন অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকে গ্রহণ করে বড় ক্ষতিকে দূর করা হয়” এবং

يُختار أهون الشرين
“অপেক্ষাকৃত অল্প ক্ষতিকে নির্বাচন করতে হয়”

ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি পূর্বে উল্লেখকৃত আবু হুরাইরা রাদিয়াআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসটির শরাহতে বলেছেন, “...... আমার পরে কোন নবী নেই, তবে খলীফা আছে যাদের সংখ্যা অনেক হবে।” সাহাবাগণ রাদিয়াআল্লাহু আনহুম জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে আপনি আমাদেরকে তখন কি করার আদেশ দেন?” তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “সবচেয়ে পুরনো (খলীফার নিকট কৃত) আনুগত্যের বায়াতের দাবি পূর্ণ করো, তারপর যে সবচেয়ে পুরনো তার।......” তিনি বলেছেনঃ “এই হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি মুজেযা। আর এই হাদীসের অর্থ হলো, যদি একজন খলীফাকে বায়াত দেয়ার পরে অপর একজন খলীফার নিকট বায়াত দেয়া হয়, তবে প্রথোমক্ত খলীফার প্রতি প্রদানকৃত বায়াত অক্ষুন্ন থাকবে এবং সেটার অধিকার আদায় করা বাধ্যতামূলক হবে, আর দ্বিতীয় খলীফার প্রতি প্রদানকৃত বায়াত বাতিল হয়ে যাবে এবং এটির প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয়ে কাজ করাও হারাম হিসেবে গণ্য হবে। আর সেই সাথে দ্বিতীয় খলীফার দিকে আহবান করাও অবশ্যই হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত হবে। এবং, দ্বিতীয় খলীফাকে আনুগত্যের বায়াত দেয়ার কাজটি প্রথম খলীফার উপস্থিতি সম্পর্কে জেনে হোক কিংবা না জেনে হোক, দ্বিতীয় খলীফা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এভাবে খলীফা হিসেবে ঘোষিত দুইজন ব্যক্তি যদি দুইটি পৃথক ভূখন্ডে থাকেন কিংবা একই ভূখন্ডে থাকেন, বিষয়টি অবশ্যই এরূপই থাকবে”। (সহীহ মুসলিম বি শারহুন নববী, ১২/২২১-২২২)

ইমাম মাওয়ারদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাব “আহকামুস সুলতানিয়্যাহ্*” এর ৯ নং পাতায় বলেছেন,

والصحيح في ذلك أن الإمامة لأسبقهما بيعة وعقدا
“এই ব্যাপারে সঠিক মত হলো, ইমামত বা নেতৃত্ব শুধুমাত্র তারই হবে যার কাছে সবার পূর্বে আনুগত্যের বায়াত দেয়া হয়েছে এবং সকলে এর ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে”।

ইমাম আবু ইয়ালা রহমতুল্লাহি আলাইহি তার (একই শিরোনামের) কিতাব “আহকামুস সুলতানিয়্যাহ্*” এর ২৫ নং পাতায় বলেছেন,

وإن كان العقد لكل واحد منهما على الانفراد نظرت، فإن عُلِمَ السابق منهما بَطل عقد الثاني
“আর যদি দুইজন ব্যক্তির প্রতি পৃথক দুইটি মুসলমান জনগোষ্ঠী পৃথকভাবে আনুগত্যের শপথ প্রদান করে থাকে, তবে এই ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে যে, কার নিকটে প্রথমে বায়াত প্রদান করা হয়েছিল, আর এটি জানার পর দ্বিতীয়জনের প্রতি কৃত বায়াত বাতিল হিসেবে গণ্য হবে”।

আর এসব কারণেই আমি একাধিক দল বা জামাআতের উপস্থিতিকে নিষেধ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। কারণ, একাধিক দল বা জামাআতের উপস্থিতির ফলাফলস্বরূপ যা আসে তা হলো, মুসলমানদের একতার মাঝে বিভক্তির সৃষ্টি, মুসলমানদের শক্তি ও সামর্থ্যের ধ্বংস, এবং অনেকগুলো দলের উৎপত্তি যেগুলো একে অপরের প্রতি শত্রুতা ও ঘৃণা পোষণ করে। আর এই সকল ভয়ংকর দুর্বলতার সাথে যদি আমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের দিবা-রাত্রি চক্রান্তের বিষয়টা যোগ করি, তাহলে দেখা যায় যে, মুসলমানদেরকে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ করার জন্য সকল উপাদানই পূর্ণ হয়ে যায়। আর এটাই হলো বর্তমানে মুসলমানদের অবস্থা।

