PDA

View Full Version : পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে রসুলুল্লহসল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাহ কেরামদের আলোচনা



আল-কোরআনের সৈনিক
11-28-2019, 07:35 AM
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে রসুলুল্লহসল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাহ কেরামদের আলোচনা

হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহমাতুল্লহ আলাইহি বলেন, হযরত আব্দুল্লহ ইবনে আমর ইবনুল আস রদিয়াল্লহু আনহুমা এর সহিত আমার সাক্ষাত হইলে আমি তাঁহাকে বলিলাম, তাওরাতে রাসুল (সাঃ)ের যে সকল গুনাবলী বর্ণিত হইয়াছে তাহা আমাকে বলুন। তিনি বলিলেন, অবশ্যই খোদার কসম তাঁহার যে সকল গুনাবলী কুরআনে বর্ণিত হইয়াছে তাহা তাওরাতের বর্ণিত হইয়াছে। যেমনহে নবী, আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভীতিপ্রদর্শনকারী ও উম্মীদের (অর্থাৎ আরবদের) রক্ষণাবেক্ষণকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি। আপনি আমার বান্দা ও রসূল, আমি আপনার নাম মুতাওয়াক্কিল রাখিয়াছি। আপনি রূঢ় ও কঠোর হৃদয় নহেন, বাজারে শোরগোলকারীও নহেন এবং মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না বরং ক্ষমা ও মাফ করিয়া দেন। আল্লহ তায়ালা তাঁহাকে দুনিয়া হইতে উঠাইয়া নিবেন না যতক্ষন না মানুষ লা-ইলাহা ইল্লাল্লহ পড়িয়া বক্র দ্বীনকে সোজা করিয়া লইবে। (অর্থাৎ দ্বীনে ইবরাহীমকে পরিবর্তন করিয়া তাহারা যে বাকা পথে চলিয়াছে উহা ছাড়িয়া সিরতে মুস্তাকীম অর্থাৎ সরল ও সোজা পথে চলিতে আরম্ভ না করিবে।) তাঁহার দ্বারা আল্লহ তায়ালা অন্ধ চক্ষু ও বধির কান এবং রূদ্ধ দিলের আবরণ মুক্ত করিবেন। (আহমাদ)

অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে, আল্লহ তায়ালা তাঁহার দ্বারা বক্র দ্বীনকে সোজা না করিয়া দুনিয়া হইতে উঠাইবেন না।

অপর এক রেওয়ায়াতে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ রহমাতুল্লহ আলাইহি এরূপ উল্লেখ করিয়াছেন যে, আল্লহ তায়ালা যাবুর কিতাবে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের উপর এই ওহী নাযিল করিয়াছেন, হে দাঊদ, তোমার পর অতি সত্ত্বর এক নবী আসিবেন, যাঁহার নাম আহমাদ ও মুহাম্মাদ হইবে, তিনি সত্যবাদী ও সাইয়্যিদ হইবেন। আমি তাঁহার প্রতি কখনও নারায হইব না, আর তিনিও কখনও আমাকে নারায করিবেন না। আমি তাঁহার অগ্র-পশ্চাতের ভুল-ভ্রান্তি করিবার পূর্বেই মাফ করিয়া দিয়াছি। তাঁহার উম্মত আমার রহমতপ্রাপ্ত, আমি তাহাদিগকে ঐ সকল নফল কার্য দান করিয়াছি যাহা নবীদিগকে দান করিয়াছি এবং তাহাদের উপর ঐ সকল কার্য ফরয করিয়াছি যাহা নবী রসূলগণের উপর ফরয করিয়াছি। অতএব তাহারা কিয়ামাতের দিন এমন ভাবে উপস্থিত হইবে যে, তাহাদের নূর নবীদের নূরের ন্যায় হইবে। এইরূপে অনেক কথা আলোচনার পর অবশেষে বলিয়াছেন, হে দাঊদ, আমি মুহাম্মাদ ((সাঃ)) ও তাঁহার উম্মতকে সকল উম্মতের উপর সম্মান দান করিয়াছি। (বিদায়াহ)

পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে রাসুল (সাঃ) ও সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আনহুমদের আলোচনা-২

সাঈদ ইবনে আবি হেলাল রহমাতুল্লহ আলাইহি হইতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আব্দুল্লহ ইবনে আমর রদিয়াল্লহু আনহুমা হযরত কাব রহমাতুল্লহ আলাইহি কে বলিলেন, আমাকে হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তাঁহার উম্মতের গুনাগুন সম্পর্কে বলুন। তিনি বলিলেন, আমি আল্লহ তায়ালার কিতাবে (অর্থাৎ তাওরাতে) তাঁহার সম্পর্কে এইরূপ পাইয়াছি, আহমাদ (সাঃ) ও তাঁহার উম্মত অত্যধিক প্রশংসাকারী হইবে, তাঁহারা ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় আল্লহ তায়ালার প্রশংসাকারী হইবে। প্রত্যেক উঁচু জায়গায় (উঠিতে) তাঁহারা আল্লহু আকবার বলিবে এবং প্রত্যেক নিচু জায়গায় (নামিতে) তাঁহারা সুবহানাল্লহ পড়িবে। তাঁহাদের আযানের ধ্বনি আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হইবে। পাথরের উপর মৌমাছির মৃদু গুঞ্জনের ন্যায় নামাযের মধ্যে তাঁহাদের (কুরআন পাঠের) মৃদু গুঞ্জন (শ্রুত) হইবে। ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায় তাঁহারা কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে। নামাযের কাতারের ন্যায় যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে। যখন তাঁহারা আল্লহর রাহে জিহাদে বাহির হইবে তখন তাঁহাদের সম্মুখে ও পিছনে মজবুত বর্শা হাতে ফেরেশতাগণ থাকিবেন। আর যখন তাঁহারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবন্দী হইয়া দাঁড়াইবে তখন আল্লহ তায়ালা তাঁহাদের উপর এমনভাবে ছায়া করিবেনবলিয়া হযরত কাব রহমাতুল্লহ আলাইহি দুই হাত প্রসারিত করিয়া দেখাইলেনযেমন শকুন তাহার বাসার উপর ছায়া করিয়া থাকে। তাঁহারা কখনও যুদ্ধের ময়দান হইতে পলায়ন করিবে না। (আবু নুআঈম)

হযরত কাব রহমাতুল্লহ আলাইহি হইতে অপর এক রেওয়ায়েতে ইহাও বর্ণিত হইয়াছে যে, তাঁহার উম্মত অত্যধিক প্রশংসাকারী হইবে, তাঁহারা সর্বাবস্থায় আল্লহ তায়ালার প্রশংসা করিবে এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে আল্লহু আকবার বলিবে। (নামায ইত্যাদি ইবাদাতের সময় নির্ধারণের জন্য) সুর্যের খেয়াল রাখিবে। ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গায় হইলেও পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময় মত আদায় করিবে। কোমরের মধ্যস্থলে লুঙ্গি বাঁধিবে এবং অযুর মধ্যে আপন অঙ্গ-প্রতঙ্গ ধৌত করিবে। (আবু নুআঈম) হায়াতুস সাহাবাহ ১ম খন্ড (দারুল কিতাব, ডিসেম্বর ১৯৯৯) পৃষ্ঠা ৩০-৩২

~~~~***~~~~