PDA

View Full Version : শায়খ মাকদীসীর একটি বইয়ের পর্যায়ক্রমিক অনুবাদ



আওলাক্বীর শিষ্য
04-12-2016, 12:43 PM
হালের মুরজিয়াদের তৈরি সংশয় অপনোদনের দ্বারা পাঠকের দৃষ্টিনন্দন

আওলাক্বীর শিষ্য
04-12-2016, 12:50 PM
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থণা করি, এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাই আমাদের নফসের ক্ষতি ও খারাপ আমল থেকে। আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে কেউ ভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি ভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না।

অতঃপর...

এই কয়েকটি পৃষ্ঠা, যার মূল অংশ আমি লিখেছিলাম নবী মুহাম্মদ মুস্তফা (তাঁর উপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণ সালাম বর্ষিত) ১৪০৮ হিজরীর মুহাররম মাসে। আর সেটি এই পুস্তিকার নামে উল্লিখিত বিষয়টি নিয়েই লিখেছিলাম, তবে সেটি সংক্ষিপ্ত ছিল এবং তখন এর নাম ছিল رد الهداة، علـى مـن زعـم أن لـيس في الأعمـال والأقـوال كفـر مـا لم يـرتبط باعتقــاد إلا الصــلاة {যারা বলে "নামায ব্যাতীত অন্যান্য কাজ ও কথার মাধ্যমে কুফরী হয় না যতক্ষণ সেটা বিশ্বাসের সাথে সংযুক্ত না থাকে" তাদের প্রতি হিদায়াত প্রাপ্তদের জবাব}। আর লেখাটি ছিল যারা এধরণের কথা বলে তাদের প্রতি প্রতিউত্তর। ঐসময়ে আমি লেখাটি প্রচার কিংবা ছাপানোর প্রতি গুরুত্ব দেই নি, যদিও পাকিস্তানে আমাদের কিছু ভাই সেটা মুদ্রণযন্ত্রে ছাপিয়েছিল এবং লেখাটি নিয়ে তারা পরস্পর আলোচনা করেছিল এবং মূল লেখার সাথে তারা কিছু অংশ যোগও করেছিল।

অতঃপর বর্তমানে আমি যখন (মুসলিম) দেশগুলোতে হালের মুরজিয়াদের দৌড়াত্ব দেখলাম এবং দেখলাম যে তাদের ফিতনা মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে এবং জনসাধারণের মাঝে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে ও প্রসারিত হচ্ছে; এমতাবস্থায় আমি এই লেখাটি প্রচারের সিদ্ধান্ত নিলাম যাতে আমাদের সত্যসন্ধানী ভাইরা জাহমিয়া ও ইরজাপন্থীদের তৈরি সংশয় অপনোদনে লেখাটি দ্বারা উপকৃত হন। সুতরাং আমি মূল লেখাটিতে ফিরে গেলাম(১).. এবং একে পরিমার্জন করলাম এবং মূল বিষয় থেকে দূরবর্তী নয় এমন সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সন্দেহের জবাব যোগ করলাম। আর ভবিষ্যতে যদি আরো নতুন সন্দেহ তৈরি হয় এবং প্রসিদ্ধি লাভ করে, তবে সেগুলোর জবাব নতুন একটি খণ্ডে প্রদান করতে আমার কাছে কোন বাধা নেই। যদি হায়াত বাকী থাকে এবং আল্লাহর সাহায্য ও তাওফীক লাভ হয়।

"যদি বিচ্ছা ফিরে আসে, আমিও ফিরে আসব-
আর স্যান্ডেল থাকবে প্রস্তুত।" (কবিতা)

আর আপনি দেখবেন, এই কাজে আমরা কোন শাখাগত বিষয় নিয়ে কথা বলছি না, বরং এটি দীনের মৌলিক ও বুনিয়াদী বিষয়। আর এ লেখার দ্বারা আমরা তাদের নিক্ষিপ্ত তীর প্রতিহত করছি যারা সত্যপথ থেকে নিজেরা পথভ্রষ্ট হয়ে অন্যদের পথভ্রষ্ট করছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করি, তিনি যেন আমাদের ইখলাস দাণ করেন এবং তাঁর একত্ববাদী বান্দা ও সৈনিক হিসেবে কবুল করেন। এই তো...

