PDA

View Full Version : আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ মুজাহিদদের প্&#



salahuddin aiubi
12-24-2015, 10:27 AM
আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ মুজাহিদদের প্রতি কতিপয় উপদেশ

بسم الله الرحمن الرحيم

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দুরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের উপর। তার পরিবারবর্গ, সাহাবা ও যারা তার সাথে বন্ধুত্ব রাখে তাদের উপরও।
এই কয়েকটি উপদেশ ঐসকল মুজাহিদ ভাইদের প্রতি, যারা আফগান মুজাহিদবাহিনীর অন্তর্ভূক্ত, অথবা যারা স্বীয় ভাইদের সাথে শরীক হতে অচিরেই আফগানবাহিনীর অন্তর্ভূক্ত হবেন।
প্রিয় ভাইদেরকে অবগত করছি, আমি এখানে যেসমস্ত শরয়ী মাসআলাসমূহ আলোচনা করবো, তার প্রতিটি কথার পক্ষেই আলেমদের উদ্ধৃতি ও শরয়ী দলীল রয়েছে, কিন্তু কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় সেগুলো এখানে আনিনি। তাই আপনি প্রশান্তমনে এগুলো গ্রহণ করতে পারেন।
আমরা আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য আল্লাহর নিকট সঠিকের দিকনির্দেশনা, তারতাওফীক, কথা ও কাজের সংশোধন এবং তার গ্রহণযোগ্যতা প্রার্থনা করি।
প্রথমত: প্রতিটি সম্মানিত ভাইয়ের জানা আবশ্যক যে, আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ পরিবেশ-পরিস্থিতি পূর্বের মারকাযগুলোর যে পরিবেশ-পরিস্থিতি ছিল তা থেকে ভিন্নতর হবে। চাই স্থীতিশীলতার ঘাটতি, খাদ্যসংকট বা কখনো স্থির মারকাযের অভাবই হোক, অথবা অন্য যেকোন পরিস্থিতি হোক। এ হিসাবে সেসময় প্রয়োজন হবে অধিক ধৈর্য্য, কষ্ট-সহিষ্ণুতা, উদারতা এবং এসবের উপর মনকে দৃঢ় রাখা। সাথে সাথে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং একথা মনে উপস্থিত রাখা যে, কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ীই প্রতিদান মিলে, আর আল্লাহর নিকট কোন কিছুই ব্যর্থ বা বিনষ্ট হবে না-
ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ لَايُصِيبُهُمْ ظَمَأٌ وَلَانَصَبٌ وَلَامَخْمَصَةٌ فِي سَبِيل اللَّهِ وَلَايَطَئُونَ مَوْطِئًا يَغِيظُ الْكُفَّارَ وَلَايَنَالُون مِنْ عَدُوٍّ نَيْلًا إِلَّاكُتِبَ لَهُمْ بِهِ عَمَلٌ صَالِحٌ إِنَّ اللَّهَ لَايُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ
এটা একারণে যে, আল্লাহর পথে তাদের (অর্থাৎমুজাহিদদের) যে পিপাসা, ক্লান্তি ও ক্ষুধার কষ্ট দেখা দেয় অথবা তারা কাফেরদের ক্রোধ সঞ্চার করে- এমন যে পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিংবা শত্রুর বিরুদ্ধে তারা যে সফলতা অর্জন করে, তাতে তাদের আমলনামায় (এরূপ প্রতিটি কাজের সময়) অবশ্যই পুণ্য লেখা হয়। নিশ্চিত জেন, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের কোনও কর্ম বৃথা যেতে দেন না।
দ্বিতীয়ত: আপনি সর্বদা আপনার আমিরের আনুগত্যের উপর থাকুন, চাই তিনি যেই হোন না কেন। যতক্ষণ না আপনাকে সুস্পষ্ টগুনাহের আদেশ করেন। আর এমনটা কখনোই হবে না ইংশাআল্লাহ। আপনি তার মতের সামনে নিজের মতকে পরিত্যাগ করুন, তারকথারজন্যনিজেরকথাথেকেসরেআসুনএবংতারইজতিহাদেরসামনে নিজেরইজতিহাদকেবর্জনকরুন।
