PDA

View Full Version : শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ৩



Zakaria Abdullah
06-17-2016, 10:51 AM
বর্তমানে কি মুসলিমরা খলিফা / ইমাম নাই বলে ঈদ করা ছেড়ে দিবে? বাংলাদেশের মুসলিম জনগণ কোন খলিফা / ইমামের অধীনে থেকে বংশ পরম্পরায় ঈদ পালন করছেন?

আলোচনার ২০ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের দিকে শাইখ বলেছেনঃ জিহাদের যতগুলো পদ্ধতি তার মধ্যে একটি হচ্ছে, জিহাদ ঘোষণা হতে হবে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যিনি কেবলমাত্র মুসলমানদের ক্ষমতার অধিকারী। মুসলমানরা তার ক্ষমতার ব্যাপারে একমত হয়েছে। অর্থাৎ মুসলিম শাসক যার ইমামতির ব্যাপারে সমস্ত মুসলমানগণ, সেই প্রেক্ষাপটের মুসলমানগণ সবাই একমত হয়েছেন যে তিনি ইমাম, তিনি ঘোষনা করবেন জিহাদ। রাসুল (সাঃ) জিহাদ ঘোষণা করেছেন। শুধু জিহাদ নয় বরং এ বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) মাজমুয়া আল ফতোয়ার মধ্যে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন যে,
মুসলমানদের ঈদ, জামাত, জুমুয়া, হজ্ব, সিয়াসা বা রাজনীতি এবং জিহাদ এইগুলো মূলত ইমাম এর দায়িত্ব।

এছাড়া আলোচনার প্রশ্নউত্তর পর্বে শাসক ছাড়া জিহাদের ডাক দেয়া যাবে না, এ ব্যাপারে ক্লিয়ার কাট এভিডেন্স রয়েছে কি? এই প্রশ্নের জবাবেও (১ ঘন্টা ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড) শাইখ ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর একই উক্তি উল্লেখ করেছেন।

এই পর্বে আমরা মূলতঃ ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর কথাটি একটি বিস্তারিত দেখতে চাই। শাইখের উল্লেখিত কথার ২/১ লাইন আগে থেকে ঐ কথার ২/১ লাইন পর পর্যন্ত আমরা দেখতে চাই। যাতে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর কথার অর্থ পুরোপুরি বুঝা যায়। ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর কথাটি হচ্ছেঃ

وروى الإمام أحمد في المسند عن عبد الله بن عمرو أن النبي صلى الله عليه و سلم قال : [ لا يحل لثلاثة يكونوا بفلاة من الأرض إلا أمروا عليهم أحدهم ] فأوجب صلى الله عليه و سلم تأمير الواحد في الاجتماع القليل العارض في السفر تنبيها بذلك على سائر أنواع الاجتماع

ইমাম আহমদ তার মুসনাদে আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তিন জন ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় নিজেদের মধ্যে একজনকে আমীর নিয়োজিত না করে দুনিয়ার কোন প্রান্তে সফর করা। রাসুল (সাঃ) সফরে বের হওয়া ছোট্ট জামাতের জন্যও একজনকে আমীর নিয়োজিত করা ওয়াজিব করেছেন। এ থেকে অন্য সকল ধরনের ইজতিমার জন্যও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।

ولأن الله تعالى أوجب الأمر بالمعروف والنهى عن المنكر ولا تتم ذلك إلا بقوة وإمارة

এছাড়া যেহেতু আল্লাহ তায়ালা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ-কাজে নিষেধকে ওয়াজিব করেছেন এবং এটা শক্তি ও নেতৃত্ব ছাড়া সম্পন্ন করা যায় না।

وكذلك سائر ما أوجبه من الجهاد والعدل وإقامة الحج والجمع والأعياد ونصر المظلوم وإقامة الحدود لا تتم إلا بالقوة والإمارة

একইভাবে এ ধরনের যত ব্যাপার আছে যা আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন যেমনঃ জিহাদ, ন্যায় প্রতিষ্টা, হজ্ব, জুমআ, ঈদ, মজলুমদের সাহায্য, হুদুদ প্রতিষ্টা এগুলো শক্তি ও নেতৃত্ব ছাড়া সম্পন্ন করা যায় না।

ولهذا روى :[أن السلطان ظل الله في الأرض] ويقال : [ستون سنة من إمام جائر أصلح من ليلة بلا سلطان] -السياسة الشرعية[1/217]

