PDA

View Full Version : অনুবাদ- (Part-1) The Role of Ideologues, 4th chapter of the book-"Trends in The Global Jihad Movement"



Odhom
06-09-2017, 04:56 PM
আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লহর জন্যই সকল প্রশংসা। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূল মুহাম্মাদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর। অনুবাদের কাজ চলছে। এখানে -"Trends in The Global Jihad Movement" বইয়ের The Role of Ideologues নামক অধ্যায়টির প্রথম অংশ দেয়া হল। ইংশাআল্লহ, সামনে বাকি অংশ আসবে। এটা খুবই ভাল হয় যদি আপনারা অনুগ্রহ করে-
১- বানান, ভাষাগত, কালগত সকল ধরণের ভুল বের করেন।
২- উন্নয়নমূলক কোনো পরামর্শ দেন।
আর, আমাদের হেদায়েতের জন্য দুয়া করবেন, যেন আমরা আল্লহকে মনে প্রাণে বেশি বেশি ভালবাসতে পারি ও মহান আল্লহর ওলি হয়ে ইমানের সাথে শাহাদাতের মৃত্যু বরণ করতে পারি। আল্লহ আমাদের সকলকে কবুন করুন তার মুখলেস বান্দা হিসেবে। আমিন।
৪. আলেমদের ভূমিকা-
সাক্ষাতকার গ্রহীতাঃইসলামিক স্টেট এবং আল-কায়দার মধ্যকার লড়াইয়ের একটি অংশ হয়েছিল আলেমদের মাঝে যারা দুটি দলের কোনো একটির সাথে যুক্ত ছিলেন বা একটিরর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি, আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনি এবং হানি সিবাই-এর মত অভিজ্ঞ আলেমগণ সর্বদাই আল-কায়দাকে সমর্থন করে আসছে। আর অপরদিকে ইসলামিক স্টেট কিছু তরুণ আলেমদের উপর নির্ভর করেছে যাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলেন- তুর্কি আল বিন'আলি। সুদূরপ্রসারী এই সালাফি জিহাদে আলেমদের ভূমিকা আপনি কিভাবে দেখেন?
আহমেদ আল হামদানঃআসলে, প্রশ্নটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের এটা অবশ্যই উপলব্ধি করা দরকার যে, ইসলামিক স্টেটের সমস্যাগুলো শুধু আল-কায়দার সাথে মতবিরোধ ও দ্বন্দের মাঝে অথবা আরব ভূমির ভিতরেই সীমাবধ্য থাকেনি। পাশাপাশি, বিষয়টি এমনও নয় যে ইসলামিক স্টেট শুধুমাত্র আরবদেরকেই জিহাদের প্রভাবশালী বক্তা হিসেবে বেছে নেয়নি। বরং, তারা প্রতিটি ভাষা ও জাতির কাছে এসেছে। আর, তারা অনারব জিহাদি দলগুলোর সাথেও দ্বন্দে লিপ্ত হয়েছে। এ জাতি ও দলগুলোর মাঝে এমন বক্তারা রয়েছেন যারা সেখানের ভাষায় কথা বলেন এবং আরব বক্তাদের থেকেও সেখানের মানুষকে বেশি প্রভাবিত করতে পারেন। উদাহরণস্বরুপ-
ইংরেজি ভাষার বক্তাদের মাঝে শাইখ আনওয়ার আল আওলাকিকে জিহাদের অন্যতম ও প্রধান একজন আলেম হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আবার, আরব বক্তাদের মধ্য থেকে শেখ আওলাকি কেবল জিহাদের একজন সাধারণ কমান্ডার হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কেন? কারণ হল যে, শরিয়তের উপর তার লেখা প্রায় সকল প্রবন্ধ ইংরেজিতে রিলিজ করা হয়েছে। কেবল মাত্র ৪টি বাদে আর কোনো বিবৃতিই আরবিতে রিলিজ করা হয়নি যেগুলোর প্রতিটিই ছিল উপদেশমূলক বাণীর সম্মিলন।
তাই আমরা যদি উদাহরণস্বরূপ ইংরেজী আভাষাভাষীদের মাঝে শাইখ আওলাকির বক্তব্যের প্রভাবকে আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি ও আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনি-এর মত শাইখদের প্রভাবের সাথে তুলনা করি তবে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহই থাকবে না যে শাইখ আওলাকিই বেশি প্রভাবশালী। আর এ বিষয়টি আমেরিকান শাইখ আহমাদ জীবরিলের বেলায়ও দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে, ইংরেজী জিহাদি মিডিয়ার সাথে যোগাযোগের আগ পর্যন্ত আমি এবং আরব জিহাদের সাথে জড়িত কিছু ভাই তার সম্পর্কে কিছুই শুনিনি। আর, পরে আমরা জানতে পারি যে, এই লোকটি অনেক প্রভাবশালী অ জনপ্রিয় যদিও কিছু দিন আগেও আমরা তার ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।
এটা খুব স্বাভাবিক যে, কোনো নির্দিষ্ট ভাষাভাষী ব্যক্তির ঐ ভাষায় যত বেশি লিখনি বা আর্টিকেল থাকবে সে ঐ ভাষার মানুষের কাছে তত বেশি জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী হবেন। আরবের জিহাদি আলেমগণের কতটি আর্টিকেল তুর্কিস্তানি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে? হয়তো ২টি বা ৩টি। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তুর্কিস্তানিদের প্রভাবিত করার জন্য কি এগুলোই যথেষ্ট? না, মোটেও নয়। যখন মুফতি আবুযর আযযামের আবির্ভাব হল এবং তিনি ইসলামিক স্টেটের সমালোচনা করে একটি বিবৃত প্রকাশ করেন তখন তা আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি ও আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনির ইসলামিক স্টেট সম্পর্কিত কিছু আর্টিকেল অনুবাদের চেয়েও তুর্কিস্তানের মানুষকে বেশি প্রভাবিত করবে যদিও মুফতি আবুযর তাদের মত জ্ঞানী নন। কিন্তু এমন কেন হল? কারণ, মুফতি আবুযর তুর্কিস্তানি জনগণের কাছে সুপরিচিত, তিনি তাদের ভাষাতেই কথা বলেন এবং তিনি তাদের মাঝে অনেক বয়ান ও জ্ঞান ছড়িয়েছেন। তাই, লরাইয়ে প্রভাবিত করার ক্ষমতা নির্ভর করে একটি সাধারণ ভাষা যা সবাই বোঝে ও আগের পরিচয়ের উপর, শুধু শরয়ী জ্ঞানের উপরই নয়।
ইয়োরোপে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী জিহাদি আলেম কে? আমরা জানি না। হয়তো এমন একজন শাইখ যিনি তরুণ এবং ফরাসি ভাষায় কথা বলেন। তাই, ফরাসি ভাষার মুজাহিদিনের কাছে তার প্রভাব শাইখ আবু মুহাম্মাদ ও আবু কাতাদা-এর চেয়েও বেশি হবে।
সুতরাং, যে ব্যক্তি আপনার সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং আপনাকে বিভিন্ন কাজের মাঝে ব্যস্ত রাখেন তিনি ঐ আলেমের চেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী হবেন যিনি আপনার সাথে সরাসরি কথা বলতে পারেন না এবং অনুবাদকের সাহায্যে যোগাযোগ করেন যে অনুবাদক হয়তো তার সব কথা অনুবাদ করেন না বা অনুবাদ করতে দেরী করেন।
