PDA

View Full Version : বাংলাদেশ পরিস্থিতি বেশ জটিল: যুক্তরাষ্ট্র



tariq
05-01-2016, 12:36 AM
জুলহাজ মান্নানসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ড এবং তা নিয়ে আইএস ও আল কায়দার দায় স্বীকারের বার্তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরিস্থিতিকে বেশ জটিল মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জন কেরির টেলিফোনের একদিন বাদে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার এই মনোভাব জানান।

গত বছরের কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের মতো গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানে বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জুলহাজ ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক প্রটোকল অ্যাসিস্টেন্ট জুলহাজ সমকামী অধিকারকর্মী ছিলেন। তার বন্ধু তনয় ছিলেন নাট্যকর্মী।

তার দুদিন আগে রাজশাহীতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে। তার আগে এমাসেই ঢাকায় খুন করা হয় অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নাজিমুদ্দিন সামাদকে।

এসব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আল কায়দা ও আইএসের নামে বার্তা এলেও তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের।

কোনো খুনি ধরা না পড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে জুলহাজ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। জন কেরি গত বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্নের মুখে মার্ক টোনার বলেন,এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে খুনিদের আইনের আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে।

আইএস ও তালেবানের (যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক তালেবানের নাম বললেও দায় স্বীকারের বার্তা এসেছে আল কায়দায় ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা থেকে) স্বীকারের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পরিস্থিতি আসলে কেমন, তা জানতে চাওয়া হয় টোনারের কাছে।

উত্তরে তিনি বলেন, এই ধরনের দায় স্বীকারের খবর এসেছে বলে আমি জানি, সেখানে পরিস্থিতিটা আসলে বেশ জটিল।

দায় স্বীকারের অনেক বার্তাই আসছে। তবে এতে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস, কোনোটি করার কারণ এখনও নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে সেখানে (বাংলাদেশে) হুমকি আছে।

বাংলাদেশে যারা হুমকির মুখে রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

আইএস কিংবা আল কায়দার দায় স্বীকারের বার্তা উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, দেশীয় জঙ্গিরাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর নাম দিয়ে ইন্টারনেটে বার্তা ছাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে বলেছেন, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব আছে বলে প্রমাণের একটি অপচেষ্টা চলছে।

কাউন্টার টেরোরিজম সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে বাংলাদেশে পাঠাবেন বলে কেরি টেলিফোনে জানান শেখ হাসিনাকে।

(collected)

tariq
05-01-2016, 12:37 AM
সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থিদের মোকাবিলায় ঢাকা-ওয়াশিংটন সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনায় আগামী বুধবার (৪ঠা মে) দু’দিনের সফরে ঢাকা আসছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। বাংলাদেশে উগ্রপন্থিদের নৃশংস আক্রমণের ঘটনা আচমকা বেড়ে যাওয়া, সর্বশেষ কলাবাগানে মার্কিন মিশনের কর্মকর্তা ও তার বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যার পর ঢাকার সঙ্গে জোরালো আলোচনা চাইছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা মিশন পরিবারের সদস্য জুলহাজ মান্নান হত্যার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন মার্কিনিরা। এরই মধ্যে হোয়াইট হাউস থেকে শুরু করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দেশটির বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিন্দা ও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। বৃটেন, ফ্রান্স জার্মানি, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের তরফেও সহিংস ওই ঘটনাগুলো বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। মার্কিন মিশনের কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু তনয়ের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সেখানে কাউন্টার টেররিজম সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও উগ্রবাদী আক্রমণ বন্ধ না হওয়ার প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ওয়াশিংটন ঢাকাকে আরও জোরালো সহযোগিতা দিতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি টেলিফোন আলাপে সেটি স্পষ্ট হয়েছে। অল্প সময়ের নোটিশে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা বিসওয়ালকে ঢাকায় পাঠনোর ঘোষণা মার্কিনিদের সিরিজ উদ্যোগের অংশ জানিয়ে একটি সূত্র মানবজমিনকে বলে, ইউএসএআইডির বর্তমান এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নানকে নিজ ঘরে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টি মার্কিনিদের কিভাবে তাড়িত করেছে নিশার চটজলদি সফর তারই ইঙ্গিত। ঢাকা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে মার্কিন সহকারীমন্ত্রী নিশা বিসওয়াল সাক্ষাতের আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটির ঢাকাস্থ দূতাবাস। গতকাল পররাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সফরটির বাস্তবায়নে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক চলছে। এখনও অনেক কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সব কিছুই খোলাসা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৫ই মে ফিরে যাওয়ার পর দেশটির আরও প্রতিনিধি ঢাকা সফর করবেন জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী ১০-১৭ই মের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্কিং লেভেলের অনেক প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করতে পারেন। সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা মোকাবিলায় ঢাকা-ওয়াশিংটন শক্তিশালী বন্ধন এগিয়ে নিতে প্রস্তাবিত সফরগুলো ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে জন কেরির ফোন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের অনুরোধ: এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি জুলহাজ হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ অনুরোধ জানান। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪ মিনিট থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ১৬ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জন কেরি। তিনি বলেন, ‘জুলহাজ’ ছিলেন আমাদের সহকর্মী। কাউন্টার টেরোরিজম সংক্রান্ত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেসাই বিসওয়ালকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। ফোনালাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে যারা প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তারাই এই হত্যাকারীদের মদত দিচ্ছে। হত্যাকারীরা হত্যার ক্ষেত্রে সফট-টার্গেট কৌশলে এগুচ্ছে। তারা ইমাম, পুরোহিত, পাদ্রিদের টার্গেট করছে। সবগুলোই ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একই পরিবারের আটজনকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানান। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশী দম্পতির হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দ্রুত বিচারের জন্য জন কেরির প্রতি অনুরোধে জানান। প্রধানমন্ত্রী কলাবাগানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করার জন্য জন কেরিকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। এ ক্ষেত্রে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমাদের আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করছে। কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি, অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ডকে আমরা ঘৃণা করি। কলাবাগানে যে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে তাদের একজন আমার সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়। আমার পরিবারের সকল সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু তনয় শেখ জামালের জন্মদিন ছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার এই ছোট্ট ভাইকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পরিবারের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর দুজন হত্যাকারী এখনো যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে জন কেরির প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এই সহযোগিতার আওতায় ইতিপূর্বে এফবিআই বাংলাদেশে এসেছে। আমি আশা করি কাউন্টার টেরোরিজম বিষয়ক সহযোগিতার ক্ষেত্র অব্যাহত থাকবে।