আর সম্মানিত পাঠক/পাঠিকা হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে, একাধিক খলীফার উপস্থিতির সাথে কিয়াস করে আমি এখানে একাধিক দল বা জামাআতের উপস্থিতিকে নিষেধ বলিনি। এর কারণ হলো, এখানে এইভাবে কিয়াস করা সঠিক হবে না কারণ, একজন খলীফা আর এসব জামাআতের একজন আমীর একই রকম নয়। আর এখানে বিষয়টি হচ্ছে সাধারণভাবে মুসলমানদের কল্যাণ সাধন যা খলিফার সাথে খাস, খলিফা ছাড়া অন্য কোন আমীর এর ব্যাপারটি এরকম নয়। তাই এখানে ইল্লত (কিয়াসের কার্যকরণ) যথাযথ না হওয়ার কারণে আমি সরাসরি এই কিয়াস করিনি।

কিন্তু, আমি এই হাদীসটিকে “...সবচেয়ে পুরনো (খলীফার নিকট কৃত) বায়াতের দাবি পূর্ণ করো, এভাবে এরপর সবচেয়ে পুরনো এর ......” দলীল হিসেবে নিয়েছি এই নির্দেশের ক্ষেত্রে শরীয়াতের উদ্দেশ্যকে (মাকাসিদ) সামনে রেখে অর্থাৎ মহাআইনপ্রণেতা আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। কারণ যখন কোন বিষয়ের ব্যাপারে সরাসরি কোন নস্* (আয়াত/হাদিস) পাওয়া যায় না, তখন সে ব্যাপারে শরীয়াতের হুকুম বের করার জন্য এই ব্যাপারটিকেই (মাকাসিদুস শারীয়াহ) সামনে রাখতে হয়।

আর একাধিক খলীফার উপস্থিতিকে হারাম ঘোষণা করার পিছনে মহাআইনপ্রণেতার উদ্দেশ্য হলো উম্মাতের একতাকে রক্ষা করা, আর এই কারণটিকেই আমরা ব্যবহার করে বলেছি যে, একাধিক জামাআত বা দলের উপস্থিতি নিষেধ এবং নতুন জামায়াতগুলিকে সবচেয়ে পুরাতন জামায়াতের সাথে যোগ দিতে হবে কারণ একাধিক জামায়াত হলে বিভিন্ন রকমের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় যা কারো নিকট গোপন নয়।

ইমাম শাতিবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, “কোন একটি কাজের ফলাফল বা পরিণতি কি হতে পারে তা ইসলামী শরীয়তে খতিয়ে দেখা হয়, কাজটি হালাল হোক কিংবা হারামই হোক না কেন। আর একজন মুজতাহিদ যখন মুকাল্লিফীনদের (যাদেরকে শরীয়তে দায়িত্বশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়) দ্বারা কৃত যেকোন কাজের ব্যাপারে ফয়সালা করেন, তা করা হোক অথবা তা করা থেকে বিরত থাকা হোক, তখন তিনি এই কাজের ফলাফল কি হতো তা নিয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করেন।” (মুয়াফাকাত ফি উসুলুশ শরীয়াহ, ৪/১৯৪)

তিনি এরপর দলিল দিয়ে প্রয়াণ করেন যে, শরীয়তের নীতিমালার উপর ভিত্তি করে কোন কাজের ব্যাপারে ফয়সালা করার সময় সেই কাজের ফলাফলের কথাও অবশ্য বিবেচ্য বিষয়রূপে গণ্য হবে।

