PDA

View Full Version : বাগদাদ থেকে দামেশক



Tuba
04-30-2016, 11:12 AM
লেখাটি আমাদের প্রিয় দ্বীনি ভাই বহু কষ্ট এবং শ্রমের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের মাঝে অল্প অল্প করে লিখেছিলেন। তার অনুরোধ ছিল লেখাটি যেন আমি নোট আকারে প্রকাশ করি। এবং পরবর্তীতে সকল দ্বীনি ভাইকে পৌছানোর জন্য পিডিএফ আকারে কোন সাইটে পোষ্ট করি। আপাতত আমি নোট আকারে প্রকাশ করলাম। লেখাটি যেহেতু তথ্য বহুল এবং সকলের জানা প্রয়োজন সেহেতু আপনারা সকলে লেখাটি প্রচার করবেন আশা করছি। ------------ (Destination Aqis)
=== === === === === === === === === === === === === === === === === === === === ===
بسم الله الرحمان الرحيم
.
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর,যিনি জিহাদকে গৈরবের বস্তু বানিয়েছেন ৷এবং দোওয়া ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূল সঃ এর উপর, যিনি "শাম"কে মুসলমানদের শেষ আশ্রয়স্থল ঘোষণা করেছেন ৷
.
জিহাদ আল্লাহ তা'লার একটি ফরজ বিধান ৷ যেমন নামাজ,রোযা,হজ্ব,যাকাত আল্লাহর ফরজ বিধান ৷ জিহাদ প্রতিটি মুসলিমের উপর ফরজ ৷আল্লাহ বলেন: ""নিশ্চই আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে মুমিনদের থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন ৷ তাদের কাজ হলো (তারা) আল্লাহর পথে লড়াই করবে ৷ তারা (শত্রুদের উপর) হত্যাজজ্ঞ চালাবে, এবং (প্রয়োযনে) নিজেরাও নিহত হবে ৷ আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি তাওরাতেও ছিলো, ইন্জিলেও ছিলো, এবং কোরানেও আছে ৷ আর আল্লাহর চেয়ে উত্তম ওয়াদা রক্ষাকারী কে আছে ..!! অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে যে ক্রয়-বিক্রয় করেছ সে ব্যাপারে সুসংবাদ গ্রহণ করো (নিশ্চিন্ত থাকো)৷ এটাই মহা বিজয় ""(সূরা তাওবাহ-111)
.
ইমাম জুহুরী বলেন: ""ব্যক্তির যোগ্যতার ভিন্নতার কারণে এই ফরজ বিধানেও ভিন্নতা ঘটে ৷ শারিরীক ও আর্থিক ভাবে সক্ষম,শর'য়ী গ্রহণযোগ্য কোন পিছুটান নেই, এমন মুসলিমের উপর নিপ্রিত মুসলিম জনপদের সাহায্যে অস্ত্রহাতে বেরিয়ে পড়া ফরজ ৷ যার শুধু আর্থিক সক্ষমতা আছে, মুজাহিদীনের উপর খরচ করা তার জন্য ফরজ ৷ যার লেখালেখির যোগ্যতা আছে, জিহাদের ফাজায়েল উপকারিতা ও প্রয়োজনিয়তা নিয়ে লেখালেখি করা তার উপর ফরজ ৷ নিপ্রিত মুসলিম জনপদের আর্তনাদ, সক্ষম মুসলিমদের নিকট পৌঁছে দেয়া তার দায়ীত্ব""৷ এমূলনীতির উপর ভিত্তি করে বলা যায়, আমরা যারা অনলাইনে জিহাদের খবরাখবর রাখি, পড়ি ও লিখি, তারাও জিহাদের ময়দানে আছি ৷ যদিও আমরা শিশু পর্যায়ের ৷
.
একজন মুজাহীদকে অস্ত্রচালনা শিখার পূর্বে জিহাদের মাসলা-মাসায়েল শিখা জরুরী ৷গণিমত বণ্টন, রিদ্দাত,আমীরের আনুগত্যের আবশ্যিকতা ইত্যাদী মাসলা-মাসায়েল জানা ফরজ ৷ কারণ ধর্মীও জ্ঞানহীন একজন মুজাহীদ আর একজন ডাকাতের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই ৷ স্বসস্ত্র ডাকাত জানে না কাকে হত্যা করতে হবে ৷ সে যাকে ইচ্ছা হত্যা করে দিবে ৷ তেমনি ধর্মীও জ্ঞানহীন মুজাহীদ জানে না কাকে হত্যা করতে হবে ৷ সে যাকে ইচ্ছা হত্যা করে দিবে ৷ তাকফীর করে ফেতনা সৃষ্টি করবে ৷
.
জিহাদের এই ব্যবসা (আল্লাহ ও বান্দার মাধ্যে) যেমন লাভ জনক, তেমনি ঝুঁকিপূর্নও ৷ এই পথ বিপদ সংকুল ৷ পদে পদে ফিতনার ঝুঁকি ৷ এই পথে চলতে প্রয়োজন কোরান-হাদীসের পর্যাপ্ত জ্ঞান ৷ প্রয়োজন ইতিহাসের জ্ঞান ৷ যে জাতি ইতিহাস ভুলে যায় সে জাতি থেকে সুন্দর ভবিষ্যত আশা করা যায় না ৷ অনুরূপ যে মুজাহীদ সঠিক ইতিহাস জানে না ৷ এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না ৷ সে কখনই জিহাদের ফসল ঘড়ে তুলতে পারবে না ৷
.
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ফিতনাপূর্ন জিহাদের ভূমি হলো "শাম"৷ রাসূল সঃ অসংখ্য হাদীসে শামের ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ৷ এবং তিঁনি শামকে মুসলিমদের শেষ আশ্রয়স্থল ঘোষণা করে ছেন ৷ তাই শামের জিহাদের ইতিহাস জানা আমাদের ঈমানী দায়ীত্ব ৷ আগামী পর্ব থেকে আমরা ধারাবাহীক শামের জিহাদ নিয়ে পর্যালোচনা করবো, ইনশা আল্লাহ ৷

শামে চলমান জিহাদের ইতিহাস জানতে হলে প্রথমে ইরাকের ইতিহাস জানতে হবে ৷ আর ইরাক জিহাদ যারা সৃষ্টি করে ছিলেন তারা হলেন জিহাদের পূণ্য ভূমী আফগানের আধ্যাতীক সন্তান ৷ আফগানস্থানের রয়েছে হাজার বছরের জিহাদী ইতিহাস ৷সেই ইতিহাস টেনে এখানে স্থুপ করা আমার উদ্দেশ্য নয় ৷
.
১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে উসমানী খেলাফত ধ্বংস হলেও, মূলত ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আমরা মুসলিমরা পরাজিত শক্তি ৷ প্রায় তিন শত বছর ক্রসেডারদের বিরুদ্ধে আমাদের উল্লেখযোগ্য কোন বিজয় অর্জন হয়নি ৷ ফ্রান্স,ব্রিটেন,জার্মান ইত্যাদী সাম্রাজ্যবাদী গুষ্ঠিগুলো গোটা আরব বিশ্বকে ভাগাভাগি করে খাচ্ছিলো ৷ তখন আরব বিশ্ব থেকে ইসলাম অনেকটা বিতারিত হয়ে ভারতবর্ষে আশ্রয় নেয় ৷
.
রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগান তালেবানদের বিজয় ছিলো বদর যুদ্ধের মত ঐতিহাসীক ঘটনা ৷ তিনশত বছর ধরে পরাজিত,ক্ষয় প্রাপ্ত মুসলিম জাতির গলায় বিজয়ের মালা পড়িয়ে তালেবান হয়ে ওঠে বিশ্বমুসলিমের একমাত্র আশার আলো ৷ রাসূল সঃ এর ইন্তেকালের পর বদরী সাহাবীদের যেমন সকলে সম্মান করতো ৷ তেমনি আফগান যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী মুজাহিদীনকে বর্তমানে জিহাদের ময়দানে সম্মান করা হয় ৷ তাদের সিদ্ধান্তকে শীরধার্য মনে করা হয় (এ কথাটি মনে রাখবেন সামনে প্রয়োজন হবে)৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আল্লাহর প্রিও বান্দারা আফগানে মিলিত হতে থাকে ৷ আফগানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখে মুসলিম উম্মাহ ৷
.
আরব থেকে আফগান জিহাদে আসা হাজার হাজার মুহাজিরীনের ভিড়ে এক যুবক ছিলো, যার নাম আহমাদ ফাদেল ৷ অদ্ভূত ভাবগাম্বীর্যের ছাপ তার চেহাড়ায় ৷ জর্ডানের যারক্বাও শহরে তার বাড়ি ৷ তিনি ফিজিক্স ও কেমেস্ট্রির ছাত্র ৷ তার নিজ হাতে তৈরী বোমা মুজাহিদীনকে অনেক বিজয় এনে দিয়ে ছিলো ৷ ১৯৮৯ সালে তিনি আফগানে হিজরত করেন ৷ রাশিয়ার বিরুদ্ধে তিনি প্রায় পাঁচমাস যুদ্ধ করার সুযোগ পান ৷ আফগানিস্তানে তিনি আল-কায়দার ক্যম্পে সামরিক প্রশিক্ষখ হিসে কাজ করেন ৷
.
১৯৯৪ সালে আহমদ ফাদেল জর্ডানে ফিরে যান ৷জর্ডান সরকার তাকে গ্রেফতার করেন ৷ নাশকতার অভিযোগ এনে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় ৷ বন্ধী জীবনে তিনি আবু মুহাম্মাদ আল-মাকদিসীর সান্যিদ্ধ লাভ করেন ৷ ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদী কার্যক্রমের অভিযোগ এনে শাইখ মাকদিসীকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়ে ছিলো ৷ মাকদিসী এখনও জর্ডান জেলে বন্ধী ৷
.
১৯৯৯ সালে জর্ডানের নতুন সরকার সকল কয়দীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষনা করেন ৷ তখন আহমদ ফাদেল জেল থেকে মুক্তি পান ৷ পুনরায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হলে তিনি আফগানে চলে আসেন ৷ তিনি শাইখ উসামার সান্যিদ্ধ লাভ করেন ৷আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তিনি এক পা হারান ৷ কৃত্রিম পা দিয়েই তিনি চলতেন ৷ ৯/১১-এর পর যখন আমেরিকা তোরাবোরা পর্বত মালায় আল-কায়দাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে,তখন তিনি গিরীপথ ধরে ইরানে চলে আসেন ৷ ইরান থেকে লেবানন হয়ে পরে ইরাকে প্রবেশ করেন ৷
.
২০০৩ সালে আহমাদ ফাদেল ইরাকে একটি নতুন গ্রুপ তৈরি করেন ৷ "জামা'আতে তাওহীদ ওয়াল জিহাদ" নামে এই দলটি ইরাকে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে ৷ আহমাদ ফাদেল নতুন উপাদী গ্রহন করে ৷ আবু মুসআ'ব আজ-জারকায়ী এই নামে তিনি প্রশিদ্ধি লাভকরেন ৷ ২০০৪ সালে জারকায়ী এক আমেরিকান জিম্মীকে জবাই করে হত্যা করেন ৷অনলাইনে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেন ৷আমেরিকান সৈন্যরা ভিডিও দেখে হ্রদরোগে আক্রান্ত হয় ৷ অনেকে আত্মহত্যা করে ৷
.
২০০৬ সাল,শাইখ জারকায়ী উসামা বিন লাদেনকে বায়াত দিয়ে ছিলেন ২০০৪ রে ৷ ফলে "জামাআতে তাওহীদ ওয়াল জিহাদ" আল্-কায়দার অঙ্গসংঘটন হয়ে যায় ৷ ইরাকে একাধিক জিহাদী গ্রুপ ছিলো ৷ আল-কায়দা ছিলো তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ৷ মুজাহিদীনের মাঝে ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে আল-কায়দা সকল জামাতের অংশ গ্রহণে একটি ঐক্য পরিষদ ঘঠন করে ৷ মাজলিসে শুরা আল-মুজাহিদীন নামে এই ঐক্য পরিষদের অধিনে জিহাদী গ্রুপগুলো কাজ করতে থাকে ৷ প্রতিটি গ্রুপ তাদের ব্যক্তিগত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ৷ মাজলিসু শুরা আল-মুজাহিদীন নামের অধিনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করে ৷ এই পরিষদের প্রধান ছিলেন আবু মুস'আব আজ-জারকায়ী ৷ শাইখ উসামার নির্দেশেই ইরাকে এতো বড়ো ঐক্য তৈরি হয় ৷
.
মাজলিসু শুরা আল-মুজাহিদীন এর অন্তরভূক্ত জিহাদী গ্রুপগুলোন তালিকা ৷
১: জামাআতে তাওহীদ ওয়াল জিহাদ ৷
২: জাইশু তায়েফায়ে মানসুরা ৷
৩: সারিয়া আনসার আত-তাওয়হীদ ৷
৪: সারিয়াল জিহাদ আল-ইসলামিয়া ৷
৫: সারিয়া আল-গুরাবা ৷
৬: কাতাইবু আহওয়াল ৷
৭: জাইশু আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ৷
৮: কাতাইবু আল-মুরাবিতীন ৷
৯: কাতাইবু আল-আনবার ৷
.
একটি ভুল সংশোধন ৷ আমি আইএস সমর্থকদের একথা দাবি করতে দেখেছি যে, তারা বলে: শাইখ বাগদাদী আল-কায়দাকে কেন বাই'আত দিবেন ..? অথচ বাগদাদীর নিজস্য একটি জিহাদী গ্রুপ আছে ৷ বাগদাদী নিজ পকেটের টাকা দিয়ে সেই গ্রুপটি চালান ৷ গ্রুপটির নাম হলো "জামাআতে তাওয়াহীদ ওয়াল জিহাদ " ৷
.
উপরে আইএস সমর্থকদের এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানওয়াট, গাজাখুরী ৷ কারণ আপনারা জানেন যে "জামাতে তাওয়হীদ ওয়াল জিহাদের" প্রতিষ্ঠাতা সয়ং আবু মুসআব আজ-জারকায়ী ৷ এবং তিনি উসামা রঃ কে বায়াত দেয়ার কারনেই "জামাতে তাওহীদ ওয়াল জিহাদ" আল-কায়দা ইন ইরাক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ৷ সুতরাং বাগদাদী কে "জামাতে তাওহীদ ওয়াল জিহাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা বলা মিথ্যাবাদীদের পক্ষেই সম্ভব ৷ সেই সময় বাগদাদী "জাইশু আহলি আস-সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ" এর শুরা সদস্য ছিলো ৷ কিন্তু আফসোস, আমাদের দেশীও আইএস সমর্থকরা নিজেদের শ্রেষ্ঠেত্ব প্রমাণ করার জন্য যতসব মিথ্যার জন্ম দেয় ৷
.
২০০৬ সালের ৮ জুন আমেরিকার বিমান হামলায় শাইখ আবু মুসআব আজ-জারকায়ী শহীদ হন ৷ শাহাদাতের পর তার লাশকে আমেরিকানরা অনেক অপমান করে ৷ শাইখের ছবি টাইলসের উপর ফিট করে আমেরিকার সদর দফতরের সিড়িতে সেই টাইলস ব্যবহার করা হয় ৷ শাইখের খণ্ড-বিখণ্ড লাশের ছবি শহরের বিভিন্ন বিলবোর্ডে ঝুলিয়ে রাখা হয় ৷ আল্লাহ শাইখকে শহীদ হিসেবে কবুল করুক ৷

