PDA

View Full Version : আমাদের লাঞ্চনার কারণঃ দুনিয়ার প্রতি ভালো



RJ rahi islam
12-23-2015, 08:08 PM
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুল (সা.)
বলেছেন, শীঘ্রই মানুষ তোমাদেরকে আক্রমন
করার জন্য আহবান করতে থাকবে, যেভাবে
মানুষ তাদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য
একে-অন্যকে আহবান করে। জিজ্ঞেস করা
হলো, তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?
তিনি বললেন, না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে
অগণিত কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো
হবে, যাকে সহজেই সামুদ্রিক স্রোত বয়ে
নিয়ে যায় এবং আল্লাহ তোমাদের শত্রুর
অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন
এবং তোমাদের অন্তরে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে
দিবেন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর
রাসুল (সা.), আল-ওয়াহ্হান কি? তিনি বললেন,
দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং ক্বিতালকে
অপছন্দ করা। (মুসনাদে আহমদ, খন্ডঃ ১৪,
হাদিস নম্বরঃ ৮৭১৩, হাইসামী বলেছেনঃ
হাদিটির সনদ ভালো, শুয়াইব আল আরনাউতের
মতে হাদিসটি হাসান লি গাইরিহি)
সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছেঃ
ﺣُﺒُّﺎﻟْﺤَﻴَﺎﺓِﻭَﻛَﺮَﺍﻫِﻴَﺔُﺍﻝ ْﻣَﻮْﺕِ
দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং
মৃত্যুকেঅপছন্দ করা। (সুনানে আবু দাউদ ও
মুসনাদে আহমদ, হাদিস হাসান)
এই হাদিস নিয়ে একটু চিন্তা করলেই বুঝা
যায় আসলেই রাসুল (সা.)-কে অল্পকথায়
অনেক কথা প্রকাশ করার ক্ষমতা দেওয়া
হয়েছিলো। এখানে মাত্র কয়েকটি বাক্য
রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যেই মুসলিম উম্মাহর
বর্তমান অবস্থা, তাদের মূল সমস্যা এবং তার
সমাধান নিখুঁতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এই
হাদিস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো
সংক্ষিপ্তভাবে নীচে উল্লেখ করা হলো:-
প্রথমত :তোমাদেরকে আক্রমণ করার জন্য
লোকজন একে অন্যকে আহবান করবে,
যেভাবে খাবারের জন্য আহবান করা হয়।
সত্যিই বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ দলে দলে
বিভক্ত, আল-কুরআন ও সুন্নাহ হতে দূরে সরে
যাওয়ার কারণে। এই অবস্থায় দুনিয়ার
অন্যান্য জাতি, মুসলিম উম্মাহর উপর সরাসরি
আক্রমণ চালাচ্ছে এবং একে অন্যকে
আক্রমণের জন্য উৎসাহ দিচ্ছে যেমন : ইরাক,
আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন,
কাশ্মীর ইত্যাদি-সেটা তাদের আদর্শ
বাস্তবায়নের জন্য হোক অথবা খনিজ সম্পদ
দখলের জন্য হোক অথবা অর্থনৈতিক বাজার
দখল করার জন্য হোক।
কেউ আক্রমণ করছে সরাসরি আগ্রাসী
সেনাবাহিনী পাঠিয়ে, কেউবা কুটনৈতিক
(diplomacy) এর মাধ্যমে, কেউবা
আদর্শিকভাবে (ideologically), কেউবা সংবাদ
মাধ্যম, প্রিন্ট কিংবা ইলেকট্রনিক
মিডিয়ার মাধ্যমে, কেউবা তাদের আবিস্কৃত
শিক্ষা-ব্যবস্থা রপ্তানী করে তাদের
মানসিক দাস তৈরির প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
আর এক্ষেত্রে তারা গণতন্ত্র রক্ষা, মানবতা,
নারী-মুক্তি, শিশু-অধিকার, সবার জন্য
শিক্ষা, সামাজিক-উন্নয়ন ইত্যাদি বিভিন্ন
শব্দের মোড়কে তাদের কার্যক্রমকে ঢেকে
নিয়েছে।
বস্তুতঃ ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা ধ্বংস
করার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্ব মুসলিম
উম্মাহর উপর এই আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে
অনবরত, এটা যারাই আল-কুরআনে বর্ণিত
আনআম (গবাদি-পশু) এর মতো নয়, তারাই
জানেন ও বুঝেন।
দ্বিতীয় : তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?
