PDA

View Full Version : ইসলাম কি তরবারীর মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছিল



power
08-25-2015, 03:48 PM
হ্যাঁ, ইসলাম তরবারীর মাধ্যমেও প্রসারিত হয়েছিল।
উত্তর করেছেন,শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদ।
সৌজন্যেঃ Islam Q&A


بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلرَّحِيمِ

প্রশ্নঃ ইসলাম কি তরবারীর মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছিল?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ইসলাম তরবারীর মাধ্যমেও প্রসারিত হয়েছিল।

আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি, (দ্র 34830 ইংরেজি ভাষায়) জিহাদ দুই প্রকারের হয়ে থাকে; লড়াইয়ের জন্য নিজে থেকে অগ্রসর হওয়া এবং আত্মরক্ষার্থে জিহাদ করা অর্থাৎ দুই প্রকারের জিহাদের একটি হচ্ছে আক্রমণাত্মক জিহাদ ও অপরটি আত্মরক্ষামূলক জিহাদ। নিসন্দেহে আক্রমণাত্মক জিহাদের জন্য পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি নেয়ার সাথে ইসলামের প্রসারের একটি বিরাট প্রভাব রয়েছে, এর মাধ্যমেই দলে দলে মানুষদের আল্লাহর দীনের দিকে নিয়ে আসা যায়। আর একারণেই, শত্রুদের অন্তর সদা সর্বদা জিহাদের ভয় কম্পমান থাকে।

ইংরেজি ভাষার একটি ম্যাগাজিন মুসলিম ওয়ার্ল্ড বলছে, “পশ্চিমা বিশ্বে অবশ্যই এক ধরণের ভয় কাজ করতে পারে, এর অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে মক্কায় সেই প্রথম ইসলামের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামের অনুসারীদের সংখ্যা কখনো কমেনি, বরং এটা সব সময় শুধু বৃদ্ধি পেয়েছে আর প্রসারিত হয়েছে। উপরন্তু ইসলাম নিছক একটি ধর্ম নয়, বরং এর অন্যতম একটি খুঁটি হচ্ছে জিহাদ”।

রবার্ট বেন বলেন, “মুসলিমরা আগেও একবার গোটা দুনিয়া বিজয় করে ছেড়েছে, আর এটা তারা আবারও করতে পারে”।

ওরিয়েন্টালিস্টরা ইসলামের নামে বিষোদগার করে থাকে এই দাবী করার মাধ্যমে যে, এটা তরবারীর মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছে।

প্রাচ্যবিদ থমাস আরনল্ড তার একটি বই “The Preaching of Islam” এ লিখেছেন, ইসলাম তরবারীর মাধ্যমে প্রসারিত হয়নি, বরং এটা প্রসারিত হয়েছে শান্তিপূর্ণ দাওয়াহর মাধ্যমে, কোন ধরণের শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই; উদ্দেশ্য মুসলিমদের মাঝে জিহাদের চেতনাকে বিনষ্ট করে দেয়া আর প্রমাণ করা যে, ইসলাম তরবারীর মাধ্যমে প্রচারিত প্রসারিত হয়নি। আর মুসলিমরা (এভাবেই) তাদের সেই সাজানো ফাঁদে ধরা দিল। একদিকে যখন তারা শুনতে পেল, প্রাচ্যবিদেরা(ওরিয়েন্টালিস্ট) অভিযোগ করছে যে, ইসলাম তরবারীর মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছে, তারা বলতে লাগল, “তোমরা ভুল করছো, আরে তোমাদের নিজেদের লোকের কাছ থেকেই এর খণ্ডন হচ্ছে, তোমাদের নিজেদের লোকেরাই তোমাদের এই দাবীর বিরোধিতা করছে, এই যে থমাস বলেছে এই কথা, এটা ইত্যাদি”

মুসলিমদের মাঝে যারা পরাজিত মানসিকতার অধিকারী তারা এগিয়ে এল ইসলামকে রক্ষা করতে ! আর তারা ইসলামকে এই মিথ্যা অভিযোগের হাত থেকে মুক্ত করতে চাইল ! তাই ইসলাম তরবারীর মাধ্যমে প্রসারিত হয়েছে, একথা তারা অস্বীকার করলো, আর তারা বললো, ইসলামে জিহাদ বলে কিছু নেই, অবশ্য আত্মরক্ষার জন্য হলে ভিন্ন কথা। তাদের দৃষ্টিতে ইসলামে নিজে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আক্রমণাত্মক জিহাদ বলে কিছু নেই। অথচ এ ধরণের মন্তব্য সত্যনিষ্ঠ মুসলিম আলেমগণের বক্তব্যের বিরুদ্ধে যায়, কুর’আন সুন্নাহর দলীল থেকে প্রমাণাদি উপস্থাপনের বিষয়টি তো আরো দূরে।


শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া তাঁর মাজমু আল ফাতওয়া ২৮/২৬৩ এ বলেন,
উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল ধর্ম, মতবাদ হতে হবে শুধুমাত্র এক আল্লাহর জন্যে, আর আল্লাহর কালেমার দাবী হচ্ছে তা সবকিছুর উপরে শ্রেষ্ঠ। আল্লাহর কালাম হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বাণী যার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবে তাঁর বক্তব্য সংরক্ষিত আছে, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, “আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে”।[সূরা হাদীদ ৫৭:২৫]
নবী রাসূলগণ প্রেরণ ও কিতাব নাযিলের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবজাতি যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে আর এটাই হচ্ছে সৃষ্টির উপর স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হক। এরপর আল্লাহ মহামহিম বলছেন, “আর আমি নাযিল করেছি লৌহ, যাতে আছে প্রচন্ড রণশক্তি এবং মানুষের বহুবিধ উপকার। এটা এজন্যে যে, আল্লাহ জেনে নিবেন কে না দেখে তাঁকে ও তাঁর রসূলগণকে সাহায্য করে”। [সূরা হাদীদ ৫৭:২৫]
কাজেই যে বিচ্যুত হয়ে পড়ে আল্লাহর কিতাবের পথ হতে তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে লৌহের শক্তি দ্বারা হলেও। এভাবেই এই দীনের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পায় কুর’আন ও তরবারীর মাধ্যমে।
জাবির ইবন আব্দুল্লাহ(রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করেছেন এটা দিয়ে আঘাত করতে, মানে তরবারী দ্বারা, যে কেউ এটা থেকে ফিরে যায়, অর্থাৎ কুর’আন হতে”।



ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর আল-ফারুসিয়াহ গ্রন্থে (পৃ ১৮) বলেনঃ
আল্লাহ তাঁকে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামত দিবসের পূর্বে প্রেরণ করেছেন- (এক হাতে) হেদায়াতের কিতাব কুর’আন ও (অন্য হাতে) বিজয়ী তরবারী সহকারে। (উদ্দেশ্য) যাতে, একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত উপাসনা বন্দেগী করা হয়ে থাকে শরীকবিহীন অবস্থায়, আর তাঁর রিযিক নির্ধারিত হয়েছিল তরবারী ও বর্শার ছায়াতলে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একদিকে দলীল প্রমাণ সাক্ষ্য সহকারে, এবং অপরদিকে তরবারী ও বর্শা দিয়ে, উভয়ে এমনভাবে একত্রিত আছে যার একটি থেকে অপরটি আলাদা করা যায় না। এখন কুর’আন ও সুন্নাহ হতে কিছু প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হচ্ছে, এই দলীল প্রমাণাদি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরছে যে তরবারী হচ্ছে ইসলাম প্রচারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম-
#১ -আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
“আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রীষ্টানদের) গির্জা, এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন,যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর”। [ সূরা হাজ্জ ২২:৪০]
“আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।” [সূরা বাকারাহ ২৫১]
#২ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে আদেশ করেছেন কুফফারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি ও উপাদান সংগ্রহের জন্যে ও তাদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখার জন্য। আল্লাহ বলেন,
“ আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন”। [সূরা আনফাল ৮:৬০]

ইসলাম যদি কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণ গোবেচারা নিরীহ উপায়েই বিস্তার লাভ করে থাকে, তাহলে কি সেই কারণ যার কারণে কুফফাররা এত ভীত সন্তস্ত হয়ে থাকে? তাদের এতে ভীত হওয়ার কি আছে? তাহলে কি তারা কেবলমাত্র মুখের জিভ নিঃসৃত কথা আর দাওয়াত শুনেই ভীত সন্ত্রস্ত?
সহীহ কিতাবদ্বয়ে একথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “I have been supported with fear as far as a month’s journey.” কুফফাররা কি এ কারণে ভয় পাবে যদি কেবল বলা হয়ে থাকে, “মুসলিম হও, আর যদি না হও তাহলে তোমরা স্বাধীন, যা ইচ্ছা তাই বিশ্বাস নিয়ে থাক আর যা খুশি তাই করে বেড়াও?” নাকি তাদের ভীত হবার কারণ জিহাদ (এর মুখোমুখি হওয়া) , (অন্যথায়) জিযিয়াহ কর আরোপ আর অপমান? যাতে করে তারা ইসলামে প্রবেশ করে আর এর মাধ্যমে তারা যাবতীয় অপমান থেকে মুক্তি পেতে পারে।
#৩-যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদেরকে ইসলামের দিকে আহবান করতেন, তার সে আহবানের সঙ্গী ছিল তরবারী, তিনি যাদেরকে আমীর করে পাঠাতেন তাদেরকেও অনুরুপ পদ্ধতি অনুসরণের আদেশ দিতেন, আর যখন লোকেরা ইসলামের দিকে আহবানের এই সর্বাত্মক পদ্ধতিটি দেখত, তখন তা তাদের আল্লাহর দীনের ব্যাপারে সন্দেহ দূর করার জন্যে যথেষ্ট বলে গণ্য হত।
বুখারী (৩০০৯) ও মুসলিম(২৪০৬) বর্ণনা করছেন, সাহল ইবন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, খায়বারর যুদ্ধে একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আগামীকাল সকালে আমি এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করবো যার হাতে আল্লাহ খায়বারে বিজয় দান করবেন এবং যাকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালবাসেন আর সেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে। সাহল (রা) বলেন, মুসলমানগণ এ জল্পনা কল্পনার মধ্যেই রাত কাটালো যে, তাদের মধ্যে কাকে অর্পণ করা হবে এ ঝাণ্ডা। সকাল হলো, সবাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসলেন, আর প্রত্যেকেই মনে মনে এ ঝাণ্ডা লাভ করার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সা: বললেন, আলি ইবন আবু তালিব কোথায়? সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! তিনি তো চক্ষুরোগে আক্রান্ত অবস্থায় আছেন। তিনি বললেন, তাকে লোক পাঠিয়ে সংবাদ দাও। সে মতে তাঁকে আনা হল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উভয় চোখে থুথু লাগিয়ে তাঁর জন্যে দুয়া করলেন। ফলে চোখ এরূপ সুস্থ হয়ে গেল যে, যেন কখনো চোখে কোন রোগই ছিল না। এরপর তিনি তাঁর হাতে ঝাণ্ডা অর্পণ করলেন। তখন আলী রা) বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! তারা আমাদের মত (মুসলমান) না হওয়া পর্যন্ত আমি তাদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বর্তমান অবস্থায়ই তাদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে উপনীত হও , এরপর তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের প্রতি আহবান করো (যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে) ইসলামী বিধানে ওদের উপর যেসব হক বর্তায় সেসব সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করে দিও। কারণ আল্লাহর কসম ! তোমার দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ যদি মাত্র একজন মানুষকেও হেদায়েত দান করেন তা হলে তা তোমার জন্য লোহিত বর্ণের (মূল্যবান) উটের মালিক হওয়া অপেক্ষাও অনেক উত্তম।কাজেই ইসলামের দিকে এই আহবানটি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হয়েছিল।

