PDA

View Full Version : যেসব কারণে একজন মুসলমান হত্যার উপযুক্ত হয়ে পড়ে- ১২



ইলম ও জিহাদ
04-17-2018, 11:38 AM
দুই. কেসাস (القصاص)



কেউ কাউকে হত্যা করলে হত্যার বদলায় তাকেও হত্যা করা, কিংবা কেউ কারো কোন অঙ্গ নষ্ট করলে অঙ্গের বদলায় তারও উক্ত অঙ্গ নষ্ট করাকে কেসাস বলে। তবে আমাদের এ আলোচনায় কেসাস দ্বারা হত্যার বদলে হত্যা উদ্দেশ্য।


কোন মুসলমান অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করলে কেসাসের বিধান রয়েছে। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে। যে কাউকে হত্যা করলেই তার বিপরীতে হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে- এমনটা নয়।


কেসাসের বিধান আরোপ হওয়ার জন্য মৌলিকভাবে দু’টি শর্ত বলা যায়-

প্রথম শর্ত
যাকে হত্যা করা হয়েছে সে ব্যক্তি محقون الدم على التابيد হতে হবে। অর্থাৎ এমন ব্যক্তি হতে হবে, শরীয়ত যার জীবনের নিরাপত্তা দিয়ে রেখেছে এবং শরীয়ত সম্মত কোন কারণ না পাওয়া গেলে চিরদিনের জন্য তাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।


উপরোক্ত মূলনীতির নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের হত্যার দ্বারা কেসাস আসবে না-

১. হরবি তথা এমন কাফের যাদের সাথে মুসলমানদের কোন চুক্তি নেই।
২. মুআহাদ তথা এমন কাফের যাদের সাথে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি চুক্তি হয়েছে।
৩. মুসতা’মিন তথা এমন কাফের যে মুসলমানদের অনুমোদন নিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য দারুল ইসলামে এসেছে।
এদের কাউকে হত্যার দ্বারা কেসাসের বিধান আসবে না। অর্থাৎ কোন মুসলমান এ তিন শ্রেণীর কোন কাফেরকে হত্যা করলে তার বিপরীতে উক্ত মুসলামনকে হত্যা করা হবে না। কারণ, এসব কাফেরের জান-মাল মূলত মুসলমানদের জন্য হালাল। মূলত এদেরকে হত্যা করাও বৈধ, তাদের মাল-সম্পদ লুট করাও বৈধ।

সরাসরি হরবি তথা যেসব কাফেরের সাথে কোন চুক্তি নেই- তাদের বিষয়টা তো স্পষ্টই। আর বাকি দুই প্রকার কাফের তথা মুআহাদ ও মুসতা’মিনকে যদিও চুক্তি ও নিরাপত্তা দানের কারণে আপাতত হত্যা করা বৈধ নয়, কিন্তু মূলত তাদের জান-মাল মুসলমানদের জন্য হালাল। চুক্তি বা নিরাপত্তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেই অন্যান্য হরবি কাফেরের মতো তাদের হত্যা করা ও মাল লুণ্টন করা হালাল হয়ে যাবে। অতএব, তাদের জান-মাল চিরদিনের জন্য সংরক্ষিত নয়। তাই তাদের হত্যা দ্বারা কোন মুসলমানের উপর কেসাসের বিধান আরোপিত হবে না। অবশ্য চুক্তি ও নিরাপত্তা বহাল থাকাবস্থায় হত্যা করার কারণে মুসলমান গুনাহগার হবে।


কাফেরের চতুর্থ প্রকার- যিম্মি। তথা মুসলমানদের বশ্যতা স্বীকার করে জিযিয়া প্রদান করত দারুল ইসলামের বসবাসকারী কাফের। এদের হত্যার দ্বারা মুসলমান থেকে কেসাস নেয়া হবে কি’না সেটা আইম্মায়ে কেরামের মাঝে মত বিরোধপূর্ণ।


৪. মুরতাদ। কেননা, তার জীবনের নিরাপত্তা শেষ। তাকে হত্যা করা ফরয।

• এমনসব মুসলমানকে হত্যার দ্বারা কেসাস আসবে না, যারা হত্যাযোগ্য কোন অপরাধে লিপ্ত হয়েছে, তাদের নিজেদের স্বীকারোক্তি কিংবা শরয়ী সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে উপরোক্ত অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এবং দারুল ইসলামের শরয়ী কাযি তাদের হত্যার ফায়সালা দিয়েছেন। যেমন-

