Announcement

Collapse
No announcement yet.

যে কিতাবের সাথে কখনো সম্পর্ক করা হলোনা - (১)

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • যে কিতাবের সাথে কখনো সম্পর্ক করা হলোনা - (১)


    সমস্ত প্রশংসা শুধুই আল্লাহ্*র জন্য, আর আল্লাহ্*র নামে শুরু করছি

    আলিফ লাম মিম, যা লিকাল কিতাবু লা রইবা ফিইহ, হুদাল লিল মুত্তাকীন..

    আলিফ লাম মিম, এই হচ্ছে এমন এক কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীনদের জন্য পথ প্রদর্শক ..

    আল্লাহ্* সুরা আল ফাতিহা এর পরে শুরু করছেন এই মহান কিতাব। কিভাবে? আলিফ লাম মিম, এই হচ্ছে মন এক কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই..

    আপনি শুরুর অভিনবত্ব কি লক্ষ্য করেছেন ভাই? আল্লাহ সর্ব প্রথমে এমন কিছু বর্ন নিয়ে এসেছেন যার অর্থ কেউই জানেনা, কেউই জানেনা এই আলিফ লাম মিম এর মানে কি? প্রথমেই এক অজানা দিয়ে শুরু করেই আল্লাহ্* আবার বলছেন এতে কোন সন্দেহ নাই।

    অনেক টা এমন প্রথমে আল্লাহ্* আলিফ লাম মিম কে দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, পারলে বল এগুলোর মানে কি? আর যেহেতু এই চ্যালেঞ্জ এ কেউ গ্রহন করতে পারবেনা সুতরাং তারা পরাজিত হয়েই গেলো, অবনমিত হয়েই গেলো এবার আল্লাহ্* ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছেন, (হেরে তো গেছোই, তবে শুনে নাও) এই কিতাবে কোন সন্দেহ নাই।

    ধরেন কেউ যদি এমন বলতে চায় কুরআন মানুষের রচনা, তবে বলো এই আলিফ লাম মিম এর মানে কি? আর কোন মানুষ ই যদি তা না বলতে পারে তবে স্পষ্টতই সে তার দাবিতে হেরে গেলো, এবং আল্লাহ্* ঘোষণা দিয়ে দিচ্ছেন, এই কিতাবে কোন সন্দেহ নাই। (কেউ তর্কের জন্য এমন বলতে পারে, আলিফ লাম মিম এগুলো কিছু বিক্ষিপ্ত অক্ষর, কিন্তু আসলে তা না, সমগ্র আরবী সাহিত্যে এই রকম বিক্ষিপ্ত শব্দের কোন প্রয়োগ কেউ দেখায়নি, দেখাতে পারেনি আর এটা বিক্ষিপ্ত কিছু না এটা আমরা না বুঝলেও তারা বুঝেন যারা আরবির জ্ঞান রাখেন। এই ব্যাপারে আল্লাহ্* কুরানে অন্য জায়গায় আয়াত ও নাজিল করেছেন এবং কাফির দের অজ্ঞতা কে প্রকাশ করে দিয়েছেন)

    কুরআনের শুরুটাই বড় শানদার! প্রথমেই আলিফ লাম মিম এর অজানা রহস্য.. কারো কাছে কোন উত্তর জানা নেই, এরপরেই ঘোষণা হচ্ছে, এটা হচ্ছে এমন একটা কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক ..

    দুনিয়াতে এমন কোন কিতাব আপনি কি পাবেন যে কিতাব শুরু করা হয় একটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে এরপরে আরো একটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলা আছে এই বইয়ে কোন সন্দেহ নাই! পাবেন না। আর এই কুরআন মুত্তাকিদের কেই পথ দেখায়!

    ব্যাক্তিগত একটা অভিজ্ঞতা বলি, কোন এক সময়ে একজন বিদেশী খ্রীস্টান এর সাথে কুরআন নিয়ে কিছু কথা হয়েছিলো, তাকে আমি কুরআন এর একটা কপি দিয়েছিলাম। সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো "এটা কি" আমি তাকে বললাম এটা কুরআন, এবং কুরআন কি এটার ছোট্ট একটা উদাহরন বুঝানোর জন্য তাকে নিচের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলামঃ

    ধরে নাও এই মুহুর্তেই যদি পৃথিবীর সমস্ত বই, ধর্ম গ্রন্থ, উপদেশ বানী, এরকম যা আছে এগুলোর সমস্ত হার্ড কপি এবং সফট কপি ধ্বংস করে ফেলা হয়, একেবারে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয় তাহলে আর কোন বই বা ধর্ম গ্রন্থ কি হুবহু আগের মত এক কপি তৈরি করা সম্ভব হবে?