তিনি বললেন, না, বরং তোমরা তখন অগণিত
হবে।
এখান থেকে বুঝা যায়, বেশি সংখ্যক হওয়া
ইসলামের কোন demand নয়। ইসলাম চায়
quality, সংখ্যা এখানে মূখ্য নয়। আল্লাহ
চেয়েছেন, তোমাদের মধ্যে কে আমলে
উত্তম (আমালুন সালিহান), এটা চাননি যে,
তোমাদের মধ্যে কে আমলে বেশি (আমালুন
কাছিরান)।
বদরের যুদ্ধে কাফিরদের সংখ্যা ছিলো
মুসলিমদের তিনগুণ। ইয়ারমুকের যুদ্ধে
কাফিররা ছিলো মুসলিমদের ৭০ গুণ। উভয়
যুদ্ধেই মুসলিমরা বিজয়ী হয়। অপরদিকে,
হুনায়ুনের যুদ্ধে মুসলিমদের সংখ্যা ছিলো
কাফিরদের চেয়ে বেশি। কিন্তু সে যুদ্ধে
তারা পরাজয়ের দাঁড় গোড়ায় পৌঁছে
গিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর
রহমতে বিজয় আসে। আফসোস, বর্তমান মুসলিম
উম্মাহ তাদের সংখ্যাধিক্যের statistics
নিয়ে ব্যস্ত, কোন ধর্ম সবচেয়ে বেশি গতিতে
বেড়ে চলেছে, কোনদেশে মুসলিম Growth rate
কত ইত্যাদি ব্যাপার নিয়ে তারা ব্যস্ত; কিন্তু
মুসলিমদের quality নিয়ে কোন চিন্তা হচ্ছে
না। অথচ আল্লাহ আল-কুরআনে বারবার
বলেছেন, বিজয় শুধুমাত্র তাঁর কাছ থেকে
আসে, আর তাঁর বিজয় দানের ওয়াদা শুধু
মুমিনদের জন্য।
তৃতীয়ত : তোমরা হবে সমুদ্রের ফেনা রাসির
মতো, যা স্রোতে সহজেই ভেসে যায়।
এটা হচ্ছে, বেশি সংখ্যক হওয়ার পরও মুসলিম
উম্মাহর এই অবস্থার বর্ণনা। সাগরের ফেনার
যেভাবে কোন শক্তি নেই, শুধু উপর থেকে
দেখতে অনেক মনে হয়, অন্যদিকে নিচের
পানির স্রোত তাকে যেদিকে ইচ্ছা নিয়ে
যায়। মুসলিম উম্মাহও সংখ্যায় বেশি, কিন্তু
কোন ক্ষেত্রেই তাদের কোন say নেই।
তাদের প্রতিটি দেশই সুদভিত্তিক অর্থনীতি
দিয়ে পরিচালিত, আল-কুরআন সুন্নাহ
বিবর্জিত পশ্চিমাবাদের আবিস্কৃত গণতন্ত্র-
সমাজতন্ত্র-পুঁজিবাদী-রাজনৈতিক ও
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাদের দেশগুলি
পরিচালিত হচ্ছে। আর ইসলামের গন্ডি
শুধুমাত্র মসজিদ ও কতিপয় পারিবারিক
আইনে সীমাবদ্ধ। এ যেন সংখ্যায় বেশি
হয়েও তারা Minority. কাফের-মুশরিক-ইস
লামের শত্রুরা ঔদ্ধত্যের সাথে আল্লাহ ও
তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে
কিন্তু মুসলিমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের
একটি কথাও বলতে পারে না। অথচ সমুদ্রের
ফেনা রাশির মতোই মুসলিম উম্মাহ ও
সংখ্যাধিক্য নিয়ে আনন্দিত, উল্লাসিত,
গর্বিত।
চতুর্থত : আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর
থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দিবেন এবং
তোমাদের মধ্যে আল-ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে
দিবেন।
এখান থেকে দুটি বিষয় প্রতীয়মান হয়।
ক.মুসলিমদের শত্রু আছে, মিত্র আছে। ইসলাম
কোন বৈরাগ্যবাদী ধর্ম নয়, কিংবা অহিংস
পরমধর্ম প্রকৃতির গৌতমীয় বাণীতে বিশ্বাস
করে না। বরং, ইসলামে ভালোবাসা ও ঘৃণা
