PDA

View Full Version : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার একটি জঙ্গীয় বিশ্লেষন -১-২



umar mukhtar
10-29-2016, 02:55 AM
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার একটি জঙ্গীয় বিশ্লেষন -১

বলেছিলাম বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সেক্যুলার বিশ্লেষণের পর একটি জঙ্গীয় বিশ্লেষন তুলে ধরবো। নানা কারনে ব্যস্ত হয়ে পড়ার একটু দেরি হলেও, আল্লাহর ইচ্ছায় সেই বিশ্লেষণ নিয়ে জঙ্গী আপনাদের সামনে হাজির। বিশ্লেষন একাধিক পর্বের হবে ইনশা আল্লাহ। তাই কথা না বাড়িয়ে আসুন চলে যাওয়া যাক মূল বিশ্লেষনে।
.
বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে বুঝতে হলে আমাদের ঐতিহসিক প্রেক্ষাপটের দিকে তাকাতে হবে। অর্থা ২০১৬ কে বুঝতে হলে আমাদের ২০০৭কে বুঝতে হবে, ২০০৯কে বুঝতে হবে, ২০১৪ কে বুঝতে হবে শাহবাগ আর শাপলা চত্বরের ডায়নামিক্স বুঝতে হবে। যদি এই ঘটনাপ্রবাহকে আমরা মাথায় রাখি তাহলে বর্তমানকে বোঝা আমাদের জন্য সহজ হবে।
.
বর্তমানে ব্রাহ্মণ্যবাদী ইন্ডিয়া ও ক্রুসেডার অ্যামেরিকার সমর্থনপুষ্ট আওয়ামী লীগের কার্যকলাপের মধ্য থেকেই আসলে এই ভূখণ্ডকে ঘিরে ব্রাহ্মণ্যবাদী ও ক্রুসেডারদের পরিকল্পনার ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়। সদ্য সমাপ্ত আওয়ামী জাতীয় সম্মেলনে তাগুত হাসিনা ঘোষণা করেছে লীগের লক্ষ্য এখন ২০১৯ সালের নির্বাচন আর এই জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতই গ্রহণ করতে হবে।
.
প্রকৃতপক্ষে প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের উপরর একচ্ছত্র আধিপত্য, সংসদে ব্যাপক সংখ্যা গরিষ্ঠতা, রাজপথে ও শিক্ষাঙ্গনে অনুস্পস্থিত বিরোধী দল, সম্পূর্ণভাবে অনুগত মিডিয়া, ছত্রভঙ্গ ও দিশেহারা বিরোধী জোট, এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন এ সব কিছু মিলিয়ে আসলেই আর কিছু নিয়ে তেমন চিন্তার প্রয়োজন হাসিনার নেই। তার মূল চিন্তা এখন ঘর গোছানো। বিরোধী দলের দিক থেকে কোন ধরনের বিপদের ভয় লীগের নেই। আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী, লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে শেখ পরিবারের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য বজায় রাখা, কমপক্ষে আরো দশ বছর ক্ষমতায় থাকা, এবং হাসিনা থেকে জয়ের হাতে ধীরে ধীরে দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হাসিনার চিন্তা জুড়ে এখন এসব হিসেব নিকাশ।
.
অনেক বিশ্লেষক বিশেষ করে বিএনপি ও জামাতমনা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন হাসিনা সরকার এখন মূলত দিল্লীর জোড়ে চলছে, ওয়াশিংটনের সমর্থন তাদের সাথে নেই। এটি সম্পূর্ণ ভাবে ভুল ধারণা। মূলত ওয়াশিংটন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে এখন আর চায় না তাই তারা তাদের অর্ডারগুলো দিল্লীর মাধ্যমে এখন বাস্তবায়ন করায়। আর তাই হিলারি ক্লিনটন বা ট্রাম্প আসলে অ্যামেরিকার সমর্থন নিয়ে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসবে এ অতি কষ্ট কল্পনা।
.
