আত্–তিবয়ান পাবলিকেশন্স পরিবেশিত
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- পঞ্চম পর্ব
জিহাদ বিষয়ক মৌলিক আলোচনা
।। শাইখ আব্দুল কাদীর বিন আব্দুল আজিজ
[ আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে ত্বরিত তাওয়াগীতদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিন ]– ।।
–।।থেকে- পঞ্চম পর্ব
- মু’মিনরা অভিশপ্ত এবং মু’মিনদের কারণে তাদের উপর গযব আসবে এমন অভিযোগঃ
قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ
“তারা বললঃ আমরা তোমাদেরকে অমঙ্গলের কারণ মনে করি এবং যদি তোমরা বিরত না হও তবে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করব; …”[[1]]
- সত্য প্রত্যাখ্যান এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা যুক্তি প্রদর্শন; আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوا آَيَاتِي وَمَا أُنْذِرُوا هُزُوًا
“… কিন্তু কাফিররা মিথ্যা অবলম্বনে বিতণ্ডা করে, এরদ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য এবং আমার নিদর্শনাবলী ও যা দ্বারাতাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে সেই সমস্তকে তারা বিদ্রূপের বিষয়বস্তুরূপে গ্রহণকরে থাকে।”[[2]]
এগুলোর মাঝে লুকিয়ে ছিল তাদের বিভ্রান্তিসমূহ যা দ্বারা তারা আল্লাহর পথে বাঁধা সৃষ্টি করত।
- সাধারণ মানুষকে মু’মিনদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ
وَقَالَ الْمَلا الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لَئِنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًا لَخَاسِرُونَ
“তার সম্প্রদায়ের কাফির প্রধানরা বললঃ ‘তোমরা যদি শুআ’ইবকে অনুসরণ কর তবে তোমরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।”[[3]]
তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَنْ يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ
“ফিরাউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালকের শরণাপন্ন হোক। আমি আশংকা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনের পরিবর্তন ঘটাবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।”[[4]]
- মু’মিনরা মুষ্টিমেয় হওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ জনগণের উপর তাদের মতবাদ চাপিয়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ উত্থাপন। এর উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেছেনঃ
فَأَرْسَلَ فِرْعَوْنُ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
إِنَّ هَؤُلاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ
إِنَّ هَؤُلاءِ لَشِرْذِمَةٌ قَلِيلُونَ
وَإِنَّهُمْ لَنَا لَغَائِظُونَ
وَإِنَّا لَجَمِيعٌ حَاذِرُونَ
“এরপর ফিরাউন শহরে শহরে লোকসংগ্রহকারী পাঠালো এই বলেঃ ‘ইহারা তো ক্ষুদ্র একটি দল। ইহারা তো আমাদেরক্রোধ উদ্রেক করেছে এবং আমরা তো সকলেই সদা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সদা সতর্ক’।”[[5]]
- তারা দাবী করে যে, সত্য দ্বীনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান মু’মিনদের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ্ তা’আলা বলেনঃ
قَالَ فِرْعَوْنُ مَا أُرِيكُمْ إِلا مَا أَرَى وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلا سَبِيلَ الرَّشَاد
ِ
“ফিরাউন বললঃ আমি যা বুঝি, আমি তোমাদেরকে তাই বলছি। আমি তোমাদেরকে কেবল সৎপথই দেখিয়ে থাকি।”[[6]]
তিনি, (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা), বলেনঃ
إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَنْ يُخْرِجَاكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ الْمُثْلَى
“তারা বললঃ নিশ্চয় এরা দুইজন যাদুকর, তারা চায় তাদের যাদু দিয়ে তোমাদেরকে দেশ থেকে বের করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থা ধ্বংস করতে।”[[7]]
তিনি, (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা), বলেনঃ
فَلَمَّا جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ فَرِحُوا بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ
“তাদের কাছে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রাসূল আসত তখন তারা নিজেদের জ্ঞানের দম্ভ করত।”[[8]]
- নানাবিধ চক্রান্ত ও পরিকল্পনা করে সাধারণ মানুষকে মু’মিনদের অনুসরণ থেকে বিরত রাখা।
আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَقَالَ الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا بَلْ مَكْرُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ إِذْ تَأْمُرُونَنَا أَنْ نَكْفُرَ بِاللَّهِ وَنَجْعَلَ لَهُ أَنْدَادًا وَأَسَرُّوا النَّدَامَةَ لَمَّا رَأَوُا الْعَذَابَ وَجَعَلْنَا الْأَغْلالَ فِي أَعْنَاقِ الَّذِينَ كَفَرُوا هَلْ يُجْزَوْنَ إِلا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“যাদেরকে দুর্বল বলা হত তারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলবেঃ ‘প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকেনির্দেশ দিয়েছিলে যেন আমরা আল্লাহকে অমান্য করি এবং তাঁর শরীক স্থাপনকরি। যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা অনুতাপ গোপন রাখবে এবং আমিকাফিরদের গলায় শৃঙ্খল পরাব। তাদেরকে তারা যা করত তারই প্রতিফল দেয়া হবে।”[[9]]
- মু’মিনদেরকে সুবিধাবঞ্চিত করে দ্বীন থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা। আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
هُمُ الَّذِينَ يَقُولُونَ لا تُنْفِقُوا عَلَى مَنْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ حَتَّى يَنْفَضُّوا وَلِلَّهِ خَزَائِنُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنَّ الْمُنَافِقِينَ لا يَفْقَهُونَ
“তারা বলেঃ আল্লাহর রাসূলেরসহচরদের জন্য ব্যয় কর না যতক্ষণ না তারা তার থেকে সরে পড়ে। আকাশমন্ডলী ওপৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহরই কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।”[[10]]
- মু’মিনদেরকে নানাবিধ সমস্যায় ফেলে দ্বীন থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা। আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَدُّوا لَوْ تُدْهِنُ فَيُدْهِنُونَ
“তারা চায় তুমি নমনীয় হও; তাহলে তারাও নমনীয় হবে।”[[11]]
তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ
“…তাদের সম্পর্কে সতর্ক হও যাতে আল্লাহ্ যা তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন তা থেকে তারা তোমাকে বিচ্যুত করতে না পারে।”[[12]]
কাফিররা কখনো মু’মিনদের এমন আহবান করে না যাতে তারা সত্য থেকে কিছু সরে আসে। কিছু সময়ের জন্য এমনটি চাইলেও, তাদের পরিপূর্ণ তৃপ্তি ততক্ষণ পর্যন্ত আসে না যতক্ষণ না মু’মিনগণ সত্য থেকে পুরোপুরি সরে আসে। আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ
“ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা তোমার প্রতি কখনো সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না তুমি তাদের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর।”[[13]]
- মু’মিনরা যদি তাদের দ্বীন থেকে না সরে অথবা কাফিরদের সাহায্য সহযোগীতা না করে তবে তাদেরকে জেল ও মৃত্যুদন্ডের ভয় দেখানো। আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা) বলেনঃ
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا
“কাফিররা তাদের রাসূলগণকে বলেছিলঃ আমরা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের দেশ থেকে বহিষ্কৃত করব।”[[14]]
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
إِنَّهُمْ إِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا
“তারা যদি তোমাদের ব্যাপারে জানতেপারে তাহলে তোমাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করবে অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মেফিরিয়ে নিবে এবং সেক্ষেত্রে তোমরা কখনোই সফলকাম হবে না।”[[1]]
[1] সূরা ইয়াসীন ৩৬:১৮
[2] সূরা কাহফ ১৮:৫৬
[3] সূরা আ’রাফ ৭:৯০
[4] সূরা মু’মিন ৪০:২৬
[5] সূরা শু’আরা ২৬:৫৩—৫৬
[6] সূরা মু’মিন ৪০:২৯
[7] সূরা ত্বাহা ২০:৬৩
[8] সূরা মু’মিন ৪০:৮৩
[9] সূরা সাবা ৩৪:৩৩
[10] সূরা মুনাফিকূন ৬৩:৭
[11] সূরা কালাম ৬৮:৯
[12] সূরা মা’য়িদা ৫:৪৯
[13] সূরা বাকারা ২:১২০
[14] সূরা ইব্রাহীম ১৪:১৩
[15] সূরা কাহফ ১৮:২০