Announcement

Collapse
No announcement yet.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার লাভ ও উপক

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার লাভ ও উপক

    আমরা যারা মুসলিম, আমরা যারা উম্মাতে মুহাম্মাদি, আমরা যারা হাদিস অধ্যয়ন করি, পড়ি বা লিখি তারা, অবশ্যই নবীকুল শিরোমণি, মুত্তাকীদের ইমাম, মুজাহিদীনদের ইমাম, সারা জাহানের জন্য রহমত, পাপীদের জন্য আল্লাহর অনুমতিক্রমে শাফা‘আতকারী এবং সত্য পথের প্রদর্শক মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুবারক নাম মুখ দিয়ে বার বার উচ্চারণ করে থাকি।
    সত্যবাদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের এক সাথী উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কতই না সত্য কথা বলেছেন যে, হে কা‘ব! যদি তুমি তোমার সম্পূর্ণ সময় আমার উপর দরূদ পড়ার জন্য ব্যয় করে দাও তাহলে তোমার দুনিয়া ও আখিরাতের দুশ্চিন্তা ও দুঃখের জন্য তা যথেষ্ট হবে।(তিরমিযী: ২৪৫৭)
    আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমে স্বীয় কালাম সম্পর্কে বলেন,
    ﴿ٞۗ قُلۡ هُوَ لِلَّذِينَ ءَامَنُواْ هُدٗى وَشِفَآءٞۚ ٤٤ ﴾ [فصلت: ٤٤]
    “হে মুহাম্মদ! আপনি বলে দিন। ঈমানদারদের জন্য এই কুরআন হিদায়েত ও শিফা”।(সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৪৪)
    এই একই কথা নির্দ্বিধায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের ব্যাপারেও বলা যেতে পারে যে, ঈমানদারদের জন্য তা হল হিদায়েত ও শিফা। আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়ার নির্দেশ তো আল্লাহ নিজেই দিয়েছেন। সুতরাং, নবীর উপর দরূদ পড়ার অর্থই আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়ন ও হুকুম পালন করা। আর নিঃসন্দেহে বলা যায় আল্লাহর আদেশ নিষেধ মানা ও তার বাস্তবায়নই হল হিদায়েত। আল্লাহর কুরআন যেমন মানব জাতির জন্য শিফা, অনুরূপভাবে আল্লাহর রাসূলের হাদিসও মানব জাতির জন্য শিফা। এ বিষয়ে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা রয়েছে। যেমন-
    ইমাম রমাদী রাহিমাহুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ সম্পর্কে “তারীখে বাগদাদ” নামক গ্রন্থে লিখিত আছে: যখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন বলতেন: আমাকে হাদিস পড়ে শুনাও কেননা তাতে রয়েছে শিফা। পাক ভারত উপমহাদেশে শাহ ওয়ালী উল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ এর পরিবারের ধর্মীয় অবদানের কথা কার অজানা?। তাঁর পিতা শাহ আব্দুর রহীম রাহিমাহুল্লাহ বলতেন: দ্বীনি খেদমতের যা সৌভাগ্য আমি অর্জন করেছি তা সব একমাত্র দরূদ শরীফের বরকতেই করেছি।
    আল্লামা সাখাবী রাহিমাহুল্লাহ ‘আল কাউলুল বদী’ গ্রন্থে অনেক মুহাদ্দিসের স্বপ্ন বর্ণনা করেছেন। যার দ্বারা প্রতিয়মান হয়, তাদের সবাইকে শুধুমাত্র এ কারণেই ক্ষমা করা হয়েছে যে তাঁরা হাদিস লেখার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের সাথে সাথে দরূদ পড়তেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার গুরুত্ব ও ফযীলত যে কত অপরিসীম তা আমরা চিন্তাই করতে পারি না। আমরা বিভিন্নভাবে আমাদের সময়কে অপচয় করে থাকি। যদি আমরা সময়কে অপচয় না করে আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়তে থাকি, তা আমাদের একদিন কাজে লাগবে।


    আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়ার লাভ ও ফযিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত, যাতে যারা বেশি বেশি করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পড়ে তাদের অবস্থান ও মান মর্যদা তুলে ধরা হয়েছে। নিম্নে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ার কয়েকটি লাভ ও উপকারিতা আলোচনা করছি।

    এক. আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া মানে, আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। কারণ আল্লাহ নিজেই তার নবীর উপর দরূদ পড়ার নির্দেশ দেন এবং তিনি নিজেও তার উপর দরূদ পড়েন। যদিও আল্লাহর দরূদ পড়া আর আমাদের দরূদ পড়ার অর্থ এক নয়। আমাদের দরূদ পড়ার অর্থ হল, তার জন্য দো‘আ করা। আর আল্লাহর দরূদ পড়ার অর্থ হল তার প্রশংসা করা।
    অনুরূপভাবে রাসূলের উপর দরূদ পড়ার মাধ্যমে ফেরেশতাদের সাথেও একাত্মতা পোষণ ও তাদের অনুকরণ করা হয়। কারণ তারাও আল্লাহর নবীর উপর দরূদ পড়েন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
    ﴿ إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا ٥٦ ﴾ [الاحزاب : ٥٦]
    “আল্লাহ তা‘আলা নবীর উপর দরূদ পাঠ করেন। আর তাঁর মালাক তথা ফেরেশতাগণ নবীর জন্য আল্লাহর কাছে রহমতের দো‘আ করেন। অতএব, হে ঈমানদার লোকেরা! তোমরাও নবীর উপর সালাত ও সালাম প্রেরণ কর”।(সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৬)

    দুই. আল্লাহ তা‘আলা দরূদ পাঠকারীর উপর দরূদ পড়েন:
    আল্লাহর নবীর উপর কেউ একবার দরূদ পড়লে আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা তার দশবার দরূদ পড়ে। যতক্ষণ পর্যন্ত লোকটি দরূদ পড়তে থাকে ফেরেশতারাও তার উপর দরূদ পড়তে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
    «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا» (رواه مسلم).
    “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর দশবার দরূদ পাঠ করে।(মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪)
    وعَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ - رضي الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللهِ - صلى الله عليه وآله وسلم - جَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ وَالْبُشْرَى فِي وَجْهِهِ فَقُلْنَا: إِنَّا لَنَرَى الْبُشْرَى فِي وَجْهِكَ؟ فَقَالَ: «إِنَّهُ أَتَانِي الْمَلَكُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُولُ: أَمَا يُرْضِيكَ أَنَّهُ لَا يُصَلِّي عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا، وَلَا يُسَلِّمُ عَلَيْكَ أَحَدٌ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا». (صحيح رواه النسائي وغيره).
    “আব্দুল্লাহ ইবন আবি তালহা রা. তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে উপস্থিত হলেন, আমরা তাঁর চেহারায় খুশির ভাব দেখতে পেলাম, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার চেহারার মধ্যে আনন্দ দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন, আমার নিকট ফেরেশতা এসে বললেন, হে মুহাম্মদ তোমার রব বলেন, তুমি কি এতে খুশি নও যে, যদি কোনো ব্যক্তি তোমার উপর একবার দরূদ পড়ে আমি তার উপর দশবার দরূদ পড়ি এবং যদি কেউ একবার সালাম দেয়, আমি তাকে দশবার সালাম দেই?” [নাসাঈ, হাদীস:১২৮৩]
    وعن أنس - رضي الله عنه - قال: قال رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم -: «أَكْثِرُوا الصلاةَ عَليَّ يوَْمَ الجمعَة؛ فإنه أتاني جِبريلُ آنفًا عن ربِّه - عز وجل - فقال: «مَا عَلَى الأرضِ مِن مُسلمٍ يُصَلِّي عليكَ مرَّةً واحدةً إلا صليتُ أنا وملائكَتي عليهِ عشرًا» (حسن رواه الطبراني)
    “আনাস রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি করে সালাত পড়। কারণ, জিবরীল আ. আমার নিকট এখনি তার রবের নিকট থেকে এ বাণী নিয়ে এসেছে যে, “জমিনের উপর কোনো মুসলিম যদি আমার উপর একবার দরূদ পড়ে আমি এবং আমার ফেরেশতারা তার উপর দশবার দরূদ পড়ি”।(তাবরানী, হাদিস:৫৬৭৪)
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
    «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصَلِّي عَلَيَّ إِلَّا صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ مَا صَلَّى عَلَيَّ؛ فَلْيُقِلَّ الْعَبْدُ مِنْ ذَلِكَ أَوْ لِيُكْثِرْ». (حسن رواه ابن ماجه)
    “কোনো মুসলিম আমার উপর দরূদ পড়া মাত্রই ফেরেস্তারা তার উপর সমপরিমাণ দরূদ পড়ে। সুতরাং, একজন মুসলিম যেন দরূদ পড়ে এবং বেশি করে দরূদ পড়ে।
    (ইবনু মাযা, হাদিস:৯০৭)

