PDA

View Full Version : শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ২



Zakaria Abdullah
06-08-2016, 12:04 PM
রাসুল (সাঃ) কি আবু বাছির (রাঃ) ও উনার সাথীদেরকে এটা বলেছিলেন তোমরা কুরাইশদেরকে হত্যা করে ভুল করেছো কারণ তোমরা ইমামের অধীনে নেই?

শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ জিহাদ বিষয়ে একটি আলোচনা করেছেন। এটা ইউটিউবে আপলোড করেছে wayofthesalaf.com নামক একটি সাইট। লিংকঃ www.youtube.com/watch?v=rHVeZne7Fg4

পুরো আলোচনা শুনার পর শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর বক্তব্যের ব্যাপারে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। ইনশাআল্লাহ সেগুলো ধীরে ধীরে লিখার চেষ্টা করবো। আশা করি, সম্মানিত শাইখের ছাত্র ও ভক্তরা উনার কাছে প্রশ্নগুলো উত্থাপন করবেন। এবং এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নিয়ে নিজেরাও সঠিক ব্যাপারটি জানবেন এবং সকলকে সঠিক ব্যাপারটি জানাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

শাসক ছাড়া জিহাদের ডাক দেয়া যাবে না, এ ব্যাপারে ক্লিয়ার কাট এভিডেন্স রয়েছে কি? এই প্রশ্নের জবাবে শাইখ উক্ত আলোচনার ১ ঘন্টা ৫ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে বলেছেনঃ

আর আবু বাছির এর এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে রাসুল (সাঃ) নিজেও গ্রহণ করেন নি। যারা এই ধারনা করেছেন, এটা গলদ এবং বিভ্রান্তিকর। আবু বাছির এর এই ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে রাসুল (সাঃ) নিজেই গ্রহণ করেন নি এর দলীল হচ্ছে দুইবার তাকে রাসুল (সাঃ) ফেরত দিয়েছেন। তার কথাকে রাসুল (সাঃ) গ্রহন করেন নি।

শাইখের এই দাবী শুনে কিছুটা আশ্চর্য্য হয়ে গেলাম। এরপর আবু বাছির (রাঃ) সম্পর্কিত হাদিসটি আবার পড়তে শুরু করলাম। এ সংক্রান্ত রেওয়ায়াতগুলোতে এমন কোন হাদিস পেলাম না, যেখানে রাসুল (সাঃ) এর কাছে আবু বাছির (রাঃ) জিহাদ করার অনুমতি চাচ্ছেন, আর রাসুল (সাঃ) তাকে জিহাদের অনুমতি না দিয়ে ফেরত দিয়েছেন। মুসনাদে আহমাদে এই ব্যাপারে বিস্তারিত এসেছে। ঐ হাদিসের উল্লেখযোগ্য অংশগুলো হচ্ছেঃ

فَجَاءَهُ أَبُو بَصِيرٍ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ وَهُوَ مُسْلِمٌ وَقَالَ يَحْيَى عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ فَقَدِمَ عَلَيْهِ أَبُو بَصِيرِ بْنُ أُسَيْدٍ الثَّقَفِيُّ مُسْلِمًا مُهَاجِرًا فَاسْتَأْجَرَ الْأَخْنَسَ بْنَ شَرِيقٍ رَجُلًا كَافِرًا مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ وَمَوْلًى مَعَهُ وَكَتَبَ مَعَهُمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهُ الْوَفَاءَ فَأَرْسَلُوا فِي طَلَبِهِ رَجُلَيْنِ فَقَالُوا الْعَهْدَ الَّذِي جَعَلْتَ لَنَا فِيهِ