৫. বিবাহিত যিনাকারী পুরুষ বা মহিলা।
৬. ডাকাত ও রাহজান (পুরুষ হোক বা মহিলা)।

অতএব, যদি কাযি সাহেব কোন মুসলমানকে যিনা বা রাহজানির কারণে হত্যার ফায়সালা দেন, অতঃপর সরকারী জল্লাদ বা হত্যায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোন সাধারণ মুসলমান তাকে হত্যা করে ফেলে- তাহলে উক্ত মুসলমানের উপর কেসাস আসবে না। অর্থাৎ হত্যার বদলে তাকে হত্যা করা হবে না। কেননা, মুসলমানের জান-মাল সুরক্ষিত হলেও সে যে মুসলামনকে হত্যা করেছে, সে মুসলমান সুরক্ষিত নয়। বরং শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সে হত্যাযোগ্য। তাই তাকে হত্যার কারণে কেসাস আসবে না। অবশ্য কাযি সাহেবের আদেশ ছাড়াই নিজে নিজে হত্যা করার কারণে তাকে তা’যির করা হবে। কিন্তু কাযি সাহেবের ফায়সালা দেয়ার আগেই যদি হত্যা করে দেয়, তাহলে মাসআলা ভিন্ন।



দ্বিতীয় শর্ত
قتل العمد হতে হবে। তথা জেনে-শুনে ইচ্ছাকৃত হত্যা করতে হবে। অতএব, কোন মুসলমান যদি অন্য কোন মুসলমানকে অজান্তে বা ভুলবশত হত্যা করে ফেলে তাহলে এ হত্যার বিপরীতে কেসাস আসবে না। অবশ্য রক্তমূল তথা দিয়াত দিতে হবে এবং ইস্তিগফার করতে হবে। আল্লাহ তাআলার কাছে গুনাহ মাফ চাইতে হবে।


উল্লেখ্য যে, যাকে হত্যা করা হয়েছে, তার অভিভাবকরা ইচ্ছা করলে হত্যাকারীকে হত্যাও করতে পারে, ইচ্ছে করলে মাফও করে দিতে পারে। আবার ইচ্ছে করলে হত্যার বদলে দিয়াতও আদায় করতে পারে। অবশ্য দিয়াত আদায় করতে হলে হত্যাকারী তাতে সম্মত হতে হবে কি’না সেটা আইম্মায়ে কেরামের মাঝে মতবিরোধপূর্ণ।


সারকথা এই দাঁড়াল-
মুরতাদকে কিংবা যিম্মি ছাড়া অন্য কোন কাফেরকে হত্যার দ্বারা কেসাস আসবে না। যিম্মিকে হত্যার দ্বারা কেসাস আসবে কি’না সেটা মতবিরোধপূর্ণ। আর যেসব মুসলমানের ব্যাপারে যিনা বা রাহজানিতে লিপ্ত হওয়ার কারণে শরয়ী কাযি কতৃক হত্যার ফায়সালা এসেছে, তাদের হত্যার দ্বারাও কেসাস আসবে না। যাদের হত্যার দ্বারা কেসাসের বিধান আরোপিত হয়, নিহতের অভিভাবকরা ইচ্ছে করলে সেখানেও কেসাস না নিয়ে মাফ করে দেয়ার কিংবা দিয়াত আদায় করার সুযোগ রয়েছে।

তবে হদ এর ব্যতিক্রম। হদ মাফ করার কিংবা তার বদলে দিয়াত বা কোন অর্থ আদায় করার অবকাশ নেই।

[দেখুন: ফাতাওয়া শামী: ৬/৫৩২-৫৩৪, ফি মা ইউজিবুল ক্বাওয়াদ ওয়া মা লা ইউজিবুহ্; হেদায়া: ২/২০২, বাবুশ শাহাদাতি আলায যিনা ওয়ার রুজুয়ি আনহা; ফাতহুল ক্বাদির: ৫/৪১৬, বাবু কত্বয়িত তরীক; আহকামুল ক্বুরআন- জাসসাস: ১/১৭৪, সূরা বাক্বারা, আয়াতুল কেসাস।]

diner pothik
04-17-2018, 03:36 PM
জাযা কুমুল্লাহ

তারেক আল-হিন্দী
04-17-2018, 10:22 PM
মাশাআল্লাহ , অনেক সুন্দর একটা বিষয় পোষ্ট করা হয়েছে