Announcement

Collapse
No announcement yet.

আমরা যদি প্রশিক্ষিত থাকতাম! উম্মাহর এ করুণ অবস্থা দেখতো হতো না...

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • আমরা যদি প্রশিক্ষিত থাকতাম! উম্মাহর এ করুণ অবস্থা দেখতো হতো না...

    আমরা যদি প্রশিক্ষিত থাকতাম! উম্মাহর এ করুণ অবস্থা দেখতো হতো না...

    [সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরামগণের খেদমতে
    জনৈক তালিবে ইলম-এর একখানা পত্র]


    আস-সালামু আলাইকুম!
    সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরাম!
    বহুদূর থেকে আপনাদের খেদমতে একখানা পত্র লিখলাম। আশা করি, অধমের লেখা এ পত্রে একবার হলেও নজর বুলাবেন। আর উম্মাহর দরদে অধমের কথাগুলো সত্য মনে হলে আমাদের নিয়ে একটু ভাববেন।
    আরাকানে আমাদের মুসলিম ভাই-বোনদের সাথে বর্তমানে যা ঘটে চলছে, তা আজ মুসলিম উম্মাহর কারো অজানা নয়। বর্বর বৌদ্ধদের হাতে মুসলিম হত্যাযজ্ঞের ছবি কিংবা ভিডিও চিত্রগুলো দেখে অশ্রুসিক্ত হয়ে অন্তর বিগলিত হয়নি, অন্তত দ্বীনদরদী মুসলিমদের মাঝে এমন লোক হয়তো একেবারে নেই। মুসলিমরা আজ অন্তর থেকে বৌদ্ধ জালিমদের ধ্বংসের জন্য বদদুআ করে যাচ্ছেন। সূচির নির্মম পরিণতি দেখার অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অধমের প্রশ্ন হলো, এসব জালিমদের ধ্বংস করার পথ কী? আর আমরা কোন পথে হাঁটছি?

    সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরাম!
    আমি একজন মুসলিম হিসেবে মাজলুম উম্মাহর দরদে আরাকানের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে থাকি। আর যেহেতু আমি একজন তালিবে ইলম; তাই এ বিষয়টিও জানার চেষ্টা করি যে, আরাকানের উলামায়ে কেরাম, তালিবে ইলম এবং সেখানকার দ্বীনী মারকাজগুলোর কী হালাত চলছে? সেখানে কি আজও তালীম-তায়াল্লুম জারি আছে?

    অনুসন্ধানে জানতে পারলাম, বর্তমান আরাকানে ওখানকার উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। দ্বীনদার লোকদেরকে দেখা মাত্রই হিংস্র বৌদ্ধরা গুলি করে মারছে। মাসজিদ-মাদরাসাসমূহে ওরা পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও মাদরাসার কিতাবাদিও পুড়িয়ে ফেলছে। নিরস্ত্র আলেম-উলামা আর তালিবে ইলমরা এসব কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছেন না। অল্প কিছু অস্ত্রধারী বৌদ্ধ সন্ত্রাসীর হাতে প্রাণ হারাচ্ছে, তাদের থেকেও সংখ্যায় কয়েক গুণ বেশি নিরস্ত্র মুসলমান।

    আর আপনারা নিশ্চয়ই এটাও অবগত আছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা মুহাজিরদের মাঝে অনেক আলেম-উলামা ও তালিবে ইলম ভাইয়েরা রয়েছেন। আজ তারা নিরস্ত্র ও দুর্বল-শক্তিহীন হওয়ার কারণেই নিজেদের প্রিয় দ্বীনী মারকাজগুলো ছেড়ে এ দেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বহু কষ্ট-পরিশ্রম ব্যয় করে যেসব মাসজিদ-মাদরাসা তারা গড়েছেন, জীবনের বেশির ভাগ সময় যেখানে ইলম শেখা-শেখানোর জন্য কাটিয়েছেন; বর্তমানে তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার নিরস্ত্র মুরীদ এবং তাদের পীর-মাশায়েখগণ আজ কে কোথায় আছেন? একে অপরের কোনো খোঁজ-খবরই তারা জানেন না। সবাই নিজেকে বাঁচানোর চিন্তায় মশগুল।

    সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরাম!
    আরাকানের এ কঠিন পরিস্থিতি দেখে আজ খুব শঙ্কিত হয়ে পড়লাম। অদূর ভবিষ্যতে যখন মোদি-হাসিনা জোট বাংলাদেশে রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠার মানসে সম্মিলিতভাবে হামলা শুরু করবে, তখন আমাদের প্রিয় দ্বীনী মারকাজগুলোর কী অবস্থা হবে? মাদরাসার একেকটি ভবন নির্মাণের জন্য অর্থ জোগাড়ে আমাদের কতই না কষ্ট করতে হয়েছে! আপনাদের কত যে চিন্তা-ফিকির ব্যয় হয়েছে! অথচ, এ মাদরাসাগুলোর প্রতিরক্ষার জন্য আমরা তেমন ফিকিরই করছি না। ফিকির করছি না নিজেদের প্রতিরক্ষার ব্যাপারেও। আমাদের তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত। আমাদের উপরও যখন মোদি-হাসিনারা হামলা শুরু করবে, তখন আমরা কোথায় পালাবো? আমরা যেভাবে জিহাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র চালনাকে অবজ্ঞা করে চলছি, নিরস্ত্র হয়ে জীবনযাপন করছি। আমাদের এমন দুর্বল হয়ে থাকা কি নিজেদের জন্যই ধ্বংস ডেকে আনা নয়?

    সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরাম!
    আরাকানের মুসলিম মা-বোনেরা আজ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করছে। বৌদ্ধ পশুদের দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে। অত্যাচারিত এসব মুসলিমকে জালিমের কবল থেকে বাঁচানোর জন্য কি আমাদের উপর জিহাদ ফরয নয়? যদি ফরয হয়ে থাকে, তাহলে আমরা কি তাদের পাশে ছুটে যেতে পেরেছি? পারি নাই। কারণ জিহাদের কোনো প্রশিক্ষণই আমরা গ্রহণ করিনি। কখনো অস্ত্র পর্যন্ত ধরে দেখিনি। নির্যাতিত আরাকানীরা যেমন নিরস্ত্র, আমরাও তেমন নিরস্ত্র। এ জন্যই আমাদের মিছিল-মিটিং, লংমার্চ ইত্যাদি আন্দোলন-কর্মসূচিকে বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা কোনো তোয়াক্কাই করছে না। আমরা যদি সমস্ত নিরস্ত্র বাংলাদেশী মুসলমান মিলেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে লংমার্চ করি, মহাসমাবেশ আর বৃহৎ মিছিল প্রদর্শন করি; তবুও জালিম সন্ত্রাসীরা একটুও ভয় পাবে না। কারণ, তারা ভালো করেই জানে, আমাদের মতো নিরস্ত্র লোকদের দ্বারা তাদের কোনো ক্ষতি সাধিত হবে না। আর সমস্ত কাফের-মুশরিক এটাই চায় যে, আমরা অস্ত্র-শস্ত্র থেকে গাফেল থাকি; যাতে তারা আমাদের সহজে নিধন করতে পারে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে আমাদেরকে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন-
    وَدَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ تَغْفُلُونَ عَنْ أَسْلِحَتِكُمْ وَأَمْتِعَتِكُمْ فَيَمِيلُونَ عَلَيْكُمْ مَيْلَةً وَاحِدَةً
    ‘‘কাফেররা কামনা করে, তোমরা যেন তোমাদের অস্ত্র-শস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও, যাতে তারা অতর্কিতে তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে।” [সূরা নিসা: ১০২]

    আর আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতের শেষাংশে বলেছেন-
    وَخُذُوا حِذْرَكُمْ إِنَّ اللَّهَ أَعَدَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا
    ‘‘কিন্তু তোমরা আত্মরক্ষার সামগ্রী সঙ্গে গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের জন্য অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।”

    তাই সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরাম!
    বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করে এবার অন্তত আমাদের দ্বীনী বিদ্যাপীঠগুলোতে সশস্ত্র শক্তি অর্জনের ছবক শুরু করা হবে, এমনই আশা রাখি। আজ আমরা তালিবে ইলমরা বারবার এ আক্ষেপই করছি- আমরা যদি আরও আগ থেকে প্রশিক্ষিত থাকতাম!
    আল্লাহ তাআলা তো আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আদেশ করেছেন-
    وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ
    (হে মুমিনগণ) তোমরা তাদের মোকাবেলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-ছাউনি প্রস্তুত করো। যা দ্বারা তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করে রাখবে আল্লাহর শত্রু, তোমাদের শত্রু ও তাদের ছাড়া অন্যান্যদেরকে, যাদেরকে তোমরা জানো না, কিন্তু আল্লাহ জানেন।” [সূরা আনফাল: ৬০]

    আমরা যদি আরও পূর্ব থেকেই এসব আয়াতের উপর আমল করতাম! তাহলে মাজলুম উম্মাহর এমন অবমাননাকর অবস্থা আমাদের দেখতো হতো না। বিশেষ করে আমাদের আরাকানী মুসলিম ভাই-বোনদের এতটা নির্মম নির্যাতন সইতে হতো না। শোনতে হতো না এত ধর্ষিতা বোনের করুণ আর্তনাদ।
    আজ বারবার তিলাওয়াত করতে ইচ্ছে করছে, কুরআনের সেই আয়াতগুলো- আমাদের মাদরাসাসমূহে যেসব আয়াতের আলোচনা খুব কমই হয়ে থাকে; অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে এ আয়াতগুলোই আমাদের অনেক অনেক ভাবিয়ে তুলছে। পরিশেষে আমরা আপনাদের নেক দুআ কামনা করছি। আশা রাখি, আমাদের নিয়ে একটু ভাববেন।

    ইতি
    আপনাদের ছাত্র
    আব্দুল্লাহ ইবরাহীম।

    ......Al-balagh 1439 | 2017 | issue 6......
    Last edited by AL-BALAGH; 10-16-2017, 07:32 PM.

  • #2
    আল্লাহ তায়ালা ভাইকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
    "এই বার্তা সকল উলামায়ে কেরামের কাছে পৌছা প্রয়োজন। মুখলিস যে সকল উলামায়ে কেরাম আছেন তাদের বিবেকে ইনশাআল্লাহ কিছুটা হলেও নাড়া দেবে। তবে আল্লাহ তায়ালা যাদের চোখ অন্ধ করে রেখেছেন,তাদের কাছ থেকে আমরা জিহাদের বিরোধীতা বা চুপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কিইবা আশা করতে পারি?!!!"

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে নিজেদের দায়িত্ব,কর্তব্য যথাযথভাবে আদায় করার তাউফীক্ব দান করুন।আমীন

    Comment

    Working...
    X