অতঃপর কুরাইশের জনৈক ব্যক্তি, আবু বাছির মুসলমান হয়ে তাঁর কাছে আসেন। আর ইয়াহইয়া, ইবনুল মুবারক থেকে এভাবে বর্ণনা করেন- অতঃপর আবু বাছির ইবনে উসাইদ আস-সাকাফী মুসলমান হয়ে হিজরত করে তাঁর নিকট আসেন। তখন কুরাইশরা বনী আমের ইবনে লুওয়াই এর জনৈক কাফের ব্যক্তি, আখনাস ইবনে শারীক ও তার সাথে একজন গোলাম ভাড়া করে তাদের কাছে রাসূল (সাঃ) এর প্রতি চুক্তি পূরণের আবেদন জানিয়ে লিখিত একটি পত্র হস্তান্তর করে। অতঃপর তারা দুই ব্যক্তিকে তার সন্ধানে প্রেরণ করে। তারা বলল- আমাদের সাথে কৃত চুক্তি পুরণ করুন!

অর্থাৎ, এটা পরিষ্কার যে, রাসুল (সাঃ) প্রথমবার আবু বাছির (রাঃ)-কে ফিরিয়ে দেয়ার সময়ঃ

- কোন জিহাদের আলোচনা হয় নি।
- আবু বাছির (রাঃ), রাসুল (সাঃ) এর কাছে জিহাদের কোন অনুমতি প্রার্থনা করেন নি।
- বরং প্রথমবার ফিরিয়ে দেয়ার কারণ ছিল হুদায়বিয়ার সন্ধি, যে কারণে অন্য অনেককে ফেরত দেয়া হয়েছিল।

فَدَفَعَهُ إِلَى الرَّجُلَيْنِ فَخَرَجَا بِهِ حَتَّى بَلَغَا بِهِ ذَا الْحُلَيْفَةِ فَنَزَلُوا يَأْكُلُونَ مِنْ تَمْرٍ لَهُمْ فَقَالَ أَبُو بَصِيرٍ لِأَحَدِ الرَّجُلَيْنِ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرَى سَيْفَكَ يَا فُلَانُ هَذَا جَيِّدًا فَاسْتَلَّهُ الْآخَرُ فَقَالَ أَجَلْ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَجَيِّدٌ لَقَدْ جَرَّبْتُ بِهِ ثُمَّ جَرَّبْتُ فَقَالَ أَبُو بَصِيرٍ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْهِ فَأَمْكَنَهُ مِنْهُ فَضَرَبَهُ حَتَّى بَرَدَ وَفَرَّ الْآخَرُ

তাই তিনি উক্ত দুই ব্যক্তির নিকট তাকে সমর্পণ করেন। তারা তাকে নিয়ে রওয়ানা দেয়। তারা যুলহুলাইফায় পৌঁছে খেজুর খাওয়ার জন্য থামে। তখন আবু বাছির (রাঃ) দুই ব্যক্তির এক ব্যক্তিকে বললেন, হে অমুক! আল্লাহর শপথ, তোমার তরবারীটি উন্নতমানের মনে হচ্ছে! তখন অপরজন তা কোষমুক্ত করে বলল, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! এটা খুব ভাল। আমি এটার ব্যাপারে বহু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আবু বাছির (রাঃ) বললেন, আমাকে একটু এটা দেখতে দাও! সে তাকে এর সুযোগ দিল। ফলে তিনি তাকে আঘাত করে হত্যা করলেন। আর অপরজন পালিয়ে গেল।

حَتَّى أَتَى الْمَدِينَةَ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ يَعْدُو فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ رَأَى هَذَا ذُعْرًا فَلَمَّا انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قُتِلَ وَاللَّهِ صَاحِبِي وَإِنِّي لَمَقْتُولٌ

সে মদীনায় এসে পৌঁছলো। অতঃপর দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে মসজিদে নববীতে প্রবেশ করল। তাকে দেখে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, সে তো ভয়ার্ত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকটে পৌঁছে সে বলল, আল্লাহর শপথ! আমার সাথীকে হত্যা করা হয়েছে, আমাকেও হত্যা করা হবে।

এরপর আবু বাছির (রাঃ) এসে পৌঁছেন। ঐ সময় আবু বাছির (রাঃ), রাসুল (সাঃ)-কে কি বলেছেন? আর রাসুল (সাঃ) এর উত্তর কি ছিল? সেটা আমাদের এই আলোচনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