(আন ওয়ালা ওয়াল বারা) একটি গুরুত্বপূর্ণ
concept। অনেক modernist এবং self-defeatist
মুসলিম যাদের মন-মগজ পশ্চিমা শিক্ষা-
ব্যবস্থা, ডিস, ইন্টারনেট প্রভৃতির মাধ্যমে
সঠিক ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে
গেছে, তারা যতই এ ব্যাপারটায় তাদের
বিদেশি বন্ধুদের কাছে অপ্রীতিকর অবস্থায়
পড়েন না কেন। আল্লাহর রহমত, তিনি আল-
কুরআন ও সহীহ হাদিসকে অবিকৃত রেখেছেন।
না হলে এরা ইসলামকে বিকৃত করে কোথায়
নিয়ে যেতো। আল্লাহ বলেন :
হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদ ও
নাসারাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না,
তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে
কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে
তাদের মধ্যেই গণ্য হবে। আল্লাহ
জালিমদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেন
না। (সুরা-মায়েদা : ৫১)
মুসলিমদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বাদ
দিয়ে, বিজাতীয় প্রভুদেরকে বন্ধু অভিভাবক
করে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
খ.মুসলিমদের উচিত তাদের শত্রুদেরকে ভীত
সন্ত্রস্থ রাখা। আর তাদের অন্তরে আমাদের
ভয় থাকাটাই normal scenario. যদি না থাকে,
বুঝতে হবে, কোন সমস্যা আছে। কারণ রাসুল
(সা.), আমাদের দুরবস্থার একটি কারণ
হিসেবে তাদের মনে, আমাদের ভয় না
থাকাকে উল্লেখ করেছেন।
আর আল্লাহ তো পবিত্র কুরআনে ঘোষণাই
দিয়েছেন, যা বেশির ভাগ মুসলিম দেশের
সেনাবাহিনী তাদের কুচকাওয়াজে না বুঝে
যন্ত্রের মতো পাঠ করে থাকে।
আর তাদেরকে মুকাবিলা করার জন্য
যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী সদা প্রস্তুত
রাখবে যদ্দ্বারা তোমরা ভয় দেখাতে
থাকবে আল্লাহর শত্রু আর তোমাদের শত্রুকে,
আর তাদের ছাড়াও অন্যান্যদেরকেও
যাদেরকে তোমরা জান না কিন্তু আল্লাহ
তাদেরকে জানেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা
খরচ করো তার পুরোপুরি প্রতিদান
তোমাদেরকে দেওয়া হবে, আর তোমাদের
সাথে কখনো জুলুম করা হবে না। (সুরা-
আনফাল : ৬০)
তাই কাফিরদের মনে ভয়-ত্রাস সৃষ্টি করা
মুসলিমদের উপর আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ। কে
আছে এমন যে আল্লাহর এই হুকুমকে অস্বীকার
করতে পারে। আর এক্ষেত্রে মুসলিমরা শুধু
চোরের কাছে পুলিশ যে রকম ত্রাস সৃষ্টি
করে যা ডা. জাকির নায়েক বলে থাকেন,
সে রকম ত্রাস সৃষ্টিকারী নয়, বরং সুলায়মান
(আ.) যেভাবে কোন প্রকার ভয়, problem
ছাড়াই বিলকিসের রাজত্বে ত্রাস সৃষ্টি
করেছিলেন সে রকমও ত্রাস সৃষ্টিকারী।
এটা ছিলো, আমাদের প্রথম সমস্যা, আর
দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, আল্লাহ আমাদের
মাঝে ওয়াহ্হান ঢুকিয়ে দিবেন।
পঞ্চমত :জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর
রাসুল (সা.), ওয়াহ্হান কি? তিনি জবাব
দিলেন, দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা এবং
ক্বিতালকে অপছন্দ করা অথবা মৃত্যুকে
অপছন্দ করা।
আমাদের দ্বিতীয় সমস্যা, ওয়াহ্হান হচ্ছে,
দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা। ক্বিতাল ও
মৃত্যুকে অপছন্দ করা। আর এটা হবে, তখনই যখন
আমরা জান্নাত-জাহান্নাম থেকে চোখ
ফিরিয়ে দুনিয়ার দিকে মনযোগ দিবো।
অনেক ইসলামপন্থীদের জন্য, আল্লাহর উপর
ভরসা হারিয়ে কিংবা নিজের কৌশল,
ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির উপর অত্যাধিক
ভরসা করতে দিয়ে আল্লাহর দেয়া সীমা
লংঘন করা, সুন্নাহের বিরোধিতা করা, কোন
কোন ক্ষেত্রে apparently ইসলামের basic
দাওয়াত, শিক্ষা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া,
হেকমত, পরিস্থিতির প্রয়োজন কিংবা
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ইত্যাদি শব্দের
আড়ালে এসবই আল ওয়াহ্হানের ফসল। আর
বাকি যারা আছেন তাদের ব্যাপারে আল্লাহ
তাআলা বলেন :
তুমি কি তাকে দেখ না যে তার খেয়াল
খুশিকে ইলাহরুপে গ্রহণ করেছে?
এর পরেও কি তুমি তার কাজের জিম্মাদার
হতে চাও? (সুরা-ফুরকান : ৪৩)
উপরে বর্ণিত নফসের দাস এবং গবাদি-পশুর
মতো লোকজন; তাদের ব্যাপারতো বলাই
বাহুল্য। আসলেই, তাদের শৈশব, কৈশোরে,
পড়ালেখা করে চাকরি নেওয়া, টাকা আয়
করে পরিবারের ভরণ পোষণ করা, বিয়ে করে
পরবর্তী বংশধর উৎপাদন করা, বৃদ্ধ হয়ে মারা
যাওয়ার মধ্যে গবাদি-পশুর সাথে অনেক মিল
পাওয়া যায়। গবাদি পশুর মতোই, এই দুনিয়াই
তাদের ultimate লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
আল্লাহ ও তাঁর রাসুল, ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ,
জান্নাত-জাহান্নাম এসব কিছুই তাদেরকে
এক চুল ও নাড়াতে পারে না বরং তাদের TV
সিরিয়াল কিংবা অফিসের বসে মনের ইচ্ছা
বহুগুণ বেশি move করায়। টাকা আয়, খাওয়া-
দাওয়া, বিয়ে-শাদি, মৃত্যু ছাড়া তাদের
জীবনে আর কোন চাওয়া-পাওয়া,
ভালোবাসা, aim, vision নেই। অথচ তারা
মুসলিম। আল্লাহ, ইসলাম ও মুসলিমদেরকে এই
গবাদি-পশুর আজাব থেকে রক্ষা করুন।
আর মৃত্যুকে ভয় মানুষ তখনই পায়, যখন তার
জন্য প্রস্তুতি কম থাকে। আর মৃত্যুর জন্য
প্রস্তুতি কম থাকা মানেই মুসলিম হিসেবে
আমরা আমাদের করণীয়গুলো যথাযথভাবে
করছি না, হয়তো আমরা ইসলামের কিছু কিছু
নিয়ম-কানুন, রসুমাত-রেওয়াজ পালন করি,
কিন্তু নিজের জীবনে ইসলামকে ধারণ
করিনি, ইসলাম আমাদের জীবনের Mission and
Vision হয়ে উঠেনি-যা মুসলিম মাত্রই হওয়ার
কথা ছিলো।
আর আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারটিই কুরআনে
বলেছেন : তাহলে কি তোমরা কিতাবের
কিছু অংশকে বিশ্বাস করো এবং কিছু
অংশকে প্রত্যাখ্যান করো? অতএব তোমাদের