মুসলিম (৩২৬১) বর্ণিত হাদীসে বুরাইদা বলেন, ‘যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন একজন ব্যক্তিকে কমাণ্ডার(আমির) নিযুক্ত করতেন কোন বাহিনীর নেতা হিসেবে কিংবা কোন কাফেলা আক্রমণকারী দলের প্রধান হিসেবে, তিনি সেই ব্যক্তিকে উপদেশ দিতেন আল্লাহকে ভয় করতে, তার নিজের জন্য ও তার সাথী মুসলিমদের জন্য, এরপর তিনি বলতেন, “…যে আল্লাহর সাথে কুফরী করে, ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ো। যুদ্ধ করো, তবে তোমরা সীমালংঘন করো না, বিশ্বাসঘাতকতা করো না, হাত পা কেটে খণ্ড খণ্ড করে বিকৃত করো না এবং শিশুদেরকে হত্যা করো না। আর যখন তোমার মুশরিক শত্রুদের সাথে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তখন তিনটি নীতির দিকে তাদেরকে আহবান জানাও। এর যে কোনটি সে যখন মেনে নেয় তখন তা গ্রহণ করে নাও এবং যুদ্ধ বন্ধ করে দাও। অতঃপর তাদেরকে সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করার দিকে আহবান জানাও। যদি তারা তোমার এ আহবানে সাড়া দেয় তখন তুমি তাদের এ সাড়া কবুল করে নাও এবং জিহাদ বন্ধ করে দাও।…আর যদি তারা ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তখন তাদেরকে জিযিয়াহ কর প্রদানে বাধ্য করো। যদি তারা তা মেনে নেয়, তোমরা তা কবুল করে নাও এবং তাদের সাথে এ অবস্থায়ও জিহাদ বন্ধ রাখো। আর যদি তারা উক্ত জিযিয়াহ প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়, তখন (তৃতীয় ও শেষ ফয়সালা) আল্লাহর কাছে মদদ ও সাহায্য কামনা করো এবং তাদের সাথে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ো…।“

কাজেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কমাণ্ডারদের আদেশ করেছেন কুফফারদের আহবান করতে ইসলামের দিকে যখনএই আহবানের সংগী ছিল মাথার উপরে তরবারীর ঝলকানি। যদি তারা মুসলিম হতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তাদের অবশ্যই জিযিয়াহ কর দিতে হবে বিনয়াবনত হয়ে। আর যদি তারা এতেও রাজী না হয়, তাহলে তাদের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না তরবারী ব্যতীত- “যদি তারা (উক্ত জিযিয়াহ প্রদানে) অস্বীকৃতি জানায়, তখন (তৃতীয় ও শেষ ফয়সালা) আল্লাহর কাছে মদদ ও সাহায্য কামনা করো এবং তাদের সাথে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ো ”

#৪- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি কিয়ামত দিবসের পূর্বে তরবারী হাতে এ উদ্দেশ্য প্রেরিত হয়েছি যে, কেবলমাত্র এক আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তায়ালারই) ইবাদত করা হবে, আর আমার রিযিক আসে আমার বর্শার ছায়া হতে, আর যারা আমার আদেশের বিরুদ্ধে যাবে তাদের জন্য অপমান (আর লাঞ্ছনা) তাকদীরে নির্ধারিত হয়েছে, আর যে কেউ তাদের অনুকরণ করে সে তাদেরই একজন”। ( মুসনাদে আহমান, ৪৮৬৯; সহীহ আল জামে’,২৮৩১.)
এ ঘটনাটি, অর্থাৎ ইসলামের প্রসারের একটি মাধ্যম হিসেবে তরবারী ও শক্তি ব্যবহৃত হয়েছে এটি ইসলামের জন্য লজ্জা বা হীনমন্যতার কিছু নয়, বরং এটি ইসলামের একটি শক্তি ও গুণ, কেননা এর ফলে মানুষ সেই দীনের সাথে লেগে থাকে যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে উপকৃত করবে। বেশির ভাগ লোকেরাই বোকা এবং জ্ঞান ও বিচক্ষণতার অভাব তাদের মধ্যে রয়েছে, আর তাদেরকে যদি তাদের নিজেদের অবস্থার উপর ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে তারা সত্যের প্রতি বরাবরের মতই অন্ধ গাফেল হয়ে থাকে।
তারা তাদের খামখেয়ালী মনোভাব ও কামনা বাসনার মাঝে নিমজ্জিত হতে থাকে। কাজেই আল্লাহ জিহাদের প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন যাতে তাদেরকে সত্যের উপর ফিরিয়ে আনা যায় আর এটা তাদের উপকার করে। নিসন্দেহে বিচক্ষণতা নির্দেশ করে যে, বোকাদেরকে তাদের মূর্খতাপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে এবং তাদেরকে এমন কিছুর দিকে জোর করতে হবে যা তাদের উপকার করবে।
আল বুখারী (৪৫৭৭) বর্ণনা করেছেনঃ “তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যানের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে”।(আলে ইমরান ১১০)
এই আয়াতটি সম্পর্কে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মানুষের জন্য মানুষ কল্যাণজনক তখনই হয় যখন তাদের গ্রীবাদেশে শিকল লাগিয়ে নিয়ে আসে, এরপর তারা ইসলামে প্রবেশ করে”।


