PDA

View Full Version : মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর (র:)-র মৃত্যুতে নেতৃত্&#



Hazi Shariyatullah
08-05-2015, 10:12 AM
আমির উল মুমিনিন মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর (রাহিমাহুল্লাহ)-র মৃত্যুতে নেতৃত্ব পরিষদ ও মৃতের পরিবারের বিবৃতি

July 31, 2015 at 8:30pm



"আর আল্লাহ্*র হুকুম ছাড়া কেউ মরতে পারে না, সেজন্য একটা সময় নির্ধারিত রয়েছে। বস্তুতঃ যে লোক দুনিয়ায় বিনিময় কামনা করবে, আমি তাকে তা দুনিয়াতেই দান করব। পক্ষান্তরে, যে লোক আখিরাতে বিনিময় কামনা করবে, তা থেকে আমি তাকে তাই দেবো। আর যারা কৃতজ্ঞ তাদেরকে আমি প্রতিদান দেবো । আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জিহাদ করেছে; আল্লাহ্*র পথে তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহ্*র রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ্* তাদেরকে ভালবাসেন । তারা আর কিছুই বলেনি, শুধু বলেছে, হে আমাদের পালনকর্তা! মোচন করে দাও আমাদের পাপ এবং যা কিছু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে আমাদের কাজে। আর আমাদেরকে দৃঢ় রাখ এবং কাফেরদের উপর আমাদেরকে সাহায্য কর । (সূরা আল-ইমরানঃ ১৪৫-১৪৭)"


মৃত্যু তো নিশ্চিত। এটা আমাদের বিশ্বাসেরই অংশ যে একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ্* ব্যতীত সকল জীবিত স্বত্বাকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এমনকি সর্বশক্তিমান আল্লাহ্*র নিকট সবচাইতে পছন্দের মানুষ, দুনিয়া ও আখিরাতের নেতা, রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও মৃত্যুর তিক্ত স্বাদ নিয়েছেন এবং এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন।


এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে ইসলামি ইমারাত অফ আফগানিস্তান ও আমির উল মুমিনিন মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) এর পরিবার ঘোষণা করছে যে, ইসলামি ইমারাতের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা, অসুস্থতাজনিত কারনে পরলোক গমন করেছেন এবং এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ত্যাগ করে চিরস্থায়ী জগতে চলে গেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন, আল্লাহ্* তাকে অপরিসীম রহমতের ছায়া প্রদান করুন।


মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন ইসলামিক উম্মাহর এমন একজন সম্মানিত ও আন্তরিক নেতা, যিনি সবচাইতে কঠিন মুহূর্তে ইসলামের ভূলুন্ঠিত পতাকা তুলে ধরেছিলেন। ইসলামি ইমারাতের নামের অধীনে তিনি এমন একটি পরিপূর্ণ সরকার প্রতিষ্টা করেছিলেন যা ইসলামি রাজনীতির কাঠামো অনুসরণ করে এবং যে সরকার ব্যবস্থা সম্পূর্নরূপে ইসলামি আইনের আনুগত্য করে। শুধু আফগানিস্তানে নয় বরং সমগ্র উম্মাহর জন্য সর্বশক্তিমান আল্লাহ্* তার মাধ্যমে একটি ইসলামি সরকারের নিয়ামাত দান করেছিলেন যা সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে ইসলামি সার্বভৌমত্বের প্রকৃত স্বরূপ কী।


এই সামান্য কটি বাক্য তার অর্জনের সাক্ষ্য হওয়ার ক্ষেত্রে আসলে মোটেও যথেষ্ট নয়, তাই আমরা বর্তমানের প্রসঙ্গে ফিরে আসব, যা হচ্ছে সম্মানিত আমির উল মুমিনিন (রাহিমাহুল্লাহ) এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই ইসলামি ইমারাত, যা আমাদের জন্য এক আমানত, তাকে একইভাবে একই উদ্দেশ্যে পরিচালনা করা যেভাবে তিনি করেছিলেন। শরিয়াহর প্রতি সেভাবেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকা যেভাবে তিনি ছিলেন। সেভাবেই আন্তরিক ও দৃঢ়পদ থাকা যেভাবে তিনি ছিলেন। সঠিক পথের প্রতি অটল থাকার মানসে সবকিছু ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত থাকা, ওয়াদা রক্ষা করা, আল্লাহ্*র প্রতি ভরসা রাখা, আল্লাহ্*র প্রতি ধৈর্য্যশীল ও অটল থাকা, আল্লাহ্*কেই ভয় করা যেভাবে তিনি ছিলেন; তাহলেই আল্লাহ্* তাকে যেভাবে সাহায্য করেছিলেন সেভাবে আমাদেরও সাহায্য করবেন যাতে এই কঠিন দায়িত্ব আমরা পালন করতে পারি এবং আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি। সেই সাথে আমরা যেন দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি।