বাস্তবতা হল অ্যামেরিকা যা যা চায় তার সবকিছুই আওয়ামী সরকার তাদের দিচ্ছে। অ্যামেরিকার বিএনপি-জামাতকে প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ অবস্থা বেগতিক দেখলে অ্যামেরিকা লীগের প্রতি সমর্থন উঠিয়ে নিতে পারে, যেমন মিশরের মুবারাকের প্রতি সমর্থন এক পর্যায়ে তারা প্রত্যাহার করেছিল, কিন্তু ঐ রকম প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করতে হবে। আর বিএনপি-জামাতের ঐ রকম একটি প্রেক্ষাপট তৈরির ক্ষমতা ও ইচ্ছা কোনটাই নেই।
.
এই অবস্থায় ক্রুসেডার অ্যামেরিকা ও ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতের উদ্দেশ্য হল সম্পূর্ণ অনুগত হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় রেখে তাকে দিয়ে যতদিন সম্ভব বিভিন্ন সুযোগ আদায় করে নেওয়া। কারন হাসিনা ক্ষমতায় যতোদিন থাকবে ততোই তার জনপ্রিয়তা, জনসমর্থন ও দেশের ভেতর গ্রহণযোগ্যতা কমবে। আর যতোই দেশের ভেতরে তার জনসমর্থন কমবে ততোই সে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমর্থনের (অর্থাৎ অ্যামেরিকা ও ভারতের) মুখাপেক্ষী হতে থাকবে। আর সে যতোই অ্যামেরিকা ও ভারতের মুখাপেক্ষী হবে ততোই তার কাছ থেকে এ দুটী শক্তি অধিক লাভবান হবে।
.
অর্থাৎ সামনে দিনগুলোতে বংলাদেশের মানুষের জন্য কি অপেক্ষা করছে? আল্লাহই আলিমুল গায়েব, তবে আপাত ভাবে যা আমরা দেখি তার ভিত্তিতে বলা যায় -রামপাল, রূপপুরের মতো আরো চুক্তি। বাশখালি, কুইকরেন্টালের মতো আরো পুকুরচুরি। আওয়ামী জমিদারির সর্বগ্রাসি রূপ। গত ৭ বছরে যা দেখেছি তার চাইতে আরো নগ্ন আরো প্রকট ভাবে প্রকাশ পাবে। চাকরি ও ব্যবসা খাতে আওয়ামী বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয়দের আধিপ্ত্য আরো বৃদ্ধি পাবে। শিল্পাঙ্গন ও চাকরির দুই ধরনের বাজারে তারা আরো জোরেশোরে ঢুকবে। সমাজে মাদক, অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের ক্রমবৃদ্ধিমান ধারা চলতে থাকবে। এবং ব্যাংকিং খাতে একটি ব্যাপক ধস নামতে পারে। সকল বিরোধী মত ও দলকে প্রবলভাবে দমন করা হবে। ছাত্রলীগ, পুলিশলীগ, র*্যাব-ডিবি-বিজিবি ইত্যাদি মুরতাদ বাহিনীর দৌরাত্ব প্রচণ্ডভাবে বৃদ্ধি পাবে।
.
সেক্যুলার, শাহবাগী-ইসলামবিদ্বেষীদের ইসলামের উপর আক্রমণ আরো বৃদ্ধি পাবে। মাদ্রাসার সিলেবাস ও মসজিদের খুতবা উপর নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা বৃদ্ধি পাবে। ফরিদ মাসুদের মতো শাসকের গোলাম নামধারী আলিমের সংখ্যা ও প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে। তাওহিদপ্রেমী, ইসলাম জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করা মুসলিমদের উপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার বৃদ্ধি পাবে। এবং ইমান নিয়ে চলা দুরূহ থেকে দুরূহ হতে থাকবে।
.
এই হল ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিত্র, এবং আল্লাহই ভালো জানেন। এখন প্রশ্ন হল, এই সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের মুসলিমদের এবং যারা ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্টতার দাবি করেন সেসব রাজনৈতিক শক্তির করণীয় কি? আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল ব্রাহ্মণ্যবাদী ও ক্রুসেডারদের গোলাম ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোন শক্তি অবস্থান নেবে?
[ইনশা আল্লাহ চলবে ]