    তিন- গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন:
    যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দশটি নেকি লিপিবদ্ধ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং দশটি দরজা বুলন্দ করেন।
    عَنْ أَبِي طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: أَصْبَحَ رَسُولُ الله - صلى الله عليه وآله وسلم - يَوْمًا طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِهِ الْبِشْرُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، أَصْبَحْتَ الْيَوْمَ طَيِّبَ النَّفْسِ يُرَى فِي وَجْهِكَ الْبِشْرُ؟ قَالَ: «أَجَلْ أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي - عز وجل - فَقَالَ: مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ مِنْ أُمَّتِكَ صَلَاةً كَتَبَ اللهُ لَهُ عَشْرَ حَسَنَاتٍ، وَمَحَا عَنْهُ عَشْرَ سَيِّئَاتٍ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَهَا». (صحيح رواه أحمد والنسائي)
    “আবু তালহা আল আনসারী রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সকালে আমাদের মধ্যে উপস্থিত হলে, আমরা তার চেহারার মধ্যে খুশি দেখতে পেলাম, আমরা বললাম হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার চেহারার মধ্যে আনন্দ দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন, আমার নিকট আমার রবের পক্ষ হতে একজন ফেরেশতা এসে বলল, যদি তোমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি তোমার উপর একবার দরূদ পড়ে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দশটি নেকী লিপিবদ্ধ করেন, দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন, দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার জন্য সমপরিমাণ রহমত প্রেরণ করেন।(আহমদ, হাদিস:১৬৩৫২)

    চার. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দরূদ পাঠকারীর আলোচনা:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়াতে রাসূলের সামনে তোমার নাম উল্লেখ করার সৌভাগ্য লাভ হয়। একজন মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় পাওনা আর কি হতে পারে যে তার নাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আলোচনা হয়। প্রমাণ:
    فعن ابن مسعود - رضي الله عنه - عن النبي - صلى الله عليه وآله وسلم - قال: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي مِنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» (صحيح رواه النسائي وابن حبان)
    “আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহর কতিপয় ফেরেশতা রয়েছেন যারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ায়। তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছিয়ে দেন।
    [নাসায়ী,ইবনে হিব্বান(সহীহ)]
    وعن الحسن بن علي - رضي الله عنهما - أن رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم - قال: «حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي». (صحيح رواه الطبراني).
    “হাসান ইবন আলী রা. বলেন, তোমরা যেখানেই থাক, আমার উপর দরূদ পাঠ কর, কারণ, তোমাদের সালাত আমার নিকট পৌছানো হয়। [তাবরানী (হাদিস সহীহ)]

    পাঁচ- রাসূলের উত্তর পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে দরূদ এবং সালামের উত্তর পাওয়ার সৌভাগ্য লাভ হয়। প্রমাণ:
    فعن أبي هريرة - رضي الله عنه - عن رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم - قال: «مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامَ» (حسن رواه أحمد وأبو داود)
    “আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে কোনো মুসলিম আমার উপর সালাম দেয়, আল্লাহ তা‘আলা আমার রূহকে শরীরে ফিরিয়ে দেয় যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি।[আহমদ ও আবু দাউদ:২০৪১, হাদিসটি হাসান]

    ছয়- রাসূলের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত বৃদ্ধি ও নৈকট্য লাভের কারণ হয়ে থাকে। প্রমাণ:
    عن أبي أمامة - رضي الله عنه - قال: قال رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم -: «أكثِرُوا علَيَّ مِن الصلاةِ في كلِّ يومِ جمعة؛ فإن صلاةَ أمَّتي تُعرَضُ عليَّ في كلِّ يومِ جمعة؛ فمَن كانَ أكثرَهم عليَّ صلاةً كانَ أقربَهُم منِّي منزِلةً» (حسن رواه البيهقي)
    “আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার প্রতি জুমায় আমার উপর দরূদ বেশি করে পড়, কারণ, আমার উম্মতের দরূদ পাঠ প্রতি জুমায় আমার নিকট পেশ করা হয়, যে ব্যক্তি বেশি দরূদ পাঠকারী হয়ে থাকে, যে মর্যাদার দিক দিয়ে আমার বেশি নিকটে হয়ে থাকে।[বাইহাকী, হাদিস: ৫৯৯৫]
    وعن ابن مسعود - رضي الله عنه - قال: قال رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم -: «أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاةً». (حسن رواه الترمذي).
    “ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন উত্তম হবে, যে আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পড়ে।[তিরমিযি]
    হাদিসে উত্তম বলতে মানুষের সবচেয়ে কাছের লোক এবং যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ লাভে ধন্য তাদরে বুঝানো হয়েছে। যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করেন তারাই রাসূলের অনুকরণ করেন এবং তাদের অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
    ﴿قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ ﴾ [ال عمران: ٣١]
    “বল, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।[ সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১]

    সাত. গুনাহ মাপ হয়:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ গুনাহ মাপের কারণ হয় এবং দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের জন্য তা যথেষ্ট হয়। প্রমাণ:
    عن أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ - رضي الله عنه - قال: كَانَ رَسُولُ الله - صلى الله عليه وآله وسلم - إِذَا ذَهَبَ ثُلُثَا اللَّيْلِ قَامَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا اللهَ، اذْكُرُوا اللهَ، جَاءَتْ الرَّاجِفَةُ تَتْبَعُهَا الرَّادِفَةُ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ، جَاءَ الْمَوْتُ بِمَا فِيهِ». قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أُكْثِرُ الصَّلَاةَ عَلَيْكَ، فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلَاتِي؟فَقَالَ: «مَا شِئْتَ». قُلْتُ: الرُّبُعَ؟ قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ». قُلْتُ: النِّصْفَ؟ قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ». قُلْتُ: فَالثُّلُثَيْنِ؟ قَالَ: «مَا شِئْتَ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ». قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلَاتِي كُلَّهَا؟ قَالَ: «إِذًا تُكْفَى هَمَّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ». (حسن صحيح رواه والترمذي)
    “উবাই ইবন কা‘ব রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে উঠে যেতেন। অতঃপর তিনি বলতেন, হে মানুষেরা! তোমরা আল্লাহর যিকির কর, তোমরা আল্লাহর যিকির কর, রাজেফা তো প্রায় এসেই গেছে তারপরই রাদেফা আসবে। মৃত্যু তার আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে উপস্থিত, মৃত্যু তার আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে উপস্থিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার উপর বেশি বেশি করে সালাত প্রেরণ করতে চাই। আমি আপনার উপর কতবার সালাত প্রেরণ করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা পার, আমি বললাম, আমার সমূদয় দো‘আর চার ভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তুমি যা পার, তবে যদি তুমি বাড়াও তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, তাহলে কি আমি আমার সমূদয় দো‘আর অর্ধেক আপনার জন্য সালাত প্রেরণে নিয়োজিত করব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যা পার, তবে যদি তুমি বাড়াও তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, তাহলে কি আমি আমার সমূদয় দো‘আর তিনভাগের একভাগ আপনার জন্য সালাত পাঠে ব্যয় করব? তিনি বললেন, তুমি যা পার, তবে যদি তুমি বাড়াও তাহলে তা তোমার জন্য উত্তম। আমি বললাম, আমি আমার সমূদয় দো‘আই কি আপনার জন্য সালাত প্রেরণে কাটিয়ে দেব। তিনি বললেন, তাহলে তা তোমাকে দুশ্চিন্তা করবে এবং তোমার গুনাহসমূহ মুচে দেবে।[বর্ণনায় তিরমিযি, হাদিস: ২৪৫৭, তিনি বলেন হাদিসটি হাসান ও সহীহ।]

