PDA

View Full Version : কে হকের উপর – আল কায়েদা নাকি দাউলা ???



Hazi Shariyatullah
07-12-2015, 05:17 PM
কে হকের উপর – আল কায়েদা নাকি দাউলা !!!


ইরাক থেকে খারেজী ফিতনার উদ্ভব ঘটবে
===================================
সহীহ বুখারীতে ইরাকে খারেজীদের আবির্ভাব মূলক বর্নিত হয়েছে যে,

6934 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ حَدَّثَنَا يُسَيْرُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ قُلْتُ لِسَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ هَلْ سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي الْخَوَارِجِ شَيْئًا قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ وَأَهْوَى بِيَدِهِ قِبَلَ الْعِرَاقِ يَخْرُجُ مِنْهُ قَوْمٌ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْ الْإِسْلَامِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنْ الرَّمِيَّةِ رواه البخاري .

ইউসাইর বিন আমর বর্ননা করেন, আমি সাহল বিন হুনাইফকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কি রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি অয়া সাল্লামকে খারেজীদের ব্যাপারে কোন কিছু বলতে শুনেছো ? সে বললোঃ হ্যাঁ আমি তাঁকে বলতে শুনেছি তিনি (সঃ) বলেছেন, এই দিক তথা “ইরাক” থেকে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কোরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমন ভাবে বের হয়ে যাবে যেভাবে ধনুক থেকে তীর বের হয়ে যায়। (সহীহ বুখারী-হাদিস নং-৬৯৩৪)

উক্ত হাদিসের আলোকে বলা যায় যে, আলী রাজিয়াল্লাহু আনহু এর সময় যেমনিভাবে ইরাক থেকে এই খারেজী ফিতনার উদ্ভব হয়েছিল আজকেও একই ভাবে এই ‘ইরাক’ থেকে “is” নামক খারেজিদের উদ্ভব দেখা যাচ্ছে । তারা ‘তালেবান’ - ‘আল কায়েদাকে’ তাকফির করে মুরতাদ বলছে ! তাদেরকে হত্যা করছে!

## খারেজীদের উদ্ভব হবে ইরাক ও শামে !
==========================

আল্লামা ইবনে কাছীর (রহঃ) “আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া” এর আরবী গ্রন্থের ৫৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে,

إذ لو قووا هؤلاء لأفسدوا الأرض كلها عراقا وشاما ، ولم يتركوا طفلا [ ص: 585 ] ولا طفلة ولا رجلا ولا امرأة ; لأن الناس عندهم قد فسدوا فسادا لا يصلحهم إلا القتل جملة.

“আর যখন খারেজীরা ‘পাওয়ার ফুল’ হবে তথা তামকীন পাবে তখন তারা ইরাক ও শামের সব জায়গায় ফাসাদ সৃষ্টি (মুসলিমদেরকে তাকফির ও হত্যা ইত্যাদি) করে বেড়াবে। তারা কোন শিশুকে ও রেহাই দিবে না, নারী-পুরুষ কেই তাদের হাত থেকে রেহাই পাবে না। কেননা তাদের আকীদা হলো মানুষ এমনভাবে ফাসাদে লিপ্ত হয়েছে যে তাদেরকে (বিরুধীদেরকে) সামগ্রিক ভাবে হত্যা করা ব্যতীত তারা সংশোধিত হবে না!!!”

সুবহা-নাল্লাহ !!! ভবিষ্যৎ বানী মূলক উপরের বিষয় গুলো বর্তমানে is এর আকীদা ও কাজের সাথে কি অদ্ভুত মিল ! তাঁরা তাদের বিরোধী মুসলিম-মুজাহিদদের কে তাকফীর করে হত্যা করছে,বর্তমানে ইরাক ও শামে (সিরিয়াতে) তাঁরা এই কাজ গুলো বেশী করছে।


## ‘তিনটি বাহিনী আবির্ভাব’ সম্বলিত ভবিষ্যতবানী মূলক হাদিসটির পর্যালোচনাঃ-
=============================================

عَنِ ابْنِ حَوَالَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « سَيَصِيرُ الأَمْرُ إِلَى أَنْ تَكُونُوا جُنُودًا مُجَنَّدَةً جُنْدٌ بِالشَّامِ وَجُنْدٌ بِالْيَمَنِ وَجُنْدٌ بِالْعِرَاقِ ». قَالَ ابْنُ حَوَالَةَ خِرْ لِى يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَدْرَكْتُ ذَلِكَ. فَقَالَ « عَلَيْكَ بِالشَّامِ فَإِنَّهَا خِيَرَةُ اللَّهِ مِنْ أَرْضِهِ يَجْتَبِى إِلَيْهَا خِيَرَتَهُ مِنْ عِبَادِهِ فَأَمَّا إِنْ أَبَيْتُمْ فَعَلَيْكُمْ بِيَمَنِكُمْ وَاسْقُوا مِنْ غُدُرِكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَوَكَّلَ لِى بِالشَّامِ وَأَهْلِهِ ». أبو داود وأحمد وابن حبان والحاكم والبيهقي وصححه الحاكم والذهبي وقال الألباني في تحقيقه لكتاب" فضائل الشام" : صحيح جدا
صحيح / سلسلة الأحاديث الصحيحة