জিহাদ ব্যতীত কি লোকদের ঘাড়ে শিকল লাগানো অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব?
এটা এমন একটি বিষয়, যার জন্য ইসলাম প্রশংসার দাবীদার, নিন্দনীয় নয়। পরাজিত ধব্জাধারীদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এ কারণে যে তারা আল্লাহর দীনকে বিকৃত করছে, আর একে দূর্বল করে তুলছে বার বার এ দাবী করে যে, এটা হচ্ছে শান্তির ধর্ম। হ্যাঁ, এটা শান্তির ধর্ম ঠিক, কিন্তু যে উদ্দেশ্যে কথাটি বলা হয়ে থাকে তা হচ্ছে, সমস্ত মানবজাতিকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করা থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে, আর সমগ্র মানব জাতিকে আল্লাহর আইন বিধানের নিকট আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমে। এটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার মনোনীত দীন, কোন ব্যক্তি বা মানুষের উর্বর চিন্তাধারার ফসল নয়। কাজেই যারা এর প্রচারের জন্য কাজ করছে তাদের উচিত নয় এই দীনের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করা, আর তা হচ্ছে সকল দীনের উপর আল্লাহর দীন বিজয়ী থাকবে এবং সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যেই হতে হবে।
যখন লোকেরা এমন কিছু মতবাদ (মার্কসবাদ, জাতীয়তাবাদ, উদারতাবাদ ইত্যাদি) আর তন্ত্র মন্ত্র(গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি) ধ্যান ধারণার অনুসরণ করে যেগুলোর জন্মই হয়েছে মানুষের মস্তিষ্ক হতে, প্রতিটি মতবাদ আর ধ্যান ধারণা, প্রতিটি সিস্টেম, আইন কানুন যা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে । এই মানব রচিত মতবাদগুলোর একটি আরেকটি থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে, ফলে এদের একটি সিস্টেম আরেকটি সিস্টেমের উপর শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করে থাকে, কাজেই এই মতবাদগুলো একে অপরের মোকাবেলায় ততক্ষণ পর্যন্ত টিকে থাকে বা সহ অবস্থান করতে পারে যখন তা নিজেদের (ভৌগলিক কিংবা রাজনৈতিক) সীমানা দ্বারা রক্ষিত হয়, তখন এক সীমারেখার আইন অন্য সীমানায় চলে না।এভাবে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য হওয়া সত্ত্বেও এই সাংঘর্ষিক মানব রচিত বিধান ও সিস্টেমগুলো একে অপরের মোকাবেলায় টিকে থাকে। কিন্তু যখন এদের সাথে এমন একটি বিধান থাকে যা মানব রচিত নয়, বরং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সিস্টেম ও আইন বিধান, আর এগুলোর পাশাপাশি যদি মানুষের রচিত আইন বিধান থাকে, সিস্টেম থাকে, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ মৌলিকভাবে ভিন্ন। তখন ( এই মতবাদগুলোর সহাবস্থানের কোন সম্ভাবনা নেই) আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত সিস্টেমের অধিকার হচ্ছে এই সকল বাধা বিপত্তিকে অপসারণ করা আর মানুষ হয়েও মানুষের গোলামী থেকে মানুষকে মুক্ত করা । - ফিকহ আল-দাওয়াহ , সাইয়েদ কুতুব ২১৭-২২২

ফাতাওয়া আল লাযনাহ আল দাইমাহ (১২/১৪) তে বর্ণিতঃ
যারা ইসলামের বার্তার প্রতি সাড়া দিয়েছে ও কর্ণপাত করেছে তাদের ক্ষেত্রে ইসলাম প্রসারিত হয়েছে দলীল-প্রমাণাদি সহকারে, আর যারা উদ্ধত, দাম্ভিক অহংকারী ও গোঁয়ার তাদের ক্ষেত্রে ইসলাম প্রসারিত হয়েছে শক্তি ও তরবারীর মাধ্যমে, যে পর্যন্ত না তারা নত হয়েছে, অহংকার দাম্ভিকতা পরিত্যাগ করেছে, আর সবশেষে সত্য ও বাস্তবতার সামনে আত্মসমর্পণ করেছে।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।



সৌজন্যেঃ Islam Q&A

(সংগৃহীত)

power
08-25-2015, 04:06 PM
আস সালামু আলাইকুম
আলহামদুলিল্লাহি রব্ববিল আলামিন।
এই লেখাটির original english version

islamqa.info/en/43087

titumir
08-26-2015, 09:46 AM
জাঝাকাল্লাহ!

Osama
08-26-2015, 04:16 PM
আস সালামু আলাইকুম
Was Islam Spread By The Sword- Imam Anwar Al Awlaki (R.H)
https://www.youtube.com/watch?v=xitkIrUvyZ8

power
10-03-2015, 12:28 AM
ইসলাম কি অস্ত্রের মুখে ছড়িয়েছিল?

ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি প্রচলিত অভিযোগ হচ্ছে, ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ধর্ম হওয়ার একমাত্র কারণ হচ্ছে তলোয়ারের মাধ্যমে এর সম্প্রসারণ ঘটেছে। এটি বিশ্লেষক ও ইতিহাসবিদ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয়া ইসলাম-বিদ্বেষীদের প্রিয় একটি বুলি, যাতে পশ্চিমা বিশ্বে ইসলামের ব্যাপারে মানুষকে ভীত-সন্তস্ত্র করে তোলা যায়। বহুল-আলোচিত এই বিষয়টি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তাই এর সত্যতা যাচাই করার জন্য এই বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রথম দিকের বিজয়গুলোঃ মিশর, সিরিয়া, ইরাক এবং পারস্য
প্রকৃতপক্ষে ইসলামের বিস্তৃতি ঘটেছিল রাসূল (সাঃ) এর মৃত্যুর পর, ৬৩০ এর দশকের শুরুর দিকে। বাইজেন্টাইন রোমান সাম্রাজ্য এবং সাসানিদ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয় যা এই নতুন ধর্ম ইসলামকে নতুন সব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে দেয়। এই ধর্মের অনুসারী মরুর আরব যোদ্ধাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছিল এমন সব প্রাচীন ও প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যের, যাদের রাজধানী ছিল কনস্ট্যানটিনোপোল এবং তিসফুনে।

ইসলামের ১ম খলিফা হযরত আবু বকর (রাঃ) সৈনিকদের উদ্দেশ্যে কিছু নীতিমালা বেঁধে দিয়েছিলেন, যেগুলোর সাথে এই আধুনিক যুগের যুদ্ধবিগ্রহের রীতি-নীতির তুলনা করলে অনেক সংকীর্ণই মনে হবেঃ



যুদ্ধক্ষেত্রে কিভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করবে সে ব্যাপারে দশটি নীতিমালা দিচ্ছি। কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবেনা কিংবা সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যাবেনা। মৃতদেহ বিকৃত করবেনা। শিশুদের হত্যা করবেনা, নারী কিংবা বয়স্কদেরও নয়। বৃক্ষাদির কোন ক্ষতি করোনা, কিংবা আগুনে পুড়িয়ে দিবেনা, বিশেষ করে ফলবতী বৃক্ষগুলোর দিকে বেশী নজর রাখবে। শত্রুবাহিনীর পাল থেকেও কোন প্রাণী হত্যা করবেনা, খাদ্য সঞ্চয় করবে, অপচয় করবেনা। তোমরা হয়তো এমন সব মানুষের দেখা পাবে যারা সন্ন্যাসী হিসেবে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে (সন্যাসব্রত পালন করেছে); তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দিবে, উত্যক্ত করবেনা, এবং এড়িয়ে চলবে। (১)

এই যুদ্ধরীতিগুলো ছিল তৎকালীন সময়ে অনন্য ও সৃষ্টিশীল। মুসলিমদের অভিযানের ঠিক আগেই, পারসিয়ান এবং বাইজেন্টিয়ান রোমানদের মাঝে এক দশক ধরে চলা যুদ্ধে গোটা সিরিয়া ও ইরাককে ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছিল। আবু বকর (রাঃ) নিশ্চিত করেন যে, মুসলিম বাহিনী এ ধরনের নীতিতে যুদ্ধ পরিচালনা করবেনা। জনসাধারণ নয়, বরং মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধ শুধুমাত্র প্রতিপক্ষ সৈন্যবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আবু বকর (রাঃ) এর এই উদাহরণের উপর ভিত্তি করেই ইসলামী শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠিত,যে আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট সৈন্যদলের বিপক্ষে ছাড়া সামরিক শক্তির ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।*

মিশর, সিরিয়া এবং ইরাক বিজয়ের যুদ্ধে মুসলিমরা কি কৌশল অবলম্বন করেছিল সে ব্যাপারে গভীর অনুসন্ধান চালানো এই আর্টিকেলের উদ্দেশ্য নয়। আর্টিকেলে মূল লক্ষ্য অনুযায়ী এটুকু উল্লেখ করাই যথেষ্ট যে, সিরিয়া ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝে মুসলিমদের অধীনে আসে, মিশর আসে ৬৪২, এবং ইরান ও পারস্য আসে ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দের মাঝে। বাইজেন্টাইন সিরিয়াতে রোমান সাম্রাজ্যের ধর্মীয় ঘাঁটি, এবং পাশাপাশি মিশরে তাদের বাণিজ্যিক ঘাঁটি হাতছাড়া হয়ে গেলে তারা বেশ বিপাকে পড়ে যায় এবং দুর্বল হয়ে যায়। অন্যদিকে মুসলিমদের জয়ের পর পারস্যের সাসানিদ সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। রাজনৈতিকভাবে এটা ছিল তৎকালীন বিশ্বের দুই মহাশক্তির জন্য এক আকস্মিক দুর্যোগ এবং মহাবিপর্যয়। কিন্তু এই আর্টিকেলের মূল বিষয়টি বুঝতে হলে আমাদের ভেবে দেখতে হবে, কিভাবে মুসলিমদের জয়ের পর একটা ধর্ম হিসেবে এই অঞ্চলগুলোতে ইসলাম প্রসার লাভ করে।

নিঃসন্দেহে, ইসলাম গ্রহণ করার জন্য সাধারণ মানুষের উপর কোন প্রকার জোর খাটানো হয়নি। বরং এ ব্যাপারে যদি কিছু বলা হয়েও থাকতো, তাহলে জনসাধারণ যেভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী জীবন ধারণ করে আসছিল, সেটাতেই উৎসাহিত করা হতো। উদাহরণস্বরূপ, জেরুজালেম বিজয়ের পর শহরের প্রধানদের সাথে তৎকালীন খলিফা উমর ইবন আল-খাত্তাব (রাঃ) যে আত্মসমর্পন চুক্তিনামা লিখেন তার অংশবিশেষ এখানে উল্লেখ করা যায়ঃ



তিনি (উমর) নিশ্চয়তা দিচ্ছেন তাদের জান, মাল, গীর্জা, *ক্রুশ, শহরের সুস্থ-অসুস্থ সকলকে মুসলিমরা তাদের গীর্জা দখল করবেনা এবং ধ্বংসও করবেনা তাদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হবে না। (২)