এ কারণেই বলা হয়ঃ সুলতান হচ্ছেন পৃথিবীতে আল্লাহর ছায়া। আরো বলা হয়ঃ সুলতান ছাড়া এক রাত থেকে অত্যাচারী ইমামের অধীনে ষাট বছরও উত্তম। - সিয়াসাতুশ শরীয়াহ (পৃষ্টা ১)
এই হচ্ছে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর সেই কথা যা শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এই আলোচনায় জিহাদের জন্য ইমাম শর্তের পক্ষে দলীল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়ঃ

১। ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এই কথাটি আসলে লিখেছেন তার সিয়াসাতুশ শরীয়াহ কিতাবের একদম শুরুর দিকে। ২১৭ পৃষ্টার বই এর একেবারে ১ম পৃষ্টার ১ম প্যারায়। ২১৭ পৃষ্টার কোন বই এর ১ম পাতার ১ম প্যারায়ই কেউ কোন একটি বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করার কথা না। জিহাদের জন্য ইমাম / খলিফা শর্ত কিনা তাও লেখার কথা না। বরং যেকোন কিতাবের প্রথমে সাধারণ কিছু ভূমিকা থাকে, যা বই এর মূল আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এই কিতাবের বিষয় যেহেতু ইসলামী সিয়াসাত, তাই শুরুতেই নেতৃত্বের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) হাদিস উল্লেখ করে এর গুরুত্ব বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।

২। উল্লেখিত কথাটিও খুবই ব্যাপক একটা কথা। এখানে তিনি সফরে তিন ব্যক্তির আমীর নির্ধারণ করার হাদিস উল্লেখ করে ব্যাপকভাবে যে কোন জামায়াতের জন্য আমীর থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কেউ এই এক লাইন থেকে এই দাবী করা হাস্যকর হবে যে, জিহাদে একজন খলিফা / ইমাম লাগবে।

৩। যদি শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ ইবনে তাইমিয়ার এই কথা থেকে এই দাবী করেন, এই কথার মধ্যে জিহাদের জন্য একজন ইমাম থাকাকে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) শর্ত করেছেন, তাহলে প্রশ্ন আসবেঃ



- তাহলে ঈদের ব্যাপারেও তো একই লাইনে বলা আছে। তাহলে বর্তমানে কি মুসলিমরা খলিফা / ইমাম নাই বলে ঈদ করা ছেড়ে দিবে? শাইখ আপনি কি বাংলাদশে ঈদ পালন করেন না? বাংলাদেশের মুসলিম জনগণ কোন খলিফা / ইমামের অধীনে থাকায় বংশ পরম্পরায় ঈদ পালন করছেন?
- হজ্জ্ব এর ব্যাপারেও একই কথা আসবে। এখন মুসলিমদের খলিফা / ইমাম নাই দেখে কি মুসলিমরা হজ্ব করা ছেড়ে দিবে? হজ্বের জন্যও কি একজন খলিফা / ইমাম থাকা শর্ত? বর্তমানে কোন খলিফা / ইমামের অধীনে হজ্জ্ব অনুষ্ঠিত হয়? নাকি এই হজ্জ্বগুলো সবই বাতিল বলে গন্য হবে?
- জুমআর ক্ষেত্রেও কি এই শর্ত আসবে না? এখন মুসলিমদের খলিফা / ইমাম নাই দেখে কি মুসলিমরা জুমআ আদায় করা ছেড়ে দিবে? জুমআর জন্যও কি একজন খলিফা / ইমাম থাকা শর্ত? বর্তমানে কোন খলিফা / ইমামের অধীনে জুমআ অনুষ্ঠিত হয়? নাকি এই জুমআগুলো সবই বাতিল বলে গন্য হবে?


৪। বরং ইবনে তাইমিয়ার (রঃ) এর এই কথার ব্যাখ্যা এর আগের লাইনেই আছে যেখানে তিনি বলেছেনঃ রাসুল (সাঃ) সাধারণ সফরে বের হওয়া ছোট্ট জামাতের জন্যও একজনকে আমীর নিয়োজিত করা ওয়াজিব করেছেন। এ থেকে অন্য সকল ধরনের ইজতিমার জন্যও এর গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।