    আট: শাফাআত লাভের কারণ হয়:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা তার শাফাআত লাভের কারণ হয়। প্রমাণ:
    فعن عبد الله بن عمرو - رضي الله عنه - قال: قال رسول الله - صلى الله عليه وآله وسلم -: «مَنْ صَلَّى عليَّ أو سألَ لِيَ الوسيلةَ حقَّتْ عليهِ شفَاعَتي يَومَ القِيَامَة» (رواه الجهضمي في فضل الصلاة على النبي - صلى الله عليه وآله وسلم - وصححه الألباني)
    “আব্দুল্লাহ ইবন ‘আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পড়ে অথবা আমার জন্য আল্লাহর নিকট ওসিলা চায়, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হবে।[ আল্লামা জাহদামী হাদিসটি বর্ণনা করেন এবং আল্লামা আলবানী হাদিসটিকে সহীহ বলে আখ্যায়িত করেন।]

    নয়. দো‘আ কবুল হয়:
    দো‘আ করার পূর্বে দুরূদ পড়া হলে, তাতে তার দো‘আ কবুল হয়। উমামাহ রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া না হলে, কোনো দো‘আই কবুল করা হয় না।
    হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা মুনাবী রহ. বলেন, (كلُّ دعاءٌ محجوبٌ) কথাটির অর্থ, দো‘আ কবুল করা হয় না। অর্থাৎ, যে দো‘আর সাথে দুরূদ পড়া হয় না, সে দো‘আ আল্লাহর নিকট পৌছানো হয় না। কারণ, দুরূদ পাঠ করা দো‘আ কবুল হওয়ার মাধ্যম।
    وعن علي - رضي الله عنه - قال: «كل دعاء محجوب حتى يصلى على محمد - صلى الله عليه وآله وسلم -». (صحيح رواه الطبراني موقوفًا).
    “আলী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সব দো‘আই বিরত রাখা হয়ে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া না হয়।[তাবরানী মওকুফ সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেন। হাদিসটি বিশুদ্ধ]
    অন্য বর্ণনায় বর্ণিত,
    وعَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضي الله عنه - قَالَ: «إِنَّ الدُّعَاءَ مَوْقُوفٌ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَا يَصْعَدُ مِنْهُ شَيْءٌ حَتَّى تُصَلِّيَ عَلَى نَبِيِّكَ - صلى الله عليه وآله وسلم -» (صحيح رواه الترمذي)
    সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যেব রহ. ওমর ইবন খাত্তাব রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেন, দো‘আ আসমান ও জমিনের মাঝে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, তোমাদের নবীর উপর দো‘আ পড়া ছাড়া কোনো দো‘আই আসমান পর্যন্ত আরোহন করে না।[বর্ণনায় তিরমিযি, হাদিস নং ৪৮৬, হাদিসটি সহীহ]

    দশ. মজলিস বরকত পূর্ণ হয়:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া মুজলিস সুঘ্রাণ হওয়া ও কিয়ামতের দিন অনুতাপ মুক্ত হওয়ার কারণ হয়। যে মজলিসে আল্লাহর যিকির করা হয় না, তার প্রশংসা করা না হয় এবং তার নবীর উপর দরূদ পড়া করা না হয়, এ ধরনের মজলিস দূর্গন্ধময় হয়ে থাকে। আর যে মজলিসে দুরূদ পড়া হয় সে মজলিস দূর্গন্ধযুক্ত হওয়া থেকে মুক্ত হয়।

    এগারো. কৃপণ বলে আখ্যায়িত করা হতে পরিত্রাণ লাভ:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উচ্চারণ করার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা, তার নামের সাথে কৃপণ শব্দটি যোগ করা হতে মুক্তি লাভ করে এবং বান্দা অন্তরের কাঠিন্য হতে মুক্তি লাভ করে।

    বারো. জান্নাতের পথ সুগম করে:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা দরূদ পাঠকারীকে জান্নাতের দিকে পথ দেখায় আর যে দরূদ পাঠ করে না তাকে জান্নাতের পথ হতে বিচ্যুত করে।

    তেরো. উত্তম প্রশংসা অর্জন:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠকারীর সু-প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলা আসমানবাসী ও জমীন বাসীর মাঝে স্থায়ীভাবে ধরে রাখেন। কারণ, একজন মুসল্লি আল্লাহর নিকট এ বিষয়টিই কামনা করেন যে, আল্লাহ তা‘আলা যেন, আল্লাহর রাসূলের মান, মর্যাদা ও সম্মান সর্বদা অবশিষ্ট রাখেন। সুতরাং তার বিনিময় ও তার অনুরূপই হবে। ফলে দরূদ পাঠ কারীর জন্য আল্লাহ তা‘আলা একই বিনিময় (তার মান-মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুন্ন রাখা) দান করবেন।

    চৌদ্দ. বরকত লাভের কারণ:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা দরূদ পাঠকারীর আমল, হায়াত ও যাবতীয় কর্মে বরকতের কারণ হয়। কারণ, দরূদ পাঠকারী আল্লাহর রাসূল তার পরিবার পরিজন ও সাহাবীদের জন্য দো‘আ করে থাকেন। আর এ দো‘আ অবশ্যই কবুল হবে। আর যখন কোনো বান্দা অপরের জন্য দো‘আ করে আল্লাহ তা‘আলা তাকেও অনুরূপ বিনিময় দান করেন।

    পনেরো. আল্লাহর রহমত লাভ:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া আল্লাহর রহমত লাভের কারণ হয়:
    যেমন আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রহ. বলেন, সালাতের এক অর্থ হল, রহমত। ফলে যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পাঠ করবে সে অবশ্যই আল্লাহর রহমত লাভে ধন্য হবে। অথবা সালাত পাঠের আবশ্যকীয় ও অনিবার্য ফল হল, আল্লাহর রহমত লাভ করা। সুতরাং একজন দরূদ পাঠকারী যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি করে দরূদ পাঠ করবে তখন সে আল্লাহর পক্ষ হতে রহমতের ভাগি হবে।

    ষোলো. রাসূলের মহব্বত স্থায়ী হওয়া, বৃদ্ধি পাওয়া ও দ্বিগুণ হওয়া:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি স্থায়ী মহব্বত, মহব্বত বৃদ্ধি ও দ্বিগুণ হওয়ার কারণ:
    আর এটি হল ঈমানের দৃঢ় বন্ধন; এটি ছাড়া কখনোই একজন ঈমানদারের ঈমান পূর্ণতা লাভ করে না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত ছাড়াও ঈমানের পূর্ণতা সম্ভব নয়। কোনো বান্দা যখন তার মাহবুবের আলোচনা বেশি বেশি করে তখন তার অন্তরে তার উপস্থিতি স্থায়ী হয়। তার সৌন্দর্য ও গুণাগুণগুলো তার সামনে বার বার ভেসে উঠে। তার প্রতি তার ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়, তার প্রতি তার আগ্রহ ও শওক বাড়তে থাকে এবং তার অন্তরে সেই কেবল স্থান করে নেয়। আর যখন কোনো মানুষ তার মাহবুবের আলোচনা থেকে বিরত থাকে, তার সৌন্দর্যগুলোকে অবলোকন না করে তখন মাহবুবের প্রতি তার ভালোবাসা লোপ পায়। যখন কোনো মানুষ কাউকে ভালোবাসে তখন মাহবুবের দর্শন, তার সৌন্দর্যের আলোচনা ও তার গুণাগুণ ছাড়া কোনো কিছুই তার চক্ষুকে শীতল করতে পারে না, কোনো কিছুই তার অন্তরকে শান্ত করতে পারে না। সে তার মাহবুবের আলোচনা শুনতে ও তার দর্শন লাভ করতে সব সময় ব্যাকুল থাকে।

    সতেরো. রাসূলের উপর দরূদ পড়া দ্বারা রাসূলের মহব্বহত লাভে বান্দা ধন্য হয়:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা, তার মহব্বতের কারণ:
    দরূদ পাঠকারীর অন্তরে যেমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত বাড়ে অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত লাভেরও কারণ হয়ে থাকে।

    আঠারো. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা বান্দার হিদায়েতের কারণ হয় এবং তার আত্মার জীবন লাভ হয়:
    কারণ, যখন কোনো বান্দা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশি বেশি দরূদ পড়ে এবং তার আলোচনা করে, তখন তার অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত বৃদ্ধি পায়। তখন তার অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ নিষেধ পালনে তার অন্তরে কোনো সংকোচ থাকে না এবং তার আনীত শরীয়তের প্রতি তার মধ্যে কোনো প্রকার অনীহা ও অনাগ্রহ তার মধ্যে অবশিষ্ট থাকে না বরং তার অন্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত শরীয়ত তার অন্তরে প্রগাড়ভাবে স্থান করে নেয় এবং অন্তরে তা বসে যায়। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ হতে হিদায়াত, কামিয়াবী ও বিভিন্ন ধরনের ইলম সংগ্রহ করতে থাকে। যখন অন্তরের মধ্যে শক্তি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহর মারেফত হাসিল হয় এবং দূরদর্শিতা অর্জন হতে থাকে, তখন তার উপর সালাত পাঠ আরও বৃদ্ধি পায় এবং তার রূহানী শক্তি প্রবল হয়।