৮/৬/২০০৬ ইং,সন্ধায় ইরাকের বাকুবা শরহে মার্কিন বিমাণ হামলায় শাইখ আবু মুসআ'ব আজ-জারকায়ী শহীদ হন ৷ স্মৃতি হিসেবে রেখে যান একটি শক্তিশালী মুজাহীদ গ্রুপ ৷ শত্রুর ব্যাপারে তিনি ছিলেন খুব কঠর ৷ বিধর্মীদের ধর্মীও উপাসনালয়ে হামলা করা তিনি বৈধ মনে করতেন ৷ শাইখ জারকায়ীর কঠরতা নিয়ন্ত্রনে রাখতে উসামা বিন লাদেন রহঃ ঘন ঘন দিকনির্দেশনা দিতেন ৷ জারকায়ীর শাহাদাতের পর এই কঠরতার মাত্রা কঠিন থেকে কঠিনতর বৃদ্ধি পায় ৷
.
শাইখ জারকায়ীর শাহাদাতের পর, মাজলিশু শুরা আল-মুজাহিদীন বা আল-কায়দা ইন ইরাক নেতৃত্ব শূণ্য হয়েপরে ৷ "জাইশু তাইফায়ে মানসুরা"-এর এক সময়ের প্রধান, শাইখ আবু ওমার আল-বাগদাদীকে কায়দা ইন ইরাকের আমীর নির্ধারন করা হয় ৷ এবং আবু হামজা আল-মুহাজির কে কায়দা ইন ইরাকের সামরিক প্রধান হিসে নির্বাচন করা হয় ৷ ৷
.
শাইখ আবু হামজা এক সময় আইমান আলজাওয়াহিরীর সহযোগী ছিলেন ৷ আফগানে কায়দার আল-ফারুক সামরিক ক্যম্পে তিনি ছিলেন ৷ জিহাদের ময়দানে তিনি খোরাসানের মুজাহীদ হিসেবে সম্মানের পাত্র ছিলেন ৷ অপর দিকে আবু ওমর আল-বাগদাদী ইরাকের বাইরে পরিচিত কেও নন ৷ আফগান জিহাদেও তার কোন ভুমিকা নেই ৷ তাই আল-কায়দার প্রতি তার দায়বদ্ধতা অনেক কমছিলো ৷ যদিও তিনি আমির হওয়ার পর শাইখ উসামাকে বাই'আত দিয়ে ছিলেন ৷
.
দায়ীত্ব গ্রহণেন পর, তিনি পূর্বের চেয়ে আরো কঠিন যুদ্ধ-নীতি গ্রহণ করেন ৷ তিনি কায়দার কেন্দ্রীও দিকনির্দেশনার তোওক্যা করতেন না ৷ জাইশু শুরা আল-মুজাহিদীন বা কায়দা ইন ইরাক ধর্মীও উপাসনালয়ে হামলা করা জায়েয মনে করতো ৷ আহলুস সুন্নার মসজিদে হামলা করাকেও তারা জায়েয মনে করতো ৷ একজন শত্রুকে হত্যার জন্য প্রয়োজনে তিনশত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা বৈধ মনে করতো ৷ আপনি ২০০৩-৯ এর পত্রিকাগুলো খুললেই দেখবেন শিয়াদের ধর্মীও স্থাপনা ও উৎসবে আত্মঘাঁতী হামলায় হাজার হাজার শিয়া মাড়া গেছে ৷ ইরাকে খ্রিষ্টান গির্জাতেও তারা হামলা চালাতো ৷ ঐ সকল হামলা হয়তো কোন রাজনৈতিক বা সামরিক কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করেই করা হতো ৷ কিন্তু হাজার হাজার নিরোহ মানুষ হত্যার বৈধতা তো ইসলামে নেই ৷
.
উপরের কথাগুলো থেকে কিছু ভাই আমাকে ভুল বুঝতে পারেন ৷ আমি শিয়াদের পক্ষপাতিত্ব করছি না ৷ বরং জায়েয এবং না জায়েয নিয়ে আলোচনা করছি ৷ যাতে পাঠক বুঝতে পারে যে, কিভাবে কায়দা ইন ইরাক তাকফির রোগে আক্রান্ত হলো ৷ রাসূল সঃ কখনো বিধর্মীদের উপাসনালয়ে আক্রমণ করেন নি ৷ খোলাফায়ে রাশেদীনও করেন নি ৷ সাহাবারাও করেন নি ৷ যুগে যুগে মুসলিম মণীষীরাও ধর্মীও উপাসনালয়ে হামলা করেন নি ৷ ইসলামী যুদ্ধনীতিতে আছে যে, শত্রু যদি যুদ্ধ ক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়, তাকে পালানোর সুযোগ দেয়া ৷ পিছু ধাওয়া না করা (যদি সে শত্রুদের নেতা গোঁচের কেউ না হয়) ৷ তাহলে নিরোহ মানুষের উপর মসজিদে বোমাহামলা করা শরীয়ত কিভাবে সমর্থন করবে..!
.
আপনি একজন ভদ্রলোক ৷ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন ৷ পথে কুকুর আপনাকে কামড় দিলো ৷ আপনি কি পারবেন মানুষ হয়ে ঐ কুকুরটি কামড়াতে ..!! আমরা মুসলিম ৷ শত্রু আমাদের সাথে যতোই হিংস্র আচরণ করুক, আমরা তাদের সাথে তেমন করতে পারি না ৷ কারণ আমাদের আল্লাহ আছে ৷ আমাদের সামনে কোরান ও হাদীস আছে ৷ আমরা কিছুতেই তার অবাধ্য হতে পারি না ৷
.
১৩/১০/২০০৬ তারীখে আবু ওমার আলবাগদাদী "দাউলাতুল ইরাক" ঘোষণা করেন ৷ ফালুজা,আনবার,কিরকুক ইত্যাদী শহরগুলো নিয়ে দাউলা বা স্টেট ঘঠন করা হয় ৷ যেই শহরগুলো নিয়ে দাউলাতুল ইরাক গঠন করা হয়, সেই শহরগুলো কায়দা ইন ইরাকের পূর্ণ নিয়োন্ত্রন ছিলো না ৷ প্রাই ইরাকী সেনা বাহিনীকে সেখানে টহল দিতে দেখা যেতো ৷ আমেরিকান বাহিনী বিভিন্ন সময় সেখানে অভিযান চালাতো ৷ মূলতো "দাউলাতুল ইরাক" ঘোষণা দিলেও সেখানে নিজেদের একক নিয়োন্ত্রন ছিলো না ৷ আর একক নিয়োন্ত্রন প্রতিষ্ঠার আগে "দাউলা" ঘোষণা করা কায়দার কেন্দ্রীও নেতাদের আদর্শ ছিলো না ৷ আল-কায়দার সাথে কোন পূর্ব পরামর্শ ছাড়াই "দাউলা" ঘোষণা করা হয় ৷ ২০০৭ সালে উসামা বিন লাদেন রহঃ অডিও বার্তায় ইরাকের সকল জামাতকে আবু ওমার আলবাগদাদীকে বাই'আত দেয়ার আহ্বান জানান ৷ ভেদাবেদ ভুলে গিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ৷ উসামা রহঃ এর বার্তা প্রচারের পর, মাজলিশু শুরা আলমুজাহিদীন এর শুরা পরিষদ বাগদাদীকে বাই'আত প্রদান করে ৷ যারা তাকে আমির হিসেবে মানতে প্রস্তুত ছিলো না তারাও বাই'আত দেয় ৷ এতো কিছুর পরোও আলকায়দার ইরাক শাখার, আলকায়দার কেন্দ্রিও নেতাদের প্রতি আস্থা ছিলো না ৷ এবং তারা নিজেদের আলকায়দা পরিচয় দিতেও চাইতেন না ৷ এই অনাস্থার কারণ ছিলো উভয় জামাতের কর্মপন্থার ভিন্নতা ৷
.
কায়দা-আইএস উভয় জামাতের কর্মপন্থায় ভিন্নতা ৷ শাইখ আইমানকে আল-জাজিরার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনাদের এবং তাদের মাঝে পার্থক্যটা কী ? উত্তরে শাইখ আইমান বলেন, উভয়ের কর্মপন্থায় ভিন্নতা রয়েছে ৷ আক্রমণের ক্ষেত্রে কায়দাতুল জিহাদ সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করে ৷ মসজিদ,মার্কেট,উপাসনালয়,মিলনায়োতন এবং সমাগম স্থলে কায়দাতুল জিহাদ কখনোই আক্রমণ করে না ৷ নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষায় কায়দাতুল জিহাদ খুবই সতর্ক,সমাপ্ত ৷ পক্ষান্তরে কায়দার ইরাক শাখা এই বিষয়গুলোতে খুব অবহেলা করে ৷ একজন শত্রুকে হত্যার জন্য হাজারো নিরপরাধ মানুষ হত্যার ইতিহাস তাদের আছে ৷ শিয়াদের ঢালাউ ভাবে হত্যা করাকে তারা জায়েয মনে করে ৷ "শিয়া কাফের" এই মাসআলায় অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে ৷ যেই আক্বীদা বা ধর্মবিস্বাশের কারণে শিয়াদের কাফের বলাহয়, সেই আক্বীদা সব শিয়ারা রাখে না ৷ শিয়াদের মধ্যে অনেকগুলো ফেরকা আছে ৷ উলামায়ে কেরাম এই ফেরকাগুলোর মাঝে পার্থক্য করে থাকেন ৷ তবে ফেরকায়ে "জাফরিয়া"র কুফুরির ব্যাপারে সকলে একমত ৷ ফেরকায় জাফরিয়া মূলতো ইরান,ইরাক ও সিরিয়ার নেতৃত্ব পর্যায় রয়েছে ৷ সে হিসেবে এই তিন দেশের সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদ করা শুধু যায়েজ নয় বরং ফরজ ৷
.
ঢালাউ ভাবে সকল শিয়াদের হত্যা করা বৈধ মনে করা জায়েয নয় ৷ একজন নিরোপরাধ কাফের কেই তো হত্যা করা জায়েয নেই ৷ সেখানে একজন নিরোপরাধ শিয়াকে হত্যা কী করে জায়েয হতে পারে, যে আল্লাহ কে বিস্বাশ করে এবং সাহাবাদের প্রতি সুধারণা রাখে ৷ কায়দার কেন্দ্র থেকে কঠর নির্দেশ ছিলো যেন শিয়াদের মসজিদ ও ধর্মীও দিবোসগুলোতে হামলা চালানো না হয় ৷ কিন্তু কায়দার ইরাক শাখা এই নির্দেশগুলো আমলে নিতো না ৷ তারা নামাজরত শিয়াদের উপর আত্মঘাঁতী হামলা চালিয়ে শত শত মানুষ হত্যা করেছে ৷ আশুরার দিবসে তারা হামলা চালিয়ে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ হত্যা করেছে ৷ এসব তারা এখনও করছে ৷ কায়দাতুল জিহাদের সিরিয়া শাখা আছে ৷ সেখানে তো পথে-ঘাটে, মসজিদে শিয়া জনসাধারণের উপর হামলা হয় না ৷ সিরিয়ান মুজাহিদীনরা শিয়া সৈন্যদের উপর হামলা চালায়, নিরপরাধ শিয়া জনসাধারণের উপর নয় ৷ এবং এটাই সঠিক নিয়ম ৷ (এখানে দীর্ঘ আলোচনার কারণ হলো যাতে পাঠক বুঝতে পারেন, কিভাবে ইরাকের এই দলটি দিনে দিনে তাকফিরের দিকে যাচ্ছিলো)
.
১৯/০৪/২০১০ইং তারিখে আমেরিকা শাইখ ওমার আল-বাগদাদীকে হত্যার দাবি করে ৷ ইতোপূর্বে ২০০৭-৯ সালেও ইরাকের মালিকী সরকার শাইখকে হত্যার দাবি কেরে ছিলো ৷ পরবর্তীতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয় ৷ ২০১০ সালে দাউলাতুল ইরাক এর শুরা পরিষদের পক্ষ থেকে এক অডিও বার্তায় শাইখের নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয় ৷ আল্লাহ শাইখকে শহীদের মর্জাদা দান করুন ৷ আমিন ৷

১৯/৪/২০১০ সাল ৷ দাউলাতুল ইরাক এর পক্ষ থেকে এক অডিও বার্তায়, দাউলাতুল ইরাক এর আমীর আবু ওমার আল-বাগদাদী'র নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয় ৷এবং আবু বকর আল-বাগদাদীকে নতুন আমীর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় ৷
.
আবু ওমার আল-বাগদাদীর শাহাদাতের পর, কায়দা ইন ইরাক বা দাউলাতুল ইরাক নেতৃত্বহীনতায় ভূগছিলো ৷ নতুন আমির নির্ধারণের ব্যাপারে তারা একমত হতে পারছিলো না ৷ কারো মতে, এসময় কায়দা ইন ইরাকের পক্ষ থেকে জাওয়াহিরীর নিকট পত্র পাঠানো হয় ৷ পত্রে নতুন আমীর নির্ধারণ করে দেয়ার অনুরোধ করা হয় ৷ এই মতটি আমার কাছে দূর্বল মনে হয় ৷ একথার দলীল আমি পাইনি ৷
.
নতুন আমীর নির্ধারণের বিষয়টি ছিলো খুবই ঘোলাটে ৷ দাউলাতুল ইরাকের শুরাপরিষদে দুই ব্যক্তির সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য ছিলো ৷ তাদের কথার উল্টো করার ক্ষমতা শুরাপরিষদের ছিল না ৷ তারা দু'জন কোন সিদ্ধান্ত নিলে শুরা সদস্যের কেউ বিরোধিতা করতে সাহস করতো না ৷এদু'জন সাদ্দাম আমলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন ৷ তারা সাদ্দামের প্রথম সারির সহযোগী ছিলেন ৷ উপদেষ্টা ছিলেন ৷
.
তাদের একজনের নাম হুজ্জী বকর, দ্বিতীয় জনের নাম আবু আলী আল-আনবারী ৷ হুজ্জী বকরের দাপট ছিলো সবচেয়ে বেশি ৷ তিনি সাদ্দাম বাহিনীর আর্মী অফিসার ছিলেন ৷ সাদ্দামের প্রধান দুই সহযোগীর একজন ৷ বাথ পার্টির আদর্শের পুরোটাই তার মাঝে ছিলো ৷ তিনি প্রতিপক্ষ সহ্য করতে পারতেন না ৷ তিনি আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে দল পরিচালনা করতে বেশি পছন্দ করতেন ৷
.
দাউলাতুল ইরাক মূলত দু'টি প্রজন্মে বিভক্ত ৷ প্রথম প্রজন্ম, এরা হলেন শাইখ জারকাবী,আবু হামজা,আবু ওমার ৷ দ্বিতীয় প্রজন্ম শুরু হয়েছে আবু বকর আল-বাগদাদীকে দিয়ে ৷ প্রথম প্রজন্মের সাথে কায়দা ও বিশ্ববরেণ্য উলামায়ে কেরামের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিলো ৷ দাউলাতুল ইরাক নিয়ে জাওয়াহিরী ও অন্যান্য উলামাদের যে, প্রশংসা বাক্য আছে, তা কিন্তু প্রথম প্রজন্মকে কেন্দ্র করে ৷ যারা এই ময়দানে নতুন তারা এখানে ভুল করে ৷ প্রথম প্রজন্মের জন্য প্রশংসা দ্বিতীয় প্রজন্মের উপর প্রয়োগ করে ৷ এবং বলে, দাউলাকে তো একসময় তারা সমর্থন তরতো এখন করে না কেন ...ইত্যাদী ৷
.
আমরা এখন দাউলাতুল ইরাকের দ্বিতীয় প্রজন্ম নিয়ে আলোচনা করছি ৷ এবং এটাই এ-প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় ৷
.
দাউলাতুল ইরাকের দ্বিতীয় প্রজন্মে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন হূজ্জী বকর ৷ হুজ্জী বকরকে না বুঝলে দ্বিতীয় প্রজন্মকে বুঝা যাবে না ৷ আমাদের জানতে হবে, কিভাবে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হুজ্জী বকর দাউলার আস্থাভাজন হলেন..!
.
আবু ওমার আল-বাগদাদীর সময় হুজ্জী বকর দাউলায় যোগ দেয় ৷ তার ছিলো উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ ৷ দাউলার সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন ৷ নিখুত দিকনির্দেশনা ও উন্নত যুদ্ধ কৌশলের কারণে তিনি আবু ওমার আলবাগদাদীর নৈকট্য লাভ করেন ৷ একসময় বাগদাদী হুজ্জী বকরকে ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না ৷ ফলে হুজ্জী বকর হয়ে যায় আমীর বাগদাদীর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ৷
.
১৯/৪/২০১০ সাল ৷ হুজ্জী বকর, আবু ওমার, আবু হামজা, দাউলাতুল ইরাকের এই তিন প্রধান সহ অরো কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ছিলেন ৷ আমেরিকা সেই বাড়িটিতে বিমান হামলা চালায় ৷ হুজ্জী বকর ছাড়া বাকি সকলে নিহত হয় ৷ বাগদাদী নিহত হওয়ার পর নতুন আমীর নির্বাচনে শুরা পরিষদে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় ৷ এভাবে কয়েক দিন কেটে যায় ৷
.
হুজ্জী বকর ঘোষণা দেন যে, আমি আবু বকর আল বাগদাদীকে আমীর হিসেবে বায়াত দিলাম ৷ হুজ্জী বকরের এই আচরণে সকলে অবাক হয় ৷ কারণ বাগদাদীর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন ৷ আবু সাইদ ইরাকী রয়েছেন ৷ যিনি বাগদাদীর উস্তাদ ৷ তিনি হাতে কলমে বাগদাদীকে শিক্ষা দিয়েছেন ৷ তিনি জাইশুল মুজাহিদীনের প্রধান ছিলেন ৷
.
=একটি কথা এখানে বলে রাখা উচিত ৷ আবু সাইদ ইরাকী বাগদাদীকে বায়াত দেন নি ৷ একারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতেন ৷ জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে তিনি দামেশক চলে যান ৷ তখনও সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয় নি ৷ ২০১১ সালে বাগদাদী শাইখ জাওলানীকে সিরিয়া পাঠায় ৷ সিরিয়ায় যখন শাইখ জাওলানী নুসরাকে শক্তিশালী গ্রুপে পরিণত করেন, তখন বাগদাদী জাওলানীকে আবু সাইদ ইরাকীর উপর আত্মঘাঁতী হামলার নির্দেশ করেন ৷ জাওলানী এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন ৷
.
আবু সাইদ ইরাকীকে জাওলানী খুব ভালো করে চিনতেন ৷ ২০০৬ সালে আবু সাইদ ইরাকী আমেরিকার হাতে বন্দী হন ৷ তখন জাওলানীও আমেরিকার হাতে বন্দী হন ৷ এই দুই শাইখ একসাথে জেলে বছর খানিক ছিলেন ৷ জাওলানী খুব কাছ থেকে শাইখকে প্রত্যক্ষ করেন ৷ জাওলানীর ভাষায়, আবু সাইদ ইরাকী হলেন এক জন আল্লাহ ভিরু, পরহেযগার, কোরান-হাদীসের জ্ঞানে তার সমকক্ষ ইরাকে খুব কমো-ই ছিলো ৷ এ-কারণেই জাওলানী আবু সাইদ ইরাকীকে হত্যা করতে রাজী হন নি ৷ তিনি এখনও জীবিত আছেন ৷
.
বাগদাদীর বায়াত ভাঙ্গার কারণে যারা জাওলানীকে মুর্তাদ,কাফের,ক্ষমতা লোভী বলে গালাগাল করেন, তারা বিষয়টি ভেবে দেখবেন ৷ আজ যদি জাওলানী বাগদাদীর সাথে থাকতেন, তাহলে বর্তমানের চেয়ে জাওলানীর ক্ষমতা চারগুণ বেশি থাক তো ৷
-কিন্তু কেন তিনি বাগদাদীর বায়াত ভঙ্গ করলেন? দাউলাতুল ইরাক কেন "দাউলাতুল ইরাক ও শাম" ঘোষণা করতে গেলো? ইত্যাদী প্রশ্নের উত্তর আগামী পর্বগুলোতে থাকবে ইনশা আল্লাহ ৷
.

