PDA

View Full Version : এক ভাইয়ের কিছু প্রশ্ন: ২য় পর্ব



মরু সাইমুম
05-16-2017, 01:20 PM
এক ভাই কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। বলেছিলাম কয়েকটি পর্বে এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। প্রথম পর্বে আমরা দুটি প্রশ্ন উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু উত্তর দেওয়া হয়েছে একটি প্রশ্নের। আরেকটিপ্রশ্নের আংশিক উত্তর এসেছে। এই পর্বে বাকি আমরা বাকি অংশের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
প্রশ্ন করেছিলেন,
#এদেশের কুফফারদের ধর্মিয় অনুষ্টানে যাওয়ার কী বিদ্বান হতে পারে।
#তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা, চলাফেরা ওঠাবসা করার ক্ষেত্রে আমরা ইসলামের বিদ্বানগুলো কীভাবে মানবো।
#এদেশের কুফফার যারা আছে, তাদের বাড়িঘর তো মুসলিমদের বাড়িঘরের সাথেই। তারা তো আমাদের আশে পাশেই থাকে, তাহলে তাদের সাথে আমাদের কিরকম সামাজিক ব্যবস্তা হওয়া চাই।
#অনেক সময় দেখা যায় মুসলিমরা সজাতীয় কোনো ব্যবসায়ী ভাইয়ের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় না করে কুফফারদের দোকান থেকে ক্রয় করে, এব্যাপারেও বলবেন।
#অনেক সময় তারা আমাদের পাশে আছে বিধায় তাদের বিবাহ অনুষ্ঠানে মুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়, সেখানে যাওয়া/না যাওয়ার ব্যাপারেও বলবেন।

মূলতঃ একটি বিষয় স্পষ্ট করলেই সবগুলো বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। সেটা হল অমুসলিমদের জন্য মুসলমানদের কাছে কি কি অধিকার প্রাপ্য রয়েছে। আসলে অমুসলিমরা মুসলমানদের কাছে কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু পাওনা রয়েছে। তাও শর্তসাপেক্ষ।
১। তাদের মালেআমাদের মালের মত সংরক্ষিত হবে এবং তাদের জান আমাদের জানের মত সংরক্ষিত হবে। শর্ত হল তারা আমাদের দেশে আমদের আনুগত্যে কর দিয়ে বাস করতে হবে। কোন অমুসলিম যদি মুলমনাদেরকে কর না দেয় তাহলে তার জন্য মুসলমানদেনর কাছে তার না জানে নিপত্তা থাকবে আর মালের নিরাপত্তা থাকবে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এই বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করেছেন,
﴿قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ ﴾