সর্বদা আপনার ভাইদের সাথে মিশে থাকতে আগ্রহী হোন, কোন কথা বা কাজে তাদের সবার থেকে ভিন্নতা অবলম্বন করবেন না। যতটুকু সম্ভব তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখুন। ইজতিহাদী মাসায়েলের ক্ষেত্রে আমির যেটা অবলম্বন করেন সেটাকেই মানা ওয়াজিব। চাই তা মারকাযে থাকাকালীন বা অভিযানে যাত্রাকালীন অথবা অন্য যেকোন অবস্থাতেই হোকনা কেন। এমনকি যদি আপনার মতটি এর থেকে বিপরীত হয়, তবুও। যেমন, নামায আদায়ের সময়, দুই নামায এক সাথে জমা করা, নামায পূর্ণ করা বা কসর করা, জামাতে নামায পড়া বা একাকী পড়া, কোন অভিযান বা কাজের জন্য রোজা বর্জন করা, বা এজাতীয় বিষয়ে।
তাহ্তাওয়ী কিতাবের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনে আবিল ইজ্জ রহ: বলেন, কিতাব-সুন্নাহর বর্ণনাসমূহ ও সালাফের ইজমা প্রমাণ করে, ইজতিহাদের স্থান সমূহে দায়িত্বশীল, নামাযের ইমাম, বিচারক, যুদ্ধের সেনাপতি ও যাকাত উসুলকারী শ্রেণীর কথাই অনুসরণীয় হবে। ইজতিহাদী বিষয়বালীর ক্ষেত্রে তাদের অনুসারীদের আনুগত্য করা তাদের উপর ওয়াজিব নয় বরং তাদের অনুসারীদের উপরই ওয়াজিব হল তাদের আনুগত্য করা এবং তার মতের সামনে নিজেদের মতকে বর্জন করা। কারণ ঐক্য ও সমঝোতার উপকারীতা এবং বিবেদ ও বিচ্ছিন্নতার ক্ষতি শাখাগত মাসআলাসমূহের ব্যাপারগুলো থেকে অনেক বড়।
তৃতীয়ত: আফগান মুজাহিদদের সাথে চলতে গিয়ে এই বিষয়টির প্রতিও লক্ষ্য রাখা উচিত: আফগানমুজাহিদগণ হানাফী মাযহাব মেনে চলেন। এটি আহলুসসুন্নাহর চারটি গ্রহণযোগ্য মাযহাবের একটি। তাই প্রতিটি মুজাহিদ যেন ঘৃণা ও বিবেদসৃষ্টির মত শাখগত মাসআলাসমূহের ব্যাপারগুলোর উপর ঐক্য ও সম্প্রীতির কল্যাণকে প্রাধান্য দেন। এমনকি যদি কোন সুন্নাত বা মুস্তাহাব বর্জন করতে হয় তবুও। কারণ এর বিপরীতে মুহাজিরদের প্রতি তাদের অন্তরে ঘৃণা সৃষ্টি হবে এবং তাদের মাঝে অনৈক্য সৃষ্টি হবে। সুতরাং এহেন অবস্থায় রুকুর পূর্বে ও পরে হাত উঠানো ছেড়ে দিলে, তাশাহ্হুদের মাঝে শাহাদাত আঙ্গুল নাড়ানো ছেড়ে দিলে, জোরে আমীন বলা ছেড়ে দিলে, সিজদার জন্য হাতে ভর না দিয়ে হাটুতে ভর দিলে বা এজাতীয় কাজগুলো বিসর্জন দিলে কোনই শরয়ী সমস্যা নেই। বরং যদি এগুলো পরিত্যাগ করার দ্বারা তার উদ্দেশ্য হয় সকলের মনোতুষ্টি ও ইখতিলাফ দূরকরা, তাহলে এর দ্বারা সে সওয়াব প্রাপ্ত হবে। এটাই ফিকহ।
যেমন ইমাম বুখারী রহ: কাবা ঘর (পুন:নির্মাণের উদ্দেশ্যে) ভাঙ্গার ইচ্ছা ত্যাগ করা সংক্রান্ত হাদীসটির ব্যাপারে অধ্যায় সাঁজিয়েছেন এভাবে- অধ্যায়: যে এই ভয়ে জায়েয বিষয়কে পরিহার করে যে, মানুষ তা বুঝে উঠতে পারবে না, ফলে মানুষ এর থেকেও জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়ে পড়বে।