    ঊনিশ. রাসূলের হক আদায় করা:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ তার কিছুটা হলেও তার হক আদায় করা।

    বিশ. আল্লাহর যিকিরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়:
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ আল্লাহর যিকির ও শুকরিয়া আদায়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তার বান্দার উপর তার অনুগ্রহসমূহ জানার সুযোগ করে দেয়। একজন দরূদ পাঠকারী যখন তার উপর দরূদ পড়ে তার দরূদের মধ্যে আল্লাহর যিকির থাকে, আল্লাহর রাসূলের আলোচনা থাকে, তার জন্য উত্তম বিনিময় চাওয়া হয়ে থাকে।

    একুশ. বিপদ-মসিবত,কষ্ট-পেরেশানি দূর হয়ে যায়

    দরূদ শরীফ সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিষন্নতা থেকে মুক্তি অর্জনের উপায়।

    عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ! إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي ؟ قَالَ: مَا شِئتَ . قُلْتُ: الرُّبْعَ . قَالَ: مَاشِئْتَ ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ. فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ: مَاشِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌلَكَ. قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا. قَالَ: إِذَاً تُكْفَى هَمُّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ. (حسن ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثانى(
    “উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করি। আমি কত দরূদ পড়ব? তিনি বললেন, যত তোমার মন চায়। আমি বললাম, চতুর্থাংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- আমি আপনার জন্য পুরা সময়েই দরূদ পড়ব। তিনি বললেন: তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা হবে।[তিরমিযী, হাদিস: ১৯৯৯]


    আল্লাহ্* সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের কে তাঁরই হাবিব,মুহাম্মাদে আরাবি,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর বেশী বেশী দুরুদও সালাম পাঠ করার তাওফিক দান করুন।


    সতর্কতাঃ
    অজ্ঞতার কারণে আমাদের সমাজে দরূদের নামে বিভিন্ন ধরনের বানানো দুরুদ,মিলাদ-কিয়াম,কু-সংস্কার,বিদ‘আত,বানোয়াট ও উদ্ভট কথা-বার্তার প্রচলন রয়েছে। কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবি(রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমায়িন) দের শিক্ষায় যার কোন উল্লেখ নাই। অনেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অতি ভক্তি প্রদর্শন করে এবং তাকে অধিক সম্মান দেখাতে গিয়ে তার সম্পর্কে এমন উদ্ভট কথা-বার্তা বলে থাকে, যা তার জন্য কখনোই প্রযোজ্য নয়। কিছু লোক তো তাঁকে আল্লাহর মর্যাদায় পৌঁছে দেন।তাই আমরা বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি উভয় প্রকার গোমরাহি থেকে আল্লাহ্*র নিকট আশ্রয় চাই।
    দুরুদ কিভাবে পড়তে হবে,কখন পড়তে হবে,দুরুদের শব্দগুলো কি হবে? এসবই আল্লাহ্*র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের(রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমায়িন) কে পরিপূর্ণভাবে শিখিয়ে দিয়েছেন যা আমরা তাঁর হাদিসের মাধ্যমে জেনেছি।যদি আমরা আল্লাহ্*র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখানো দুরুদগুলো পাঠ করি তবেই আমরা সওয়াব এবং ফজিলতের অংশীদার হবো ইংশাআল্লাহ।
    আল্লাহ্* সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে দ্বীন এবং ইবাদত এর ক্ষেত্রে সকল প্রকার বিদ'আত থেকে হেফাজত করুন।
    Last edited by Amer ibn Abdullah; 10-18-2016, 03:39 PM.
    "মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলুল্লাহর প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।"(সূরাঃতাওবা,আয়াতঃ১২০)

  • #2

    ভাই আপনারা উপরোক্ত পোস্টের একটা বিষয় লক্ষ করেছেন কি??
    শুধুমাত্র রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর নাম শুনার এবং লিখার সাথে সাথে দরুদ পড়ার কারনে যদি আল্লাহ তায়ালা অনেক মুহাদ্দিস কে ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন তাহলে, যে মানুষটি নিজের শরীরের সকল রক্ত দিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান প্রতিরক্ষায় শাহীদ হয়ে গেল কিংবা যে মানুষটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান প্রতিরক্ষায় ফাঁসি তে ঝুলবে তাঁদের জন্য আল্লাহ্* কি অফুরন্ত নেয়ামতের ব্যবস্থা করে রেখেছেন !!! একবার ও কি চিন্তা করে দেখেছি আমরা ?(যদি ও আমাদের চিন্তা-কল্পনা কখনো আল্লাহ্*র সেই নেয়ামতের নিকট পৌঁছতে পারবে না)?

    হ্যাঁ ভাই বুজতেই পারতেছেন কাদের কথা স্মরণ করতেছি!! সে সকল সম্মানিত ভাই দের কথাই এই মুহূর্তে স্মরণ করতেছি যারা কাবার রবের শপথ সফল হয়েছে!!আমাদের প্রিয় রাসুল কে কটূক্তিকারী,বাংলাদেশের কুখ্যাত শাতিমে রাসুলদের শায়েস্তাকারী সে সকল সম্মানিত ভাই!!!

    ১। মুকুল রানা ভাই [গত রামাদানে মুরতাদ বাহিনীর(ডিবি) হাতে শাহীদ ইংশাআল্লাহ]
    ২। ফয়সাল আরেফিন দীপ ভাই [ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত]
    ৩। মাহমুদুল হাসান আনিক [ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত]
    ৪। জিকরুল্লাহ ভাই [মুরতাদ হাসিনা সরকারের কারাগারে বন্ধী, বিচার চলছে]
    ৫। আরিফুল ভাই [মুরতাদ হাসিনা সরকারের কারাগারে বন্ধী, বিচার চলছে]
    এছাড়া ও বন্ধী আরও অনেক অজানা ভাই আছে,যাদের বিচার চলছে।
    অনেকের নামটাও আমরা জানি না। কিন্তু আল্লাহ্* তাঁদের সকল কেই চিনেন,হাউজে কাউসারের নিকট রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিকই তাঁদের সকলকে চিনে নিবেন!!ইংশাআল্লাহ।

    হায় আফসোস!!
    আফসোস এই দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের দের জন্য্*...
    আফসোস এই দেশের লক্ষ লক্ষ আলেমদের জন্য যারা সর্বদা হাদিসের দরস দিচ্ছে,আফসোস এই দেশের লক্ষ লক্ষ তালিবুল ইলম দের জন্য যারা সর্বদা হাদিসের দারস নিচ্ছে..
    কি জবাব দিবেন আপনারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাউজে কাউসারের নিকট ??
    কিভাবে শাফায়েত কামনা করেন আপনারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট??