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। -সূরা তাওবা: ২৯
২। যেসব কাফের তাদের আপন আবাসস্থল থেকে মুসলিমদের অনুমতিক্রমে মুসলিম দেশে প্রবেশ করেছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলমানদের দায়িত্ব।
এই দুই প্রকারের কাফের ব্যতীত কোন কাফের মুসলমানদের থেকে তাদের পাওয়ার মত কোন অধিকার নেই। তবে তাদের সাথে যখন দীনের সার্থে জিহাদ করা হবে সেসময়টা ব্যতীত কাফেদের উপর অত্যাচার করা বৈধ হবে না। কোন কাফেরকে ধোকা দেওয়াও বৈধ হবে না। রাসূল স. কোথাও বাহিনী প্রেরণ করলে অনেক সময়ই তাদরকে বলতেন, তোমরা কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করবে না। তাই তাদের সাথে যদি আমাদের কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে তাহলে সেটার ক্ষেত্রে তাদের সাথে চুক্তি বহির্ভূত কোন কাজ করা আমাদের জন্য বৈধ নয়।
কিন্তু আমরা বর্তমানে যে পরিবেশে বাস করছি না সেটা মুসলিম দেশ তথা ইসলাম-শাসিত দেশ আর না তাতে কুফ্ফাররা আমাদের সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ। বরং বিষয়টি আরো উল্টো। আমরাই বরং তাদের সাথে মোটামুটি জীবন বাচানোর দায়ে তাদের সাথে চুক্তি করে কোন মতে জীবন পার করছি। এদেশ যে দারুল হারব তথা যুদ্ধলব্ধ দেশ তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেউ সন্দেহ করলে তার ঈমানে যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। তাই এদেশের বিধান হবে দারুল হারবের বিধান। আর দারুল হারবের বিধান হচ্ছে, মুসলমানদের জন্য দারুল হারবে অবস্থান করা বৈধ নয়। বরং তাকে হিজরাত করে মুসলমান রাষ্ট্রে চলে যেতে হবে। কিন্তু এর চেয়েও বড় পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের এই দেশ সত্ত্বাগত বিবেচনায় দারুল হারব না। বরং দারুল ইসলাম দারুল হারবে রূপান্তর হয়েছে। আমাদের এই দেশ এক সময় কুরআনী আইনের মাধ্যমে শাসিত হত। সম্রাট আওরাঙ্গজেব আলমগীর এই দেশ ইসলামী হুকুমাতের ছায়ায় লালন করেছেন। সর্ব শেষ ইসলামি হুকুমাত ছিল সম্রাট সিরাজুদ্দৌলার কাল পর্যন্ত। সম্রাট সিরাজুদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে এদেশে ইসলামী হুকুমাতের চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘটে। যার পরে আজ অবধি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে সক্ষম হয় নি।
বিষয় হল, যে দেশ দারুল ইসলাম থেকে দারুল হারবে রূপান্তর হয় তার বিধান আর দারুল হারবের বিধান এক নয়। যে দেশ ইসলামী হুকুমাতের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল তার এই আশ্রয় চিরন্তন করা সকল মুসলমানের উপর ফরজ। যার বিস্তারিত বিবরণ ড.আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. আদ-দিফা, আন আরাদ্বিল মুসলিমীন কিতাবে সবিস্তোরে আলোচনা করেছেন।
পৃথিবীর কোন ভূখণ্ড যদি একবার ইসলামী শাসনের অধীনে চলে আসে তাহলে সেই ভূখণ্ডে যদি কাফেরদের পক্ষ থেকে হামলা আসে তাহেলে সেটাকে রক্ষা করা উক্ত এলাকার মুসলমানের উপর ফরজ হয়ে যায়। তারা যদি কাফেরদের সাথে মোকাবেলা করতেআলস্য করে বা তারা তাদের মোকাবেলা করতে সক্ষম না হয় তাহলে তার পার্শবর্তী এলাকার মুসলমানদের উপর উক্ত এলাকার মুসলমানদেরকে সাহায্য করা ফরজ হয়ে যায়। এমনকি একে একে এভাবে যদি পুরো বিশ্বের মুসলমানদেরকেও প্রয়োজন হেয়ে পড়ে তাদের সোহায্যের জন্য এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার জন্য তবুও সকলকে এই মোকাবেলায় শরীক হওয়া ফরজ হয়ে যাবে।
এই বিবেচনায় আমরা আমাদের বিশ্বপরিস্থিতি যদি তুলনা করি তাহলে আমরা অবশ্যই স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে পারি যে, আমাদের জন্য হিজরাতের কোন পন্থা অবশিষ্ট নেই। পথ শুধু একটাই বাকি আছে। জিহাদের জন্য প্রস্তুতি অবলম্বন কর, জিহাদে ঝাপিয়ে পড়। শত্রুদের বিতাড়িত কর। আল্লাহর যমীনে আবার আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা কর।
আমাদের বর্তমান কালে আমাদের প্রতিবেশী ও দেশীয় কাফেরদের সাথে আমরা বাহ্যত কোন বৈরি আচরণ করতে পারবো না। তবে তাদের সাথে আমরে কোন সখ্যতাও চলবে না। তাদের সাথে আমাদের ততটুকুই সম্পর্ক থাকবে যতটুকু না হলে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আমাদের নিজস্ব গতি ঠিক রাখতেই হবে। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে আমাদের একথা বলা চলবে না যে, আজ যদি আমরা জিহোদের প্রস্তিু নেই তাহলে তাগুতরা আমাদের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। উদ্দেশ্য হল, আমরা তাদের মাঝে থেকেই তাদের জন্য জম হিসেবে আমাদেরকে আবিষ্কার করব। নীরবঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবো।
মোট কথা হচ্ছে, তাদের থেকে আমরা উদ্দেশ্য হাসিল করতে যতটুকু সখ্যতার প্রয়োজন ততটুকু সখ্যতা তাদের সাথে করতে পারি। এর বেশি সখ্যতা তাদের সাথে আমাদের চলবে না।