শুরুতে এবং শেষে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এর উপর এবং তাঁর পরিবার ও সমস্ত সাহাবীদের উপর।

আবু মুহাম্মদ আল মাকদীসী
১৪১২ হিজরী

(১) এটা ভাইদের যোগকরা অতিরিক্ত অংশ ব্যাতিরেকে; কারণ সেটা হাকিমিয়্যাহ সংক্রান্ত ছিল যা মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

আওলাক্বীর শিষ্য
04-12-2016, 12:53 PM
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম


অবগত হন! আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন। ইলম ও আল্লাহর দিকে দাওয়াতের দাবীদার এমন বহু লোকের কাছ থেকে আমাদের কাছে বিভিন্ন বক্তব্য পৌছেছে। যার সারকথা হচ্ছে- এমন কোন কথা বা কাজ নেই যা কোন ব্যাক্তি বললে বা করলে কুফরীতে পতিত হবে যতক্ষণ সে এ কথা বা কাজকে নিজ আকীদার সাথে সংযুক্ত না করবে। তবে তারা নামাযকে এর ব্যাতিক্রম বলে থাকেন... এবং প্রায়ই তারা হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাক্বীক্ব আল উক্বাইলী (রাঃ) এর এই হাদীস দ্বারা দলীল দিয়ে থাকেন: মুহাম্মদ সাঃ এর সাহাবীগণ নামায ব্যাতীত অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফর মনে করতেন না। (তিরমিযী) এছাড়াও তারা দলীল হিসেবে একটি প্রসিদ্ধ উক্তি ব্যবহার করে থাকেন "আমরা কোন গুনাহুর কারণে কোন মুসলিমকে কাফের বলি না যতক্ষণ সে একে হালাল মনে না করবে", এবং প্রায়ই তাদের অনেকে এই উক্তিকে মারফু' ও হাদীস আখ্যা দিয়ে থাকেন।

এমনও হয়েছে যে, আমি তাদের কয়েকজনের সাথে আলোচনা করেছি এবং তাদের সামনে কয়েকটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছি যা তাদের তৈরি করা মূলনীতির বিরূদ্ধে যায় এবং একে খন্ডিত করে দেয়; যেমনঃ (আল্লাহ বা তাঁর রাসুলকে) গালি দেয়া, (দ্বীনের কোন বিষয় নিয়ে) উপহাস করা, কোন মূর্তিকে সেজদা করা ইত্যাদি, তখন তারা বলে ওঠে-

"এসমস্ত কথা বা কাজ আকীদার সাথে সম্পর্ক থাকা ব্যাতীত ঘটা সম্ভব নয়... কারণ গালিদাতা কিংবা উপহাসকারী কিংবা মূর্তিকে সেজদাকারী নিশ্চয়ই তার মনে ভ্রান্ত আকীদা রাখে কিংবা দ্বীন বা দ্বীনের কোন বিষয়ের প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করে থাকে, যা তাকে গালি, উপহাস কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য কাজ করতে প্ররোচিত করে থাকে... সুতরাং এটা (আকীদার কারণে) কুফর, আমল বা কাজের (কারণে) না।"
... তারা কেবল এ নীতির ভিত্তিতেই কোন কাজের উপর কুফরীর হুকুম আরোপ করে থাকে।

অবগত হন! আমি এখানে যে বিষয়টিতে জোর দিচ্ছি তা হচ্ছে তাগুতের কাছে বিচার-মীমাংসা চাওয়া। (তারা বলতে চায়) এ কাজটি করার কারণে কোন ব্যাক্তি কুফরীতে পতিত হয় না যতক্ষণ সে এ কাজটি আল্লাহর বিধান (অনুযায়ী বিচার-মীমাংসাকে) অস্বীকার না করে কিংবা একে হালাল মনে না করবে।

তারা আল্লাহর পাশাপাশি বিধান রচনাকারী যুগের এই সমস্ত তাগুতদের পক্ষ নেয় এবং কুফর বা কুফরের মূলনীতি সম্পর্কে বলে যে, "তাগুতের কাছে বিচার-মীমাংসা চাওয়া, আল্লাহর পাশাপাশি বিধান তৈরি করা, আল্লাহর দ্বীন নিয়ে উপহাস করা, আল্লাহর বিধানকে গালি দেয়া, গায়রুল্লাহর সেজদা ইত্যাদি এই কাজগুলো স্বয়ং কুফর নয় বরং জুহুদ (অস্বীকার) কিংবা ইস্তিহ্*লাল (হালাল মনে করার) কারণে কুফর।