যাই হোক, IS এর বিরুদ্ধে এ বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে এর বিরুদ্ধে লড়া বিভিন্ন ভাষার বিভিন্ন সংগঠন বা দলের মাঝে একধরণের সেতুবন্ধন গড়ে উঠেছে যা যোগাযগের ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, আমরা দেখতে পাই যে, ডাঃ আইমানের বিভিন্ন বক্তব্য ককেশাসের ইসলামিক ইমারত২৫ রাশিয়ান ভাষায় ও তুর্কিস্তানি ইসলামিক পার্টি২৬ তুর্কি ভাষায় অনুবাদ করে থাকে। আর আমরা এও দেখি যে, ডাঃ আইমান এসব দলের গুণকির্তন করেন। পাশাপাশি, আরবের আলেমগণ ও দলনেতারা কিভাবে IS কর্তৃক তাদের দলের পদে ভাঙন সৃষ্টির প্রচেষ্টার২৭ বিরুদ্ধে ককেশাসের ইসলামিক ইমারতের সাথে মিলে বিবৃতি প্রকাশ করেছে এবং কিভাবে তুর্কিস্তানি ইসলামিক পার্টি আরব আলেমদেরকে মূল পটভূমিতে রেখে ইসলামিক স্টেটের যুক্তি খন্ডন করে বিবৃতি২৮ প্রকাশ করেছে তাও আমাদের গোচরীভূত হয়েছে।
তাই, আমি মনে করি যে আমরা এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়েছি যেখানে একদিকে রয়েছে “জিহাদি দলগুলোর বৈশ্বায়ন” আর তার বিপরীতে অবস্থান করছে “ইসলামিক স্টেটের বৈশ্বায়ন”। আর, এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে পারস্পারিক সহযোগিতা ও উদার মনোভাবের কারণে যেহেতু তাদের সবার শত্রুই হল ইসলামিক স্টেট। আগে দেখা গিয়েছে যে, রাশিয়ানরা কাকেশাসের মুসলমানের সাথে, চীনদেশিরা তুর্কিস্তানী মুসলিমদের সাথে, আমেরিকানরা আল-কায়দার সাথে লড়ছে। আর এখন এসব মুসলিম জিহাদি দলগুলো তাদের সবার বিরুদ্ধেই একটি মাত্র সংঘবদ্ধ দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে যা হল- ইসলামিক স্টেট। এটাই তাদেরকে ধীরে ধীরে পরস্পরের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে উদ্দীপ্ত করেছে যাতে তারা এই নতুন শত্রুর মোকাবেলা করতে পারে, সেই শত্রু যা তাদেরকে দুর্গের ভিতর থেকেই হুমকি দিচ্ছে যদিও আগের সব শত্রুরা দুর্গের বাহিরে থেকেই ক্ষতি করার চেষ্টা করত। আর, আগে সবাই এভাবে একক শত্রুর মোকাবেলা করেনি বরং প্রত্যেক জিহাদি দল পৃথক পৃথক শত্রু দলের মোকাবেলা করেছিল।২৫- এটি ছিল “শহিদের অস্ত্র বহন কর” সিরিজের ”আমলদার আলেম” শিরোনামের একটি বক্তব্য। দাজেস্তান ভীডি প্রদেশের (the state of Dagestan VD) মিডিয়া কমিটি কর্তৃক এর অনুবাদ করা হয়।
২৬- এটি ছিল “ইসলামি বসন্ত” সিরিজ থেকে নেয়া “তুর্কিস্তান- ধৈর্য্য, অতঃপর বিজয়” শীর্ষক বক্তব্য। এটি তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টির মিডিয়া উয়িং “সওয়াত উল ইসলাম” কর্তৃক অনুবাদ করা হয়।
২৭- এটি ২০১৫ সালের ২৮সে অক্টোবরে প্রকাশিত “কাকেশাসের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সম্পর্কিত বক্তব্য” শিরোনামের কয়েকজন আলেমের সম্মিলিত বক্তব্য। বিখ্যাত উলামাদের একটি দল এখানে অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- শাইখ ইব্রাহীম রুবাইশ, শাইখ হারিস আল মাদহারি, শাইখ খালিদ বাতারফি, ডাঃ সামি আল উরাইদি, আবু মারিয়া আল কাহতানি ও ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মুহাইসিনি।
২৮- এটি হল ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সওয়াত আল ইসলাম কর্তৃক নেয়া তুর্কিস্তান ইসলামিক পার্টির নেতা শাইখ আব্দুল হকের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার।
আর, এটিও একটি নীতি যে, যখনই একক শত্রু থাকে তখন তাদের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধতা ও সহযোগীতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
তাই, এ কারণে একটি বিষয়কে নিয়ে লেখালিখি ও অনুবাদের প্রসার ঘটতে থাকে আর সে বিষয়টি হল- ইসলামিক স্টেট কর্তৃক সৃষ্ট বিভ্রান্তির নিরশন। আর, আমি মনে করি এটা এমনই এক অবস্থা যা আগে কখনো ঘটে নি।
এই গেল একটি বিষয়। অপর বিষয়টি তরুণ আলেমদের সম্পর্কে। এখানে যে প্রশ্নটি আসতে পারে তা হল- "কেন তরুণ অনভিজ্ঞ আলেমগণের ঝোক ইসলামিক স্টেটের দিকে যদিও তাদের অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী আল-কায়দার ধাবিত হয়েছে?"
আসলে আমি আমার আগের কথাতেই এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। মূলত, মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে সে ততই অভিজ্ঞ হয় এবং নতুন কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায়ও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করে। অপরদিকে, যার কোনো অভিজ্ঞতা নাই সে কিছু না ভেবেই কাজ করে এবং কর্মসম্পাদনে যৌক্তিক হওয়ার পরিবর্তে বেশি আবেগপ্রবণ হয়।
দ্বিতীয়ত, এসব তলাবুল ইলম বা ছাত্ররা এমন সময় নেতৃতের হাল ধরেছিল যখন তাদের। ওস্তাদেরা কারারুদ্ধ ছিলেন। আসলে, আমি এখানে শাইখ আবু মুহাম্মাদ আল মাকদিসি ও আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনির কথা বুঝিয়েছি। যাই হোক, আমার মনে হয়, এই তলাবুল ইলমরা চিন্তা করেছিল যে, "আমাদের উচিত স্বীয় ওস্তাদদের শুন্যস্থান পূরণ করা।" আর, তারা নিজেদেরকে তাদের ওস্তাদদের সমান অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করল এবং এমন সব নতুন বিষয়ের উপর কথা বলা শুরু করল যেগুলো খুব জটিল, এমনভাবে বলা শুরু করল যা তাদের ওস্তাদদের নম্রতা ও সতর্কতাপূর্ণ পদ্ধতি থেকে আলাদা। আমি এ সংক্রান্ত একটি প্রমাণ পেশ করছি-
তুর্কি বিন'আলি সিরিয়ায় দুইবার গিয়েছিল। প্রথম বারের ক্ষেত্রে সে বলেছিল যে সে রিলিফ বা ত্রান সামগ্রী বিতরণের জন্য সেখানে গিয়েছিল। আর, দ্বিতীয় বার গিয়ে সে আর ফিরে আসেনি। প্রথমবার সিরিয়া যাওয়ার আগে তাকে যেকোনো একপক্ষের কথা শুনতে নিষেধ করা হয়েছিল বিশেষ করে, জাবহাত আল নুসরা ও ইসলামিক স্টেটের মধ্যকার বিবাদের ব্যাপারে। কিন্তু, সে সিরিয়া থেকে ফিরে আসার পরে একসাথে যখন বসলাম তখন জাবহাত আল নুসরার ব্যাপারে তার কথার ভঙ্গি পরিবর্তিত মনে হচ্ছিল ও তা খুব কর্কশ রূপ ধারণ করেছিল২৯। আর, যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,"সিরিয়ায় থাকাকালীন সময়ে আপনি কি জাবহাত আল নুসরা থেকে কিছু শোনার চেষ্টা করেছেন যাতে করে আপনি তাদের যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি কি তা বুঝতে পারেন?" সে উত্তর দিল,"না, বরং ইসলামিক স্টেট ও এর প্রতিনিধিরা খুব বিশ্বস্ত এবং তারা মিথ্যা বলেন না।" আর তাই, উভয় পক্ষের কথা শোনার কোনোই দরকার নেই...!

