PDA

View Full Version : জামাতুল বাগদাদীর যুক্তিখণ্ডন -৩



Abu Anwar al Hindi
02-10-2016, 09:33 AM
[নিচে জামাতুল বাগদাদির খিলাফাহ প্রসঙ্গে ব্যবহৃত যুক্তি নিয়ে শাইখ আব্দুল্লাহ আল মুহাইসিনি হাফিযাহুল্লাহ-র বক্তব্য এবং তাঁর আলোকে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা তুলে ধরা হল। প্রথমে আমরা শাইখের বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে এবং তারপর তাঁর বক্তব্য, জামাতুল বাগদাদির বক্তব্য এবং আলোচ্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ-র অবস্থানের আলোকে বর্তমান অবস্থার একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হবে।]

সম্পূর্ণ লেখাটী এক সাথে পাবেন - https://tinyurl.com/jzklrsg

[প্রথম পর্বের লিঙ্ক]- https://tinyurl.com/jumrf5f

[দ্বিতীয় পর্বের লিঙ্ক]- https://tinyurl.com/jyuqrqk


জামাতুল বাগদাদী বলেঃ কিভাবে তোমরা আমাদের খাওয়ারিজ বলতে পারো, যখন খাওয়ারিজরা কবীরা গুনাহর উপর তাকফির করে আর আমরা কবীরা গুনাহর উপর তাকফির করি না?

এ বিভ্রান্তির জবাব হল নিম্নরূপঃ

১। তারা প্রকাশ্যে সবার উপর তাকফির করে না, কিন্তু তাদের কাজ থেকে প্রমাণিত হয় তারা বিভিন্ন গুনাহর কারণে অনেককেই তাকফির করে, এটা স্পষ্ট হয় যখন আমরা তাদের এসব নীতির বাস্তবিক প্রয়োগের দিকে তাকাই। তারা একজন গুনাহগারের সাথে সেরকম আচরণ করে যা একজন কাফিরের সাথে করা উচিৎ। যেমনঃ রমদ্বানে দিনের বেলায় পানাহার করার কারণে গুনাহগার ব্যক্তিদের প্রতি তাদের আচরণ।

এছাড়া আল-আদনানি কিছুদিন আগে তার বক্তব্যে বলেছে, যারাই জামাতুল বাগদাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তাঁরাই কাফির হয়ে যাবে, তারা উপলব্ধি করুক বা না করুক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি জামাতুল বাগদাদীর ক্ষেত্রে যুদ্ধ করবে সে বুঝুক আর না বুঝুক, সর্বক্ষেত্রে কাফির বলে গণ্য হবে। যদি আত্বরক্ষার্থে কোন ব্যক্তি জামাতুল বাগদাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাও সে কাফির হয়ে যাবে – আদনানীর কথা অনুযায়ী। অথচ এর আগে এই একই ব্যক্তি আল্লাহ-র কসম করে বলেছিল যারা জামাতুল বাগদাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদেরকে জামাতুল বাগদাদী তাকফির করে না।

২। ফলাফলের দিক দিয়ে জামাতুল বাদাদীর তাকফির আর কবীরা গুনাহর উপর পূর্বযুগের খাওয়ারিজদের তাকফির সাদৃশ্যপূর্ণ। আর শারীয়াহর উদ্দেশ্যই থাকে ফলাফলের দিকে নজর দেয়া। যদি তাকফিরের ফলাফল হল – মুসলিমদের জান-মাল হালাল করা – তবে নিশ্চয় জামাতুল বাগদাদী এই কাজটিই করছে। তারা তুচ্ছাতিতুচ্ছ অজুহাতে মুসলিমদের রক্ত হালাল ঘোষণা করে। একইভাবে তারা মুমিনদের ভূমিকে [যেমন জাইশ আল ফাতিহর নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি, তালিবানের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি, ইয়েমেনে আল-ক্বাইদার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি ইত্যাদি] দারুল হারব ঘোষণা করে, আর নিজেদের অঞ্চলকে দারুন আমান ঘোষণা করে।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ, মাজমু আল ফাতাওয়া (৭৩/১৯) এ ব্যাখ্যা করেছেনঃ

“খারেজিদের প্রতিটি প্রজন্ম/দল, মুসলিমদের উপর তাকফির ও তাদের রক্ত হালাল করার দিক দিয়ে একে অপরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর তারা এটা করে সন্দেহ ও ধারণার বশবর্তী হয়ে, আর এমন সব কাজের কারণে, যেগুলোকে তারা কুফর মনে করে, কিন্তু আদতে সেগুলো কুফর না।“

৩। খাওয়ারিজ হবার জন্য সকল কবীর গুনাহর উপর তাকফির করতে হবে, এমনটা আবশ্যক না। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যেসব খাওয়ারিজ জামা’আর উত্থান ঘটেছে, তার সবগুলোই যে গুনাহর কারণে তাকফির করতো, এমন না। যেমন নাজদাত খারেজিরা (যাদের নেতা ছিল নাজদাহ ইবন আমির আল-হানাফি) কবীরা গুনাহকারীর উপর তাকফির করতো না। একারণে কবীর গুনাহর উপর যারা তাকফির করে না, তারা খারেজি হতে পারে না, এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। খারেজি হল এমন সব দল/জামা’আ যারা অবৈধ ভাবে মুসলিমদের তাকফির করে, এবং মুসলিমদের রক্তকে হালাল করে নেয়। যে ব্যক্তি এমন করে, সে কবীর গুনাহর কারণে কাউকে কাফির ঘোষণা করুক আর না করুক, সে খারেজিদের অন্তর্ভুক্ত।

