PDA

View Full Version : ওসি সালাহ উদ্দিনের কুকীর্তি (ছড়িয়ে দিন সবাই)



আহমাদ মুসা
07-02-2016, 12:52 AM
সেপ্টেম্বর ২০১০, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অভিযোগে বলা হয়, সালাউদ্দিন খানের শেয়ারবাজারে এক কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

ফেব্রুয়ারি ২০১১, অবৈধ অর্থ আয়ের দুদকের তদন্তের নথি গায়েব। অথচ দোষী সাব্যস্ত করে চিঠি দিয়েছিল দুদক।

২৯ মে ২০১২, আদালত চত্বরে এক তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন ওসি সালাউদ্দিন এবং সাংবাদিক-আইনজীবীদের বেধড়ক পেটান। দিনভর কোতোয়ালী থানায় আটকে রাখেন তরুণীকে।

ইসলামপুরে দেশীয় নিম্নমানের কাপড়ে অবৈধ ভাবে বিদেশি সিল লাগানোর কারখানার মালিক বাবুল ওরফে জাপানি বাবুলের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ ঘুষ নিতেন।

আগস্ট ২০১২, তার নির্দেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র আযহারুল ইসলামকে থানায় নিয়ে হাত পা ভেঙে হাত পায়ের নখ উপড়ে ফেলে পুলিশ। পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল।

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ছেলে শিক্ষানবিশ আইনজীবী আসিফ মোহাম্মদ জুনায়েদকে মিরপুর থানা অন্যায়ভাবে আটক করলে থানায় যান বাবা অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। ওসি দুইজনকেই গ্রেপ্তার করেন।

১৭ মার্চ ২০১৩, বাবলু নামের এক যুবকের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেন।

১০ এপ্রিল ২০১৩, কাজীপাড়া থেকে মিল্টন ও শিপন নামে দুই যুবদল কর্মীকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়ার আধাঘণ্টা পর হাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

২১ অক্টোবর ২০১৩, মিরপুর ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২ জন শিক্ষককে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করে। মামালার ভয় দেখিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খান।

২৫ অক্টোবর ২০১৩, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মনিপুর স্কুলের শিক্ষককে পেট্রোলবোমা মারার মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের নামে হয়রানি করে।

২৬ ডিসেম্বর ২০১৩, তার নেতৃত্বে পুলিশ মিরপুরের যুবদল নেতা মামুন ও তার ভাইয়ের বাসায় তল্লাশি, ভাঙচুর। আটক করে আনেন মামুনের ভাইয়ের স্ত্রী ও কলেজপড়ুয়া মেয়েসহ কয়েকজনকে। মামুনের প্যারালাইজড ভাইকে লাথি মেরে শিশুপুত্রসহ ঘরে আটকে রাখে।

২ মে ২০১৪, ব্যবসায়ী শীষ মনোয়ারকে থানায় ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর তার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দেন।

১২ জুলাই ২০১৪, প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ঝুট ব্যবসায়ী সুজনকে ধানমণ্ডির শংকরের বাসা থেকে আটক করে মিরপুর থানায় বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা।

২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াহিদকে মামলা প্রত্যাহারে জন্য মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

২৫ নভেম্বর ২০১৪, ২৮ ঘন্টা থানায় আটকিয়ে রেখে অকথ্য নির্যাতন করে রাকিব হোসেন নামের এক সংবাদ কর্মীর কাছ থেকে ১ লাখ দশ হাজার টাকা নেয়।

৭ জানুয়ারি ২০১৫, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সারাদিন কাজ শেষে রিকশা ভ্যান নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় মোহাম্মদ রিপন নামে এক সবজি বিক্রেতাকে দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকা থেকে ধরে মিরপুর থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে তাকে সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একইভাবে পান-সিগারেট ব্যবসায়ী ইমরানকে ধরে নিয়ে আসে।

৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, মেডিকেল কলেজের ছাত্র আব্দুল্লাহ হোসাইনকে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধরে নিয়ে আসে। খোঁজ নিতে থানায় গেলে তার ভাই হাসানকেও গ্রেপ্তার করে। তাদের দুইজনকে নিয়ে বাসায় অস্ত্র উদ্ধারে গিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে এবং তাদের অসুস্থা বাবা এনায়েত উল্লাহকে থানায় ধরে নিয়ে যায়।

ওসি সালাউদ্দিনের বাড়ি গোপালগঞ্জে। ১৯৯০ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। ২০০৬ সালে পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০৭ সালে হাজারীবাগ থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন। এক-এগারো সরকারের সময় তাকে বদলি করা হয়েছিল রাজশাহী রেঞ্জে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই বদলি হয়ে আসেন ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে। ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ কোতোয়ালী থানায় যোগ দেন। ২০১২ সালের ১১ আগস্ট বদলি হোন মিরপুর থানায়। চাকরি জীবনে একাধিকবার সাসপেন্ড হয়েছেন। - See more at: http://m.sylhetview24.com/news/details/National/63581#sthash.J6vcBMg6.dpuf

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 01:00 AM
শত অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে বহুল আলোচিত মিরপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান। একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ডিএমপির ৪৯ থানার মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ওসি হিসেবে ধরা হয় তাকে। এ কারণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন। সর্বশেষ থানা হেফাজতে ঝুট ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নানাভাবে দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। অথচ গ্রেপ্তারকৃত পুলিশের এসআই জাহিদ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন ওসির নির্দেশেই তিনি ওই ব্যবসায়ীকে ধরে এনেছিলেন।

ওসির নির্দেশেই থানাহাজতে তাকে পেটানো হয়। ব্যবসায়ী মারা যাওয়ার পর ওসির পরামর্শেই ‘হার্ট অ্যাটাকের গল্প’ সাজানো হয়। এখন বিষয়টি জানাজানি হলে ওসি নিজে বাঁচার জন্য সব কিছু অস্বীকার করছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, থানা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে ওসি কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেন না। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে খোদ পুলিশ প্রশাসনেই তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে ওসি সালাউদ্দিনের খুঁটির জোর কোথায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওসি সালাউদ্দিনকে বাঁচাতে বিশেষ একটি মহল তত্পরতা চালাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে ওসি সালাউদ্দিন এসআই হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ট্রেনিং শেষে ’৯১ সালের ১লা আগস্ট পুলিশে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ২০০৬ সালে তিনি পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর থেকেই শুরু হয় তার ক্ষমতার দাপট। ২০০৭ সালে তিনি হাজারীবাগ থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন। শুরু হয় তার অপকমের্র পালা। অপকর্ম করে একাধিকবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন তিনি। তবে বেশি দিন তাকে বরখাস্ত হয়ে থাকতে হয়নি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকায় বারবারই পার পেয়ে গেছেন তিনি। এক-এগারো সরকারের সময় তাকে বদলি করা হয়েছিল রাজশাহী রেঞ্জে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই তিনি বদলি হয়ে আসেন ঢাকার উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জে। সেখানে একবার অপকর্ম করতে গিয়ে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়েছিলেন। পরে বদলি হয়ে আসেন কোতোয়ালি থানায়। এখানেই কাটিয়েছেন দীর্ঘ সময়। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে ওসি সালাউদ্দিন ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন তিনি। কেউ মাসোহারা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই তার ওপর পড়ত ওসির খড়গ দৃষ্টি। ধরে এনে নির্যাতন আর পেন্ডিং মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও তাকে ভয় পায় যমের মতো। কোতোয়ালি থানায় ওসি সালাউদ্দিনের সঙ্গে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব-ইন্সপেক্টর জানান, থানার এসআইরা তার ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকত। প্রতিদিন তার হাতে তুলে দিতে হতো টাকা।