http://www.bdeditor.net/newsdetail/detail/41/209320

tariq
05-01-2016, 12:38 AM
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নয় বরং তথ্য প্রমাণে চরমপন্থি গ্রুপগুলোই দায়ী বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার এসব হামলায় রাজনৈতিক বিরোধীদের দায়ী করলেও, প্রাপ্ত প্রমাণাদি নির্দেশ করে যে, হামলার জন্য চরমপন্থি গ্রুপগুলোই দায়ী।

তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে আইএস’র শেকড় গেড়ে বসার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে ‘এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি’ বিষয়ক এক শুনানিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন ব্লিঙ্কেন।

খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে ইউএসএইডের এক কর্মী হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এ দেশটির ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য আছে। তবে বাংলাদেশ বর্তমানে চরমপন্থিদের হুমকিতে রয়েছে।

লেখক, ব্লগার, বিদেশী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক জিহাদী গোষ্ঠীগুলো রয়েছে বলে স্বীকার করে না বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু ইউএসএইড’র কর্মী ও সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাস মান্নানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা অন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের বাংলাদেশ শাখা। এ দায় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু এসব ঘটনা ভীতি বাড়াচ্ছে যে, স্থানীয় চরমপন্থিরা বাংলাদেশে আল-কায়েদা বা আইএস’র মতো গোষ্ঠীগুলোকে অবস্থান পাকাপোক্ত করার সুযোগ করে দিতে পারে। যে দেশটি এমনিতেই শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যকার তিক্ত বিভক্তির কারণে সৃষ্ট দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিধ্বস্ত।

শুনানিতে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবোট। তিনি তার প্রশ্নে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই নির্বাচনে শেখ হাসিনা পুননির্বাচিত হন। আর নির্বাচন বর্জন করেন খালেদা জিয়া ও তার দল। ফলে আমার মনে হয় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা অনিশ্চিত। দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ মধ্যপন্থি মুসলিম দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি সহিংস কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সপ্তাহেই সমকামী অধিকার কর্মীকে জনসমক্ষে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব হত্যাকা-ের সঙ্গে উগ্রপন্থি গ্রুপগুলো সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে কি করা যেতে পারে তা নিয়ে ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেনের মন্তব্য জানতে চান শ্যাবোট। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ কূটনীতিক ব্লিঙ্কেন বলেন, যদিও সরকার এসব হামলার জন্য রাজনৈতিক বিরোধীদের দায়ী করছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রমাণাদি নির্দেশ করছে যে, এসব হামলার জন্য চরমপন্থি গ্রুপগুলো দায়ী। এরা হতে পারে স্থানীয় কিংবা আইএস/আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, ‘এসব ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশে আইএস’র শেকড় গেড়ে বসতে পারার সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন করে। কোনোভাবেই এটা আমরা চাই না।’