    এক মুহুর্ত চিন্তা করা ছাড়াও সে উত্তর দিয়েছিলো "না"

    আমি তখন তাকে বলেছিলাম, কিন্তু একটা বই সম্ভব। যেটা আমি তোমকে মাত্র দিলাম, কুরআন। সে খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো, "কি ভাবে সম্ভব?"

    আমি তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই বলেছিলাম,

    শুধু সম্ভবই না, হুবহু সম্ভব, কাভার টু কাভার, এই বই এ ৬০০০ এর বেশি বাক্য আছে, একটা বাক্য পরিবর্তন হওয়া তো দুরের কথা একটা অক্ষর ও পরিবর্তন হবে না, একটা অক্ষর ও পরিবর্তন হওয়া তো দুরের কথা একটা অক্ষরের স্থান পর্যন্ত পরিবর্তন হবেনা, এবং ছাপা খানা প্রস্তুত থাকলে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে এই আবার ছাপাতে শুধুমাত্র ছাপানোর সময়টুকুই লাগবে।

    ধরে নিলাম যদি ছাপাতে কোন ভুল ও হয়, সারা পৃথিবীর প্রত্যেক প্রান্ত থেকে অন্তত একজন পাওয়া যাবে যাকে তুমি হেড সেট পরিয়ে বসিয়ে দাও, এভাবে প্রত্যেকের কাছে এই নতুন কুরআন এক কপি করে দিয়ে দাও, তুমি যদি এটা তাদের কে পড়ে শুনাও আর যদি এতে একটা অক্ষর ও ভুল না, স্রেফ যদি অদল বদল হয়ে যায় সাথে পৃথিবীর প্রত্যেকটা প্রান্তে যারা হেডফোন লাগিয়ে শুনছে তারা এক সাথে এই ভুল ধরে ফেলবে, শুধু ভুলই ধরবে না এই ভুলের শুদ্ধ টা কি হবে তাও বলে দিবে। এমন কি তুমি যদি ইচ্ছা করেও তাদের কে ভুল কিছু দাও তারা সেই ভুল ধরে ফেলবে, এবং সেই ভুলের শুদ্ধ টাও বলে দিবে, এবং এদের প্রত্যেকের শুদ্ধ উত্তর একই হবে!

    এই উত্তর শুনে সে হতবাক হয়ে গেছিলো ... (সে এটা বিশ্বাস করতো আমি তার সাথে কোন রসিকতা বা ফালতু কথা বলবোনা, আমি পরে তাকে বিভিন্ন রেফারেন্স ও দিয়েছিলাম)

    তো যেটা বলছিলাম ভাই, এটা হচ্ছে সেই কুরআন। এই কুরআন বড়ই শানদার!

    আল্লাহ্* বলেছেন, এই কুরআন হেফাজতের দায়িত্ব আমার, আমরা এই আয়াত অনেক বার পড়েছি কিন্তু কয়বার এটা কে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করেছি! আল্লাহ্* ছাড়া কেউই এই কুরআন কে ধংস করতে পারবেনা!