সূত্র জানায়, ২০১২ সালের মে মাসে আদালতপাড়ায় তরুণীর শ্লীলতাহানি ও সাংবাদিক-আইনজীবী পেটানোর ঘটনায় আলোচনায় আসেন ওসি সালাউদ্দিন। তত্কালীন সহকারী কমিশনারসহ ওসি সালাউদ্দিনকে তখন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার নতুন জায়গায় পোস্টিং বাগিয়ে নেন। ওই বছরেরই ১১ই আগস্ট মিরপুর মডেল থানায় যোগ দেন তিনি। এ নিয়ে সে সময় ব্যাপক সমালোচনাও হয়। ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায়ের তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তার পরও ওসি সালাউদ্দিনের কিছু হয়নি।

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 01:01 AM
সংশ্লিষ্টরা বলছিলেন, সাজার বদলে এটি ছিল তার পুরস্কার। সূত্র জানায়, মিরপুরে যোগ দেয়ার পরও ওসি সালাউদ্দিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ওসি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে মিরপুরের যুবদল নেতা মামুন ও তার ভাইয়ের বাসা লণ্ডভণ্ড করেন। আটক করে আনেন মামুনের ভাইয়ের স্ত্রী ও কলেজপড়ুয়া মেয়েসহ নিরীহ লোকজনকে। এ ঘটনা তখন ব্যাপক সমালোচিত হয়। একই সময়ে ওসি সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে মিরপুরের বিভিন্ন মেসবাসা থেকে দেড় শতাধিক তরুণ যুবককে আটক করা হয়। পরে টাকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত বছর এক আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। এরপর থেকে বাদীকে তিনি মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা নিয়ে করেছিলেন কটূক্তি। গত বছরের ১৭ই মার্চ মিরপুরে বাবলু নামে এক যুবকের পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন তিনি। সেই যুবক এখন পঙ্গু। একই বছর ১০ই এপ্রিল রাতে মিল্টন ও শিপন নামে দুই যুবককে ধরে নিষ্ঠুর নির্যাতন করেন তিনি। থানায় নেয়ার আধঘণ্টার মধ্যেই তাদের আবার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের হাতে-পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। তারাও চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে। মিরপুর ন্যাশনাল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২ জন শিক্ষককে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করেছিলেন তিনি। বিদ্যালয়ের পরীক্ষা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক করছিলেন শিক্ষকরা। ওসি তাদের ধরে আনেন সরকারবিরোধী গোপন বৈঠকের অজুহাতে। পরে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে বড় অঙ্গের চাঁদা আদায় করেন তিনি। আযহারুল ইসলাম নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের মাস্টাসের্র এক ছাত্রকে থানায় আটকে রেখে হাত-পা ভেঙে দেয়া ও নখ তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করেছিলেন তিনি। সেই ছাত্র এখন পঙ্গু অবস্থায় দিন যাপন করছেন।