আবু বকর আল-বাগদাদী দাউলাতুল ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে ছিলেন না ৷ তিনি শুরা সদস্যদের মধ্যেও ছিলেন না ৷ দাউলাতুল ইরাকের এক জন কর্মী হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন ৷ একারণে ইমারতের দায়ীত্ব নিতে প্রথমে তিনি রাজি হন নি ৷
.
পর পর দু'জন আমীর বিমান হামলায় শহীদ হন ৷ বাগদাদী জানতেন যে, এবার শহীদদের কাতারে তাকেও শামীল হতে হবে ৷ তাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণে ভয় পাচ্ছিলেন ৷ হুজ্জী বকর বাগদাদীকে অভয় দেন, এবং বলেন, আপনার সাথে আমি আছি কোন সমস্যা হবে না ৷
.
হুজ্জী বকরের সিদ্ধান্তের উলটো করার ক্ষমতা শুরা পরিষদের ছিল না ৷ হুজ্জী বকর সাদ্দামের সময়কার আরো কয়েক জন সেনা অফিসারকে দাউলাতুল ইরাকে যুক্ত করে ৷এদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেয়া হয় ৷ এজন্য হুজ্জী বকরের বিরোধিতা করার ক্ষমতা কারো ছিলো না ৷ দাউলার শুরা সদস্যের অনেকে হুজ্জী বকরকে গুপ্তচর মনে করতো ৷ কিন্তু একথা প্রকাশ করার সাহস করতো না ৷
-আমি তাকে গুপ্তচর মনে করি না ৷ বরং তিনি সাদ্দামের আদর্শে কিছু করতে চেয়ে ছিলেন ৷ সাদ্দাম যেমন বাথ পার্টির উপরোস্থ নেতাদের হত্যা করে সর্বোচ্চ পদটি দখল করে ছিলো ৷ হুজ্জী বকর এমন কিছু করতে চেয়ে ছিলেন ৷
.
-হুজ্জী বকর ক্লিন শেভ করতেন ৷ বাগদাদীকে আমীর বানানোর পরথেকে তিনি দাড়ি লম্বা করতে শুরু করেন ;
.
দাউলাতুল ইরাক তার দ্বিতীয় প্রজন্মকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলো ৷ যার দু'জন আমীর ৷ একজন প্রত্যক্ষ আমীর "বাগদাদী", যার কথা আমরা সকলে জানি ৷ অন্য জন পরোক্ষ আমীর "হুজ্জী বকর", যাকে আমরা খুব কম চিনি ৷
.
দাউলাতুল ইরাক ভয় ও আশার মধ্য দিয়ে চলতে লাগলো ৷ উড়ে এসে জুড়ে বসা হুজ্জী বকরের ভয়ে সকলে "তটস্থ" ৷ নিচু পদস্থ কোন সদস্য উচ্চ পদস্থ নেতাদের তদারকি করার ক্ষমতা নেই ৷ কারণ কাউকে তদারকি করা মানে তাকে সন্দেহ করা ৷ আর সন্দেহ করা মানে আনুগত্য না করা ৷ আর যে আনুগত্য করবে না,তাকে নিজের কবর নিজেই খুঁদতে হবে ৷
.
বাগদাদী ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক সপ্তা পর, হুজ্জী বকরের আচরণে পরিবর্তন ঘটে ৷ তিনি ছিলেন গুরু গম্ভীর ৷ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন ৷ সবাইকে সন্দেহের নজরে দেখতেন ৷ শুধু বাগদাদী ও এক দুজন বাথ নেতা ছাড়া কাউকে সাক্ষাৎ দিতেন না ৷ তার সাথে কথা বলতে হলে আদব-লেহাজ রক্ষা করে কথা বলতে হতো ৷ সিরিয়ানদের স্বভাব হলো, তারা কথা বলার সময় হাত নেড়ে কথা বলে ৷ একবার হুজ্জী বকরের সামনে এক সিরিয়ান হাত নেড়ে কথা বলে ৷ এই অপরাধে হুজ্জী বকর তাকে অনেক শাস্তি দেয় ৷ হাত-পায়ে বেড়ী পড়িয়ে জেলে ফেলে রাখে ৷
.
হুজ্জী বকর নতুন করে শুরা পরিষদকে সাজান ৷ আবু আলী আল-আনবারীকে, দাউলাতুল ইরাকের সামরিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন ৷ আনবারী সাদ্দাম হুসেনের সেনা অফিসার ছিলেন ৷ রাতারাতি তিনি জিহাদী বনে যান ৷
.
হুজ্জী বকর বাগদাদীকে নিজের কাছে আগলে রাখেন ৷ নিচু পদস্থ নেতাকর্মীদের বাগদাদীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ ছিলো না ৷
.
হুজ্জী বকর শুরা সদস্যদের নিয়ে বাগদাদীর সাথে শাক্ষাত করেন ৷ তিনি দুটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন ৷ ১: অভ্যন্তরীণ পুলিশ বাহিনী গঠন করা ৷ ২: খনিজ সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া ৷
-অভ্যন্তরীণ পুলিশ বাহিনীর প্রধান হুজ্জী বকর নিজেই থাকেন ৷ এই পুলিশ বাহিনী বাস্তবে একটি গোপন ঘাতক দল ৷ এর সদস্যদের সকলেই সাদ্দাম আমলে সেনা সদস্য ছিলো ৷ বাগদাদী ক্ষমতা গ্রহণের একমাসের মাথায় পুলিশ বাহিনী ২০ জন নেতাকর্মীকে গোপনে হত্যা করে ৷ কয়েক মাসের মাথায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ১০০ বেশি লোক হত্যা করে ৷ যারা বাগদাদীকে বায়াত দিতে চাইত না, বা যাদের মধ্যে অবাধ্যতা দেখা যেতো তাদেরকে গোপনে হত্যা করা হত ৷
.
বাগদাদী এক সময় লক্ষ্য করলেন, হুজ্জী বকর ছাড়া নেতৃত্ব সামলানো সম্ভব নয় ৷ হুজ্জী বকর যেভাবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করেছে, ইতপূর্বে কেউ তেমন করতে পারেনি ৷ তাই বাগদাদীও হুজ্জী বকরকে অমান্য করতে পারতেন না ৷ যদিও তিনি "নামমাত্র" আমীর ছিলেন ৷
.
দ্বিতীয় যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, খনিজ সম্পদ ও দাউলাতুল ইরাকের অর্থায়োনে মনযোগ দেয়া ৷
-আবু ওমর আল-বাগদাদী রাষ্ট্রিয় অর্থায়োনের জন্য কিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন করে ছিলেন ৷ তা নিম্মরূপ...
১: শিয়া,খ্রিষ্টান, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী এবং ইরাক সরকারের সাথে সম্পর্ক রাখে এমন সুন্নি মুসলিমদের সমস্ত সম্পদকে জাতীয়করণ করা ৷
২: তেলের খনিগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ৷ বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট ও সরকারী মিল-ফ্যাক্টরীগুলো নিজেদের দখলে নেওয়া ৷
৩: যে কনো কম্পানি যদি ইরাক সরকারের সাথে কোনো ধরণের চুক্তিতে আবদ্ধ থাকে, তাহলে সে কম্পানী দাউলাতুল ইরাকের আমীরের সম্পত্বি বলে গন্য হবে ৷
৪: যে সকল কম্পানি দখলে নেয়া সম্ভব হবে না, সেই কম্পানির মালিকদের হত্যার হুমকি দেয়া হবে ৷ অথবা বোম্বিং করে কম্পানি উড়িয়ে দেয়া হবে ৷
৫: মহা সড়কে চেকপোষ্ট বসিয়ে তেলবাহী ট্রাক থেকে কর আদায় করা হবে ৷
.
উপরের খাতগুলো থেকে প্রচুর অর্থ দাউলাতুল ইরাকের কোষাগারে জমা হতে থাকে ৷ এদিকে আমেরিকা ইরাক ত্যাগ করার পর, যুদ্ধের খরচও কমে আসে ৷ ফলে দাউলাতুল ইরাকের কোষাগারে অনেক সম্পদ জমা হয় ৷ একারণে দাউলাতুল ইরাকের অধিনে চাকরী নেয়ার জন্য শিয়ারাও আগ্রহী হয় ৷
.
সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায়, আলাদাকরে অর্থমন্ত্রণালয় খোলার প্রয়োজন দেখা দেয় ৷ হুজ্জী বকর নিজেই অর্থমন্ত্রীর দায়ীত্ব গ্রহণ করেন ৷
.
হুজ্জী বকর পূর্বের শুরা পরিষদ ভেঙ্গে, তের সদস্য বিশিষ্ট নতুন শুরা পরিষদ গঠন করেন ৷ যাদের সকলেই ইরাকী ৷ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতেই এমনটি করা হয় ৷
.

২০১১ সাল ৷ আমেরিকা ইরাক ত্যাগের পর, দাউলাতুল ইরাকে স্বস্তি নেমে আসে ৷ ফালুজা, আনবার, মসুল, দিয়ালা, সালাহুদ্দীন,নিনোভা ইত্যাদী সুন্নী শহরগুলো নিয়ে গঠিত হয়ে ছিলো দাউলাতুল ইরাক ৷
.
আমেরিকা ইরাক আক্রমণের পর, বৃহত্তম ইরাক ভেঙ্গে তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরির প্রস্তাব করা হয় ৷ কুর্দী রাষ্ট্র, সুন্নী রাষ্ট্র, শিয়া রাষ্ট্র ৷ ইরাকের মালিকী সরকার বরাবর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিলেন ৷ সেই প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে সুন্নী শহরগুলো নিয়ে দাউলাতুল ইরাক গঠন করা হয় ৷
.
আমেরিকা এই প্রস্তাবের পক্ষে ছিলো ৷ তবে জিহাদীদের দিয়ে নয় বরং গণতান্ত্রীক উপায়ে একটি আলাদা সুন্নী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ছিলো ৷
.
২০১৪ সালে জুলাই-র প্রথম সপ্তাগুলোতে যখন আইএস ইরাকের শহরগুলো একে একে দখল করছিলো ৷ তখন জাতিসংঘে সুন্নীদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র রাখা-না রাখার বিষয়ে ভোটাভুটি হচ্ছিলো ৷ ইসরাইল স্বতন্ত্র সুন্নী রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেয় ৷ তুরস্কও পক্ষে ভোট দেয় ৷ আমেরিকা ভোট না দিলেও, বানরের মত বিচারকের ভূমিকায় ছিলো ৷ একমাত্র ইরান বিপক্ষে ভোট দেয় ৷
-অপ্রাসঙ্গিক কিছু কথা ৷
আমরা সকলে জানি যে খিলাফা ঘোষণার দুই সপ্তা পূর্বে আইএস ইরাকের একতৃতীয়াংশ দখল করে ৷ এটাকে তারা মহা বিজয় বলে প্রচার করে ৷ কিন্তু আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে, আইএস ১৪ সালে যেই শহরগুলো বিদ্যুৎ গতিতে দখল করলো, ৬ সালে সেই শহরগুলোর উপর ভিত্তি করেই তো দাউলাতুল ইরাক গঠন করা হয়ে ছিলো ৷ তাহলে কেন পূর্বের দখলকরা শহরগুলোর উপর নতুন করে দখল দেখানো হলো?
বিষয়টি স্পষ্ট করে বলি ৷ ১৪ সালের দখল করা ভূমীগুলো যদি প্রথম দখল হয়ে থাকে, তাহলে ৬ সালে ঘোষিত দাউলাতুল ইরাককে অস্বীকার করতে হবে ৷ আর যদি দাউলাতুল ইরাককে স্বীকার করা হয়, তাহলে ১৪ সালের বিজয়গুলোকে অস্বীকার করতে হবে ৷ আমি এখানে সার্বিক বিজয়ের কথা বলছি ৷ একথা আমি নিজেও স্বীকার করি যে, ১৪ সালে দাউলাতুল ইরাক কিছু নতুন শহর দখলে নিতে সক্ষম হয় ৷ কিন্তু আমি বলতে চাচ্ছি, ১৪ সালে ইরাকে যে সার্বিক বিজয় দেখানো হয়েছে, তা যদি মেনে নেই তাহলে দাউলাতুল ইরাক কোথায় যাবে?
একটি সমাধান আছে ৷ এবং সেটাই সঠিক ৷ শাইখ বাগদাদী এখানে একটি যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ করেছে ৷ যেমন ভাবে কৌশলটি হুজ্জী বকরের পরামর্শে শামেও প্রয়োগ করা হয়েছিলো ৷
কৌশলটি হলো ৷ ইরাকের যেই শহরগুলোর উপর দখল নিয়ে ৬ সালে দাউলাতুল ইরাক ঘোষণা করা হয়, সেই শহরগুলোর উপর দাউলার ৫০% দখল ছিলো ৷ ১৪ সালে এসে সেই শহরগুলোতে ১০০% দখল পূর্ণ করা হয় ৷ ৫০% বিজয়কে তারা মিডিয়ায় ১০০% বিজয় বলে প্রচার করে ৷ যাতেকরে শত্রুরা ভয় পায় ৷ এবং খিলাফার ঘোষণাকে মুসলিম বিশ্বের কাছে মহনীয় করে তোলা যায় ৷
কিছু নতুন ভাই, যারা পূর্ব থেকে হুজ্জী বকর বিষয়ে কোন জ্ঞান না থাকার কারণে পুরো বিষয়টিকেই অস্বীকার করছেন ৷ কোন বিষয়ে যদি আপনার জানা না থাকে, তাহলে নতুন করে জানুন ৷ কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিষয়টি আপনি অস্বীকার করবেন .. এটা তো মূর্খোতার লক্ষণ ৷
পূর্বে বলেছিলাম যে হুজ্জী বকর আড়াল থেকে দল পরিচালনা করতে পছন্দ করতেন ৷ একারণে কোনো ভিডিও ডকুমেন্ট দিয়ে তার অস্তিত্ত প্রমাণ করা সম্ভব নয় (আমার জন্য) ৷
চলতি মাসে বা ১৫ সালের জুলাই মাসে নুসরা তার এক শুরা সদস্যকে দল থেকে বহিস্কার করেছিলো ৷ তার নাম "আবু সালেহ" ৷ তিনি মিডিয়ায় তার ও জাওলানীর মধ্যের কিছু মতবিরোধ তুলে ধরেন ৷ তখন খিলাফার আরব সমর্থকরা বিষয়গুলো নিয়ে খুব মাতামাতি করে ৷ আবু সালেহ খিলাফ সমর্থকদের বলেন "হুজ্জী বকরের সাথে আমি দশ বার দেখা করেছি ৷ প্রতি বারই তাকে আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে ৷ তিনি ছিলেন রহস্যময় ৷ কর্কষ স্বভাবের ৷ স্বল্পভাষী ৷ সুকৌশলী ৷ সন্দেহ প্রবণ ৷ শরিআ'তের বিধিবিধান শিখার প্রতি তার আগ্রহ ছিলো ৷ তিনি এমন কৈশলে তোমাকে মাসআলা জিজ্ঞেস করবে, তুমি বুঝতেও পারবে না যে, সে তোমার থেকে শিখছে" (তিনি যে আগে থেকে জানতেন না, তা আপনাকে বুঝতে দিবে না) ৷ হুজ্জী বকরের ধর্মীও জ্ঞানের দৈন্যতার কথা খিলাফার আরব সমর্থকরা স্বীকার করে থাকেন ৷ এরকম স্বল্প জ্ঞান নিয়ে তিনি আল-জাজীরার সকল সাংবাদিককে মুর্তাদ বলতেন ৷ তিনি ভোট প্রদানকারী সাধারণ জনগনকেও মুর্তাদ জ্ঞান করতেন ৷ যদিও ভোট প্রদানকারী মূর্খ হয় ৷ বিস্তারিত জান্তে এবং হুজ্জী বকররের ছবি দেখতে লিংকে ক্লিক করুন ৷ http://m.arabi21.com/story/827551/
আবু সালেহ, হুজ্জী বকরকে নিয়ে আরো অনেক ত্বথ্য দিয়ে ছেন ৷সেগুলো আগামী পর্বগুলোতে উল্লেখ করা হবে ৷ আবু সালেহ-এর বক্তব্য দ্বারা আমি একথা প্রমাণ করতে চেয়েছি যে, হুজ্জী বকর আমাদের কাছে নতুন হলেও ইরাক-শামের "শিশু-বাচ্চারা" তাকে ভালো করে চিনে, জানে ৷ ভাষার ভিন্নতা ও ভূমীর দূরোত্বের কারণে কি এই ত্বথ্যগুলো আমাদের কাছে মিথ্যা হয়ে যাবে ..!
.
- পাঠকের সুবিধার্থে একটি কথা বলে রাখা দরকার ৷ দাউলাতুল ইরাক ঘোষণা করা হয় ২০০৬ সালে ৷ দাউলাতুল "ইরাক & শাম" ঘোষণা করা হয় ২০১১/১২ সালে ৷ খিলাফা ঘোষণা করা হয় ২০১৪ সালের জুলাই-এ ৷ এই তিনটি স্টেপ জানা না থাকলে পাঠকের কাছে কথাগুলো অগোছালো মনে হবে ৷
আরেকটি কথা বলে রাখা ভালো ৷ যারা কায়দা ও আইএসের মধ্যে বিরোধের কারণ খুঁজছেন, এবং এটাকে "হাইলাইট" করে প্রচার করে থাকেন ৷ তাদের জেনে রাখা উচিত যে, এখানে বিরোধটা কায়দা ও আইএসের নয় ৷ বরং এটা আইএসের অভ্যান্তরীণ বিরোধ ৷
আইএস নিজেদের বিরোধ মিটানোর জন্য মোকদ্দমা নিয়ে শাইখ জাওয়াহিরীর দরবারে আসে ৷ জাওয়াহিরী যখন উভয়ের মাঝে ফায়সালা করে দিলেন, তখন বাগদাদী ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করলো ৷ কি সেই বিরোধ? কেন ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করা হলো? ইত্যাদিপ্রশ্নের উত্তর আগামী পর্বগুলোতে থাকবে ৷ ইনশা আল্লাহ ৷
.
আমরা দাউলাতুল ইরাক নিয়ে আলোচনা করছিলাম ৷ আমেরিকার প্রস্থানের পর দাউলাতুল ইরাক নিজেকে আরও সংগঠিত করতে সক্ষম হয় ৷ আগের মত যুদ্ধাবস্থা এখন আর নেই ৷ বৃহত্তম ইরাক ভেঙ্গে তিনটি স্টেট গঠনের রাজনৈতিক সমর্থন যেহেতু আগে থেকেই ছিলো, তাই সকলে দাউলাতুল ইরাককে মৌন সমর্থন দিচ্ছিলো ৷ ফলে দাউলাতুল ইরাকের পরিধি বিস্তৃত করা, বা শিয়াদের শহরগুলো দখল করে দাউলার অধিনে আনার মত গ্লোবাল পরিকল্পনা দাউলাতুল ইরাকের তখন ছিলো না ৷ দাউলা নিজেকে গঠন করতেই ব্যস্ত ৷ এককথায় তখন ইরাক জিহাদ থেমে যায় ৷
.
২০১১ সাল ৷ সিরিয়ায় চারদিকে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে ৷ মুসলিম যুবকরা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলো ৷ শিয়া বাশার সরকার এক লাখ ত্রিশ হাজার নিরীহ মানুষ হত্যা করে ৷ সিরিয়ান মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো গ্লোবাল মুজাহিদীনের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে ৷
.
দাউলাতুল ইরাক যখন কায়দার সাথে সুসম্পর্ক রাখতো,তখন কায়দা বিভিন্ন দেশ থেকে মুহাজিরীন সংগ্রহ করে ইরাকে পাঠাতো ৷ একারণে ইরাকে বিদেশী মুজাহিদীনের সংখ্যা ইরাকী মুজাহিদীন থেকে বেশি ছিলো ৷ বিশেষ করে সিরিয়ানদের সংখ্যা বেশি ছিলো ৷ যদিও নেতৃত্বে একমাত্র ইরাকীরাই ছিলো ৷
.
দাউলাতুল ইরাকের বিদেশী মুজাহিদীনরা সিরিয়া জিহাদে যোগ দেওয়ার পথ খুঁজতে লাগলো ৷ হুজ্জী বকর দেখলেন যে, এভাবে যদি মুহাজিরীনরা সিরিয়ার দিকে যেতে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় দাউলাতুল ইরাকের "চেইন অব কমান্ড" ভেঙ্গে যেতে পারে ৷ হুজ্জী বকর বাগদাদীকে নতুন ফরমান ঘোষণার নির্দেশ দেন ৷ বাগদাদীর ঘোষণা পত্র সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় ৷ ঘোষণা পত্রে, সিরিয়া যেতে কড়া ভাবে নিষেধ করা হয়েছে ৷ যে সিরিয়া যাবে সে বিদ্রোহী হবে ৷ কারণ হিসেবে বলা হয়, সিরিয়ানরা গণতন্ত্রের জন্য বিদ্রোহ করছে ৷ গণতন্ত্র কুফুরী মতবাদ ৷
.
কিন্তু কড়াকড়িতে কোনো কাজ হলো না ৷ দাউলাতুল ইরাকের সৈন্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখাদেয়৷ একসময় সৈন্যদের মধ্যে ফাটল দেখা দেয় ৷ হুজ্জী বকর শুরা সদস্যদের সাথে পরামর্শে বসলেন ৷ দাউলাতুল ইরাকের নেতৃত্বে মুহাজিরীন দ্বারা গঠিত একটি দল সিরিয়া পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলো ৷ যাতে দাউলাতুল ইরাকের ভাঙ্গন রোধ করা যায় ৷ এবং সিরিয়াগামী দলটি নতুন সৈন্য সংগ্রহ করে দাউলাতুল ইরাকে পাঠাতে পারে ৷ এদিকে শাম বাসীর জন্য দাউলাতুল ইরাকের "মুখ" রক্ষার মতো কিছু করা জরুরী ছিলো ৷
.
সিরিয়ায় যেই দলটি পাঠানো হবে, কে হবেন সেই দলটির আমীর ..? অবশ্যই আমীরকে সিরিয়ান হতে হবে ৷ এমন বিশ্বস্ত, বিচক্ষণ কে আছেন..? অনেক পরীক্ষা, নিরীক্ষার পর শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-জাওলানীকে আমীর নির্ধারণ করা হলো ৷ "জাওলান" সিরিয়ার একটি শহরের নাম ৷ তিনি শান্ত ও মিশুক প্রকৃতির ৷ তিনি দাউলাতুল ইরাকের সাথে প্রথম থেকেই ছিলেন ৷ আমেরিকার হাতে বন্দী হয়ে তিন বছর বা চার বছর জেল খাটেন ৷ দাউলাতুল ইরাকের জন্য তার অনেক ত্যাগ রয়েছে ৷
.