হাদীসের অর্থঃ-
আব্দুল্লাহ ইবন হাওয়ালাহ (রা.) আল্লাহর রাসুল (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে উনি বলেছেনঃ “পরিস্থিতি তার কাজের ধারা অনুযায়ী চলতে থাকবে যতক্ষণ না তোমরা তিনটি বাহিনীতে পরিণত হওঃ একটি বাহিনী শামের, এবং একটি বাহিনী ইয়েমেনের আর আরেকটি ইরাকের।”ইবন হাওয়ালাহ (রাঃ) বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ)! যদি আমি সেই দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে আমার জন্য একটি নির্ধারন করে দিন।” আল্লাহর রাসুল(সাঃ) উত্তর দিলেন, “তোমার শামে যাওয়া উচিত হবে কারন এটি আল্লাহর ভূমিদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম, এবং উনার সবচেয়ে ভাল বান্দারাই সেখানে জড়ো হবে! এবং যদি তুমি তা না চাও তবে তোমার ইয়েমেনে যাওয়া উচিত এবং সেখানকার কূপ থেকে পানি পান করা উচিত। কারন আল্লাহ আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে উনি শাম এবং তার মানুষের উপর খেয়াল রাখবেন!”
(ইমাম আহমেদ ৪/১১০, আবু দাউদ ২৪৮৩,বায়হাকী,ইবনে হিব্বান, হাদিসটি সহীহ)

উপরের হাদিসটাকে কথিত is নিজেদের কে শামের বাহিনী প্রমান করার জন্যে ব্যাবহার করে থাকে। তাই এই হাদিসের পর্যালোচনা মূলক কিছু আলোচনা করছি।

উপরে উল্লেখিত হাদিসের মধ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়া সসাল্লাম শামের বাহিনী,ইয়ামেনের বাহিনী ও ইরাকের বাহিনীর ভবিষ্যৎ বানী করেছেন। এবং এই ৩ টি বাহিনী যে একই সময়ে বর্তমান থাকবে তাও বুঝা যায় এই হাদিস থেকে। কেননা, সাহাবী প্রশ্ন করেছিলেন, এই ৩ টির কোনটিতে আমাকে শরীক হতে বলেন হে আল্লাহর রাসূল ? কিন্তু মজার বিষয় হলোঃ সাহাবী ইবন হাওয়ালাহ (রাঃ) কে শাম ও ইয়ামানের বাহিনীতে শরিক হতে বললেন। কিন্তু ইরাকের বাহিনীর কোন ফজিলত ও বললেন না এবং তাতে শরীক হতে ও বললেন না। তাহলে অন্তত এটা বুঝা যায় যে, শাম ও ইয়ামানের বাহিনী সঠিকের উপর থাকবে। আজ বর্তমানে আমরা দেখতে পাই যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অয়া সাল্লামের উপরের হাদিসটি হুবহু মিলে যায়।


আজকে যথাক্রমে শাম ,ইয়ামান ও ইরাকে উক্ত ৩ টি বাহিনী লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া শামের মধ্যে যদিও is এর অংশ রয়েছে , মূলত is এর উত্থান বা আবির্ভাব ইরাক থেকেই। তাই is কে ইরাকের বাহিনী বলা যায়। শামের বাহিনী বলা যায় না। আর শামের অন্যান্য মুজাহিদিন বাহিনী ( জাবাহাতুন নুসরাহ,ইসলামিক ফ্রন্ট,আহরারুশ শাম ইত্যাদি) এবং ইয়ামেনে aqap ( আনসারুশ শরিয়াহ) মুজাহিদ ভাইয়েরা রয়েছে।

