PDA

View Full Version : শত্রুদের চক্রান্ত ও জুলুম থেকে বেচে থাকার জন্য ইলাহী, মানসিক ও শারীরিক মাধ্যমসমূহ



আবু মুহাম্মাদ
09-19-2016, 04:35 PM
শত্রুদের চক্রান্ত ও জুলুম থেকে বেচে থাকার জন্য ইলাহী, মানসিক ও শারীরিক মাধ্যম সমূহ


- আবুল মাজদ উরদুনী


কিছু জিনিস আছে যা আমাদেরকে ভাল করে লক্ষ্য রাখতে হবে শত্রুর আক্রমন থেকে বেচে থাকার জন্য। এটা আমাদের জন্য আবশ্যক কেননা মাধ্যম গ্রহন করা ছাড়া তাওয়াক্কুল করাকে শরিয়তে নিষেধ করা হয়েছে। মাধ্যম সমূহঃ

১/ জামাতের সাথে ফজরের সালাতঃ সহীহ হাদিসে এসেছে, সেই ব্যক্তি আল্লাহর জিম্মায় থাকে অর্থাৎ আল্লাহর হেফাজত ও নিরাপত্তার মধ্যে।

২/ সকাল-সন্ধ্যার আজকারঃ আজকার হচ্ছে মুসলিমের জন্য দুর্গ, মানে তার জন্য বর্ম ও সমস্ত ক্ষতি থেকে হেফাজতকারী।

৩/ আল্লাহর আদেশ সমূহ পালন করাঃ সহীহ হাদিসে এসেছে; আল্লাহর হুকুমকে হেফাজত কর আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবে, আল্লাহর হুকুমকে হেফাজত কর তাঁকে তোমার সামনে পাবে।

৪/ ছোট-বড় সব গুনাহ থেকে বেচে থাকাঃ এক সাহাবী বলেনঃ গুনাহ করা ছাড়া কারো উপর বিপদ নেমে আসে না।

৫/ তাওবাঃ তাওবা ছাড়া বিপদ দূর হয় না। (আসার)

৬/ কথা ও কাজের সুনান সমূহ বাস্তবায়ন করাঃ " আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন" (আনফাল-৩৩)

৭/ অধিক ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রাথনাঃ " তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না " (আনফাল-৩৩)

৮/ ভাল কাজের আদেশ ও খারাপ কাজের নিষেধঃ " তোমরা অবশ্যই ভাল কাজে আদেশ ও খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করবে অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের উপর এমন আজাব নাজিল করবেন যার পরে তোমরা তার কাছে দুয়া করবে কিন্তু কবুল করা হবে না " (সহীহ হাদিস)

৯/ দান-সাদাকাঃ সাদাকা বিপদ দূর করে, মৃত থেকে আজাব সরিয়ে দেয় ও গুনাহকে মুছে দেয়। (সাহীহ হাদিস)

১০/ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহঃ " যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান " (তাওবা-৩৯)

১১/ অগনিত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করাঃ " অতঃপর তারা আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল। তখন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের কারণে স্বাদ আস্বাদন করালেন, ক্ষুধা ও ভীতির " (নামল-১১২)

১২/ ইসলাহ বা দ্বীনের সংশোধন করাঃ " তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা ইসলাহকারী হওয়া সত্ত্বেও " (হুদ-১১৭)

১৩/ আল্লাহর সাহায্য আসে তার নবী ও দ্বীনকে সাহায্যের মাধ্যমে অর্থাৎ আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্যকেঃ " হে বিশ্বাসীগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ়প্রতিষ্ঠ করবেন " (মুহাম্মাদ-৭)

১৪/ দুর্বল ও ছোটদের উপর দয়া করাঃ সহীহ হাদিসে এসেছেঃ তোমরা রিজিক ও সাহায্য প্রাপ্ত হও দুর্বলদের মাধ্যমে।

১৫/ দুয়া ও সাহায্য কামনাঃ " তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরী দান করলেন " ( আনফাল-৯)

১৬/ মানুষের উপর জুলুম না করাঃ তোমরা মাজলুমের দুয়া থেকে বেচে থাক কেননা তা মেঘের উপর বহন করানো হয় , আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ আমার ইজ্জত ও বরত্বের কসম; আবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব যদি কিছুটা দেরি হয়। (সহীহ হাদিস)

আল্লাহর কাছে দুয়া করছি তিনি যাতে আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে উত্তমভাবে মাধ্যম গ্রহন করার তাওউফিক দান করেন।