فَجَاءَ أَبُو بَصِيرٍ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَدْ وَاللَّهِ أَوْفَى اللَّهُ ذِمَّتَكَ قَدْ رَدَدْتَنِي إِلَيْهِمْ ثُمَّ أَنْجَانِي اللَّهُ مِنْهُمْ

এরপর আবু বাছির (রাঃ) এসে বললেন, হে আল্লাহর নবী (সাঃ) আল্লাহ আপনার চুক্তিকে রক্ষা করেছেন। আপনি আমাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, অতঃপর আল্লাহ আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।

উল্লেখ্যঃ সহীহ বুখারী, সুনানে আবু দাউদ, সহীহ ইবনে হিব্বান, সুনান বায়হাকী, মুসান্নাফে আব্দুর রায্*যাক, মুযাম আল কাবির ইত্যাদি সকল হাদিস গ্রন্থেই আবু বাছির (রাঃ) এর এই একই কথা এসেছে। কোন শব্দেরও হেরফের হয়নি।

এটা ছিল রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে আবু বাছির (রাঃ) এর ২য় বার পালিয়ে এসে বলা কথা। তাহলে দেখা যাচ্ছে ২য় বার পালিয়ে এসে আবু বাছির (রাঃ)

- কোন জিহাদের আলোচনা করেন নি।
- রাসুল (সাঃ) এর কাছে কোন জিহাদের অনুমতি প্রার্থনা করেন নি।

এরপর নবী (সাঃ) এর উত্তর ছিল এইঃ

فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيْلُ أُمِّهِ مِسْعَرَ حَرْبٍ لَوْ كَانَ لَهُ أَحَدٌ

তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তার মায়ের জন্য আফসোস! (এটা আবেগ প্রকাশে আরবে প্রচলিত একটি কথা), এটা তো যুদ্ধের স্ফুলিংগ, তার জন্য যদি কেউ থাকতো।

এই ছিল রাসুল (সাঃ) উত্তর। উপরে উল্লেখিত সবগুলো হাদিসের কিতাবে একই কথা এসেছে, শুধু ইবনে হিব্বানে مِسْعَرَ حَرْبٍ কথাটা বাদ পরেছে।

فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ عَرَفَ أَنَّهُ سَيَرُدُّهُ إِلَيْهِمْ فَخَرَجَ حَتَّى أَتَى سِيفَ الْبَحْرِ

এরপর আবু বাছির (রাঃ) এই কথা শুনে বুঝতে পারলেন যে উনাকে অচিরেই তাদের কাছে ফেরত দেয়া হবে, উনি বের হয়ে গেলেন এবং সিফাল বাহার নামক জায়গায় চলে গেলেন।

তাহলে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর উপরুক্ত কথার ব্যাপারে বলা যায়ঃ

- হ্যাঁ, আবু বাছির (রাঃ) এর হিজরত করে মদীনায় যাবার ঘটনা রাসুল (সাঃ) নিজে গ্রহন করেন নি। এর কারণ ছিল হুদাইবিয়ার চুক্তি।
- দুইবারই আবু বাছির (রাঃ)-কে রাসুল (সাঃ) ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে সেটা ছিল উনার হিজরত করে মদীনার যাবার ব্যাপারে।
- পরবর্তীতে আবু বাছির (রাঃ) এর জিহাদকে রাসুল (সাঃ) গ্রহন করেন নি, এ রকম কোন ইশারা এই ঘটনায় পাওয়া যায় না।
- তাই শাসক ছাড়া জিহাদের ডাক দেয়া যাবে না, এ ব্যাপারে ক্লিয়ার কাট এভিডেন্স রয়েছে কি? - এই প্রশ্নের উত্তরে আবু বাছির (রাঃ)-কে রাসুল (সাঃ) দুই বার ফিরিয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করার কোন যৌক্তিকতা নেই।
- আবু বাছির (রাঃ)-কে দুইবার ফেরত দেয়ায় কিংবা রাসুল (সাঃ) তার কথা গ্রহণ না করায় শাসক/খলিফা ছাড়া জিহাদ করা যাবে না বলে প্রমাণিত হয় না। বরং এই ঘটনা উল্লেখ করে এই দাবী করাই বাতিল ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হবে। কারণ এটা ছিল মদীনায় আশ্রয় লাভের ব্যাপারে। আর এই ব্যাপারে হুদাইবিয়ার চুক্তির কারণে রাসুল (আঃ) অপারগ ছিলেন।

