PDA

View Full Version : দ্বিগুণ সেনা পাঠিয়ে আগামী দশ দিনের মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকাকে নিয়ন্ত্রণ: মোদী সরকার



ABU SALAMAH
09-16-2016, 07:39 PM
ভারতের মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি শুক্রবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সারা কাশ্মীরে, বিশেষত দক্ষিণ কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে। রাজ্যে রাজ্যপালের শাসন জারি না করে মেহবুবা মুফতির নির্বাচিত সরকারকে সামনে রেখে আরো সেনা পাঠিয়ে আগামী দশ দিনের মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসাই মোদী সরকারের লক্ষ্য।

কাশ্মীর নীতির প্রশ্নে মোদীকে সমর্থন করছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত মনে করছেন, এই প্রথম কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে ইসলামি ধর্মীয় মৌলবাদ যুক্ত হয়েছে। ভাগবতের মতে, এই ঘটনা সারা দেশে মেরুকরণের প্রক্রিয়াকে জোরদার করবে। তাতে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবার আরো শক্তিশালী হবে।

মোদী-অমিত শাহ-সঙ্ঘের এই রাজনৈতিক লাইনকে চ্যালেঞ্জ করার মতো জোর দলে কারো নেই। তবে মন্ত্রিসভার ভিতরে ক্ষীণ কণ্ঠে হলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মোদীকে এই পথের বিপজ্জনক দিকটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন।

প্রথমত, এই পথে চলে কাশ্মীর আরো উত্তাল হলে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের ব্যর্থতা বলে চিহ্নিত হবে। এই মতকে সমর্থন করেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

দ্বিতীয়ত, এই পথের বিরোধীদের মতে সন্ত্রাসকে সন্ত্রাসের প্রেক্ষিত থেকেই দেখা বাঞ্ছনীয়। তার সঙ্গে ওয়াহাবি ভাবধারার সংযোগ স্থাপন ঠিক নয়। তাতে ওই ভাবধারার সমর্থক উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ গোষ্ঠীকেও উস্কে দেওয়া হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার অরুণ জেটলি, সুষমা স্বরাজ, রাজনাথ সিংহ, বেঙ্কাইয়া নায়ডু-এই চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে অনুরোধ করেন মেহবুবা মুফতি। তার আবেদন ছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যেন সংবাদমাধ্যমের কাছে কাশ্মীর নিয়ে সদর্থক বার্তা দেন। কারণ হিন্দুস্তানের সরকার মেহবুবা সরকারকে দিয়ে অত্যাচার চালাচ্ছে, উপত্যকার মানুষের এই ধারণাকে ভ্রান্ত প্রমাণ করা প্রয়োজন। কিন্তু এই সাংবাদিক বৈঠকের পর মেহবুবার পক্ষে পরিস্থিতি জটিলতর হয়ে ওঠে। রাজনাথ সব পক্ষের সঙ্গে রাজনৈতিক কথায় রাজি হলেও অরুণ জেটলি এই আন্দোলনের সঙ্গে ওয়াহাবি ভাবধারাকে জুড়ে বিশ্ব সন্ত্রাসের এক অঙ্গ হিসেবে কাশ্মীরকে তুলে ধরেন। কাশ্মীর নিয়ে সরকারের মতভেদও এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে যায়।

বিজেপি সূত্রে খবর, রাজনাথ নিজে ফোন করে মেহবুবাকে জানান যে, তিনি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে ওয়াহাবি প্রশ্ন তোলার পক্ষপাতী ছিলেন না।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির গুরুত্বের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। ওয়াহাবি ভাবধারার সমর্থক সৌদি আরব ও তার অনুগামী নানা দেশ এবং তুরস্ক-ইরানের মধ্যে এখন সংঘাত চরমে। ফলে ইরান এবার মক্কার হজ যাত্রা বয়কট করেছে। তাদের অভিযোগ, ইরানের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে সৌদি সরকার।