২০১১ সালের অগাষ্টে শাইখ আবু বকর আল-বাগদাদী, শাইখ জাওলানীকে সিরিয়া অভিযানে প্রেরণ করেন ৷
.
আলজাজীরার সাংবাদিক আবু মানসুর-এর প্রশ্নোত্তরে জাওলানী বলেন, যখন বাগদাদী আমাকে সিরিয়া প্রেরণ করেন তখন আমার থেকে আনুগত্যের বাই'আত গ্রহণ করেন ৷ বাই'আত দেয়ার পূর্বে আমি জানতে চেয়েছি জাওয়াহিরীর (আল-কায়দার প্রধানের) নিকট তার বাই'আত আছে কি না ৷ তখন বাগদাদী বলেন "আমার গলায় জাওয়াহিরীর বাই'আত ঝুলানো আছে" ৷ জাওলানী বলেন, জাওয়াহিরীর নিকট বাগদাদীর বাই'আতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমি বাগদাদীকে বাই'আত দেই ৷ বিস্তারিত জানতে উটিউবে সার্চ দিন "بلا حدود لقاء امير جبهة النصرة ابو محمد الجولاني. الحلقة الثانية.
.
জাওলানীর বাই'আতের বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক লেখালেখি হয়েছে ৷ অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে ৷ আমি সংক্ষেপে এতটুক-ই বলবো যে, যিনি বাই'আত দিয়েছিলেন তিনিই ভালো জানেন যে, খিলাফার বাই'আত দিয়েছেন না কি আনুগত্য বা ছোট বাই'আত দিয়েছেন ৷ অতএব আপনি-আমি সুদূর বাংলায় বসে বিতর্ক না করে, বরং যিনি বাই'আত দিয়েছেন তার কথা মেনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে ৷
.
জাওলানীর নেতৃত্বে একটি দল সিরিয়ার মাটিতে পা রাখে (সম্ভব তারা সংখ্যায় সাত জন ছিলেন) ৷ তারা সকলে জাতিগত ভাবে সিরিয়ান ৷ বিভিন্ন দেশে জিহাদ করার অভিজ্ঞতা তাদের ছিলো ৷ দলটির নাম আন-নুসরা ফ্রোন্ট ৷ "নুসরা" শব্দটি আরবী ৷ যার অর্থ সাহায্য ৷ "জাবহাত" অর্থ ফ্রন্ট ৷ দাউলাতুল ইরাকের পক্ষ থেকে নির্যাতিত সিরিয়াবাসীর জন্য দলটি সাহায্য হিসেবেই প্রেরিত হয়েছিলো ৷ তাই দলটির নাম "নুসরা" রাখা হয় ৷
.
সিরিয়ার মাটিতে নুসরা নিজেকে আল-কায়না ইন সিরিয়া বলে পরিচয় দিতে থাকে ৷ হাজার হাজার মুসলিম যুবক নুসরাকে বাই'আত দেয় ৷ নুসরার এক মুজাহীদ, ভাই আব্দুল্লাহ ৷ যিনি আমাকে বিভিন্ন অডিও-ভিডিও তথ্য দিয়ে সাহায্য করে ছেন ৷ যিনি নুসরা ও দাউলাতুল ইরাকের বিভিন্ন মিটিং ও সভায় অডিও-ভিডিও রেকোর্ড করার দায়িত্বে ছিলেন ৷ তিনি আমাকে বলেন 'ইরাক থেকে আগত এই দলটিকে যখন আমরা বাই'আত দিচ্ছিলাম, তখন তাদের প্রশ্ন করতাম, কসম করে বলো তোমরা কি আল-কায়দা? তখন তারা বিভিন্ন ভাবে কছম করে বলতো, আমরা আল-কায়দা ইন ইরাক থেকে শামে প্রেরিত হয়েছি (শেষ) ৷
.
খুব স্বল্প সময়ে আন-নুসরার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ৷ বাশার সরকারের বিরুদ্ধে নুসরা সবচেয়ে কার্যকরী গ্রপে পরিণত হয় ৷ বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মুহাজিরীন নুসরায় যোগ দিতে থাকে ৷ খলিজ, লিবিয়া, আলজেরিয়া, মরোক্কো, তিউনিশিয়া,কাজাখস্থান,আফগানিস্তান, ককেসাস এবং উরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে মুহাজিরীনরা নুসরার নেতৃত্বে শামের জিহাদে অংশ নেয় ৷ আল-কায়দার বিদেশী যোদ্ধা সংগ্রহের খাতগুলো থেকে মুহাজিরিনদের শামে পাঠানো হয় ৷
.
দিনে দিনে নুসরার সৈন্য সংখ্যা বাড়তে থাকে ৷ একে একে সিরিয়ান শহরগুলো নুসরার অধীনে আসতে থাকে ৷ একসময় নুসরার সৈন্য সংখ্যা এবং অধিকৃত এলাকার আয়তন, দাউলাতুল ইরাকের দ্বিগুন হয়ে যায় ৷ সিরিয়াবাসীর আগামীর স্বপ্নের সাথে নুসরা মিশে যায় ৷ ২০১২ সালে যখন আমেরিকা নুসরাকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে, তখন লাখ লাখ সিরিয়াবাসী নুসরার পক্ষে মিছিল বের করে ছিলো ৷
.
সিরিয়া জিহাদ নিয়ে মিডিয়ার প্রপাগাণ্ডা ৷
-কোথাও যদি আগুন লাগে, তখন সেখানে আপনি তিন শ্রেণীর মানুষকে দেখতে পাবেন ৷ এক শ্রেণী আগুন নিভাতে যাবে ৷ দ্বিতীয় শ্রেণী চুরি করতে যাবে ৷ তৃতীয় শ্রেণী তামাশা দেখতে যাবে ৷
.
সিরিয়ায় যখন যুদ্ধের আগুন ধাউ ধাউ করে জ্বলতে শুরু করে, তখন কিছু লোক নির্যাতিত মানুষের পক্ষে লড়াই কারার জন্য যায় ৷ কিছু লোক অস্ত্র বিক্রি বা এক শত্রু দিয়ে আরেক শত্রু দমন করার মত স্বার্থোদ্ধার করে ৷ কিছু লোক দূরে বসে সিরিয়া জিহাদ নিয়ে হাতে তালি আর গালাগালি করায় ব্যস্ত হয়ে পরে ৷
.
"সিরিয়ার জিহাদীরা ইজরাইল থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে" ৷
-উপোরের কথাটি আমি অস্বীকার করি না ৷ তবে আমাদের দেখা উচিত ইজরাইল কাদের চিকিৎসা দিয়ে ছিলো ৷ আমি যতটুকু জানি, ২০১২ সালে ফ্রি সিরিয়ান আর্মীর (সিরিয়ার একটি গণতন্ত্রপন্থী গ্রুপের) কিছু আহত সৈন্যকে ইজরাইল চিকিৎসা দিয়ে ছিলো ৷ এখানে বিস্ময়ের কিছু নেই ৷ কারণ, আমেরিকা, চীন, রাশিয়া যদি সিরিয়ায় অস্ত্র ব্যবসা করতে পারে তাহলে ইজরাইল চিকিৎসা ব্যবসা করতে দোষ কিসের ৷
ইজরাইলের সামনে দু'টি শত্রু ৷ উদীয়মান জিহাদী গ্রুপ, বাশার আল-আসাদ ৷ ইজরাইল চিন্তা করলো, সুন্নীদের দ্বারা যদি বাশারকে পরাস্থ করা যায়, তাহলে আমার অন্তত একটা শত্রু কমবে ৷
ব্যরেল বোমার আগুনে যার শরীর ঝলসে যায় সেই বুঝে যন্ত্রণা কাকে বলে ৷ তখন রুটির চেয়ে চিকিৎসা বেশি প্রয়োজন, চিকিৎসক যে-ই হোক না কেন ৷
রাসূল সঃ অসংখ্য হাদীসে সিরিয়া যুদ্ধের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন ৷ অতএব মিডিয়ার প্রপাগান্ডা শুনে এই মহান যুদ্ধ থেকে মুখফিরিয়ে নেওয়া কিছুতেই যায়েজ হবে না ৷
.
"নিকাহ জিহাদ"
এই বিশেষ পদ্ধতির জিহাদ আমি যেমন বুঝি না, তেমন পাঠকও হয়তো বুঝেন না ৷
নিকাহ জিহাদ হয়ত শিয়াদের "মুতা বিবাহ"-এর মত কিছু হবে ৷ অর্থাৎ কোন নারীর সাথে স্বল্প সময়ের জন্য সহবাসের চুক্তি করা ৷ বিনিময়ের সাথেও হতে পারে ৷ বিনিময় ছাড়াও হতে পারে ৷
সিরিয়া জিহাদের প্রতি মিডিয়ার সবচেয়ে বড় আঘাত হলো এই নিকাহ জিহাদের নাটক ৷ সিরিয়ার কয়েক জন ভাইকে নিকাহ জিহাদ নিয়ে প্রশ্ন করে ছিলাম ৷ তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন ৷
নিকাহ জিহাদ নাটকের মূল উৎস হলো, তিউনিসের এক শিয়া ঘেঁসা মুফতী ফতুওয়া দেন "মুসলিম নারীদের উচিত সিরিয়ায় তাদের মুহাজিরীন ভাইদের যৌনসঙ্গ দেওয়া ৷ এভাবে মুসলিম নারীরা সিরিয়া জিহাদে অংশ গ্রহণের সোওয়াব পাবে" ৷ এই ফতুওয়া শুনার পর, তিউনিসের কিছু নারী সিরিয়া চলে যায় ৷ এবং মুহাজির মুজাহিদীনের সাথে স্থায়ী বিবাহে আবদ্ধ হয় ৷ এই নারীদের সংখ্যা খুব-ই কম ৷ বরোজোড় বিশ জন ৷ মিডিয়া এই স্বাভাবিক বিবাহ পদ্ধতিকে "নিকাহ জিহাদ" নামে প্রচার করে ৷

Tuba
04-30-2016, 11:14 AM
পরের অংশটুকু Reply তে দিলাম।
--=============--
জাবহাত আন-নুসরার বর্ধমান সামরিক শক্তি দাউলাতুল ইরাককে ভাবিয়ে তুলে ৷ হুজ্জী বকর এবং শাইখ বাগদাদী নুসরাকে দাউলাতুল ইরাকের জন্য হুকমি মনে করেন ৷ কারণ নুসরার সাথে দাউলার তেমন মজবুত বন্ধন নেই ৷ নুসরার নেতৃত্বে দাউলার ঘনিষ্ঠ কোনো ইরাকীও নেই ৷
এদিকে আমেরিকা নুসরাকে সিরিয়ার অন্যান্য গ্রুপগুলোর সাথে জোট বাহিনী গঠনের জন্য আহ্বান করছে ৷ যদি নুসরা তা করে, তাহলে দাউলাতুল ইরাক নুসরার উপর নিয়ন্ত্রণ হারাবে ৷ [ আমেরিকার ডাকে সাড়া না দেয়ার কারনে নুসরাকে সন্ত্রাসি তালিকাভুক্ত করা হয়]

