PDA

View Full Version : শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন - ১



Zakaria Abdullah
06-05-2016, 04:47 PM
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

এনটিভিতে ইসলামী আলোচক, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিকহে পিএইচডি ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ এর উপর একটি দীর্ঘ আলোচনা শুনলাম। এটা ইউটিউবে আপলোড করেছে wayofthesalaf.com নামক সাইট। মোট ১ ঘন্টা ২০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের আলোচনা। আলোচনার লিংকঃ www.youtube.com/watch?v=rHVeZne7Fg4

পুরো আলোচনা শুনার পর শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর বক্তব্যের ব্যাপারে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। ইনশাআল্লাহ সেগুলো ধীরে ধীরে লিখার চেষ্টা করবো। আশা করি, সম্মানিত শাইখের ছাত্র ও ভক্তরা উনার কাছে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করবেন। এবং এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নিয়ে নিজেরাও সঠিক ব্যাপারটি জানবেন এবং সকলকে সঠিক ব্যাপারটি জানাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম, সালাফী / আহলে-হাদিস আলেমরা অনেক ব্যাপারেই নিজেদের মতো করে পর্যাপ্ত দলীল-আদিল্লা দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেন যেন জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভংগীর স্বপক্ষে তারা দলীল দিতে একেবারে অনিচ্ছুক অথবা দলীল খুঁজে পান না।

যেমনঃ মরহুম ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগীর তার ‘ইসলাম ও জঙ্গীবাদ’ নামক বই এ বারংবার এই দাবী করেছেন যে, জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ রাষ্ট্র ছাড়া আমল করা যাবে না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এর জন্য খলিফা অথবা ইসলামী শাসন লাগবে। কিন্তু এত বড় বইতেও শাইখ এই দাবীর স্বপক্ষে তেমন কোন দলীল অথবা পূর্ববর্তী আলেমদের কোন সিদ্ধান্ত এর উল্লেখ করেন নি।

একই ব্যাপার, শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর এই আলোচনায়। প্রায় দেড় ঘন্টার আলোচনা। কিন্তু শাইখের আলোচনায় তেমন কোন দলীল উনার এই দাবীর পক্ষে শুনলাম না। উনিও এই আলোচনায় বারংবার এই দাবী করেছেন যে, একজন ইমাম বা খলিফা ছাড়া জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ হবে না। জিহাদ করতে হলে ইমাম বা খলিফা কর্তৃক ঘোষিত হতে হবে। বলা যায়, শাইখের পুরো আলোচনার ভিত্তিই ছিল – তার এই দাবী।

প্রশ্ন-উত্তর পর্বে (আলোচনার ১ ঘন্টা ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড এ) এক প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে, তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘এই যে এত দলীল দিলাম। আমরা রাসুল সাঃ এর এতগুলো ঘটনার দলীল দিলাম, সমস্ত উলামায়ে কেরামের দলীল দিলাম’।

অথচ রাসুল (সাঃ) বিভিন্ন ঘটনা থেকে শাইখ এমন এক সিদ্ধান্ত বের করেছেন যা পূর্ববর্তী উলামারা বের করেন নি। তাই শাইখের দেয়া ওহুদ কিংবা আহযাব এর যুদ্ধের দলীল অগ্রহনযোগ্য। কারণ যে কোন একটি ঘটনার সময় একটি বিষয়ের উপস্থিতি ঐ ঘটনার জন্য ঐ বিষয়কে শর্ত হিসেবে নির্দেশ করে না।

আর সমস্ত উলামায়ে কেরামের দলীল বলতে তিনি ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর একটি আ’ম ক্বওল উল্লেখ করলেন। যা এই শর্তের জন্য অদৌ কোন দলীল নয়। এই ক্বওলের ব্যাপারে পরে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা আছে ইনশাআল্লাহ।

আলোচনার ৫১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের দিকে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ বলেন,


“এজন্য কেউ কেউ শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান (রঃ) থেকে এই বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। যে বর্ণনাটা গলদ। আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আলে শাইখ (রঃ) তার থেকে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন জিহাদে দফ্* এর জন্য ইমামের অনুমতির দরকার নেই। আরে ইমামের অনুমতির দরকার নেই - জিহাদ এর ঘোষণা করলো কে? যদি কেউ ঘোষণা করতো তাহলে জিহাদ হতো। ঠিক কিনা? ঘোষণাই তো হয় নাই। যদি ইমাম জিহাদ ঘোষণা করলে তাহলে ঠিক আছে। وإذا استنفرتم فانفروا
বুখারী শরীফে এসেছে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের বেরিয়ে যাবার জন্য আহবান করা হয়, তখন বেরিয়ে যাও’।