৪। তাকফিরের বিভিন্ন রূপ আছে। যেমন, কবীরা গুনাহকারীর উপর তাকফির, কিংবা এমন কাজের কারণে কাউকে তাকফির করা যে কাজ গুনাহই না, কিংবা সন্দেহ বা ধারণার বশবর্তী হয়ে তাকফির করে, কিংবা এমন ব্যাপারে তাকফির করা যেগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ইজতিহাদের কারণে ইখতিলাফ আছে, কিংবা প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা বিবেচনা না করেই, উযর বিবেচনা না করেই তাকফির করা।

৫। সকল খাওয়ারিজের প্রকৃত মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলঃ শারীয়াহ সম্মত বৈধ কারণ ছাড়া এমন কাউকে তাকফির করা, যার উপর তাকফির প্রযোজ্য না। আর এর ফলাফল হল এমন কারো হত্যাকে বৈধতা দেয়া যার হত্যার বৈধতা শারীয়াহ দেয় না। খারেজিরা কিছু স্বতন্ত্র ও নির্দিষ্ট মূলনীতি বানিয়ে নেয় ও গ্রহণ করে, আর এই ব্যাপারে যারা মতবিরোধ করে তারা তাদের কাফির গণ্য করে।

ডঃ আল-ওয়াইস বলেছেনঃ ইবন তাইমিয়্যাহ এবং তার মতো অন্যান্য উলেমার বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা খাওয়ারিজের অর্থকে শুধু সেসব দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন না, যার মদ খাওয়া বা যিনা করার মতো কবীরা গুনাহর কারণে তাকফির করে। বরং ইবন তাইমিয়্যা তাদের (খারেজিদের) বর্ণিত করেছেন এমন কিছু লোক হিসেবে যারা হয়তো এমন কাজকে ক্ষমা করে দিতে পারে যে কাজ আসলে হালাল, তাই এতে ক্ষমার প্রশ্ন আসে না। কিংবা তারা কোন নেক আমলকে হারাম হিসেবে অথবা কোন হারাম কাজকে কুফর হিসেবে গণ্য করে। তারা হয়তো এমন কাজকে গুনাহ মনে করে যে কাজ শারীয়াহ অনুযায়ী গুনাহর কাজ না। আর এসব ভ্রান্তির উপর ভিত্তি করে তারা তাকফির করে এমন সব মানুষকে, যারা তাদের (অর্থাৎ খারেজিদের) খাহেশাতের সাথে একমত পোষণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অনুসন্ধানী উলেমারা এও বলেছেন যে কবিরা গুনাহর কারণে তাকফির করার এই বৈশিষ্ট্য পরের দিকের খারেজিদের মধ্যেই শুধু দেখা গিয়েছিল। কারণ এতো জানা কথা যে খারেজিদের প্রথম প্রজন্ম ‘আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর উপর তাকফির করেছিল নিরপেক্ষ শারীয়াহ আদালতের মধ্যস্থতা মেনে নেবার কারণে – আর একাজ তো জায়েজ ও হালাল ছিল, আর এও কোন কবিরা গুনাহও না। আর খারেজিদের আদি পিতা দ্বুল-খুওয়াইসিরা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে পক্ষপাতদুষ্টতা ও না-ইনসাফির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল, কারণ রাসূলুল্লাহﷺ কিছু মানুষকে অন্যদের তুলনায় বেশি দিয়েছিলেন, এর দ্বারা তাদের হৃদয়সমূহকে নরম করার জন্য। আর এতো ছিল একটি বৈধ কাজ।

৬। আর এটা কোন আবশ্যকতা না কোন দল বা জামা’আকে খাওয়ারিজ হতে হলে তাদের মধ্যে প্রথম যুগের খাওয়ারিজের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে – যেমনটা আমরা ইতিপূর্বে বলেছি। বরং যদি অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে থাকে তবে সেটাই যথেষ্ট। কোন দলকে তখনই খাওয়ারিজ বলা হয়, যখন তাদের অধিকাংশ বক্তব্য ও কাজ আদি খারেজিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, অথবা মৌলিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে তারা সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। যেমনটা – আশ শাতিবি ব্যাখ্যা করেছেন।