চতুর্থত: যেসকল ক্ষেত্রে ইসলামের সরাসরি বিরোধিতা হয় না, সেক্ষেত্রে দলের লোকজনের অভ্যাস ও রীতি-নীতির প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। যেমন: কিবলার দিকে দুই পা দিয়ে না ঘুমানো বা এজাতীয় কাজগুলো। সাথে সাথে তাদের আলেমদের সম্মান করতে হবে। কারণ আলেমরা মানুষের অন্তরের চাবিকঠি। নামাযে যথাসম্ভব তাদের কারীদেরকে সামনে দেওয়া, মাযহাবের আলোচনা বা তাদের ইমামদের সমালোচনা না করা এবং তাদের মাঝে যে ফাতওয়া প্রচলিত তাকে হালকা করা থেকে বেঁচে। যদি তাদের কোন আলেম বা তালিবুল ইলমের সাথে আলোচনা উঠে, তাহলে উক্ত আলোচনা হওয়া উচিত বিশুদ্ধ ইলম, শ্রদ্ধাবোধ, শিষ্টাচার ও আন্তরিকতার সাথে। কোন ধরণের উত্তেজনা, মিথ্যা অপবাদ, গালি-গালাজ ও আত্মগর্ব বা অহংকার থাকতে পারবে না।
সম্মানিত ভাই! মনে রাখবেন, এই মহান মাযহাবটি দীর্ঘ শতাব্দী থেকে শতাব্দী পর্যান্ত বহু শ্রেষ্ঠ ইমামগণ মেনে আসছেন। অনেক রাষ্ট্র এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। অনেক কাযী এর মাধ্যমে বিচারকার্য সম্পাদন করেছে। অনেক শাসক এটাকে নিজ মাযহাব হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। হাজার হাজার খণ্ডের কিতাব এই মাযহাবের উপর লিপিবদ্ধ হয়েছে। বরং পৃথিবীতে অন্য কোন মাযহাবের এতটা প্রচার-প্রসার হয়নি, যতটা আবুহানিফা রহ: এর মাযহাবের হয়েছে। তাই আপনি একদিনের একটি বৈঠকে বা একটি শাখাগত মাসআলা দিয়ে তাকে ছোট করার চেষ্টা করবেন না। কারণ হতে পারে, তাহকীক করলে আপনার কথাটিই অপ্রণিধানযোগ্য হবে। আর প্রত্যেক জ্ঞনীর উপরও জ্ঞানী রয়েছে।
পঞ্চমত: আমিরদের উপর আবশ্যক হল, তারা তাদের সাথীদের সাথে নম্র আচরণকরবেন, তবে শৈথিল্য করবেন না। কারণ যে জিনিসের মধ্যেই নম্রতা থাকে, তা তাকে সৌন্দর্য্যমিণ্ডতই করে। আর যা থেকেই নম্রতা উঠে যায়, তা তাকে অসুন্দরই করে। তারা অবশ্যই রাসূল সা: এর দোওয়ার দ্বারা সাহায্য লাভ করবেন এবং তার বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকবেন। তিনি বলেছেন, হেআল্লাহ! যে আমার উম্মতের কোন বিষয়ের দায়িতশীলহয়, অত:পর সে তাদের উপর কষ্ট আরোপ করে, তুমিও তার উপর কষ্ট আরোপ কর। আর যে আমার উম্মতের কোন বিষয়ের দায়িত্বশীল হয়, অত:পর তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে তুমিও তার সাথে নম্র আচরণ কর। (বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম)
তাদের কর্তব্য হল, তারা তাদের সৈন্যদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করবেন, তাদের হেফাজতের ব্যাপারে যত্নবান হবেন, তাদের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে উত্তম স্থানটি নির্বাচন করবেন। তালেবান নেতৃবৃন্দের সাথে তাদের সম্পর্ক ভাল রাখবেন, তাদের ভালবাসা অর্জন করবেন, তাদের কল্যাণ কামনা করতে সচেষ্ট হবেন, তাদের অঞ্চলের বা সম্প্রদায়ের লোকদের সমস্যবলীর ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করবেন। কারণ তারাই তাদের ভূমি, তার অধিবাসী ও তাদের শত্রুদের ব্যাপারে ভাল জানবেন। আল্লাহ তাআলাই সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক।


লিখেছে: আবু ইয়াহ্ইয়া
শনিবার, ২৫ রবিউসসানি, ১৪৩১হিজরী।

junaid
12-24-2015, 03:43 PM
jazakallah

Umar Faruq
12-24-2015, 06:10 PM
jazakallhu khair