সংখ্যালঘু ও মধ্যপন্থিদের ওপর হামলা, যা সাধারণত চালিয়ে আসছে ছুরি বা চাপাতিধারী তরুণরা, তা শুরু হয় ২০১৩ সালে। এরপর থেকে এসবের বিস্তার কেবল বেড়েছে। হতাহতদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকান লেখক অভিজিৎ রায়। তাকে ঢাকার একটি সড়কে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে যে, অন্যরাও জঙ্গিদের হত্যার হুমকিতে আছে। কারণ, সরকার তাদের দুর্দশা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। কারণ, সরকার হয়তো কিছু ব্লগারের নাস্তিক্যবাদী লেখালেখিতে ক্ষুদ্ধ মুসলিমদের সমর্থন হারাতে চায় না। কর্তৃপক্ষ কিছু মামলায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। কিন্তু এদের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ এখনও মূলহোতাদের চিহ্নিত করতে পারেনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ঝুঁকিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে, এটি আদৌ করা হবে কিনা। মানবাধিকার সংগঠনগুলো গত ডিসেম্বর থেকে এ আহ্বান জানিয়ে আসছে।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশন নামে মার্কিন একটি থিঙ্কট্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লিসা কার্টিস বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় এমন একটি দেশ ছিল, যেটিকে আমরা একটি আদর্শ মুসলিম গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে তুলে ধরেছি। এখন মনে হচ্ছে, সে জায়গা থেকে ক্রমেই পিছু হটছে দেশটি।’ তিনি বর্তমান হত্যাযজ্ঞকে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশি সমাজের স্বাভাবিক রূপকে পালটে দেয়া বা একে ইসলামীকরণ করার চেষ্টা হিসেবে।

ফেব্রুয়ারিতে, কংগ্রেসের এক সাক্ষাতে মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্সের পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের হুমকি সম্পর্কে কথা বলেন। তখন তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে বিরল এক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীদের দুর্বল করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টা আসলে ‘দেশটিতে নিজেদের উপস্থিতি বিস্তার করতে আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রবেশের দ্বার উন্মোচন করে দেবে।’

দেশের আধিপত্যবিস্তারকারী শক্তিতে পরিণত হয়েছেন হাসিনা। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ক্রমেই কোণঠাসা করেছেন। এ দলটি ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিল। তিনি যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করেন। এতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৃশংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামী দলের কয়েকজন নেতার মৃত্যুদ- হয়। এ দলটি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়।

বিরোধী দলগুলো সাম্প্রতিক এসব হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতে তাদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছে সরকার। মান্নান হত্যার জন্যও বিরোধীদের দায়ী করেছেন হাসিনা। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পরই, আল-কায়েদা অন দ্য ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্টের সহযোগী আনসার-আল-ইসলাম জানায়, তারাই ওই অ্যাক্টিভিস্ট ও তার অভিনেতা বন্ধুকে হত্যা করেছে। কারণ হিসেবে এ গ্রুপটি বলেছে যে, তারা ছিল বাংলাদেশে সমকামিতার প্রচারণা ও চর্চার অগ্রদূত।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, কাউন্টার-টেরোরিজম ও গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানে বাংলাদেশকে তারা ভালোভাবে সহায়তা করছেন। তারা এ-ও বলেন, বাংলাদেশ আন্তঃদেশীয় জিহাদী গ্রুপগুলোর সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে মার্কিন ও বাংলাদশি কর্মকর্তারা এসব নিয়ে বৈঠকে বসেছেন। এসব বৈঠকে দেশে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর গেড়ে বসার ঝুঁকি কমানো নিয়ে আলোচনা হয়। তবে আল-কায়েদা ও আইএস উভয়েই পরিস্কার করে জানান দিয়েছে তারা বাংলাদেশে অবস্থান পোক্ত করতে চায়।

২০১৪ সালে, আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি বাংলাদেশে জিহাদের আহ্বান জানান। আইএস’র অনলাইন ম্যাগাজিন দাবিকের কয়েকটি সাম্প্রতিক নিবন্ধের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশ।

দাবিকের এ মাসের সংস্করণে বাংলাদেশে আইএস’র কথিত এক নেতার সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তার নাম বলা হয়েছে শেখ আবু ইব্রাহিম আল-হানিফ। আল-হানিফ সাক্ষাৎকারে বলেন, বৈশ্বিক জিহাদের জন্য বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে। সে জানায়, বাংলাদেশে একটি শক্ত ঘাঁটি থাকলে ভারতের অভ্যন্তরে গেরিলা হামলা চালানো সহজ হবে। এটি মিয়ানমারে জিহাদ পরিচালনা শুরু করতেও সহায়ক হবে।

সূত্র: এপি।