-শাইখ আব্দুল্লাহ আল মুহাইসিনির বক্তব্য সমাপ্ত।

Abu Anwar al Hindi
02-10-2016, 09:34 AM
প্রাসঙ্গিক আলোচনাঃ

শাইখের এই আলোচনায় জামাতুল বাগদাদী এবং তাদের সমর্থক গোষ্ঠীর একটি অত্যন্ত প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভ্রান্তির কথা উঠে এসেছে। এই দল ও তাদের সমর্থকরা প্রায়ই যুক্তি দেখায় – তারা যেহেতু কবিরা গুনাহর উপর তাকফির করে না তাই তারা কখনো খারেজি হতে পারে না। তারা সাথে আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলে, যেমন খারেজিদের মাথা কামানো হবে, ইত্যাদি। অর্থাৎ তাদের যুক্তি হল এসব বৈশিষ্ট্য না থাকলে কাউকে খারেজি গণ্য করা যাবে না। অথচ আমরা জানি জামাতুল বাগদাদী মুসলিমদের ও মুজাহিদিনের উপর এমন সব কারণে তাকফির করেছে যেগুলোর উপর তাকফির করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আ বৈধ মনে করে না, এবং এ তাকফিরের উপর ভিত্তি করে মুজাহিদিনকে হত্যা করেছে। তারা এমনটা করেছে শামে, লিবিয়াতে, ইয়েমেনে এবং আফগানিস্তানে।

যদিও যখনই তাদেরকে এই তাকফিরি নীতির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয় তখনই তারা শামের ফিতনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু করে, যার বেশির ভাগ জুড়ে থাকে আবেগী কথাবার্তা এবং পবিত্র ক্বুর’আনের ‘আম কিছু আয়াত। অথচ এ সত্যটা তারা বোঝে না যে দুনিয়ার সব জামা'আ যদি ভুলের মধ্যেও থাকে তথাপি তারা তাকফিরের যে নীতি ব্যবহার করছে - অর্থাৎ তাদের বিরোধিতা করা কুফর - তারা একমাত্র বৈধ মুসলিম জামা'আ, তাদের অন্য সকল জামা'আর রক্ত হালাল - এগুলো তাতে বৈধ হয়ে যাবে না। এছাড়া অনেকে বার এটাও স্বীকার করতে চাননা যে জামাতুল বাগদাদী সকল মুজাহিদিনকে তাকফির করে, এবং এই তাকফির দলগত ভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবেও [তাকফির মুয়া’ইয়িন]। এর তিনটি প্রমাণ এখানে দেওয়া হল যা থেকে এই দলের তাকফিরের নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এই তিনটি ছাড়া আরও অনেক প্রমাণ বিদ্যমান, তবে এই তিনটিকে প্রাধান্য দেয়া হল, কারণ এগুলো তাদের বৈশ্বিক অফিশিয়াল প্রকাশনায় স্থান পেয়েছেঃ

১। ৫ই রামাদ্বান ১৪৩৬ হিজরীতে আল-ফুরক্বান মিডিয়া থেকে প্রকাশিত জামাতুল বাগদাদীর অফিশিয়াল বিবৃতি “হে লোকেরা, তোমরা আল্লাহ-র দিকে আহবানকারীদের ডাকে সাড়া দাও!” [Oh our people, respond to the caller of Allah”] । এ বিবৃতিতে আল-আদনানীই বলেছে- “…তাই সাবধান, দাওলাতুল ইসলামের (‘ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে যুদ্ধর করার কারনে তুমি কুফরে পতিত হবে, তুমি তা উপলব্ধি করো আর না করো।” অর্থাৎ যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে সেই কাফির। এই নীতি কোনভাবেই শারীয়াহ দ্বারা সমর্থিত নয়, এবং আহলুস সুন্নাহ এই নীতিতে বিশ্বাস করে না। যদি আহলুস সুন্নাহ এই নীতিতে বিশ্বাসী হতো, তবে খুলাফায়ে রাশিদার অন্তর্ভুক্ত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে আল যুবাইর, তালহা, মু’আবিয়া, আইশা, আমর ইবনুল আস ইত্যাদি সাহাবা কাফির বলে গণ্য হতেন – রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমাইন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পড়ার জন্য দেখুনঃ

http://tinyurl.com/nurvsak, এবং
http://tinyurl.com/jumrf5f

২। জামাতুল বাগদাদীর অফিশিয়াল ম্যাগাযিন দাবিকের ১০ম সংখ্যায় [পৃঃ ৪২ থেকে শুরু] “They are not lawful spouses for each other” [তারা একে অপরের জন্য স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বৈধ নয়] শীর্ষক এক আর্টিকেলে উম্ম সুমাইয়্যা আল মুহাজিরা নামে এক হতভাগ্যা নারী ফাতাওয়া দিয়েছে, শামের সকল মুজাহিদিনের স্ত্রীদের তাদের নিজ নিজ স্বামীর তালাক হয়ে গেছে, কারণ এসকল মুজাহিদিন জামাতুল বাগদাদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কারণে মুরতাদ হয়ে গেছে। আর তালাক হয়ে যাবার কারণে, এই মুসলিমাহরা এখন যিনার অবস্থায় আছে। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জামাতুল বাগদাদীর এই তাকফির শুধু দলগত ভাবে মুজাহিদিন দলগুলোকে তাইফাতুল কুফর বা কুফরের দল হিসেবে ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না। বরং তারা প্রতিটি দলের অন্তর্গত প্রতিটী মুজাহিদকে আলাদা, আলাদা ভাবে মুরতাদ মনে করে। অর্থাৎ এটি তাকফির আল-মুআইন। এছাড়া আবু মাইসারা আশ-শামী নামে এক উন্মাদ, আরবিতে প্রকাশিত আরেকটি অফিসিয়াল বক্তব্যে এই ধরণের কথা বলেছে।