অর্থাৎ সাধারণভাবে সকল জামাতে একজন আমীর থাকা প্রয়োজন। আমীরের অধীনে মুসলিমরা থাকা প্রয়োজন। তাই কেউ এই লাইন থেকে শিক্ষা নিলে এটা বলতে পারে যে, সকল জমায়াতে যেন আমীর নিয়োগ দেয়া হয়। হজ্বেও যেন আমীর নিয়োগ দেয়া হয়। সেই আমীরের অধীনে হজ্ব হবে। ঈদও যেন একটা নেতৃত্বের অধীনে হয়। জিহাদেও মুজাহিদরা যেন একজন আমীর নিয়োগ দিয়ে কাজ করেন। কারণ তিনজন সফরে গেলে আমীর নিয়োগ দেয়ার কথা। তাহলে জিহাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে অবশ্যই আমীর নিয়োগ দেয়া উচিত। এই কথা বললে, সেটা একটা যুক্তি-সংগত কথা হতো। আর সকলেই জানেন, আলহামুদলিল্লাহ দুনিয়ার যে কোন প্রান্তের জিহাদী তানজীমই তাদের মধ্যে আমীর নির্ধারন করে থাকেন।

এ কারণেই নজদের বিখ্যাত ইমাম, শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রঃ) বলেছেন,

كل من قام بالجهاد في سبيل الله فقد أطاع الله وأدى ما فرضه الله ولا يكون الإمام إماماً إلا بالجهاد إلا أنه لا يكون جهاد إلا بإمام-الدرر السنية 7/97

প্রত্যেক ব্যক্তি যে জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর জন্য দাঁড়িয়ে গেল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল এবং আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা আদায় করল। জিহাদ ছাড়া কোন ইমাম, ইমামই (খলীফা) হতে পারে না, যদিও জিহাদও ইমাম ছাড়া করা যায় না।

ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর কথাটি শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রঃ) এর কথার আলোকে বুঝলে আশা করি সবার কাছে তা পরিষ্কার হবে। আর এ ব্যাপারে সবাই অবগত যে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ও নজদের আলেমগণ ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর কিতাবগুলো খুবই বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করেছেন এবং উনাদের উপর ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর চিন্তাধারা খুবই প্রভাব বিস্তার করেছিল।

৫। এর থেকেও উল্লেখযোগ্য কথা হলোঃ ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এখানে সুষ্পষ্টভাবে এই কথা উল্লেখ করেন নি যে,

জিহাদের জন্য একজন ইমাম কিংবা খলিফা থাকা শর্ত - যা শাইখ সাইফুল্লাহ প্রমাণ করতে চেয়েছেন। এখানে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর আলোচনার বিষয়বস্তুও জিহাদ ছিল না। না তিনি এখানে জিহাদের শর্তাবলী আলোচনা করছিলেন। তাই এ রকম কোন আলোচনার একটি লাইন উল্লেখ করে সেটাকে জিহাদের জন্য একটি শর্ত হিসেবে দেখনো কতটুকু যুক্তিসংগত হবে?

৬। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলোঃ ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) যেখানে জিহাদের আলোচনা করেছেন সেখানে বরং প্রতিরক্ষামূলক জিহাদে কোন ধরনের শর্ত নেই বলে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ফাতওয়া আল কুব্*রা এর কিতাবুল জিহাদে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেছেনঃ

وَأَمَّا قِتَالُ الدَّفْعِ فَهُوَ أَشَدُّ أَنْوَاعِ دَفْعِ الصَّائِلِ عَنْ الْحُرْمَةِ وَالدِّينِ فَوَاجِبٌ إجْمَاعًا فَالْعَدُوُّ الصَّائِلُ الَّذِي يُفْسِدُ الدِّينَ وَالدُّنْيَا لَا شَيْءَ أَوْجَبَ بَعْدَ الْإِيمَانِ مِنْ دَفْعِهِ فَلَا يُشْتَرَطُ لَهُ شَرْطٌ بَلْ يُدْفَعُ بِحَسَبِ الْإِمْكَانِ-الفتاوى الكبرى

আর প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ হচ্ছে মুসলমানদের সম্মান ও দ্বীন রক্ষার জন্য আগ্রাসীকে প্রতিহত করার সবচেয়ে কঠিন প্রকার।এটা সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব। সুতরাং ঈমানের পর দ্বীন ও দুনিয়া ধ্বংসকারী আগ্রাসী শত্রুকে প্রতিহত করার চেয় বড় ফরজ কিছু নেই। এর জন্য কোন শর্ত নেই। বরং সামর্থ অনুযায়ী প্রতিরোধ করতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছেঃ জিহাদের জন্য ইমাম থাকা শর্ত কিনা এই ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর একটি সুষ্পষ্ট বক্তব্য বাদ দিয়ে কেন আমরা একটি আম এবং অষ্পষ্ট বক্তব্যকে শাইখের অবস্থান হিসেবে ধরে নিবো?