যদি ইমাম জিহাদ ঘোষণা করলে তাহলে ঠিক আছে। তাহলে জিহাদ এ দফ এর জন্য সবাই বেরিয়ে যাবে। তখন আর অনুমতির দরকার নেই। ...... কিন্তু যদি জিহাদই ঘোষণা না হয়, সেখানে অনুমতির মাসআলা আসবে না। সেখানে মাসআলা আসবে, জিহাদ ঘোষনা করেছে কে? কেউ যদি জিহাদের ঘোষণা না করে, তাহলে সেই জিহাদে অংশগ্রহন করা মূলতঃ মুসলিমদের কাজ নয়”।

আসলে দলীল-বিহীন একটি নতুন শর্ত দিয়ে তিনি সৌদি প্রথম গ্রান্ড-মুফতী শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রঃ) এর ক্বওলকে বাতিল বলে ঘোষনা দিয়েছেন!! পরবর্তী পর্বে আমরা শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান (রঃ) এর বর্ণনাটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

যাই হোক এখন আমরা শুধু দেখতে চাই, শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ কর্তৃক উল্লেখিত হাদিস দ্বারা পূর্ববর্তী আলেমগণ কি বুঝেছেন? কেউ কি এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে, জিহাদের জন্য ইমাম / খলিফা থাকাকে কিংবা ইমাম কর্তৃক জিহাদ এর ঘোষণা দেয়াকে জিহাদের জন্য শর্ত করেছেন?

১। ফাতহুল বারীতে ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) ইমাম নববী (রঃ) এর এই ব্যাখ্যাটা উল্লেখ করেছেনঃ

وإذا استنفرتم فانفروا قال النووي يريد أن الخير الذي انقطع بانقطاع الهجرة يمكن تحصيله بالجهاد والنية الصالحة وإذا أمركم الإمام بالخروج إلى الجهاد ونحوه من الأعمال الصالحة فاخرجوا إليه - فتح الباري - ابن حجر

অর্থাৎ, ইমাম নববী (রঃ) বলেছেন, মক্কা থেকে হিজরত বন্ধ হবার কারণে যে কল্যাণ / সওয়াবটা বন্ধ হয়ে গেছে, সেটা অর্জন করা সম্ভব হবে জিহাদ, নেক নিয়্যত এর মাধ্যমে। এবং যখন ইমাম তোমাদেরকে জিহাদে বের হবার এবং এরকম নেক আমলের নির্দেশ দিবেন, তখন তোমরা তার দিকে বের হবে’।

এখানে দেখুন, ইমামের নির্দেশে শুধু জিহাদ নয়, অন্যান্য নেক কাজেও বের হবার কথা ইমাম নববী (রঃ) আলোচনা করেছেন। এছাড়া ইমামের নির্দেশকে জিহাদের জন্য আলাদাভাবে কোন শর্ত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন নি।

এখন এটাকে কেউ জিহাদের জন্য শর্ত হিসেবে নিলে কি অন্যান্য নেক আমলের জন্যও কি ইমামের নির্দেশকে শর্ত হিসেবে নিবেন এবং ইমাম অনুপস্থিত দেখে ঐ সকল নেক আমলকেও বাতিল বলবেন।

২। উমদাতুল আহকাম এর শরাহতে এসেছেঃ

"و إذا استنفرتم فانفروا" أي إذا طلبتم للجهاد فأجيبوا - إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام

এখানেও ব্যাখ্যাকারক ইমামের নির্দেশকে জিহাদের জন্য আলাদাভাবে কোন শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন নি।

৩। ইমাম সুয়ুতী (রঃ) সহীহ মুসলিমের শরাহতে লিখেছেনঃ

وإذا استنفرتم فانفروا معناه إذا دعاكم السلطان إلى الغزو فاذهبوا إن هذا البلد حرمه الله يوم خلق السماوات -شرح السيوطي على مسلم

এর অর্থ হচ্ছে, ‘যখন সুলতান তোমাদেরকে গাযওয়ার দিকে আহবান করবে, তখন তোমরা বের হয়ে যাও যদিও এই শহর সৃষ্টির শুরু দিন থেকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন’।

এখানেও অনুরুপ। ইমাম সুয়ুতী খলিফার ঘোষণা কিংবা নির্দেশকে জিহাদের জন্য আলাদাভাবে কোন শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন নি। তাহলে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ নিজে থেকে কিভাবে এই হাদিসের আলোকে জিহাদের জন্য একটি নতুন শর্ত খুঁজে পেলেন।