২০১১/১২ সাল ৷ হুজ্জী বকর শাইখ বাগদাদীকে একথা বুঝাতে সক্ষম হলেন যে, নুসরা ফ্রন্ট ভবিষ্যতে দাউলাতুল ইরাকের জন্য হুমকি হবে ৷ অতএব আপনি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দিন "নুসরা ফ্রন্ট দাউলাতুল ইরাকের অংশ ৷ এবং আমি বাগদাদীর নেতৃত্বে নুসরা শামে যুদ্ধ করছে ৷ নুসরার অধিকৃত ভূমীগুলো দাউলাতুল ইরাকের ভূমী বলে বিবেচিত হবে" ৷
.
হুজ্জী বকরের পরামর্শে শাইখ বাগদাদী বিষয়টি আমলে নিলেন ৷ তিনি জাওলানীর নিকট পত্র লিখলেন "নুসরার অধিকৃত ভূমীগুলো দাউলাতুল ইরাকের সাথে যুক্ত করে 'দাউলাতুল ইরাক & শাম' ঘোষণা করতে চাচ্ছি ৷ এবিষয়ে আপনি নুসরার শুরা পরিষদের সাথে পরামর্শ করুন ৷ এবং আমাকে দ্রুত তাদের সিদ্ধান্ত জানান" ৷ জাওলানী উত্তরে লিখেন "আমি পরামর্শ করে জানাবো" ৷
.
জাওলানীর পক্ষ থেকে কোন উত্তর আসছিলো না ৷ বাগদাদী পুনরায় জাওলানীর নিকট পত্র লিখলেন ৷ এবং কড়া ভাষায় জাওলানির নিকট দ্রুত উত্তর চাইলেন ৷ এবং শুরা পরিষদ ও আহলে ইলমের সাথে পরামর্শের নির্দেশ করেন ৷
.
দীর্ঘ নিরবতার পর, জাওলানী বাগদাদীর নিকট পত্র লিখেন "নুসরার শুরা পরিষদের সকলের সিদ্ধান্ত যে, এই ধরণের কোন ঘোষণা সিরিয়া বিপ্লবের জন্য কল্যাণকর হবে না" ৷ জাওলানীর পত্র পেয়ে, হুজ্জী বকর এবং বাগদাদী উভয়ে ক্রুদ্ধ হন ৷
.
হুজ্জী বকরের পরামর্শে, শাইখ বাগদাদী শামে একটি গোয়েন্দা টিম পাঠান ৷ তাদেরকে মুজাহীদের বেশে পাঠানো হয় ৷ এবং নুসরার শুরা পদের ক্ষমতা তাদের দেওয়া হয় ৷ যাতে তারা জাওলানীর উপর নজরদারী করতে পারে ৷
নুসরার বিভিন্ন পদে "রদবদ"লের ক্ষমতা দাউলাতুল ইরাকের ছিলো ৷ এবং নুসরাও দাউলাতুল ইরাকের রদবদলকে মেনে নিত ৷ দাউলাতুল ইরাক নিজেদের কর্তৃত্ব ফলানোর জন্য প্রাই নুসরার মধ্যে রদবদল করতো ৷ এমন কি, নুসরা কখন কোথায় আক্রমণ করবে সেটাও হুজ্জী বকর নির্ধারণ করে দিতেন ৷ আর এই উদভট রদবদল নুসরার জন্য বিরক্তির কারণ হতো ৷ বিশেষ করে সিরিয়ান নেত্রীবর্গ দাউলাতুল ইরাকের হস্তক্ষেপ সহজে মেনে নিতে পারতো না ৷
.
জাওলানীর অস্থিরতা বেড়ে গেলো ৷ তিনি গুপ্ত হত্যার আশংকা করলেন ৷ তিনি সভাসদবর্গের সাথে বাগদাদী, হুজ্জী বকর ও দাউলাতুল ইরাকের প্রশংসা করতে থাকেন ৷ যাতে করে গুপ্তচর তার বিরুদ্ধে মন্দ রিপোর্ট না করে ৷ জাওলানীর অস্থিরতা দিনে দিনে বাড়তে থাকে ৷ তিনি হত্যার ভয় করছিলেন ৷
.
২০১২ সাল ৷ আমেরিকা নুসরাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে ৷ এবং জাওলানীকে হত্যা বা গ্রেফতারের ঘেষণা দেয় ৷ নুসরার সামরিক স্থাপনায় আমেরিকা বিমান হামলা শুরু করে ৷ আমেরিকার ঘোষণা জাওলানীর জন্য সুযোগ করে দেয় ৷ নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে জাওলানী আত্মগোপনে চলে যান ৷ এবং তার নির্বাচিত লোকদের দিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেন ৷ ফলে ইরাক থেকে আগত গোয়েন্দা দল জাওলানীর উপর নজরদারি করতে পারছিলো না ৷ দাউলাতুল ইরাকের জন্য জাওলানীর উপর গোপন হত্যা মিশন চালানো কঠিন হয়ে পরে ৷
.
হুজ্জী বকর এবং বাগদাদীর অস্থিরতা বেড়েই চললো ৷ দাউলাতুল ইরাকের চেয়ে দ্বিগুন সামরিক শক্তিধর নুসরা যেকোনো সময় দাউলার উপর নিয়ন্ত্রন নেয়ার চেষ্টা করতে পারে ৷ জাওলানী ছিলেন বিচক্ষণ এবং উপস্থিত বুদ্ধির অধীকারী ৷ তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারলেন ৷ তিনি বাগদাদী ও হুজ্জী বকরকে সান্ত্বনা দিতে থাকেন ৷ কিন্তু হুজ্জী বকর ও বাগদাদীর সংশয় ছিলো জাওলানীর সান্ত্বনার চেয়ে অনে বড়ো ৷
.
হুজ্জী বকর নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন ৷ তিনি ভাবলেন নুসরাকে দিয়ে এমন কিছু কাজ করানো হোক, যার কারণে সিরিয়ায় নুসরার ভাবমূর্তী ক্ষুণ্য হয় ৷ এভাবে নুসরা সিরিয়ায় চাপের মুখে পড়লে, দাউলাতুল ইরাকের সাথে যোগ দেওয়া ছাড়া নুসরার আর কোনো উপায় থাকবে না ৷
.
হুজ্জী বকর বাগদাদীকে পরামর্শ দিলেন, তিনি যেন জাওলানীকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর নির্দেশ করে ৷ বাগদাদী জাওলানীকে পত্র লিখেন ৷ পত্রে দু'টি স্থানে আত্মঘাঁতী হামলার নির্দেশ করেন ৷ একটি তুরোস্কের রাজধানী আঙ্কারায়, ফ্রি সিরিয়ান আর্মীর সভাস্থলে ৷ অপরটি সিরিয়ায় ৷ তাও ফ্রি সিরিয়ান আর্মীকে লক্ষ করে ৷ এবং এই আক্রমণ যেন আমেরিকার সাথে সন্ধি করার পূর্বেই করা হয় ৷ কাদের হত্যা করা হবে, সেই নামগুলোও উল্লেখ করা হয় ৷ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্রি সিরিয়ান আর্মী ভবিষ্যতের "সাহওয়াত" ৷ অর্থাৎ ভবিষ্যতে "সাহওয়াত" হতে পারে তাই এখনি শেষ করে দেও ৷
.
"সাহওয়াত" শব্দের ব্যখ্যা ৷
-সাহওয়াত শব্দটি আরবী ৷ যার অর্থ মুর্তাদ ৷ মুর্তাদ শব্দটি শুদ্ধ আরবী ৷ আর সাহওয়াত শব্দটি আন্ঞলিক আরবী ৷
.
-ইরাক যুদ্ধে আমেরিকা শিয়াদের ক্ষমতায় বসিয়ে শিয়াদের সাথে আঁতাত করে ৷ ফলে সুন্নী রাজনৈতিক দলগুলো জিহাদীদের সাথে মিলে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় ৷ তখন আমেরিকা সুন্নী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে ৷ এবং রাজনৈতিক উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রলোভন দেয় ৷ আমেরিকা সুন্নী রাজনৈতিক দলগুলোকে অস্ত্র ও বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে, জিহাদীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় ৷ জিহাদীরা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে সাহওয়াত বলে সম্বোধন করতো ৷ তখন থেকেই "সাহওয়াত" শব্দটি ময়দানে ব্যবহার হতে থাকে ৷
.
শাইখ বাগদাদীর নির্দেশ নুসরার নেত্রীবর্গকে বিস্ময় ফেলে দেয় ৷ তারা বাগদাদীর কর্মকাণ্ডে অবাক হয় ৷ নুসরার জন্য এই নির্দেশ ছিলো অগ্নী পরীক্ষা ৷ নির্দেশ অমান্য করলে বাগদাদী প্রতিপক্ষ হয়ে যাবে ৷ মান্য করলে ফ্রি সিরিয়ান আর্মী প্রতিপক্ষ হয়ে যাবে ৷ ফ্রি সিরিয়ান আর্মী বাশার সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক যুদ্ধ শুরু করে ৷ একারণে তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ছিলো অনেক ৷ কে জিহাদী আর কে গণতন্ত্রী, সেই পার্থক্য সিরিয়ান যুবকরা তখনও শিখেনি ৷ তাদের একটাই লক্ষ্য ছিলো ৷ আগে বাশারকে হটাও ৷ এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে সহযোগিতা করতো ৷ একজনের রাইফেলের বুলেট ফুরিয়ে গেলে, অন্য জন এসে বুলেট পুরে দিতো ৷ বাগদাদীর নির্দেশ পালন করলে হয়তো সিরিয়ানদের এই ভ্রাতৃত্ববন্ধন আর থাকবে না ৷ এতদিন যারা একে অপরের দুখে সাড়া দিতো, আজ থেকে হয়ত তারাই একে অপরের দুখ তৈরিতে ব্যস্ত হবে ৷
.

সিরিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘতম সীমান্ত দেশ তুরস্ক ৷ তুরস্কের সাথে সিরিয়ার ৮২২ কি. মি. সীমান্ত রয়েছে ৷ অন্যান্য দেশ থেকে তুরস্ক সবচেয়ে বেশি সহমর্মীতা দেখিয়েছে ৷ গত পাঁচ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে ১২ লাখ সিরিয়ান উদ্ভাস্তু হয়েছে ৷ মোট সরনার্থীর অর্ধেক-ই তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে ৷ অন্যান্য দেশের তুলনায় তুরস্কের সরনার্থীরা শান্তিতে রয়েছে ৷
.
দাউলাতুল ইরাক ও নুসরা তুরস্কের মাধ্যমে বিদেশী যোদ্ধা গ্রহণ করে থাকে ৷ বিভিন্ন দেশ থেকে মুহাজিরীন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা হয়ে ইরাক-সিরিয়ায় প্রবেশ করে থাকে ৷ মুসলিম বিশ্ব থেকে অর্থনৈতিক যাহায্য ও অস্ত্র তুরস্ক হয়ে সিরিয়া প্রবেশ করে ৷ সিরিয়া যুদ্ধে তুরস্কের ভূমিকা এতটা-ই গুরুত্বপূর্ণ ৷
.
শাইখ বাগদাদী নুসরাকে যে দু'টি আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে ছিলেন, নুসরা শুরা পরিষদের (উপদেষ্টা পরিষদের) সর্বসম্মতি ক্রমে তা প্রত্যাখ্যান করে ৷ নুসরা সিরিয়া যুদ্ধে তুরস্কের প্রয়োযনীতা তুলে ধরে, এবং তুরস্কে যেকোনো আক্রমণের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে প্রত্যাখ্যান করে ৷
নুসরা বলে, ফ্রি সিরিয়ান আর্মীকে আমরা মুর্তাদমনে করি না ৷ যেখানে কাফেরদের উপর পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আক্রমণ করা যায়েজ নেই, সেখানে মুসলিমদের উপর পূর্ব ঘোষণা ছাড়া আক্রমণ করা কিভাবে যায়েজ হতে পারে..? রাসূল সঃ বলেন "স্রষ্ঠার অবাধ্য হয়ে সৃষ্টির আনুগত্য করা কিছুতেই যায়েজ নেই "(তিমিযী,মুসলিম) ৷ অতএব, বাগদাদীর নির্দেশ মান্য করা জাওলানীর জন্য যায়েজ নেই, যদিও তিনি তার আমীর হন ৷
.
হাজ্জী বকর এবং বাগদাদীর ক্রধ আরো বেড়ে যায় ৷ তারা মনে করেন, আক্রমণের নির্দেশ অমান্য করার মাধ্যমে জাওলানী দাউলাতুল ইরাকের বাই'আত (আনুগত্যের শপথ) ভঙ্গ করেছে ৷
.
হাজ্জী বকর জাওলানীর নিকট পত্র লিখেন ৷ পত্রে কড়া ভাষায় জাওলানীকে দু'টি অপশন দেওয়া হয় ৷ এক, আক্রমণের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা ৷ অথবা নুসরাকে দাউলাতুল ইরাকের সাথে যুক্ত করে "দাউলাতুল ইরাক & শাম"কে মেনে নেওয়া ৷
.
জাওলানী পত্রের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ৷তিনি দাউলাতুল ইরাককে উপেক্ষা করতে থাকেন ৷ যে দু'টি অপশন দেওয়া হয়েছে, তার কোনোটি-ই সিরিয়া জিহাদের জন্য কল্যাণকর নয় ৷ অপেক্ষার প্রহর গুনতে লাগলো ৷ জাওলানীর নীরবতায় হাজ্জী বকরের অস্থিরতা বেড়েই চললো ৷
.
হাজ্জী বকর জাওলানীর নিকট দূত প্রেরণ করেন ৷ যেন সে সরাসরি জাওলানীর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে ৷ দূত সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলো ৷ জাওলানী নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সাক্ষাৎ করলেন না ৷ দূত ফিরে আসলো ৷
.
শাইখ বাগদাদী নুসরাকে এবার সত্যি সত্যি-ই হুমকি মনে করলেন ৷ তিনি ভাবলেন, নুসরা নিজেকে দাউলাতুল ইরাক থেকে বড় মনে করছে ৷ এবং জাওলানী তার আনুগত্য থেকে বেড়িয়ে গেছে ৷
.
হাজ্জী বকর বাগদাদীকে পরামর্শ দেন.. একটি গোয়েন্দা টিম পাঠানো হোক ,যারা নুসরার অভ্যন্তরে প্রচারণা চালাবে ৷ তাদেরকে "দাউলাতুল ইরাক & শাম"-এর গুরূত্ব বুঝাবে ৷ এবং তারা দেখবে যে নুসরার মধ্যে বাগদাদীর প্রতি অস্থা কেমন ৷
.
বাগদাদী দশ জনের একটি গোয়েন্দা টিম শামে পাঠালেন ৷ তারা দুই সপ্তা নুসরার উপর পর্যবেক্ষণ করলো ৷ দাউলাতুল ইরাক & শামের প্রচারণা চালালো ৷ নুসরার প্রভাবশালী নেতাদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করলো ৷ তারা নুসরার মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করলো ৷ কেউ বাগদাদীর সমর্থন করলো, কেউ বিরোধিতা করলো ৷ জর্ডান,কুয়েত, সৌদি এই তিন দেশের মুহাজিরীনদের মধ্যে বাগদাদীর প্রতি সমর্থন বেশি ছিলো ৷ বিশেষ করে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুহাজিরীনরা ইরাক থেকে শাম পর্যন্ত বিস্তৃত ভূমিকে এক আমীরের অধীনে আনার পরিকল্পনাকে স্বাগতম জানালো ৷
.
নুসরার মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় ৷ নুসরার নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু অতি উৎসাহী তাকফির করতে শুরু করে ৷ তারা ফ্রি সিরিয়ান আর্মীকে মুর্তাদ বলে ৷ আহরার আশ-শামকেও মুর্তাদ বলে ৷ নুসরা এধরণের উৎসাহী ব্যক্তিদের শাস্তি দেয় ৷ জেলে পুরে রাখে ৷ কোরআন-হাদীসের স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া তাকফির করা কঠর ভাবে নিষিদ্ধ করেছিলো নুসরা ৷ আলজাযীরার সাংবাদিক আবু মানসুরের প্রশ্নোত্তরে জাওলানী বলেন "নুসরা কোন মুসলিমকে তাকফির (মুর্তাদ বলে না) করে না, যতক্ষণ না তার থেকে স্পষ্ট কুফুরী পওয়া যায় ৷ আমরা এখন তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করি যারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ৷ "
.
আহরার আশ-শাম কি গণতান্ত্রীক দল..?
- ২০১১/২/১১ তারিখে আহরার আশ-শাম গঠিত হয় ৷ প্রাথমিক অবস্থায় তারা গোপনে কার্যক্রম চালায় ৷ ২০১১ সালের শেষের দিকে চারটি গ্রুপের সমন্যয়ে আহরার আশ-শাম আত্মপ্রকাশ করে ৷গ্রুপগুলোর নাম..
১: كتاءب احرار الشام
২: حركة الفجر الاسلامية
৩: جماعة الطليعة الاسلامية
৪: كتاءب الايمان المقاتلة
সিরিয়ায় সালাফি জিহাদের উলামাদের নেতৃত্বে আহরার আশ-শাম গঠন করা হয় ৷ যাদের হাতে আহরার আশ-শাম গঠিত হয়েছে..
১: শাইখ হাশেম আবু জাবের ৷
২: শাইখ আবু সালেহ্ তাহ্হান ৷
৩: আবুল আব্বাস আশ-শামী ৷
.
যুদ্ধের ময়দানে শত্রুকে বোকা বানিয়ে, যুদ্ধে জয়ী হওয়া যেমন যুদ্ধের একটি কৌশল ৷ তেমনি শত্রু থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে গোপনে রেখে, শত্রুকে বোকা বানানোও যুদ্ধের কৌশল ৷ এবং তা জায়েয ৷ এটাই যুদ্ধের নিয়ম ৷ আহরার আশ-শামের মূল লক্ষ্য সিরিয়ায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা ৷ যদিও তারা এই পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠার পর এক বছর গোপন রেখে ছিলো ৷
.
একটি জামাত কখন জিহাদী হয়? যখন তারা আলেমদের নেতৃত্বে কোরআন-হাদীসের উপর থেকে লড়াই করে, তখন অবশ্যই তাদের জিহাদী জামাত বলা যায় ৷ আল্লাহ বলেন "তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করছো না..? অথচ আসহায় নারী-পুরুষরা আর্তনাদ করছে এই বলে যে, হে আল্লাহ আপনি এই জনপদের জালিমদের হাত থেকে আমাদের মুক্তি দিন ৷ এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে এক জন নেতা নির্ধারণ করে দিন ৷ "
উপরের আয়াতে আল্লাহ অসহায় মানুষের পক্ষে লড়াই করার নির্দেশ করেছেন ৷ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকতে হবে এরকম শর্ত আল্লাহ করেন নি ৷
.
অতএব, আহরার আশ-শামের কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই, বা তারা গণতন্ত্রী, এই বলে যারা মুসলিমদের পবিত্র রক্তকে হালাল করে, তাদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের আখেরাত নষ্ট করা থেকে বিরতো থাকুন ৷
.
জিহাদী গ্রুপগুলো কেন সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের সাহায্য গ্রহণ করে..?
-আপনি আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, মসজিদ মাদরাসাগুলোতে কেন রাজনৈতিক নেতাদের টাকা গ্রহণ করা হয়..?
-রাসূল সাঃ বলেন "নিশ্চই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে জালেম-ফাসেকদের দিয়েও শক্তিশালী করবেন ৷"
-আল্লাহ তার দ্বীন পরিচালনার দায়িত্ব কোনো একক ব্যক্তির উপর ছেড়ে দিবেন না ৷ যাতে করে সেই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে দ্বীনেরও মৃত্যু না ঘটে ৷ মুসলিম জনসাধারণ কষ্টে উপার্জিত পয়সা থেকে সামান্য যতটুকু দান করবে, আল্লাহ তা দিয়েই ইসলামকে বাঁচিয়ে রাখবেন ৷ রাসূল সঃ এর সময় থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামের প্রতিটি কাজ এভাবেই হয়ে আসছে ৷ বিভিন্ন যুদ্ধের সময় রাসূল সঃ তাঁর চাদর বিছিয়ে বলতেন তোমরা সাধ্যানুযায়ী দান করো ৷সাহাবীগণ দান করতেন ৷ যার কাছে দুটি খেজুর ছিলো সে একটি দান করে দিতেন ৷ ইসলাম এভাবেই চলে আসছে ৷ কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই চলবে ৷ এটা আমাদের গর্ব ৷ আমরা মুসলিমরা পৃথিবীর অন্যান্য জাতির তুলনায় বেশি দানশীল ৷ জিহাদের ময়দানগুলোকে আল্লাহ এভাবেই পরিচালনা করছেন ৷ অতএব, সৌদি আরবের সাধারণ মুসলিমদের দানগুলো যখন সিরিয়া পৌঁছে তখন একথা বলা উচিত নয় যে, এরা সৌদি আরবের দালাল(সমাপ্ত) ৷
.
প্রতিপক্ষ দলকে তাকফির করার কারণে যাদেরকে নুসরা জেলে দিয়ে ছিলো..
১: আবু রেতাজ তিউনিসী ৷
২: আবু ওমার ইবাদী, তিউনিসী ৷
৩: আবু দামদাম আল-হুসনা ৷
৪: আবু হাজ্জায নাওয়ারী,মরোক্ক ৷
৫: আবু বকর ওমর আল-কাহতানী সাউদী ৷
আবু বকর সাউদী নুসরার প্রতিপক্ষ দলগুলোকে তাকফির করতো ৷ এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্ররোচনা দিতো ৷ নুসরা তাকে তিন বার জেলে পুরে ছিলো ৷ আবু বকর সাউদী প্রথম ব্যক্তি যিনি নুসরা থেকে বেরিয়ে দাউলাতুল ইরাকের সাথে যোগ দেয় ৷ এবং নুসরার বিরুদ্ধে দাউলাতুল ইরাককে সহযোগীতা করেন ৷
.
নুসরার মধ্যে যারা ঢালাউ ভাবে তাকফির করতো তারাই মূলতো বাগদাদীকে সমর্থন দিতো ৷ দুই সপ্তা পর দশ গুপ্তচর ফিরে আসলো ৷ নুসরার মধ্য থেকে যারা বাগদাদীর প্রতি সমর্থন দিতো, তাদের ছবি অডিও ভিডিও ডকুমেন্ট সাথে নিয়ে আসলো ৷
.
হাজ্জী বকর বাগদাদীকে শামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করলেন ৷ তিনি বলেন, আমরা দুজন শামে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো ৷ আর শামবাসী তো আপনাকে কখনো দেখে নি ৷ তাই শামে ঘুড়ে এসে "দাউলাতুল ইরাক & শাম" ঘোষণা দিলে শামবাসীর মধ্যে তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করবে ৷
.
হাজ্জী বকরের পরামর্শ বাগদাদী গ্রহণ করলেন ৷ সিরিয়ায় বাগদাদীর অবস্থানের জন্য তুর্কী সীমান্তকে নির্ধারণ করা হলো ৷ বাগদাদী, হাজ্জী বকর আরো তিন জন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষী সহ তারা সিরিয়ার পথে যাত্রা শুরু করলেন ৷
.

