PDA

View Full Version : জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করা কি শরীয়ত বিরোধী??



Ahmad Al-hindi
04-13-2017, 01:16 AM
ফুরফুরার পীর সাহেব (এবং তার মতো আরো অনেকে) বলতে চান, নিজের উপর ঝুঁকির আশঙ্খা থাকলে আমর বিল মারূফ এবং নাহি আনিল মুনকার করার কোন বিধান ইসলামী শরীয়তে নেই।


এই ধরণের বক্তব্য কুরআন হাদীস ও ফুকাহায়ে কেরামের অভিমতের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।


কুরআন:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يَابُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَاصْبِرْ عَلَى مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

(হে আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং তোমার উপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।)[লোকমান ১৭]

আল্লাহ তাআলা আদেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার কর। তবে তা করতে গেলে ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হবে। বিপদাপদ ধেয়ে আসবে। তখন তোমরা সেগুলো সবরের সাথে বরদাশত করবে। তবু আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার ছাড়বে না। এটাই দৃঢ়চিত্তের কাজ। আর বিপদের আশঙ্খায় আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার না করা ক্ষেত্রবিশেষে জায়েয হলেও কুরআনে কারীমের ঘোষণা মতে তা দৃঢ়চিত্তের কাজ নয়।



হাদীস:
এক হাদীসে বলা হয়েছে,
أفضلُ الجهاد كلمةُ عدلٍ عند سُلطانٍ جائرٍ

সর্বোত্তম জিহাদ হল জালিম শাসকের সামনে হক কথা বলা। (সুনানে তিরমিযি, সুনানে আবু দাউদ)

জালিম শাসকরে সামনে হক কথা বলাকে সর্বোত্তম জিহাদ বলা হয়েছে ঐ অবস্থায় যখন মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত থাকে। যেমন অন্য এক হাদীসে এসেছে,
عن أبي عُبيدة بن الجراح ، قال : قلتُ : يا رسول الله ، أيُّ الشُّهداءِ أكرم على الله ؟ قال : (( رجلٌ قام إلى إمامٍ جائرٍ ، فأمره بمعروفٍ ، ونهاه عن المنكر فقتله ))

হযরত আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদি. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত শহীদ কোন ব্যক্তি? তিনি উত্তর দিলেন, ঐ ব্যক্তি যে কোন জালিম ইমামের সামনে গিয়ে তাকে আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করে; ফলে তাকে হত্যা করে দেয়া হয়। (মুসনাদে বাযযার)

এখানে শুধু দুটি হাদীসই উল্লেখ করলাম। অনেক হাদীসে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্তেও আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। উল্লিখিত হাদীসদ্বয়ে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও জালিমের সামনে হক কথা বলা এবং তাকে আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার করাকে সর্বোত্তম জিহাদ বলা হয়েছে। এ কাজে জালিমের হাতে যে মৃত্যবরণ করে- তাকে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত শহীদ বলা হয়েছে।



ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্য:

আল-মুহিতুল বুরহানী(৫/৩৭১) তে বলা হয়েছে,
فقالوا: من أراد أن ينهى قوماً من فساق المسلمين عن منكر، وكان من غالب رأيه أنه يقتل لأجل ذلك، ولا ينكي فيه نكاية بضرب أو ما أشبهه، فإنه لا بأس بالإقدام عليه، وهو العزيمة، وإن كان يجوز له أن يترخص بالسكوت

ফুকাহায়ে কেরাম বলেন: যে ব্যক্তি একদল পাপাচারি মুসলিমকে কোন অন্যায় কাজ হতে বাঁধা দিতে চায়, আর তার প্রবল ধারণা হয়, এতে সে হত্যার শিকার হতে পারে, আর সে তাদেরকে মারও দিতে পারবে না বা এরকম কোন ক্ষতিও করতে পারবে না, তথাপি এই পদক্ষেপ নেওয়াতে তার কোন গুনাহ হবে না। বরং এটা হল আযিমত (দৃঢ়তা), যদিও তার জন্য চুপ করে থাকার অনুমতিও আছে।


ফতোয়া আলমগীরিতে(৫/৩৫৩) বলা হয়েছে,
إذا استقبله الأمر بالمعروف وخشي أن لو أقدم عليه قتل فإن أقدم عليه وقتل يكون شهيدا كذا في التتارخانية.

যদি সৎকাজে আদেশ দানের সম্মুখীন হয়, আর তার আশঙ্কা হয়, এতে লিপ্ত হলে তাকে হত্যা করা হবে- এমতাবস্থায় সে যদি এতে লিপ্ত হয় এবং এ কারণে নিহত হয়, তাহলে সে শহিদ হবে। যেমনটা তাতারখানিয়ায় রয়েছে।



যাহোক, বিস্তারিত আলাচনা উদ্দেশ্য নয়। এমন ধরণের কথা যে সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী তা দেখানোই উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন। সকল ফিতনা থকে হিফাজত করুন। আমীন!

Taalibul ilm
04-13-2017, 09:19 AM
মাশাআল্লাহ।

আল্লাহ সকলকে হক্ব বুঝার তৌফিক দান করুন।

নিশানে হক
04-13-2017, 10:00 AM
মাশাআল্লাহ...
আল্লাহ সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন।

abdullah yafur
04-13-2017, 12:08 PM
jazakallah khair vai

Ahlos sogor
04-13-2017, 03:37 PM
হে ঈল্লীহ! আমাদেরকে আপনি ইলমে নাফে' দান করুন৷

Persevere
04-13-2017, 09:54 PM
jazakallahu khair
... নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