৩। ২০১৫ এর অক্টোবরে প্রকাশিত আল আদনানীর ““কাফিরদিগকে বলে দিন, খুব শিগগীরই তোমরা পরাভূত হবে…” বক্তব্যের মাধ্যমে তারা দুনিয়ার সকল মুসলিম দল এবং মুজাহিদিন জামা’আ, যারা ইসলামের জন্য কাজ করছে; তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো। এবং বললো “ধারালো ছুরি” আর “বক্ষ বিদীর্ণকারী বুলেট” ছাড়া এই মুসলিমদের দেয়ার মতো আর কোন জবাব তাদের [জামাতুল বাগদাদীর] নেই। আদনানী এ বক্তব্য ঘোষণা করে, “আমরা দলগুলোকে বিচ্ছিন্ন করবো, সব তানজীম এবং তাঁদের ঐক্যকে নষ্ট করবো, নিশ্চয় আমরা এরূপ করবো, কারণ এই জামা’আ/দল ছাড়া আর কোন [বৈধ] জামা’আহ/দল নেই। তাই সব তানজীম ধ্বংস হোক, সব দল, ব্রিগেড আর বাহিনী ধ্বংস হোক। আমরা সব ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়নকে ছিন্ন করবো ,আমরাই মুসলিমদের জন্য একমাত্র বৈধ জামা’আ”, এবং যে বাইয়াহ দেবে না, তার একমাত্র প্রাপ্য হল “ধারালো ছুড়ি” অথবা “বক্ষবিদীর্ণকারী বুলেট”, আর তারপর জাহিলিয়্যাতের মৃত্যু। যারাই জামাতুল বাগদাদীতে যোগ দেবে না, এবং জামাতুল বাগদাদীর “খিলাফাহ”-কে স্বীকার করবে না, তাদেরকে “ধারালো ছুরি” আর “বক্ষ বিদীর্ণকারী বুলেটের” মাধ্যমে জবাব দেয়া হবে, এবং হত্যা করা হবে।

এ বক্তব্যের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ
http://tinyurl.com/zuwflt4

এ বক্তব্যগুলো থেকে প্রমাণিত হয় জামাতুল বাগদাদীর আক্বীদা হল, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা কুফর, আর যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে সে কাফির হয়ে যাবে। এবং তারাই মুসলিমদের একমাত্র বৈধ জামা’আ। আর এ হল সে একই গোমরাহি যা এর আগে আলজেরিয়ার GIA এবং জামাতুল মুসলিমিন তথা আত-তাকফির ওয়াল হিজরাহর মতো খারেজি জামা’আগুলোর মধ্যে দেখা গিয়েছিল। এবং এর আগে পূর্বযুগের খারেজিদের মধ্যেও দেখা গিয়েছিল।

খারেজিদের বৈশিষ্ট্যঃ

খাাওয়ারিজ এবং সকল বিদ’আতি জামা’আর মৌলিক বৈশিষ্ট্য জানার ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহর নিম্নোক্ত উক্তিদ্বয় প্রযোজ্যঃ

“এবং আহলুল হাওয়ার [যেসব লোকেরা নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে] অনেকেই মনগড়া বিভিন্ন মত উদ্ভাবন করে, আর যারা তাদের এই বিদ’আতি মতামতের সাথে একমত পোষণ করতে অসম্মত হয়, তাঁদেরকে তাকফির করে।“

“আহলুল বিদ’আর বৈশিষ্ট্য হল তারা কোন একটি নতুন বিষয় উদ্ভাবন করে এবং তারপর এই নব উদ্ভাবিত বিষয়কে দ্বীনের মধ্যে ওয়াজিব করে নেয়। এবং এসব নব উদ্ভাবিত বিষয়কে আক্বীদার অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে নেয়। আর একারণে মুসলিমদের ভেতর থেকে যারা এসব বিষয়ে তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তাদের উপর তারা তাকফির করে, এবং তাঁদের রক্ত হালাল ঘোষণা করে, যেরকম খাওয়ারিজ এবং জাহমিয়্যাহরা করেছিল।”

কবীরা গুনাহ কিম্বা গুনাহর কারণে মুসলিমদের তাকফির করা, খারেজি হবার জন্য কোন অবশ্য পালনীয়, বাধ্যতামূলক শর্ত না। বরং খারেজি হবার শর্ত বা খারেজিদের মূল বৈশিষ্ট্য হল তারা এমন কাজের জন্য মুসলিমদের কাফির ঘোষণা করে যা কুফর না। এগুলো কবীরা গুনাহ হতে পারে, সগীরা গুনাহ হতে পারে, কোন জায়েজ কাজ হতে পারে এমনকি প্রশংসনীয় কাজও হতে পারে। এবং মূল খাওয়ারিজদের বৈশিস্ট এটাই ছিল। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়, কিন্তু প্রতিটি ভাগ এই বৈশিস্টটি বজায় রাখে – তারা মুসলিমের এমনসব কাজের জন্য কাফির ঘোষণা করে – যে কাজগুলো কুফর না। পাশপাশি খারেজিদের একেকটি ফিরকা, নিজেদের মতো করে আরো কিছু নীতি যোগ করে নেয়।