২৯- আসলে, আগে জাবহাত আল নুসরা সম্পর্কে তুর্কি বিন'আলির মনোভাব ভিন্ন ছিল। আমি আমাদের এক বিরোধীতার জবাবে একটি আর্টিকেল লিখেছিলাম। তবে, আমি লেখাটা পোস্ট করার আগে আমি তা ২০১৩ সালের ২০শে অক্টোবরে তুর্কি বিন'আলির ফেসবুক আক্যাউন্টে পাঠিয়েছিলাম। সে উত্তরে আমাকে বলল,"আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন। এগুলো খুবই ভাল পয়েন্ট, কিন্তু, জাবহাত আল নুসরা ও ইসলামিক স্টেটের মাঝে পার্থক্যের সৃষ্টি করবেন না। কারণ, তাগুত ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে আমরা জাবহাত আল নুসরার সাথে আছি। কিন্তু ইসলামিক স্টেটকে ত্যাগ করার ভুলের ক্ষেত্রে আমরা তাদের নিন্দা করি।" কিন্তু, যখন সে সিরিয়া থেকে ফিরে এলো তখন তার অবস্থান ভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এমনকি, তাগুত ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আল নুসরার লড়াইরত ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দিতেও সে রাজি হল না। তার অবস্থা এমন হল যেন সে ইসলামিক স্টেটকে সমর্থন করার জন্য বাধ্য করবে ও কঠোর হয়ে পরবে এর বিরোধী সকলের সাথে যাদের কাতারে প্রথমেই রয়েছে- জাবহাত আল নুসরা।
এটা এমন কিছু না যা আমি অন্য কারো থেকে শুনেছি বরং আমি এসব নিজের কানে শুনেছি ও নিজের চোখে দেখেছি। তাই, বিন’আলি ISIS কে সমর্থন করে যেসব বই, বক্তব্য ও আর্টিকেল প্রকাশ করেছে তার সবই এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। আর ভিত্তিটি হল শুধুমাত্র একপক্ষের নিকট থেকে শোনা, কারণ, সে দাবি করে যে, ইসলামিক স্টেটের লোকেরা মিথ্যা বলেন না। পরবর্তীতে সময় অতিক্রমের সাথে সাথে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ISIS এর প্রতিনিধিরা মিথ্যা তো বলেনই এমনকি তাদের অফিসিয়াল পাবলিকেশনেও তারা মিথ্যার আশ্রয় নেন। তাই, বোঝাই যাচ্ছে একজন ছাত্র যে কিনা যথেষ্ট যোগ্য নয় সে তার শিক্ষকের স্থানে গেলে কি অবস্থা হয়।