    কুরআন এর সাথে আসলে আমাদের অন্তরের সম্পর্ক হয়ে যাওয়া উচিত। এই কুরআন তো অন্তরের আলো। অথচ যুগের পর যুগ ধরে সুক্ষ চক্রান্তের মাধ্যমে আমাদের কে কুরআন থেকে আলাদা করে ফেলেছে! আমাদের দিলে কুরআন নাই! কুরআন এর সাথে ভালোবাসা নাই। আল্লাহ্*র কিতাব যা হচ্ছে এই দ্বীনের উৎস সেই কুরআন কাপড়ে মুড়ানো অবস্থায় তাকের উপরে পড়ে থাকে! খুব কস্টের কথা, আমরা কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত না। কুরআন আমাদের কে ভাবায় না, হাসায় না, কাদায় না, আশা দেয় না, ভীতি সঞ্চার করে না, অথচ এর প্রতিটিই কুরআনে আছে। হায়, কুরআন ছেড়ে আজ আমরা কত দূরে চলে গেছি! হায়, কুরআন ছেড়ে আজ আমরা কত দূরে চলে গেছি! কোন কুরআন থেকে ভাই? যে কুরআন এ আল্লাহ্* তার বান্দাদের সাথে কত কথা বলে রেখেছেন, বান্দা তার এই কথা গুলো নিয়ে চিন্তা করবে, হাসবে, কাঁদবে, ভয় পাবে, আশা দেখবে, আল্লাহ্*র দিকে আরো দৌড় দিয়ে আসবে, বলবে, "রব্বানা জলাম না আনফুসানা" কিংবা বলবে, "রব্বানা লা তুজিগ কুলুবানা" কিংবা বলবে, "রব্বি হাবলিই হু'কমান ওয়াল হি'কনি বিস সলহি'ন" ... আমরা কি এই কুরআন থেকে দূরে সরে আছি ভাই, যে কুরআনে আল্লাহ্* আমাদের ডাক দিয়ে বলছেন,

    "কু'ল ইয়া ই'বাদিয়াল্লাজিনা আসরফু আ'লা আনফুসিহিম.. লাআ তাকনাতু মির রহ'মাতিল্লাহ, ওয়াল্লাহু ইয়াগফিরুজ জুনুবা জামিয়া..."


    আজ আমাদের সন্তান রা কুরআন কি এটাই বুঝেনা! কুরআন কি? কুরআন হচ্ছে তা, যা বহন করার ভয়ে পাহাড় কেঁপে উঠেছিলো। শেষ কবে কুরআন দেখে আমি, আপনি কেঁপে উঠেছি! আমাদের সন্তান তো অনেক পরের কথা। কুরআন হচ্ছে আয়নার মত, আপনি যেভাবে এটার দিকে তাকাবেন এটা সেভাবেই আপনাকে দেখাবে। আমার এবং আপনার বাস্তব অবস্থা এই কুরআন দেখিয়ে দিবে।

    কুরআন হাতে নিয়ে যদি আপনি কোন কিছু ফিল না করেন, বিশ্বাস করেন এটাই আমাদের বাস্তব অবস্থা! আমাদের অন্তর এত মরে গেছে যে এটা আর কিছু ফিল করে না!
    কুরআন হাতে নিয়ে যদি আপনার রমজান মাসে কোন রকম খতম দিতে ইচ্ছা করে, তবে বিশ্বাস করেন এটাই আমাদের বাস্তব অবস্থা! আমি কুরআন থেকে শুধু অতটুকু কল্যান নেয়ার মত হালতে আছি।
    কুরআন হাতে নিয়ে যদি আপনার মাসে এক খতম দিতে ইচ্ছা করে, তবে বিশ্বাস করেন এটাই আমাদের বাস্তব অবস্থা!
    আবার কুরআন হাতে নিয়ে যদি আপনার কিছু জানতে ইচ্ছা করে, দেখি আল্লাহ্* এই ব্যাপারে কুরআনে কি বলেছেন, তবে ততটুকুই আমাদের বাস্তব অবস্থা!

    কুরআন হচ্ছে আয়নার মত, আয়নায় দেখে দেখে নিজেকে ঠিক করতে হয়, চুল ঠিক করতে হয়, কলার ঠিক করতে হয়... একবারে হয় না ... দেখে দেখে কয়াক বারে ঠিক করতে হয়। এমনি ভাবে যত বার আপনি এই কুরআনের কাছে যাবেন, এই কুরআন আপনাকে কিছু না কিছু দিবে, আর সেইটা দিয়ে নিজেদের কে ঠিক করে নিতে হবে। যে এই কুরআনে মঙ্গল খুজবে সে মঙ্গল পাবে আর যে অমঙ্গল খুজবে, বিশ্বাস করেন কুরআন তাকে ফিরিয়ে দিবেনা। বিশ্বাস করেন কুরআন তাকে অমঙ্গলই দিবে।

    আল্লাহ্* বলেছেন, এই কুরআন দ্বারা মুমিন রা উপকৃত হয় আর কাফির রা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