আমার ধারনা ছিল এই বক্তব্যগুলো এতটাই নিকৃষ্ট ও দলীল-প্রমাণ বিহীন যে এটা কেবল কতক গোমরাহ লোকের পক্ষেই বলা সম্ভব। কিন্তু এখন আমাকে দেখছি যে, যাদেরকে আলেম ও দাওয়াতের ময়দানে নেতৃত্বদাণকারী ভাবা হয়, ইতর-ভদ্র সর্বমহলে যাদের দিকে আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা হয়, তারা পর্যন্ত এই ধরণের অসুস্থ চিন্তাভাবনা পোষণ করে এবং এগুলো প্রচার ও প্রসার করে থাকে যাতে করে দ্বীনের দুশমন অত্যাচারী মুরতাদ শাসকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করা যায়।

একারণেই আমি এই পৃষ্ঠাগুলো লেখা শুরু করেছি যাতে এই সন্দেহ-সংশয়গুলো নিরসন করা যায়। পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত মাওলার কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন একমাত্র তার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তেই এ কাজ করার তাওফীক্ব দাণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ অভিভাবক ও শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।


(২) হাকিমও এই হাদীসটি আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি তার পদ্ধতি অনুযায়ী সহীহ।

Tuba
04-12-2016, 01:20 PM
এখানেই কি শেষ???

আওলাক্বীর শিষ্য
04-12-2016, 09:31 PM
অধ্যায়


মুরজিয়া কারা? এ সম্পর্কে আলোচনা


মুরজিয়ারা ৩ শ্রেণীরঃ
প্রথম শ্রেণী: যাদের ইরজা ঈমান ও 'ক্বাদার' এর ক্ষেত্রে মুতাযিলা ও ক্বাদারিয়্যা ফেরকার অনুরূপ।
দ্বিতীয় শ্রেণী: যাদের ইরজা ঈমান ও 'জাবর ফিল আ'মাল' এর ক্ষেত্রে জাহমিয়্যা ফেরকার অনুরূপ।
তৃতীয় শ্রেণী: এরা জাবরিয়্যা ও ক্বাদারিয়্যা ফেরকার বাইরের। এশ্রেণীর অন্তর্ভূক্ত অনেক ফেরকা আছে, যেমন: ইউনুসিয়্যা, গাসসানিয়্যা, সাওবানিয়্যা, তাওমানিয়্যা, মুরিসিয়্যা।

তাদের নাম মুরজিয়া রাখা হয়েছে কারণ তারা আমলকে ঈমান থেকে পিছিয়ে দিয়েছে। আর ইরজা অর্থ التــأخير বা পিছিয়ে দেয়া, বিলম্বিত করা। যেমন (আরবীতে) বলা হয়- أرجيتــه وأرجأته অর্থাৎ আমি একে পিছিয়ে দিয়েছি।

ঈমানের ক্ষেত্রে মুরজিয়ারা আবার ২ প্রকার:

প্রথম: চরমপন্থী মুরজিয়া (কালামশাস্ত্রে পারদর্শী মুরজিয়া)।
দ্বিতীয়: ফিকহবিদদের অন্তর্ভূক্ত মুরজিয়া।(৩)

* চরমপন্থী মুরজিয়াদের বিষয়টি হচ্ছে- জাহম বিন সফওয়ান এবং তার অনুসারীরা বলে থাকে: ঈমান আনয়ন করা হচ্ছে কেবলমাত্র ক্বালব বা অন্তর দ্বারা সত্যায়ন করা এবং (ঈমানের বিষয়াদি সংক্রান্ত) জ্ঞান অর্জন করার নাম। তারা অন্তরের কাজকে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করে না। তারা ধারনা করে একজন মানুষ শুধুমাত্র অন্তর দ্বারাই কামেল ঈমানদার হয়ে যায়, যদিও সে এর পাশাপাশি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে গালি দেয়, আল্লাহর বন্ধুদের বিরূদ্ধে শত্রুতা করে, মসজিদ ধ্বংস করে, কুরআনের মাসহাফ কিংবা মুমিনদের চূড়ান্ত অবমাননা করে, কাফেরদের চূড়ান্ত পর্যায়ে সম্মান করে। জাহম বিন সফওয়ান ও তার অনুসারীরা বলে: এ সবগুলো কাজই গুনাহ, তবে ঈমানের বিপরীত নয়। কারণ ঈমান থাকে অন্তরে। বরং সে এ কাজগুলো করার পরেও বাতিনী বা অভ্যন্তরীনভাবে আল্লাহর দৃষ্টিতে একজন মুমিন।

