PDA

View Full Version : শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ৫



Zakaria Abdullah
07-13-2016, 09:50 PM
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

১। আলোচনার ৫৯ মিনিটে শাইখ ডঃ সাইফুল্লাহ বলেছেনঃ


(আফগানিস্তানে) প্রথমে একক নেতৃত্বে পৌঁছে জিহাদ শুরু করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফিতনা সেখানে তৈরী হয়েছে। এই ফিতনার মাশুল তাদেরকে আজো দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রথমে কিন্তু তারা একক নেতৃত্বেই জিহাদ করেছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যখন জিহাদ করেছে তারা একক নেতৃত্ব করেছে। এবং সেটা ছিল রাশিয়ার একটা আক্রমণ। তাদের বিরুদ্ধে একটা বড় আক্রমণ। এবং সেই আক্রমণ প্রতিহত করা মুসলমানদের একটা বড় দায়িত্বের মধ্যে একটা ছিল। এবং মুসলমানরা ইচ্ছাকৃতভাবে সেই আক্রমণকে প্রতিহত করার জন্য চেষ্টা করেছেন। ফলে এটাকে জিহাদ ঘোষণা দিয়েছেন উলামায়ে কেরাম। এবং এটা জিহাদই হয়েছে আসলে। কোন সন্দেহ নেই, এটা জিহাদ হয়েছে। এবং আমরা দেখেছি যে, এই জিহাদের একটা রেজাল্টও এসেছে।

অন্যদিকে আলোচনার ২০ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের দিকে ডঃ সাইফুল্লাহ বলেছেনঃ


জিহাদের যতগুলো পদ্ধতি তার মধ্যে একটি হচ্ছে, জিহাদ ঘোষণা হতে হবে এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যিনি কেবলমাত্র মুসলমানদের ক্ষমতার অধিকারী। মুসলমানরা তার ক্ষমতার ব্যাপারে একমত হয়েছে। অর্থাৎ মুসলিম শাসক যার ইমামতির ব্যাপারে সমস্ত মুসলমানগণ, সেই প্রেক্ষাপটের মুসলমানগণ সবাই একমত হয়েছেন যে তিনি ইমাম, তিনি ঘোষনা করবেন জিহাদ।

তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছিঃ

- একদিকে তিনি দাবী করছেন, জিহাদ ঘোষণা হতে হবে এমন মুসলিম শাসক এর পক্ষ থেকে যার ইমামতির ব্যাপারে সমস্ত মুসলমানগণ, সেই প্রেক্ষাপটের মুসলমানগণ সবাই একমত হয়েছেন যে তিনি ইমাম, তিনি ঘোষনা করবেন জিহাদ।
- আবার অন্যদিকে তিনি বলেছেনঃ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের জিহাদকে জিহাদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন উলামায়ে কেরাম। এবং এটা জিহাদই হয়েছে আসলে। আর বাস্তবে শাইখ বিন বাজের নেতৃত্ব ইসলামিক ফিকহ কাউন্সিল আফগান জিহাদকে শরয়ী জিহাদ বলে ঘোষণা দিয়েছে। এই ফতোয়াতে ঐক্যবদ্ধভাবে সাক্ষর করেছেনঃ

o শাইখ বিন বাজ।
o শাইখ বকর আব্দুল্লাহ আবু জায়েদ।
o শাইখ সালেহ ইবনে ফাওযান।
o শাইখ ইবনে আব্দুল্লাহ আল সুবাইলী।
o মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী

আল্লাহ তাদের সকলকে রহমত করুন, জীবিতদেরকে ঈমান ও আমলের উপর কায়েম রাখুন।

এছাড়া আলাদাভাবে আরো অনেক আলেম আফগান জিহাদকে শরয়ী ভাবে বৈধ একটি জিহাদ ঘোষণা দিয়ে এতে সহযোগিতা করার জন্য মুসলিম উম্মাহকে আহবান জানিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ

ক) রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের এই বৈধ জিহাদকে কোন খলিফা/ইমাম- জিহাদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন?
খ) ঐ সময় কি মুসলিম উম্মাহ কোন খলিফার অধীনে ছিল?
গ) তখন কি আফগানিস্তান কোন খলিফার অধীনে ছিল, যিনি শরয়ী ভাবে বৈধ এই জিহাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন?
ঘ) আফগান জিহাদ কি এমন কোন মুসলিম শাসকের তরফ থেকে জিহাদ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর শুরু হয়েছিল, যার ইমামতির ব্যাপারে সমস্ত মুসলমানগণ, সেই প্রেক্ষাপটের মুসলমানগণ সবাই একমত হয়েছেন যে তিনি ইমাম?
ঙ) রাশিয়ার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের জিহাদে কে ছিল সেই একক নেতা প্রথম দিকে যার একক নেতৃত্বে পৌঁছে জিহাদ শুরু হয়েছিল? কোন কোন গ্রুপ সেই একক নেতার অধীনে ছিল? পরবর্তীতে কবে, কিভাবে সেই নেতার একক নেতৃত্ব বিনষ্ট হয়েছিল? একটু বিস্তারিত জানাবেন।

কারণ আমরা এটাই জানতাম যে, আফগানিস্তানে বিভিন্ন দলীয় কোন্দল অনেক আগে থেকেই ছিল। এমনকি রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদেও বিভিন্ন দল বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছে। আরব মুজাহিদগণসহ শাইখ উসামা (রঃ) কখনোই আমেরিকার কোন সাহায্য নেন নি যা সিআইএ এর বিন লাদেন ইউনিট এর প্রধানের সাক্ষাতকার থেকে জানা গেছে। আহমাদ শাহ মাসউদ এর দলকে আমেরিকা সর্বাত্বক সাহায্য-সমর্থন দিয়েছিল। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের গ্রুপ আলাদা ছিল, বুরহানুদ্দিন রব্বানী এর গ্রুপও আলাদা কাজ করেছে। জালালুদ্দিন হাক্কানী এর গ্রুপও আলাদাভাবে ছিল।

২। একইভাবে আলোচনার ৫১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের দিকে ডঃ সাইফুল্লাহ বলেছেন,


এজন্য কেউ কেউ শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান (রঃ) থেকে এই বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। যে বর্ণনাটা গলদ। আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আলে শাইখ (রঃ) তার থেকে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন জিহাদে দফ্* এর জন্য ইমামের অনুমতির দরকার নেই। আরে ইমামের অনুমতির দরকার নেই - জিহাদ এর ঘোষণা করলো কে? যদি কেউ ঘোষণা করতো তাহলে জিহাদ হতো। ঠিক কিনা? ঘোষণাই তো হয় নাই। যদি ইমাম জিহাদ ঘোষণা করলে তাহলে ঠিক আছে। وإذا استنفرتم فانفروا বুখারী শরীফে এসেছে রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের বেরিয়ে যাবার জন্য আহবান করা হয়, তখন বেরিয়ে যাও। যদি ইমাম জিহাদ ঘোষণা করলে তাহলে ঠিক আছে। তাহলে জিহাদ এ দফ এর জন্য সবাই বেরিয়ে যাবে। তখন আর অনুমতির দরকার নেই। ...... কিন্তু যদি জিহাদই ঘোষণা না হয়, সেখানে অনুমতির মাসআলা আসবে না। সেখানে মাসআলা আসবে, জিহাদ ঘোষনা করেছে কে? কেউ যদি জিহাদের ঘোষণা না করে, তাহলে সেই জিহাদে অংশগ্রহন করা মূলতঃ মুসলিমদের কাজ নয়।

এছাড়া আলোচনার ৫০ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে ডঃ সাইফুল্লাহ বলেছেনঃ


জিহাদে তলব এর জন্য যেভাবে (খলিফার অনুমতি কিংবা ঘোষণা) শর্ত, জিহাদে দফ্* এর জন্য তেমনিভাবে শর্ত।

আমরা বিনীতভাবে ডঃ সাইফুল্লাহর কাছে জানতে চাই,

ক) রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে জিহাদকে আপনি শরয়ীেভাবে বৈধ জিহাদ বলে দাবী করেছেন, এবং বলেছেন, এবং এটা জিহাদই হয়েছে আসলে। কোন সন্দেহ নেই, এটা জিহাদ হয়েছে এই জিহাদ ঘোষণা করলো কে?
খ) রাশিয়ার বিরুদ্ধে যে জিহাদকে আপনি শরয়ীিভাবে বৈধ জিহাদ বলে দাবী করেছেন, এবং বলেছেন, এবং এটা জিহাদই হয়েছে আসলে। কোন সন্দেহ নেই, এটা জিহাদ হয়েছে এই জিহাদ ঘোষণা করলেন কোন সেই ইমাম? কোন সেই খলিফা?
গ) যদি আফগানিস্তানের জিহাদের ঘোষণা কোন খলিফা / ইমাম না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ভাষ্য অনুযায়ী সেই জিহাদে অংশগ্রহন করা মূলতঃ মুসলিমদের কাজ ছিল না। তাহলে সৌদি আলেমরা গণহারে আফগান জিহাদে শরীক হবার জন্য তখন আহবান জানিয়ে ছিলেন কেন?

৩। আলোচনার ৪৯ মিনিট ৫ সেকেন্ডে এক প্রশ্নের উত্তরে ডঃ সাইফুল্লাহ বলেছেন,


আফগানিস্তানের জিহাদকে আমিও জিহাদ বলেছি। ঠিক আছে, ফিলিস্তিনের জিহাদকে আমিও জিহাদ বলেছি। কিন্তু আমি বলেছি যে আফগানিস্তানের জিহাদ পরবর্তীতে ফিতনায় রুপান্তরিত হয়েছে। প্রথমে জিহাদ ছিল কিন্তু সেটা পরবর্তীতে ফিতনায় রুপান্তরিত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জিহাদ প্রথমে জিহাদ ছিল, জিহাদের আকারে শুরু হয়েছিল, উলামায়ে কেরাম সাপোর্ট করেছেন, কিন্তু পরে সেটা ফিতনায় রুপান্তরিত হয়েছে। যেহেতু সেটা কোন ধরনের দিক নির্দেশনা বা মানহাজে পরিচালিত হয়নি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছেঃ

ক) শুরুর দিকে ফিলিস্তিনের ঐ বৈধ জিহাদকে কোন খলিফা/ইমাম- জিহাদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন?
খ) ঐ সময় কি মুসলিম উম্মাহ কোন খলিফার অধীনে ছিল?
গ) তখন কি ফিলিস্তিনের কোন খলিফার অধীনে ছিল, যিনি শরয়ী ভাবে বৈধ এই জিহাদ ঘোষণা দিয়েছিলেন?
ঘ) ফিলিস্তিনের জিহাদ কি এমন কোন মুসলিম শাসকের তরফ থেকে জিহাদ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর শুরু হয়েছিল, যার ইমামতির ব্যাপারে সমস্ত মুসলমানগণ, সেই প্রেক্ষাপটের মুসলমানগণ সবাই একমত হয়েছেন যে তিনি ইমাম?

৪। আলোচনার ৩৩ মিনিট ৯ সেকেন্ডে ডঃ সাইফুল্লাহ বলেনঃ


আর এই দুঃখ আমি বলে শেষ করতে পারবো না সেটা হচ্ছে, আফগানিস্তানের দেখুন জিহাদ হয়েছে কিন্তু জিহাদ রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারে নাই। আজ পর্যন্ত কোন রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারে নাই। ইরাকে দেখুন, আজ পর্যন্ত কোন রেজাল্ট আসেনি। আজ পর্যন্ত কোন রেজাল্টে পৌছতে পারে নাই। এই না পৌছার কারণ একটাই সেটা হচ্ছে রাসুল (সাঃ) যে মানহাজ দেখিয়েছেন সেই মানহাজকে ফলো করা হয় নি। সে কর্মনীতিকে অনুসরণ করা হয় নি। সেই কর্মনীতিকে যদি অনুসরণ করা হতো, তাহলে সেখানে সত্যিকার অর্থে একটা রেজাল্টে চলে আসতো।

শাইখের কাছে আমরা জানতে চাইঃ

- আপনার দৃষ্টিতে ফিলিস্তিন কিংবা আফগান জিহাদ প্রথমে শরয়ীভাবে বৈধ হলেও পরবর্তীতে মুজাহিদগণ কি কি কাজ করার কারণে সেটা আর শরয়ীেভাবে বৈধ থাকে নি? ফিতনায় রুপান্তরিত হয়েছে? দয়া করে বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ জানাবেন।
- কোন সেই দিক-নির্দেশনা বা মানহাজ যে ফিলিস্তিন কিংবা আফগান জিহাদের মুজাহিদগণ প্রথমে মেনে চলেছেন, তাই প্রথমে সেই জিহাদগুলো শরইয়ীভাবে সহীহ ছিল? পরবর্তীতে সেটা না মানার কারণে তা শরয়ীভাবে বৈধ জিহাদ থেকে ফিতনাতে রুপান্তরিত হয়েছে?

আশা করি ডঃ সাইফুল্লাহ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবেন। এতে আমরা ও এদেশে আপনার দর্শক-শ্রোতা এই ব্যাপারে সঠিক ধারনা পাবেন ইনশাআল্লাহ।


শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ১ - http://bit.ly/1XCMmCU
শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ২ http://bit.ly/1XYRrFG
শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ৩ http://bit.ly/28WEgjn
শাইখ ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর কাছে প্রশ্ন ৪ http://bit.ly/29XC0vB

abu_mujahid
07-17-2016, 06:34 AM
মাশাআল্লাহ। সব গুলো পর্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছি। যাকারিয়া ভাই, এটা কি আপনার লিখা, না কোন আলিম লিখছেন এটা?

Zakaria Abdullah
07-17-2016, 10:29 AM
মাশাআল্লাহ। সব গুলো পর্ব দেখে মুগ্ধ হয়েছি। যাকারিয়া ভাই, এটা কি আপনার লিখা, না কোন আলিম লিখছেন এটা?

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।

ভাই, এই দূর্বল বান্দাহ লিখার চেষ্টা করতেছি। দরকার মতো একজন ভাই এর সাহায্য নিচ্ছি। দুয়া করবেন, আল্লাহ্* যেন সময় ও শ্রমে বরকত দান করেন।

murabit
07-17-2016, 05:48 PM
মাশাআল্লাহুতায়ালা।

banglar omor
07-17-2016, 11:15 PM
মাশাআল্লাহ, খুব সুন্দর হয়েছে।
জাকারিয়া ভাই ! আপনার প্রশ্নগুলো কি তার কাছে পৌছিয়েছেন?

mohammod bin maslama
07-18-2016, 06:58 AM
আমার পরামর্শ, আমাদের কোন ভাই উনার বকতব্যের যত ভুল আছে সব গুলা ভুল প্রশ্ন আকারে সুন্দর করে টাইপ করে উনার কাছে পাটানো দরকার

mohammod bin maslama
07-18-2016, 08:13 AM
জাকারিয়া ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, ভাই আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি শোন্তেছি বায়তুল মোকাররম এর খতিব নিয়োগ দিবে তারা কাদের কে সিলেক্ট করছে আর কাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।