    আপনারা কাদের বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করতেছেন??কাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন??কাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন??কাদের কে জঙ্গি বলতেছেন??কাদেরকে সন্ত্রাসী বলতেছেন??কাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতেছেন??
    Last edited by Amer ibn Abdullah; 10-24-2016, 01:54 AM.
    "মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলুল্লাহর প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।"(সূরাঃতাওবা,আয়াতঃ১২০)

    Comment


    • #3
      Originally posted by Amer ibn Abdullah View Post
      ইংশাআল্লাহ এই ব্যাপারে আরও কিছু পোস্ট (দুরুদ অর্থ কি,কখন এবং কোথায় বেশী বেশী দুরুদ পড়তে হবে,মাসনুন দুরুদ সমুহ ইত্যাদি) আসতেছে.........।
      আল্লাহ আপনাকে ইলমে নাফে' দান করুক।
      سبيلنا سبيلنا الجهاد الجهاد
      طريقنا طريقنا الجهاد الجهاد

      Comment


      • #4
        যাজাকাল্লাহ আখী। আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি দুরুদ পড়ার তাউফিক দান করুন।
        মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার দায়িত্ব
        রোম- ৪৭

        Comment


        • #5
          আলহামদুলিল্লাহ, ভাই এমন উপকারি পোস্ট আরও বেশি আশা করি...
          "তুমি রবের বান্দার প্রতি দয়া কর
          বান্দার রবও তোমার প্রতি দয়া করবেন।"

          Comment


          • #6
            দরূদ শরীফের মাসনূন শব্দসমূহ:

            নিম্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত দরূদের শব্দগুলো দেওয়া হল-
            (১)
            عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِي رَضِي اللهُ عَنْهُ أَنَّهُمْ قَالُوْا: يَا رَسُوْلَ الله صلي الله عليه وسلم كَيْفَ نُصَلّي عَلَيْكَ؟ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلي الله عليه وسلم :قُوْلُوا: اللَّهُم صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وذُرِّيَتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مَحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذرِّيَتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلَ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. (صحيح ، رواه البخاري، كتاب الأنبياء ، باب قول الله تعالى واتخذ الله ابراهيم خليلا( .
            “আবু হুমাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উপর দরূদ পড়ব কিভাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা বল ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহী ওয়া যুররিয়্যাতিহী কামা ছাল্লাইতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহী ওয়া যুররিয়্যাতিহী কামা বারাকতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ’।
            অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পত্নীগণ ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পত্নীগণ ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে বরকত অবতীর্ণ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং সুপ্রশংসিত।[বুখারী, হাদিস: ৩৩৬৯]

            (২)
            عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ رَضِي اللهُ عَيْهُ فَقَالَ: أَلاَ أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً سَمِعْتُها مِنْ النّبى صلي الله عليه وسلم ؟ فَقُلْتُ بَلَى فَأَهْدِهَا لِي! فَقَالَ: سَأَلْنَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ الصَّلاَةُ عَلَيْكُمْ أَهْلِ الْبَيْتِ فَإِنَّ اللهَ قَدْ عَلَّمَنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ ؟ قُولُوْا :اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ, اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. ( صحيح ، رواه البخاري كتاب الأنبياء ، باب قول الله تعالى واتخذ الله ابراهيم خليلا(.
            “আব্দুর রহমান ইবনু আবি লায়লা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার সাথে কা‘ব ইবনু উজরার সাক্ষাৎ হল, তিনি বললেন: আমি কি সেই হাদিয়াটুকু তোমার কাছে পৌঁছাব না যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি? আমি বললাম, অবশ্যই আপনি আমাকে সেই হাদিয়া দেন। তারপর বললেন: আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এবং আহলে বাইতের উপর কিভাবে সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা বলে দিয়েছেন। তিনি বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ। ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা কারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।
            অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর, নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে দিয়েছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।[বুখারী, হাদিস: ৩৩৭০]

            (৩)
            عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرٍو رَضِي اللهُ عَنْهُ أَتَي رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم رَجُلٌ حَتّى جَلَسَ بَيْنَ يَدَيْهِ, فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم أَمَّا السَّلاَمُ عَلَيْكَ فَقَدْ عَرَفَنَاهُ, وَأَمَّا الصَّلاَةُ فَأَخْبِرْنَا بِهَا كَيْفَ نُصَلِّى عَلَيْكَ؟ فَصَمَتَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم حَتَّى وَدَدْنَا أَنَّ الرَّجُلَ الَّذِى سَأَلَهُ لَمْ يَسْأَلْهُ. ثُمَّ قَالَ: إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَي فَقُوْلُوا: اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَبىّ الأُمِيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. (حسن ، رواه إسماعيل القاضي في فضل الصلاة علي النبي صلي الله عليه وسلم ، فضل الصلاة على النبى للألبانى.(
            “উকবা ইবনু আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এসে বসল এবং বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা আমরা জানি। তবে আপনার উপর কিভাবে সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? তা আমাদের বলে দিন। তখন তিনি চুপ থাকলেন এমনকি আমরা ভাবলাম যদি প্রশ্নকারী প্রশ্ন না করত তাহলে অনেক ভাল হত। তারপর তিনি বললেন: তোমরা আমার উপর সালাত পাঠ করার জন্য বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিনিন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ।
            অর্থাৎ, হে আল্লাহ! নিরক্ষর নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।[ইসমাঈল কাযী, হাদিস: ৫৯ (হাসান)]

            (৪)
            عَنْ أَبِيِ مَسْعُوْدٍ الأَنْصارِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ للهِ صلي الله عليه وسلم فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ فَقَالَ لَهُ بَشِيْرُ بْنُ سَعْدٍ: أَمَرَنَا اللهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلي الله عليه وسلم حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ: قُوْلُوْا : الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آل إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ فَي الْعَالَمِيْنَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ وَالسَّلاَمُ كَمَا عَلَمتمْ. ] صحيح ، رواه مسلم ، كتاب الصلاة ، باب الصلاة على النبى بعد التشهد .[
            “আবু মাসউদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা সা‘দ ইবনু উবাদার মজলিসে আমাদের কাছে আসলেন। তখন বশীর ইবনু সা‘দ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহ তা‘আলা আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা আপনার উপর দরূদ পড়ি। আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? তখন তিনি চুপ থাকলেন এমনকি আমরা ভাবলাম যদি প্রশ্নকারী প্রশ্ন না করত তাহলে অনেক ভাল হত। তারপর তিনি বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা ফিল আলামীনা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ’।
            অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে পৃথিবীতে দিয়েছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।[মুসলিম, হাদিস: ৪০৫]

            (৫)
            عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم هذَا التَّسْلِيْمُ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ؟ قَالَ: قُوْلُوْا : الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَي آلِ إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَي آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلى إِبْرَاهِيْمَ . (رواه البخاري ، كتاب التفسير ، باب قول الله تعالى إن الله وملائكته يصلون على النبى.(
            “আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাম তো আমাদের জানা আছে। তবে আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? তখন তিনি বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন আব্দিকা ওয়া রাসুলিকা, কামা ছাল্লাইতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা’।
            অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার বান্দা এবং রাসূল মুহাম্মদ এর উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে দিয়েছ ইব্রাহীম এর উপর।[বুখারী, হাদিস: ৪৭৯৮]

            (৬)
            عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ رَضِي اللهُ عَيْهُ فَقَالَ: أَلاَ أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً ؟ خرج علينا رسول الله فقلنا قد عرفنا كيف نسلم عليك فكيف نصلي عليك ؟ قال : قُولُوْا:اللهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ َعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ, اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. (صحيح ، رواه مسلم ، كتاب الصلاة ، باب الصلاة على النبى بعد التشهد .(
            “আব্দুর রহমান ইবনু আবি লায়লা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমার সাথে কা‘ব ইবনু উজরার সাক্ষাত হল, তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে একটি হাদিয়া দেব না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন। আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনাকে কিভাবে সালাম জানাব তা আমরা জানি। তবে আপনার উপর কিভাবে সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? তিনি বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লাইতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ। ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ’।
            অর্থাৎ হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে দিয়েছ ইব্রাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।[মুসলিম, হাদিস: ৪০৬ ]

            (৭)
            عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ : قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم السَّلاَمُ عَلَيْكَ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ الصَّلاَةُ عَلَيْكَ؟ قَالَ: قُوْلُوا : الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلِى إِبْرَاهِيْمَ . (صحيح ، رواه النسائي ، صحيح سنن النسائى الجزء الأول.(
            আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাম তো আমাদের জানা আছে। তবে আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? তখন তিনি বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন আব্দিকা ওয়া রাসুলিকা, কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা’।
            অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এর উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীম এর উপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে দিয়েছ ইব্রাহীম এর উপর।[নাসায়ী, হাদিস: ১২২৬।(সহীহ)]

            (৮)
            عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الخُدْرِيِّ قَالَ: قُلْنَا يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم هَذَا السَّلاَمُ عَلَيْكَ قَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْف الصَّلاَةُ ؟ قَالَ: قُوْلُوْا: الَّلَهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ. ( صحيح ، رواه ابن ماجة ، صحيح سنن ابن ماجة الجزءالأول .(
            “আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সালাম তো আমাদের জানা আছে। তবে আমরা কিভাবে আপনার উপর সালাত তথা দরূদ পাঠ করব? তখন তিনি বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন আব্দিকা ওয়া রাসুলিকা, কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা’।
            হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ এর উপর এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীম এর উপর। আর মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে দিয়েছ ইব্রাহীম এর উপর।[ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৭৩৬(সহীহ)]

