Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - দ্বিতীয় পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৫২ || কেমন ছিলেন তারা?! ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ - দ্বিতীয় পর্ব

    আল হিকমাহ মিডিয়া পরিবেশিত
    কেমন ছিলেন তারা?!
    ।। শাইখ খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল হুসাইনান রহিমাহুল্লাহ– ।।
    –।।থেকে- দ্বিতীয় পর্ব



    কেমন ছিল তাদের ইলম অন্বেষণ?


    তারা কোরআন হিফজ করতেন, আর আমল করতেন - শুধু এতটুকুই নয়। বরং তারা ইলম ত্বলব করতেন। এই বিষয়ে তাদের প্রবল আগ্রহ ছিল। কারণ তারা জানতেন যে, মানব জীবনে ইলমের গুরুত্ব অনেক। ইলম ছাড়া মানুষ তার রবের ইবাদত করবে কীভাবে? তাওহীদ ও শিরকের মাঝে পার্থক্য করবে কীভাবে? আনুগত্য ও নাফরমানীর মাঝে পার্থক্য করবে কীভাবে? সুন্নাহ ও বিদআহর মাঝে ফরক্ব করবে কীভাবে?

    তাই দ্বীনের অন্যান্য অনুষঙ্গের ন্যায় এ পথেও তারা আমাদের জন্য রেখে গেছেন অসংখ্য দৃষ্টান্ত। তাদেরই একজন সদস্য হলেন - হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন,

    حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُغِيثٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كُنْتُ أَكْتُبُ كُلَّ شَىْءٍ أَسْمَعُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُرِيدُ حِفْظَهُ فَنَهَتْنِي قُرَيْشٌ وَقَالُوا أَتَكْتُبُ كُلَّ شَىْءٍ تَسْمَعُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَشَرٌ يَتَكَلَّمُ فِي الْغَضَبِ وَالرِّضَا فَأَمْسَكْتُ عَنِ الْكِتَابِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَوْمَأَ بِأُصْبُعِهِ إِلَى فِيهِ فَقَالَ ‏ "‏ اكْتُبْ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا يَخْرُجُ مِنْهُ إِلاَّ حَقٌّ ‏"‏ ‏.‏

    আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যা কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে শ্রবণ করতাম, তা লিখে রাখতাম। আমি ইচ্ছা করতাম যে, আমি এর সবই সংরক্ষণ করি। কিন্তু কুরাইশরা আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করে এবং বলেঃ তুমি যা কিছু শোন তার সবই লিখে রাখ, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ, তিনি তো কোন সময় রাগান্বিত অবস্থায় কথাবার্তা বলেন এবং খুশীর অবস্থায়ও বলেন। একথা শুনে আমি লেখা বন্ধ করি এবং বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে অবহিত করি। তখন তিনি তার আঙুল দিয়ে নিজের মুখের প্রতি ইশারা করে বলেনঃ তুমি লিখতে থাক, ঐ যাতের কসম, যাঁর হাতে আমার জীবন, যা কিছু এ মুখ হতে বের হয়, তা সবই সত্য। (সুনানে আবু দাউদ - ৩৬০৭)

    আল্লাহু আকবার! রাসূলের যবান থেকে যা কিছু বের হতো, সবটাই লিখে ফেলতেনএটা সেই যুগে যখন লিখার উপকরণ এত সহজ ছিলনা। এত সুন্দর কলম আর খাতা ছিলনা আজকের যুগের মত মানুষ লেখালেখিতে অত অভ্যস্ত ছিলনা সে যুগে যা শুনতেন তাই লিখে ফেলতেন। ইলমের প্রতি প্রবল স্পৃহা থাকার কারণেই এমনটা করতে পেরেছেন।

    দেখুন তার ইলমের আগ্রহ কোন পর্যায়ের ছিল! ইলমের প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহের আরেকটি প্রমাণ হলো, তারা সকল বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করতেন। তাইতো আমরা হাদিসের কিতাবাদীতে সাহাবাদের অনেক প্রশ্নের উল্লেখ পাই। এমনকি গ্রাম থেকে যদি কোন বেদুইন আসতো তাহলে তারা অনেক খুশি হতেন। কারণ, সে রাসূলকে কিছু জিজ্ঞাসা করবে, ফলে তারাও কিছু জানতে পারবেনতাদের দ্বীনের ইলম ও বুঝ পরিপক্ক হবে।

    শুধু তাই নয়, তারা ইলমের জন্য যেকোনো কষ্ট ও মুজাহাদা করতে সদা প্রস্তুত থাকতেননির্ঘুম রজনী, ক্ষুধার যন্ত্রণা, দীর্ঘ পথচলা, তীব্ররোদে মরুভূমির সফর সব কিছু তারা সহ্য করতো ইলমের জন্য। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস যাকে এই উম্মাহর ‘হিবর’ বলা হয়। রইসুল মুফাসসিরীন নামে যাকে স্মরণ করা হয়, তিনি বলেন-