আদি খাওয়ারিজ হারুরিয়্যাহদের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ-র অবস্থান এই ছিল যে – তারা [হারুরিয়্যাহ-খাওয়ারিজ] এমন অবস্থানের উপর ভিত্তি করে মুসলিমদের কাফির ঘোষণা করে, যেগুলো আহলুস সুন্নাহর মতে বৈধ না। এবং তাদের ভ্রান্ত অবস্থান ও ভ্রান্ত তাকফিরের উপর ভিত্তি করে তারা মুসলিমদের হত্যা করে।
একথার প্রমাণ হল আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং মু’আউয়িআ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু যে খারেজিদের হত্যা করেছিলেন, তাদেরকে তিনি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু জনে জনে জিজ্ঞেস করেন নি, তারা গুনাহ-র কারণে তাকফির করে কি না। আর না শুধুমাত্র শাসকের বিরোধিতা করার কারণে হারুরিয়্যাহদেরকে সাহাবায়ে কেরাম রাদীয়ালাহু আনহুম ওয়া ইজমা’ইন খারেজি বলে সনাক্ত করেছিলেন। বরং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়েছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতে।

হারুরিয়্যাহ-খাওয়ারিজ আলি রাদীয়াল্লাহু আনহুকে কোন গুনাহর ভিত্তিতে তাকফির করে নি। তারা আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে তাকফির করেছিলেন কারণ তিনি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দন্ধ নিরসনের জন্য একটি নিরপেক্ষ শারীয়াহ আদালত স্থাপন এবং এই নিরপেক্ষ শারীয়াহ আদালতের রায় মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন। এটা কবীরা বা সগীরা কোন ধরণের গুনাহই ছিল না। সুতরাং আমরা যদি ধরে নেই – শুধু যারা গুনাহ-র কারনে মুসলিমদের তাকফির করে তারাই শুধু খারেজি – তাহলে যারা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে তাকফির করেছিলে, অন্যান্য সাহবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমাই’ন সহ তৎকালীন সকল মুসলিমকে তাকফির করেছিল, তারা খারেজি ছিল না!

সুতরাং বোঝা গেল, অর্থাৎ, “যারা কবীরা গুনাহর উপর তাকফির করে”- শুধুমাত্র তারাই খারেজি এটা ভুল ধারণা। একইভাবে মাথা কামানো না হলে খারেজি বলা যাবে না, রজঃস্রাবের সময়ও সালাত নারীদের উপর ফরয এমন মনে না করলে খারেজি বলা যাবে না- এগুলোও ভ্রান্ত ধারণা। আহলুস সুন্নাহর পূর্ববর্তী যুগের উলেমাগণ যে সব দলকে খারেজি বলেছেন তাদের সবার কি মাথা কামানো ছিল? আত তাকফির ওয়াল হিজরাহর সদস্যদের কি মাথা কামানো ছিল? শুকরি মুস্তফার কি মাথা কামানো ছিল? খারেজিদের প্রতিটী দলের মধ্যে কি এমন ব্যক্তি ছিল যার একটি হাত স্ত্রী লোকের ছোট স্তনের ন্যায় ছিল?

মূলত এই ধরণের ভ্রান্তির কারণে, আক্বীদা ও ঈমানের ক্ষেত্রে যাদের মধ্যে গুলুহ, গোমরাহি ও বিচ্যুতি বিদ্যমান, তাদের ধ্যানধারণা প্রসার ও প্রচারের পথ সুগম হয়। কারণ যখনই কোন সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত আমল ও আক্বীদার ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞেস করা হয়, তারা বলে – “আমরা তো গুনাহর কারণে তাকফির করি না, আমাদের মাথা তো কামানো না আমরা কিভাবে খারেজি হই?” কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে, তাদের আক্বীদা হল সন্দেহ এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তাকফির করা এমন সব বিষয়ের ব্যাপারে যেগুলো কাউকে ইমানের থেকে বের করে দেয় না। এবং তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি হল তাকফিরের ব্যাপারে চরমপন্থী হওয়া, এবং নিয়মসমূহের অপপ্রয়োগ করা। যেমন – আল্লাহ্* ও রাসূল ﷺ যাদের কাফির বলেছেন, তাদের যে কাফির বলে না সে নিজেও কাফির। এই সঠিক নিয়মকে তাউয়ীল বা ব্যাখ্যা করে তারা দ্বীনে নতুন এক নিয়ম উদ্ভাবন করে নেয় যে- “আমি বা আমরা যাকে কাফির বলছি তাকে যারা কাফির বলে না তারাও কাফির।“ অর্থাৎ মূলত যারাই তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে, তাঁদের সবার ইমান এই ধরণের লোকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তাদের সাথে একমত পোষণ করাকে তারা ইমানের পূর্বশর্ত বানিয়ে নেয়।