আমেরিকা ও তার মিত্রদের সকল সামরিক শক্তি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম স্বত্বেও মৃত মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) আফগানিস্তানেই বসবাস করতেন। এবং বিগত চৌদ্দ বছরের মধ্যে একদিনের জন্যও তিনি আফগানিস্তান ত্যাগ করে পাকিস্তান বা অন্য কোন দেশে ভ্রমণে যাননি। তার স্থান থেকেই তিনি ইসলামি ইমারাতের বিভিন্ন বিষয়াদির নেতৃত্ব দিতেন এবং তার এই ঐতিহাসিক উদ্দীপনার অজস্র প্রমাণ ও সাক্ষী বর্তমান। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন আর বিগত দু সপ্তাহে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়, যার ফলশ্রুতিতে তিনি মারা যান।

যদিও সম্মানিত আমির উল মুমিনিন (রাহিমাহুল্লাহ) শারিরীকভাবে ছিলেন একজন ব্যক্তি মাত্র, কিন্তু তিনি একটি আদর্শের বাহক হিসেবে বেগবান করেছেন একটি সমগ্র আন্দোলনকে, একটি দর্শনকে। কেউ যদি তার রূহকে সন্তুষ্ট করতে চায় এবং তার প্রতি আনুগত্য প্রমান করতে চায়, তাহলে তার উচিত হবে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছে তার প্রতি বিশ্বস্ততা প্রমাণ করা, যা হচ্ছে ইসলামি ইমারাত অফ আফগানিস্তান। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়িত্ব এটাই যে আমরা একটি ইসলামি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামি ইমারাতকে সহায়তা করবো, ঐক্যবদ্ধ করবো, সম্প্রসারিত করবো এবং ইসলামি ইমারাতের সাফল্যকে বাস্তবায়িত করবো। এই সম্মিলিত আবাসের ভিত্তিমূলকে অবশ্যই দৃঢ় করতে হবে এবং আমাদের কাতারকে শুধুমাত্র শক্তিশালী করার মাধ্যমেই আমরা জনগণ ও মুজাহিদদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো।

মৃত আমির উল মুমিনিন (রাহিমাহুল্লাহ) এই আন্দোলন প্রতিষ্ঠা ও জোরদার করেছেন শক্তিশালী ভিত্তির মাধ্যমে, আন্তরিক ও বিচক্ষণ সহকর্মীদের মাধ্যমে এবং নিরেট কাঠামোর সমর্থনের মাধ্যমে। তাই মুজাহিদ ও সকল মুসলিমদেরকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্*র সাহায্যে, ইসলামি ইমারাতের নেতা ও সদস্যগণ এই কাফেলা পরিচালিত করবেন আল্লাহ্*র সমর্থনে ও মুসলিমদের সহায়তায় যা একে এর লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, যা ছিল মৃত আমির উল মুমিনিন এর শেষ ইচ্ছা। আর কোন কিছুই আল্লাহ্*র জন্য কঠিন নয়।

ইসলামি ইমারাতের নেতৃত্ব, নেতৃত্ব পরিষদ এবং মৃত আমির উল মুমিনিন এর পরিবার একমত হয়েছে যে, পরবর্তী তিন দিন (১৪ শাওয়াল, ১৪২৬ হিজরি) সকল ভূমিতে, সকল আলিম, সকল মুজাহিদ ও সাধারণ ব্যক্তিত্ব ইসলামি ইমারাতের নেতৃত্ব, মুজাহিদ ও সকল জাতির পক্ষ থেকে মৃত আমির উল মুমিনিন এর রূহ এর জন্য দুয়া করবেন এবং তার রূহ এর প্রতি কুরআন তিলাওয়াত, দুয়া, মাগফিরাত ও মৃতের জন্য ক্ষমার দুয়া করবেন, এবং ইসলামি ইমারাতের দৃঢ়তা ও সাফল্যের জন্য দুয়া করবেন।
সবশেষে, মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর এর মামাতো ভাই, মোল্লা আব্দুল মান্নান আখন্দ এবং তার বড় ছেলে মৌলবি মুহাম্মাদ ইয়াকুব তারা বিশেষভাবে সকল মুসলিমের কাছে অনুরোধ করেছেন যে, মৃত মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর এর নেতৃত্বে ইসলামি ইমারাতের শাসন আমলে যদি কাউকে কোন অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তিনি যেন তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তাকে দুয়ার মাধ্যমে স্মরণ করেন। আমরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহ বিশেষ করে আফগানিস্তানের মুজাহিদ জাতিকে এই বিশাল দুর্যোগে অংশীদার মনে করি। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্*র কাছে দুয়া করি তিনি যেন আমাদের ধৈর্য্য ও সান্ত্বনা দান করেন।

ওয়াসসালাম।


ইসলামি ইমারাত অফ আফগানিস্তানের নেতৃত্ব পরিষদ ও সম্মানিত মোল্লা মুহাম্মাদ ওমর মুজাহিদ এর পরিবারবর্গ।
১৪ শাওয়াল, ১৪৩৬ হিজরি
৩০ জুলাই, ২০১৫

hasan
08-06-2015, 10:30 AM
“তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় কর।” [Surat Al-Bayyinah : ৮]