আমরা তাদের সাথে একই পরিবেশে বাস করি। তাদের গোচরে আমরা আমরা তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারব না। আর তাদের অসন্তুষ্টিক্রমে তাদের কোন সম্পদ আমাদের জন্য হাতিয়ে নেওয়া বৈধ হবে না। তবে তাদেরকে আমরা ভালবাসতে পারব না।
তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার তো কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। যারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যায় তাদের ঈমান বিনষ্ট হওয়ারও ভয় আছে। কিন্তু যারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের অনুষ্ঠানকে স্বাগত বা ধন্যবাদ জানাবে তাদের ঈমান থাকবে না। কারণ, তাদের শিরকী অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানানোর অর্থহল আমি এই শিরককে সমর্থন করি। চাই তা তাগুতসরকারের অধীনস্ততার কারণেই হোক। তাই যাদেরকে তাগুতরা বিভিন্ন পদে আসীন করেছে তাদের জন্য উক্ত তাগুতের বাধ্যবাধকতার কারণে অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া বা তাদের সাথে সখ্যতাপূর্ণ কোন আচরণ করা ঈমান বিনষ্টের কারণ বলে গণ্য হবে। আর যদি কেউ একথা বলে যে, হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই। তাহলে তার এই বাক্য উচ্চারণের পূর্বেই তার থেকে তার ঈমান বিদায় নিয়েছে। সে মুরতাদের পরিণত হয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলমীন বলেন,
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً ۗ وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ۗ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ [٣:٢٨]
মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। -সূরা আলে ইমরান: ২৮
মুসলিমদের জন্য কাফেরদের দোকান থেকে কোন কিছু ক্রয় করা অবৈধ নয়। তবে উত্তম মোটেও নয়। বরং মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব হল তার মুসলিম ভাইয়ের কাছ থেকেই সে তার প্রয়োজনী পন্য ক্রয় করবে। আসলে মানুষ সামান্য দুনিয়ার লোভে আখেরাতকে এমনভাবে জলঞ্জলী দেয় যে, মুসলামানরা নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে চরম হীনতার পরিচয় দেয়। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোন কোন মুসলিমদের থেকে লেনদেনের ক্ষেত্রে কাফেরদের লেনদেনে স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়। তাই অনেক অবলা মুসলিম বলেই ফেলে যে, মুসলমানদের চেয়ে কাফেরদের লেনদেন অনেক ভাল। না। মুসলমানদের লেনদেনের দৃষ্টান্ত এমন গৌরবময় ঔতিহ্যে ভরা যার শতভাগের এক ভাগও কাফেরদের মধ্যে ছিল না। আজও নেই। আসলে আমরা হিন্দেুদের ইতিহাস জানি না। হিন্দুরা যে কত বড় ডাকাতদল তা গোলাম আহমদ মোর্তজা সাহেব রচিত চেপে রাখা ইতিহাস পুস্তকটি পড়লে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করতে পারব।
তাই যদি একান্ত এমন কোন প্রয়োজন দেখা না দেয় যে, আমরা তাদের ব্যতীত এই বস্তুটি অন্য কোথায় পাচ্ছি না এবং এই বস্তুটি অত্যান্ত প্রয়োজনীয় বস্তু তাহলেই কেবল তাদের কাছ থেকে পন্য খরিদ করতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ইত্যাদি খরিদ করতে কেনা সমস্যা নেই। যার দ্বারা তাদের ঘাড়ের উপরই তাদের থেকে খরিদ করা অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে।
তাদের কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়াও বৈধ হবে না। কারণ, তারা কোন অনুষ্ঠান করলে সেখানেও থাকে হাজর রকমের শিরকী কর্মকাণ্ড। কুসংস্কারের তো কোন সীমা নেই। কোন মুসলমানের জন্য তাদের এই ধরনের অনুষ্ঠানে যাওয়া কোন মতেই বৈধ হবে না। তারা হয়ত বলবে যে, আমাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর তাই আমাদের অনুষ্ঠানে তোমরা উপস্থিত হতে চাও না। বাস্তবেও তো আমরা তাদেরকে ঘৃণার পত্র মনে করি এবং করত হবে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে হযরত ইবরাহীম আ. এর নীতি অবলম্বন করতে হবে। তিনি তার সম্প্রদায়কে যা বলেছিলেন তার প্রসংশা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ
তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। -সূরা মুমতাহিনা: ৪
তবে তাদের থেকে বড় ধরনের কোন অনিষ্টতার আশংকা থাকলে সেখানে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু নিয়ত পরিষ্কার অবশ্যেই থাকতে হবে যে, আমি বাধ্য হয়েই তাদের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।
আশা কিরি বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। এর পরেও যদি কারো কাছে কোন বিষয়ে অস্পষ্তা থাকে তাহলে প্রশ্ন করলে সেটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।
উত্তর প্রদানে: মুফতী খালেদ সাইফুল্লাহ উসমানী
পথম পর্ব পড়ুন এখানে