৪। ইমাম নববী (রঃ) শরহে সহীহ মুসলিমে লিখেছেনঃ

( واذا استنفرتم فانفروا ) معناه اذا طلبكم الامام للخروج إلى الجهاد فاخرجوا وهذا دليل على أن الجهاد ليس فرض عين بل فرض كفاية اذا فعله من تحصل بهم الكفاية سقط الحرج عن الباقين وان تركوه كلهم اثموا كلهم - شرح النووي على صحيح مسلم

অর্থাৎ, ‘ইমাম যদি তোমাদেরকে যুদ্ধে বের হবার জন্য আহবান করেন, তাহলে তোমরা বের হয়ে যাও। আর এটা হচ্ছে প্রমাণ যে, জিহাদ (আসলে) ফরজে আইন নয় বরং ফরজে কিফায়া। একদলের আমল দ্বারা বাকীদের উপর থেকে এর দায়িত্ব মুক্তি আসে। এর সবাই এটা পরিত্যাগ করলে, সকলেই গুনাহগার হবে’।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, এই হাদিস থেকে ইমাম নববী (রঃ) একটা সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছেন যে, জিহাদ আসলে ফরজে কিফায়াহ। এই হাদিস থেকে উনিও খলিফার ঘোষণা কিংবা নির্দেশকে জিহাদের জন্য আলাদাভাবে কোন শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন নি।

৫। এই হাদিস থেকে ইবনে হাজার (রঃ) উল্লেখ করেছেনঃ

قال الحافظ ابن حجر : " وفيه وجوب تعيين الخروج في الغزو على من عينه الإمام " .

‘এর মধ্য (এই প্রমাণ রয়েছে যে) ইমাম কাউকে নির্দিষ্ট করে দিলে তার জন্য জিহাদে বের হওয়া ওয়াজিব হয়ে যায়’।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, উপরে উল্লেখিত উম্মাতের বড় বড় ইমামগণ এই হাদিস থেকে বিভিন্ন শিক্ষা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কেউই শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহর দেয়া জিহাদের জন্য নতুন এই শর্তকে উল্লেখ করেন নি।

তাই, আমরা বিনীতভাবে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহর কাছে জানতে চাই, এই উম্মাতের কোন কোন ইমাম ও আলেম, কোন কোন মুহাদ্দিস, কোন কোন হাদিসের ব্যাখ্যাকারক, কোন কোন মুজতাহিদ ইমাম উল্লেখিত এই হাদিস থেকে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর এর জন্য একজন ইমাম থাকা অথবা ইমাম কর্তৃক জিহাদ ঘোষণাকে শর্ত বের করেছেন?

আশা করি, আপনার কাছ থেকে উত্তর পেলে আমরা ও এদেশে আপনার শ্রোতামন্ডলীরা এই হাদিসের ব্যাপারে সঠিক ও পরিপূর্ণ ধারনা পাবেন ইনশাআল্লাহ।

- চলবে ইনশাআল্লাহ।

Umar Abdur Rahman
06-05-2016, 04:56 PM
মাশা'আল্লাহ। সুন্দর বিশ্লেষণ আখি। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় আছি। সবগুলো পর্ব লেখা শেষ করে পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারের ব্যবস্থা করা যাবে ইনশা'আল্লাহ।

Zakaria Abdullah
06-05-2016, 09:41 PM
মাশা'আল্লাহ। সুন্দর বিশ্লেষণ আখি। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় আছি। সবগুলো পর্ব লেখা শেষ করে পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারের ব্যবস্থা করা যাবে ইনশা'আল্লাহ।

জাঝাকাল্লাহু খাইরান ভাই।

সিপাহসালার
06-06-2016, 12:59 PM
মাশা'আল্লাহ। সুন্দর বিশ্লেষণ আখি। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় আছি। সবগুলো পর্ব লেখা শেষ করে পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারের ব্যবস্থা করা যাবে ইনশা'আল্লাহ।

Ibn Taimiyyah
06-07-2016, 06:25 AM
জাযাকাল্লাহু খাইরন। সম্মানিত উলামায়ে কিরামের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এরকম আরো রিফিউটেশন আসবে যাতে ফেইক সালাফী ও মাদখালীদের মুখোশ উন্মোচন হয়।

Zakaria Abdullah
06-07-2016, 09:00 PM
মাশা'আল্লাহ। সুন্দর বিশ্লেষণ আখি। পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায় আছি। সবগুলো পর্ব লেখা শেষ করে পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ ও প্রচার-প্রসারের ব্যবস্থা করা যাবে ইনশা'আল্লাহ।

জাঝাকাল্লাহু খাইরান ভাই। দুয়া করবেন যেন আল্লাহ তাউফিক দান করেন।

গাযওয়াতুল হিন্দ
06-08-2016, 03:46 AM
jazakallah