কমিউনিস্ট নেতা সীতারাম ইয়েচুরিসহ অনেক বিরোধী নেতা বলছেন, আমেরিকা এখন আরব বনাম ইরান বিরোধ নিয়ে পানিঘোলা করতে চাইছে। সন্ত্রাস ও ওয়াহাবি ভাবধারাকে সংযুক্ত করার ভাবনাটিও পশ্চিমী। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং সঙ্ঘ পরিবার একত্রিত হয়ে কাশ্মীরের আন্দোলনকেও এইভাবে চিহ্নিত করে বিশ্বের নজর কাড়তে চাইছে।

বিতর্ক রয়েছে কাশ্মীরে অতিরিক্ত কঠোর দমন নীতি প্রয়োগের প্রশ্নেও। এটা নতুন তর্ক নয়। জগমোহন কাশ্মীরের রাজ্যপাল থাকাকালীন এই নীতি নিতে চেয়েছিলেন। নিজের লেখা বই ফ্রোজেন টার্বুলেন্স-এ অসন্তোষকে দমন নীতি দিয়েই নিশ্চিহ্ন করার কথা বলেছিলেন। তাতে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনবে বলেই তিনি মনে করতেন। কিন্তু বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহ প্রধানমন্ত্রী হয়ে বামপন্থীদের চাপে জগমোহনকে সরিয়ে দেন।

আজ সেই তর্ক নতুনভাবে শুরু হয়েছে। তবে আপাতত মোদী-অমিত শাহ-ডোভালদের মতই প্রবল। তারা মনে করছেন, আক্রমণাত্মক দমননীতিই দীর্ঘ মেয়াদে কাশ্মীরকে স্থায়ীভাবে শান্ত করতে সাহায্য করবে।

তার মধ্যেই মেহবুবার চাপ বাড়িয়েছে পিডিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সাংসদ তারিক হামিদ কারার ইস্তফা। এ দিন দল এবং সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কারা অভিযোগ করেন, কাশ্মীরের মানুষের উপর কেন্দ্র অত্যাচার করছে ও কেন্দ্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে রাজ্য। এই অবস্থায় তিনি দলের সদস্যপদ এবং সংসদ সদস্য পদ ছাড়ছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার

ABU SALAMAH
09-16-2016, 07:44 PM
ভারতশাসিত কাশ্মিরে ক্ষমতাসীন পার্টি থেকে নির্বাচিত একজন আইনপ্রণেতা নিজ দল ও লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।


বিবিসি বলছে, কাশ্মিরে কয়েক সপ্তাধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কর্তৃপক্ষ যে প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করছে তার প্রতিবাদে তিনি পদত্যাগ করেছেন।


তারিক হামিদ কারা সরকারের নীতিকে বর্বর আখ্যা দিয়ে নিজের দল পিপলস ডেমক্র্যাটিক পার্টি রাজ্য সরকারে বিজেপির সঙ্গে জোটভুক্ত থাকারও সমালোচনা করেছেন।




http://www.bdface.net/records/news/201609/243683_1.jpg

চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথমদিকে কাশ্মিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘর্ষ বিস্তৃত পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।


কাশ্মিরে গণহারে মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ায় মুসলিমদের অন্যতম উৎসব ঈদুল-আজহা উদযাপন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তারিক হামিদ কারা বলেন, ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কাশ্মিরের জনগণ ঈদের নামাজ আদায় করার অনুমতি পায়নি। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসজিদ এমন কি প্রধান মসজিদও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।

কাশ্মিরিদের রক্তে এই উপত্যকার দেয়াল, রাস্তা এবং নালায় ছড়িয়ে পড়ছে। বলেন তিনি।


জনপ্রিয় বিদ্রোহী নেতা ২২ বছর বয়সী বুরহান ওয়ানি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর জুলাইয়ে কাশ্মিরজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।



উৎসঃ বিবিসি

তারিক হামিদ কারা
পিডিপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সাংসদ তারিক হামিদ কারার ইস্তফা। এ দিন দল এবং সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কারা অভিযোগ করেন, কাশ্মীরের মানুষের উপর কেন্দ্র অত্যাচার করছে ও কেন্দ্রের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে রাজ্য। এই অবস্থায় তিনি দলের সদস্যপদ এবং সংসদ সদস্য পদ ছাড়ছেন।