PDA

View Full Version : তাওহীদ



কাল পতাকা
08-11-2015, 04:38 PM
তাওহীদঃ
هو إفراد الله بحقوقه
অর্থঃ আল্লাহ তায়ালাকে তার হক্ব সমূহের ক্ষেত্রে একক বিশ্বাস করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا
তাওহীদ তিন প্রকারঃ
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ =
هو إفرادُ الله بأفعاله كالخلق ، والملك ، والأمر وغير ذلك من أفعاله
অর্থ আল্লাহ তায়ালার কাজগুলোর ক্ষেত্রে তাকে একক বিশ্বাস করা। যেমনঃ সৃষ্টি করা, বিধান দেয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ
তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ =
هو إفراد الله تعالى بأفعال العباد كالدعاء والخوف والرجاء والمحبة والتوكل والإنابة وغيرها من أنواع العبادة
অর্থ বান্দার ইবাদাত সমূহকে আল্লাহর জন্য একক বিশ্বাস করা। যেমনঃ দূয়া, তাওয়াক্বুল ইত্যাদি ইবাদাত সমূহ। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
কালিমার অর্থ এটাই, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া সত্য মা’বুদ নেই। ইহা দুটি রুকনঃ
প্রথমঃ لا إله এর মধ্যে সমস্ত গাইরুল্লাহর ইবাদাতকে অস্বীকার করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ঃ إلا الله এর মধ্যে সমস্ত ইবাদাতকে আল্লাহর জন্য একক বিশ্বাষ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ
ত্বাগুত =
هو كل ما تجاوز به العبد حدَّه من معبودٍ أو متبوعٍ أو مطاعٍ
অর্থঃ বান্দা তার ইবাদাত, আনুগত্য ও অনুসরণের সীমাকে যে জিনিসের মাধ্যমে লঙ্ঘন করে তাই ত্বাগুত।
তাওহিদুল আসমা ও সিফাত =
هو إفرادُ اللهِ - عَزَّ وجلَّ - بما اختصَّ به مِن الأسماءِ والصِّفاتِ
অর্থ আল্লাহ তায়ালাকে তার বিশেষ গুণাবলীর ক্ষেত্রে একক বিশ্বাষ করা। ইহার অংশ দুটিঃ ১/ সমস্ত নাম ও গুণকে বিশ্বাষ করা ২/ এগুলোর ক্ষেত্রে অন্য কাঁহার সমকক্ষতার অস্বীকার করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ
কালিমায়ে তাওহীদের শর্তসমূহঃ
প্রথম শর্তঃ علم অর্থাৎ কালিমার অস্বীকার ও বিশ্বাসের অর্থ জানা। তার বিপরীত অজ্ঞতা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ
দ্বিতীয় শর্তঃ يقين অর্থাৎ কালিমার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোকে বিশ্বাষ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُوْلَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ
তৃতীয় শর্তঃ القبول অর্থাৎ অন্তরে ও জবানে কালিমার চাহিদা সমূহকে গ্রহন করা। এটাই ছিল পূর্ববর্তী উম্মতের সফলতা বা শাস্তির কারণ। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدَى مِمَّا وَجَدتُّمْ عَلَيْهِ آبَاءكُمْ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلْتُم بِهِ كَافِرُونَ {24} فانتَقَمْنَا مِنْهُمْ فانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
চতুর্থ শর্তঃ الإنقياد অর্থাৎ কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সামনে আত্বসমর্পণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَمَن يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى
পঞ্চম শর্তঃ الصدق অর্থাৎ সত্য দিলে কালিমা বলা এবং তার অন্তর ও জবান এক হওয়া। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ
ষষ্ট শর্তঃ الإخلاص অর্থাৎ সব ধরণের শিরকমুক্ত সঠিক নিয়্যাতের মাধ্যমে আমালকে পরিশুদ্ধ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
ألا لله الدين الخالص
সপ্তম শর্তঃ المحبة অর্থাৎ কালিমা যা চায় ও করতে বলে এবং সমস্ত শর্ত সহ তার উপর আমালকারীদের প্রতি ভালবাসা এবং বিরোধীদেরকে ঘৃণা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللّهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللّهِ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلّهِ

ঈমান ভঙ্গের কারণ সমূহঃ

১/ ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহর শরীক করা।
২/ বান্দা ও আল্লাহর মাঝে মাধ্যম বানানো।
৩/ মুশরীকদেরকে কাফের না বলা, সন্দেহ বা সঠিক বলা।
৪/ গাইরুল্লাহর হুকুমকে তার হুকুমের উপর প্রাধান্য দেয়া।
৫/ দ্বীনের কোন বিষ্যের উপর আমাল করা সত্বেও অপছন্দ করা।
৬/ দ্বীনের কোন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা করা।
৭/ জাদু করা বা এতে রাজি হওয়া।
৮/ মোসলমানদের বিপক্ষে কাফেরদেরকে সাহায্য করা।
৯/ এই বিশ্বাষ করা যে, কিছু মানুষের জন্য নবীর অনুসরণ জরুরী নয়।
১০/ দ্বীনের কোন বিষয়কে শিক্ষা ও আমাল না করে বিমুখ থাকা।
এই সমস্ত বিষয়ে ইচ্ছাকৃত ও ঠাট্টাকারীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এবং বিশ্বাস, কথা বা কাজ যে কোন এক ভাবে করলেও কাফের হয়ে যাবে।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে পূর্ণ তাওহীদকে বিশ্বাস ও কুফুরি থেকে বাচার তাওফীক্ব দান করুন।
সূত্রঃ শাইখ আবু বাসির ত্বারত্বুসির قواعد فى التكفير কিতাব থেকে নেয়া।

friend
08-12-2015, 11:41 PM
ভাইয়া ঈমান ভঙ্গের কারণ গুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা? অার অাপনি যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নয়।
কিছু বিষয় নিয়ে সরাসরি বলা যায় না যেমন:
জাদু করা বা এতে রাজি হওয়া। (জাদু করা কুফর, কিন্তু জাদু সংক্রান্ত বিভিন্ন হাদিস থেকে বোঝা যায় এটা কাবিরা গুনাহ)
দ্বীনের কোন বিষয়কে শিক্ষা ও আমাল না করে বিমুখ থাকা। (কথাটা সরাসরি ঠিক নয়, ব্যাক্যায় অাসলে বোঝা যাবে)

বিষয়গুলো ব্যাক্যা সাপেক্ষ:

মুশরীকদেরকে কাফের না বলা, সন্দেহ বা সঠিক বলা। (কোন মুশরিক? কারা মুশরিক? কিছু বিস্তারিত ব্যাক্যার দাবি রাখে।)
মোসলমানদের বিপক্ষে কাফেরদেরকে সাহায্য করা।

অনেক বিভ্রান্তি অাছে, তাই সাবধানে থাকা ভাল।
অাপনি যদি কোন বইয়ের লিংক দেন তো সবাই বিস্তারিত পড়ে জানতে পারবে।