৭। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রঃ) যাদুল মায়াদ কিতাবে হুদাইবিয়ার সন্ধি থেকে কিছু ফিকহী উপকারিতা অধ্যায়ে আলোচনায় বলেছেনঃ

ومنها : أن المعاهدين إذا عاهدوا الإمام فخرجت منهم طائفة فحاربتهم وغنمت أموالهم ولم يتحيزوا إلى الإمام لم يجب على الإمام دفعهم عنهم ومنعهم منهم وسواء دخلوا في عقد الإمام وعهده ودينه أو لم يدخلوا والعهد الذي كان بين النبي صلى الله عليه و سلم وبين المشركين لم يكن عهدا بين أبي بصير وأصحابه وبينهم وعلى هذا فإذا كان بين بعض ملوك المسلمين وبعض أهل الذمة من النصارى وغيرهم عهد جاز لملك آخر من ملوك المسلمين أن يغزوهم ويغنم أموالهم إذا لم يكن بينه وبينهم عهد كما أفتى به شيخ الإسلام في نصارى ملطية وسبيهم مستدلا بقصة أبي بصير مع المشركين -زاد المعاد - ابن القيم الجوزية 3/267

এর মধ্যে এটাও রয়েছে যে, যখন চুক্তিবদ্ধ গোষ্ঠী খলিফা/ইমাম এর সাথে চুক্তি করে, এরপর কোন তয়িফা তাদের (চুক্তিবদ্ধগোষ্টী) থেকে বের হয়ে যায়, এরপর তাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদের মালামাল থেকে গনীমাত অর্জন করে এবং তারা ইমামের দিকে না আসে, তাহলে ইমামের জন্য জরুরী নয় যে, তাদেরকে চুক্তিবদ্ধ গোষ্টী থেকে নিরাপত্তা দেয়া অথবা চুক্তিবদ্ধ গোষ্টীকে ঐ তয়িফার ব্যাপারে (কার্যক্রম গ্রহণ করতে) বাঁধা দেয়া। এই ক্ষেত্রে তারা (ঐ তয়িফা) ইমামের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হোক বা না হোক, প্রতিশ্রুতি দিক বা না দিক ও দ্বীনে প্রবেশ করুক বা না করুক - তা সমান হবে। আর নবী (সাঃ) ও মুশরিকদের মধ্যে যে চুক্তি ছিল, আবু বাসির (রাঃ) ও তার সাথীদের সাথে মুশরিকদের ঐ চুক্তি ছিল না। এর উপর ভিত্তি করে বলা যায়, কোন রাজা যদি খ্রীষ্টান অথবা অন্য কোন আহলু জিম্মার সাথে চুক্তি করে, অন্য কোন মুসলিম রাজার জন্য তাদেরকে আক্রমণ করা ও তাদের মাল থেকে গনীমাত নেয়া জায়েজ রয়েছে যদি তাদের সাথে কোন চুক্তি না থাকে। মুশরিকদের সাথে আবু বাসির (রাঃ) এর এই ঘটনা উপর ভিত্তি করে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) মাল্টা এর খ্রীষ্টানদের ব্যাপারে ও তাদেরকে বন্দী করার ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছেন।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) আবু বাসির (রাঃ) এর ঘটনার উপর ভিত্তি করে ফতোয়া দিয়েছেন। সেই ফতোয়ার ভিত্তি হচ্ছেঃ আবু বাসির (রাঃ), রাসুল (সাঃ) এর অধীনস্ত না থেকে জিহাদ করেছেন। অর্থাৎ, আবু বাসির (রাঃ) এর এই জিহাদ যে সঠিক ছিল, সেটা ইবনে তাইমিয়া (রঃ) গ্রহন করেছেন। শুধু গ্রহন করেই ক্ষান্ত হন নি, এর উপর ভিত্তি করে একটি ফতোয়াও দিয়েছেন।

একইভাবে এই ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর অবস্থান জানা ও একই রকম অবস্থান রাখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী রয়েছে উনার অন্যতম ছাত্র ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রঃ) এর। আর এই মাপের আলেমরা তাদের শাইখদের অবস্থানকে কিভাবে অনুসরণ করেন, তা সহজেই অনুমেয়। সেই ইবনুল কাইয়্যিম (রঃ) হুদাইবিয়ার সন্ধি থেকে শিক্ষা বের করেছেনঃ