প্রকৃতপক্ষে খারেজিদের মূল বৈশিষ্ট্য হল হল তারা মুসলিমদের রক্ত হালাল করে নেয় এবং এটাকে ইবাদাত মনে করে। এবং এরমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে শরীয়াহ অননুমোদিত যেকোন কারণে মুসলিমদের হত্যা করা। এটা কবীরা গুনাহর জন্য, নাকি সগীরা গুনাহ-র জন্য, নাকি মুস্তাহাবের জন্য, নাকি মাকরুহের জন্য, এরকম কোন কিছু নির্দিষ্ট করে হাদীসে বলা হয় নি। তাই আমরা বৈশিষ্ট্য হিসেবে গ্রহণ করবো যে, “তারা মুসলিমদের হত্যা করবে।" ইতিহাস থেকেও দেখে যায় যে সব খাওয়ারিজ কিন্তু কোন বিধি নিষেধ ছাড়া কবীরা গুনাহর উপর তাকফির করত না।

Abu Anwar al Hindi
02-10-2016, 09:35 AM
জামাতুল বাগদাদীর সমর্থকদের প্রতি কিছু প্রশ্নঃ

শাইখ আব্দুল্লাহ আল-মুহাইসিনির বক্তব্য এবং উপরোক্ত আলোচনার আলোকে কিছু প্রশ্ন আমরা জামাতুল বাগদাদীর সমর্থকদের জন্য উপস্থাপন করতে চাই। আমরা চাই, জামাতুল বাগদাদীর সমর্থকরা সৎভাবে, আদনানী-দাবিক এবং জামাতুল বাগদাদীর অন্য অফিশিয়াল বিবৃতিতে তাকফিরের ব্যাপারে তাঁদের যে নীতিসমূহ ও বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো মেনে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন, এবং কোন দ্বৈতনীতির অনুসরণ করবেন না। সৎ ভাবে, সাহসের সাথে, নিজেদের উমারাহ ও “খিলাফাতের” নীতির অনুসরণ করবেন, এবং সত্যকে গোপন করবেন না, এবং ভয় করবেন না এ ব্যাপারে কোন নিন্দাকারীর নিন্দা।

১। প্রথম প্রশ্ন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান জিহাদের সময় ৭টি মুজাহিদিন দল ছিল। যার নেতৃত্বে ছিল গুলাবুদ্দীন হেকমতিয়্যার, বুরহানুদ্দীন রাওব্বানী, ইউনুস খালিস, আব্দুর রাব্বি রাসুল সাইয়্যাফ, গাইলানি, মোজাদ্দেদি আর মোহাম্মাদি। একথা সবার জানা যে হেকমতিয়্যার, রব্বানীসহ প্রায় সব নেতাই পাকিস্তানের আইএসআই-এর কাছ থেকে সাহায্য ও প্রশিক্ষন গ্রহণ করে। আর আই.এস.আই এর মাধ্যমে অ্যামেরিকা উপরোক্ত বেশ কিছু দলকে স্টীঙ্গার মিসাইল দেয়, যেটা যুদ্ধের মোড় ঘুরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে বেশ কিছু কম্যান্ডার তো অ্যামেরিকাতেও গিয়েছিল। এই সাত নেটার দলের সমন্বয়ে ইসলামিক ইউনিটি অফ আফগানিস্তান মুজাহিদিন – গড়ে উঠে। অর্থাৎ এই প্রতিটী দল ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে একে অন্যের মিত্র। একথাও জানা যে, আরব মুজাহিদিন এই সাততী দলের বিভিন্নটির অধীনেই জিহাদ করেছিলেন, বিশেষ করে ইউনুস খালিস এবং সাইয়্যাফের দলের অধীনে। প্রশ্ন হল, শাইখ উসামা রাহিমাহুল্লাহ যেহেতু ইউনুস খালিসের দলের অধীনে কিছু জায়গায় জিহাদ করেছিলেন। আর ইউনুস খালিস যেহেতু হেকমতিয়্যারের মিত্র ছিল, আর হেকমতিয়্যার যেহেতু মুরতাদ পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে অস্ত্র নিচ্ছিল, তাই মুরতাদ হেকমতিয়্যারের মিত্র হবার কারণে ইউনুস খালিস মুরতাদ, আর মুরতাদ ইউনুস খালিসের কিংবা অন্য কোন মুজাহিদিন নেটার অধীনে যুদ্ধ করার কারণে, উসামাকে তাকফির করা হবে না কেন?

যদি কাতার মুরতাদ, আর কাতারের কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার কারণে আহরার মুরতাদ, আর বাশারের বিরুদ্ধে আহরারের সাথে মিত্রতার কারণে জাবহাত আল-নুসরা, জাবহাত আল-মুরতাদীন হয়, যেরকম দাবিকে অনেক বার দাবি করা হয়েছে, তাহলে কেন ইউনুস খালিসের অধীনে থাকার কারণে উসামা মুরতাদ হবে না?