(http://https://dawahilallah.com/showthread.php?6681-%E0%A6%95%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A 6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A 6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0)

bokhtiar
05-16-2017, 04:58 PM
আখি শুকরিয়া, জাযাকাল্লাহু খাইরান।
#আপনার প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকেই আলহামদুলিল্লাহ ফ্লো করছি। আখি আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আমিন।

bokhtiar
05-16-2017, 05:06 PM
আখি আমার ব্যক্তিগত মতামত। মুসলিমরা কুফফারদের ব্যবসা বাণিজ্যে না যাওয়াই ভালো, কুফফারদের দোকান থেকে কোনো কিছু ক্রয় না করা ই ভালো, আমি মুসলিম আমার দ্বারা যদি কোনো কুফফার তার কুফরি কাজে সাহায্য পায় তাহলে আমি এব্যাপারে ভয় করি। আমি মনে করি কুফফারদের দোকান থেকে ক্রয় করা, তার কুফরিতে সাহায্য করার মতই।
ভুল হলে ঠিক করে দিবেন।

আবু জাবের
05-17-2017, 06:04 AM
এ ব্যাপারে অনেকের মাঝেই খটকা লাগে ।সেই 'অনেকের' মাঝে আমিও একজন ।জাযাকুমুল্লাহ খাইর ।

মরু সাইমুম
05-17-2017, 06:17 PM
জি। আপনি ঠিক বলেছেন। তবে মুসলমান কর্তৃক কাফেরদের জন্য সাহায্য হওয়াটা স্পষ্ট হলেই তবে বিষয়টি প্রযোজ্য হবে।

Musafir
05-18-2017, 07:40 AM
জাযাকাল্লাহু খাইরান ফিদ্দারাইনি। আখি অনেক উপকৃত হয়েছি।
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

ইলম ও জিহাদ
05-22-2017, 12:45 AM
জাযাকাল্লাহ!

Al jihad media
01-19-2019, 06:54 PM
এক ভাই কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলেন। বলেছিলাম কয়েকটি পর্বে এর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। প্রথম পর্বে আমরা দুটি প্রশ্ন উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু উত্তর দেওয়া হয়েছে একটি প্রশ্নের। আরেকটিপ্রশ্নের আংশিক উত্তর এসেছে। এই পর্বে বাকি আমরা বাকি অংশের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।
প্রশ্ন করেছিলেন,
#এদেশের কুফফারদের ধর্মিয় অনুষ্টানে যাওয়ার কী বিদ্বান হতে পারে।
#তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা, চলাফেরা ওঠাবসা করার ক্ষেত্রে আমরা ইসলামের বিদ্বানগুলো কীভাবে মানবো।
#এদেশের কুফফার যারা আছে, তাদের বাড়িঘর তো মুসলিমদের বাড়িঘরের সাথেই। তারা তো আমাদের আশে পাশেই থাকে, তাহলে তাদের সাথে আমাদের কিরকম সামাজিক ব্যবস্তা হওয়া চাই।
#অনেক সময় দেখা যায় মুসলিমরা সজাতীয় কোনো ব্যবসায়ী ভাইয়ের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় না করে কুফফারদের দোকান থেকে ক্রয় করে, এব্যাপারেও বলবেন।
#অনেক সময় তারা আমাদের পাশে আছে বিধায় তাদের বিবাহ অনুষ্ঠানে মুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়, সেখানে যাওয়া/না যাওয়ার ব্যাপারেও বলবেন।