অপরদিকে, আলজেরিয়ার ঘটনার প্রায় ২০ বছর পরে শাইখ আবু কাতাদা আল ফিলিস্তিনিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে,"আপনার যুবক সময়ে ঘটা আলজেরিয়ার ঘটনাগুলো কি কোনো উপকারে এসেছে?" তিনি উত্তরে বলেন,"হ্যাঁ, আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। বিশেষ করে, একজন প্রশ্নকারীর প্রশ্ন সাজানোর পদ্ধতির দ্বারা ধোকা না খাওয়ার শিক্ষা আমার জন্য খুবই উপকারী হয়েছে। এখানে, প্রশ্নকারী তার প্রশ্ন এমনভাবে সাজাতো যা বাস্তবসম্মত নয় বরং, সে মূলত তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পাকা করার জন্য ফাতওয়া নিতে চাইতো। তাই, যখনই আমি বুঝতে পারি যে কেউ এমন করছে তাহলে, আমি তার প্রশ্ন উপেক্ষা করি যাতে সে আমার ফাতওয়ার অপপ্রয়োগ করতে না পারে৩০।

৩০- শাইখ আবু কাতাদা ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল পল্টকের আল ফাজর সেন্টারের রুমে তার তৃতীয় অডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা আলজেরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি এবং এসবের মধ্যে সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা পেয়েছি মিথ্যা কথা বলার এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল শব্দ ব্যবহার করা সম্পর্কিত সমস্যার থেকে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন দেশের জিহাদি সংগঠনের একজন সুন্নি লোক আপনাকে এ বার্তা পাঠায় যে,"হে শাইখ, আমাদের মধ্যে একজন উদ্ভাবক আবির্ভূত হয়েছেন এবং আমরা তার সাথে এমন কিছু কাগজপত্র পেয়েছি যা এ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে যে, তিনি এখানকার শাসকদের উৎখাতে একটি অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করছেন এবং জিহাদকে পথভ্রষ্ট করে এমন এমন পথে সরিয়ে নিতে চাচ্ছেন ", আর আপনি তাকে একজন সুন্নি হিসেবেই মনে করলেন। সুতরাং, একজন তলাবুল ইলম হয়ে তাকে আপনি কি উত্তর দেবেন? হয়তো আপনার উত্তর হবে: "তিনি জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করছেন। তাই, অন্ততপক্ষে আপনি যা করতে পারেন তা হল তাকে থামিয়ে দেয়া ও তার প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেয়া। এবং, আপনি যদি তাকে হত্যা করা ব্যতীত তার এ উদ্ভাবন বন্ধ করতে না পারেন তাহলে তাকে হত্যা করুন। আলেমরা এমনই বলেন।" কিন্তু পরবর্তীতে এমন দেখা যাবে যে এই উদ্ভাবন প্রশ্নকারীর উপস্থাপিত বিষয়ের মত কিছু ছিল না বরং বিষয়টি অন্য রকম। সুতরাং, ভুলটি কি আপনার ফাতওয়ায় নাকি প্রশ্নকারীর প্রশ্নে ও মিথ্যায়? আর, একারণেই কিছু ভাইয়ের করা প্রশ্ন আমার সাথে কয়েক মাস ধরে জমা থাকে এবং আমি তাদের উত্তর দেই না। তারা নির্ভরযোগ্য, কিন্তু তারা ঘটনাগুলি সেভাবেই বর্ণনা করে যেভাবে তারা পছন্দ করে ও দেখে।"