তারা বলে: এই ব্যাক্তির উপর দুনিয়াতে কাফেরের অনুরূপ হুকুম সাব্যস্ত হবে, যেহেতু এ কথাগুলো কুফরের লক্ষণ (তবে স্বয়ং কুফর নয়)।

(৩) এখানে তৃতীয় একটি প্রকারও আছে যারা বলে ঈমান হচ্ছে শুধুমাত্র মুখে উচ্চারিত কথা, কাররামিয়্যা ফেরকা ব্যাতীত অন্য কেউ এমনটি বলেনি।

আওলাক্বীর শিষ্য
04-13-2016, 09:56 AM
কিন্তু যখন তাদের সামনে কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা' দ্বারা দলীল পেশ করা হয় যে, সত্ত্বাগতভাবে উল্লিখিত (প্রতিটি কাজই কুফর এবং এরা) প্রত্যেকেই কাফের যাদেরকে আখিরাতে শাস্তি প্রদান করা হবে, তারা বলে: এগুলো হচ্ছে অন্তর দ্বারা সত্যয়ন না করা কিংবা ইলম না থাকার দলীল। কেননা তাদের কাছে কুফর হচ্ছে একটি বিষয়- অজ্ঞতা, এবং ঈমানও একটি ইলম (জ্ঞান) অথবা কুফর হচ্ছে অন্তর দ্বারা অস্বীকার করা এবং ঈমান হচ্ছে অন্তর দ্বারা সত্যয়ন। তাদের নিজেদের মধ্যেও মতপার্থক্য আছে যে, অন্তরের সত্যয়ন এবং ইলম কি একই জিনিস নাকি ভিন্ন।

এহেন বক্তব্য ঈমান সম্পর্কে ব্যক্ত সবচেয়ে বিকৃতিপূর্ণ বক্তব্য হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ কালাম শাস্ত্রবিদ মুরজিয়া এ মত পোষণ করে থাকে। সালাফগণ এ কথা যারা বলে থাকে তাদেরকে কাফের আখ্যা দিয়েছেন, যেমন: ওয়াকি' ইবনুল জাররাহ, আহমাদ বিন হাম্বল, আবু উবায়দ। তারা বলেন: কুরআনের নস (text, লিখিত বক্তব্য) দ্বারা প্রমাণিত যে ইবলিস কাফের, অথচ তার কুফরের কারণ তার অহংকার এবং আদমকে সেজদা না করা; কোন খবরকে অস্বীকার করা নয়। একইকথা ফির'আওন ও তার গোত্রের ব্যাপারে, যেমন: আল্লাহ বলেন, {وجحدوا بها واستيقنتها أنفسهم ظلماً وعلواً} "অন্যায় ও অবাধ্যতার কারণে তারা (নিদর্শনসমূহ) অস্বীকার করলেও তাদের অন্তরগুলো একে নিশ্চিতরূপে বিশ্বাস করেছিল।" [সুরা নামল: ১৪], মুসা আলাইহিস সালাম ফির'আওনকে বলেছিলেন, {لقد علمت ما أنزل هؤلاء إلا رب السموات والأرض بصائر} "তুমি অবশ্যই জান প্রমাণাদি হসেবে এই (নিদর্শনগুলো) আসমান ও জমীনের রব্ব ব্যাতীত অন্য কেউ নাযিল করে নি।" [সুরা ইসরা: ১০২]।