মূলতঃ একটি বিষয় স্পষ্ট করলেই সবগুলো বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। সেটা হল অমুসলিমদের জন্য মুসলমানদের কাছে কি কি অধিকার প্রাপ্য রয়েছে। আসলে অমুসলিমরা মুসলমানদের কাছে কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছু পাওনা রয়েছে। তাও শর্তসাপেক্ষ।
১। তাদের মালেআমাদের মালের মত সংরক্ষিত হবে এবং তাদের জান আমাদের জানের মত সংরক্ষিত হবে। শর্ত হল তারা আমাদের দেশে আমদের আনুগত্যে কর দিয়ে বাস করতে হবে। কোন অমুসলিম যদি মুলমনাদেরকে কর না দেয় তাহলে তার জন্য মুসলমানদেনর কাছে তার না জানে নিপত্তা থাকবে আর মালের নিরাপত্তা থাকবে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এই বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করেছেন,
﴿قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ ﴾

তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। -সূরা তাওবা: ২৯
২। যেসব কাফের তাদের আপন আবাসস্থল থেকে মুসলিমদের অনুমতিক্রমে মুসলিম দেশে প্রবেশ করেছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুসলমানদের দায়িত্ব।
এই দুই প্রকারের কাফের ব্যতীত কোন কাফের মুসলমানদের থেকে তাদের পাওয়ার মত কোন অধিকার নেই। তবে তাদের সাথে যখন দীনের সার্থে জিহাদ করা হবে সেসময়টা ব্যতীত কাফেদের উপর অত্যাচার করা বৈধ হবে না। কোন কাফেরকে ধোকা দেওয়াও বৈধ হবে না। রাসূল স. কোথাও বাহিনী প্রেরণ করলে অনেক সময়ই তাদরকে বলতেন, তোমরা কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করবে না। তাই তাদের সাথে যদি আমাদের কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকে তাহলে সেটার ক্ষেত্রে তাদের সাথে চুক্তি বহির্ভূত কোন কাজ করা আমাদের জন্য বৈধ নয়।
কিন্তু আমরা বর্তমানে যে পরিবেশে বাস করছি না সেটা মুসলিম দেশ তথা ইসলাম-শাসিত দেশ আর না তাতে কুফ্ফাররা আমাদের সাথে কোন চুক্তিতে আবদ্ধ। বরং বিষয়টি আরো উল্টো। আমরাই বরং তাদের সাথে মোটামুটি জীবন বাচানোর দায়ে তাদের সাথে চুক্তি করে কোন মতে জীবন পার করছি। এদেশ যে দারুল হারব তথা যুদ্ধলব্ধ দেশ তাতে কোন সন্দেহ নেই। কেউ সন্দেহ করলে তার ঈমানে যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। তাই এদেশের বিধান হবে দারুল হারবের বিধান। আর দারুল হারবের বিধান হচ্ছে, মুসলমানদের জন্য দারুল হারবে অবস্থান করা বৈধ নয়। বরং তাকে হিজরাত করে মুসলমান রাষ্ট্রে চলে যেতে হবে। কিন্তু এর চেয়েও বড় পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আমাদের এই দেশ সত্ত্বাগত বিবেচনায় দারুল হারব না। বরং দারুল ইসলাম দারুল হারবে রূপান্তর হয়েছে। আমাদের এই দেশ এক সময় কুরআনী আইনের মাধ্যমে শাসিত হত। সম্রাট আওরাঙ্গজেব আলমগীর এই দেশ ইসলামী হুকুমাতের ছায়ায় লালন করেছেন। সর্ব শেষ ইসলামি হুকুমাত ছিল সম্রাট সিরাজুদ্দৌলার কাল পর্যন্ত। সম্রাট সিরাজুদ্দৌলার পতনের মাধ্যমে এদেশে ইসলামী হুকুমাতের চূড়ান্তভাবে সমাপ্তি ঘটে। যার পরে আজ অবধি তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে সক্ষম হয় নি।
বিষয় হল, যে দেশ দারুল ইসলাম থেকে দারুল হারবে রূপান্তর হয় তার বিধান আর দারুল হারবের বিধান এক নয়। যে দেশ ইসলামী হুকুমাতের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল তার এই আশ্রয় চিরন্তন করা সকল মুসলমানের উপর ফরজ। যার বিস্তারিত বিবরণ ড.আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. আদ-দিফা, আন আরাদ্বিল মুসলিমীন কিতাবে সবিস্তোরে আলোচনা করেছেন।