    কিভাবে কুরআন আমাদের অবস্থা কে আয়নার মত ফিরিয়ে দেয় সেটা একটু খুঁজে দেখিঃ

    আল্লাহ্* সুরা মারইয়াম জাকারিয়া (আঃ), ইয়াহহিয়াহ (আঃ) ইবরাহীম (আঃ), ইসহাক (আঃ) ইয়াকুব (আঃ), নূহ (আঃ) মূসা (আঃ), ঈসা (আঃ) এর কথা উল্লেখ করে ৫৮ নাম্বার আয়াতে বলছেন,

    "এরাই হল তারা, আদম বংশের নবিগনের মধ্যে হতে, আর নূহের সঙ্গে যাদের কে নৌকায় আরোহন করিয়েছিলাম তাদের মধ্যে হতে, আর ইবরাহীম ও ইসমাইলের বংশধরদের মধ্যে হতে যাদের কে আমি অনুগ্রহ করেছিলাম, এরা তাদেরই মধ্য হতে, যাদের কে আমি পথনির্দেশ দিয়েছিলাম আর বেছে নিয়েছিলাম, এদের নিকট দয়াময়ের আয়াত আবৃত্তি করা হলে তারা সাজদায় অবনত হয়ে কান্নাভরে লুটিয়ে পড়ে"

    আবার আল্লাহ্* সুরা আল- ইনশিকাক এর ২০-২২ আয়াতে বলছেন,

    "অতএব তাদের কি হল যে, তারা ঈমান আনেনা? আর তাদের কাছে যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন সেজদা করেনা? (কুরআন শুনে সেজদা করা তো দুরের কথা) বরং কাফির রা ওটাকে (কুরআন) অস্বীকারই করে"

    একই বিষয় বস্তুর উপরে দুটি চূড়ান্ত সীমা রেখা।

    প্রথম আয়াতে, আল্লাহর নবীগণ এর সামনে যখন আল্লাহ্*র আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তারা সাজদায় অবনত হয়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন! সুবহানাল্লাহ! শব্দ গুলো দেখেন, আল্লাহ্* কি বলছেন, নবীগণ সাজদায় গিয়ে কান্নায় লুটিয়ে পড়েন!

    আর দ্বিতীয় আয়াতে সাজদা তো দুরের কথা, আল্লাহ্*র আয়াত সমূহকে বিশ্বাসই করে না। আর এই আয়াত থেকে আমরা আমাদের অবস্থা অনুযায়ী উপলব্ধি ফিরে পাবো। কারো মন একটু নরম হবে, কারো মন একটু খারাপ হয়ে যাবে, কারো কান্না আসবে, কেউ কান্না করে ফেলবে, কেউ সাজদায় পড়ে কান্না শুরু করবে, কেউ বার বার এই আয়াত পড়বে আর কেঁদে ফেলবে। এভাবে প্রতিবার এই আয়াত আপনাকে আপনার চাওয়া অনুযায়ী নতুন কিছু দিবে! আর এভাবে প্রতিবারই আমাদের নিজেদের কে একটু একটু করে ঠিক করে নিতে হবে ইনশাআল্লাহ্*। যেমন আল্লাহ্* এই সুরা আল-ইনশিকাক এরই ১৯ নাম্বার আয়াত এ বলছেন,

    "অবশ্যই তোমরা (আধ্যাত্মিক ও জাগতিক সর্বক্ষেত্রে) স্তরে স্তরে উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে উর্ধে উঠবে"


    এরকম হাজার হাজার উপলব্ধি ছড়িয়ে আছে আমাদের ঘরের বুকশেলফ বা আলমারির উপরে কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা ওই কিতাবের মধ্যে! আল্লাহ্* বলছেন,

    "তারা কি এই কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করে না?"