قَالَ وَيَتَفَلَّتُ أَبُو جَنْدَلِ بْنُ سُهَيْلٍ فَلَحِقَ بِأَبِي بَصِيرٍ فَجَعَلَ لَا يَخْرُجُ مِنْ قُرَيْشٍ رَجُلٌ قَدْ أَسْلَمَ إِلَّا لَحِقَ بِأَبِي بَصِيرٍ حَتَّى اجْتَمَعَتْ مِنْهُمْ عِصَابَةٌ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا يَسْمَعُونَ بِعِيرٍ خَرَجَتْ لِقُرَيْشٍ إِلَى الشَّامِ إِلَّا اعْتَرَضُوا لَهَا فَقَتَلُوهُمْ وَأَخَذُوا أَمْوَالَهُمْ فَأَرْسَلَتْ قُرَيْشٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُنَاشِدُهُ اللَّهَ وَالرَّحِمَ لَمَّا أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ فَمَنْ أَتَاهُ فَهُوَ آمِنٌ فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ

বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আবু জান্দাল ইবনে সুহাইলও বের হয়ে আবু বাছিরের সাথে শরীক হন। এরপর কুরাইশের যে ব্যক্তিই ইসলাম গ্রহণ করে বেরিয়ে পড়ত, সেই আবু বাছিরের সাথে মিলিত হত। এমনকি তাদের একটি দল হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর শপথ! তারা যখনই কোন কুরাইশ কাফেলার শামের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সংবাদ শুনতেন, তখনই তাদের পথ আটকাতেন। তাদেরকে হত্যা করতেন এবং তাদের সম্পদ নিয়ে নিতেন। ফলে কুরাইশরা অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহ ও আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে পত্র পাঠায়, যেন তিনি তাদেরকে মদীনায় ডেকে পাঠান। আর এরপর থেকে যে (মদীনায়) চলে আসবে, সে নিরাপদ। তাই রাসূল (সাঃ) তাদেরকে ডেকে পাঠালেন।

সুবহানাল্লাহ, এখানে দেখা যাচ্ছে, এক দল সাহাবা (রাঃ) একত্রিত হয়ে আবু বাছির (রাঃ) এর সাথে কুরাইশদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ করেছেন।

তাহলে প্রশ্ন আসে, একদল সাহাবা (রাঃ) একত্রে রাসুল (সাঃ) এর সময়েই

- শাসকের অনুমতি / ঘোষণা ছাড়া,
- খলিফার অনুমতি / ঘোষণা ছাড়া,
- এমনকি স্বয়ং রাসুল (সাঃ) এর অনুমতি / ঘোষণা ছাড়া কুরাইশ কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন।

কেউ এই দাবীও করার সুযোগ নেই যে, রাসুল (সাঃ) এই জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন কারণ তখন রাসুল (সাঃ) কুরাইশদের সাথে যুদ্ধ না করার চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন।

আরেকটি ব্যাপার হলোঃ যদি আবু বাছির (রাঃ) এর এই জিহাদ আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর অপছন্দনীয় হতো, তাহলে একদল সাহাবা (রাঃ) আজমাইন একত্রে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর অপছন্দীয় কাজ দীর্ঘদিন ধরে করতে থাকেন কিভাবে?