শাইখ বাগদাদী এবং হাজ্জী বকর তাদের দলবল সহ সিরিয়া প্রবেশ করেন ৷ "দাউলাতুল ইরাক & শাম" ঘোষণার তিন সপ্তা পূর্বে তারা সিরিয়া সফর করেন ৷ সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে উদ্ভাস্তু শিবিরের কাছে বাগদাদী থাকার ব্যবস্থা করা হয় ৷ লোহা দিয়ে তৈরি স্থানান্তর যোগ্য কয়েকটি কাামড়া নির্মাণ করা হয় ৷ কামড়াগুলো ভিতর দিয়ে একটি থেকে অপরটিতে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা ছিলো ৷উদ্ভাস্তু শিবিরের কাছাকাছি থাকাটা নিরাপদ মনে করলেন ৷
.
যেই ছোট ছোট গ্রুপগুলোর সমন্যয়ে নুসরা গঠিত হয়েছিলো, সেই গ্রুপগুলোর আমীরদের সাথে বাগদাদী সাক্ষাৎ করতে লাগলেন ৷ সাক্ষাতের মাঝে বাগদাদী তাদের উপর নিজের কর্তৃত্ব ফুটিয়ে তুলতেন ৷ লোহার তৈরি কামড়াগুলোর মধ্যে তাদের সাক্ষাৎ হতো ৷
.
ছোট ছোট গ্রুপগুলোর আমীরদেরকে বাগদাদী তার ও জাওলানীর মাধ্যে যে বিরোধ চলছিলো তা বুঝতে দিতেন না ৷ এবং এমন ভাব ফুটিয়ে তুলতেন যেন জাওলানীর ডাকেই তিনি সিরিয়া এসেছেন ৷ ছোট গ্রুপগুলোর নেতৃবর্গকে একথা বুঝাতেন যে, নুসরা "দাউলাতুল ইরাক & শাম"কে মেনে নিয়েছে ৷ এখন শুধু ঘোণা বাকি ৷
.
শাইখ বাগদাদী দুই ভাবে নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন ৷ নুসরার উচ্চ পদস্থ নেতাদের সাথে একাকী সাক্ষাৎ করতেন ৷ আর নিম্ম পদস্থ নেতাদের সাথে দশ পনের জনের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎ করতেন ৷ কোনো একজন কথা বলতো, এভাবে "এখন আমাদের সাথে বাগদাদী মজলিশে উপস্থিত আছেন ৷ আমরা যা বলছি তিনি শুনছেন ৷ তিনি শামে এসেছেন মুজাহিদীনের মাঝে ঐক্য তৈরির জন্য" ৷ এভাবে এক আমীরের নেতৃত্বের গুরুত্ব বাঝাতে এবং শত্রুর ব্যাপারে সতর্ক করতে থাকেন ৷
.
শাইখ জাওলানী বাগদাদীর সিরিয়া আগমনের বিষয়টি জানতেন ৷ তিনি এমন সব আচরণ থেকে বিরত থাকলেন, যার দ্বারা তার মাঝে ও বাগদাদীর মাঝে বিরোধ প্রকাশ পায় ৷ তিনি ফিতনার আশঙ্কায় নিজেকে নীরব রাখলেন ৷ নুসরার উচ্চ পদস্থ নেতাকর্মীদের সাথে বাগদাদীর সাক্ষাতের বিষটি জাওলানী জানতে পারলেন ৷ এবং আগামীতে যা ঘটবে সে ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন ৷
.
শাইখ বাগদাদী জাওলানীর সাক্ষাৎ চেয়ে পত্র লিখলেন ৷ জাওলানী তা প্রত্যাখ্যান করেন ৷ তিনি নিরাপত্তা জোড়দার করলেন ৷ তিনি জানতেন যে, যেকোনো সময় তাকে হত্যা করা হতে পারে ৷ এবং তিনি এটাও জানতেন যে সাক্ষাৎ করতে গেলে-ই তাকে বন্দী করা হবে ৷
.
বাগদাদী জাওলানীর নিকট আবার পত্র লিখলেন ৷ তিনি বললেন "দাউলাতুল ইরাক & শাম"এর বিষয়টি পাকাপোক্ত হয়ে গেছে ৷ এবং অতি শিগ্রই তা ঘোষণা করা হবে ৷ বাগদাদী জাওলানীকে নির্দেশ করলেন, তিনি যেন নিজেই ভিডিও বার্তায় বাগদাদীর প্রতি তার আনুগত্য স্বীকার করে ৷
.
জাওলানী বাগদাদীর কাছে পত্র লিখলেন ৷ তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দাউলাতুল ইরাকের সাথে নুসরাকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত চরম ভুল সিদ্ধান্ত ৷ এর দ্বারা কেবল ফিতনাই বাড়বে ৷ নুসরার প্রচেষ্টায় জিহাদের প্রতি মানুষের মাঝে যে জনপ্রিওতা তৈরি হয়েছে তা চূর্মার হয়ে যাবে ৷ সিরিয়াবাসী এই ঘোষণা কিছুতেই মেনে নিবে না ৷ বরং উত্তম হবে, আপনি ইরাক চলে যান ৷ এবং আমাদের এখানে ছেড়ে দিন ৷
.
হাজ্জী বকর পরামর্শ দিলেন, যেন বাগদাদী "দাউলাতুল ইরাক & শাম" ঘোষাণা দিয়ে ভিডিও বার্তা প্রচার করেন ৷ এবং জাওলানীর বিষয়ে নীরব থাকেন ৷ হতে পারে ঘোষণার পর জাওলানী ফিরে আসবেন ৷

Tuba
04-30-2016, 11:15 AM
হাজ্জী বকর কিছু দিন পর ঘোষণা দেওয়ার পরামর্শ দিলেন ৷ যাতে দাউলাতুল ইরাক থেকে কিছু সৈন্য এনে সিরিয়ায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা যায় ৷ ঘোষণার পর যেন এই শক্তির উপর ভিত্তি করে সিরিয়ায় টিকে থাকা যায় ৷
.
হাজ্জী বকর, নুসরা থেকে যারা আসতে ইচ্ছুক তাদেরকে জড় করতে লাগলেন ৷ হাজ্জী বকর ইরাক থেকে কিছু যোদ্ধা এনে এবং নুসরা থেকে কিছু নিয়ে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে প্রায় একহাজার সৈন্য সমাবেশ ঘটালেন ৷ ঘোষণার সময়টি তাদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হলো ৷ যেন ঘোষণার পর তারা উল্লাস প্রকাশ করে ৷ এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে ৷
.
ঘোষণার দুই দিন পূর্বে হাজ্জী বকর নুসরার অবশিষ্ট সকল নেতাকর্মীকে জানালেন যে বাগদাদী এখন শামে আছেন ৷ যাতে তারা চাপের মুখে থাকে ৷ ঘোষণার সময় নির্ধারণ করা হলো ৷ ঘোষণা-ও করা হলো ৷ আগে থেকে যাদের নির্ধারণ করা ছিলো, তারা উল্লাস প্রকাশ করলো ৷ দলে দলে বাগদাদীকে বাই'আত দিতে লাগলো ৷ ফিরে গিয়ে তারা বাগদাদীর সাথে তাদের কুশলাদির বর্ণনা করতে লাগলো ৷ শুরা পরিষদ গঠন করা হলো ৷
.
হাজ্জী বকর বাগদাদীকে পরামর্শ দিলেন যে, এখন সময়টা গুরুত্ব পূর্ণ ৷ নুসরার অনুগত নেতাকর্মীদের যেন বাগদাদী সরাসরি সাক্ষাৎ দেন ৷ জাওলানী নিরাপত্তার কারণে সর্বদা আত্মগোপনে থাকতেন ৷ এমন কি নুসরার অনেক নেতাকর্মীও জাওলানীকে কখনও দেখেন নি ৷ এই সুযোগে যদি বাগদাদী তাদেরকে মুখমুখি সাক্ষাৎ দেয় তাহলে হয়তো তারা নুসরা থেকে সরে আসবে ৷ এতে করে নুসরার উপর মানসিক প্রভাব ফেলা যাবে ৷ বাগদাদী তাই করলেন ৷ প্রকাশ্যে সাক্ষাৎ দিলেন ৷
.
"দাউলাতুল ইরাক & শাম" ঘোষণার পর নুসরা ভেঙ্গে তিন টুকরো হলো ৷ এক টুকরো বাগদাদীকে বায়াত দিলো ৷ এবং তারা প্রায় নুসরার অর্ধের ৷ আরেক টুকরো নুসরা থেকে সরে গিয়ে স্বতন্ত্র দল গঠন করলো ৷ এবং তারা প্রায় নুসরার একচতূর্থাংশ ৷ অবশিষ্ট একচতূর্থাংশ জাওলানীর অনুগত হয়ে থাকলো ৷
হাজ্জী বকর জাওলানীর নিকট পত্র লিখলেন ৷ পত্রে জাওলানীকে খারেজী এবং বাই'আত ভঙ্গের কারণে হত্যাযোগ্য বলে সতর্ক করেন ৷ বাগদাদীর আনুগত্য মেনে নিতে অথবা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন ৷ জাওলানীর নিকট পত্র পৌঁছে নি ৷ কারণ তিনি আত্মগোপনে ছিলেন ৷ তবে পত্রের বিষয় বস্তু সম্পর্কে জাওলানীকে অবগত করা হয় ৷ তিনি পত্রের কোনো উত্তর দেন নি ৷
.
হাজ্জী বকর দু'জন প্রতিনিধি পাঠান ৷ তারা নুসরার অবশিষ্ট কমান্ডারদের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সাক্ষাৎ করেন ৷ নুসরাকে তারা "খাওয়ারীজ" বলে অভিযুক্ত করেন ৷ প্রতিনিধিরা নুসরার কমান্ডারদের সতর্ক করে বলেন ""নুসরার সকল সম্পদ এখন দাউলাতুল ইরাক & শামের মালিকানাভুক্ত ৷ তাদের সামনে শুধু দু'টি পথ খোলা আছে ৷ হয় তারা বাগদাদীকে বাই'আত দিবে ৷ অথবা নিজেদের সকল অস্ত্র-সস্ত্র দাউলার কাছে জমা দিয়ে জীবন নিয়ে শাম থেকে পালিয়ে যাবে ৷ এছাড়া তৃতীয় কোন পথ তাদের জন্য নেই ৷""
.
যারা নুসরা থেকে দাউলায় যোগ দিয়েছিলো, হাজ্জী বকর তাদের তলব করলেন ৷ তাদের থেকে অবশিষ্ট নেতাদের ঠিকানা এবং ছবি সংগ্রহ করলেন ৷ যেনো তাদেরকে "টাকা"র বিনিময় ক্রয় করা যায়, অথবা হুমকি-ধোমকি দিয়ে দলে ভিড়ানো যায় ৷
.
বুন্দার আশ-শা'আলান, একজন আলোচিত ব্যক্তি ৷ আমরা তাকে শুধু 'শাআলান' নামে উল্লেখ করবো ৷ তিনি সৌদি আরবের সাবেক সেনা অফিসার ৷ বাগদাদীর সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিলো ৷ শাআলান ইরাক যুদ্ধে অংশ নিলেও পরবর্তীতে সৌদি ফিরে আসেন ৷ তিনি সৌদি থেকে বাগদাদীকে সবদিক থেকে সাপোর্ট দিতেন ৷ নুসরার মধ্যে যারা সৌদি মুহাজীর ছিলো, তারা শাআলানের কথায় বাগদাদীকে বাই'আত দিয়েছিলো ৷ শাআলান বাগদাদীকে আবু বকর আল-কাহতানীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন ৷ কাহতানী নুসরার সৈনিক ছিলেন ৷ প্রতিপক্ষ গ্রুপকে তাকফির করার অপরাধে নুসরা তাকে তিন বার জেলে পুড়ে ছিলো ৷ দাউলা ঘোষণার পূর্বেই তিনি বাগদাদীকে বাই'আত দিয়েছিলেন ৷ তখন বাগদাদী কাহতানীকে আলাদা ভাবে চিন্তেন না ৷
.
কাহতানী বাগদাদীর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন ৷ নুসরার জেলমুক্ত কাহতানী এখন শামে বাগদাদীর শুরা পরিষদের একজন ৷ অবশিষ্ট নুসরা সদস্যদের দলে ভিড়ানোর জন্য কাহতানী বিশেষ ভুমিকা পালন করেন ৷ তিনি চরম নুসরা বিদ্বেষী ছিলেন ৷ কাহতানীর আলোচনা সামনে আসবে ৷ এবং এক-ই নামে কয়েক জন ব্যক্তির আলোচনা আসবে ৷ বিষয়টি স্পষ্ট করে বুঝার জন্য পাঠককে সচেতন থাকার অনুরোধ করছি ৷
.
হাজ্জী বকর এবং বাগদাদীর কাছে সংবাদ পৌঁছলো যে, জাওলানী বাগদাদীর ঘোষণাকে মেনে নিবে না ৷ এবং আশঙ্কা হচ্ছে জাওলানী মিডিয়ার মাধ্যমে বাগদাদীর ঘোষণার প্রতিবাদ করবেন ৷
.
হাজ্জী বকর বাগদাদীকে শামে একটি পুলিশ বাহিনী গঠনের পরামর্শ দেন ৷ তাদের দায়িত্ব হবে দু'টি ৷ এক, নুসরার অস্ত্র ভাণ্ডারগুলো আয়োত্বে আনা ৷ বাধা দিলে-ই হামলা চালানো হবে ৷ এভাবে অস্ত্রমুক্ত করা হলে নুসরা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে ৷
.
নুসরার অস্ত্র ভাণ্ডারে অতর্কিত হামলা চালানো হয় ৷ অস্ত্র গুদামগুলো খালি করে দেওয়া হয় ৷ এই আক্রমণে নুসরার প্রায় কয়েক হাজার সৈন্য শহীদ হয় ৷ অস্ত্র ছিনতাইয়ের এই ইতিহাসকে অনেকে "গনিমাহ ফিতনা" বলে থাকে ৷ আইএস-নুসরা যুদ্ধের ইতিহাস অনেকে "গনিমাহ ফিতনা"র পর থেকে শুরু করে থাকেন ৷
.
দ্বিতীয়, ঘাতক বাহিনী গঠন করা ৷ এরা মূলত গোপন গোয়েন্দা বাহিনী ৷ তারা নুসরার সাথে মিশে থাকবে ৷ নুসরার কমান্ডারদের গতিবিধি লক্ষ করবে ৷ তাদের চলার পথে বা গাড়িতে রিমট কনট্রল বোমা পেতে রাখা হবে ৷ এভাবে একে একে অবশিষ্ট নুসরার কমান্ডারদের হত্যার পরিকল্পনা করেন হাজ্জী বকর ৷
.