    ভাই আমরা বলি কুরআন আমাদের জীবন বিধান। কিন্তু আমরা বাস্তব জীবনের সাথে জীবন বিধান আর কুরআন এই দুইটা শব্দ কে এক করতে হিমশিম খেয়ে যাই। বিশেষ করে আমাদের নতুন প্রজন্ম দের কে এই আকিদা বুঝানো অনেক কঠিন হয়ে যায়। কারন জীবন বিধান শব্দ টা একটা নিছক শব্দই.. এই শব্দ টা জীবন তখনই পায় যখন এটা জিন্দেগীর মধ্যে ঢুকে যায়। ২০ বছরে এসে আমার ছেলেকে আমি যদি বলি "কুরআন তোমার জীবন বিধান" বিশ্বাস করেন সে হয়তো বিশ্বাস করবে, মেনেও নিবে, আমল করার সাধ্য মত চেষ্টাও করবে কিন্তু উপল্বধি করতে খুব কষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের সবার আগে তো উপলব্ধি দরকার। কেমন উপলব্ধির কথা বলছি, যেমন সেই ঘটনার কথা খেয়াল করেন.. যখন উম্মুল মু'মিনাত আয়িশা (রাঃ) এর বিরুদ্ধে গুজব রটিয়ে দিলো, আর কাউকেই যখন আয়িশা (রাঃ) তার স্বপক্ষে পেলেন না, তখন আয়িশা (রাঃ) কি বলেছিলেন "আল্লাহ্* আমার ব্যাপারে ওহী করবেন" যখন সারা দুনিয়ার কেউই আয়িশা (রাঃ) পাশে ছিলেন না তখন তিনি কোন দিকে তাকিয়েছেন? আল্লাহ্*র কালামের দিকে, কারন তিনি বিশ্বাস করতেন ওইখানেই আমার সমস্ত সমস্যার সমাধান। এমন উদাহরন আরো অনেক আছে। এইটা হচ্ছে উপলব্ধি! আর আমাদের দরকার এই উপলব্ধি। জীবনের সমস্ত বিষয়ে কুরআনের কাছে ফিরে আসা, কুরআন কে জিজ্ঞেস করা, কুরআন এর সাথে সম্পর্ক তৈরি করা আর এর মধ্যে দিয়েই একদিন উপলব্ধি আসবে ইনশাআল্লাহ্*,

    "কুরআন ই হচ্ছে আমার জীবন বিধান"

    ভাই আল্লাহ্* আমাদের এমন এক কুরআন দিয়েছেন, যা সংরক্ষিত লওহে মাহফুজে! লওহে মাহফুজে যা সংরক্ষিত থাকতে পারে তা কেমন হতে পারে ভাই! লওহে মাহফুজ যদি হাত দিয়ে ছুঁতে পারতেন তবে কেমন শিহরন হত! এই কুরআনের কাছে যাবার আগে আমাদের এমন শিহরিত, পুলকিত হতে হবে ইনশাআল্লাহ্*! প্রতিবার কুরআন এর কাছে যাবার আগে পুলকিত হতে হবে এই ভেবে যে,"আমার রব আমাকে এখন নতুন এক জ্ঞান শিক্ষা দিবেন", "আমার রব যেমন দৃষ্টি ভঙ্গী পছন্দ করেন, আমার রবের অসীম জ্ঞান অনুযায়ী যে ব্যাখ্যা সত্য তিনি আমাকে এখন সেটা শিখিয়ে দিবেন" সুবহানাল্লাহ ভাই কেমন মজা হবে! ভাবছেন আসলেই এভাবে রব দিবেন? সত্যিই আমরা এমন মজা পাবো? আসলেই এটা এত সহজ? চলেন দেখে নেই কুরআন এ ব্যাপারে কি বলছে?

    আল্লাহ্* বলছেন, কুরআন ভাই কুরআন সুরা কামার এর ২২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ্* বলছেনঃ

    "আমি উপদেশ গ্রহন করার জন্য এই কুরআন কে সহজ করে দিয়েছি, অতএব উপদেশ গ্রহন করার মত কেউ আছে কি?"

    চিন্তা করেছেন, আল্লাহ্* ডেকে ডেকে বলছেন, "কেউ আছে কি যে উপদেশ গ্রহন করবে?" এমন কুরআন কে আমরা আর দূরে ফেলে না রাখি ভাই, মুহাব্বাতের সাথে, আশা ভরসার সাথে কুরআনের কাছে ফিরে যাই!

    ইয়া আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য আপনার কিতাব কে সহজ করে দেন, আমাদের দিলে আপনার কিতাবের বুঝ দিয়ে দেন, আপনার কিতাবের সাথে সম্পর্ক করে দেন।

    * আল্লাহ্* যদি ইচ্ছা করেন, চলবে ইনশাআল্লাহ...