            (৯)
            عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ أَنَّهُمْ قَالُوْا: يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم أُمِرْنَا بِالصَّلاَةِ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ فقال : قُوْلُوا: الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ فِي الْعَالَمِيْنَ,إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. (صحيح ، رواه ابن ماجة ، صحيح سنن ابن ماجة الجزء الأول(
            “আবু হুমাইদ সা‘য়েদী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পড়ার আদশ দেওয়া হয়েছে। আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পড়ব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহী ওয়া যুররিয়্যাতিহী কামা ছাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহী ওয়া যুররিয়্যাতিহী কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ফিল আলামীনা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ’।
            অর্থাৎ হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পত্নীগণ ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে দরূদ পাঠ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীমের উপর। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পত্নীগণ ও সন্তানদের প্রতি এমনভাবে বরকত অবতীর্ণ কর যেমনভাবে করেছ ইব্রাহীমের পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।[ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৭৩৮(সহীহ)]

            (১০)
            عَنْ زَيْدِ بْنِ خَارِجَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: أَنَا سَأَلْتُ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم فَقَالَ: صَلُّوْا عَلَيَّ وَاجْتَهِدُوْا فِي الدُّعَآءِ وَقُوْلُوْا: الَّلهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ . (صحيح ، رواه النسائي ، صحيح سنن النسائى الجزء الأول).
            “যায়েদ ইবনু খারিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা আমার উপর দরূদ পড় এবং অনেক বেশী চেষ্টা করে দো‘আ’ কর। এভাবে বল: ‘আল্লাহুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন’।
            অর্থাৎ, হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর রহমত বর্ষণ কর।[নাসায়ী, হাদিস: ১২২৫ (সহীহ)]

            (১১)
            عَنْ مُوْسَى بْنِ طَلْحَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَال: أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ خَارِجَةَ قَالَ:قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَدْ عَلِمْنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ قَالَ صَلُّوْا عَلَيَّ وَقُوْلُوْا:الَّلهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَآلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. ( صحيح ، رواه أحمد ، فضل الصلاة على النبى للألبانى(
            “মুসা ইবনু ত্বালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যায়েদ ইবনু খারিজাহ আমাকে বললেন যে, তিনি বলেছেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে কিভাবে সালাম করব তা আমারা জানি। তবে আপনার উপর সালাত তথা দরূদ কিভাবে পাঠ করব? তখন তিনি বললেন: তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করতঃ বল: ‘আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্মাজীদ’।
            অর্থাৎ হে আল্লাহ! মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদের উপর এমনভাবে বরকত দাও যেমনভাবে দিয়েছ ইব্রাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় তুমি মহান এবং প্রশংসিত।[মুসনাদু আহমদ, হাদিস: ৬৮। (সহীহ)]

            রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম পাঠ করা:
            নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম প্রেরণের জন্য মাসনূন শব্দ হল নিম্নরূপ।
            عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعٌوْدِ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: الْتَفَتَ إِلَيْنَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم فَقَالَ: إِنَّ اللهَ هُوَ السَّلاَمُ, فَإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ: التَّحِيَّاتُ للهِ وَالصَّلوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَا تُهُ, السّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عَبَادِ اللهِ الصَّالَحِيْنَ ، فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتٌمٌوْهَا أَصَابَتْ كَلَ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَآءِ وَالأرْضِ , أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ .( صحيح ، رواه البخاري ، كتاب الصلاة ، باب التشهد فى الآخرة).
            “আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন: আল্লাহই হলেন ‘সালাম’। অতএব তোমরা যখন সালাত আদায় করবে তখন বলবে-‘আতাতহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াচ্ছালাওয়াতু ওয়াত্ত্বাইয়িবাতু আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ইবাদিল্লাহিচ্ছালিহীন’ -এরূপ বললে আসমান ও জমিনের প্রত্যেক নেককার ব্যক্তি তা প্রাপ্ত হবে। তারপর বলবে ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু’।[বুখারী, হাদিস: ৮৩১]

            দরূদ শরীফ পড়ার কিছু বিশেষ সময় ও স্থানসমুহ:

            এক- সালাতের শেষাংশে দরূদ পাঠ করা:
            সালাত শেষ করার পূর্বে দরূদ পাঠ করা সূন্নাত। প্রমাণ:
            عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُوفِى صَلاَتِهِ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم . فَقَالَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم : عَجَّلَ هَذَا ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ إِذَا صَلّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيْدِ اللهِ والثَّنَآءِ عَلَيْهِ ثُمَّ لَيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم ثُمَّ لَيَدْعُ بَعْدُ مَا شَاءَ . (صحيح ، رواه الترمذى ، صحيح سنن الترمذى الجزء الثالث).
            “ফুদ্বালাহ ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে ছালাতে দো‘আ করতে শুনলেন। লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করল না। তখন তিনি বললেন, এই লোকটি তাড়া-হুড়া করল। তারপর তাকে ডেকে বললেন, যখন তোমাদের কেউ সালাত পড়বে তখন প্রথম আল্লাহর প্রশংসা করবে তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়বে। অতঃপর যা ইচ্ছা দো‘আ করবে।[তিরমিযী, হাদিস: ২৭৬৭ (সহীহ)]

            দুই. জানাযার সালাতে দরূদ পড়া:
            জানাযার ছালাতে (নামায) দ্বিতীয় তাকবীরের পর দরূদ পাঠ করা সুন্নাত। প্রমাণ-
            عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم أَنَّ السُّنَّةَ فِي الصَّلاَةِ عَلَى الْجَنَازَةِ أَنْ يُكَبِّرَ الإِمَامُ ثُمَّ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ بَعْدَ التَّكْبِيْرَةِ الأُوْلَى سِرًّا فِي نَفْسِهِ ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم وَيُخَلِّص الدُّعَاءَ لِلْجَنَازَةِ فِي التَّكْبِيْرَاتِ وَلاَ يَقْرَأُ فِي شَئْيٍ مِنْهُنَّ ثُمَّ يُسَلِّمْ سِرَّاً فِي نَفْسِهِ . (رواه الشافعي ، مسند الشافعى الباب الثالث والعشرون فى صلاة الجنائز (
            “আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাঁকে একজন ছাহাবী বলেছেন, জানাযার ছালাতে (নামায) সূন্নাত হল, প্রথমে ইমাম তাকবীর বলবে। প্রথম তাকবীরের পর চুপে চুপে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে, তারপর (দ্বিতীয়) তাকবীর (এর পর) দরূদ পাঠ করবে এবং (তৃতীয় তাকবীরের পর) মৃতের জন্য বিশেষভাবে দো‘আ করবে। কুরআন পাঠ করবে না। তারপর (চতুর্থ তাকবীরের পর) চুপে চুপে সালাম দিবে।[শাফেয়ী, হাদিস: ৫৮১ (সহীহ)]

            তিন. আযান শুনার পর দো‘আ পড়ার পূর্বে দরূদ পাঠ করা সূন্নাত:
            عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ رَضِي اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم يَقُوْلُ : إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُوْلُوْا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوْا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلّيَّ صَلاَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْراً , ثُمَّ سَلُوْا اللهَ لِي الْوَسِيْلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَأَرْجُوْ أَنْ أَكُوْنَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ اللهَ لِي الْوَسِيْلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ . (صحيح ، رواه مسلم ، كتاب الصلاة باب القول مثل قول المؤذن .(
            “আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তোমরা মুআয্যিনের আযান শুনবে তখন তার মত বল। তারপর আমার উপর দরূদ পড়। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর দশবার দরূদ পাঠ করবেন। তারপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য উসীলার দো‘আ করবে। কারণ উসীলা হল জান্নাতে একটি উচ্চতর মর্যাদা, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে শুধু একজনই প্রাপ্ত হবে। আমি আশা করি আমিই হব সেই ব্যক্তি। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্য আল্লাহর কাছে উসীলার দো‘আ করবে সে আমার সুপারিশ প্রাপ্ত হবে।[মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪।]