এর মধ্যে এটাও রয়েছে যে, যখন চুক্তিবদ্ধ গোষ্টী খলিফা/ইমাম এর সাথে চুক্তি করে, এরপর কোন তয়িফা তাদের (চুক্তিবদ্ধগোষ্টী) থেকে বের হয়ে যায়, এরপর তাদের সাথে যুদ্ধ করে এবং তাদের মালামাল থেকে গনীমাত অর্জন করে এবং তারা ইমামের দিকে না আসে, তাহলে ইমামের জন্য জরুরী নয় যে, তাদেরকে চুক্তিবদ্ধ গোষ্টী থেকে নিরাপত্তা দেয়া অথবা চুক্তিবদ্ধ গোষ্টীকে ঐ তয়িফার ব্যাপারে (কার্যক্রম গ্রহণ করতে) বাঁধা দেয়া।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই তয়িফা মুসলিম হলে তারা জিহাদ করবে, খলিফা এর অধীনস্থ না থেকেই। যা আবু বাসির (রাঃ) এর ক্ষেত্রে হয়েছিল। তাহলে ইবনুল কায়্যিম (রঃ) এর অবস্থানও এই ক্ষেত্রে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর অবস্থান এর উল্টো।

এখন আমরা আলোচ্য বিষয়ে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) অবস্থান কোনটা ধরে নিবো? শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর উল্লেখকৃত অবস্থান নাকি ইবনুল কায়্যিম (রঃ) এর উল্লেখকৃত অবস্থান?

তাই আমরা শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ এর কাছে বিনীতভাবে জানতে চাই,


o বর্তমানে কি মুসলিমরা খলিফা / ইমাম নাই বলে ঈদ করা ছেড়ে দিবে? বাংলাদেশের মুসলিম জনগণ কোন খলিফা / ইমামের অধীনে থেকে বংশ পরম্পরায় ঈদ পালন করছেন?
o জিহাদের জন্য একজন ইমাম কিংবা খলিফা থাকা শর্ত এ রকম কোন কথা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) কোথাও হুবহু উল্লেখ করেছেন কিনা?
o জিহাদের জন্য ইমাম থাকা শর্ত কিনা এই ব্যাপারে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর একটি সুষ্পষ্ট বক্তব্য বাদ দিয়ে কেন আমরা একটি আম এবং অষ্পষ্ট বক্তব্যকে শাইখের অবস্থান হিসেবে ধরে নিবো?
o আমরা আলোচ্য বিষয়ে ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর অবস্থান কোনটা ধরে নিবো আপনার উল্লেখকৃত অবস্থান নাকি ইবনুল কায়্যিম (রঃ) এর উল্লেখকৃত অবস্থান?
আশা করি শাইখ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। এতে আমরা ও এদেশে আপনার দর্শক-শ্রোতা আবু বাছির (রাঃ) এর ঘটনার ব্যাপারে সঠিক ধারনা পাবেন ইনশাআল্লাহ।


শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ১ - http://bit.ly/1XCMmCU
শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ২ http://bit.ly/1XYRrFG

Abu Anwar al Hindi
06-17-2016, 01:39 PM
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। সম্পুর্ণ লেখা শেষ হলে সংকলন করে পিডিএফ আকারে বের করলে ইনশা আল্লাহ দাওয়ার কাজে উপকারী হবে।

Ibn Taimiyyah
06-17-2016, 03:09 PM
জাযাকাল্লাহু খাইরন। ফতোয়াগুলো ফেসবুকে অধিক প্রচার হওয়া প্রয়োজন

Abu Khubaib
06-17-2016, 08:12 PM
মাশা'আল্লাহ ! ভাই লাইট সিরিজের ২২নং এপিসোডের মত ভিডিও আকারে যদি রিফিউটেশন ছাড়া যায় আরও ফলপ্রসূ হবে ইনশা'আল্লাহ... কোনো ভাই কি দেখবেন?

Zakaria Abdullah
06-18-2016, 10:47 PM
সবগুলো প্রশ্ন একটা ফেসবুক পেইজে দেয়া হয়েছে। সবাইকে ভিজিট করার আমন্ত্রণ রইলো।

http://bit.ly/1XYRrFG