আমি ইতিমধ্যে একাধিক দলের ব্যাপারে যা বলেছি – পরবর্তী দলগুলো সবচেয়ে পুরাতন দলে যোগ দেয়ার বাধ্যবাধকতা - এটি একটি বুনিয়াদী বিষয় (আস্*ল) হিসেবে গ্রহণ করা উচিত যার উপর আমল করা হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোন ধরনের বিষয়কে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক হবে না। যেমন: সেই দলের সদস্য সংখ্যা, ইলমের আধিক্য ইত্যাদি কারণ এগুলো সবই খুব দুর্বল পর্যায়ের মাপকাঠি। উদাহরণস্বরূপ, যদি সদস্য সংখ্যার আধিক্যের ভিত্তিতে এই বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে এই জামাআত বা দলের পরে অপর একটি জামাআত বা দলের উৎপত্তি হওয়া খুবই সম্ভব যেটি সংখ্যাধিক্যে বর্তমান জামাআত বা দলকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এমনটি হওয়াও খুবই সম্ভব যে, একটি জামাআত বা দলে যে সংখ্যক উলামা বিদ্যমান ছিল তার পরে অপর একটি জামাআত বা দলের উৎপত্তি হয়েছে যেটিতে পূর্বের জামাআত বা দলটির চাইতেও অধিক সংখ্যক উলামা (যারা ইলমে পূর্বেরটির চাইতে অগ্রসর) রয়েছেন। সুতরাং, এগুলো সবই খুব নড়বড়ে ও দুর্বল মাপকাঠি, আর অপরদিকে শরীয়তের হুকুম হতে হবে সুনির্দিষ্ট। তাই আমরা বলি যে, কোন আমীর ও জামাআতের প্রতি আনুগত্য করতে হবে তা যে বিষয়টির ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে তা হলো “প্রবীণতা”, কারণ এটি হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা শরীয়ত থেকে প্রাপ্ত এবং যা সুনির্দিষ্ট ও সূক্ষ্ম, আর এটি মহান আল্লাহ তাআলার উল্লেখকৃত কথার “পূর্ববর্তীতা ও অগ্রবর্তীতা” এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন যেখানে তিনি বলেছেন,

لَا يَسْتَوِي مِنكُم مَّنْ أَنفَقَ مِن قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُوْلَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِّنَ الَّذِينَ أَنفَقُوا مِن بَعْدُ وَقَاتَلُوا
...তোমাদের মধ্যে যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে, তারা তাদের সমান নয় যারা পরে তা করেছে। তারা মর্যাদায় তাদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যারা পরবর্তীকালে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে... (সূরা হাদিদ, আয়াতঃ ১০)

তবে যে পূর্ববর্তী দলের প্রতি আনুগত্য করা হবে সেটি অবশ্যই শরীয়তের মূল নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে,[১] আর সেটির অবশ্যই এর প্রয়োগের ব্যাপারে সত্যবাদী হতে হবে। আর যদি এই ব্যাপারে বিতর্ক থাকে যে, কোন দল পূর্ববর্তী তবে এই বিতর্ক নিরসনের জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করতে হবে। আর এটি একাধিক দল ও বিভক্তি যা কিনা মুসলমানদের শক্তিকে দুর্বল করে দেয় তা বন্ধ করতে সাহায্য করে। আর এই রকম বিপর্যয়ের ব্যাপারে শরীয়তের থেকে কোন সমাধান থাকবে না তা একটি অসম্ভব ব্যাপার, কারণ মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ
...অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে কোন মতবিরোধ হয় তবে আল্লাহ ও রাসূলের দিলে প্রত্যাবর্তিত হও... (সূরা নিসা, আয়াতঃ ৫৯)

আর এটি একটি সাধারণ (আম) ঘোষণা, আর এটি সর্বপ্রকারের মতবিরোধকে অন্তর্ভুক্ত করে।
যেকোন একটি দেশে একাধিক (জিহাদকারী) দলের উপস্থিতির ব্যাপারে এই হলো আমার কথা। আর যদি একাধিক দেশ থাকে, তাহলে দেশের সংখ্যা অনুযায়ী একাধিক দল থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়। ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি ‘তাইফাতুল মনসুরাহ’ এর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেনঃ

ولا يلزم أن يكونوا مجتمعين بل قد يكونون متفرقين في أقطار الأرض
“এটা জরুরী নয় যে, তারা সবাই একসাথে থাকবে, বরং তারা পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারে”। (সহীহ মুসলিম বি শারহুন নববী, ১৩/৬৭)