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 01:01 AM
সূত্র জানায়, ওসি সালাহউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ আহরণের অভিযোগ রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১১ সালে দুদকের অনুসন্ধানে যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাদের মধ্যে সালাউদ্দিন ছিলেন অন্যতম। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সম্পদ বিবরণীর হিসাব জমা দেয়ার জন্য দুদক সালাউদ্দিন খানকে চিঠি দিয়ে ছিল। কিন্তু খোদ দুদক কার্যালয় থেকে তার নথি গায়েব হয়ে গেছে। সবার নথি থাকলেও ওসি সালাউদ্দিনের নথি হারিয়ে যাওয়া নিয়ে খোদ দুদকেই এ নিয়ে তোলপাড় হয়। এর আগে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অভিযোগে বলা হয়, সালাউদ্দিন খানের শেয়ারবাজারে এক কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যা একজন পুলিশ কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
সূত্র জানায়, ওসি সালাউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন ও প্রভাবশালী এক কর্মকর্তার বাড়ি তার এলাকাতেই। সালাউদ্দিনের পিতা ছিলেন স্কুলশিক্ষক। ডিএমপির ওই কর্মকর্তা সালাউদ্দিনের পিতার কাছে প্রাইভেট পড়তেন। সেই সুবাদে ওই কর্মকর্তাকে মামা বলে ডাকেন সালাউদ্দিন। এ কারণে পুলিশের কেউ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার সাহস পান না। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে বর্তমানে মিরপুর মডেল থানায় দায়িত্বরত ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ খান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হত্যা মামলা, তদন্তের নির্দেশ: এদিকে মিরপুর থানা হেফাজতে ঝুট ব্যবসায়ী মাহাবুবুর রহমান সুজনের মৃত্যুর ঘটনায় ওসি সালাউদ্দিন ও এসআই জাহিদসহ দশজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী মমতাজ সুলতানা লুসি। গতকাল আদালতে তিনি এই মামলা করেন। মহানগর দায়রা জজ জহুরুল হক শুনানি শেষে বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, নিহত সুজনের স্ত্রী লুসি ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩’ এর ১৫ ধারায় দশজনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। মামলার দশ আসামি হলেন মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন, এসআই জাহিদুর রহমান, এএসআই রাজকুমার, কনস্টেবল আসাদ ও রাশিদুল, পুলিশের সোর্স নাসিম, ফয়সাল, খোকন, পলাশ ও মিথুন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, আসামি এসআই জাহিদ ও ওসি সালাউদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্য আসামিদের যোগসাজশে সুজনকে ‘বেধড়ক পিটিয়ে’ হত্যা করে। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরজিতে সুলতানা লুসি বলেন, ঘটনার দিন রাতে থানায় পৌঁছে এসআই জাহিদ ওয়্যারলেসে স্যার সম্বোধন করে বলে, হারামজাদাকে মারতে মারতে নিয়ে এসেছি। এখন কি করব? ‘অপর প্রান্ত থেকে উত্তর আসে ক্লোজ করে দাও। না হয় ফাইনাল করে দাও। মামলায় বাদীসহ মোট ছয়জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার।
গত ১২ই জুলাই রাতে এসআই জাহিদের নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর শঙ্করের পশ্চিম জাফরাবাদের বাসা থেকে সুজন, তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকে আটক করে মিরপুর থানায় নিয়ে যায়। সেখানে সুজনকে আলাদা করে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। পরদিন ভোরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক সুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পরপরই এসআই জাহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ। সুজনের লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হলে গত বুধবার এসআই জাহিদ ও নাসিম নামে এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলাতে ওসি সালাউদ্দিনের নাম বাদ দিয়ে এসআই জাহিদসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়।

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 01:08 AM
https://www.youtube.com/watch?v=1-j85MF6EBc

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 01:11 AM
https://www.youtube.com/watch?v=gPLhI8Bhiek