২। দ্বিতীয় প্রশ্ন। শাইখ উসামা রাহিমাহুল্লাহ পাকিস্তানি আই.এস.আই এর তৎকালীন প্রধান হামিদ গুলের সাথে দেখা করেছিলেন, তাহলে কেন শাইখ উসামাকে রাহিমাহুল্লাহ তাগুতের এজেন্ট কিংবা মুরতাদ বলা হবে না?


৩। শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রাহিমাহুল্লাহ, পাকিস্তানের মুরতাদ শাসক জিয়াউল হকের প্রশংসা করেছেন (তাফসির সূরা তাওবাহ দ্রষ্টব্য), যা থেকে প্রমাণ হয় তিনি এই মুরতাদকে মুরতাদ বলে মনে করতেন না। তাহলে শাইখ আব্দুল্লাহ আযযামকে রাহিমাহুল্লাহ মুরতাদ বলা হবে না কেন?


৪। গন্ততান্ত্রিক সংসদের সকল সদস্যকে শাইখ আব্দুল্লাহ আযযাম রাহিমাহুল্লাহ মুরতাদ বলেন নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের প্রশংসা করেছেন – তাহলে কেন শাইখ আব্দুল্লাহ আযযামকে রাহিমাহুল্লাহ মুরতাদ বলা হবে না।



৫। আজকে সিরিয়াতে ফ্রি-সিরিয়ান আর্মি FSA যেমন গণতন্ত্রের জন্য বা সর্বোচ্চ ইসলামি ফ্লেভারের গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করছে, তেমনি আফগানিস্তানের ৭ মুজাহিদিন দলের অন্তর্ভুক্ত National Islamic Front of Afghanistan – মুরতাদ জহির শাহর প্রত্যাবর্তনের পক্ষে ছিল। আর এ দলটির সাথে ঐক্য ছিল বাকি ৬টি দলের। তাহলে এ দলের সাথে মিলে কাজ করার কারণে কেন শাইখ উসামা রাহিমাহুল্লাহ, শাইখ আব্দুল্লাহ আযযামকে রাহিমাহুল্লাহ তাকফির করা হবে না?


৬। তালিবান ৯০-এর দশকে কিছু শর্ত সাপেক্ষে জাতিসঙ্ঘে যোগ দেয়ার আবেদন করেছিল, দুঃস্থ আফগানদের জন্য ত্রান পাবার জন্য। একথা শাইখ উসামার রাহিমাহুল্লাহ জানা ছিল। শুধু উসামার না সবারই এটা জানা ছিল, এটা গোপন কিছু ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি কিভাবে আমীরুল মু’মীনিন মুল্লাহ মুহাম্মাদ উমারকে রাহিমাহুল্লাহ বাই’য়াহ দিলেন? কিভাবে শাইখ আবু মুসাব আল-যারক্বাউয়ী একথা জেনেও আফগানিস্তানে থাকলেন এবং উসামাকে পরবর্তীতে বাই’য়াহ দিলেন, যে উসামা এসব জেনেশুনে মুল্লাহ উমারকে বাই’য়াহ দিয়েছিল? কেন উসামা রাহিমাহুল্লাহ তাকফির করলেন না মুল্লাহ উমারের উপর? কেন আল-যারক্বাউয়ী রাহিমাহুল্লাহ তাকফির করলেন না মুল্লাহ উমার রাহিমাহুল্লাহ ও উসামার রাহিমাহুল্লাহ উপর? কেন আল-যারক্বাউয়ী এবং উসামা – দুজনকেই একারণে তাকফির করা হবে না?


৭। দেইর আয-যুর থেকে জামাতুল বাগদাদির প্রকাশিত একটি অফিশিয়াল ভিডিওতে আবু মাইসারা আশ-শামী বলেছে আমীরুল মুমীনিন মুল্লাহ আখতার মানসুর হাফিযাহুল্লাহ তাগুত, এবং তালিবান তাগুত।

http://tinyurl.com/zf2yjs2

সূরা নিসার ৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্* আমাদের বলছেন, যারা ইমানদার তারা ক্বিতাল করে আল্লাহ-র রাস্তায়, আর যারা কাফির তারা জিহাদ করে তাগুতের রাস্তায়। যদি তালিবান ও মুল্লাহ মানসুর তাগুত হয়- যেমন জামাতুল বাগদাদীর অফিশিয়াল প্রকাশনায় বলা হয়েছে – তাহলে কেন শাইখ আইমান আল-যাওয়াহিরি হাফিযাহুল্লাহ এবং আল-ক্বাইদার সকল নেতাকে তাকফির করা হবে না? যেহেতু তিনি তাগুত মুল্লাহ মানসুরকে হাফিযাহুল্লাহ বাই’য়াহ দিয়েছেন, আর তাগুতের জন্য যুদ্ধ করছেন? কেন আল-শাবাবকে মুরতাদীন বলা হবে না? কেন আল-ক্বাইদা ফি বিলাদ আল ইসলামি-মাগরিব [AQIM] কে তাকফির করা হবে না?