শামের বাহিনীর কথা বাদ দিয়ে যদি শুধু ইয়ামানের বাহিনীকে হাক্বপন্থী ধরে ও এই হাদিসকে বুঝতে চাই তাহলে কিন্তু ইয়ামেনের aqap মুজাহিদ ভাইয়েরা সঠিক আকীদা ও মানহাজের উপর আছেন ধরতে হবে। কেননা ইয়ামানে বর্তমানে aqap ছাড়া অন্য কোন মুজাহিদ বাহিনী তামকীনসহ নেই। সেই হিসেবে ধরতে হয় “আল কায়েদা” সঠিক আকীদা ও মানহাজের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন। কারন, রাসূল সাঃ কর্তৃক ইয়ামানের মুজাহিদ বাহিনীকে সত্যায়ন করা মানেই বর্তমানে aqap কে সত্যায়ন করা। আর aqap কে সত্যায়ন করা মানেই আল কায়েদা কে সত্যায়ন করা । কারন, aqap আল কায়েদারই অনুগত একটি শাখা। এছাড়াও ইয়ামানের ব্যাপারে অনেক ফজিলত বর্নিত হয়েছে।
যেমনঃ-
ভবিষৎবাণীকৃত ইয়েমানের আবিয়ানে ১২,০০০ মুজাহিদ বাহিনী এখন জড় হচ্ছে
-----------------------------------------------------------------------------------
আহমাদ থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন যে রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ আল্লাহ্* ও তার রাসুলকে সাহায্য করার জন্য ‘আদেন আবিয়ান থেকে বার হাজার লোক বের হয়ে পড়বে, যারা আমার এবং তাদের সময়ের মধ্যে সর্বোত্তম লোক।”

ইয়েমেনের আনসার আল শারিয়াহ (aqap) ‘আদেন আবিয়ান প্রদেশে অবস্থান করছে এবং ইতিমধ্যে তাদের বার হাজার লোক বিশিষ্ট এক আর্মি গঠন করা হয়েছে, ঠিক যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন।

আর ইয়েমেনের আনসার আল শারিয়াহ (aqap) এর মুজাহিদ ভাইয়েরা “আই এস” কে বাইয়াত দেয় নি। বরং তাঁরা “আই এস” এর কথিত খেলাফতকে শরয়ী দৃষ্টিতে বাতিল বলেছেন ও তাদেরকে খারেজী বলেছেন।

প্রিয় পাঠক!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষৎবাণী মূলক হাদিসগুলোর পর্যালোচনা থেকে আপনি বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে চিন্তা করে দেখুন
----->কে হকের উপর আছে ? আর কারা বাতিলের উপর?
----->কারা মুসলিম-ম্মুজাহিদদের কে তাকফীর করছে ? আর কারা মুসলিমদেরকে তাকফীর করছে না; বরং তাদের জান-মাল-রক্তের নিরাপত্তায়
অতন্দ্র প্রহরী ?
----->কারা শাম ও ইয়ামানের বাহিনী ? আর কারা ইরাকের বাহিনী ? কারা সহীহ হাদিসে বর্নিত সেই কালো পতাকাধারী খোরাসানের বাহিনী ?

এছাড়া প্রায় এক বছর পূর্বে "আই এস" এর মূখপাত্র আবু মুহাম্মদ আল আদনানী জাবাহাতুন নুসরাহ এর সাথে মুবাহালা করেছিল যে "হে আল্লাহ! যারা হকের উপর আছে তাদেরকে তুমি প্রকাশ করে দাও"......। আর ফুকাহায়ে কেরামের মত অনুযায়ী 'মুবাহালার' ফলাফল প্রকাশের সর্বোচ্চ সময় হল এক বছর। আল হামদুলিল্লাহ। আজকে এক বছর পর "আই এস"-এর তাকফিরী-খারেজী আকীদা ও মানহাজ আল্লাহ তায়ালা উম্মাহর সকলের কাছে প্রকাশ করে দিয়েছেন তাদের অফিসিয়াল বক্তব্য ও কাজের মাধ্যমে।
যাদের অন্তর চক্ষু আছে তাঁরা দিবালোকের ন্যায় বিষয়টা উপলব্দি করছেন।
আর যাদের কপালের নিচে দুটি চোখ আছে তারাও স্পষ্ট দেখছেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। খারেজীদের পক্ষে কলম ধরা থেকে রক্ষা করুন। যে কলম মুসলিমকে তাকফির করা ও হত্যা করতে উৎসাহিত করে, হাকপন্থী মুজাহিদদের কে আঘাত করে!

নিজে পড়ুন ও অন্যকে শেয়ার করুন।

titumir
07-12-2015, 11:27 PM
মাশাল্লাহ! অাল্লাহ অামাদের হাক্ব বোঝার তাওফিক দান করুন।

musafir2
07-14-2015, 05:54 PM
অাল্লাহ অামাদের হাক্ব বোঝার তাওফিক দান করুন।

Zayed bin Haris
07-15-2015, 02:38 PM
nice post.

Hazi Shariyatullah
07-16-2015, 10:21 PM
ফিতনার ব্যপারে আমাদের সকলের সাবধান হওয়া উচিত।
বর্তমানে উম্মাহর হক মুজাহিদ উলামাদের অনুসরণ করা উচিত।