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 02:35 AM
ওসি সালাউদ্দীনের সাথে একদিন :
.
ঘটনাটি ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর।
.
ভোরবেলা বাসার সামনে থেকে মিরপুর থানার ওসি সালাহউদ্দিন তার সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে আমাকে এবং আমার এক ছোট ভাই (যার নাম Arif) কে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে গেল। সত্যি কথা বলতে আমার ভিতরে একটুও ভয় কাজ করছিল না, কারণ মাঝেমধ্যেই পুলিশের এররকম হয়রানির শিকার হতাম।
.
থানায় নিয়ে নিয়মমাফিক প্রথমে হাজতে ঢুকাল আমাদের। কিছুক্ষণ বাদে আমার সেই হ্যাংলা-পাতলা ভাইটাকে সালাহউদ্দিনের রুমে নিয়ে যাওয়া জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে। কিন্তু এ কি !!! এটা কি ধরণের জিজ্ঞাসাবাদ??? শুধু আর্তচিৎকার আর আর্তচিৎকার, তখন ও বুঝিনি কি হচ্ছে ওসি সাহেবের রুমে।
.
২০ মিনিট পর আমাকেও ৪-৫ জন পুলিশ এসে হাতে হাতকড়া পড়িয়ে এমন সতর্কভাবে ওসি সাহেবের রুম পর্যন্ত নিল যেন আমি একজন আন্তর্জাতিক মাফিয়া। এরপর আমাকে ওসি সালাহউদ্দিনের সামনে দাড় করাল। কোন কথাবার্তা জিজ্ঞাসা না করেই চিৎকার করে গৌতম নামের এক পুলিশকে ডেকে বলল, "গৌতম, শুয়োরের বাচ্চার হাত গুলা খুইল্লা পিছমোড়া কইরা বান"। কথামত
আমার হাতদু'টো পিছমোড়া করে বাঁধা হল, আরেক জন এসে পা বাঁধল, এরপর আরেকজন এসে গামছা দিয়ে আমার চোখদু'টাও বাঁধল। তারপর
সম্মানিত ওসি সাহেব আমাকে পিছন থেকে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল। এরপর.......
.
২ ইঞ্চি মোটা একটা লাঠি দিয়ে প্রচন্ড জোরে এমন জোরে পিটাতে শুরু করল যেন আমি একটা বল আর তিনি শহীদ আফ্রিদী, প্রত্যেকটা বল তাকে ছক্কা মারতেই হবে। ছক্কা হাকাচ্ছে আর একটা কথাই বলছে,"বেশী না, ২০ টা পোলারে ধরাই দে"। প্রত্যোত্তরে আমি বলেই যাচ্ছি, "স্যার আমি সত্যিই কাওকে চিনি না"। আর সেইকি গালি-গালাজ !!! কোন মানুষ সত্যিই যদি মায়ের ঔরশে জন্মে থাকে তাহলে এভাবে গালি-গালাজ করতে পারে না।
.
এরপর ২-৩টা পুলিশকে বলল, "মাদারচো***র হাতের সবডি আঙ্গুল ভাঙ"। যেই আঙ্গুল দিয়ে আমি লিখি,পরীক্ষা দিই সেই আঙ্গুল নাকি ভেঙে ফেলবে!!! এত কিছুর পর ও বাবার মূখ টা চোখের সামনে ভেসে আসল। তাহলে আমার বাবার স্বপ্ন কি কখনোই বাস্তবে রুপ নেবে না, তার ছেলে কি কখনোই আর ইন্জিনিয়ার হতে পারবে না !!! নাহ, আমি এটা হতে দিব না। যাই হোক ওসির নির্দেশমত ওরা অনেক চেষ্টা করল আমার আঙ্গুল ভাঙতে, কিন্তু পারল না।
.
গল্পটা যদি এখানেই শেষ হতো, তাহলে হয়তোবা ওসি সালাহউদ্দিন একটা আতংকের নাম হতো না। এরপর যোগ হল হল নির্যাতনের আরেক মাত্রা।
কোথা থেকে যেন ভোল্টমিটারের মত একটা যন্ত্র নিয়ে আসল যার দুই প্রান্ত দিয়ে দু'টি তার বের হয়েছে, আর তার দু'টির মাথায় দু'টো ক্লিপের মত কি যেন। মনটা এক অজানা আতংকে কেপে উঠল। ক্লিপ দু'টো আমার কানে পড়িয়ে দিয়েই মিটারের কাঁটাটি ঘুরাল। আমি এক বিকট চিৎকার দিলাম, এভাবে ৫-৬ সেকেন্ড রেখে বন্ধ করে দিল। আবার কাঁটা ঘুরাল, এবার মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে গেল, তারপর আর কিছু জানি না।
পরদিন কতগুলো বোমা, লাঠিসোটা আরো হাবিজাবি কি কি দেখিয়ে মামলা দিয়ে দিল। তারপর তো ৬ মাস জেল খেটে বের হলাম।
.
এভাবে তিনি গুলি করে কত মায়ের ছেলের পাঁ পঙ্গু করেছে, কত ভাইয়ের হাত হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে অচল করেছে, কত যুবকের যৌবনের যৌনতাকে চিরজীবনের জন্য নষ্ট করে দিয়েছে তা হয়তো বা শুধু আল্লাহই গুনে রেখেছেন।
.
(সংগৃহীত)

আহমাদ মুসা
07-02-2016, 02:36 AM
https://www.youtube.com/watch?v=i3AsCcGlngc