৮। কেন আদনানী, শাইখ যাওয়াহিরিকে হাফিযাহুল্লাহ কাফির ঘোষণা করছে না? সর্বশেষ বক্তব্যে, কিংবা সর্বশেষ দাবিকেও কেন শাইখ যাওয়াহিরিকে হাফিযাহুল্লাহ তাকফির করা হল না? কেন খোদ আবু মাইসার আশ-শামী তালিবান ও তাঁদের নেতাকে তাগুত বললো, কিন্তু আগুতের রাস্তায় যুদ্ধ করা শাইখ আল-যাওয়াহিরিকে হাফিযাহুল্লাহ তাকফির ঘোষণা করলো না? “যে কাফিরকে কাফির বলে না সে নিজেও কাফির” – তাহলে কেন আবু মাইসারা, আর আল-আদনানীকে তাকফির করা হবে না? যখন তারা জেনে বুঝেও শাইখ আল-যাওয়াহিরিকে হাফিযাহুল্লাহ তাকফির করছে না? আল্লাহ্* কি বলেন নি ইজহার আদ-দ্বীনের কথা? আল্লাহ্* কি সত্যকে প্রকাশ করতে নির্দেশ ও সত্য গোপন করা থেকে বিরত থাকতে বলেন নি? হে জামাতুল বাগদাদির সমর্থকেরা, জবাব দিন, কেন তাগুতের রাস্তায় জিহাদ করা ব্যক্তিকে, জেনে শুনে তাকফির না করার কারনে আদনানীর উপর তাকফির করা হবে না?


৯। লিওয়া ওয়াল ইসলাম ম্যাগাযিনের ১৪০৯ হিজরি সনের ১১তম সংখ্যায় শাইখ বিন বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন – ““আল্লাহ্*র পথে দাওয়াহ দেয়ার নিয়তে অথবা জাতীয় কোন উদ্দেশ্যেমানব রচিত আইনে শাসিত দেশসমূহে আইন রচনাকারী পার্লামেন্টে মুসলিমদের জন্য সদস্যপ্রার্থী হওয়া অনুমোদনযোগ্য।“ একজন মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফাকীহ হিসেবে তার তো উযর বিল জাহল নেই, এই ধরণের বক্তব্যের পর কেন শাইখ বিন বাযকে মুরতাদ বলা হবে না ?



১০। বিন বায রাহিমাহুল্লাহর এরকম প্রকাশ্য বক্তব্যের পরও তাকে মুরতাদ না বলার কারণে শায়খ আবদুর রাহমান রাহিমাহুল্লাহ কি কাফিরকে কাফির না বলার দোষে দোষী না? এজন্য শায়খ আবদুর রাহমান রাহিমাহুল্লাহ সব বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী – রাহিমাহুল্লাহু ইজমাইনকে কে মুরতাদ বলা হবে না? বাগদাদী-আদনানী তথা জামাতুল বাগদাদী কেন বিন বায রাহিমাহুল্লাহকে মুরতাদ বলে ঘোষণা করছে না? কাফিরকে কাফির না বলার অপরাধে কেন তাদেরকেও মুরতাদ বলা হবে না?



১১। জামাতুল বাগদাদী তাঁদের নিজেদের কিছু সদস্যকে তাকফিরের ক্ষেত্রে চরমপন্থার অভিযোগে হত্যা করেছিল। বিশেষ করে আল হাযিমির সমর্থকদের। এবং এদের মধ্যে কেউ কেউ খোদ বাগদাদীর উপর তাকফির করেছিল, কারণ তারা বলছিল বাগদাদী সব মুরতাদদের মুরতাদ বলে ঘোষণা করছে না এবং মুরতাদদের কাছ থেকে বাই’য়াহ গ্রহণ করছে। তাই এই খারেজিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। প্রশ্ন হল, এই খারেজিদের কি মাথা কামানো ছিল? তারা কি কবীরা গুনাহর উপর তাকফির করেছিল? তারা কি বলেছিল রজঃস্রাবের সময় সালাত আদায় ফরয? তাদের মধ্যে ঐ সমস্ত বৈষিস্ট্য ছিল, যা ছিল পূর্বের খারেজিদের মধ্যে?


হে জামাতুল বাগদাদির সমর্থকগোষ্ঠী জবাব দিন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এবং সত্যকে গোপন করবেন না। জবাব দিন আল্লাহ্*কে সাক্ষী রেখে এবং দ্বৈত নীতির অনুসরণ করবেন না। জবাব দিন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এবং কাপুরুষ হবেন না। জবাব দিন আল্লাহ-কে সাক্ষী রেখে এবং কোন নিন্দাকারীর নিন্দার ভয় করবেন না।

Taalibul ilm
02-10-2016, 12:09 PM
হে জামাতুল বাগদাদির সমর্থকগোষ্ঠী জবাব দিন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এবং সত্যকে গোপন করবেন না। জবাব দিন আল্লাহ্*কে সাক্ষী রেখে এবং দ্বৈত নীতির অনুসরণ করবেন না। জবাব দিন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে এবং কাপুরুষ হবেন না। জবাব দিন আল্লাহ-কে সাক্ষী রেখে এবং কোন নিন্দাকারীর নিন্দার ভয় করবেন না।