কিন্তু, একজন কম অভিজ্ঞা সম্পন্ন তলাবুল ইলম এ ধরণের ব্যাপারে ধোকার ভিতরে পরে যাবেন। তিনি প্রশ্নকারীর তৈরিকৃত প্রশ্নের দরুন প্রশ্নকারীর প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন ও এমন ফাতওয়া প্রদান করবেন যা প্রশ্নকারীর অনুকূলে। কারণ, সেই প্রশ্ন মূলত এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে এর ফলে প্রশ্নকারীকে মাজলুম মনে হবে।

কোনো তলাবুল ইলমের নিজের স্বত্বা ও প্রকৃত অবস্থান ভুলে যাওয়ার পিছনে বেশি ভুমিকা রাখে তার চারপাশে লোকজন, বিশেষ করে যখন তারা একজন তলাবুল ইলমের প্রশংসা করতে থাকে এবং প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে, যখন তাকে "শাইখ", "আলেম" এবং অন্যান্য নামগুলো দ্বারা সম্বোধন করা হয়। এবং, যখন বহু সংখ্যক লোক এই শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি করে তখন এটা তার মনে এমন ভাব জাগিয়ে তোলে যাতে তিনি মনে করেন যে, তিনি একজন শাইখ এবং একজন আলেমে পরিণত হয়েছেন এবং তিনি সর্বাধিক জটিল বিষয়েও কথা বলার অধিকার রাখেন। অতএব, এসব প্রশংসাসূচক কথার দ্বারা তার বিভ্রান্ত হওয়া ও নিজের প্রকৃত অবস্থান ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। আর, তিনি যদি তার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকেন, তবে তিনি এই ধরনের প্রশংসার দ্বারা প্রভাবিত হবে না এবং নিজের যোগ্যতার বাইরে গিয়ে কোনো জটিল বিষয়ের উপর কথা বলবেন না । মূলত, নিজের প্রকৃত যোগ্যতা জানার ফলে তিনি বুঝবেন যে এসব লোকেরা অতিরঞ্জিত করছে অথবা এমনো হতে পারে যে তারা অন্য কোনও উদ্দেশ্যকে (যেমন- আপনাকে তাদের ফাঁদে ফালানো) সামনে রেখে এমন প্রশংসা করছে। তাই সাবধানতা অবলম্বন কতে হবে। কিন্তু, সামান্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি এসব ব্যাপার মোকাবেলার জন্য যথেষ্ঠ চতুর, সাবধান বা সচেতন নন।

পরিশেষে, বিভিন্ন সংগঠনকে সমর্থনে এক এক প্রজন্মের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্য কিভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে? এ বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই যে ওস্তাদ বা শিক্ষকদের প্রভাব এবং তাদের খ্যাতি ও মর্যাদা এসব ইন্টারনেট থেকে আবির্ভুত ছাত্রদের থেকে অনেক বেশি। শাইখ আল মাকদিসি জিহাদি আন্দোলনের সকল বিখ্যাত নেতাদের কাছে পরিচিত। তার মত আরেকজন হলেন শাইখ আবু কাতাদা। আল কায়দার বেশিরভাগ ধর্মীয় বিষয় ও রেফারেন্সের উৎস হিসেবে অনেকেই তাদের বিবেচনা করে থাকেন৩১। অপরদিকে, এসব তলাবুল ইলম তেমন একটা পরিচিতও না। কারণ, তাদের বেশির ভাগই ছদ্মনাম ব্যবহার করে লিখালিখি করেন এবং আজ পর্যন্ত তাদের অনেকই এটা প্রকাশ করে নি যে তারা কারা। তাই, কেউ অপরিচিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে উল্লেখ করতে দ্বিধান্বিত বোধ করে। আর, ইসলামিক স্টেটে যোগ দানের পরে তাদের অনেকেই লেখালিখি করা বন্ধ করে দিয়েছে।

এটা হয় দুটি কারণে। প্রথমত, তারা শিক্ষা দানে ব্যস্ত হয়ে পরে যেহেতু ইসলামিক স্টেট ইরাক এবং সিরিয়ার বৃহৎ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। ফলে, এমন শিক্ষকদের প্রয়োজন হয় যারা সেমিনার, বক্তৃতা ও অধ্যাপনার কাজ করতে পারবে। আর, যে এতে ব্যস্ত হয়ে পরে তার জন্য ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করা ও কোনো জবাব দেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দ্বিতীয়ত, ইসলামিক স্টেটের কিছু লোকের সূত্রে শাইখ আল মাকদিসি নিজে আমাকে জানিয়েছেন যে, সম্প্রতি নিহত হওয়া তথ্য মন্ত্রী এসব তলাবুল ইলমকে তাদের নিজের প্রকৃত নামে লেখালিখি করতে নিষেধ করত এই ভয়ে যে, তারা হয়তো অনেক বিখ্যাত হবে এবং পরে বিভক্ত হয়ে যাবে, যা মানুষকে ইসলামিক স্টেট থেকে ফিরে আসার জন্য প্রপাগ্যান্ডা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া, এ বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই যে, শিক্ষক বা ওস্তাদরাই এসব তলাবুল ইলমের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী ও বিশ্বস্ত এবং তারাই বেশি অগ্রবর্তী। কারণ-