            চার. সর্বাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া ইসলামের নির্দেশ:
            প্রত্যেক ঈমানদারের প্রতি সর্বাবস্থায় ও সর্বস্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠের নির্দেশ রয়েছে।
            عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَال رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم :لاَ تَتَّخِذُوْا قَبْرِي عِيْداً وَلاَ تَجْعَلُوْا بُيُوْتَكُمْ قُبُوْراً وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَصَلُّوْا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ تَبْلُغُنِي . (صحيح ، رواه أَحمد ، فضل الصلاة على النبى للألبانى).
            “আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার কবরকে ঈদে (মিলনমেলায়) পরিণত করো না। আর তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরে পরিণত করনা। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন আমার উপর দরূদ পড়। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।[আহমদ, হাদিস: ২০ (সহীহ)]
            عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيْقِ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : أَكْثِرُوْا الصَّلاَةَ عَلَيَّ فَإِنَّ اللهَ وَكَّلَ بِي مَلَكاً عِنْدَ قَبْرِي فَإِذَا صَلَّي عَلَيَّ رَجُلٌ مِنْ أُمَّتِي قَالَ لِي ذَلِك الْمَلَكُ: يَا مُحَمَّدَ إِنَّ فُلاَنَ ابْنَ فُلاَنٍ صَلَّي عَلَيْكَ السَّاعَةَ . (حسن ، رواه الديلمي ، سلسلة الأحاديث الصحيحة للألبانى ، الجزء الأول(
            “আবু বকর ছিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পড়। কারণ আল্লাহ তা‘আলা আমার কবরের কাছে একজন মালাক (ফেরেশতা) নির্ধারণ করে রেখেছেন। যখন আমার উম্মতের কোনো ব্যক্তি আমার উপর দরূদ পাঠ করে তখন সে মালাক আমাকে বলে, হে মুহাম্মদ! অমুকের ছেলে অমুক এই মুহুর্তে আপনার উপর দরূদ পাঠ করেছে।[দায়লামী, হাদিস: ১২১৫ (হাসান)]
            عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِي اللهُ عَنْهُ قالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم :إِنَّ للهِ مَلاَئِكَةً سَيَّاحِيْنَ فِي الأَرْضِ يُبَلِّغُوْنِي مِنْ أُمَّتِي السَّلاَمَ . (صحيح ، رواه النسائي ، صحيح سنن النسائى الجزء الأول(
            “আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহর কতিপয় ফেরেশতা রয়েছেন যারা বিশ্বে ঘুরে বেড়ায়। তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছিয়ে দেন।[নাসায়ী, ১২৮২। (সহীহ)]

            পাঁচ. জুমার দিন বেশি বেশি করে দরূদ পড়া:
            জুমার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করার নির্দেশনা রয়েছে:
            عَنْ اَبِيْ مَسْعُوْدٍ الأَنْصَارِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : أَكْثِرُوْا الصَّلاَةَ عَلَيَّ فِي يُوْمِ الْجُمْعَةِ فَإِنَّهُ لَيْسَ يُصَلِّ عَلَيِّ أَحَدٌ يَوْمَ الْجُمْعَةِ إِلاَّ عُرِضَتْ عَلَيَّ صَلاّتُهُ. (صحيح ، رواه الحاكم والبيهقي ، صحيح الجامع الصغير الجزء الأول.(
            “আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিন আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পড়, কারণ যে ব্যক্তি জুমার দিন আমার উপর দরূদ পড়বে তার দরূদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।[হাকেম, বায়হাকী, হাদিস: ১২১৯। (সহীহ)]
            عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسِ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم: إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمِ الْجُمْعَةِ فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ , وَفِيْهِ قُبِضَ , وَفِيْهِ الْنَفْخَةُ , وَفِيْهِ الْصَّعْقَةُ , فَأَكْثِرُوْا عَلَيَّ مِن الصَّلاَةِ فِيْهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرَوْضَةٌ عَلَيَّ. قَالَ قَالُوْا: يَا رَسُوْلَ اللهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ ؟ يَقوُلُوْنَ بِلَيْتَ فَقَالَ: إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَي الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ. (صحيح ، رواه أبوداؤد ، صحيح سنن أبوداؤد ، الجزء الأول(
            “আউস ইবনু আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সর্বোত্তম দিন হল, জুমার দিন। এই দিনে আদম আলাইহিস সালাম কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনেই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছে, এই দিনেই শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে এবং এই দিনেই লোকেরা বেহুশ হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ কর। কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার কাছে আমাদের দরূদ কিভাবে পৌঁছানো হবে? আপনি তো মাটিতে মিশে যাবেন। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা জমিনের উপর নবীদের শরীর খাওয়া করা হারাম করেছেন।[আবুদাউদ, হাদিস: ৯২৫। (সহীহ)]

            ছয়. দো‘আর সময় দরূদ পড়া:
            দো‘আ ও মুনাজাত করার সময় আল্লাহর প্রশংসাবাদের পর দরূদ পড়ার আদেশ রয়েছে।
            عَنْ فُضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ: بَيْنَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَاعِدٌ إِذْ دَخَلَ رَجَلٌ فَصَلَّى فَقَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِي. فَقَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : عَجَّلْتَ أَيُّهَا الْمُصَلِّي ، إِذَا صَلَّيْتَ فَقَعَدْتَ فَاحْمَدِ اللهَ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ وَصَلِّ عَلَيَّ ثُمَّ ادْعُهْ ، قَالَ : ثُمَّ صَلَّى رَجَلٌ آخَرٌ بَعْدَ ذلِكَ فَحَمِدَ اللهَ وَصَلَّي عَلَي النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم . فَقَالَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم : أَيُّهَا الْمُصَلَّي أدْعُ تُجَبْ . (صحيح ، رواه الترمذى ، صحيح سنن الترمذى الجزء الأول(.
            “ফুদ্বালাহ ইবনু উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেছিলেন এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল তথায় সে বলল, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করা এবং দয়া কর। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে সালাত আদায়কারী! তুমি তাড়াহুড়া করে ফেলেছো। যখন তুমি সালাত আদায় করতে গিয়ে বসবে তখন আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করবে তারপর আমার উপর দরূদ পড়বে তারপর দো‘আ করবে। ফুদ্বালা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তারপর আর এক লোক সালাত আদায় করল। সে আল্লাহর প্রশংসা করল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে সালাত আদায়কারী! তুমি দো‘আ কর তোমার দো‘আ কবুল করা হবে।[তিরমিযী, হাদিস: ২৭৬৫ (সহীহ)]

            সাত. গুনাহ ক্ষমা প্রাপ্তির জন্য দরূদ পড়া সূন্নাত:
            দরূদ শরীফ গুনাহ ক্ষমা হওয়া এবং সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিষন্নতা থেকে মুক্তি অর্জনের উপায়।
            عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ! إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي ؟ قَالَ: مَا شِئتَ . قُلْتُ: الرُّبْعَ . قَالَ: مَاشِئْتَ ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ. فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ: مَاشِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌلَكَ. قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا. قَالَ: إِذَاً تُكْفَى هَمُّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ. (حسن ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثانى(
            “উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করি। আমি কত দরূদ পড়ব? তিনি বললেন, যত তোমার মন চায়। আমি বললাম, চতুর্থাংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- আমি আপনার জন্য পুরা সময়েই দরূদ পড়ব। তিনি বললেন: তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা হবে।[তিরমিযী, হাদিস: ১৯৯৯]

            আট. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম শুনা, পড়া কিংবা লেখার সময় দরূদ পড়া সুন্নাত।
            عَنْ عَلِيٍّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : الْبَخِيْلُ الَّذِي مَنْ ذُكِرْتُ عَنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ . (صحيح ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثالث(
            “আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই ব্যক্তি কৃপণ, যার কাছে আমার নাম নেওয়া হল কিন্তু সে আমার উপর দরূদ পড়ল না।[তিরমিযী, হাদিস: ২৮১১ (সহীহ)]