umar mukhtar
10-29-2016, 02:56 AM
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থার একটি জঙ্গীয় বিশ্লেষন -২

তাহলে সেক্যুলার ও জঙ্গীয় – দুই ধরনের বিশ্লেষনেই আমরা যা পাচ্ছি তা হল ক্রুসেডার অ্যামেরিকা ও ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারতের পূর্ণ সমর্থনপুষ্ট বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হটানোর কোন রাস্তা খোলা নেই। রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, মিডিয়া – এই সকল ক্ষেত্রেই ব্যাপক নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করতে এই তাগুত শাসকগোষ্ঠী সক্ষম হয়েছে। বিএনপি-জামাত সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই মুহুর্তে এবং নিকট ভবিষ্যতে সরকারে চযালেঞ্জ করার সামর্থ্য ও সদিচ্ছা রাখে না। তারা বর্তমানে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ও পশ্চিমা মরীচিকার বিরুদ্ধে ছুটতে ব্যস্ত।
.
তাহলে প্রশ্ন আসে আমাদের করণীয় কি? করণীয় কি - সে আলোচনার আগে আমাদের একটু চিন্তা করতে হবে আমাদের উদ্দেশ্য আসলে কি। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করার পরই করণীয় ঠিক করা সম্ভব। আর সত্য কথা হল এই জায়গাটাতেই জাতি হিসেবে আমাদের সমস্যা।
.
আমরা যদি আমাদের লক্ষ্য ঠিক করি আওয়ামী লীগের বদলে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো, কিংবা জামাতকে ক্ষমতায় বসানো, কিংবা হাতপাখাওয়ালাদের ক্ষমতায় বসানো – তবে আমাদের অবস্থান কোন মৌলিক পরিবর্তন হবে না। কারন সমস্যাটা নিছক আওয়ামী লীগের মধ্যে না। সমস্যাটা হল এই গনতান্ত্রিক, পশ্চিমের দাসত্ব করার শাসন ব্যবস্থার মধ্যে। যে দলই গণতান্ত্রিক ভাবে “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের” সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে তাদের একই প্রেসক্রিপশান ফলো করতে হবে।
.
এটা মনে করার কোন কারন নেই যে যদি পশ্চিমের সমর্থন নিয়ে বিএনপি আসে, তাহলে ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমন-বিদ্বেষ থেমে যাবে। কারন ক্ষমতায় আসতে হবে ভারত-অ্যামেরিকার দাবি পূরণের ওয়াদা করে বিএনপি জামাতকে আসতে হবে। তাই যতক্ষণ আমরা একদলকে বদলে আরেক দলকে আনার চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে পারবো না, ততোক্ষণ শুধু বাহ্যিক ভাবে পরিবর্তন হবে মৌলিক কোন পরিবর্তন হবে না।
.
একই সাথে আমাদের চিন্তা করতে হবে, আমরা আসলে আমাদের নিজেদের জন্য কি চাই? আমরা কি নিজেরা খেয়ে-পড়ে “শান্তিতে” বেঁচে থাওকতে পারেলেই খুশি? রাষ্ট্র যেকোন আইনে চলুক, ইসলামের উপর আক্রমন চলুক, অশ্লীলতা বৃদ্ধি পাক, আরাকানে মুসলিমদের হত্যাযজ্ঞ চলতে থাক – আমার রুজি-রোজগার, আমার পরিবার, আমার জমিজমা, আমারটা ঠিক থাকলেই হল – আমরা কি এমন শান্তি চাই?
.
দুঃখজনক বাস্তবতা হল আমাদের দেশে এমন চিন্তাই করা হয়। যদি আমরা এভাবে চিন্তা করি তাহলে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে আমাদের শান্তি আসবে না, যেমন গত পঞ্চাশ বছরে আমদের শান্তি আসে নি বরং ক্রমান্বয়ে শান্তি লোপ পেয়েছে। কারন আমরা চাচ্ছি চারদিকের পৃথিবী খারাপ হতে থাকবে এমন অবস্থায় নিজে শান্তিতে থাকার। এটা সম্ভব না। পুকুরে যদি আপনি থাকেন, আর পুকুরের পানি যদি গরম করা হয় তাহলে কোন একটা মাছে আরামে থাকা সম্ভব না। সে যতোই আত্মকেন্দ্রিক হোক না কেন।
.
সুতরাং যারা আসলেই- করণীয় কি - এই প্রশ্ন নিয়ে চিন্তিত তাদের এই দুটি প্রশ্ন নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা ও আত্মসমালোচনা করা উচিত।
.
১) পরিবর্তন দরকার। কিন্তু পরিবর্তনের পেছনে আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি? আমরা কি নিছক বর্তমানের পরিবর্তন চাই? নাকি মৌলিক পরিবর্তন চাই?
.
২) আমরা কি যেকোন মূল্যে “খেয়েপড়ে” বেঁচে থাকতে পারলেই, টীকে থাকতে পারলেই খুশি? নাকি আমরা মুসলিম হিসেবে মাথা উঁচু করে, ইসলাম সম্পূর্ণ ভাবে পালন করে, ইসলামের বিধান সমূহ মেনে, ফারযিয়্যাত পালন করে বেঁচে থাকতে চাই? আমরা কি “মন্দের ভালো”-তেই সন্তুষ্ট নাকি আমরা বুঝি যে তাওহিদের ক্ষেত্রে মন্দের ভালো বলে কিছু নেই। আছে তাওহিদ আর শিরক।
.
এই দুটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর পৌছনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর গনতান্ত্রিক ধারায় গিয়ে যতোগুলো ইসলামী দল বাংলাদেশে বিচ্যুত হয়েছে তার মূলে রয়েছে এ প্রশ্ন দুটির সঠিক উত্তর নির্ধারনে ব্যর্থতা।

https://www.facebook.com/PleaseGivePeaceAChance/

আবু মুহাম্মাদ
10-29-2016, 06:06 AM
চমৎকার বিশ্লেষন। চালিয়ে যান। যাজাকাল্লাহ।

উমাইর
10-29-2016, 06:27 AM
জাযাকাল্লাহ আখি।

রক্তাক্ত চাপাতি
10-29-2016, 07:30 PM
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম আমার ভাই.........