১. ইসলামি শরীয়ত ও সচেতনতার ব্যাপারে তাদের জ্ঞান তলাবুল ইলমদের চেয়ে অনেক বেশি।

২. প্রায় তিন দশক ধরে তাদের অবস্থান, ত্যাগ ও অবিচলতা সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অপরপক্ষে, ছদ্মনামে লেখালিখি করা এসব তলাবুল ইলমরা মাত্র কয়েক বছর হল সামনে অগ্রসর হয়েছেন এবং কিছু বাদে তাদের বেশির ভাগই প্রকৃতপক্ষে অপরিচিত। আর, তাদের অবস্থান, ত্যাগ ও অবিচলতা কেমন সেটাও সকলের অজানা। পাশাপাশি, আগের একটি নিরাপত্তা সংক্রান্তও কারণে অপরিচিত ব্যক্তিদের সাহায্য করায়ও ভয় ছিল৩২। এভাবে, এ তলাবুল ইলমদের অনেকেই অবহেলিত হয়েছেন। আর, সেসব তলাবুল ইলম পরিচিত ছিল তারাও মুজাহিদিনের মাঝে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন না এবং তাদের ত্যাগ তাদের বহু পরীক্ষার সম্মুখিন হওয়া ওস্তাদদের সামনে কিছুই না।

৩- আরেকটি বিষয় হল কোনো কিছুর প্রতিউত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আলেমগণ বিজ্ঞানসম্মত পন্থার অনুসরণ করে থাকেন যা তাদের ছাত্রদের অনুসৃত পন্থার বিপরীত। তারা এমন বৈজ্ঞানিক পন্থার সীমা অতিক্রম করে তাদের ওস্তাদদের প্রত্যুত্তর দেন। তারা এমনভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন যাতে থাকে অশ্রদ্ধা, কর্কশতার মিশ্রণ এবং খারাপ ও ব্যঙ্গাত্মক শব্দের ব্যবহার যা একজন নিরপেক্ষ যাচাইকারীর কাছে তাদের অবস্থান দুর্বল করে দেয়।

ইসলামিক স্টেট এটা জানে যে তলাবুল ইলমদের তুলনায় তাদের ওস্তাদদের অধিকতর প্রভাব রয়েছে। এ কারণে, কিছু ছাত্র ISIS- এ যোগ দিলেও তারা এ ব্যাপারে সন্তুষ্ট তো নয়ই বরং তারা তাদের ওস্তাদদের ভাবমুর্তি নষ্ট করার মাধ্যমে তাদের মর্যাদাহানি করতে বদ্ধপরিকর। উদাহরণস্বরুপ, শাইখ আল মাকদিসি জর্দানের “মুয়াধ আল কাসাবাহ” নামক পাইলটের ব্যাপারে জর্দানের সরকার ও তাদের মাঝে মধ্যস্ততাকারী হওয়ার পরে “আল মাকদিসির প্রতিকৃতি চূর্ণবিচূর্ণ (Smashing The Idol of Al-Maqdisi )” শিরোনামের প্রকাশনায় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে “মধ্যস্ততাকারী” ও “প্রতিনিধি” শব্দদুটির মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। তারা তাকে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করেছে যে সরকারকে তিনিই তাকফির করেছে। আর, তাই বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যে, যেহেতু তিনি সরকারের প্রতিনিধি হয়েছেন, তাই তিনি এধরণের সরকারের অসহযোগিতার ব্যাপারে তার আগের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। তাদের থেকে প্রকাশিত ঐ একই অডিও-তে এমন কিছু কথা আছে যা তার সরকারের প্রতিনিধি হওয়ার বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, যেমন- তিনি জর্দানের ঐ পাইলটকে মুরতাদ বলেছেন। তা সত্বেও তারা পুর্বোক্ত কথা বলেছিল।

আরেকটি বিষয় হল, তারা বিভ্রান্তির সীমা অতিক্রম করে মিথ্যার স্তরে পৌছিয়েছে। তাদের এক ম্যাগাজিনে তারা বলেছে যে, তাগুতের সাথে শাইখ আবু কাতাদার মিত্রতা রয়েছে৩৩। এটা তারা বলেছিল যদিও এই ম্যাগাজিন প্রকাশের মাত্র এক সপ্তাহ আগে শাইখ আবু কাতাদা এক টুইটে লিখেছিলেন, “মুসলিমরা ঐ একই ভুলে পতিত হওয়া থেকে বিরত থাকেনি যা তারা আগেও করেছিল। আর তা হল, তাগুতের সাথে মিত্রতা”৩৪।