    *** একটা কথা বলে রাখি ভাই, এই লেখা গুলো সম্পুর্ন আমার নিজের বুঝ যার ভিতরে অসংখ্য ভুল আছে। বলতে পারেন আমি আমার বুঝ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। কোন ভাবেই এ লেখাকে কুরআনের কোন আয়াতের ব্যাখ্যা, তাফসীর হিসাবে দেখবেন না ভাই। ভুলেও এমন করবেন না কারন, আমার লেখায় ভুল আছে। হ্যাঁ যা করতে পারেন, তা হচ্ছে আমার জন্য অনেক দুয়া করতে পারেন , আল্লাহ্* যেন আমাকে আল্লাহ্*র কিতাবের বুঝ এবং আল্লাহ্*র কিতাবের প্রতি ভালোবাসা দান করেন


    Last edited by s_forayeji; 10-09-2016, 06:39 AM.
    মিডিয়া জিহাদের অর্ধেক কিংবা তারও বেশি

  • #2
    jazakallah khayer

    Comment


    • #3
      যাজাকাল্লাহ আখী। মনের কথাগুলোই আপনার লেখার সাথে মিলে যাচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকে কুরানের পূর্ণ অনুসারী বানিয়ে দিন।
      মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব
      রোম- ৪৭

      Comment


      • #4
        জাযাকাল্লহ, অাল্লাহ অাপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

        Comment


        • #5
          জাযাকাল্লাহ ভাই।অনেক সুন্দর লিখেছেন।
          al-aqsa

          Comment


          • #6
            সুবহান আল্লাহ ভাই,বেশ কয়েক দিন ধরে কুরআনের সাথে দুরুত্ত বেড়ে গিয়েছিল। ইংশা আল্লাহ আপনার এই লিখটা সেই দুরুত্ত কমিয়ে দিবে।
            জাযাকাল্লাহ ভাই।
            "তুমি রবের বান্দার প্রতি দয়া কর
            বান্দার রবও তোমার প্রতি দয়া করবেন।"

            Comment


            • #7
              ইয়া আল্লাহ, আপনি আমাদের জন্য আপনার কিতাব কে সহজ করে দেন, আমাদের দিলে আপনার কিতাবের বুঝ দিয়ে দেন, আপনার কিতাবের সাথে সম্পর্ক করে দেন।
              ......Amiin...

              Comment


              • #8
                জাযাকাল্লাহ আঁখি...
                হে আকসা আমরা আসছি........

                Comment


                • #9
                  আমিরুল মুমেনিন হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুমের (যিনি কুরআন তিলাওয়াত করা অবস্থায় শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেছেন এবং যার রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল তাঁর সম্মুখে থাকা কুরআনের মুসহাফ) নিন্মের উক্তিটি কতই না উত্তম !!!

                  “যদি অন্তরগুলো বিশুদ্ধ হয়, তবে সেগুলো আল্লাহর কিতাবের তৃষ্ণায় কখনও পরিতৃপ্ত হবে না।”
                  "মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলুল্লাহর প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।"(সূরাঃতাওবা,আয়াতঃ১২০)

                  Comment


                  • #10
                    কুরআন হচ্ছে তা, যা বহন করার ভয়ে পাহাড় কেঁপে উঠেছিলো। শেষ কবে কুরআন দেখে আমি, আপনি কেঁপে উঠেছি!
                    আল্লাহু আকবর , যাজাকাল্লাহ আঁখি

                    Comment


                    • #11
                      আলাহামদুল্লিলাহ
                      বেশকিছু দিন ধরে ঠিক মত কুরআন পরেতে পারিনা।
                      আমি মোবাইলেই বেশি পরতাম,সিকিউরিটির জন্য মোবাইলে কুরআন রাখাও নিষেধ।
                      আমাদের জন্য দোয়া করবেন ইনশাআল্লাহ।
                      লেখাটা খুব ভালো লেগেছে।
                      আপনি যদি অনুমিত দেন তাহলে ফেসবুকে দিব ইনশাআল্লাহ।
                      মা আস সামাল।

                      Comment

                      Working...
                      X