( প্রচার করুন যাতে মুজাহিদ ভাইরা ও মাজলুম মুসলিমরা উপকার পেতে পারে)

রক্তাক্ত চাপাতি
09-19-2016, 09:58 PM
সম্মানিত ভাই , করুণাময় রব আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন এরকম গুরুত্বপূর্ণ ও খুব উপকারি একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য

শুদ্ধ বানান
09-19-2016, 11:48 PM
জাজাকাল্লাহ

Gazwatul.Hind1
09-19-2016, 11:50 PM
জাযাকাল্লাহ,খাইড়

ibn mumin
09-20-2016, 10:19 AM
জাযাকাল্লাহ খাইর ভাই,
তবে ভাই ৬ নং পয়েন্টটা একটু বুঝিয়ে বললে ভালো হত...

mohammod bin maslama
09-20-2016, 03:50 PM
৬নং পয়েন্ট কি সুন্নতের কথা হয়েছে।

Mohammad al bengali
09-20-2016, 04:22 PM
জাযাকাল্লাহ খইর,খুব গুরুতপুন্ন নসিয়া

আবু মুহাম্মাদ
09-21-2016, 12:02 AM
৬ নং পয়েন্ট

সমস্ত মুফাসসিরিনে কেরাম এই আয়াতে আল্লাহর নবী জীবিত থাকার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন, অনেক মুফাসসিরিনে কেরাম বলেছেন, আল্লাহর নবীর ওফাতের পর তাফসির পাল্টে যাবে। তখন হবে আল্লাহর নবীর সমস্ত সুন্নাহ পালন করা ও শরিয়াহ মুতাবেক চলা এবং আল্লাহর নবীর বাস্তব মহাব্বত অন্তরে রাখা।

গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ

আসবাবের ক্ষেত্রে মূল বিষয় যেটা মনে রাখতে হবে তা হচ্ছে, আমি এটা গ্রহন করছি আমার চেষ্টা হিসেবে। কিন্তু কাজটি হবে বা আমি নিরাপদে থাকব আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমেই। কারণ মানুষের চেষ্টা দিয়ে কিছুই হয় না। এখন যদি কেহ এটাকেই মূল মনে করে তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধাক্কা খাবে, সাহায্য আটকে থাকবে। প্রথমে হয়ত কোন ব্যক্তি আসবাবকে মূল হিসেবে নেয় না। কিন্তু পরে আসবাব দেখতে দেখতে এটার দিকে মন ঝুকে যায়, যদি না সে আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল না করে।

আমি কি ভাবে বুঝব যে আমি আসবাবকে কি ভাবে নিচ্ছিঃ

১/ আসবাব যতক্ষন থাকবে খুব নিশ্চিন্তে ও নিরোদ্ধেগে থাকবে। কোন আসবাব বা চোখের সামনে থেকে নিরাপত্তার মাধ্যম ছোটে গেলে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া, গ্রেফতারী বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় করতে থাকা। হতাশা সৃষ্টি হওয়া। আসলে আল্লাহ কিন্তু আগে থেকেই আপনাকে রক্ষা করছেন, আসবাবের কোন দখল ছিল না। এখন শুধু একটু পরিক্ষা করছেন আরকি ! কিন্তু হতাশ হয়ে গেলে পরিক্ষায় ফেইল করলেন। আপনার নিরাপত্তা বলয় শেষ।

২/ আপনি অনেক আশা করে কোন আসবাব বা নিরাপত্তার মাধ্যম গ্রহনের চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোন কারণে আশানুরুপ হল না। তখন যদি মনে কষ্ট পেয়ে যান বা আগের লক্ষণগুলো বেড়ে যায় বুঝতে হবে আপনার কাছে আসবাবই মূল ছিল।
আরে ভাই ! আপনার উদ্দেশ্য কি এই আসবাব বা মাধ্যমটা হওয়া নাকি আপনার নিরাপত্তা বাস্তবায়ন হওয়া। আপনি তো আপনার এই চেশটার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে দেখিয়েই দিলেন যে আপনি নিরাপত্তার বাস্তবায়ন বা কাঙ্খিত জিনিসটা আসলেই চাচ্ছেন, আল্লাহ তায়ালা তখন নিজের পদ্ধতি অনুজায়ী আপনাকে সাহায্য করবেন।

ibn mumin
09-21-2016, 06:05 PM
জাযাকাল্লাহ ভাই...

Ibn Taimiyyah
09-23-2016, 08:20 AM
জাযাকুমুল্লাহু খাইরন। সব তথ্য রেফারেন্স সহ উল্লেখ করলে আরো উত্তম হতো।