এখন যদি এই রকম একাধিক দেশে একাধিক জিহাদকারী দল থাকে, আর যদি একটি দল কোন দেশ এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, আর সেখান থেকে যদি মুসলমানদের জন্য একজন ইমামের আবির্ভাব হয়, তাহলে অন্যান্য জিহাদকারী দলের জন্য এটা ওয়াজিব হবে যে, তারা ঐ ইমামের আনুগত্য করবে এবং তার কাছে হিজরত করে চলে যাবে যাতে তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে এবং তার কর্তৃত্বকে আরো শক্তিশালী করতে পারে। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেনঃ

ومن غلب عليهم بالسيف حتى صار خليفة، وسُمي أمير المؤمنين، فلا يحل لأحد يؤمن بالله واليوم الآخر أن يبيت ولا يراه إماما

“আর যে কেউ তাদেরকে তলোয়ারের মাধ্যমে পরাজিত করে, এবং সে খলিফা হয়ে যায়, এবং তাকে ‘আমিরুল মুমিনীন’ বলা হয়, তাহলে আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান রাখে এমন কারো জন্য বৈধ নয় যে, তাকে ইমাম হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে একটি রাতও কাটানো”। (ইমাম আবু ইয়ালা রহমতুল্লাহি আলাইহি রচিত আহকামুস সুলতানিয়া, পৃষ্টাঃ ২৩)

আর ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এই কথার উপর ইবনে বাত্তাল রহমতুল্লাহি আলাইহি ইজমা উল্লেখ করেছেন। (ফাতহুল বারী, ১৩/৭)
আমি বলি, একই দেশে একাধিক (জিহাদকারী) দল থাকা সঠিক নয় কিন্তু দেশের সংখ্যা অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন (জিহাদকারী) দল থাকতে পারে। যদিও এই ক্ষেত্রেও ঐক্য অধিক উপযোগী (الأولى)।

কিন্তু যদি পরিস্থিত কারণে এটা (বিভিন্ন দেশের জিহাদকারী দলের ঐক্য) সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত তারা অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতির কাজে একে অন্যকে সাহায্য করতে পারে। এবং কোন দল যদি তাদের দেশে পরিবর্তন আনয়ন করা অসম্ভব হিসেবে পায়, তাহলে তাদেরকে হিজরত করতে হবে। (যেভাবে কাজী ইয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন। দেখুনঃ সহীহ মুসলিম বি শারহুন নববী, ২/২২৯) এবং এই দলকে অবশ্যই এমন দেশে হিজরত করতে হবে যে দেশে ইসলামিক শরীয়াত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদি না শক্তিশালী দলের আমীর (যে দেশে শরীয়াত বিজয়ী হবার সম্ভাবনা বেশী) দূর্বল দলের আমীরকে কোন শরয়ী কারণে তাদের নিজেদের দেশে থাকার নির্দেশ দেন যেমনঃ দাওয়াত প্রদান ইত্যাদি যেভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু জার রাদিয়াআল্লাহু আনহুকে নিজ এলাকায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (সহীহ বুখারী, হাদিসঃ ৩৮৬১) যদি কোন দল কোন দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, এবং মুসলিমদের মধ্য থেকে একজন ইমামের আবির্ভাব হয়, তাহলে তাদের সকলের উপর ফরজ হয়ে যায় তার কাছে হিজরত করা ও তাকে সমর্থন করা ও তার আনুগত্য করা। আমার মতে, এটাই সঠিক পথ আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পূর্ববর্তী যে দলে যোগ দিতে হবে, তা হতে হবে সত্যের উপর প্রতিষ্টিত, যারা ইসলামী শরীয়াতকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে আছে, এর উপর আমল করছে এবং শরীয়াতকে অন্যান্য বাতিল দ্বীনের উপর বিজয়ী করার জন্য জিহাদ করছে। যে সকল দল আল্লাহর আইনের সাথে খেল-তামাশা করে যেমনঃ যারা গণতন্ত্রের শিরকের মাধ্যমে ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে চায় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ সংসদে গিয়ে দ্বীন কায়েম করতে চায় এবং এরকম আরো কিছু দল যারা ইসলামের দিকে দাওয়াত দানকারী হিসেবে পরিচিত এসব দল এই হিসাবের বাইরে।
(অনুবাদ সমাপ্ত)
[১] লেখকের “ঈমানী প্রস্তুতি” এর মাঝে “কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার মূলনীতি অধ্যায়ে” বিস্তারিত

