Announcement

Collapse
No announcement yet.

কেন পতন হয় ? একটি উদাহরণই যথেষ্ট

Collapse
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • কেন পতন হয় ? একটি উদাহরণই যথেষ্ট

    কেন পতন হয় ?
    একটি উদাহরণই যথেষ্ট


    কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ইমামসহ মসজিদ কমিটির সদস্যদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি- ঐ ইমাম ফতওয়া দিয়েছিলো- নারীদের মাঠে কাজ করার বিরুদ্ধে।
    (http://www.ntvbd.com/bangladesh/1714...A6%A1%E0%A7%87)

    এ ঘটনাটিকে অনেকে ছোট হিসেবে নিলেও ছোট হিসেবে না নেয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, কারণ যারা আন্তর্জাতিক ইসলামবিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করে, তারা প্রত্যেকেই এ ঘটনাটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
    বিশেষ করে বিবিসি
    (http://www.bbc.com/bengali/news-42335032)
    এবং ডয়েচে ভেলে

    ঘটনা ঘটার সাথে সাথে ফিল্ডে সাংবাদিক পাঠিয়ে নিউজ করেছে।
    কিছু কিছু ইস্যুতে ইসলামবিদ্বেষীরা খুব বেশি রিয়্যাক্ট করে। যেমন ধরুন- পাঠ্যবইয়ে ওড়নার বিষয়টি। তারা এই ওড়না নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন নেমে যায়, যদিও অনেকের কাছে বিষয়টি অত বড় বলে মনে হয়নি। এর কারণ অনুসন্ধানে আমি দেখেছি, কোরআনের সূরা আহযাবের ৫৯ নম্বর আয়াতে ওড়না (চাদর বা লম্বা কাপড়) এর কথা এসেছে। যেহেতু কুরআনের বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে ব্যবহারিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে, তাই সেটার বিরোধীতা করতে আন্তর্জাতিক ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী একযোগে নেমে গেছে।সর্ব সাধারণ মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থে কি আছে, সেটা না জানলেও ইসলামবিদ্বেষীরা সেটা খুব ভালোভাবেই জানে।
    একই ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে। ইমাম সাহেব যে ইস্যুতেই ফতওয়া দিক, তার ফতওয়াটি সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতের সাথে মিলে গেছে। যেখানে বলা হয়েছে “'তোমরা (নারীরা) তোমাদের ঘরের ভেতর অবস্থান করো এবং মূর্খতা যুগের অনুরুপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।”
    আমি এনটিভির যে ছবিটি দিয়েছি, সেখানেও দেখুন, ক্যাপশনে কিন্তু ঐ অংশটি উল্লেখ আছে।
    ঐ ইমামের ফতওয়া শুদ্ধ হোক আর আলোচনা সাপেক্ষ হোক, সেটা আমার আলোচনার বিষয় নয়। আমি চিন্তিত হয়েছি এ বিষয়টি নিয়ে ইসলামবিদ্বেষী গ্রুপটি এত সক্রিয় হোল কেন ?
    ব্যপারটি এমন যে, মসজিদের ইমাম সাহেবরা যেন ইসলামের কোন বিষয়ে তাদের শেখানো কথার চাইতে বেশি কোন কিছু উল্লেখ করে সমাজে সেটার বাস্তবায়ন না করতে পারে, সে জন্য শক্ত আইনী পদক্ষেপ নিলো ইসলামবিদ্বেষী মহল। আরো সহজভাষায় বলতে- সমাজে মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থের বাস্তবায়ন বন্ধ করতে করতেই এ গ্রেফতার। শুধু গ্রেফতার নয়, গ্রেফতারের পরে প্রত্যেকে রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে।
    একটু চিন্তা করে দেখুন-
    এদের সংবিধানে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ, তারপরও সারা দেশে অবাধে পতিতাবৃত্তি চলছে, কোথায় কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
    এদের সংবিধানে জুয়া নিষিদ্ধ, তারপরও সারা দেশে অবাধে চলছে জুয়া খেলা। কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
    এদের সংবিধানে মদ নিষিদ্ধ, তারপরও দেশে অবাধে মদের বারগুলো চলছে, মানুষ মদ খাচ্ছে। কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
    তাহলে কি ইমাম সাহেব এত বড় অন্যায় করে ফেললো, তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিতে হবে ??
    বুঝলাম
    ইমাম সাহেব ফতওয়া দিয়েছে, প্রশাসন সেটা ফিল্ড পর্যায়ে জারি না করতে দিয়ে এভাবেই যদি ছেড়ে দিত তাহলেও একটা কথা ছিলো, তাকে গ্রেফতার করতে হবে কেন ? রিমান্ডে নিতে হবে কেন ?? তার অপরাধ কি এতই বড় ??
    আসলে তাদের কাছে ইমাম সাহেবের ফতোয়া অনেক বড় হয়ে দাড়িয়েছে কারন তারা কুরআন সহ্য করতে পারে না। এর আইনকে তারা এ যুগে অচল বলে ফতোয়া দেয়। তারা যে আর মুমিন নেই সে কথা আমরা আমাদের উলামা-মাশায়েখ-জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হচ্ছি না।
    ইসলামের শত্রুরা এখন আর আত্মরক্ষায় বসে নেই, বরং তারা সামনে বেরিয়ে এসে এখন আমাদের আক্রমণ করছে। তবে আমরা কিন্তু ঠিকই ঘুমে অচেতন।
    ইমাম সাহেব ফতওয়া দিয়েছিলেন- মাঠের ফসল রক্ষা করতে। তার উদ্দেশ্য ভালো। ফসল রক্ষা করা দৃশ্যত তার উদ্দেশ্য। অথচ তার নামে মামলা হয়েছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায়। এই আইনে বলা হচ্ছে- ‘এমন কোন বাধা যার মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন হ্রাস পাবে।’
    অথচ ঐ ইমাম কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন-ই চেয়েছিলো এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের সমাধান দিয়েছিলো। সারা বিশ্বে অন্যান্য ধর্মগুরুরাও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন সমাধান দেয়, তাই বলে তাদের কেউ গ্রেফতার করে না।
    যাই হোক,
    ইসলামবিদ্বেষীরা যখন খুবই সক্রিয়, তখন এ ইস্যুতে ইসলামী নেতাদের কি করা উচিত ছিলো ?
    অবশ্যই উচিত ছিলো দলমত নির্বিশেষ গ্রেফতারের প্রতিবাদ করা।
    কিন্তু- কোন নামধারী ইসলামী নেতা এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবাদ করেনি।
    উপরন্তু ইমামের ফতওয়ার শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললো ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহ !

    কথা হলো- ফতওয়া শুদ্ধ না অশুদ্ধ সেটা নিয়ে আলোচনা করার দরকার আছে কি নেই সেটা অন্য যায়গায় করা যেত। কিন্তু তার আগে মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমানের বিপদে এগিয়ে আসা বেশি জরুরী ছিলো। আজকে একজন ইমামকে গ্রেফতার করা হলো, রিমান্ডে নেয়া হলো, ইসলামী ঐক্যজোটের তো উচিত ছিলো সেটা নিয়ে প্রতিবাদ করা, কিন্তু সেটা ভুলে ফতওয়ার শুদ্ধতা-বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নয়।
    ইসলামবিদ্বেষীরা কিন্তু একজোট হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে,
    কিন্তু আমরা এখনও একজোট হতে পারিনি নিজেদের রক্ষায়।
    আর এ কারণেই আমাদের যত পতন হচ্ছে, মার খাচ্ছি বার বার।



  • #2
    একজন ব্যক্তি/ একটি জাতী যখন পতন হয় / ধংস হয়, সে নিজেও জানে না। যখন কারো দ্বিলে দ্বীনের বিধানের ব্যাপারে সংশয় / অপছন্দ তৈরি হয় তখনোই ইমান দূর্বল হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ইমান দূর হয়ে যায়। শেষমেশ কিছুই বাকী থাকে না।

    Comment


    • #3
      পতন পতিহত করার জন্য মুসলিম যুবকদের আগিয়ে আসতে হবে।।

      Comment


      • #4
        jajakallah
        যদি রাসুলকে কটুক্তি করা হয়, ওদের বাক সাধিনতার অংশ
        তাহলে ওদেরকে ধারালো চাপাতির আঘাতে হত্যা করা আমাদের
        দিনের অংশ। (আনওয়কর আল-আওরাকি রহি

        Comment


        • #5
          ইসলামবিদ্বেষীরা কিন্তু একজোট হয়েছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে, কিন্তু আমরা এখনও একজোট হতে পারিনি নিজেদের রক্ষায়। আর এ কারণেই আমাদের যত পতন হচ্ছে, মার খাচ্ছি বার বার।

          Comment


          • #6
            বিষয়টি খুবই দূঃখজনক।
            মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সহীহ বুঝ দান করুন। আমীন
            ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

            Comment


            • #7
              আরো দুঃখ জনক ফয়জুল্লাহ সাহেবের দীনতা।

              Comment


              • #8
                মুফতি ফয়জুল্লাহ..... قد بدت البغضاء من أفواههم وما تخفي صدورهم أكبر

                Comment

                Working...
                X