দেখুন! মুসা যিনি কিনা 'আস সাদিক্বুল মাসদুক্ব' (সত্যবাদী এবং আল্লাহ কর্তৃক সত্যায়িত)
তিনি ফির'আওনকে এ কথা বলছেন! সুতরাং এটাই প্রমাণ যে ফির'আওন জানত এই আয়াত ও নিদর্শনসমূহ আল্লাহ নাযিল করেছেন, এরপরেও সে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় অবাধ্য ও বিদ্রোহী ছিল তার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্যের ফাসাদ বা ভ্রান্তির কারণে, ইলম না থাকার কারণে নয়। আল্লাহ বলেন, {إن فرعون علا في الأرض وجعل أهلها شيعاً يستضعف طائفة منهم يذبح أبناءهم ويستحيي نساءهم إنه كان من المفسدين} "নিশ্চয়ই ফির'আওন জমীনে পরাক্রমশালী হয়েছিল এবং এর অধিবাসীদের শ্রেণীবিভক্ত করেছিল, তাদের একটি শ্রেনীকে সে হীনবল করেছিল, তাদের পুত্রদের জবাই করত এবং নারীদের জীবিত রাখত। নিশ্চয়ই সে ফাসাদ সৃষ্টিকারী ছিল।" [সুরা কাসাস: ৪]

একইভাবে আল্লাহ ইহুদীদের ব্যাপারে বলেছেন: {الذين آتيناهم الكتاب يعرفونه كما يعرفون أبناءهم} "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা (মুহাম্মদ সাঃ কে) এমনভাবে চিনে যেমনভাবে তারা নিজ পুত্রদের চিনে।" [সুরা বাকারাহ: ১৪৬]

এমনিভাবে মুশরিকদের সম্পর্কে বলেছেন:
{فإنهم لا يكذبونك ولكن الظالمين بآيات الله يجحدون} "প্রকৃতপক্ষে তারা আপনাকে অস্বীকার করে না, বরং (এই) অত্যাচারীরা আল্লাহর নিদর্শনগুলোকেই প্রত্যাখ্যান করে।" [সুরা আন'আম: ৩৩]

* ফুকাহা বা ফিকহবিদদের অন্তর্ভূক্ত মুরজিয়াদের বিষয় হচ্ছে:
তারা বলে থাকে ঈমান হচ্ছে অন্তর দ্বারা সত্যায়ন, জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ তবে কাজ বা আমল ঈমানের অন্তর্ভূক্ত নয়। কুফা অধিবাসী একদল ফুকাহা ও আবেদ এই মতের অনুসারী ছিল। তাদের এই বক্তব্য (জাহমিয়্যা ফেরকার প্রতিষ্ঠাতা) জাহম বিন সফওয়ানের অনুরূপ নয় কেননা তারা স্বীকার করে একজন মানুষ মুমিন হতে পারবে না যদি সে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও মুখে ঈমানের স্বীকৃতি না দেয়, তারা আরও স্বীকার করে তাসদীক্বুল ক্বালব বা অন্তরের সত্যায়ন সত্ত্বেও ইবলিস, ফির'আওন প্রমুখ কাফের। কিন্তু যেহেতু তারা কাজ বা আমলকে ঈমানের অন্তর্ভূক্ত করে নি সেহেতু জাহমের ব্যাপারে প্রদত্ত বক্তব্য তাদের উপরও আরোপিত হবে। তারা এও বলে না যে আমলের মাধ্যমে ঈমানের হ্রাস ও বৃদ্ধি ঘটে, বরং তারা বলে ঈমানের বৃদ্ধি কেবল শরীয়ত পূর্ণ হওয়ার আগে ঘটত; এটা এই অর্থে যে যখনই আল্লাহ কোন আয়াত নাযিল করতেন তখনই তাকে সত্যায়ন করা জরুরী হয়ে যেত এভাবে পূর্বে কৃত সত্যায়নের সাথে নতুন সত্যায়ন যোগ হওয়ার মাধ্যমে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পেত। কিন্তু আল্লাহ যখন (কুরআন) নাযিল পরিপূর্ন (তথা সমাপ্ত) করলেন, তখন তাদের মতে ঈমানের মধ্যে পার্থক্য করার (তাফাদ্বুল) অবকাশ থাকে নি, বরং সমস্ত মানুষের ঈমান সমান। হোক তা প্রথম যুগের প্রথম শ্রেণীর সাহাবী যেমন: আবু বকর ও উমারের ঈমান কিংবা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, আবু মুসলিম খুরাসানী ও তাদের মত পাপিষ্ঠতম লোকদের ঈমান।(৪)

(৪) শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যার লেখা কিতাবুল ঈমান থেকে সংগৃহিত ও সংক্ষেপিত।