জেরুজালেম এর গীর্জা। মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে আসার পর উমর (রাঃ) গীর্জাটির নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেন।

তৎকালীন কোন সাম্রাজ্যেরই ধর্মীয় সহনশীলতার ব্যাপারে এমন ধারণা ছিলনা। একজন সাহাবী হিসেবে উমর (রাঃ) ইসলামী আইন অনুযায়ী এই চুক্তিনামা সম্পাদন করলেন, এবং বিজিত অঞ্চলের অধিবাসীদের সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে তার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন। অন্যান্য বিজিত অঞ্চলঃ মিশর, সিরিয়া, ইরাক এবং পারস্যে একই ধরনের চুক্তি হয়েছিল। বিজিত অঞ্চলের অধিবাসীরা হোক খ্রিস্টান বা ইহুদী কিংবা সাবিয়ান, অথবা জরাথ্রুস্টবাদ এর অনুসারী যাই হোক না কেন, সবাইকে যার যার ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল। ইসলামের প্রাথমিক দিকের এই বিজয়গুলোতে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের একটা উদাহরণও পাওয়া যায়না।

জোরপূর্বক ধর্ম পরিবর্তন করা যে হয়নি, এর প্রমাণ হচ্ছে এসব দেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপস্থিতি। মুসলিমদের বিজয়ের পরের কয়েক শতাব্দী ধরে এসব অঞ্চলের বেশীরভাগ মানুষই খ্রিস্টান থেকে যায়। ধীরে ধীরে তারা ইসলামকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করতে থাকে, আর সাথে সাথে আরবীও নিজেদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করতে থাকে। বর্তমানে খ্রিস্টানদের একটা বড় অংশ রয়ে গিয়েছে যারা মিশরের জনসংখ্যার ৯%, সিরিয়ার ১০%, লেবাননের ৩৯%, এবং ইরাকের জনসংখ্যার ৩%। যদি মুসলিমদের বিজয়ের পরপরই, অথবা এমনকি পরবর্তী মুসলিম শাসনের সময়ও যদি জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা হতো তাহলে আর এই অঞ্চলগুলোতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কোন অস্তিত্ব থাকতোনা। তাদের অস্তিত্বই হচ্ছে ইসলাম যে অস্ত্রের মুখে ছড়ায়নি তার প্রমাণ।

উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেন
ইসলাম আগমনের পর গোড়ার দিকে মিশর, সিরিয়া, ইরাক এবং পারস্য বিজয়ের সৈন্য এবং নেতারা ছিলেন মুসলিমদের ১ম প্রজন্ম। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকে রাসূল (সাঃ) এর সাহাবীও ছিলেন। এখন প্রশ্ন আসে, পরবর্তী প্রজন্মে যখন মুসলিমদের বিস্তার অব্যাহত থাকে সুদূর-পশ্চিমে, উত্তর আফ্রিকায়, এবং এরও পরে স্পেনে, তখন কি হয়েছিল?

৭ম শতকের দিকে উত্তর আফ্রিকার উপকূলে ছিল বার্বার জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। মিশর থেকে আলজেরিয়া পর্যন্ত গোটা উপকূলীয় অঞ্চল বাইজেন্টাইনদের অধীনে থাকলেও এ অঞ্চলের জনগণ তাদের অনুগত ছিলনা। তাদের দমিয়ে রাখতে বাইজেন্টাইনদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের আগের শতাব্দীতে অঞ্চলটির রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিপর্যয় একে বিধ্বস্ত অঞ্চলে পরিণত করে। অবস্থাটা ছিল এক সময়ের গৌরবময় প্রদেশের একটি কঙ্কাল মাত্র।

প্রথম উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়া (রাঃ) উত্তর আফ্রিকার উপকূল জয়ের জন্য উকবা বিন নাফি কে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেন। কয়েক দশকের মাঝেই উত্তর আফ্রিকায় মুসলিমদের শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। যুদ্ধের বিস্তারিত কৌশলের আলোকপাত এখানে আর করা হলোনা।

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়াতে আমরা যে উদাহরণ দেখেছিলাম উত্তর আফ্রিকার ক্ষেত্রেও তাই ঘটে। কোন স্থানীয় অধিবাসীকে ধর্মান্তরে বাধ্য করা হয়নি। মুসলিম কিংবা অমুসলিম কোন সূত্রেই বার্বারদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়না। প্রকৃতপক্ষে, বেশীরভাগ বার্বার অনেক দ্রুত ইসলাম গ্রহণ করে। গোটা মহাদেশজুড়ে ব্যাপক আকারে বার্বারদের ইসলাম গ্রহণ এবং সেনাবাহিনীতে যোগদানের ফলে মুসলিমদের শক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই বার্বার জনগোষ্ঠীকে যদি জোরপূর্বক ধর্মান্তর করানো হতো, তবে নিশ্চিতভাবেই ইসলামের জন্য তাদের এই আগ্রহ ও উদ্দীপনা থাকতোনা। এই আগ্রহ ও উদ্দীপনাই তাদের মুসলিম বাহিনীতে যোগদানের পিছনে মূল কারণ ছিল এবং যা সম্ভব করেছিল ইসলামের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরো বিস্তৃত করার, এমনকি বাইজেন্টাইনদের বিরুদ্ধেও।