যারা এমন করে তাদের পার্থিব জগতে
লাঞ্ছনা ও অবমাননা ছাড়া আর কী
প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামাতের
দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত
হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ
গাফেল নন। (সুরা-বাক্বারা : ৮৫)
যখন থেকে আমরা মৃত্যুকে মনে করবো-তা
আমাদের আমল ঘর জান্নাতের প্রবেশ দ্বার,
যখন থেকে আমরা এই দুনিয়াকে নিজের জন্য
জেলখানা মনে করবো, কিংবা মনে করবো
কোন transit camp শুধু কিছুক্ষণ অপেক্ষা
করছি, কিংবা যখন থেকে আমরা আল্লাহর
রাস্তায় ক্বিতালকে আমাদের লাঞ্চনা
থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে জানবো,
তখন আমরা এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবো
ইনশাআল্লাহ।
ষষ্টত :উপরোক্ত দুটি সমস্যার সমাধান, এমন
কি মুসলিম উম্মাহর সকল সমস্যার সমাধান
রয়েছে রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসের
মধ্যে। তিনি বলেছেন :
যখন মানুষ দিনার এবং দিরহামের মধ্যে ডুবে
যাবে, এবং যখন ঈনা নামক (সুদী) ব্যবসায়
জড়িত হয়ে যাবে, আর গরুর লেজ-এ সন্তুষ্ট
হয়ে যাবে এবং জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ
ছেড়ে দিবে, আল্লাহ তাদের উপর লাঞ্চনা
চাপিয়ে দিবেন, তিনি তা উঠিয়ে নিবেন না,
যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনে ফিরত না
যাবে। [হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম
আহমদ (২/২৮), তাবরানী (১২/৪৩৩), বায়হাকী
(শুয়াবুল ঈমান ৭/৪৩৪), আবু ইয়ালা (১০/২৯), আবু
নাঈম (১/৩১৩)।]
তাই আমাদের সমস্যা কোন টাকা-পয়সার,
technology, business এর কমতি নয়, গরুর লেজ
অর্থাৎ agriculture-এর কমতি নয়, যা অনেক
তথাকথিত ইসলামী বুদ্ধিজীবীরা মনে করে
থাকেন। বরং আমাদের সমস্যা অন্য কোথাও।
আমাদের লাঞ্চনার কারণ জিহাদ ফি
সাবিলিল্লাহ ছেড়ে দেয়া, ক্বিতাল করতে
গিয়ে আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যুকে ভয় করা আর
দুনিয়ার জীবনকে আখিরাত থেকে বেশী
ভালোবাসা।
আর তার সমাধান হচ্ছে, পরিপূর্ণভাবে আল-
কুরআন ও সুন্নাহ তথা আল্লাহর দ্বীনে ফেরত
আসা। হে আল্লাহ আমাদের মন থেকে আল
ওয়াহ্হান দূর করে দিন এবং আমাদের
শত্রুদের মনে আমাদের ভয় সৃষ্টি করে দিন
এবং আমাদেরকে আপনার দ্বীন ইসলামে-যা
একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনব্যবস্থা, একমাত্র
গ্রহণযোগ্য Ideology ,একমাত্র গ্রহণযোগ্য
আইন-বিধান-শিক্ষা ও আদর্শ, তাহজীব
তমদ্দুন-এ পরিপূর্ণভাবে ফিরে যাওয়ার
তওফীক দিন। আমীন।
(সংগৃহীত

power
12-24-2015, 12:00 AM
AS SALAMU ALAIKUM

BROTHER RJ rahi islam

JAJAK ALLAH KHAIR FOR THIS USEFUL POST.

PLEASE EDIT THE POST. GIVE IT PARAGRAPH STYLE.

MAY ALLAH HELP US. AMEEN