PDA

View Full Version : প্রশ্ন: জিহাদে পিতার নিষেধ ?!!!



আল্লাহর বান্দা
01-01-2016, 02:54 AM
পিতা নিষেধ সত্বেও জিহাদে বের হওয়া কি হুকুম ?




শায়খ আবু উসামা শামী



প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম।

আমি যুবক। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হতে চাই। এবং আমি বর্তমান সময়ে জিহাদ ফরয হওয়ার উপর বিশ্বাষ করি। আমি কুরআন, সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম ) ও অন্যান্য কিছু কিতাব মুখস্ত করেছি এরং ইলম শিক্ষা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি পিতা মতার কাছে অনুমতি চেয়েছি অতপর মা অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বাবা বলছে: তার অনুমতি ছাড়া বের হলে দুনিয়া ও আখেরাতে কখনোই সে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না কেননা সে জিহাদকে ফরজে আইন মনে করে না। অথচ সে একজন বড় আলেম। সুতরাং আমার জন্য কি তার অনুমতি ছাড়া বের হয়ে তাকে অসন্তুষ্ট করা জায়েজ হবে ? আল্লাহ তায়ালা আপনাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
প্রশ্নকারী ভাই আল্লাহ তায়ালা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সংক্ষিপ্তভাবে আপনার প্রশ্নের জবাব হচ্ছে আমাদের সময়ে কাহারো জিহাদে বের হওয়ার জন্য পিতা-মাতার অনুমতি থাকা শর্ত নয় এবং তাদের জন্য জিহাদ থেকে বাধা দেয়াও জায়েজ নয় কেননা ইহা ফরজ। আর মুজাহিদদের জন্য যদি নির্দিষ্ট করে তার মত ভাইদের প্রয়োজন হয় ও তার আসার কারণে অনেক উপকার হয় তাহলে সন্তানের জন্য এই সমস্ত ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য না করাই আবশ্যক কেননা স্রষ্টা অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য জায়েজ নয়। যেমন আপনার মত ত্বালেবে ইলমরা ( কারণ জিহাদের ময়দানে একজন আলেমের অনেক প্রয়োজন ) ... ইহা সবই মৈালিক মাসআলা হিসেবে, যদিও এখানে অনেক ব্যাক্ষ্যা রয়েছে যা অন্যান্য জবাব সমূহে বর্ণনা করা হয়েছে।
তোমার মত ইলম অন্বেষনকারী ও তাওহীদের দিকে আহ্বান কারীর জন্য আমরা পছন্দ করব এখন তাওহীদ ও জিহাদের প্রতি দাওয়াত ও ইহার ইলম অন্বেষনের পথেই ফিরে যাবে এবং তাতেই মগ্ন হবে। বিশেষ তাদেরকে করে যারা বুঝেছে যে, গভীর ইলমের সাথে তাওহীদ ও জিহাদের দিকে দাওয়াত দেয়া এবং ইহার পথে কষ্টের উপর ধৈর্য ধারণ করাও জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর অন্তভূক্ত এবং যে এই পথে থেকে নিহত হবে সেও পূতপবিত্র শহীদ হিসেবেই গণ্য হবে। তখন এই কাজ তুমি যেখানেই থাক তোমার জন্য দ্বীনকে সাহায্য করার এক বিশাল দিগন্ত খুলে দিবে।
আর যদি তোমার জন্য এই পথে দ্বীনকে সাহায্য কার সহজ না হয় এবং তুমি বের হওয়া ও জিহাদের ভূমি সমূহের কোনটাতে শামীল হওয়াকে পচ্ছন্দ কর তাহলে তোমারকে প্রথমে পিতার সাথে নরম আচরণ করা ও তাকে গভীরভাবে জিহাদের ফরজিয়্যাত বুঝানোর পরামর্শ দিব। আর ইহা তাকে রাগান্বিত ও অসন্তুষ্টি কারার থেকে উত্তম হবে। এরপরও যদি অস্বিকার করে তবে তাই করবে যা পূর্বে বলেছি “স্রষ্টা অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য জায়েজ নয়”।
আল্লাহ তায়ালাই উত্তর সাহায্যকারী।

কাল পতাকা
01-01-2016, 03:56 AM
জাযাকাল্লাহ আমাদের অনেক ভাইয়ের অবস্থা এমন।

tamim rayhan
01-01-2016, 06:59 AM
আমার অবস্থাও এমন। যারা আমার দাওয়াত গ্রহণ করবে না তাদেরকে আমি পরওয়া করি না ও পাত্তা দেই না।

Abu Hamza BD
01-01-2016, 07:17 AM
হে মুমিনগন! তোমাদের কি হল যে, যখন তোমাদেরকে বলা হয় -বের হও আল্লাহরপথে, তখন তোমরা মাটিতে লেগে থাক (অলস ভাবে বসে থাক) তাহলে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? বস্ত্ততঃ পার্থিব জীবনেরভোগ বিলাসতো আখিরাতের তুলনায় কিছুই নয় অতি সামান্য। (সূরা আত তাওবাহ ৯.৩৮)
যা আপনাকে জিহাদে যাওয়া থেকে বিরত রাখছে, তা যদি হয় পরিবার পরিজন, সহায় সম্পত্তি, বন্ধু বান্ধব, তবে দেখুন আল্লাহ কী বলেন, তোমাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি এমন কিছু হয় যা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করে দিবে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারাই তাদের কর্মের জন্য পাবে বহু গুন পুরস্কার আর তারা প্রাসাদে নিরাপদ থাকবে। (সূরা সাবা, ৩৪ঃ৩৭)

হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর এবং ভয় কর সেই দিনকে যখন পিতা সন্তানের কোন উপকারে আসবে না এবং সন্তানও কোন উপকারে আসবে না তার পিতার! আল্লাহর প্রতিশ্রতি সত্য সুতরাং পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চক (শয়তান) যেন তোমাদেরকে কিছুতেই আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে। (সূরা লুকমান ৩১.৩৩)

আরও বলেন তোমরা জেনে রেখ যে,
পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক অহংকার প্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচূর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যাতীত আর কিছুই নয়; ওর উপমা বৃস্টি, যদ্বারা উৎপন্ন শস্য-সম্ভার কৃষকদের চমৎকৃত করে, অতঃপর ওটা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি ওটা পীতবর্ন দেখতে পাও অবশেষে ওটা খড়কুটায় পরিনত হয়। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুস্টি পার্থিব ছলনাময় ভোগ ব্যাতীত কিছুই নয়। (সূরা হাদীদ ৫৭.২০)

রাসূলুললাহ (সা) বলেছেন, জান্নাতে চাবুকের নিচে বা পায়ের নিচের জমিটুকুও এই পৃথিবী এবং এর ভেতর যাকিছু আছে তার থেকে উত্তম। (বুখারী)