PDA

View Full Version : বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন কে সেই রহমান



tayfamansura
05-18-2016, 04:44 PM
শাহীন করিম
ইসরাইলি লিকুদ পার্টির নেতা ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনৈক রহমান এর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে উভয়েই একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কে সেই রহমান বাংলাদেশের জনগণ ও গোয়েন্দাদের কাছে এখন এটি বিলিয়ন ডলার প্রশ্ন। এ ছাড়া ইসরাইলি নেতা ও মোসাদের গুপ্তচর সাফাদির বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও প্রপাগান্ডার আরো তথ্য ফাঁস হচ্ছে।
অপরদিকে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রিমান্ডে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তারা। ইসরাইলি লিকুদ পার্টির নেতা ও মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে ভারতে বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেননি চতুর এই বিএনপি নেতা। ডিবি সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করতে গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে আবেদন পাঠিয়েছে ডিবি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়া মাত্র ডিএমপির যে কোনো থানায় এ মামলা দায়ের করা হবে। সেই অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বিএনপির শীর্ষ এক নেতার ঘনিষ্ঠজন আসলাম। যার সুবাদেই হঠাৎ করে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসেন এই ব্যবসায়ী নেতা। ওই শীর্ষ নেতার নামের শেষ শব্দ (... রহমান)। এই ... রহমানের সঙ্গেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ইসরাইলি নেতা ও মোসাদের গুপ্তচর সাফাদি। মূলত কে সেই রহমান তা নিশ্চিত হতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে গ্রেফতারের আগেই সাফাদির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র দীর্ঘ দিনের। ইসরাইলি গণমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে, বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনের কথা তিনি বলেছেন গত বছরই। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশি রাজনীতিকদের সহায়তার আশ্বাস মিলেছে বলেও দাবি সাফাদির। রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কেই নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
ডিবি সূত্র জানায়, দুই-এক দিনের মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করার পর ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ফের রিমান্ডে আনা হবে বিএনপি নেতা আসলাম। দেশ ও সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে তা বের করতে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া আসলামের বাসা ও অফিস থেকে জব্দ করা কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ কানেশনে আলোচিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তার ব্যক্তিগত কর্মী মো. আসাদ ও গাড়িচালক আল-আমিনকেও আটক করে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে আসলাম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরী ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করছেন না। কিন্তু ওই ষড়যন্ত্র কীভাবে করা হয়েছে, তার বিস্তারিত গোয়েন্দাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। তাদের বৈঠকের ছবি দেখানো হলে তা আসলাম চৌধুরী স্বীকার করেছেন। তবে এর বাইরে তিনি কিছুই বলছেন না। গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, রিমান্ডে আসলাম পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, মার্চের শুরুর দিকে তিনি ভারত যান। ওই সফর ছিল কেবল ব্যবসায়িক। ৫ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। সে সময় মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে তার দেখা হয়।
একই সূত্র মতে, আসলামের দাবি, ভারতে যাওয়ার পর অন্য একজনের মাধ্যমে সাফাদির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারা বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় একসঙ্গে ঘুরেছেন, খাওয়া-দাওয়াও করেছেন। আগ্রার মেয়র তাকে সংবর্ধনা দেন। তখন মেন্দি এন সাফাদিকেও সংবর্ধনা দেয়া হয়। কিন্তু মেন্দি যে ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা, তা জানতেন না। ওই সব বৈঠকে ব্যবসায়িক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু রাজনীতি বা সরকার উৎখাতের কোনো আলোচনা হয়নি।
সাফাদির প্রপাগান্ডার আরো তথ্য ফাঁস: গোয়েন্দা সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মেন্দি এন সাফাদি। ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে সাফাদির মায়াকান্না রহস্যজনক। ইসরাইলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও দেশটির আঞ্চলিক সহায়তা বিষয়ক উপমন্ত্রী আয়ূব কারারের অন্যতম উপদেষ্টা মেন্দি এন সাফাদি।
সূত্র মতে, চলতি বছরের মার্চে ভারতের আগ্রায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের আগেই ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ইস্যুতে কলকাতা ভ্রমণ করেন তিনি। কলকাতা থেকে ফিরে ওই বছরের ২৯ জুন স্থানীয় গণমাধ্যম জেরুজালেম অনলাইন ও আই ২৪ নিউজে দুটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্যই কলকাতায় গিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনে সাফাদির বরাত দিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হুমকির মধ্যে রয়েছে। হিন্দুরা নির্যাতিত ও অপহত হচ্ছে। তার দাবি বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ থেকে ১৫ ভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, যাদের বেশিরভাগই নানা কারণে ভীত হয়ে দেশত্যাগ করছে।
ওই প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করে মেন্দি সাফাদি আরো বলেন, বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব। ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মি. রহমান ইসরাইলের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কে এই রহমান এটিই এখন গোয়েন্দাদের কাছে কোটি টাকার প্রশ্ন। এ ছাড়া আমস্টার্ডামভিত্তিক সংগঠন গ্লোবল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্স নামক সংস্থাকে উদ্ধৃত করে সাফাদি দাবি করেন, বাংলাদেশে ২০০৮ সাল থেকে টার্গেট করে হিন্দুদের ওপর হামলা হচ্ছে। মন্দির ধ্বংস করা হচ্ছে। বাড়িঘর লুটপাট করা হচ্ছে। - See more at: http://www.manobkantha.com/2016/05/18/127185.php#sthash.4lowmrX8.GcxyPNNa.dpuf

banglar omor
05-20-2016, 06:41 PM
যাজাকাল্লাহ