আর রাসুল (সাঃ) এই পুরো সময়কালে নিরব থাকারই বা অর্থ কি? নিরব থাকার অর্থ কি এটা নয় যে, আবু বাছির (রাঃ) এর জিহাদী কার্যক্রমের ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) এর সমর্থন রয়েছে?
তাহলে আমরা দেখলামঃ

- আবু বাছির (রাঃ) গেরিলা জিহাদকে রাসুল (সাঃ) গ্রহন করেন নি এই কথার কোন ভিত্তি নেই।
- আবু বাছির (রাঃ)-কে দুইবার মদীনা থেকে ফিরিয়ে দেয়ার কারণ ছিল হুদাইবিয়ার চুক্তি। এর সাথে আবু বাছির (রাঃ) এর গেরিলা জিহাদের কোন সম্পর্ক ছিল না।
- মক্কা থেকে পরবর্তীতে যারাই ইসলাম গ্রহন করতেন, তারাই আবু বাছির (রাঃ) এর ইসাবাতে শরীক হয়ে যেতেন। রাসুল (সাঃ) নও-মুসলিম সাহাবা (রাঃ)-দের এই কর্মকান্ডকে, আবু বাছির (রাঃ) এর গেরিলা জিহাদকে, শাসকের অনুমতি ছাড়া, খলিফার ঘোষণা ছাড়া, স্বয়ং রাসুল (সাঃ) এর অনুমতি ছাড়া জিহাদকে নিষেধ করেন নি। বরং মৌনতা অবলম্বন করেছেন। আর রাসুল (সাঃ) এর গোচরীভূত ব্যাপারে তাঁর মৌনতা অবলম্বন মানে সেটা অনুমোদিত।

উপরুক্ত এই কথাগুলো বুঝার পর, আমরা দেখবো যে, রাসুল (সাঃ), আবু বাছির (রাঃ) এর গেরিলা জিহাদকে, শাসকের / খলিফার ঘোষণা ছাড়া জিহাদকে বরং ইশারার মাধ্যমে (কুরাইশদের সাথে সন্ধির কারণে সরাসরি করেন নি) উৎসাহিত করেছেন। রাসুল (সাঃ) উৎসাহিত করেছেন তাঁর لَوْ كَانَ لَهُ أَحَدٌ কথার মাধ্যমে।

(১) ইবনে হাজার (রঃ) ফাতহুল বারীতে এই কথার ব্যাখ্যায় লিখেছেনঃ

قوله لو كان له أحد أي ينصره ويعاضده ويناصره وفي رواية الأوزاعي لو كان له رجال فلقنها أبو بصير فانطلق وفيه إشارة إليه بالفرار لئلا يرده إلى المشركين ورمز إلى من بلغه ذلك من المسلمين أن يلحقوا به - فتح الباري - ابن حجر

"যদি তাকে সাহায্য-সহযোগিতা ও শক্তি যোগনোর জন্য কেউ থাকতো। ইমাম আওযায়ী (রঃ) এর রেওয়ায়াতে এসেছে, যদি তার পক্ষে কিছু লোক থাকতো! আবু বাছির (রাঃ) কথাটি বুঝে নিলেন। তাই তিনি চলে গেলেন। এখানে আবু বাছির (রাঃ) এর জন্য ইশারা ছিল, যেন উনি পালিয়ে যান, যাতে উনাকে মুশরিকদের নিকট ফেরত দিতে না হয় এবং এই খবর যে সকল মুসলিমদের কাছে পৌঁছবে, তারা যেন তার সাথে গিয়ে মিলিত হন"।

সুবহানাল্লাহ!! দেখা যাচ্ছে, আবু বাছির (রাঃ) এর এই ঘটনায় শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ আমাদেরকে এমন কথা বলছেন, যা ইবনে হাজার (রঃ) এর ব্যাখ্যার পুরো উল্টো!! তাহলে আমরা এখন কোনটা গ্রহণ করবো??