মুসলিমদের উত্তর আফ্রিকা জয়ের পর এমন এক প্রস্তাব এসেছিল যা সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করে দেয়। ৮ম শতকের শুরুর দিকে আইবেরিয়া উপদ্বীপ (বর্তমান স্পেন ও পর্তুগাল) ছিল ভিসিগোথিক রাজা রডারিক এর শাসনাধীন। তখন আইবেরিয়ার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম গভর্নরের সাথে দেখা করতে যান এবং রডারিকের নির্মম অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তিনি এই প্রতিশ্রুতিও দেন যে, রডারিকের বিরুদ্ধে যদি মুসলিমরা অভিযান চালায় তবে তিনি নিজ সৈন্যবাহিনীর মাধ্যমে মুসলিমদের সহায়তা করবেন।

জিব্রাল্টার। এখানেই তারিক বিন জিয়াদের বাহিনী মরক্কো থেকে এসে পৌঁছায় রডারিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পূর্বে। ছবিতে বর্তমান সময়ের একটি মসজিদ দেখা যাচ্ছে।

শুরুর দিকে কিছু ছোটখাট আক্রমণের মাধ্যমে স্থানীয়দের সমর্থন কেমন হবে তা আন্দাজ করার চেষ্টা করলেন মুসলিম জেনারেল তারিক বিন জিয়াদ (যিনি খুব সম্ভবত বার্বার জাতিগোষ্ঠীর ছিলেন)। এরপর তিনি মরক্কো থেকে তার বাহিনী নিয়ে জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে আইবেরীয়া পৌঁছান ৭১১ খ্রিস্টাব্দে। কয়েক মাসের মাঝেই তারিকের বাহিনী রাজা রডারিককে পরাজিত করে আইবেরিয়াতে মুসলিম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। আর তিন বছরের মাথায় গোটা আইবেরিয়া মুসলিমদের অধীনে চলে আসে। ভিসিগোথদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা অনেক শহর মুসলিমদের ন্যায়বিচার ও সাম্যতার ব্যাপারে জানতে পেরে স্বেচ্ছায় তাদের শহরের দরজা খুলে দেয় এবং মুসলিমদের স্বাগত জানায়।

মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের বহু দলিলাদি ও প্রমাণপত্র টিকে ছিল যা থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় এই বিজয়টি মোটেও জোর করে ধর্মান্তর করার উদ্দেশ্যে ছিলনা। ৭১৩ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে, সেখানকার এক মুসলিম গভর্নর এক ভিসিগোথের সাথে একটি চুক্তির মাধ্যমে মধ্যস্থতা করেন, যেখানে একটা বিধান ছিল যে স্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা করা হবেনা কিংবা কয়েদী হিসেবেও নেয়া হবেনা। তাদেরকে তাদের নারী ও শিশুদের থেকেও আলাদা করা হবেনা। তাদের ধর্মীয় ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা হবেনা, তাদের গীর্জাও পুড়িয়ে ফেলা হবেনা। (৩)

মুসলিম স্পেন (যা পরবর্তীতে আল-আন্দালুস হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠে) এর উদাহরণ থেকে আমরা দেখতে পাই যে স্থানীয় জনগণকে (যাদের বেশীরভাগই ছিল খ্রিস্টান, যদিও একটা বড় ইহুদী জনসংখ্যাও ছিল) ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য জোর করা হয়নি। বরং বাস্তবে এরপরের শতাব্দীগুলোতে আল-আন্দালুস সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করে যেখানে মুসলিম, ইহুদী এবং খ্রিস্টান সবাই জ্ঞান, সংস্কৃতি ও দর্শন চর্চায় এক স্বর্ণযুগ অতিবাহিত করেছিল। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার এই আলোকিত ভূমির শেষ হয় আরো কয়েক শতাব্দী পরে যখন খ্রিস্টান রিকনকুয়েস্তা (খ্রিস্টানদের পুনর্দখল) এর মাধ্যমে যা গোটা আইবেরিয়া থেকে সাফল্যের সাথে মুসলিম ও ইহুদীদের জাতিগতভাবে নির্মূল করে।

ভারতীয় উপমহাদেশ
আজ বিশ্বের সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি হচ্ছে পাকিস্তান (২য়) এবং ভারত (৩য়)। এই দুটি দেশ মোটামুটি গোটা ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে ব্যাপৃত। এই অঞ্চলের জনমানুষের জীবনের সকল ক্ষেত্রেই ইসলামের এক অবিশ্বাস্য এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ছিল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিমদের বিভিন্ন সাম্রাজ্য ও রাজবংশ দ্বারা শাসিত হলেও হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্ম উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

উপমহাদেশে মুসলিমদের আক্রমণের ব্যাপারটা তখনকার যুদ্ধবিগ্রহের নিয়ম-কানুনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। শ্রীলংকায় বাণিজ্যিক কাজে নিয়োজিত থাকা মুসলিম ব্যবসায়ীদের কন্যাদের জাহাজে সিন্ধু (যা বর্তমানে পাকিস্তান) অঞ্চলের জলদস্যুরা আক্রমণ করে এবং জাহাজের নারীদের আটক করে দাসবৃত্তির কাজে নিয়োজিত করে। বন্দী নারীদের মুক্ত করতে এবং জলদস্যুদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর নেতৃত্বে ৭১০ খ্রিস্টাব্দে একটা অভিযান পরিচালিত হয়। মুহাম্মাদ বিন কাশিম ছিলেন আরবের তায়েফের অধিবাসী।