            নয়. মসজিদে প্রবেশ ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দরূদ পড়া:
            মসজিদে প্রবেশ করা ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম প্রেরণ করা সূন্নাত। প্রমাণ:
            عَنْ فَاطِمَةَ رَضِي اللهُ عَنْهَا بِنْتِ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَالَتْ: كَانَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَقُوْلُ : بِسْمِ اللهِ وَالسَّلاَمِ عَلَي رَسُوْلِ اللهِ ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوْبِي ، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ ، وَإِذاخَرَجَ قَالَ: بِسْمِ اللهِ وَالسَّلاَمُ عَلَي رَسُوْلِ اللهِ ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوْبِي وَافْتَحْ لِي اَبْوَابَ فَضْلِكَ . (صحيح ، رواه ابن ماجه ، صحيح سنن ابن ماجة للألبانى الجزء الأول(
            “ফাতেমা বিনতু মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: ‘বিসমিল্লাহি ওয়াসসালামু ‘আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনুবী ওয়াফতাহলী আবওয়াবা রাহমাতিকা’
            অর্থাৎ, আল্লাহর নামে আমি মসজিদে প্রবেশ করছি, আল্লাহর রাসূলের উপর শান্তি হোক, হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা কর এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খোলে দাও।
            আর যখন মসজিদ থেকে বের হতেন তখন বলতেন: ‘বিসমিল্লাহি ওয়াস্সালামু আলা রাসূলিল্লাহি আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনুবী ওয়াফতাহলী আবওয়াবা ফাদলিকা’
            অর্থাৎ, আল্লাহর নামে আমি মসজিদ থেকে বের হচ্ছি, আল্লাহর রাসূলের উপর শান্তি হোক, হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা কর এবং আমার জন্য আপনার করুণার দরজা খোলে দাও।[ইবনু মাজাহ, ৬২৫ (সহীহ)]

            দশ. সালাত শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়া:
            সালাত শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাম পৌঁছানো সুন্নাত। প্রমাণ:
            عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ إِذَا سَلَّمَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ: سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ ، وَسَلاَمٌ عَلَي الْمُرْسَلِيْنَ ، وَالْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ. (حسن ، رواه أبويعلي ، عدة الحصن الحصين( ،
            “আবু সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত থেকে সালাম ফিরাতেন তখন তিনবার বলতেন: সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইযযাতি আম্মা ইয়াছিফুন, ওয়া সালামুন আলাল মুরসালীন, ওয়াল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! লোকেরা যা বলে তা থেকে তুমি পবিত্র এবং মর্যাদা পূর্ণ, সকল নবীদের উপর সালাম ও শান্তি হোক, আর সকল প্রশংসা সারা বিশ্বের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য।[আবু ইয়া‘লা, হাদিস: ২১৩ (হাসান)]

            এগার. প্রতিটি মজলিশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরূদ পাঠ করা সূন্নাত:
            প্রত্যেক মজলিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পাঠ করা সুন্নাত। প্রমাণ:
            عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِي اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِسًا لَمْ يَذْكُرُوْا اللهَ فِيْهِ , وَلَمْ يُصَلُّوْا عَلَي نَبِيِّهِمْ إِلاَّ كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةً فَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ . (صحيح ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثالث(
            “আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোনো সম্প্রদায় যদি কোনো মজলিসে বসে এবং তাতে আল্লাহর স্মরণ করে না এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ পড়ে না, তাহলে সেই মজলিস তাদের জন্য অনুতাপের কারণ হবে। অতএব তিনি চাইলে তাদের শাস্তি দিবেন কিংবা তাদের ক্ষমা করে দিবেন।[65]

            বারো. সকাল-সন্ধা দরূদ পাঠ করা:
            প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় দরূদ পাঠ করা সূন্নাত। প্রমাণ:
            عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم : مَنْ صَلَّى عَلَيَّ حَيْنَ يُصْبِحُ عَشْرًا وَحِيْنَ يُمْسِي عَشْرًا أَدْرَكَتْهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ . (حسن ، رواه الطبراني ، صحيح الجامع الصغير للألبانى (
            “আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে দশ বার দরূদ পড়বে এবং সন্ধ্যায় দশবার দরূদ পড়বে সে কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ লাভে ধন্য হবে।[তিরমিযী, হাদিস: ২৬৯১ (সহীহ)]

            তেরো. বিপদ-মসিবত,কষ্ট-পেরেশানির মধ্যে পাঠ করাঃ

            عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ رَضِى اللهُ عَنْهُ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ! إِنِّى أُكْثِرُ الصَّلاَةَ عَلَيْكَ فَكَمْ أَجْعَلُ لَكَ مِنْ صَلاَتِي ؟ قَالَ: مَا شِئتَ . قُلْتُ: الرُّبْعَ . قَالَ: مَاشِئْتَ ، فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكَ. فَالثُّلُثَيْنِ. قَالَ: مَاشِئْتَ فَإِنْ زِدْتَ فَهُوَ خَيْرٌلَكَ. قُلْتُ: أَجْعَلُ لَكَ صَلاَتِي كُلَّهَا. قَالَ: إِذَاً تُكْفَى هَمُّكَ وَيُغْفَرُ لَكَ ذَنْبُكَ. (حسن ، رواه الترمذي ، صحيح سنن الترمذى للألبانى الجزء الثانى(
            “উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আপনার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করি। আমি কত দরূদ পড়ব? তিনি বললেন, যত তোমার মন চায়। আমি বললাম, চতুর্থাংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- দুই তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন: যত মন চায়। তবে আরও বাড়ালে তা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে। আমি বললাম- আমি আপনার জন্য পুরা সময়েই দরূদ পড়ব। তিনি বললেন: তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার পাপ ক্ষমা হবে।[তিরমিযী, হাদিস: ১৯৯৯]
            Last edited by Amer ibn Abdullah; 10-21-2016, 01:10 AM.
            "মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলুল্লাহর প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।"(সূরাঃতাওবা,আয়াতঃ১২০)

            Comment


            • #7
              ভাই আমি শুধু আলেমেদের অথবা দীনি ভাইদের বয়ান,কথা,লিখনি থেকে সংগ্রহ করেই পোস্ট করি। তাই সব ভাইরা যখন আমার পোস্টের নিছে জাযাকাল্লাহ, মাশাআল্লাহ ইত্যাদি লিখা শুরু করেন তখন আমি আমার সে সকল আলেম এবং দীনি ভাইদের জন্যই তা প্রযোজ্য মনে করি। আলহামদুলিল্লাহ। তবে আল্লাহ্*র খাজানা তো অসীম। আমি যে শুধুমাত্র একটু সাজিয়ে- গুছিয়ে কপি-পেস্ট করি তাঁর বিনিময়টুকু আল্লাহ্*র নিকট চাই।আল্লাহ যেন এই ক্ষুদ্র কাজের ওসিলায় আমাকে মাফ করে দেয়।
              Last edited by Amer ibn Abdullah; 10-22-2016, 03:46 PM.
              "মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলুল্লাহর প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।"(সূরাঃতাওবা,আয়াতঃ১২০)

              Comment


              • #8
                আমাদের ফোরাম এর সম্মানিত আলেম অথবা তালিবুল ইলম ভাই দের নিকট অনুরোধ থাকল দুরুদ শরীফ বিষয়ক আরও কোন পোস্ট চাইলে আমার এই পোস্ট এর সাথে(comment/reply) করতে পারেন ইংশাআল্লাহ। তাহলে এই শিরনামের পোস্ট এ ঢুকলে যে কেউ এই বিষয়ে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করতে পারবে ইংশাআল্লাহ।
                Last edited by Amer ibn Abdullah; 10-22-2016, 03:58 PM.
                "মদীনাবাসী ও পাশ্ববর্তী পল্লীবাসীদের উচিত নয় রসূলুল্লাহর সঙ্গ ত্যাগ করে পেছনে থেকে যাওয়া এবং রসূলুল্লাহর প্রাণ থেকে নিজেদের প্রাণকে অধিক প্রিয় মনে করা। এটি এজন্য যে, আল্লাহর পথে যে তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ক্ষুধা তাদের স্পর্শ করে এবং তাদের এমন পদক্ষেপ যা কাফেরদের মনে ক্রোধের কারণ হয় আর শত্রুদের পক্ষ থেকে তারা যা কিছু প্রাপ্ত হয়-তার প্রত্যেকটির পরিবর্তে তাদের জন্য লিখিত হয়ে নেক আমল। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীল লোকদের হক নষ্ট করেন না।"(সূরাঃতাওবা,আয়াতঃ১২০)

                Comment


                • #9
                  আল্লাহ্*(সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা) আমাদের দিলে রসূলুল্লাহর(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহহব্বত বৃদ্ধি করে দিন এবং আমাদেরকে জান্নাতের তাঁর প্রতিবেশী বানিয়ে দিন।
                  এক সাহাবী কত চমৎকার কথাই না বলেছেনঃ "হে আল্লাহ্*র রাসুল! জান্নাতে যদি আপনার প্রতিবেশী না হতে পারি অথবা আপনাকে না দেখতে পারি তবে আমি জান্নাত কিভাবে থাকবো !!"

                  Comment

                  Working...
                  X