(২) আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রঃ) এর উমদাতুল ক্বারীতে উল্লেখ করা হয়েছেঃ

قوله لو كان له أحد جواب لو محذوف أي لو فرض له أحد ينصره ويعاضده - عمدة القاري شرح صحيح البخاري

তার জন্য যদি কেউ থাকত কথাটির বাকি অংশ উহ্য। পূর্ণ কথাটি হচ্ছে- তার জন্য যদি কেউ থাকত, যে তাকে সাহায্য করবে ও শক্তি যোগাবে।

অর্থাৎ, আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রঃ) ব্যাখ্যাও শাইখ সাইফুল্লাহর কথার সম্পূর্ণ বিপরীত।

(৩) ইবনে বাত্তাল (রঃ) সহীহ বুখারীর ব্যাখায় একই রকম কথা বলেছেন। তিনি বলেনঃ

قوله: لو كان له أحد يعنى: من ينصره ويمنعه، ففهمها أبو بصير، وخرج إلى سيف البحر، وجعل يطلب غرة أهل مكة، وآذاهم حتى لحق به أبو جندل وجماعة، شرح البخاري لابن بطال

অর্থাৎ, যে তাকে সাহায্য করবে ও রক্ষা করবে। আবু বাছির (রাঃ) কথাগুলো বুঝলেন এবং সিফাল বাহারে চলে গেলেন। আর মক্কাবাসীকে অতর্কিত আক্রমণ করে শাস্তি দিতে থাকেন। পরবর্তীতে আবু জান্দাল (রাঃ) সহ এক দল (মুসলিম) তার সাথে যুক্ত হন।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, ইবনে বাত্তাল (রঃ) একই ব্যাপারকে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর মতো বুঝেন নি। বরং আবু বাছির (রাঃ) এর প্রতি রাসুল (সাঃ) এর একটি ইশারা হিসেবে দেখেছেন যার উপর আবু বাছির (রাঃ) আমল করেছেন। আর রাসুল (সাঃ) যেখানে ইশারা করেছেন, সেখানে জিহাদকে গলদ ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করা কি যুক্তি-সংগত?

পরিশেষে আমরা নজদ এলাকার অন্যতম ইমাম, শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রঃ) যিনি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্*হাব (রঃ) এর নাতি, এর রিসালার একটি অংশ উল্লেখ করতে চাই। শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রঃ) ইবনে নাবহান এর বিভ্রান্তি (সে দাবী করেছিল, ইমাম / খলিফা ছাড়া জিহাদ নেই) রদ্* করতে গিয়ে আবু বাছির (রাঃ) এর ঘটনা আলোচনা করে বলেছেনঃ

لما جاء مهاجراً فطلبت قريش من رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يرده إليهم، بالشرط الذي كان بينهم في صلح الحديبية، فانفلت منهم حين قتل المشركيْن، اللذين أتيا في طلبه. فرجع إلى الساحل لما سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ويل أمه مسعر حرب، لو كان معه غيره" فتعرض لعير قريش - إذا أقبلت من الشام - يأخذ ويقتل،

তিনি হিজরত করে চলে আসলে কুরাশরা হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত মোতাবেক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট তাকে ফেরত দেওয়ার দাবি করে। তিনি তাকে খুঁজতে আসা দুই মুশরিককে হত্যা করে পালিয়ে যান। তিনি যখন শুনলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এটা যুদ্ধের স্ফুলিং, তার সাথে যদি কেউ থাকত! তখন তিনি সমুদ্রোপকুলের দিকে চলে যান এবং কোন কোরাইশ কাফেলা শাম থেকে আসতে লাগলে তাদের পথ রোধ করতেন। তাদের মাল ছিনিয়ে নিতেন এবং তাদেরকে হত্যা করতেন।

فاستقل بحربهم دون رسول الله صلى الله عليه وسلم، لأنهم كانوا معه في صلح - القصة بطولها. فهل قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أخطأتم في قتال قريش، لأنكم لستم مع إمام؟ سبحان الله ما أعظم مضرة الجهل على أهله؟ عياذاً بالله من معارضة الحق بالجهل والباطل - الدرر السنية في الأجوبة النجدية ،