পৃথিবীর কোন ভূখণ্ড যদি একবার ইসলামী শাসনের অধীনে চলে আসে তাহলে সেই ভূখণ্ডে যদি কাফেরদের পক্ষ থেকে হামলা আসে তাহেলে সেটাকে রক্ষা করা উক্ত এলাকার মুসলমানের উপর ফরজ হয়ে যায়। তারা যদি কাফেরদের সাথে মোকাবেলা করতেআলস্য করে বা তারা তাদের মোকাবেলা করতে সক্ষম না হয় তাহলে তার পার্শবর্তী এলাকার মুসলমানদের উপর উক্ত এলাকার মুসলমানদেরকে সাহায্য করা ফরজ হয়ে যায়। এমনকি একে একে এভাবে যদি পুরো বিশ্বের মুসলমানদেরকেও প্রয়োজন হেয়ে পড়ে তাদের সোহায্যের জন্য এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার জন্য তবুও সকলকে এই মোকাবেলায় শরীক হওয়া ফরজ হয়ে যাবে।
এই বিবেচনায় আমরা আমাদের বিশ্বপরিস্থিতি যদি তুলনা করি তাহলে আমরা অবশ্যই স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করতে পারি যে, আমাদের জন্য হিজরাতের কোন পন্থা অবশিষ্ট নেই। পথ শুধু একটাই বাকি আছে। জিহাদের জন্য প্রস্তুতি অবলম্বন কর, জিহাদে ঝাপিয়ে পড়। শত্রুদের বিতাড়িত কর। আল্লাহর যমীনে আবার আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা কর।
আমাদের বর্তমান কালে আমাদের প্রতিবেশী ও দেশীয় কাফেরদের সাথে আমরা বাহ্যত কোন বৈরি আচরণ করতে পারবো না। তবে তাদের সাথে আমরে কোন সখ্যতাও চলবে না। তাদের সাথে আমাদের ততটুকুই সম্পর্ক থাকবে যতটুকু না হলে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। আমাদের নিজস্ব গতি ঠিক রাখতেই হবে। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে আমাদের একথা বলা চলবে না যে, আজ যদি আমরা জিহোদের প্রস্তিু নেই তাহলে তাগুতরা আমাদের জানমাল নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। উদ্দেশ্য হল, আমরা তাদের মাঝে থেকেই তাদের জন্য জম হিসেবে আমাদেরকে আবিষ্কার করব। নীরবঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবো।
মোট কথা হচ্ছে, তাদের থেকে আমরা উদ্দেশ্য হাসিল করতে যতটুকু সখ্যতার প্রয়োজন ততটুকু সখ্যতা তাদের সাথে করতে পারি। এর বেশি সখ্যতা তাদের সাথে আমাদের চলবে না।
আমরা তাদের সাথে একই পরিবেশে বাস করি। তাদের গোচরে আমরা আমরা তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারব না। আর তাদের অসন্তুষ্টিক্রমে তাদের কোন সম্পদ আমাদের জন্য হাতিয়ে নেওয়া বৈধ হবে না। তবে তাদেরকে আমরা ভালবাসতে পারব না।
তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার তো কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। যারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যায় তাদের ঈমান বিনষ্ট হওয়ারও ভয় আছে। কিন্তু যারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের অনুষ্ঠানকে স্বাগত বা ধন্যবাদ জানাবে তাদের ঈমান থাকবে না। কারণ, তাদের শিরকী অনুষ্ঠানকে স্বাগত জানানোর অর্থহল আমি এই শিরককে সমর্থন করি। চাই তা তাগুতসরকারের অধীনস্ততার কারণেই হোক। তাই যাদেরকে তাগুতরা বিভিন্ন পদে আসীন করেছে তাদের জন্য উক্ত তাগুতের বাধ্যবাধকতার কারণে অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া বা তাদের সাথে সখ্যতাপূর্ণ কোন আচরণ করা ঈমান বিনষ্টের কারণ বলে গণ্য হবে। আর যদি কেউ একথা বলে যে, হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই। তাহলে তার এই বাক্য উচ্চারণের পূর্বেই তার থেকে তার ঈমান বিদায় নিয়েছে। সে মুরতাদের পরিণত হয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলমীন বলেন,
لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۖ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَن تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً ۗ وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ۗ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ [٣:٢٨]
মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে। -সূরা আলে ইমরান: ২৮
মুসলিমদের জন্য কাফেরদের দোকান থেকে কোন কিছু ক্রয় করা অবৈধ নয়। তবে উত্তম মোটেও নয়। বরং মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব হল তার মুসলিম ভাইয়ের কাছ থেকেই সে তার প্রয়োজনী পন্য ক্রয় করবে। আসলে মানুষ সামান্য দুনিয়ার লোভে আখেরাতকে এমনভাবে জলঞ্জলী দেয় যে, মুসলামানরা নিজেদের ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে চরম হীনতার পরিচয় দেয়। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোন কোন মুসলিমদের থেকে লেনদেনের ক্ষেত্রে কাফেরদের লেনদেনে স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত হয়। তাই অনেক অবলা মুসলিম বলেই ফেলে যে, মুসলমানদের চেয়ে কাফেরদের লেনদেন অনেক ভাল। না। মুসলমানদের লেনদেনের দৃষ্টান্ত এমন গৌরবময় ঔতিহ্যে ভরা যার শতভাগের এক ভাগও কাফেরদের মধ্যে ছিল না। আজও নেই। আসলে আমরা হিন্দেুদের ইতিহাস জানি না। হিন্দুরা যে কত বড় ডাকাতদল তা গোলাম আহমদ মোর্তজা সাহেব রচিত চেপে রাখা ইতিহাস পুস্তকটি পড়লে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করতে পারব।
তাই যদি একান্ত এমন কোন প্রয়োজন দেখা না দেয় যে, আমরা তাদের ব্যতীত এই বস্তুটি অন্য কোথায় পাচ্ছি না এবং এই বস্তুটি অত্যান্ত প্রয়োজনীয় বস্তু তাহলেই কেবল তাদের কাছ থেকে পন্য খরিদ করতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ইত্যাদি খরিদ করতে কেনা সমস্যা নেই। যার দ্বারা তাদের ঘাড়ের উপরই তাদের থেকে খরিদ করা অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে।
তাদের কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়াও বৈধ হবে না। কারণ, তারা কোন অনুষ্ঠান করলে সেখানেও থাকে হাজর রকমের শিরকী কর্মকাণ্ড। কুসংস্কারের তো কোন সীমা নেই। কোন মুসলমানের জন্য তাদের এই ধরনের অনুষ্ঠানে যাওয়া কোন মতেই বৈধ হবে না। তারা হয়ত বলবে যে, আমাদেরকে তোমরা ঘৃণা কর তাই আমাদের অনুষ্ঠানে তোমরা উপস্থিত হতে চাও না। বাস্তবেও তো আমরা তাদেরকে ঘৃণার পত্র মনে করি এবং করত হবে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে হযরত ইবরাহীম আ. এর নীতি অবলম্বন করতে হবে। তিনি তার সম্প্রদায়কে যা বলেছিলেন তার প্রসংশা করে আল্লাহ তাআলা বলেন,
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ
তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। -সূরা মুমতাহিনা: ৪
তবে তাদের থেকে বড় ধরনের কোন অনিষ্টতার আশংকা থাকলে সেখানে যাওয়া যেতে পারে। কিন্তু নিয়ত পরিষ্কার অবশ্যেই থাকতে হবে যে, আমি বাধ্য হয়েই তাদের অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।
আশা কিরি বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে। এর পরেও যদি কারো কাছে কোন বিষয়ে অস্পষ্তা থাকে তাহলে প্রশ্ন করলে সেটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। ইনশা-আল্লাহ।
উত্তর প্রদানে: মুফতী খালেদ সাইফুল্লাহ উসমানী
পথম পর্ব পড়ুন এখানে

(http://https://dawahilallah.com/showthread.php?6681-%E0%A6%95%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A 6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A 6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0)

jajahkallah khairan priyo shaik

diner pothik
01-20-2019, 07:06 PM
আখি শুকরিয়া, জাযাকাল্লাহু খাইরান।