আত্–তিবয়ান পাবলিকেশন্স পরিবেশিত
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- তৃতীয় পর্ব
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- তৃতীয় পর্ব
তৃতীয় অধ্যায়ঃ মু’মিন ও কাফিরের এই পৃথকীকরণের মাধ্যমেই তাদের মাঝে শত্রুতা সৃষ্টি হয়
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ
“আমি অবশ্যই সামুদ সম্প্রদায়েরনিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম এই আদেশসহঃ ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর’।কিন্তু তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো।”[[1]]
هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ
“এরা দুই বিবদমান পক্ষ, তারা তাদের রব সম্বন্ধে বিতর্ক করে…”[[2]]
إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوًّا مُبِينًا
“নিশ্চয়ই কাফেরগণ তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”[[3]]
আর এই শত্রুতার দ্বারা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা উভয় দলকেই পরীক্ষা করেন,
ذَلِكَ وَلَوْ يَشَاءُ اللَّهُ لانْتَصَرَ مِنْهُمْ وَلَكِنْ لِيَبْلُوَ بَعْضَكُمْ بِبَعْضٍ
“ইহা এজন্য যে, আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে তাহাদেরকে শাস্তি দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি চান তোমাদের একজনকে অন্যের দ্বারা পরীক্ষা করতে।”[[4]]
তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ
“এবং আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি প্রকাশ করি তোমাদের মধ্যে কারা মুজাহিদীন ও ধৈর্যশীল এবং আমি তোমাদের অবস্থা যাচাই করি।”[[5]]
সৃষ্টির পরীক্ষা নেয়া আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার একটি সুন্নাত এবং এ ব্যাপারে বহু আয়াত রয়েছে যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি। এ ব্যাপারে হাদিসেও স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছেনঃ “নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠিয়েছি শুধুমাত্র, তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং তোমার সাথে অন্যান্যদের পরীক্ষা করার জন্য।” [[6]]। ইমাম আন নববী (রহিমাহুল্লাহ) তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, “তাঁর (মহিমান্বিত তিনি) বাণীঃ
“নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠিয়েছি শুধুমাত্র, তোমাকে পরীক্ষা করার জন্য এবং তোমার সাথে অন্যান্যদের পরীক্ষা করার জন্য।” এর অর্থ হলো, “আমি তোমাকে ঐসব বিষয়ে পরীক্ষা করব যা তোমাদের দ্বারা প্রকাশ হয়ে পড়ে; আমার প্রেরিত হুকুম বাস্তবায়নের মাধ্যমে যা আমি রিসালাতের দ্বারা পাঠিয়েছি এবং এছাড়া আল্লাহর জন্য জিহাদের মাধ্যমে যেমন জিহাদ তাঁর প্রাপ্য এবং আল্লাহ্ তা’আলার জন্য সবর করার মাধ্যমে অথবা অন্য কোন উপায়ে।”
আমি তোমার সাথে তাদের পরীক্ষা করব যাদের প্রতি তোমাকে পাঠানো হয়েছে। এরপর তাদের মধ্যে কিছু লোক হবে যাদের ঈমান প্রকাশিত হবে এবং তাদের ঈমান হবে একনিষ্ঠ আল্লাহ্ ও তাঁর আনুগত্যের প্রতি এবং কিছু (মানুষ) পেছনে পড়ে থাকবে এবং স্থায়ীভাবে শত্রুতা করবে এবং কুফরী করবে এবং কিছু (মানুষ) যারা মুনাফিকে পরিণত হবে।” সুতরাং এর অর্থ হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদের পরীক্ষা করবেন যাতে এটি যথার্থভাবে প্রকাশিত হয় যে, আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর বান্দাদের শুধুমাত্র ঐ জিনিসের জন্য শাস্তি দিবেন যা তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে; তার ভিত্তিতে নয় যা সংঘটনের পূর্বেই তিনি অবহিত। আসলে তিনি সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত, তাঁর আয়াতঃ
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ وَنَبْلُوَ أَخْبَارَكُمْ
“এবং আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, যতক্ষণ না আমি প্রকাশ করি তোমাদের মধ্যে কারা মুজাহিদীন ও ধৈর্যশীল এবং আমি তোমাদের অবস্থা যাচাই করি।”[[7]]
অর্থাৎ আমি তাদেরকে চিনি যারা এটি করে এবং যাদের পরিচিতি এভাবে দেয়া হয়েছে।
[1] সূরা নামল ২৭:৪৫
[2] সূরা হাজ্জ ২২:১৯
[3] সূরা নিসা ৪:১০১
[4] সূরা মুহাম্মদ ৪৭:৪
[5] সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:৩১
[6] মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত
[7] সূরা মুহাম্মদ ৪৭:৩১
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় পর্ব
Comment