হাজ্জী বকরের পরামর্শে শাইখ বাগদাদী গোপন ঘাতক বাহিনী গঠনের অনুমতি দিলেন ৷ তাদের এক অংশ নুসরার অস্ত্র গুদামে হামলা চালানোর জন্য নিযুক্ত করা হয় ৷ অপর অংশ নুসরার সাথে মিশে যায় ৷ তারা নুসরার কমান্ডারদের গাড়ির নিচে কৌশলে টাইম বোমা বা রিমটকনট্রোল বোমা পেতে গোপন মিশন চালাতে থাকে ৷ এই মিশনের প্রায় সকলেই সাদ্দাম আমলের সাবেক সেনাকর্মকর্তা ৷ হাজ্জী বকর তাদের খুঁজে খুঁজে জড়ো করেছিলেন ৷
.
ঘাতক দলটি জাওলানীর অবস্থান নির্নয় করার জন্য, তার নিকটবর্তী কয়েক জনকে বন্দী করে ৷ কিন্তু শত চেষ্টা করেও তারা জাওলানীর অবস্থান নির্নয় করতে সক্ষম হয় নি ৷
.
জাওলানীর একজন উপদেষ্টা, এবং নুসরার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা মুহাজীর আল-কাহতানী ৷ কাহতানীর উপর ঘাতক দল নজরদারি কোর ছিলো ৷ হাজ্জী বকরের কাছে কাহতানীর সকল রিপোর্ট পৌঁছে ৷ কিন্তু কাহতানী সাথে দুজন লোক রাখতেন ৷ একজন হলেন আবু হাফস ৷ অন্য জন আবদুল আজিজ ৷ ফলে একা কাহতানীকে হত্যা করা কঠিন হয়ে পড়ে ৷
.
দুই সঙ্গী সহ কাহতানীকে হত্যার নির্দেশ এলো ৷ ঘাতক দল কাহতানীর গাড়িতে টাইম বোম পেতে রাখলো ৷ চলার পথে কাহতানী গাড়ি থেকে নেমে নুসরার একটি চেকপোস্টে যান ৷ এবং তার সঙ্গী দুজনকে গাড়িতে অপেক্ষা করতে বলেন ৷ ঠিক তখন গাড়ি বিস্ফোরণ ঘটায় ৷ এবং সঙ্গী দু'জন মাড়া যায় ৷ কাহতানী বুঝতে পারলেন যে, হামলার লক্ষবস্তু তিনি-ই ছিলেন ৷ হয়তো ঘাতক দলের কেউ তার আশেপাশে-ই আছে ৷ কাহতানী আত্মগোপনে চলে যান ৷
.
হাজ্জী বকর এবং বাগদাদীর কাছে সংবাদ পৌঁছলো যে, নুসরার দ্বিতীয় সারির নেতা কাহতানীকে হত্যা করা হয়েছে ৷ এই সংবাদ তাদের জন্য অনেক আনন্দের ছিলো ৷ হামলার ২৪ ঘণ্টা পর তারা জানতে পারলেন যে, মিশন ব্যর্থ হয়েছে ৷
.
হাজ্জী বকর ঘাতক দলকে তলব করলেন ৷ হামলা ব্যর্থ হওয়ার কারণে তাদের বকাঝকা করলেন ৷ আগামী কয়েক মাসের জন্য হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ করেন ৷
.
হাজ্জী বকর এবং বাগদাদীর জন্য যেই আশঙ্কাটি এখন সবচেয়ে বড়, তাহলো জাওলানীর প্রত্যাখ্যান ৷ যেকোনো সময় জাওলানী মিডিয়ার মাধ্যমে বাগদাদীর ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে ৷ আর যদি জাওলানী এমন কিছু করে, তাহলে সিরিয়ার অন্যান্য গ্রুপগুলো জাওলানীর পক্ষে চলে আসবে ৷ এমন কি তা দাউলাতুল বাগদাদীর জন্য ভাঙ্গনের কারণ হতে পারে ৷ বাগদাদীকে শান্ত করার জন্য হাজ্জী বকর বললেন, জাওলানীর বিষয়টি তার কাঁধে ছেড়ে দিন ৷
.
বাগদাদীর শঙ্কা দিন দিন বেড়েই চললো ৷ তিনি নতুন করে আশঙ্কা করলেন যে, জাওলানী হয়তো মীমাংসার জন্য জাওয়াহিরীর (আল-কায়দা প্রধানের) কাছে মোকদ্দমা করবেন ৷ ঘটলো-ও তা-ই ৷ জাওলানী তিন ব্যক্তির মারফতে নিজের অবস্থানকে জাওয়াহিরীর নিকট তুলে ধরলেন ৷ সেই তিন ব্যক্তির নামও আমাদের জানা আছে ৷ তাদের একজন ছিলেন সৌদির সাবেক সেনা অফিসার ৷ অন্য দু'জন সিরিয়ান ৷ তারা জাওয়াহিরীর কাছে শামের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন ৷ এবং দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করেন ৷ জাওয়াহিরী মূল সমস্যা সমাধানের জন্য সময় চান ৷
.
"কায়দাতুল জিহাদ ইন ইয়ামেন"এর প্রধান আবু বাসির আল-ওয়াহিশী ৷ শাইখ জাওয়াহিরী ওয়াহিশীর নিকট পত্র লিখলেন ৷ পত্রে ওয়াহিশীকে শাম ও ইরাকের সমস্যা সমাধানের নির্দেশ করেন ৷ জাওয়াহিরী বিষয়টি মিডিয়ার আড়ালে রাখতে চাচ্ছিলেন ৷ তিনি মনে করলেন, তিনি নিজে কোনো সমাধান করার আগে-ই যদি শামে কোনো মীমাংশা হয়ে যায়, তাহলে শত্রুরা টের পাবে না ৷ ফলে কায়দাতুল জিহাদ যে বড় ধরণের ভাঙ্গনের মুখমুখি হচ্ছিলো তা মিডিয়ায় আসবে না ৷ জাওয়াহিরী চান নি যে জাওলানী বাগদাদী থেকে আলাদা হয়ে যাক ৷ বরং তিনি চেয়েছিলেন যেকোনো উপায়ে শামে একটি স্থায়ী সমাধান হোক ৷
.
ওয়াহিশী দু'টি পত্র লিখলেন ৷ একটি জাওলানীর কাছে ৷ অপরটি বাগদাদীর কাছে ৷ বাগদাদী পত্রের কোন উত্তর-ই দেন নি ৷ জাওলানী পত্রের উত্তর দিলেন ৷ তিনি পত্রে শামে বাগদাদীর অবস্থান শাম জিহাদের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা তুলে ধরলেন ৷এবং তার কারণে সাধারণ মানুষ জিহাদীদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রী দলগুলোকে সাপোর্ট দিতে শুরু করবে ৷ ওয়াহিশী জাওয়াহিরীর নিকট পত্র লিখলেন ৷ এবং বললেন, সমাধানের সকল চেষ্টা ব্যর্থ ৷ এখন জাওয়াহিরীর পক্ষ থেকে কিছু করা যেতে পারে ৷
.
শাইখ বাগদাদী ওয়াহিশীর পত্র পেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন ৷ হাজ্জী বকর তাকে সাহস জোগাচ্ছিলেন ৷ হাজ্জী বকর তাকে অবিচল থাকার পরামর্শ দেন ৷
.
হামেদ আলী আল-কুয়েতী, তিনি জাওলানীর সাথে সাক্ষাৎ করে মধ্যস্থতা করতে চাইলেন ৷ জাওলানী তাকে বাগদাদীর সিরিয়া অবস্থান যে জিহাদের জন্য ক্ষতিকর তা তুলে ধরেন ৷ কুয়েতী বিষয়টি অনুধাবন করলেন ৷
.
কুয়েতী বাগদাদীর সাক্ষাৎ প্রার্থনা করলে বাগদাদী তাকে সাক্ষাৎ দেন ৷ সাক্ষাতের মজলিশে বাগদাদীর কয়েকজন শুরা সদস্যকে থাকার অনুরোধ করলেন ৷ তাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলেন হাজ্জী বকর ৷ এবং আবু আলী আল-আনবারী ৷ হাজ্জী বকরের পরই আনবারীর অবস্থান ৷ তিনি-ও সাদ্দাম আমলে একজন সেনা অফিসার ছিলেন ৷ মজলিশের আলোচনায় হাজ্জী বকর ও বাগদাদী "দাউলাতুল ইরাক & শাম"এর দাবিতে অনড় ৷ কুয়েতী তাদের বুঝালেন যে এখন দাউলা ঘোষণার চেয়ে ঐক্য টিকিয়ে রাখা বেশি প্রয়োজন ৷ সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত হয় যে, জাওয়াহিরীর পক্ষ থেকে যে নির্দেশ আসবে তা সকলে মেনে নিবে ৷ এই কথার উপর মজলিশ শেষ হয় ৷ এবং তাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অডিও রেকোর্ড করা হয় ৷
.
হাজ্জী বকর বাগদাদীর কাছে জাওয়াহিরীর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করতে লাগলেন ৷ তিনি বলেন "জাওয়াহিরী এমন কে যার সাথে আমাদের দাউলার ভবিষ্যৎ ঝুলে থাকবে..? " হাজ্জী বকর বাগদাদীর উপর চাপ সৃষ্টি করলেন ৷ এবং বাগদাদীর সমর্থন চাইলেন নুসরাকে সমূলে ধ্বংস করার জন্য ৷ জাওলানী এবং তার শুরা পরিষদকে লণ্ডভণ্ড করার প্রস্তুতি নিলেন ৷
.
হাজ্জী বকর তিনটি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন ৷
① পূর্বের চেয়ে শক্তিশালী ঘাতক দল গঠন করা ৷ এই দলটি ব্যাপক ভাবে নুসরার মধ্যে ছড়িয়ে পরে ৷ এবং চোরাগুপ্তা হামলা চালায় ৷
② প্রভাবশালী আলেম,মুফতীদের দলে ভিড়ানো ৷ এবং তাদের থেকে এই ফাতাওয়া বের করা যে, বাগদাদীর নিকট বাই'আত দেওয়া ওয়াজিব ৷ যারা এর বিরোধিতা করবে সে ইসলামের বিরোধী হবে ৷ তারা এই ফাতাওয়া ব্যাপক ভাবে প্রচার করে ৷
③ একদল মিডিয়া ম্যান তৈরি করা ৷ যারা গ্রাফিক্স এবং অনলাইন এক্সপার্ট হবে ৷ ইংরেজী এবং আরবী সাহিত্যে যাদের থাকবে "শক্তহস্ত" ৷ তাদের কাজ হবে দাউলাতুল বাগদাদীকে বিশ্বের কাছে "মহনীয়" করে তুলে ধরা ৷ এবং মুসলিম বিশ্বের কাছে বাগদাদীকে "শ্রেষ্ঠ পুরুষ" হিসেবে প্রমাণ করা ৷ তারা বিভিন্ন অপারেশনের "hd" ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয় ৷ ফলে সরলমনা মুসলিম যুবকদের দলে ভিড়াতে সক্ষম হয় ৷
.
আনবারী এবং আবু ইয়াহয়া মরক্কো ও শামের যুবকদের মাঝে দাউলাতুল বাগদাদীর প্রচারণা চালাতে থাকেন ৷ আবু বকর আল-কাহতানী সৌদি, কুয়েত, জর্ডান ইত্যাদি দেশগুলোতে প্রচারণা চালাতে থাকেন ৷ তিনি সৌদির মুফতীদের থেকে বাগদাদীর বাই'আত ওয়াজিব হওয়ার ফাতাওয়া তৈরির চেষ্টা করেছেন ৷
.
সৌদির এক মুফতী "উসমান নাযেহ" কে কাহতানী বাগদাদীর ভক্ত বানাতে সক্ষম হন ৷ আনবারীর কাছে এই সুসংবাদ পৌঁছে তিনি উসমানের সাক্ষাৎ তলব করেন ৷ আনবারী উসমানকে দেখার পর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন ৷ কারণ উসমানের শারীরিক গঠন ছিলো দূর্বল ৷ কথাবার্তার মাঝে তেমন ব্যক্তিত্য ছিলো না ৷ হাজ্জী বকর কাহতানীকে সৌদি, কাতার, জর্ডানে মুফতী খোঁজার নির্দেশ করেন ৷
.
২০১৩ সাল ৷ কায়দাতুল জিহাদ প্রধান ড.আইমান আল-জাওয়াহিরী তার উপদেষ্টামণ্ডলীর সাথে পরামর্শে ব্যস্ত, তিনি সিরিয়া সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছেন ৷
.
জাওয়াহিরীর সামনে রয়েছে কোরআনের তিনটি আয়াত, রাসূলের কিছু হাদীস, এবং আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞা ৷
.
-১: আল্লাহ বলেন "হে ঈমানদানগণ তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো ৷ এবং তোমাদের মধ্য হতে যারা আমীর হবে তাদের আনুগত্য করো ৷ যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখাদেয়, তখন তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (ফায়সালার) উপর ছেড়ে দেও ৷ যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের উপর ঈমান এনে থাকো (তাহলে অবশ্যই তা করবে)৷ এটাই উত্তম, এবং সুন্দর সমাধান" [সূরা নিসা-৫৯]
.
-২: আল্লাহ বলেন "যদি মুমিনদের মধ্য হতে দু'টি দল পরস্পরে লড়াই-য়ে লিপ্ত হয়, তাহলে তোমরা (তৃতীয় পক্ষ) তাদের মাঝে সংশোধন করে দিবে ৷ এরপর যদি তাদের একটি দল অপর দলের উপর সীমালঙ্গঘন করে, তাহলে সীমালঙ্গঘনকারী দলটির বিরুদ্ধে তোমরা (তৃতীয় পক্ষ) লড়াই করতে থাকবে, যতক্ষণ না সীমালঙ্গঘনকারী দলটি আল্লাহর আদেশের (তৃতীয় পক্ষের ফায়সালার) দিকে ফিরি আসে ৷ যদি তারা ফিরে আসে তাহলে ইনসাফের সাথে সংশোধন করে দিবে ৷ আর আল্লাহ ইনসাফকারীকে ভালোবাসেন" ৷[সূরা হুযরাত-৯]
.
৩: অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো ফায়সালা করে দেওয়ার পর, মুমিন নর-নারীর কোনো অধীকার নেই যে, সে তা পরিবর্তন করে দিবে ৷ যে আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হবে , তার ভ্রষ্টতা তো স্পষ্ট ৷[সূরা আহযাব-২৬]
.
=উপরের ১ নং আয়াত থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, আমীরের অবাধ্য হওয়া যাবে না যতক্ষণ আমীর কোরআন-সুন্নাহর উপর থাকবেন ৷ এবং মুসলিমদের মধ্যে মতবিরোধ দেখাদিলে তার সমাধান কোরআন-হাদীস থেকে নিতে হবে ৷
.
দুই নং আয়াতে আল্লাহ তৃতীয় পক্ষের ফায়সালাকে মেনে নেওয়া অপরিহার্য করেছেন ৷ এবং তৃতীয় পক্ষের ফায়সালাকে আল্লাহর আদেশের সম-মর্যাদা দিয়েছেন ৷
.
তৃতীয় নং আয়াতে আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশের পরিবর্তন করার ক্ষমতাকে নাকচ করা হয়েছে ৷ এবং যে করবে তাকে ভ্রষ্ট বলা হয়েছে ৷ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় নং আয়াতদয়ের উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি যে তৃতীয় পক্ষের ফায়সালার বিরোধিতা করার অধীকার বিবাদমাণ দুই দলের কারো নেই ৷
.
চোলুন উপরের তিনটি আয়াতকে সিরিয়ার চলমান ফিতনার সাথে মিলিয়ে দেখি..!!

