PDA

View Full Version : ওয়ালা বা'রা ।। পার্ট ৪ ।। কুফফারদেরকে কোন ভাবে সাহায্য করা ও অভিবাবক হিসেবে গ্রহনের হুকুম ?



আবু মুহাম্মাদ
09-21-2016, 12:34 AM
কুফফারদের সাথে ব্যপক ভাবে সম্পর্ক করা ও তাদেরকে বন্ধু, সাহায্য কারী ও অভিবাকরূপে গ্রহন করা, তাদের মতাদর্শ গ্রহন করা থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে নিষেধ করেছেনঃ

لاَّ يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاء مِن دُوْنِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللهِ فِي شَيْءٍ إِلاَّ أَن تَتَّقُواْ مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللهِ الْمَصِيرُ سورة آل عمران: 28

মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। [সূরা আলে ইমরান: ২৮]

ইবনে জারীর তাবারী বলেনঃ
তোমরা কাফেরদেরকে সাহায্য ও সহায়তাকারী রূপে গ্রহণ করো না; যে তোমরা মুমিনদের ব্যতরিকে তাদেরকে তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে ভালবাসবে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সর্মথন দেবে, মুমিনদের র্দুবলতা তাদের নিকট প্রকাশ করবে। কেননা যে এ ধরণের কাজ করবে সে আল্লাহর জিম্মা থেকে মুক্ত। র্অথাৎ উপরুক্ত র্কমের কারণে তার সাথে আল্লাহ তা'আলার এবং আল্লাহ তা'আলার সাথে তার সর্ম্পক ছন্নি হয়ে যাবে। কেননা সে দ্বীন থকে রিদ্দাহ করছে [মুরতাদ হয়ে গেছে] ও কুফুরে প্রবেশ করেছে। তবে যদি তাদের থেকে কোন কিছুর আশংকা করো। র্অথাৎ তবে যদি তোমরা তাদের র্কতৃত্বের মধ্যে থাকো এবং নিজেদের জানের ব্যাপারে আশংকাগ্রস্ত হও তাহলে মুখে তাদের সাথে বন্ধুত্ব প্রকাশ করবে আর অন্তরে শত্রুতা পোষণ করবে। তবে তারা যে কুফরের উপর অবস্থান করছে তাকে সর্মথন করবে না, কোন একটি কাজের দ্বারাও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করবে না। [তাফসীরুত তবারী, খন্ড:৩, পৃষ্টা:২৭৭]

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ


وقال تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদী ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্য থেকে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, নিশ্চয়ই সে তাদেরই একজন। নিশ্চয়ই আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না। [সূরা মায়েদা: ৫১]

ইমাম তবারী (রহঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:
যে মুসলমানদের ব্যতিরেকে ইহুদী-খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে নিশ্চয়ই সে তাদের অর্ন্তভুক্ত হবে। র্অথাৎ তাদের দ্বীন ও মিল্লাতের অর্ন্তভুক্ত হবে। কেউ কাউকে ততক্ষণ র্পযন্ত বন্ধুরূপে গ্রহণ করতে পারে না যতক্ষণ র্পযন্ত না সে উক্ত ব্যক্তির দ্বীন ও অবস্থার উপর সন্তুষ্ট হয়। যখন সে তার উপর এবং তার দ্বীনের উপর সন্তুষ্ট হবে তখন তার বিপরীত সবকছিুর ব্যাপারে বিরোধিতা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবে। সুতরাং দুজনের হুকুম একই হবে। [তাফসীরুত তবারী, খন্ড:১, পৃষ্টা:২৭৭]

ইবনে হাজাম বলেনঃ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ এই আয়াত তার বাহ্যিকের উপরই হুকুম হবে। আর তা হচ্ছে, সে কাফেরদের মধ্য থেকে একজন কাফের হয়ে যাবে। ইহা এমন সত্য যাতে কোন দুই মুসলিম মতানৈক্য করে নি।

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِنْ عِنْدِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَى مَا أَسَرُّوا فِي أَنْفُسِهِمْ نَادِمِينَ


আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তাদেরকে আপনি অতসিত্ত্বর দেখতে পাবেন, তারা দ্রুত ওদের [ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের] সাথে গিয়ে মিলিত হবে, এই বলে যে, আমরা আশংকা করছি আমাদের ভাগ্যে কোন বির্পযয় ঘটবে। [সূরা মায়েদা: ৫২]

ইবনে কাছীর (রহঃ) এ আয়াতের ব্যখ্যা করেন:
আল্লাহ তাআলার বাণী: আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, তাদেরকে আপনি অতসিত্ত্বর দেখতে পাবেন", র্অথাৎ [যাদের অন্তরে] সংশয়, সন্দেহ ও নেফাক আছে। তারা দ্রুত ওদের সাথে গিয়ে মিলবে, র্অথাৎ তারা অতদ্রিুত প্রকাশ্যে ও গোপনে তাদের সাথে সর্ম্পক সৃষ্টি করবে। এই বলে যে, আমরা আশংকা করছি আমাদের ভাগ্যে কোন বির্পযয় ঘটবে, র্অথাৎ তারা কাফেরদের সাথে সর্ম্পক সৃষ্টির বিষয়টি ব্যাখ্যা করবে, যে তাদের আশংকা হচ্ছে কাফেররা মুসলমানদের উপর বিজয় লাভ করবে, আর তখন ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের কাছে তাদের একটি গ্রহণযোগ্যতা থাকবে যা তাদের কাজে আসবে। [তাফসীরে ইবনে কাছীর, খন্ড:২, পৃষ্টা:৬৯]

শাইখ উসামা বলেনঃ " বন্ধুত্বের র্সবোচ্চ মাধ্যম হলো অস্ত্র, কথা বা সর্মথন দ্বারা তাদেরকে সাহায্য করা। তাই যারা বুশের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে, ইসলামের বিরুদ্ধে তার সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, তারা আল্লাহ তাআলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কুফরী করেছে। [আল-আরশীফুল জামেয়, পৃষ্ঠা:২১]

tipo soltan
09-21-2016, 01:00 AM
জাজাকাল্লাহু খাইর।.............

Ibnu Muhammad
09-21-2016, 06:19 AM
জাযাকাল্লাহু খাইরান ভাই,
এটা কয় পার্ট পর্যন্ত চলবে আনুমানিক ?