তারা তাদের এই যুদ্ধে রাসুল (সাঃ) থেকে আলাদা / স্বাধীন ছিলেন, কারণ কুরাইশরা তখন রাসুল (সাঃ) এর সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ ছিল এভাবে ঘটনার শেষ পর্যন্ত। তখন রাসুল (সাঃ) কি এটা বলেছিলেন তোমরা কুরাইশদেরকে হত্যা করে ভুল করেছো কারণ তোমরা ইমামের অধীনে নেই? সুবহানাল্লাহ, অজ্ঞতা মানুষের কি পরিমাণ ক্ষতি করে? আল্লাহর কাছে অজ্ঞতা ও বাতিলের মাধ্যমে সত্যের বিরোধিতা করা থেকে আশ্রয় চাই। (আদ দুরার আস-সানিয়া)

তাই আমরা শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর কাছে বিনীতভাবে জানতে চাই,

- আবু বাছির (রাঃ) এর ঘটনার ব্যাপারে আপনার বক্তব্যের সাথে উল্লেখিত ইমামদের ব্যাখ্যা ও উপলব্ধি মিলছে না এখন আমরা কার কথাকে গলদ ও বিভ্রান্তিকর মনে করবো?
- রাসুল (সাঃ) কি আবু বাছির (রাঃ) ও উনার সাথীদেরকে এটা বলেছিলেন তোমরা কুরাইশদেরকে হত্যা করে ভুল করেছো, কারণ তোমরা ইমাম / খলিফার অধীনে নেই?

আশা করি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। এতে আমরা ও এদেশে আপনার দর্শক-শ্রোতা আবু বাছির (রাঃ) এর ঘটনার ব্যাপারে সঠিক ধারনা পাবেন ইনশাআল্লাহ।

শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ১ - bit.ly/1XCMmCU

- ইনশাআল্লাহ চলবে।

Ibn Taimiyyah
06-09-2016, 06:41 AM
জাযাকাল্লাহু খাইরন। ড সাইফুল্লাহ এর সাথে ব্যক্তিগতভাবে মিশেছে এমন এক ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছে আমার। উনি জিহাদের বিষয় নিয়ে ভাইদের সাথে আলোচনায় অনেক এরোগ্যান্ট ব্যবহার করেন। যদিও ফিকহের অন্যান্য বিষয় নিয়ে উনার উদারতা রয়েছে।

salahuddin aiubi
06-09-2016, 07:49 PM
জাযাকাল্লাহ ভাই!
মুরতাদ শাসকদের ছত্রছায়ায় এই সকল দরবারী আলেমরা ইসলামের কত স্পষ্ট বিষয়গুলোকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে! আল্লাহ এদেরকে ধ্বংস করুন!

mohammod bin maslama
06-10-2016, 02:11 AM
জাযাকাল্লাহ আখি এদের মুখোশ উম্মচন করার দিন এসেছে, আমার ভয় হয় কোন দিন যে রাসুল সাল্লাহ কে ভুল দরে

Zakaria Abdullah
06-11-2016, 11:06 PM
জাযাকাল্লাহ ভাই!
মুরতাদ শাসকদের ছত্রছায়ায় এই সকল দরবারী আলেমরা ইসলামের কত স্পষ্ট বিষয়গুলোকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে! আল্লাহ এদেরকে ধ্বংস করুন!

বারাকাল্লাহু ফিকা।

mohammod bin maslama
06-13-2016, 03:44 AM
এই ফাজিল লোকটা প্রায় এরকম উলটা পালটা বক্তব্য দেয়, কোশলে জিহাদ বিরোধিতা, তার বক্তব্য এর মাঝে অনেক অনেক তথ্যের অভাব তার মুল কথ ছিল পাহাড় পরবতে জিহাদের গোশনা দিলে চলবেনা, এই পাগল কি দেখে নাই ইরাক যুদ্দে সাদ্দাম কিভাবে নেত্তিত্ত দিতো, অথচ সাদ্দাম অনইসলাম চরচা করে ছিলো

mohammod bin maslama
06-13-2016, 03:49 AM
এই লোকটা সব সময় ইজমায়ে উম্মতের খেলাফে কথা বালে এটা ঘোমরাহির চুরান্ত সিমা