    ‘আমি যদি কারো ব্যাপারে শুনতে পাই যে, তার কাছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস আছে আমি তার কাছেই ছুটে যাই। সেই হাদিসখানা শুনার জন্য’

    তিনি যদি কারো কাছে দুপুর বেলা যেতেন এবং তাকে গিয়ে বিশ্রামে পেতেন, তাহলে তার দরজার সামনে বসে থাকতেনরোদের প্রচণ্ড তাপের মধ্যে দরজার সামনে বসে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতেন। অথচ তিনি হলেন, ইবনু আম্মি রাসূলিল্লাহ!

    একবার এমন হয়েছে, তিনি এক সাহাবীর দরজায় বসে আছেন। সেই সাহাবী বের হয়ে দেখেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস দরজার সামনে বসা। তিনি তাকে দেখে অবাক হলেন। লজ্জিত হলেন। বিনয়ের সাথে বললেন, ‘আপনি এই তীব্র রোদের মাঝে কেন আসলেন? আপনি বললেই তো আমি আপনার কাছে যেতাম। কারণ আপনি তো রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচাতো ভাই’

    তখন ইবনে আব্বাস বললেন, ‘না না, আমিই আপনার কাছে আসার বেশি হক্বদার। কারণ আমি তো ইলমের জন্য এসেছি’ আহলে ইলমের বিনয় দেখুন!

    তাদের ইলমের আগ্রহ আমাদের আজকের পড়াশোনার মত ছিলনা। আমরা তো আজ কিতাব জমা করছি, সার্টিফিকেট ভারী করছি, সনদ মোটা করছি, মুতুন মুখস্থ করছি, কবিতা মুখস্থ করছি মানুষ আমাদের যোগ্যতা সম্পর্কে জানবে এরপর মূল্যায়ন করবে। ভালো কোন পোষ্টে চাকুরী হবে। না, তাদের ইলম অন্বেষণ এ রকম ছিলনা। বরং তাদের ইলম অন্বেষণের একমাত্র লক্ষ্য ছিল তা আমলে পরিণত করা। আমলকে উন্নত করা। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের মানসিকতা বিশুদ্ধ করার জন্য বলেন- ‘ইলম রেওয়ায়েতের আধিক্যের নাম নয়। অমুকে বর্ণনা করেছে, অমুকে বলেছে, অমুক থেকে শুনেছি, এমন রেওয়ায়েতের আধিক্যের নাম ইলম নয়। বরং ইলম হলো খাশইয়াত। বান্দার হৃদয়ে আল্লাহর ভয়। তার রবের ভীতি’

    ইমাম মালেক, মদিনার ইমাম বলেন- “ইলম এবং হিকমত হলো নূর’এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা যাকে পছন্দ করেন তাকে পথ দেখান। অনেক মাসআলা জানার নাম ইলম নয়”

    সুতরাং আল্লাহর বান্দারা! ভালো করে বুঝুন। আজকে আমরা মুখস্থ করছি, সার্টিফিকেট আর সনদ জমা করছি, মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছি। কিন্তু আমাদের বাস্তব জীবনে এর কোন প্রভাব নেই। আমাদের আখলাকে, ইখলাসে, তাকওয়ায় যার কোন আছর নেই - সেটা কি ইলম হতে পারে?

    ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিদের কেউ যখন ইলম ত্বলব করতেন, ইলম তখন তাদের নামাজে প্রভাব ফেলতো তাদের খুশু -খুজু, তাদের দৃষ্টিশক্তি, তাদের ভাষা, তাদের চলা ফেরা সব কিছুতেই প্রভাব ফেলতো’



    ইবাদতে তারা কেমন ছিলেন?


    তারা এক্ষেত্রেও আমাদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। এটাই ছিল তাদের মূল ব্যস্ততা। তারা সুখে দুখে, দেশে ও সফরে, ঘরে ও মসজিদে, প্রকাশ্যে ও নির্জনে, সর্বদা আল্লাহ তায়ালার ইবাদতেই লিপ্ত থাকতেন। এক্ষেত্রে তাদের আদর্শ ছিলেন তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ক্ষেত্রে তাদের জন্য উত্তম আদর্শ ছিলেন।
    أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عِلَاقَةَ قَالَ: سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ يَقُولُ: قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا تَوَرَّمَتْ قَدَمَاهُ فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَفْعَلُ هَذَا وَقَدْ غُفِرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ وَمَا تَأَخَّرَ؟ قَالَ: (أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا)

    “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে লম্বা লম্বা সময় যাবত দাড়িয়ে থাকতেন, ফলে তার পা ফুলে যেতো। আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি নিজেকে এত কষ্টে ফেলছেন কেন? আল্লাহ তায়ালা তো আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন’জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তবে কি আমি শোকরগোযার বান্দা হবো না?” (সহীহ আল বুখারী - ৪৮৩৬; সহীহ মুসলিম - ২৮১৯)

    এই ঘটনাটি শুনুন! সহীহ বুখারীতে এসেছে।

    حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ الرَّجُلُ، فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَى رؤْيَا قَصَّهَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَمَنَّيْتُ أَنْ أَرَى رُؤْيَا، فَأَقُصَّهَا عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكُنْتُ غُلاَمًا شَابًّا وَكُنْتُ أَنَامُ فِي الْمَسْجِدِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَيْتُ فِي النَّوْمِ كَأَنَّ مَلَكَيْنِ أَخَذَانِي، فَذَهَبَا بِي إِلَى النَّارِ فَإِذَا هِيَ مَطْوِيَّةٌ كَطَيِّ الْبِئْرِ، وَإِذَا لَهَا قَرْنَانِ، وَإِذَا فِيهَا أُنَاسٌ، قَدْ عَرَفْتُهُمْ فَجَعَلْتُ أَقُولُ: أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ النَّارِ قَالَ: فَلَقِيَنَا مَلَكٌ آخَرُ، فَقَالَ لِي: لَمْ تُرَعْ فَقَصَصْتُهَا عَلَى حَفْصَةَ، فَقَصَّتْهَا حَفْصَةُ [ص: 163] عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَكَانَ، بَعْدُ، لاَ يَنَامُ مِنَ اللَّيْلِ إِلاَّ قَلِيلاً

    “হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বড় ইবাদতগুযার সাহাবী। কিয়ামুল্লাইল আর সিয়ামুন নাহার যার নিত্যদিনের আমল। একবার ঘুমিয়ে আছেন। স্বপ্নযোগে তার কাছে দুইজন ফেরেশতা আসলো। এসে তাকে নিয়ে জাহান্নামের কিনারায় চলে গেলো। সেখানে তিনি কিছু পরিচিত মানুষ দেখতে পেলেন। তিনি বলতে লাগলেন, আউযু বিল্লাহি মিনান্নার। আউযু বিল্লাহি মিনান্নার। আউযু বিল্লাহি মিনান্নার (আমি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে পানাহ চাই)

    পরদিন তিনি এই স্বপ্নের কথা আম্মাজান হাফসার কাছে বললেন। তিনি এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

    نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللهِ، لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيلِ

    “অর্থঃ আব্দুল্লাহ অনেক ভালো মানুষ, যদি সে কিয়ামুল্লাইল করতো” (সহীহুল বুখারী ৪৪০, মুসলিম ২৪৭৮, তিরমিযী ৩২১, নাসায়ী ৭২২, ইবনু মাজাহ ৭৫১)

    দেখুন, এই সাহাবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছোট্ট এই বাক্যটি দ্বারা কতটা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তার ছেলে সালেম বলেন, আব্বাজান এরপর থেকে রাতে খুব কম সময় ঘুমাতেন। এটা ছিল, তাদের জীবনে রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কথার প্রভাব। সাথে সাথে প্রভাব। অথচ আমরা?

    আমরা প্রতিদিন কত হাদিস শুনি, কত বয়ান শুনি, কত দরস শুনি, কিন্তু এর কতটুকু আমরা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করি?

    মুহাম্মদ বিন তালহা, সাহাবাগণ তাকে সাজ্জাদ বলে ডাকতেন। কেন জানেন? প্রচুর সিজদা এবং নামাজের কারণে সবাই তাকে সাজ্জাদ (প্রচুর সিজদাকারী) বলে ডাকতেন।

    আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু বড় ইবাদতগুযার ছিলেন। দিনের বেলা রোজা, আর রাতের নামাজের বড় পাবন্দ ছিলেন। কিছু মানুষ আছে যারা মানুষের সামনে আল্লাহর ইবাদত করে। মসজিদে এবং উন্মুক্ত যায়গায় আল্লাহর ইবাদত করে। কিংবা বিশেষ কোন মওসুমে যেমন রমজানে ইবাদত করে। কিংবা যখন কোন মুসিবতে পড়ে, মামলায় পড়ে কিংবা অসুস্থ হয়। আল্লাহর কাছে তার কোন প্রয়োজন হয়, তখনই সে আল্লাহর ইবাদত করে। যখন সেই মওসুম চলে যায়, কিংবা সেই মসিবত দূর হয়ে যায়- তখনই আবার সে আল্লাহকে ভুলে যায়। সে বিতাড়িত শয়তানে পরিণত হয়।

    হযরত নাফে রহিমাহুল্লাহকে আব্দুল্লাহ বিন উমরের ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। ঘরে তিনি কেমন ইবাদত করতেন?


    উত্তরে বললেন, ‘তোমাদের দ্বারা তা সম্ভব নয়’দেখুন কি বললেন! অর্থাৎ তিনি যে পরিমাণ ইবাদত করেন, তা তোমাদের দ্বারা কখনো সম্ভব নয়। নাফে রহিমাহুল্লাহ আরও বলেন, ‘তিনি প্রতি নামাজের জন্য অজু করেন। কোরআন সব সময় তার সামনেই থাকে’অর্থাৎ তিনি ঘরে, হয়তো নামাজে থাকেন, কিংবা কোরআন তিলাওয়াতে কিংবা অন্য কোন আমলে। তার ঘরের সময় এভাবেই কাটে।

    প্রকৃত অর্থে বলতে গেলে সাহাবাদের জীবন হলো- ইবাদতের একটি শিকলের ন্যায়এক ইবাদত থেকে বের হয়ে, আরেক ইবাদতে লিপ্ত হচ্ছেন। এক যিকির শেষ করে আরেক যিকিরে লিপ্ত হচ্ছেন। এভাবেই তারা চালিয়ে যেতেন আল্লাহর আনুগত্যের নিরবচ্ছিন্ন একটি পরিক্রমা। এটা শুধু নিজ এলাকায় থাকারই চিত্র নয়। সফরেও তারা এই একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন। আমরা যদি আমাদের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, নিজ এলাকায় থাকলে আমরা আমল কমবেশি যাই করি, সফরে পুরো উল্টো চিত্র। অলসতা, গাফলতিতে আমরা ডুবে যাই ধারাবাহিক আমলগুলোও ছুটে যায়। কিন্তু সাহাবাদের দৃশ্য এর পুরো ব্যতিক্রম।

    ইবনে আবি মুলাইকা রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘আমি একবার ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে মক্কা থেকে মদিনা পর্যন্ত সফর করেছিলাম। পথিমধ্যে রাতের বেলা যখনই কাফেলা বিরতি দিতেন, তখনই তিনি নামাজে দাড়িয়ে যেতেন। অর্ধ রাত পর্যন্ত নামাজ পড়তে থাকতেন’

    একটু চিন্তা করুন! সফরে যখন যাত্রাবিরতি হয়, শরীর কত ক্লান্ত থাকে! ঘুমাতে মন চায়। বিশ্রামের জন্য শরীর কাতর হয়ে আসে। কিন্তু সে সময়ও তারা অর্ধ রাত দাঁড়িয়ে নামাজে কাটিয়ে দিতেন।

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেক সাহাবী হামযা বিন আমর আল আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু

    حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَأَصُومُ فِي السَّفَرِ وَكَانَ كَثِيرَ الصِّيَامِ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ إِنْ شِئْتَ فَصُمْ، وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ ‏"‏‏.‏

    তিনি একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সফরেও রোজা রাখতে সক্ষম। আমি যদি সফরে রোজা রাখি তাহলে কি আমার গুনা হবে’আল্লাহর রাসূল বললেন, ‘হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ছাড় দিয়েছেন। ইচ্ছে করলে না রাখতে পারো। আর যদি রাখতে চাও তাহলেও সুযোগ আছে কোন গুনাহ হবেনা’(বুখারী - ১৮১৯)

    সুবহানাল্লাহ! ইবাদতের কি আগ্রহ তাদের। ছাড় পাবার পরও আমল করার উদগ্র বাসনা তাকে কিভাবে প্রভাবিত করছে।

    সুতরাং হে আল্লাহর বান্দা! আর গাফেল থাকবেন না। আল্লাহর দয়া আমাদের উপর যে, তিনি আমাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের বিধান দিয়েছেন। তাই যেটা আপনার জন্য সহজ নিজেকে সেই ইবাদতেই লিপ্ত রাখুনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘প্রতিটি নেক কাজ সাদাকা’সুতরাং চেষ্টা করুন যাতে সব ধরনের নেক আমল আপনার আমলনামায় একত্রিত হয়। স্বল্প করে হলেও।





    ​আরও পড়ুন

  • #2
    আল্লাহ আমাদের এমন ইলম দান করুন, যা শুধু মুখস্থ বা সনদে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের আমল, আখলাক, তাকওয়া ও ইখলাসে প্রতিফলিত হয়। সালাফে সালিহীনের মতো ইলমের জন্য ত্যাগ, বিনয় ও আন্তরিকতা অর্জনের তাওফীক দিন। আমীন।

    Comment

    Working...
    X