এতো দূরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর সফল সেনা অভিযানের পিছনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল ভারতের চলমান খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামাজিক সমস্যা। হিন্দু ধর্মের একটি বিশ্বাস হচ্ছে বর্ণপ্রথা, যা সমাজকে বিভক্ত করে রেখেছিল খুবই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত কিছু সামাজিক শ্রেণীতে। উঁচু শ্রেণী ধন্যাঢ্য এবং আরামদায়ক জীবন যাপন করতো, অন্যদিকে নীচু শ্রেণীর সবাইকে (বিশেষ করে যারা অচ্ছুত নামে পরিচিত ছিল বা যাদের ছোঁয়া যেতোনা) দেখা হতো সমাজের অভিশাপ হিসেবে। সাথে ছিল বৌদ্ধ সম্প্রদায়, যারা গোটা দেশজুড়েই সাধারণত হিন্দু রাজপুতদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছিল। মুসলিমদের অনুপ্রবেশের পর তাদের প্রতি সামাজিক সাম্যের প্রতিশ্রুতির কারণে বেশীরভাগ বৌদ্ধ এবং নিম্নবর্ণের হিন্দু তাদের স্বাগত জানায়। বাস্তবে, ভারতের সর্বপ্রথম মুসলিমরা সম্ভবত নিম্ন বর্ণের হিন্দু ছিল, যেহেতু ইসলাম তাদেরকে মুক্ত করে পূর্ববর্তী অত্যাচারী সামাজিক ব্যবস্থা থেকে।

সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে মুহাম্মাদ বিন কাশিম এটা দেখাতে সক্ষম হন যে ইসলামী শরীয়াহর সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারটা শুধু খ্রিস্টান কিংবা ইহুদীদের জন্যই নয়। উপমহাদেশের বৌদ্ধ এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা হয়নি, বরং তাদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেয়া হয়। এক ঘটনায়, এক অঞ্চলের বৌদ্ধ সম্প্রদায় মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর কাছে এই মর্মে তাদের আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, মুসলিম বাহিনী হয়তো তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করবে এবং যার ফলে তাদেরকে তাদের পূর্বপুরুষের ধর্ম পালন করা বন্ধ করে দিতে হবে। এ অভিযোগ শুনে বিন কাশিম সেই শহরের বৌদ্ধ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের কতিপয় নেতার সাথে বৈঠক করেন এবং তাদেরকে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেন, এবং তাদের অনুরোধ করেন যাতে তারা তাদের জীবন ঠিক আগের মতোই যাপন করে যায়।

উপসংহার
আমরা আবার আর্টিকেলের শুরুর দিকে আরোপ করা প্রশ্নে ফিরে যাই, ইসলাম কি সত্যিই অস্ত্রের মুখে ছড়িয়েছিল? যখন অসংখ্য মানুষ রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করছে, তখন আমরা সন্দেহাতীতভাবে দেখতে পাই যে ইসলাম ধর্ম জবরদস্তি, বলপ্রয়োগ, ভীতি কিংবা রক্তপাতের মাধ্যমে ছড়ায়নি। কোথাও মানুষকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে এরূপ কোন বর্ণনাই পাওয়া যায়না। মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করলেও, বাস্তবে তাঁরা এই পথ গ্রহণ করেছিলেন অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা করার জন্যে। মুসলিম বাহিনীর যুদ্ধ সবসময়ই ছিল সরকার এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, স্থানীয় জনতার সাথে নয়। যদিও এই আর্টিকেলে মুসলিমদের শুরুর দিকের প্রজন্মের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল বিজয়ের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমরা এই ধারা রেখে গিয়েছেন গোটা ইসলামের ইতিহাস জুড়েই।

এটা মনে রাখা জরুরী যে উল্লেখিত ঘটনাগুলো ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ইতিহাসে প্রথম কিছু উদাহরণ। যখন ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং স্বাধীনতা পশ্চিমা সভ্যতায় সর্বপ্রথম দেখা গিয়েছিল ১৭ এবং ১৮ শতকের দিকে, তখন মুসলিমরা ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চা করে আসছে ৭ম শতক থেকে। ইসলামের বাণী উগ্রপন্থায় এবং যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে তথাকথিত রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক পণ্ডিতগণ যেসব যুক্তিতর্ক পেশ করে থাকেন তাদের এসব যুক্তিতর্কের কোন ঐতিহাসিক ভিত্তিই নেই। বরং বাস্তবে মুসলিমদের ধর্মীয় সহিষ্ণুতার এই চর্চা প্রভাবিত করেছিল ইউরোপ, আমেরিকা থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশের মতো বৈচিত্র্যময় সব অঞ্চলের সংস্কৃতি ও চিন্তাধারাকে।

অনুবাদ করা হয়েছেঃ
Did Islam spread by sword?(http://lostislamichistory.com/did-islam-spread-by-the-sword/) আর্টিকেল থেকে।
অনুবাদকঃ খালিদ বিন ওয়ালিদ

Citations:

* By extension, modern day terrorism clearly goes against Islamic law.

(১)- Aboul-Enein, H. Yousuf and Zuhur, Sherifa, Islamic Rulings on Warfare, p. 22, Strategic Studies Institute, US Army War College, Diane Publishing Co., Darby PA

(২)- Kennedy, H. (2007). The Great Arab Conquests: How the Spread of Islam Changed the World We Live In. Philadelphia: Da Capo Press. pg.91

(৩)- Kennedy, H. (2007). The Great Arab Conquests: How the Spread of Islam Changed the World We Live In. Philadelphia: Da Capo Press. pg.315

Sources:

Aboul-Enein, H. Yousuf and Zuhur, Sherifa, Islamic Rulings on Warfare, p. 22, Strategic Studies Institute, US Army War College, Diane Publishing Co., Darby PA

CIA World Factbook

Kennedy, H. (2007). The Great Arab Conquests: How the Spread of Islam Changed the World We Live In. Philadelphia: Da Capo Press.

Ochsenwald, W., & Fisher, S. (2003). The Middle East: A History. (6th ed.). New York: McGraw-Hill.


https://lostislamichistorybangla.wordpress.com/2015/05/28/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A 7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A 7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF/#more-165