Tuba
04-30-2016, 11:16 AM
সিরিয়ায় মুসলমানদের দু'টি দল পরস্পরে লড়াই-য়ে লিপ্ত হয়েছে ৷ একটি শাইখ বাগদাদীর জামাত, অন্যটি শাইখ জাওলানীর জামাত ৷ সমাধানের জন্য তারা (তৃতীয় পক্ষ) শাইখ জাওয়াহিরীর নিকট আসলো ৷ জাওয়াহিরী শরীয়তের নীতিমালার উপর ভিত্তি করে ফায়সালা করে দিলেন ৷ বাগদাদীর জামাত সেই ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করলো ৷ এবং জাওলানীর জামাতের উপর তারা সীমালঙ্গঘন করে ব্যাপক রক্তপাত ঘটালো ৷ তখন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে জাওয়াহিরীর উপর এবং সমস্ত মুসলিমদের উপর ওয়াজিব হয়ে যায় বাগদাদীর জামাতের বিরুদ্ধে জিহাদ করা ৷ এবং এক নং, ও দুই নং আয়াত দ্বারা প্রমাণীত হয় যে, বাগদাদীর দাবিকে কিছুতেই মেনে নেওয়া যাবে না ৷ চাই সে নিজেকে খলীফা দাবি করুক, বা রাষ্ট্র প্রধান দাবি করুক ৷ কারণ উপরের দুই নং আয়াত অনুযায়ী তিনি একজন বিদ্রহী, আর এক নং আয়াত অনুযায়ী তিনি ভ্রষ্ট ৷
এখানে হাদীস নিয়েও বিষদ আলোচনা করা যেত ৷ সংক্ষেপ করার জন্য শুধু কোরানের আয়াতকে-ই যথেষ্ট মনে করেছি ৷
.
আসুন দেখি শাইখ জাওয়াহিরী কী ফায়সালা করে ছিলেন ৷ এবং শরীয়তে তার ফায়সালার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু ৷
.
ফায়সালা করার ক্ষেত্রে আমাদেরকে চারটি মূলনীতি মানতে হবে ৷ যথা..
১: কোরআন ৷
২: সুন্নাহ ৷
৩: ইজমা ৷
৪: আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞা ৷
.
উপরের তিনটি আয়াত দ্বারা ফায়সালা করা এবং ফায়সালা না মানলে কী করতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে ৷ কিন্তু সিরিয়ায় যে সমস্যাটি চলছে, তার সমাধান কী হবে কোরআনে স্পষ্ট ভাবে তা আছে কি না আমি জানি না ৷ (আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) হাদীসে আছে কি না, তাও আমি জানি না ৷
.
ইজমা বা মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ৷ বিশ্বের সমস্ত মুসলিম এবিষয়টি মেনে নিয়েছে যে, প্রতিটি মুসলিম দেশের আলাদা সীমান্ত রয়েছে ৷ এবং মুসলমানরা সেই সীমান্ত মেনে চলে ৷ সীমান্ত অংকনকারী যেই হোক না কেন ৷
শাইখ বাগদাদী ইরাকের সীমান্ত অতিক্রম করে সিরিয়া প্রবেশের কারণেই সিরিয়ায় ফিতনা সৃষ্টি হয়েছে ৷ যেহেতু ইরাক-সিরিয়ার সীমান্ত মুসলিমদের ইজমা দ্বারা স্বীকৃত, তাই সিরিয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য জাওয়াহিরীর এই আধীকার আছে যে, তিনি বাগদাদীকে ইরাকে ফিরে যাওয়ার ফায়সালা দিবেন ৷
.
আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞা ৷ ইসলামী ইতিহাসে যুগে যুগে অনেক বড় বড় "ফক্বীহ" এসে ছিলেন ৷ তাদেরকে আল্লাহ শরীয়তের প্রজ্ঞা দান করেছেন ৷ সেই প্রজ্ঞা থেকে তারা "উসূলুল ফিক্বাহ" বা বিধিবিধান বের করার মূলনীতি রেখে গেছেন ৷ সেই অসংখ্য মূলনীতির একটি হলো, কোথাও যদি ফিতনা দেখা দেয়, তাহলে যখন ফিতনা ছিলো না সেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে ৷
স্পষ্ট করে বলি ৷ মনে করুন, আপনি মসজিদে গিয়ে পাখা ছেড়ে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন ৷ আপনার পাশে একজন মুরুব্বী ৷ তিনি ধমক দিয়ে বললেন, এই ব্যটা পাখা ছেড়েছো কেনো..? শুরু হলো তর্ক ৷ এখন সমাধান হলো, যখন তর্ক ছিলো না তখোনকার অবস্থা কী ছিলো? তখন পাখা বন্ধ ছিলো ৷ অতএব পাখা বন্ধ থাকার অবস্থায় ফিরে যাওয়া হবে ৷
সিরিয়ায় ভয়াবহ ফিতনা চলছে ৷ এই ফিতনা বন্ধের জন্য দেখতে হবে, ফিতনা শুরু হওয়ার পূর্বের পরিবেশটি কেমন ছিলো ৷ পূর্বে বাগদাদী ইরাকে ছিলো, এবং জাওলানী শামে ছিলো ৷ অতএক ফিতনা বন্ধ করার জন্য বাগদাদীকে ইরাকে চলে যেতে হবে, এবং জাওলানীকে শামে থাকতে হবে ৷
.
জাওয়াহিরীর ফায়সালাটাই তো বলা হয়নি ৷ তিনি ফায়সালা করে ছিলেন যে, বাগদাদী ইরাক ফিরে যাবে ৷ এবং সিরিয়ার যেই এলাকাগুলো বাগদাদী দখল করেছিলেন সেগুলো জাওলানীর হাতে ছেড়ে দিতে হবে ৷ আগামী পর্বে আমরা "বাগদাদী কি জাওয়াহিরীকে বাই'আত দিয়ে ছিলেন কি না " তা নিয়ে আলোচনা করবো ৷ ইনশা আল্লাহ ৷
.
শাইখ উসামা বিন লাদেন রহঃ-এর শাহাদাতের পর, শাইখ আইমান আল-জাওয়াহিরী কায়দাতুল জিহাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ৷ শাইখ জাওয়াহিরী প্রথমে কারো থেকে অফিসিয়াল বাই'আত তলব করেন নি ৷ বিশ্বময় জিহাদের সকল সেক্টর থেকে সেচ্ছায় জাওয়াহিরীর নিকট বাই'আত আসতে থাকে ৷ ঘোষণা করে বাই'আত না চাওয়ার মধ্যে একটি বড় 'হিকমত' ছিলো ৷ ফলে শত্রুপক্ষ কায়দার শক্তির ব্যাপারে পুরোপুরি অজ্ঞ ছিলো ৷ এবং কোন কোন জামাত কায়দার নেতৃত্বে চলছে তা বুঝে ওঠা শত্রুর জন্য কঠিন ছিলো ৷
.
২০০৯ সালে মিডেলস্টে সাহারা মরূভূমিকে কেন্দ্র করে মরোক্কো, আলজেরিয়া, মালি, নাইজার ইত্যাদি দেশ নিয়ে "মাগরিব আল-ইসলাম" নামে একটি স্টেট ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে ছিলো কায়দাতুল জিহাদ ৷ এই প্রচেষ্টা যদি সেদিন সার্থক হতো, তাহলে সোমালিয়ার আল-শাবাব, নাইজেরিয়ার বোকোহারাম এই স্টেটে যোগ দিতো ৷ ফলে মুহূর্তে মুসলমানদের একটি শক্তিশালী আশ্রয়স্থল তৈরি হতো ৷এই প্রচেষ্টা কায়দাতুল জিহাদের মূল কেন্দ্রের নির্দেশেই হয়ে ছিলো ৷
.
কিন্তু আল্লাহ এতো দ্রুত মুসলমানদের বিজয় চান নি ৷ ঘোষণা দূরে থাক, শুধু প্রস্তুতি শুরু করার তিন মাসের মাথায় পার্শবর্তী আরব রাষ্ট্রগুলো এবং ফ্রান্স তা গুড়িয়ে দেয় ৷ মরোক্কো এবং আলজেরিয়ায় ঘাঁটি গেড়ে ফ্রান্স দুই দিক থেকে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়ে ছিলো ৷ তিন মাস যুদ্ধ চলার পর কায়দাতুল জিহাদ পিছু হটে ৷
.
আমি সন্দিহান হোই, যখন দেখি একটি জামাতের "খিলাফা" ঘোষণাকে শত্রুরা এতটা ভয় করছে না, যতটা ভয় তারা "মাগরিব আল-ইসলামী" রাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে করে ছিলো ৷ খেলাফত ঘোষণার তিন মাস পর আমেরিকার মনে পড়লো ওহ..এখানেতো বিমান হামলা না করলে 'মানিজ্জত' নষ্ট হয়ে যাবে ৷ আফগানিস্থানে আমেরিকা যেভাবে বিমান হামলা চালিয়ে ছিলো, সাদ্দাম আমলে ইরাকের উপর যেভাবে বিমান হামলা চালানো হয়ে ছিলো, তার দশ ভাগের এক ভাগও আইএস-এর উপর করা হয় নি ৷ আল্লাহ শাক্ষী, আমি চাই না আমেরিকা কোনো মুসলমানের উপর বিমান হামলা চালাক ৷ আমি শুধু বলতে চাচ্ছি কে আমেরিকার জন্য কতটুকু হুমকি তা যেন পাঠক অনুধাবন করেন ৷
.
মাগরিব আল-ইসলামী রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পর, কায়দাতুল জিহাদ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আরও গোপনীয়তা অবলম্বন করে ৷ এই গোপনীয়তা রক্ষা করতে গিয়ে-ই জাওয়াহিরী ঘোষণা দিয়ে বাই'আত চান নি ৷
.
যে সকল সেক্টর থেকে জাওয়াহিরীর নিকট বাই'আত এসে ছিলো, কায়দা ইন ইরাক তার অন্যতম ৷ কায়দা ইন ইরাক-এর প্রধান শাইখ বাগদাদী এবং জাওয়াহিরীর মধ্যে অনেক পত্র 'আদান-প্রদান' হয়েছিলো ৷ সেই পত্রে বাগদাদী জাওয়াহিরীর আনুগত্যকে ওয়াযীব বলে স্বীকার করেন ৷ কিছু পত্রের অনুবাদ অনলাইনে প্রচার করা হয়ে ছিলো ৷ পাঠক হয়তো সেগুলো পড়েছেন ৷ তাই এখানে সেগুলোর অনুবাদ করার প্রয়োজন বোধ করছি না ৷
.
বাই'আত অর্থ আনুগত্যের শপথ করা ৷ বাই'আত দুই প্রকার ৷ খিলাফাতের বাই'আত, ইমারাতের বাই'আত ৷ 'ইমারত' শব্দের অর্থ আমীর হওয়া ৷ অর্থাৎ কেন্দ্রীয় আমীরের পক্ষ থেকে যাকে শাখাগত আমীর নিয়োগ করা হবে, তার আনুগত্য করাকে এখানে ইমারতের বাই'আত বলা হয়েছে ৷ বাই'আতের আরোও কয়েকটি প্রকার হতে পারে ৷ তবে জিহাদের ময়দানে এই দুই প্রকারের বাই'আত বিবেচনা করা হয় ৷
.
বাই'আত, খিলাফাত, ইমারত নিয়ে বিষদ আলোচনা আমার উদ্দেশ্য নয় ৷ আমার আলোচ্য বিষয় হলো, শাইখ বাগদাদী কায়দাকে বাই'আত দিয়ে ছিলেন কি না, তা প্রমাণ করা ৷একটি কথা মনে রাখতে হবে ৷ এখন আমরা দাউলাতুল ইরাক & শামের আলোচনায় রয়েছি ৷ বাগদাদীর ঘোষিত খিলাফার আলোচনা সামনে আসবে ৷ ইনশা আল্লাহ ৷
.
বাগদাদী এবং শাইখ উসামার মধ্যে যে সকল পত্র আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলোই প্রমাণ করে যে বাগদাদী এবং তার জামাত আল-কায়দার অধীনে ছিলো ৷ উসামা রঃ এর পর জাওয়াহিরী ও বাগদাদীর মধ্যে যে সকল পত্র আদান-প্রদান হয়েছে সেগুলোও বাই'আতকে নির্দেশ করে ৷
.
সিরিয়ায় সৃষ্ট ফিতনার সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ জাওয়াহিরীর নিকট ফায়সালার আবেদন করলো ৷ জাওয়াহিরী ফায়সালা দিতে দেরি করছিলেন ৷ তখন শামে উভয় পক্ষের মধ্যে বিতর্ক চলছিলো ৷ শাইখ আবু আব্দুল আজীজ আল-কাতারী সেই বিতর্কের বর্ণনা দিচ্ছিলেন এভাবে ৷
.
"শামে যা ঘটে ছিলো তাহলো দুই আমীরের মধ্যে এখতিলাফ ৷ বাগদাদী এবং জাওলীনী, উভয়ে বলতে লাগলেন, আমরা জাওয়াহিরীর ফায়সালার অপেক্ষায় আছি ৷ বাগদাদী বললেন, হে জাওলানী যদি জাওয়াহিরী আমাকে ইরাক চলে যেতে বলেন তাহলে আমি আমার লোকদের নিয়ে ইরাক চলে যাবো ৷ হে জাওলানী যদি জাওয়াহিরী আপনাকে দাউলাতুল ইরাকে যোগ দিতে বলেন তাহলে কী করবেন? জাওলানী উত্তরে বলেন, আমি আমান সৈন্যদের সহ দাউলায় যোগ দিবো ৷ "
.
শাইখ আব্দুল আজীজের বক্তব্যটি দেখতে এবং আনুসঙ্গিক আরো প্রমাণ দেখতে ইউটিউবে সার্চ দিন [اصدار الرد الشافي في كشف مباهلة العدناني]
.
দাউলার শুরা সদস্য আবু আনাস এবং আবু আলী আল-আনবারীর মধ্যে কথপকথনের অডিও রেকর্ডের লিংক দেওয়া হলো: http://www.gulfup.com/?E9H5Nc
.
রেকর্ডটির কিছু অংশের অনুবাদ ৷
আনবারী: আপনি আমি বাগদাদীকে যে বাই'আত দিয়েচিলাম, তা কি খেলাফাতের বাই'আত নাকি জিহাদের বাই'আত?
আবু আনাস: আমরা ইমারতের বাই'আত দিয়েছি ৷
আনবারী: মানে খিলাফাতের বাইআত নয়?
আবু আনাস: না, আমরা (বাগদাদীকে) খেলাফতের বাই'আত দেইনি ৷ যেই বাই'আতের ব্যাপারে রাসূল বলেছেন "যে ব্যক্তি বাই'আত ছাড়া মাড়া গেলো সে জাহেল হয়ে মড়লো" ৷
আবু আনাস: বাগদাদী তার আমীর জাওয়াহিরীর পরামর্শ ছাড়া "দাউলাতুল ইরাক & শাম" ঘোষণা করেছেন ৷ আমরা এতোদিন জাওয়াহিরীর ফায়সালার অপেক্ষায় ছিলাম ৷ তিনি যদি ফায়সালা দিতেন যে, নুসরাকে বাতিল করে দাউলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তাহলে আমরা তাই করতাম ৷ কিন্তু এখনতো জাওয়াহিরী ফায়সালা করেই ফেলেছেন যে, দাউলাকে বাতিল করতে হবে...
আনবারী: শাইখ, আপনি যদি মনে করেন দাউলাকে বাতিল করা উচিত, তাহলে আমরা আপনার কথাকে মেনেনিতে প্রস্তুত ৷ কিন্তু আপনি একটি সত্য কথা বলুন, এখানে কে হকের উপর আছে (বাগদাদী না কি জাওয়াহিরী)
আবু আনাস: দেখুন শাইখ, আপনি আমার উপর কঠোরতা করবেন না ৷ আমরা কোরান-সুন্নার বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করছি ৷ আমি আপনাকে বলেছি যে, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে (কোরআন-সুন্নার উসুল অনুযায়ী) জাওয়াহিরীর পরামর্শ ছাড়া দাউলা ঘোষণা করা কিছুতেই বৈধ হবে না ৷
আবু আনাস: আমরা দাউলা ঘোষণা করে বড়ো ভুল করেছি ৷ এবং আমাদের ভুলের প্রমাণ অনেক রয়েছে ৷
আনবারী: কোথায় সেই প্রমাণ..?
আবু আনাস: আমি অবশ্যই তাদের হাজির করবো ৷
.
শাইখ বাগদাদী বিভিন্ন সভায় নিজের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি প্রেরণ করতেন ৷ নিজে উপস্থিত হতেন না ৷ নিরাপত্তার তাগিদে এমনটি করতেন ৷ তার একজন ব্যক্তিগত প্রতিনিধি হলেন, আবু বকর আল-কাহতানী ৷ এই কাহতানীর মুখে শাইখ বাগদাদী কছম করে বলেন..
.
"ফায়সালা আসার আগপর্যন্ত সকল মুজাহিদীনের এবং নুসরার উচিত দাউলাকে মেনে নেওয়া ৷ আর যখন ফায়সালা চলে আসবে, 'কসম' করে বলছি দাউলাকে দেওয়া সকল বাই'আত বাতিল বলে বিবেচিত হবে" ৷ কাহতানীর সেই বক্তব্যের অডিও রেকর্ডের লিংক.http://www.gulfup.com/?VdV6aP
.
শাইখ বাগদাদীর প্রতিনিধি কাহতানীর আরেকটি অডিও রেকর্ড ৷http://www.gulfup.com/?7ihvXP রেকর্ডে কাহতানী বলছেন…!
.
"রাসূল সঃ বলেছেন "যদি দুজন খলিফা বাই'আত চায়, তাহলে দ্বিতীয় জনকে হত্যা করে দেও" ৷ অতএব যারা বলে যে জাওলানী বিদ্রহী, জাওলানী খলিফার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ৷ আস্তাগফিরুল্লাহ ৷ জাওলানী বিদ্রহী নয় ৷ জাওলানী বাগদাদীকে খিলাফতের বাই'আত দেন নি ৷ বরং তিনি শুধু শামে বাগদাদীকে আনুগত্য করার বাই'আত দিয়েছেন ৷ আমরা এখন দুটি টার্মে অবস্থান করছি ৷ এক জাওয়াহিরীর ফায়সালার পূর্বের মুহূর্ত ৷ দুই, ফাসালার পরের মুহূর্ত ৷ এখন ফায়সালা আসার পর আমরা সকলে জাওয়াহিরীর কথা মেনে নেওয়া উচিত ৷ যে মানবে না সে বিদ্রহী হবে ৷ জাওয়াহিরী জাোলানীকে নুসরা সহ শামে অবস্থান করতে বলেছেন ৷ আর যারা বলেন যে, দাউলাতুল ইরাক কায়দা থেকে আলা হয়ে যাবে..."
.
কথা শেষ করার পূর্বেই শোরগোল শুরু হয় ৷ একদল বলে ওঠে আমরা কায়দা থেকে সরে যাবো একথা যে বলেছে তাকে সামনে আনা হোক ৷ তাকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে ৷
.
অনেক জল্পনা কল্পনার পর শাইখ জাওয়াহিরীর ফায়সালা শামে পৌঁছে ৷ শাইখ বাগদাদী ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করলেন ৷ গতকাল তিনি কসম করে বলেছিলেন ফায়সালা মেনে নিবেন ৷ আজ ফায়সালা আসার পর তিনি বলছেন, জাওয়াহিরীর মাঝে 'বিচ্যুতি' ঘটেছে ৷ কায়দাতুল জিহাদ এখন আর আগের মানহাজে নেই ৷ জাওয়াহিরীর ফায়সালাকে প্রত্যাখ্যান করে বাগদাদী অডিও বার্তা প্রচার করেন ৷ বার্তাটির শিরনাম হলো "দাউলাতুল ইরাক & শাম চিরজীবী হোক" ৷
.
একটি কথা, যা সত্য হওয়ার ব্যাপারে আমি নিজও সন্দিহান ৷ সাত মাস পূর্বে সৌদি আরবের একটি ব্লোগে পড়ে ছিলাম ৷ পাকিস্তানের এ্যবটাবাদে উাসামা রঃ এর শাহাদাতের পর, মার্কিন সৈন্যরা কিছু নথি-পত্র চুরি করেছিলো ৷ সেই নথিতে উসামা রঃ বলেছিলেন "কায়দাতুল জিহাদ থেকে একটি দল বের হবে ৷ যারা আচরণে পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট হবে ৷ কায়দাতুল জিহাদের উচিত হবে এদেরকে উপেক্ষা করে চলা" ৷
.
উপরের তথ্যটি তেমন নির্ভরযোগ্য নয় ৷ তবে জাওয়াহিরীর নীরবতা সেই দিকে ইংগীত করে ৷ বাগদাদী খেলাফত ঘোষণার পর বিশ্বমুসলিম জাওয়াহিরীর দিকে চেয়েছিলো ৷ কিন্ত তিনি একদম নীরব ছিলেন ৷ খিলাফত ঘোষণার দুই মাস পর, জাওয়াহিরী এক ঘণ্টার ভিডিও বার্তায় দক্ষীণ এশিয়ায় কায়দার শাখা খোলার ঘোষণা দেন ৷ দীর্ঘ ঘোষণা পত্রে মোল্লা ওমরের নিকট তার বাই'আত নবায়ন করেন ৷ ইরাক শামে এতো কিছু ঘটে যাচ্ছে তোবুও জাওয়াহিরী নীরব ৷ তাহলে কি শাইখ উসামার ভবিষ্যদ্বাণী সত্য যে, কায়দাতুল জিহাদের উচিত হবে সেই দলটিকে উপেক্ষা করে চলা..