সারমর্মঃ
ক) যদি কোন দল কোন দেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, এবং মুসলিমদের মধ্য থেকে একজন ইমামের আবির্ভাব হয়, তাহলে তাদের সকলের উপর ফরজ হয়ে যায় তার কাছে হিজরত করা ও তাকে সমর্থন করা ও তার আনুগত্য করা। এখন তিনি যদি হিজরত না করে কোন মুসলিমদের তাঁদের নিজ দেশে থেকে দ্বীনি কাজ আঞ্জাম দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে সেই মুসলিমদের সেটাই করা উচিত। এই নিরিখে বর্তমান বিশ্বের মুজাহিদদের উচিত আফগানিস্তান ইসলামিক ইমারাতের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তাঁর অধীনে কাজ আঞ্জাম দেওয়া। এই ইমারতের আন্তর্জাতিক মুজাহিদদের সমন্বয়ের কাজটি করছে তাঞ্জীম আল-কায়েদা। আর এমন ইমারত না থাকা অবস্থায় বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী জিহাদকারী জামায়াতগুলোর মাঝে ঐক্য থাকা উত্তম। লেখক যেই সময়ে (আশির দশকে) লেখাটি তৈরি করেন তখন সেরকম কোন ইমারাত না থাকাই উনি আরও জটিল অবস্থায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরের পয়েন্ট গুলোতে সেগুলোর সারমর্ম আনা হল।

খ) একই দেশে মুজাহিদীনদের একাধিক জামায়াত থাকা শরীয়াতের দৃষ্টিতে হারাম। কারণ একাধিক দলের উপস্থিতি মুসলমানদের শক্তিকে খর্ব করে। এই ক্ষেত্রে করণীয় হলোঃ সবচেয়ে পুরাতন জিহাদকারী জামায়াতের সাথে অন্যান্য জামায়াত মিলে যাবে। এক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা, দলে আলেমের সংখ্যা ইত্যাদি কোন মাপকাঠি হবে না। পুরাতন জিহাদকারী এই জামায়াতকে অবশ্যই শরীয়তের মূল নীতিমালার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে আর অবশ্যই এর প্রয়োগের ব্যাপারে সত্যবাদী হতে হবে।

গ) যদি এই ব্যাপারে বিতর্ক থাকে যে, কোন দল পূর্ববর্তী তবে এই বিতর্ক নিরসনের জন্য একজন মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করতে হবে।

ঘ) সকল মুসলমানদের উচিত জিহাদী জামাআত বা দলগুলোর মাঝে যেটি সবচাইতে পুরনো সেটির সাথে যোগদান করা। আর নতুন কোন দলের প্রতি যদি কোন বায়াত প্রদান করা হয়েও থাকে তবে সেটি বাতিল হয়ে যাবে, আর এক্ষেত্রে সেই নতুন দলটি পুরনো দলটির উপস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল নাকি না অজ্ঞাত ছিল তা বিবেচনা করা হবে না।...Collected

titumir
12-19-2015, 12:33 AM
জাযাকাল্লাহ অাখি! ইমারাহ ও বাইয়াহ নিয়ে এই অালোচনাটি অনেক গুরুত্বপুর্ণ।
কিন্তু অাইএস এর বিষয়টি সুধুমাত্র দ্বিতীয় ইমারাহ এর কারনে বাতিল নয় বরং এটি এমন একটি একদল যারা অাল্লাহর শরিয়তকে কলঙ্কিত করেছে, তাদের হাতকে মুসলিম ও মুজাহিদীনদের রক্তে লাল করেছে। তারা উম্মাতের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করেই খান্ত হয়নি উপরুন্তু তারা অাম ও খাস ভাবে মুজাহীদ অালেম ও সাধারন মুসলিমের তাকফির বা মুরতাদ ঘোষনা করেছে।
ফলে তাদের হাতে সাধারন মুসলিমরদপর চেয়ে সাধারন কাফেররা বেশি নিরাপদ।

সম্মানিত মুজাহিদ অালেমগন অাইএস এর এই গ্রুপটিকে এই উম্মাতের খাওয়ারিজ গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন যা অামরা এই ফোরাম ঘাটলেই বিস্তারিত তথ্য সহ পেতে পারি।

অাল্লাহ অামাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন।