Announcement

Collapse
No announcement yet.

সংশয় অপনোদন: জিহাদের উদ্দেশ্য কি কাফিরদের হত্যা করা?

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • সংশয় অপনোদন: জিহাদের উদ্দেশ্য কি কাফিরদের হত্যা করা?

    সংশয় অপনোদন: জিহাদের উদ্দেশ্য কি কাফিরদের হত্যা করা?

    মূলত...
    ১. ইক্বদামী (আক্রমণাত্মক) জিহাদ কিংবা ক্বিতালের উদ্দেশ্য কাফিরদের হত্যা করা নয়। বরং আক্রমণাত্মক জিহাদের উদ্দেশ্য ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেয়া।

    ২. কুফর উপস্থিত থাকার কারণে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করা হবে এটা সত্য, তবে তাদের হত্যা করার জন্য নয়। বরং ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে তাদের কুফর যেন দূর করা যায় এই জন্য।

    ৩. কোন জাতির সাথে যুদ্ধের অনুমতি থাকা এবং সে জাতির প্রত্যেকে সদস্যকে হত্যার অনুমতি থাকা এক জিনিস নয়। এই কারণে ইক্বদামী জিহাদ সমস্ত কাফিরদের বিরূদ্ধে হবে। কিন্তু দিফায়ী জিহাদ কেবল আগ্রাসী কাফিরদের বিরূদ্ধে হবে।


    “জিহাদের উদ্দেশ্য কাফিরদের হত্যা করা নয়” এর স্বপক্ষে দলীল -


    দলীল ১. আল্লামা ইবনুস সলাহ (রহঃ) (৬৪৩ হি.) বলেন,


    ان الاصل هو ابقاء الكفار وتقريرهم، لأن الله تعالى ما اراد افناء الخلق ولا خلقهم ليقتلوا، وانما أبيح قتلهم لعارض ضرر وجد منهم، لا ان ذلك جزاء لهم على كفرهم فان دار الدنيا ليست دار جزاء. واذا الامر بهذه المثابة لم يجز ان يقال: ان القتل اصلهم

    "মূলনীতি হচ্ছে কাফিরদের অবশিষ্ট রাখা এবং তাদের বাঁচতে দেয়া। কারণ আল্লাহ তায়ালা তার মাখলুক্বের ধ্বংস চান না, এবং তাদের হত্যা করার জন্য তিনি তাদের সৃষ্টিও করেন নি। তাদের হত্যার বৈধতা তখনই দেয়া হবে, যখন তাদের মাঝে কোন ক্ষতিকর বিষয় পাওয়া যাবে। এই (হত্যার বৈধতা) তাদের কুফরের শাস্তিস্বরূপও দেয়া হয় নি। কারণ দুনিয়া প্রতিদানের জায়গা নয়। বিষয়টি যখন এমনই তখন এ কথা বলাও বৈধ নয় যে, হত্যা করাই তাদের (ব্যাপারে) মূলনীতি।"

    ["ফাতাওয়া ইবনুস সলাহ", ২২৪]


    দলীল ২. হাফিয ইবনুল ক্বাইয়্যিম(রহঃ) (৭৫১ হি.) লিখেন,

    قالوا ولأن القتل إنما وجب في مقابلة الحراب لا في مقابلة الكفر ولذلك لا يقتل النساء ولا الصبيان ولا الزمني والعميان ولا الرهبان الذين لا يقاتلون بل نقاتل من حاربنا . وهذه كانت سيرة رسول الله في أهل الأرض

    হত্যা করা কেবল যুদ্ধের মোকাবেলায় আবশ্যক হয়, কুফরের মোকাবেলায় নয়। একারণেই যুদ্ধ করে না এমন নারী, শিশু, পক্ষাঘাতগ্রস্থ, অন্ধ, সন্ন্যাসীদের হত্যা করা হয় না। বরং আমরা তাদের বিরূদ্ধেই যুদ্ধ করি যারা আমাদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করে। আর এটাই দুনিয়াবাসীর সঙ্গে আল্লাহর রাসুলের ব্যবহার ছিল।”

    ["আহকামু আহলিয যিম্মাহ", ১/১৭]

    দলীল ৩. আল্লামা আল মারগিনানী (রহঃ) (৫৯৩ হি.) হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত “হিদায়াহ” গ্রন্থে লিখেন:

    ولا يقتلوا امرأة ولا صبيا ولا شيخا فانيا ولا مقعدا ولا أعمى لأن المبيح للقتل عندنا هو الحراب ولا يتحقق منهم

    "নারী, শিশু, অতিবৃদ্ধ, পঙ্গু, অন্ধদের হত্যা করা যাবে না কারণ আমাদের কাছে হত্যার বৈধতা দাণকারী হচ্ছে যুদ্ধে অংশগ্রহণ, যা তাদের ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।”

    ["আল হিদায়াহ", ২/৩৮০]

    তিনি আরও লিখেন,

    لأن المبيح للقتل عندنا هو الحراب ولا يتحقق منهم ولهذا لا يقتل يابس الشق والمقطوع اليمنى والمقطوع يده ورجله من خلاف والشافعي رحمه الله تعالى يخالفنا في الشيخ الفاني والمقعد والأعمى لأن المبيح عنده الكفر

    “কারণ আমাদের নিকট হত্যার বৈধতা দাণকারী হচ্ছে যুদ্ধে অংশগ্রহণ, আর এজন্যই একপাশ অচল, ডানহাত কর্তিত, বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কর্তিত কাফিরদের হত্যা করা হয় না। এটা শাফিয়ী (রহঃ) এর বক্তব্যের বিপরীত। কারণ তার কাছে হত্যার বৈধতা দাণকারী হচ্ছে কুফর।”

    ["আল হিদায়াহ", ২/৩৮০]

    এরপর তিনি লিখেছেন,

    ولأن القتال مبيح حقيقة

    “আর যুদ্ধে অংশগ্রহণই হচ্ছে প্রকৃত বৈধতা দাণকারী।


    ["আল হিদায়াহ", ২/৩৮১]


    দলীল ৪. হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা ইবনু হুমাম (রহঃ) (৮৬১ হি.) লিখেন:


    في قوله تعالى: "وقاتلوا المشركين كافة كما يقاتلونكم كافة" فأفاد أن قتالنا المأمور به جزاء لقتالهم ومسبب عنه

    আল্লাহর বাণী (সকল মুশরিকদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করো যেমন তারা তোমাদের বিরূদ্ধে সকলে যুদ্ধ করে) [তাওবা: ৩৬] সুতরাং বোঝা গেল, তাদের বিরূদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করার আদেশ তাদের যুদ্ধের বদলাস্বরূপ এবং এটাই (যুদ্ধের) কারণ।

    ["ফাতহুল ক্বাদীর", ৪/২৭৭-২৭৯]


    দলীল ৫. আল্লামা শিরবিনী (রহঃ) (৯৭৭ হি.) লিখেন:

    إذا المقصود بالقتال إنما هو الهداية وما سواها من الشهادة ، وأما قتل الكفار فليس بمقصود حتى لو أمكن الهداية بإقامة الدليل بغير جهاد كان أولى من الجهاد

    "কিতালের উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবলই হেদায়েত, আর এছাড়াও (আল্লাহর দরবারে) সাক্ষ্যপ্রদাণ। আর কাফিরদের হত্যা কোন উদ্দেশ্য নয়। এমনকি যদি জিহাদ ছাড়াই দলীল প্রমাণের দ্বারা হেদায়েত লাভ সম্ভব হয়, তবে এটা জিহাদের চাইতেও উত্তম।”

    ["মুগনীল মুহতাজ", ৪/১২০]

    দলীল ৬. আল্লামা তাক্বিউদ্দিন আস-সুবক্বি (রহঃ) (৭৫৬ হি.), লিখেছেন:

    وإما قتل الكافر وهو ليس بمقصود أصلا لأن فيه إعدام نفس يرجى إسلامها وإسلام ذريتها، فانقطع هذا الرجاء بموتها على الكفر وليس ذلك بمقصود ولا وسيلة الى المقصود بخلاف الشهادة، وإنما هو ضرورة أدى اليه الحال

    "আর কাফেরদের হত্যা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, কারণ এতে এমন প্রাণ বিনষ্ট হয় যার ইসলাম গ্রহণের আশা ছিল এবং তার বংশধরদের ইসলাম গ্রহণেরও আশা ছিল। আর তাকে হত্যার দ্বারা এই আশা কর্তিত হয়ে যায়। আর এটা কোনভাবেই উদ্দেশ্য নয়, এমনকি উদ্দেশ্য পৌছার মাধ্যমও নয়। এটা সাক্ষ্যপ্রদাণের বিপরীত। বরং (যুদ্ধে কাফেরদের হত্যা করা) একটি প্রয়োজন ও অবস্থার দাবী ছিল।”

    ["ত্ববাক্বাতুশ শাফি’ইয়্যাহ", ১০/২৯৩]

    দলীল ৭. আল্লামা শায়বানী আল হানাফী (রহঃ) লিখেছেন:

    إن الكفر وإن كان من أعظم الجنايات فهو بين العبد وربه جل وعلا ، وجزاء مثل هذه الجناية يؤخر إلى دار الجزاء

    "নিশ্চয়ই কুফর- যদিও তা সবচেয়ে বড় অপরাধ- বান্দা ও তার রবের মাঝে (সীমাবদ্ধ)। আর এমন অপরাধের শাস্তি প্রতিদানের জায়গার (আখিরাহ) জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।"


    ["শারহু সিয়ারিল কাবীর", ৩/১৮২]

    দলীল ৮. ইমাম আস সন’আনী (রহঃ) লিখেছেন:

    فهذه عشر آيات دالة على أن الأمر بالقتال للمشركين ليس علته وسببه مجرد الكفر، وأما السنة فدلت على ذلك بالأقوال والأفعال

    "আর এই দশ আয়াত হচ্ছে এই বিষয়ের দলীল যে, মুশরিকদের বিরূদ্ধে কিতালের কারণ ও মাধ্যম কেবলমাত্র কুফর নয়। আর সুন্নাহ (রাসুলের) কথা ও কাজ দ্বারা এটাই প্রমাণ করে।"


    ["আর-রিসালাহ", ১৬৩]

    “কোন জাতির সাথে যুদ্ধের অনুমতি থাকা এবং সে জাতির প্রত্যেকে সদস্যকে হত্যার অনুমতি থাকা এক জিনিস নয়” বক্তব্যের স্বপক্ষে দলিল।


    ইমাম ইবনু হাজার আল ‘আসক্বালানী (রহঃ) (৮২৫ হি.) লিখেছেন:


    قال ابن دقيق : لا يلزم من إباحة المقاتلة إباحة القتل لأن المقاتلة مفاعلة تستلزم وقوع القتال من الجانبين , ولا كذلك القتل . وحكى البيهقي عن الشافعي أنه قال : ليس القتال من القتل بسبيل , قد يحل قتال الرجل ولا يحل قتله

    "ইবনু দাক্বীক্ব(রহঃ)বলেন: যুদ্ধ করার বৈধতা থাকলে হত্যার বৈধতা থাকা আবশ্যক হয় না। কারণ যুদ্ধ হচ্ছে দুই পক্ষের সম্মিলিত কর্ম, কিন্তু হত্যা করা এমন নয়।” বায়হাক্বী (রহঃ) ইমাম আশ-শাফি’য়ী(রহঃ)থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন – যুদ্ধ আর হত্যা একই জিনিস নয়। কখনো কোন ব্যাক্তির বিরূদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ হলেও তাকে হত্যা করা বৈধ হয় না।"


    ["ফাতহুল বারী", ১/৭৬]


    আল্লাহ আমাকে, আমাদেরকে সহীহ বুঝ দাণ করুন।
    Last edited by Anjem Chowdhury; 07-20-2016, 11:04 AM.

  • #2
    সোজা কথা : আমরা কফিরদেরকে তাদেরে ইসলাম কবুল না করার কারণে অথবা মুজাহিদদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে হত্যা করি । কাফিরদেরকে আমরা হত্যা করতেই থাকবো যতক্ষণ না তারা ইসলাম কবুল না করে অথবা আমরা যখন জিযিয়া নিব তখন আমাদেরকে জিযিয়া না দিবে ।
    কাঁদো কাশ্মিরের জন্য !..................

    Comment


    • #3
      জিহাদের উদ্দেশ্য কখনোই কাফের মারা নয়। বরং আল্লাহর দ্বীনকে বিজয় করা। যেমন কুরবানীর উদ্যেশ্য কখনোই জন্তু জবাই করা নয়। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা। কিন্তু যে জন্তুকে জবাই করা হবে তা এই জন্য নয় যে, তার শিং ভাঙ্গা না বা কোন খুত নেই, তাহলে তো খুত ছাড়া সমস্ত প্রানীই হালাল হয়ে যাবে। বরং তা হালাল কারন হিংস্র না, চতুষ্পদ ইত্যাদি।
      তেমনি জিহাদের উদ্দেশ্য আল্লাহর দ্বীনকে বিজয় করা। কিন্তু হত্যা করা হবে এই জন্য না যে, সে আমার বিরোধ্যে যুধ্যে এসেছে, তাহলে তো খাওয়ারেজরা দলীল পেয়ে যাবে যে হত্যার মূলনীতি যেহেতু যুদ্ধ্ করা তাই আমাদের বিরোধ্যে যারাই আসবে তাদেরকে হত্যা করব। বরং তাকে হত্যা করা হবে কুফুরীর কারণেই। এবং কুরবানীর মধ্যে যেমন শিং ভাঙ্গা না হওয়া শর্ত তেমনি ১২ প্রকারের অন্তরভূক্ত না হওয়া শর্ত।

      যারা বলেন যে, الكافر الغير المعترض للقتال মানে যে কাফের যুদ্ধ্যে অংশগ্রহন করে নাই তাকে ক্বতল হরা যাবে না তাদের কথা কুরানের অনেক আয়াতের সাথে সংঘর্ষিক হয়ে যায়।
      আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ-

      قال تعالى (وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُمْ مِنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّى يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ فَإِنْ قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ كَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ)
      وقال عز وجل (وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً فَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ أَوْلِيَاءَ حَتَّى يُهَاجِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَلَا تَتَّخِذُوا مِنْهُمْ وَلِيًّا وَلَا نَصِيرًا)
      وقال سبحانه (سَتَجِدُونَ آَخَرِينَ يُرِيدُونَ أَنْ يَأْمَنُوكُمْ وَيَأْمَنُوا قَوْمَهُمْ كُلَّ مَا رُدُّوا إِلَى الْفِتْنَةِ أُرْكِسُوا فِيهَا فَإِنْ لَمْ يَعْتَزِلُوكُمْ وَيُلْقُوا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ وَيَكُفُّوا أَيْدِيَهُمْ فَخُذُوهُمْ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأُولَئِكُمْ جَعَلْنَا لَكُمْ عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا مُبِينًا)
      وقال سبحانه (فَإِذَا انْسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآَتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ)

      দেখুন আল্লাহ তায়ালা এখানে সব জায়গায় তাদের সাথে ক্বিতাল নয় বরং ক্বতল করতে বলেছেন যেখানে পাও সেখানেই যেভাবে পাও সে ভাবেই। যদি ক্বিতাল হত তাহলে যারা যুদ্ধ্যে অংশগ্রহ না করবে তাদেরকে হত্যা করা জায়েজ হত না।
      অন্য আয়াতে বলেনঃ-

      قال –تعالى–: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} [سورة التوبة : ٢٩].

      এখানে বলা হচ্ছে জিযিয়া দেয়া পর্যন্ত যোদ্ধ করতে মানে আহলে ক্বিতাবীদেরকে একমাত্র যিজিয়াই বাচাবে, যোদ্ধ্যে অংশগ্রহন না করা নয়। আর মুশরিকদেরকে তো জিযিয়াও নেই হয়ত ঈমান নয়ত কুফুরীর কারণে হত্যা ( ১২ প্রকার না হতে হবে কারণ তাদেরকে দলীলের মাধ্যমে এই হুকুম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে )। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ-

      قال –تعالى–: {… ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ} [سورة التوبة : ٣٦].

      তাদের সম্পূর্ণরূপে হত্যা করতে বলা হয়েছে।

      আল্লাহর নাবী বলেনঃ-


      حديث بريدة – رضي الله عنه- في وصية الرسول – صلى الله عليه وسلم- لمن يؤمره على جيشٍ أو سرية فقال فيما قال: ( اغزوا في سبيل الله، قاتلوا من كفر بالله) [ رواه مسلم/4619]

      এখানে কিত্বাল করতে বলা হয়েছে একমাত্র কুফুরীর কারনে। আল্লাহর নবী বিখ্যাত হাদীসঃ- أمرت أن أقاتل الناس حتي يشهدو ان لا إله إلا الله এখানেও কালীমা পড়া পর্যন্ত হত্যা চালিয়ে যেতে বলেছেন।

      কুরতুবী বলেনঃ-

      قال القرطبي في تفسيره : و المسلم اذا لقي الكافر و لا عهد له جاز قتله (تفسير النساء 94 )
      মুসলিম যদি কোন কাফেরকে দেখে যার সাথে কোন চুক্তি নেই তাকে হত্যা করা যায়েজ।

      ইবনে কাসীর বলেনঃ-


      قال الحافظ ابن كثير "وقد حكى ابن جرير الإجماع على أن المشرك يجوز قتله، إذا لم يكن له أمان، وإن أمَّ البيت الحرام أو بيت المقدس , فإن هذا الحكم منسوخ في حقهم، والله أعلم ..تفسير المائدة 2
      ইবনে জারীর ইজমা উল্ল্যেখ্য করেছেন যে, মুশরিককে হত্যা করা যাবে যদি আমান না থাকে ...... ( মায়েদা -২ )

      ইবনে জারীরের মতঃ-

      قال ابن جرير الطبري "وكذلك أجمعوا على أن المشرك لو قَلَّد عنقه أو ذراعيه لحاء جميع أشجار الحرم، لم يكن ذلك له أمانًا من القتل، إذا لم يكن تقدَّم له عقد ذمة من المسلمين أو أمان"[تفسير الطبري ,سورة المائدة الآية الثانية]
      ইবনে তাইমিয়্যার ফাতওয়াঃ-


      قال ابن تيمية: و لهذا أوجبت الشريعة قتال الكفار ولم توجب قتل المقدور عليهم منهم بل إذا أسر الرجل منهم في القتال أو غير القتال مثل أنْ تلقيه السفينة إلينا أو يضل الطريق أو يؤخذ بحيلةٍ فإنَّه يفعل فيه الإمام الأصلح من قتله أو استعباده أو المنّ عليه أو مفاداته بمالٍ أو نفس عند أكثر الفقهاء, كما دل عليه الكتاب والسنة, [الفتاوى28/355]
      " শরিয়াত কাফের হত্যাকে ওয়াজিব করেছেন, যাকে ধরা হবে তাকে হত্যা আবশ্যক নয়, বরং তাদের কাউকে যদি ময়দান বা ময়দান ছাড়া যেমনঃ- জাহাজ ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে বা রাস্তা ভূলে এসেছে বা অথবা অন্য কোন কৌশলে ইমাম হত্যা, দেশান্তর, ক্ষমা বা জান-মালের মাধ্যমে মুক্তিপণ এর মধ্যে উত্তম যেটা সেটা করার অনুমতি রয়েছে অধিকাংশ উলামাদের মতে। কিতাব ও সুন্নাহতে ইহার দলীল বিদ্যমান।

      দেখুন এখানে কেহই যুদ্ধে অংশগ্রহনের শর্ত তো করছে নাইই বরং না করলেই হত্যার বৈধতা দিচ্ছেন।

      ইবনে তাইমিয়্যাহ আরো বলেনঃ-

      وقال ابن تيمية : (و قد تقدم عن عمر و غيره من الصحابة مثل أبي بكر و ابن عمر و ابن عباس و خالد بن الوليد و غيرهم رضوان الله تعالى عليهم أنهم قتلوا و أمروا بقتل ناقض العهد و لم يبلغوه مأمنه و لأن دمه كان مباحا و إنما عصمته الذمة فمتى ارتفعت الذمة بقي على الإباحة )
      " এবং উমার রাজিঃ ও অন্যান্য সাহাবী যেমন আবী বাকার, ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, খালিদ বিন অয়ালীদ এবং অন্যান্য সাহাবিদের (রিজাওয়ানুল্লা...) থেকে যে, যে তারা ( কাফেরদের মধ্য থেকে ) আ'হাদ বা চুক্তি ভংগ কারীদেরকে হত্যা করেছেন ও হত্যার আদেশ দিয়েছে এবং তারা তাকে আমান দেন নাই, কারণ তার (কাফেরের রক্তের মূলনীতি) রক্ত হচ্ছে হালাল, তার নিরাপত্তা একমাত্র জিম্মাহ ( কুরানের দলীলে )। যখন যিম্মা থাকবে না তখন রক্ত হালালের হুকুমে ফিরে যবে।

      আবু ই'য়ালা বলেনঃ-

      وقال القاضي أبو يعلى
      أن الكافر إذا لم يدفع الجزية عن يد وهو صاغر و لم يقبل بأن تتطبق عليه الاحكام الشرعي فهو ليس معاهد وهو حلال الدم
      কাফের যখন জিযিয়া বা শরিয়ার হুকুম মেনে না নিবে তাহলে সে চুক্তিবুদ্ধ নয়। এবং তখন তাদের সবার বক্ত হালাল। ( ১২ প্রকার ছাড়া )

      ইবনে ক্বুদামা বলেনঃ-

      قال ابن قدامة – رحمه الله- في تقريره لإحدى المسائل: الأصل إباحة دم الكافر وعدم الأمان. [ المغني21\8]

      " মূলনীতি হচ্ছে কাফের রক্ত হালাল। এবং নিরাপদ নয়। "

      ফাতহুল বারীতে ইবনে হাজার বলেন ;-

      وأَيضاً إباحة دم الذمي شبهةٌ قائمةٌ لوجود الكفر المبيح للدم والذمة إنَّما هي عهد عارض منع القتل.[ فتح الباري19/371]
      জিম্মির রক্ত হালালে সন্দেহ বিদ্ধমান রক্তকে হালালকারী কুফুরী পয়া যাওয়ার কারণে, জিম্মা তো আনুসাঙ্গিক চুক্তি যা হত্যাকে বাধা দেয়।

      ইবনে উসাইমীন তার আকীদায়ে অয়াসেতিয়্যাতে বলেনঃ-

      يقول الشيخ ابن عثيمين في شرح العقيدة الوسطية
      و لا يعصم دماء اهل الكتاب الا الذمة او الجزية و الا فالاصل الاباحة ....... فظهر من كلامهم أنَّ العهود العاصمة لدم الكافر إنَّما هي عارضةٌ والأصل عدمها، وإذا عدمت عدم ما يترتب عليها وهو عصمة الدم، فيكون الأصل إباحة دم الكافر، وأما عصمة دمه فحالةٌ عارضةٌ لعروض العهد الذي نقصده.أ.هـ
      আহলে কিতাবী জিম্মি বা জিযিয়া কন কাফেরের রক্তই নিরাপদ নয় মূলনীতি হচ্ছে হালাল। ......... ( উপরের কিছু দলীল উল্ল্যেখ্য করে ) ( ফুকাহাদের) কথার দ্বারা বুঝে আসে যে, কাফেরের রক্ত নিরাপদ কারী চুক্তি সমূহ আনুসাঙ্গিক মুল হচ্ছে নিরাপদ না হওয়া। সুতরাং যখন রক্তকে নিরাপদ কারী কোন জিনিস পাওয়া না যবে তখন মূলনিতি হচ্ছে তার রক্ত প্রবাহিত করা হালাল। তার রক্তের নিরাপত্তা সাময়িক অবস্থ্যা যা সাময়িক চুক্তির কারণে এসে থাকে।

      ইবনে কায়্যিম বলেনঃ-

      قال ابن القيم رحمه الله,وفيه: الكفار إما أهل حرب وإما أهل عهد

      কাফের হয়ত আহলে হারব না হয় চুক্তি বদ্ধ।

      মুহরাম আখি, আপনি যে غير معرض নামের এরেকটা প্রকার বের করছে এটা কিন্তু তারা কেহই বলেন নি।

      ইমাম সারাখসী বলেনঃ-


      يقول الامام ابو بكر السرخسي في شرح السير الكبير (4/50 وما بعدها )
      " قَالَ : لَا يَنْبَغِي أَنْ يُقْتَلَ النِّسَاءُ مِنْ أَهْلِ الْحَرْبِ وَلَا الصِّبْيَانُ وَلَا الْمَجَانِينُ وَلَا الشَّيْخُ الْفَانِي..."
      إلى أن قال:
      "وَإِنَّمَا حَرُمَ قَتْلُهُمْ لِتَوْفِيرِ الْمَنْفَعَةِ عَلَى الْمُسْلِمِينَ ، أَوْ لِانْعِدَامِ الْعِلَّةِ الْمُوجِبَةِ لِلْقَتْلِ ، وَهِيَ الْمُحَارَبَةُ ، لَا لِوُجُودِ عَاصِمٍ أَوْ مُقَوِّمٍ فِي نَفْسِهِ ، فَلِهَذَا لَا يَجِبُ عَلَى الْقَاتِلِ الْكَفَّارَةُ وَالدِّيَةُ ، وَإِلَى هَذَا أَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ فِي حَدِيثٍ بِقَوْلِهِ : ** هُمْ مِنْهُمْ } يَعْنِي أَنَّ ذَرَارِيَّ الْمُشْرِكِينَ مِنْهُمْ ، فِي أَنَّهُ لَا عِصْمَةَ لَهُمْ وَلَا قِيمَةَ لِذِمَّتِهِمْ"
      (انتهى)
      মুল অংশঃ- নারী শিশুদের হত্যা করা হবে না যুধ্যের সামরথ না থাকার কারণে। এই নয় যে তাদের রক্তকে ( কুফুরীর কারণে যেই বৈধ ছিল ) নিরাপদ কারী কোন জিনিস পাওয়া গেছে।

      এর দ্বারা স্পষ্ট যে কুফুরীর কারনে সবার রক্ত বৈধ। ১২ প্রকারকে আলাদা করা হয়েছে ভিন্ন সাময়িক কারণে।

      সারিমুল মাসলূলে বলেনঃ

      وأيضا يقول: (وذلك ان الكافر قد ثبت المبيح لدمه وهو الكفر وانما عصمه العهد).
      কাফেরের রক্ত হালাকারী হচ্ছে কুফুর , নিরাপত্তা হচ্ছে চুক্তি।

      বুখারীতে আছেঃ-

      جاء في البخاري (4982) عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ كَانَ الْمُشْرِكُونَ عَلَى مَنْزِلَتَيْنِ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمُؤْمِنِينَ كَانُوا مُشْرِكِي أَهْلِ حَرْبٍ يُقَاتِلُهُمْ وَيُقَاتِلُونَهُ وَمُشْرِكِي أَهْلِ عَهْدٍ لَا يُقَاتِلُهُمْ وَلَا يُقَاتِلُونَهُ
      নবীর জামানায় মুশরকরা দুই প্রকারই ছিল আহলে হারব বা (চুক্তিবদ্ধ নয়) যাদের সাথে যুদ্ধ হত। আর চুক্তি ব্দধ যাদের সাথে যুদ্ধ হত না।

      আরো কিছু দলীলঃ-


      جاء في كتاب أحكام القرآن لإبن العربي (1/154)ما يلي:



      الْمَسْأَلَةُ الثَّالِثَةُ : أَنَّ سَبَبَ الْقَتْلِ هُوَ الْكُفْرِ بِهَذِهِ الْآيَةِ ; لِأَنَّهُ تَعَالَى قَالَ ** حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ } ; فَجَعَلَ الْغَايَةَ عَدَمَ الْكُفْرِ نَصًّا , وَأَبَانَ فِيهَا أَنَّ سَبَبَ الْقَتْلِ الْمُبِيحَ لِلْقِتَالِ الْكُفْرُ .

      وَقَدْ ضَلَّ أَصْحَابُ أَبِي حَنِيفَةَ عَنْ هَذَا , وَزَعَمُوا أَنَّ سَبَبَ الْقَتْلِ الْمُبِيحَ لِلْقِتَالِ هِيَ الْخَرْبَةُ , وَتَعَلَّقُوا بِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ** : وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ } وَهَذِهِ الْآيَةُ تَقْضِي عَلَيْهَا الَّتِي بَعْدَهَا ; لِأَنَّهُ أَمَرَ أَوَّلًا بِقِتَالِ مَنْ قَاتَلَ , ثُمَّ بَيَّنَ أَنَّ سَبَبَ قِتَالِهِ وَقَتْلِهِ كُفْرُهُ الْبَاعِثُ لَهُ عَلَى الْقِتَالِ , وَأَمَرَ بِقِتَالِهِ مُطْلَقًا مِنْ غَيْرِ تَخْصِيصٍ بِابْتِدَاءِ قِتَالٍ مِنْهُ .

      فَإِنْ قِيلَ : لَوْ كَانَ الْمُبِيحُ لِلْقَتْلِ هُوَ الْكُفْرُ لَقُتِلَ كُلُّ كَافِرٍ وَأَنْتَ تَتْرُكُ مِنْهُمْ النِّسَاءَ وَالرُّهْبَانَ وَمَنْ تَقَدَّمَ ذِكْرُهُ مَعَهُمْ .

      فَالْجَوَابُ : أَنَّا إنَّمَا تَرَكْنَاهُمْ مَعَ قِيَامِ الْمُبِيحِ بِهِمْ لِأَجْلِ مَا عَارَضَ الْأَمْرَ مِنْ مَنْفَعَةٍ أَوْ مَصْلَحَةٍ : أَمَّا الْمَنْفَعَةُ فَالِاسْتِرْقَاقُ فِيمَنْ يُسْتَرَقُّ ; فَيَكُونُ مَالًا وَخَدَمًا , وَهِيَ الْغَنِيمَةُ الَّتِي أَحَلَّهَا اللَّهُ تَعَالَى لَنَا مِنْ بَيْنِ الْأُمَمِ .

      وَأَمَّا الْمَصْلَحَةُ فَإِنَّ فِي اسْتِبْقَاءِ الرُّهْبَانِ بَاعِثًا عَلَى تَخَلِّي رِجَالِهِمْ عَنْ الْقِتَالِ فَيُضْعِفُ حَرْبَهُمْ وَيُقِلُّ حِزْبَهُمْ فَيَنْتَشِرُ الِاسْتِيلَاءُ عَلَيْهِمْ .


      وايضا في المغتي لابن قدامة (8/348-352) ذكر شروط الجهاد ومنها بلوغ الدعوة للكفار ولم يذكر علة المقاتلة والممانعة

      -وفي شرح القدير لابن الهمام (5/441-458) قتال الكفار واجب وإن لم يبدؤا...

      الموسوعة الفقهية ص 104 / حرف الألف / أهل
      أهل الحرب
      أهل الحرب أو الحربيون : هم غير المسلمين الذين لم يدخلوا في عقد الذمة ,
      ولا يتمتعون بأمان المسلمين ولا عهدهم .

      الموسوعة الفقهية ص 108
      الحربي غير المعاهد مهدر الدم والمال

      كشاف القناع عن متن الإقناع ص 107 / المغني لابن قدامة
      الأصل إباحة دم الحربي

      البخاري عن عطاء عن ابن عباس قال : قال ابن عباس : كان رجل في غنيمة له فلحقه المسلمون فقال : السلام عليكم ، فقتلوه وأخذوا غنيمته ؛ فأنزل الله تعالى ذلك إلى قوله : عرض الحياة الدنيا تلك الغنيمة

      دل هذا على ان الرجل اللي في حاله لو كان كافرا لجاز قتله ( مع انه مسالم ) لانه لا عهد له و لا امان ..و انما وقع العتاب على قتله لاحتمال كونه مؤمنا حيث قال السلام عليكم لا لعصمة دم الكافر كما قال بذلك كثير من الهلماء

      পূর্বের দলীল সমূহ থেকে বুঝা গেল যে, তাদেরকে হত্যার কারণ কুফুরী। যদি তা না হত তাহলে চুক্তিবদ্ধ, জিম্মি বা ১২ প্রকার ভাগ না করে শুধু বলে দিলেই হত যে, যারা শুধু যুদ্ধে অংশগ্রহন করবে তাদেরকে হত্যা করা হবে বাকিদেরকে নয়।

      আপনার একটা কথার উত্তরই অনেক বড় হয়ে গেল, বাকি গুলো ইংশাআল্লাহ সামনে আসছে।
      মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব
      রোম- ৪৭

      Comment


      • #4
        ভাই, কাফিরদের কুফরির কারণে হত্যা করা হবে না। এসম্পর্কে আমি পর্যাপ্ত দলীল দিয়েছি। আপনি যে বক্তব্যগুলো উল্লেখ করেছেন - সেখানে কোথাও একথা বলা নেই, কাফিরকে কুফরির কারণে হত্যা করা হবে। সুতরাং অন্যের মুখে নিজের কথা বসানোর চেষ্টা না করাই ভাল হবে। আপনি বরং আমার পোস্টে উল্লিখিত ফুকাহাদের মতকে খণ্ডন করুন। আমার মতকে নয়। কাফিরের রক্ত হালালকারী কুফর নাকি ক্বিতালে অংশগ্রহণ সেসম্পর্কে উলামাদের ইখতেলাফ আছে। আর জুমহুরের মতও আমি উল্লেখ করেছি কাফিরের রক্তের বৈধতাদাণকারী হচ্ছে ক্বিতালে অংশগ্রহণ। তর্কের খাতিরে নাহয় ধরলাম, কাফিরের রক্ত হালালকারী হল কুফর। কিন্তু কোন আলেম বলেছেন, কাফেরকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে?
        -
        আপনি শুধু একটা ক্বওল দেখান যেখানে লেখা আছে, কাফিরকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে। ব্যস, তর্ক শেষ হয়ে যাবে।
        -
        আপনি আসলে তালগোল পাকিঁয়ে ফেলেছেন। কারো রক্তের বৈধতা থাকা মানে তাকে হত্যা করার অনুমতি নয়। ঠিক তেমনি কারো সাথে যুদ্ধের অনুমতি থাকা, তাকে হত্যার অনুমতি নয়।
        -
        আর নিজের মত প্রমাণের জন্য আলেমদের বক্তব্যের ভুল অনুবাদ করাও আমানতদারিতার পরিচয় নয়।
        ইবনে তাইমিয়্যার ফাতওয়াঃ-

        قال ابن تيمية: و لهذا أوجبت الشريعة قتال الكفار ولم توجب قتل المقدور عليهم منهم بل إذا أسر الرجل منهم في القتال أو غير القتال مثل أنْ تلقيه السفينة إلينا أو يضل الطريق أو يؤخذ بحيلةٍ فإنَّه يفعل فيه الإمام الأصلح من قتله أو استعباده أو المنّ عليه أو مفاداته بمالٍ أو نفس عند أكثر الفقهاء, كما دل عليه الكتاب والسنة, [الفتاوى28/355]
        " শরিয়াত কাফের হত্যাকে ওয়াজিব করেছেন, যাকে ধরা হবে তাকে হত্যা আবশ্যক নয়, বরং তাদের কাউকে যদি ময়দান বা ময়দান ছাড়া যেমনঃ- জাহাজ ভাসিয়ে নিয়ে এসেছে বা রাস্তা ভূলে এসেছে বা অথবা অন্য কোন কৌশলে ইমাম হত্যা, দেশান্তর, ক্ষমা বা জান-মালের মাধ্যমে মুক্তিপণ এর মধ্যে উত্তম যেটা সেটা করার অনুমতি রয়েছে অধিকাংশ উলামাদের মতে। কিতাব ও সুন্নাহতে ইহার দলীল বিদ্যমান।
        أوجبت الشريعة قتال الكفار এর অর্থ "শরীয়াহ কাফেরদের বিরূদ্ধে যুদ্ধকে আবশ্যক করেছে।" আর আপনি লিখেছেন "হত্যা করাকে"!!
        -
        আপনার আর কিছু লাগবে না, শুধু একটা ক্বওল উল্লেখ করেন যেখানে বলা হয়েছে - কাফিরদেরকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে।
        -
        এর বিপরীতে আমি অসংখ্য ক্বওল উল্লেখ করেছি, যেখানে ফুকাহারা স্পষ্ট বলেছেন, "কাফিরকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে না।" সুতরাং আপনি যদি "কাফিরদেরকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে" কথাটি দেখাতে না পারেন, তবে আপনার সমস্ত প্রচেষ্টাই অনুমান নির্ভর গণ্য হবে।
        -
        আর আমাকে মডারেটির/এডমিনরা বার বার আটকে দিচ্ছে। বার বার লগ ইন করা লাগছে। তাই আমি এই একাউন্টে আর কথা বলব না। আপনারা আলিম মানুষ। আমি জেনারেল লাইনের। খুব ভাল হয় আপনারা বড় বড় আলিমদের সাথে কথা বলুন। যাদের মাদ্রাসায় পড়ে আলিম হয়েছেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন।

        Comment


        • #5
          মাশাআল্লাহ, আপনাদের দুই জনেরই আলোচনা বাকীদেরকে উৎসাহ দিবে। তাই, আপনারা চালিয়ে যান ইনশাআল্লাহ।

          একটা কথা সবাইকে মনে করিয়ে দেয়া জরুরী মনে করছিঃ আলোচনার এই বিষয়টা অর্থাৎ কাফিরদের রক্তের আসল হুকুম কি? শুধু কুফরের কারণে তাকে হত্যা করা যাবে কিনা?
          এই পুরো আলোচনাটা কিছুটা থিওরিটিকাল আলোচনা। বর্তমানে মুজাহিদীনরা যত কাফিরদের সাথে জিহাদ করছেন, সবাই হারবী কাফির। তারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত। এটা একটা পরিষ্কার বিষয় ইনশাআল্লাহ। আর হারবি কাফিরদের রক্তের হুকুমের ব্যাপারে সবাই একমত মন হচ্ছে।

          এই মাসয়ালা ও জিহাদের অন্যান্য সকল মাসয়ালায় আমরা একটা মূলনীতি অনুসরণ করা দরকার মনে করছি।

          তা হলোঃ যে কোন মাসয়ালায় যদি পূর্বসুরী আলেমদের ইখতিলাফ থাকে, তাহলে ইখতিলাফপূর্ন মাসয়ালায় আমরা ঐ ইজতিহাদ এর উপর আমল করতে হবে, যে ইজতিহাদকে আমীরুল জিহাদ অথবা জিহাদী জমায়াত অনুসরণ করতেছে। না হলে, যে কোন তানজীম অগ্রসর হতে পারবে না। একেক সদস্য একই বিষয়ে একেকটা ইজতিহাদকে উত্তম মনে করে নিজের মতো আমল করতে থাকবে। যা তানজীমের মুল ভিত্তিকেই অস্বীকার করার সামিল।

          তাই এখন ভাইদের কাছে অনুরোধ, আগে আপনারা খুজে দেখেনঃ

          ১। আসলে এটা ইখতিলাফী মাসয়ালা কিনা?

          ২। যদি ইখতেলাফী মাসয়ালা হয়, তাহলে আমীরুল জিহাদ কোন ইজতিহাদকে অনুসরণ করছেন?

          ২ নম্বর পয়েন্টের ক্ষেত্রে আরেকটু সহজ করা যায়ঃ

          ক) যে কোন ইখতেলাফী মাসয়ালার ক্ষেত্রে মুজাহিদ উলামাগণ কোন ইজতিহাদকে প্রাধান্য দিচ্ছেন? যদি মুজাহিদ উলামাগণ একই মতের উপরে থাকেন, তাহলে আমরা সেটার উপর আ'মল করতে পারি ইনশাআল্লাহ।

          খ) আর উক্ত মাসয়ালায় মুজাহিদ উলামাদের মধ্যেও ইখতিলাফ হয়ে থাকলে, আমীরুল জিহাদ যে মতের উপর আমল করছেন, আমরা সেটা নিতে পারি ইনশাআল্লাহ।


          আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলের জন্য সহজভাবে দ্বীনের উপর, যথাযথভাবে আল্লাহর শরীয়াতের উপর আ'মল করার তাউফিক দান করুন।

          Comment


          • #6
            ১. কাফিরের রক্তের আস্*ল কি এটা আসলেই ইখতিলাফি মাসআলা। জুমহুরের মতে যুদ্ধে অংশ নিলেই তার রক্ত হালাল হয়, আর বাকীদের মতে কুফরের কারণেই তার রক্ত হালাল।

            ২. কিন্তু কাফিরকে কেবল কুফরের কারণেই হত্যা করা হবে, এর পক্ষে আজ পর্যন্ত কোন ফক্বীহ বলেন নি। তাই এই বিষয়ে কোন ইখতিলাফ নেই। তাই আমি রাস্তায় এক বৌদ্ধকে পেলাম, ব্যস তাকে হত্যা করে ফেললাম, অথচ সে মুসলিমদের বিরূদ্ধে কখনো যুদ্ধ করে নি, এটা সম্পূর্ণ হারাম। রাসুল সাঃ সারা জীবনে বহু কাফিরের সাথে মেলামেশা করেছেন, একটা উদাহরণ পারলে কেউ দেখাক- যেখানে যুদ্ধে অংশ নেয় নি, এমন কোন কাফিরকে তিনি হত্যা করেছেন।

            ৩. কাফিররা আমাদের নারী-শিশু হত্যা করলেও আমরা তাদের নারী-শিশু হত্যা করতে পারব না। এটাও ইখতিলাফী মাসআলা। কারণ এর মূল ইখতিলাফ হচ্ছে ১ নং পয়েন্টে। যারা বলেন পারব, তাদের দলীল হচ্ছে- তারা কাফির, তাই তাদের রক্ত হালাল। আর যারা বলেন, পারব না। তাদের দলিল হচ্ছে- তারা যুদ্ধে অংশ নেয় না, তাই তাদের রক্ত হালাল নয়। ২য় পক্ষের কাছে রাসুল সাঃ এর মারফু' হাদীস আছে। কিন্তু ১ম পক্ষের কাছে ইজতিহাদ ছাড়া কিছুই নেই। আল্লাহর রাসুল সাঃ বলেন, وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - رَأَى امْرَأَةً مَقْتُولَةً فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ, فَأَنْكَرَ قَتْلَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ.
            مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
            রাসুল সাঃ তাঁর এক যুদ্ধে একটি নিহত নারীর লাশ দেখলেন। অতঃপর তিনি কঠোরভাবে নারী এবং শিশু হত্যা করতে নিষেধ করলেন। বুখারী ৩০১৪, মুসলিম ১৭৭৪

            Comment


            • #7
              আচ্ছা আঞ্জেম চৌধুরি ভাই আপনি এক বিষয়ের জন্য প্রতিদিন একটা করে থ্রেড খুলতেসেন কেন যখন একটা থ্রেডে আলোচনা করা যায় এবং সেটা ফলো করাও সহজ? আর আপনাকে এক ভাই তো খুব সুন্দর একটা নীতি দিল। আপনি এটা ক্লিয়ার করলেই তো এতো কথা আর থ্রেড খোলা লাগে না। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন সোজাসুজি বলেন - যদি ইখতিলাফি মাসালাতে একটা অবস্থানকে বাতিল মনে করেন তবে আপনি আলবানীর মতো বই লিখে দুনিয়ার আলেমদের কাছে পাঠান। যদি মনে করেন জায়েজ মতপার্থক্য তাহলে এটা নিয়ে এতো আলোচনার কিছু নাই, তানযীমের অবস্থান ফলো করেন। যদি মনে করেন বাতিল অবস্থান তাহলে আর আল-কায়েদার অবস্থানকে আপনি বাতিল মনে করলে সরাসরি বলেন, কারন আপনি যে অবস্থানকে বাতিল বলসেন সেটা শায়খ জাওয়াহিরি থেকে শুরু করে শায়খ আবু ক্বাতাদার অবস্থান। আপনার অবস্থান আপনি ক্লিয়ার করেন, এবং এক জায়গায় আলোচনা করেন এতে সবার জন্যই সময় ও বাঁচে সহজও হয়। তা না করে আপনি নিত্যনতুন থ্রেড খুলতেসেন এবং প্রতিদিন একেক দিকে কথা নিয়ে যাচ্ছেন। এটা কেন?

              Comment


              • #8
                সোজাভাবে, হারবী কাফিরদের বেসামরিক লোকদেরকে(নারী-পুরুষ) যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই তাদেরকে হত্যা করা যাবে কি না ? - এ প্রশ্নের উত্তর থেকেই সকল সংশয় আশা করি ক্লিয়ার হওয়া সম্ভব ।

                Comment


                • #9
                  আপনি শুধু একটা ক্বওল দেখান যেখানে লেখা আছে, কাফিরকে কুফরের কারণে হত্যা করা হবে। ব্যস, তর্ক শেষ হয়ে যাবে।
                  এই দলীল গুলো দেখুনঃ-

                  কুরতুবী বলেনঃ-

                  قال القرطبي في تفسيره : و المسلم اذا لقي الكافر و لا عهد له جاز قتله (تفسير النساء 94 )
                  মুসলিম যদি কোন কাফেরকে দেখে যার সাথে কোন চুক্তি নেই তাকে হত্যা করা যায়েজ।

                  ইবনে কাসীর বলেনঃ-


                  قال الحافظ ابن كثير "وقد حكى ابن جرير الإجماع على أن المشرك يجوز قتله، إذا لم يكن له أمان، وإن أمَّ البيت الحرام أو بيت المقدس , فإن هذا الحكم منسوخ في حقهم، والله أعلم ..تفسير المائدة 2
                  ইবনে জারীর ইজমা উল্ল্যেখ্য করেছেন যে, মুশরিককে হত্যা করা যাবে যদি আমান না থাকে ...... ( মায়েদা -২ )

                  ইবনে জারীরের মতঃ-

                  قال ابن جرير الطبري "وكذلك أجمعوا على أن المشرك لو قَلَّد عنقه أو ذراعيه لحاء جميع أشجار الحرم، لم يكن ذلك له أمانًا من القتل، إذا لم يكن تقدَّم له عقد ذمة من المسلمين أو أمان"[تفسير الطبري ,سورة المائدة الآية الثانية]
                  ইবনে তাইমিয়্যাহ আরো বলেনঃ-

                  وقال ابن تيمية : (و قد تقدم عن عمر و غيره من الصحابة مثل أبي بكر و ابن عمر و ابن عباس و خالد بن الوليد و غيرهم رضوان الله تعالى عليهم أنهم قتلوا و أمروا بقتل ناقض العهد و لم يبلغوه مأمنه و لأن دمه كان مباحا و إنما عصمته الذمة فمتى ارتفعت الذمة بقي على الإباحة )
                  " এবং উমার রাজিঃ ও অন্যান্য সাহাবী যেমন আবী বাকার, ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, খালিদ বিন অয়ালীদ এবং অন্যান্য সাহাবিদের (রিজাওয়ানুল্লা...) থেকে যে, যে তারা ( কাফেরদের মধ্য থেকে ) আ'হাদ বা চুক্তি ভংগ কারীদেরকে হত্যা করেছেন ও হত্যার আদেশ দিয়েছে এবং তারা তাকে আমান দেন নাই, কারণ তার (কাফেরের রক্তের মূলনীতি) রক্ত হচ্ছে হালাল, তার নিরাপত্তা একমাত্র জিম্মাহ ( কুরানের দলীলে )। যখন যিম্মা থাকবে না তখন রক্ত হালালের হুকুমে ফিরে যবে।
                  এখানে শুধু রক্ত হালাল নয় বরং হত্যা করার কথাও বলা হচ্ছে।

                  আর আমাকে মডারেটির/এডমিনরা বার বার আটকে দিচ্ছে। বার বার লগ ইন করা লাগছে। তাই আমি এই একাউন্টে আর কথা বলব না।
                  দুঃখিত ভাই, ভাই তারা আপনাকে আটকে দিচ্ছেন না, বরং আপনার ফোরামে লগইন করতে ভূল হচ্ছে। আপনি হয়ত ছোট্ট খালী ঘরটায় টিক চিহ্ন দিচ্ছেন না বা ব্রাউজার আপডেট করা না।
                  আর ভাই আপনি জানেন কি না জেনে ও বুঝে কাউকে আপবাদ দেয়ার হুকুম কি ?
                  আপনার সাহয্যারথে বলছি সেটা হারাম।
                  মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব
                  রোম- ৪৭

                  Comment


                  • #10
                    ভাইরা আপনারা একটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ করুন, আপনারা একজন আরেকজনের উপর রাগ করে কথা বলছেন কেন? এখানে তো অনেক সাধারণ মানুষ আসে তারা যদি আমাদের এই হালত দেখে তাহলে কি বলবে?
                    আপনারা আলিম মানুষ। আমি জেনারেল লাইনের। খুব ভাল হয় আপনারা বড় বড় আলিমদের সাথে কথা বলুন। যাদের মাদ্রাসায় পড়ে আলিম হয়েছেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন।
                    এই কথার মাঝে রাগ পাওয়া যায় এবং এই কথাটি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়............
                    দ্বীনকে আপন করে ভালোবেসেছে যারা,
                    জীবনের বিনিময়ে জান্নাত কিনেছে তারা।

                    Comment


                    • #11
                      আঞ্জেম ভাই, আমার কোন কথায় কষ্ট মাফ করবেন।
                      Last edited by আবু মুহাম্মাদ; 07-20-2016, 06:49 PM.
                      মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব
                      রোম- ৪৭

                      Comment


                      • #12
                        ১। আসলে এটা ইখতিলাফী মাসয়ালা কিনা?
                        হা ভাই এটা ইখতিলাফী মাসয়ালা। কিন্তু আঞ্জেম ভাই যে ভাবে ব্যক্ষ্যা করেছেন সে রকম নয়। উনি বলেছেন যোদ্ধে অংশগ্রহন আর উনার গত সব পোস্টের কথাও এটাই।

                        আঞ্জেম ভাইয়ের কথাঃ-
                        ১. কাফিরের রক্তের আস্*ল কি এটা আসলেই ইখতিলাফি মাসআলা। জুমহুরের মতে যুদ্ধে অংশ নিলেই তার রক্ত হালাল হয়, আর বাকীদের মতে কুফরের কারণেই তার রক্ত হালাল।
                        বরং ইখতিলাফটা হচ্ছেঃ-
                        جاء في الموسوعة الفقهية 138-139
                        ومقصود الجهاد هو دعوة الناس وادخالهم الى الاسلام من غير اكراه واخضاعهم لحكم الاسلام .

                        وسبب القتال هو الكفر وهذا لا خلاف فيه ،، فالمسلم لا يقاتل .

                        واختلف الفقهاء في سبب القتل هل هو مجرد الكفر وهو رأي الشافعي وابن حزم أو هو الكفر بشرط اطاقة القتال هو رأي الجمهور .......

                        واتفقوا على عدم قتل النساء والذراري واختلفوا في غيرهم من الذي لا يطيق القتال
                        জিহাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে দাওয়াহ দেয়া ও এবং বাধ্য করা ছারাই তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করানো ও এবং তাদেরকে ইসলামের হুকুমের সামনে মাথা নত করানো।
                        আর ক্বিতালের কারণ হচ্ছে একমাত্র কুফুর, এতে কোন ইখতিলাফ নেই। ... কোন মুসল্মানের সাথে ক্বিতাল নেই।
                        হত্যার কারণ শুধুই কুফুর কিনা তাতে ফুক্বাহারা দ্বিমত করেছেন। শাফী ও ইবনে হাজাম বলেন শুধুই কুফুর আর জামহুরের মতঃ- কুফুর কিন্তু ক্বিতালের সামরথ থাকা লাগবে।
                        মহিলা ও শিশু হত্যা না করার ব্যপারে তারা একমত, কিন্তু অন্যদের ব্যপারে ইখতিলাফ আছে।
                        অবাক !!!

                        আমি রাস্তায় এক বৌদ্ধকে পেলাম, ব্যস তাকে হত্যা করে ফেললাম, অথচ সে মুসলিমদের বিরূদ্ধে কখনো যুদ্ধ করে নি, এটা সম্পূর্ণ হারাম। রাসুল সাঃ সারা জীবনে বহু কাফিরের সাথে মেলামেশা করেছেন, একটা উদাহরণ পারলে কেউ দেখাক- যেখানে যুদ্ধে অংশ নেয় নি, এমন কোন কাফিরকে তিনি হত্যা করেছেন।
                        ভাই আশ্চর্য হলাম আপনি ষোল বছর আগের ঝামেলাকে আবার টেনে আনছেন !!! আপনি দলীল চাচ্ছে ৯/১১ এর মোবারক হামলায় যারা যুদ্ধ্যে অংশগ্রহনকারী ছিল না তাদেরকে হত্যা বৈধ হয় নি !!! কুফুর বিশ্বে চালানো তাদের শত হামলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন !!!
                        আমাদের দাবী হচ্ছে শুধু কমব্যট নয় বরং নন-কমব্যট মানে শুধু যুদ্ধ্যে অংশগ্রহন কারী নয় বরং যে সমস্ত কুফফারদের যুদ্ধ্যের শক্তি আছে (১২ প্রকার ছাড়া) সবাইকে পাইকারী হত্যা করা জায়েজ। যেখানে পাও সেখানেই।

                        আমাদের দলীলঃ-

                        আপনার কথাঃ
                        সে মুসলিমদের বিরূদ্ধে কখনো যুদ্ধ করে নি, এটা সম্পূর্ণ হারাম। রাসুল সাঃ সারা জীবনে বহু কাফিরের সাথে মেলামেশা করেছেন, একটা উদাহরণ পারলে কেউ দেখাক- যেখানে যুদ্ধে অংশ নেয় নি, এমন কোন কাফিরকে তিনি হত্যা করেছেন।
                        ১/ আল্লাহর নবীর হাদিসঃ-

                        فَرَدَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُكْمَ فِيهِمْ إِلَى سَعْدٍ؛ قَالَ: فَإِنِّي أَحْكُمُ فِيهِمْ أَنْ تُقْتَلَ الْمُقَاتِلَةُ،

                        রাসূল বানু কুয়ারাইযার ফায়সালা সাইদের কাছে ন্যস্ত করলেন, আর তিনি তাদের সমস্ত পুরুষকে হত্যার আদেশ দিলেন।

                        আল্লাহু আকবার ! এখানা সাহাবার যাদের চুল গজিয়েছে তাদের সবাইকে হত্যা করেছেন। এটা চিন্তা করেন নি যে সে কখনো যুদ্ধ্য করেছে কিনা ? বা তাদের নেতা যে গাদ্দারী করেছে তার সাথে একমত কিনা ?

                        ২/ হানাফী ফক্বিহ কাসানী রাহিঃ বলেনঃ-

                        ويقول الكاساني رحمه الله: (وَالْأَصْلُ فِيهِ أَنَّ كُلَّ مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْقِتَالِ يَحِلُّ قَتْلُهُ، سَوَاءٌ قَاتَلَ أَوْ لَمْ يُقَاتِلْ، وَكُلُّ مَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ أَهْلِ الْقِتَالِ لَا يَحِلُّ قَتْلُهُ إلَّا إذَا قَاتَلَ حَقِيقَةً أَوْ مَعْنًى بِالرَّأْيِ وَالطَّاعَةِ وَالتَّحْرِيضِ). أ.ه
                        بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع، ص 101\7.

                        " মূলনীতি হচ্ছেঃ- যারাই আহলে ক্বিত্বাল ( মানে যুদ্ধ্য করে বা তার শক্তি আছে ১২ প্রকার ছাড়া ) তাদেরকে হত্যা করা জায়েজ। চাই সে যুদ্ধ করুক বা নাই করুক। আর যারা আহলে ক্বিতাল নয় তাদেরকে হত্যা করা হবে না তবে যদি সরাসরি যুদ্ধ্য করে বা বুদ্ধি, চেষ্টা এবং উদ্ভুদ্ধ করে যদি সাহায্য করে তাহলে তাকেও হত্যা করে হবে।

                        মূল কথাঃ- আমাদের দাবী শুধু কমব্যট নয় বরং নন-কমব্যট মানে শুধু যুদ্ধ্যে অংশগ্রহন কারী নয় বরং যে সমস্ত কুফফারদের যুদ্ধ্যের শক্তি আছে (১২ প্রকার ছাড়া) সবাইকে পাইকারী হত্যা করা জায়েজ।

                        আর আপনার দাবীঃ- যুদ্ধ্যে অংশগ্রহন করা শর্ত অন্যদের শক্তি থাকলেও মারা যাবে না। যেমনঃ- ( যুদ্ধ্যের শক্তি থাকা ও ১২ প্রকারের অন্তরভুক্ত না হওয়া স্বত্বেও) বৌদ্ধকে হত্যা, গুলশানে পুরুষ হত্যা ( খাওয়ারেজ কুকুররা ব্বংশ হোক) ইত্যাদি। আপনি স্পষ্ট করে শুধু এটার দলীলই আনুন যে, হিরাব দ্বারা শুধু যুদ্ধ্যে অংশগ্রহনই উদ্ধ্যেশ। যাদের যুদ্ধ্যে শক্তি ও সমর্থন আছে (১২ প্রকার ছাড়া) তাদেরকে হত্যা বৈধ নয়।

                        ব্যস !!! অন্য দিকে না ঘুরিয়ে এর উত্তর পেলেই খুশি হব।

                        আর নারী শিশুর ব্যপারেঃ- আপনার সাথে আমি একমত।

                        abu anwar hindi ভাই লিখেছেন তাদের হত্যা করা ঠিক আছে। ফেসবুকের হানীন ইলদারম বলছে, কাফিরদের নারী-শিশু হত্যা ঠিক হয়েছে। জঙ্গীর সাথে কথোপকথন পেজ বলছে, ঠিক হয়েছে। base in the land of bengal বলছে ঠিক হয়েছ।
                        আপনার মনে হয় জানা নেই, আত তিবইয়ান প্রকাশনী থেকে নারী-শিশুদের হত্যা জায়েয প্রমাণ করে একটি বেনামী (লেখকের নাম নেই) বইও বের হয়েছে।
                        শায়খ আবু ক্বাতাদা ফিলিস্তিনী বলেছেন, জায়েয আছে।
                        ইবনে উসাইমীন বলেছেন, জায়েয আছে।
                        মোহতারাম ভাইদেরকেই উত্তর দেয়ার অনুরোধ করছি।
                        মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব
                        রোম- ৪৭

                        Comment


                        • #13
                          আবু মুহাম্মাদ ভাই ও আঞ্জেম চৌধুরী ভাইঃ

                          এই মাসয়ালাটা ইখতেলাফী - আপনারা ২ জনই বলতেছেন।

                          তাহলে, এখন আপনারা এটা দেখতে পারেনঃ

                          মুজাহিদ উলামারা এই খতিলাফের মধ্যে কোন ইজতিহাদটা প্রাধান্য দিচ্ছেন?

                          তাহলে আমাদের জন্য রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যায় ইনশাআল্লাহ।

                          Comment


                          • #14
                            ৪. (ক) একজন কাফিরের রক্ত ঝরানো হালাল হয় (مباح الدم) তখনই, যখন সে নিজে কিংবা তার জাতি ইসলাম ও মুসলিমদের বিরূদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে (عرض القتال)।
                            আপনিই বলছেন কারো জাতি যখন ইসলাম ও মুসলিমদের বিরূদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় তখন তার রক্ত ঝরানো হালাল হয় (مباح الدم)
                            আবার প্রশ্ন করছেনঃ
                            আমি রাস্তায় এক বৌদ্ধকে পেলাম, ব্যস তাকে হত্যা করে ফেললাম, অথচ সে মুসলিমদের বিরূদ্ধে কখনো যুদ্ধ করে নি, এটা সম্পূর্ণ হারাম।
                            সে যুদ্ধ করেনি কিন্তু তার জাতি মুসলিমদের বিরূদ্ধে যুদ্ধেলিপ্ত এখন তাকে হত্যা করা হারাম বলছেন কোন নাছেখ ওহীর ভিত্তিতে ?
                            বদর অভিযানে সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূসুফিয়ানের যে কাফেলা কে এটাক করতে গিয়ে ছিলেন তারা কি সবাই রাসুলের বিরোদ্ধে যুদ্ধকরতে বেরিয়েছিল,
                            রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত সারিয়্যা সমূহ সাধারন ভাবে কাদেরবিরোদ্ধে পরিচালিত হচ্ছিল যুদ্ধাজাতির ব্যবসায়ি কাফেলার বিরোদ্ধে নয় কি?
                            বর্তমান আমেরিকার কোনব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানের উপর যদি এই দেশে আক্রমন করা হয় এই ক্ষেত্রে এটা কি কুরায়শদের বনিক কাফেলার উপর আক্রমনের মত আক্রমন হবেনা?
                            فاقتلواالمشركين حيث وجدتموهم وخذوهم واحصروهم واقعدولهم طل مرصد
                            আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন মুশরিকদের হত্যা করো যেখানে পাও তাদের ধরো তাদের আটকাও তাদের হত্যার জন্য প্রতিক্ষার গোপন স্থানে উৎপেতে থাক।
                            কোন মুশরিক কে একা পাওয়া গেলে হত্যা করা যাবেনা বলে এই আয়াতের সাধারন বিধান কে আপনি শর্তযুক্ত করছেন কোন দলীলের ভিত্তিতে।
                            বনি কুরায়জার ৪০০ যোবক কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হত্যা করিয়েছেন তাদের সরদারের বিশ্বাসঘাতকতার কারনে তাদের যুদ্ধের কারনে নয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
                            الان نغزوهم ولايغزوننا ( বুখারি)
                            এখন থেকে আমরা তাদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ করবো তারা আমাদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ করবে না, তাহলে যারা যুদ্ধ করবে না তাদের বিরোদ্ধে যুদ্ধ কেন ?
                            আপনি বার বার হিরাবের حراب হিরাব এর অনুবাদ করেছেন "যুদ্ধে অংশগ্রহণ" বলে , আচ্ছা হিরাব অর্থ কি এটাই যে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহন করবে তাদের সাথে যুদ্ধচলবে,যেহেতো ফিকহি ইবারতে মাফহুমে মুখালিফ মুতাবার, তাহলে আপনার কথার অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে যেসব কাফের সাবালক পুরুষ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করবেনা তাদের সাথে যুদ্ধ করা যাবে না (?)
                            তাহলে আবার ফুকাহায়ে কিরামের বক্তব্য দেখেনিন তারা হরবি এর সংগায় কি উল্ল্যেখ করেছেন।
                            ... হিরাবের অর্থ হবে যুদ্ধের সক্ষমতা চায় যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে বা নাকরে, قاتل او لم يقاتل (বাদায়ে)
                            আপনি বলেছেনঃ
                            আমি রাস্তায় এক বৌদ্ধকে পেলাম, ব্যস তাকে হত্যা করে ফেললাম, অথচ সে মুসলিমদের বিরূদ্ধে কখনো যুদ্ধ করে নি, এটা সম্পূর্ণ হারাম।


                            শরিয়ী নুছুছ, সীরাত, তায়ামুলে সাহাব, ফুকাহায়ে কিরামের রায় এবং বর্তমানের বাস্তবতা হলোঃ
                            মুজাহিদদের জন্য যুদ্ধেরত জাতির অমুসলিম সাধারন নাগরিকদের যেখানে পাওয়া যাবে হত্যা করা জায়েজ,সাওয়াবের কাজ, ফরজ,এবং এটা জিহাদ।( যুদ্ধে সহায়তা নেই এমন নারি শিশুর কথা এখন না আনাই ভালো কারন মুজাহিদ গনের হক্ব জামাত (বরং মনে হয় কেহই)তাদের ইচ্ছাকৃত টার্গেট বানাচ্ছেনা)
                            আপনি চালাকবিতর্ক কারিদের মত আন্ধাধোন্ধা ধোমধারাক্কা স্রোতার নাকে মুখে কিছু মেরে তাড়া হুড়ো করে চলে যাবেন না প্লিজ, এক সাথে আপনি অনেক উদ্গিরন করেছেন সবাইকে নিয়ে ধীরে সুস্থে অগ্ররসর হওয়া চায়,মডারেট ভাই আপনাকে আটকে দিলে আপনার অভিযোগের কথাটি প্রকাশ হলো কিভাভে ?

                            রাসুল সাঃ তাঁর এক যুদ্ধে একটি নিহত নারীর লাশ দেখলেন। অতঃপর তিনি কঠোরভাবে নারী এবং শিশু হত্যা করতে নিষেধ করলেন। বুখারী ৩০১৪, মুসলিম ১৭৭৪
                            ঐ যুদ্ধে কি কাফের রা মুসলিমদের নারি শিশুদের হত্যা করে ছিল? তাহলে কি মাস্কুত আনহু ধরা যায়না ? না সব ইহতিমাল খতম।

                            Comment

                            Working...
                            X