৩২- জিহাদি সংগঠনে তাকেই নেতৃত্বের পদে উন্নীত করা উচিত যিনি কষ্ট ও পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার পরেও দৃঢ় থেকেছেন। নেতা নির্বাচনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ করতে গিয়ে শাইখ উসামা বিন লাদেন বলেছিলেন, “এটা খুবই দরকারী যে উচ্চ পর্যায়ের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল তাদেরকেই বাছাই করা উচিত যারা ব্যাপকভাবে পরীক্ষিত” {আবোটাবাদ ডকুমেন্টের প্রথম সেট, ইনডেক্স নং-SOCOM-2012-0000016}। আর, এই পরীক্ষার একটি ধরণ হল ময়দানে যাওয়া ও লড়াই করা। কারণ, একজন গোয়েন্দা বাঁচার জন্য অর্থের বিনিময়ে নিজের নীতিকে বেঁচে দিতে পারে। কিন্তু, যুদ্ধের ময়দানে তার মারা যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং এভাবে তার প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়। শাইখ উসামা বিন লাদেন বলেছিলেন, “উদাহরণস্বরূপ, কেউ যখন যুদ্ধের ময়দানে যায় ও সেখানে পরীক্ষার সম্মুখীন হয় আমরা তখন আরো ভরসা পাই” {আবোটাবাদ ডকুমেন্টের প্রথম সেট, ইনডেক্স নং-SOCOM-2012-0000003}। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জিহাদি সংগঠনগুলো এমন নেতা নির্বাচনের সমস্যা ভালভাবে বুঝেছে যারা তেমন একটা পরিচিত নয় ও যুদ্ধের ময়দানের পরীক্ষার ব্যাপারে যাদের পূর্ব কোনো অভিজ্ঞতা নেই। মুহাম্মাদ সুরুর জাইন আল আবেদিন (Muhammad Suroor Zayn al Abideen) ছিলেন সেই ব্যাক্তি যাকে সুরুরী আন্দোলনের অগ্রপথিক বলা হয় যে আন্দোলনটি ছিল সালাফিদের ভাবাদর্শের অনুগামী। তিনি আশির দশকে সিরিয়ান জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তিদের সাথী ছিলেন। তিনি এই নেতা বাচাইয়ের ব্যাপারে একটি ঘটনা বলেন যে, আবু আব্দুল্লাহ আল জাসারি নামে একজন লোক অনেক কুরআন তিলাওয়াত করতেন, রাতে কিয়ামুল লাইল আদায় করতেন ও যুবক ভাইদেরকে নামাজের জন্য উঠাতেন। আর, শুধুমাত্র এসব বৈশিষ্টের কারণেই তাকে নেতৃত্বস্থানীয়দের একজন হিসেবে বাছাই করা হয় যদিও তিনি ছিলেন অপরিচিত ও ইসলামিক দলগুলোর কেউই তাকে চিনত না। অতঃপর, দেখা গেল যে, তিনি আদনান আল উকলা ও নেতৃত্বস্থানীয়দের গ্রেফতার করিয়ে দেন এবং সশস্ত্র যুদ্ধ পরিহারে ভুমিকা রাখেন।(বইয়ের রেফারেন্স- “কিভাবে ইসলামি সংগঠনের পদ মুনাফিকদের থেকে রক্ষা করা যায় (How to protect the Islamic ranks from hypocrites)”, পৃষ্ঠা-৭৭) শাইখ আবু মুসআব আল সুরি এ বিষয়টি তার বই, “সিরিয়ার ইসলামিক জিহাদি বিপ্লব- অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা(The Jihadi Islamic Revolution in Syria- Experience and Lessons)”, পৃষ্ঠা- ১৫০।

৩৩- “রুমিয়াহ(Rumiyah)” ম্যাগাজিন, ১ম সংখ্যা, পৃষ্ঠাঃ২৯-৩০, সেপ্টেম্বর ২০১৬

৩৪- তার ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট-“@sheikhabuqatadh”, ২৫শে আগস্ট,২০১৬ (সম্পাদক ভাই এখানে PDF file টির অনুরূপ লিংক সংযুক্ত করে দিবেন) ।






কিন্তু, ISIS এসবের জন্য এত কষ্ট কেন করছে? কারণ, তারা জানে যে তলাবুল ইলমরাই যথেষ্ট নয় এবং আলেমগণই বেশি প্রভাবশালী।

ISIS এই শাইখদের প্রভাব কমিয়ে দিতে চায়। আর যখন আলেমদের কোনো প্রভাব থাকবে না তখন তাদের ছাত্ররাই উপরের আসনে অবস্থান করবেন। ইসলামি মাগরিবে আল-কায়দার শরয়ী বিষয়ের নেতা “শাইখ আবু আহমাদ আল জাঝাইরি” সত্যি বলেছিলেন যে, “আদর্শ ব্যক্তিদের নিচে নামিয়ে আনার অর্থই হল নিকৃষ্ট লোকদের উপরে উঠানো। রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “যখন কোনো আলেম থাকবে না তখন মানুষ অজ্ঞ লোকদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, আর তারা জ্ঞান ছাড়াই ফাতওয়া দিবে। এভাবে নিজেও বিভ্রান্ত হবে এবং অপরকেও বিভ্রান্ত করবে”৩৫।

তোরে হাম্মিং কর্তৃক সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণঃ

আলেমদের ব্যাপারে আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের বিরোধকে আলেম ও তলাবুল ইলম বা শিক্ষক ও তাদের ছাত্রদের মধ্যকার লড়াই বলা যেতে পারে। ভাষা প্রাচুর্যের তীব্র স্রোতে কি আলেমদের প্রভাব থমকে গিয়েছে নাকি তারা এখনও জিহাদের অনুসারীদেরকে প্রভাবিত করে চলছেন? নাকি ভাষার মত নতুন বিষয়গুলো এটা নির্দেশ করে যে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জিহাদি পারিপার্শিকতায় নতুন আলেমদের আবির্ভাব ঘটেছে?

আসলে, ভাষা এ ক্ষেত্রে বড় একটি প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান। আর এটা সমসাময়িক জিহাদি-সালাফি আলেমদের সম্পর্কে আল হামদানের উপলব্ধির প্রাথমিক বিষয় হতে পারে। একজন আলেম কতটা পরিচিত ও বিখ্যাত হবেন তা আবশ্যিকভাবে তার জ্ঞান, সাংস্কৃতিক প্রাচুর্যের উপরেই নির্ভর করে না। বরং, তা ব্যাপকভাবে নির্ভর করে শ্রোতাদের সাথে একজন আলেম যে পন্থায় যোগাযোগ করে থাকেন তার উপর। আল হামদানের মত জিহাদের একজন উৎসুক অনুসারীর কাছ থেকে এমন কথা শুনতে পাওয়া খুবই মজাদার যে, কিছু দিন আগেও পশ্চিমা জিহাদি বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত আহমাদ জিবরীলকে তিনি চিনতেন না।

ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে পুর্বোক্ত কথাগুলো কেবল কিছু ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য। আর, “জিহাদিকা”-এর বিভিন্ন আর্টিকেলের উপরে বিশদ জ্ঞানের অধিকারী আবু কাতাদা ও আল-মাকদিসি-এর বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও বিবৃতি আরবি ভাষায় হলেও সারা বিশ্বে জিহাদের প্রতি ভালবাসা রাখেন এমন ব্যক্তিদের মাঝে তারা ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করে আসছেন।

৩৫- তার ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্ট-“@ahmed_karim25”, ১৫ই মে, ২০১৬ (সম্পাদক ভাই এখানে PDF file টির অনুরূপ লিংক সংযুক্ত করে দিবেন) ।

লন্ডনের আবু মাহমুদ আল ফিলিস্তিনির সাথে আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টীটের মধ্যকার ফিতনায় আলেমদের ভূমিকা সংক্রান্ত একটি আলোচনায় তিনি আমাকে বলেন, “প্রধানত আলেমরাই মানুষদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে থাকেন। এমনকি একজন মিলিটারি কমান্ডারের চেয়েও বেশি”। এ কারণে এটা জানাও গুরুত্বপূর্ণ যে আলেমরা কিভাবে এই ফিতনা হস্তক্ষেপ করেছেন, কোন পক্ষকে তারা সমর্থন দিয়েছেন এবং কিভাবে তারা জনসাধারণকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে, জিহাদি দল ও মিডিয়া সংগঠনগুলো বিভিন্ন বক্তৃতা, বিবৃতি, ভিডিও ইত্যাদি অনুবাদের জন্য অনেক কাজ করেছে। প্রায় প্রতিবারে যখনই আমি আমার “টেলিগ্রাম” আক্যাউন্ট চেক করি, দেখি যে কোনো না কোনো চ্যানেলে নতুন কোনো ভাষা সংযুক্ত করা হয়েছে।

আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের মধ্যোকার প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক পুরো জিহাদি পরিবেশকেই প্রভাবিত করছে। সাম্প্রতিক কালে, বিষয়টি জুন্দ আল-আকসা এর ক্ষেত্রে বেশি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এমন প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দলের মধ্যকার সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের দৃষ্টিভঙ্গিতে কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয় বরং সম্ভাবনাময়ও বটে। এটা জিহাদি আলেম ও মিডিয়া সংগঠনগুলোর প্রধান আলোচ্য বিষয় যেহেতু তারা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে মানুষকে সতর্কে করে ও নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করে তোলে। এক্ষেত্রে, আল মাকদিসি, আবু কাতাদা এবং হানি সিবা’ই এর টুইটার অ্যাকাউন্টে ৫০,০০০ এর অধিক ফলোয়ার আছে এবং তাদের বিবৃতিগুলো ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয় ও অনেকেই তা শোনেন। এই মানুষকে জড় বা সমবেত করার ক্ষমতা আল-কায়দার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা এমনই এক ক্ষমতা যার প্রতি ইসলামিক স্টেট ঈর্ষা করে।

প্রথম দিকে দেখা যায় যে ছাত্ররা তাদের শিক্ষকদের খালি জায়গা পূরণ করে সক্ষম হয়। তবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে আমার অনুভুতি এমন যে, ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে জিহাদের অনুসারীদের মাঝে এই শিক্ষক তথা আলেমরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনরায় অর্জন করে নিচ্ছেন।

খাত্তাবের বেটা
06-11-2017, 11:26 PM
জাজাকাল্লাহ ভাই,

প্রথম অংশগুলো যতটুকু সম্ভব আমি এডিট করেছি, আর বই আকারে সাজিয়েছি।
লিঙ্ক নিচে দেয়া হল, আপনারা একটু দেখেন কেমন হয়েছে। পরের গুলো আপনাদের অনুবাদ শেষে অ্যাড করে দিব।

.docx লিঙ্ক https://pc.cd/Cux7
.pdf লিঙ্ক https://pc.cd/V4C7

Odhom
07-06-2017, 06:36 PM
নতুন লেখা যংযুক্ত করা হয়েছে।

Odhom
08-23-2017, 10:57 AM
নতুন লেখা সংযুক্ত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ অংশের অনুবাদ শেষ।
আবু ফাতেমা ভাইকে কেউ প্রাইভেট ম্যাসেজ দিন যেন তিনি তার অংশের অনুবাদের কাজ ফোরামে পোস্ট করেন। অথবা কাজের চাপের কারণে না পারলে তিনি যেন তা খাত্তাবের বেটা বা অন্য কাউকে দিয়ে দেন।

খাত্তাবের বেটা
08-24-2017, 12:36 AM
প্রথম দিকে দেখা যায় যে ছাত্ররা তাদের শিক্ষকদের খালি জায়গা পূরণ করে সক্ষম হয়। তবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে আমার অনুভুতি এমন যে, ধীরে ধীরে সারা বিশ্বে জিহাদের অনুসারীদের মাঝে এই শিক্ষক তথা আলেমরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনরায় অর্জন করে নিচ্ছেন।



আমার অনুভূতিও অনেকটা এমনই। আল্লাহ শাইখদের কথায় আরও বারাকাহ দিন। আমিন।

Fathul islam
08-24-2017, 02:16 AM
জাযাকাল্লাহ
আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল https://t.me/fathulislam

https://image.ibb.co/jCHJgk/1_4954288906724966406.png