Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৩২ || “ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গণতন্ত্র (সূরা আসরের আলোকে) ” ।। মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ || ১৯তম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৩২ || “ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গণতন্ত্র (সূরা আসরের আলোকে) ” ।। মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ || ১৯তম পর্ব

    আন নাসর মিডিয়াপরিবেশিত

    ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে
    একবিংশ শতাব্দীর গণতন্ত্র’’

    (সূরা আসরের আলোকে)

    ।।মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ ||
    এর থেকে৯তম পর্ব


    ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্র: এক ভয়ানক কুফর


    গণতন্ত্র (সেটি প্রাচ্যের হোক বা পাশ্চাত্যের কিংবা বলা হোক ইসলামী) এর আসল হৃদপিণ্ড হলো ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি। এর মধ্যে প্রবেশ করে কারো এ ধারণা করা যে, তারা ইসলামী রাজনীতি করছে, অথবা গণতন্ত্রকে ইসলামী ও ধর্মনিরপেক্ষ- এ দু’ভাগে ভাগ করার অর্থ হলো, মদকে ইসলামী ও ধর্মনিরপেক্ষ- এ দু’ভাগে ভাগ করা।

    নিঃসন্দেহে নব্য জাহেলী যুগ প্রতারণার বিচারে অদ্বিতীয়। গণতন্ত্রের নামে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের যে কুফরীতে পৃথিবীকে আক্রান্ত করা হয়েছে, এর গভীরতা ও প্রশস্ততা পাঠ করার পর এ কথা বলা অযৌক্তিক হবে না যে, শয়তান তার জীবনের সব অভিজ্ঞতা নিংড়ে এ ব্যবস্থায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। সে তার চিরশত্রু মানুষকে এবার এমন এক কুফরীতে জড়িয়ে দিয়েছে, যা মানুষ অনুভবই করতে পারে না।

    এ কুফর অতীতের কুফরের চেয়ে ভিন্ন। অতীতে যত কুফর ছিল, তাতে কুফরের ধরন ছিল যে, যখন কেউ নিজের ধর্ম থেকে বের হয়ে অন্য কোনো ধর্মে প্রবেশ করত, তখন তাকে কাফের বলা হতো। কিন্তু এ নব্য কুফর গণতন্ত্রে আল্লাহকেও সরাসরি অস্বীকার করা হয় না, আবার আল্লাহ প্রেরিত নবীকেও সরাসরি অস্বীকার করা হয় না। তেমনি কুরআন, কিয়ামত ও আখিরাতও অস্বীকার করা হয় না। এটি এমন এক কুফর, যা সালাত-সাওমকে বাধ্যতামূলকও করে না, আবার এগুলো আবশ্যক- এ বিশ্বাসও রাখতে দেয় না; বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সালাত মুবাহের পর্যায়ভুক্ত। মন চাইলে পড়বে, না চাইলে পড়বে না। এ নব্য ধর্ম তার ভিকটিমকে আগের ধর্ম ত্যাগ করতে বলে না। কোনো ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের সাথে বিদ্রোহও করানো হয় না; বরং তা আদায় করেও সামাজিক জীবন এক নতুন ধর্ম ও জীবনব্যবস্থা (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ ও গণতন্ত্র) অনুযায়ী পরিচালিত করতে বাধ্য করে।

    মুফতী তাকী উসমানী সাহেব দা.বা. তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমে এটির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন-

    مكانة السياسة في الدين

    قد اشتهر عن النصارى أنهم يفرقون بين الدين والسياسة بقولهم: "دع ما لقيصر لقيصر وما لله لله"، فكان الدين لا علاقة لها بالسياسة، والسياسة لا ربط لها بالدين، وإن هذه النظرية الباطلة قد تدرجت إلى أبشع صورا في العصور الأخيرة بإسم "العلمانية" أو "سيكولرازم" التي أخرجت الدين من سائر شؤون الحياة حتى قضت عليها بتاتا.

    وإن هذه النظرية في الحقيقة نوع من أنواع الإشراك بالله، من حيث أنها لا تعترف للدين بسلطة في الحياة المادية، فكأن الإله ليس إله إلا في العبادات والرسوم، وأما الأمور الدنيوية فلها إله أخر، والعياذ بالله.




    ধর্মে রাজনীতির স্থান


    ‘খৃষ্টানদের ধর্মের ব্যাপারে এ কথা প্রসিদ্ধ যে, তারা ধর্ম ও রাজনীতির মাঝে পার্থক্য করে। তারা বলে, যা বাদশার অধিকার, তা বাদশাকে দাও। আর যা আল্লাহর হক্ব, তা আল্লাহকে দাও। যেন ধর্মের সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এ ভ্রান্ত মতবাদ শেষযুগে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা সেক্যুলারিজম এর নামে তার কুৎসিতরূপে আবর্তিত হয়েছে। যা ধর্মকে জীবনের প্রতিটি শাখা থেকে বের করে দিয়েছে। এমনকি ধর্মকে মিটিয়ে দিয়েছে।

    এ মতবাদ আসলে কুফরের একটি প্রকরণ। কারণ, এটি বৈষয়িক জীবনে ধর্মের ক্ষমতাকে স্বীকার করে না। এ মতবাদ ধর্মের অবদান এতটুকু স্বীকার করে, যতটুকু মানুষ একাকিত্বে বা উপাসনালয়ে আদায় করে। যেন ধর্ম কিছু আচার-অনুষ্ঠানেরই নাম। আর পার্থিব বিষয়াবলির জন্য তাদের রয়েছে অন্যান্য প্রভু। নাউযুবিল্লাহ!’

    উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু এ নব্য কুফরে পূর্বের ধর্ম থেকে বের হয়ে যাওয়া আবশ্যক নয়, তাই অনেকে এ কুফরী ধর্মের কুফরীই বুঝে না। তারা স্বীয় ধর্ম পালনের পাশাপাশি আরেকটি নতুন ধর্মকেও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করে নেয়। খৃষ্টানরা রবিবারে গির্জায় যেতে পেরেই সন্তুষ্ট। কারণ, নতুন এ ধর্ম ইবাদতের ব্যাপারে তাদের প্রতি কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করেনি। পুরো সমাজব্যবস্থা যে ইয়াহুদীদের তৈরি সেক্যুলারিজম এর অধীনে চলে যাচ্ছে- সেটার কোনো পরোয়া তারা করত না।

    তেমনিভাবে মুসলমানদেরকে এ ধর্মে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রথমে খিলাফাহ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়; যাতে কুরআনে কারীমের জীবনব্যবস্থা তাদের জীবন থেকে বিদায় নেয় এবং তারা শুধু ইবাদতকেই ধর্ম মনে করে। এর জন্য প্রাচ্যবিদ, তথাকথিত প্রগতিশীল ও আধুনিকমনা বুদ্ধিজীবীদের মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রয়াস চালানো হয়। শরয়ী পরিভাষাসমূহের অর্থ বিকৃত করা হয়। যেমন ফকিহগণ ধর্মীয় স্বাধীনতার এক ব্যাখ্যা দেন; কিন্তু ইংরেজ মুফতী ও কাদিয়ানীমার্কা মুফতীরা তার ব্যাখ্যা নতুন করে দেয়। তেমনিভাবে দারুল হারব ও দারুল ইসলামের রূপ, হাকিমিয়্যাহ ও আল-ওয়ালা ওয়াল-বারার রূপ, আল্লাহর আইন ও গাইরুল্লাহ’র আইনে বিচারকার্য- সবগুলোকে এমন সব অর্থে দাঁড় করিয়েছে যে, ফকিহগণের কথাগুলো পুরনো কিতাবাদিতেই রয়ে গেছে।

    মুসলমানদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র শরয়ী পরিভাষাসমূহকে খুবই শঠতার সাথে ব্যবহার করেছে। যেখানেই গণতন্ত্রের কুফরী স্পষ্ট হওয়ার আশংকা ছিল, সেখানেই নতুন পরিভাষা সৃষ্টি করা হয়েছে।

    মুসলমানদেরকে কিছু আচার-অনুষ্ঠান ও কিছু ইবাদতের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, অথচ তাদের সামাজিক জীবন থেকে শুধু ধর্মকেই বিতাড়ন করা হয়নি; বরং সামাজিক জীবনের জন্য কুফরের স্রষ্টারা তাদের জন্য একটি নতুন ধর্ম আবিষ্কার করে। যে ধর্ম মতে জীবন পরিচালনা করা জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আবশ্যিকভাবে পালন করতে হয়। কুফরী আইন ও জীবনব্যবস্থাকে জোরপূর্বক মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু এটি তারা অনুভব করতে পারেনি। কারণ, সালাত, সাওম, হাজ্ব ইত্যাদির অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। ইসলামী নাম রাখতেও নিষেধাজ্ঞা করা হয়নি। কারণ, তাদের মতে কুফর হলো ইসলাম থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বের হয়ে যাওয়ার নাম। কেউ নতুন ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করাকেই কুফরী মনে করা হতো; তবে নব্য কুফর এমন কোনো কিছুই দাবি করছে না।

    কিন্তু গণতন্ত্র ও সেক্যুলার সিস্টেমে একটু চিন্তা করলেই এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এটি একটি ধর্ম; তাতে রয়েছে নিজস্ব হালাল-হারাম। রয়েছে ফরয-ওয়াজিব। রয়েছে শত্রুতা-বন্ধুত্বের আলাদা মাপকাঠি। এসব তো স্বতন্ত্র ধর্মের মধ্যেই থাকে। কিন্তু এ ব্যবস্থার ধূর্ততা দেখুন, তার দাবি হলো, গণতন্ত্রে বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে কোনো ধর্মের আবশ্যকতা বা কোনো ধর্মের প্রতি নিষেধাজ্ঞা নেই। তাতে প্রত্যেক ধর্মই স্বাধীন; অথচ চিন্তা করলে বুঝা যায়, এটি এ সিস্টেমের প্রতারণা। পরিভাষাসমূহকে শঠতাপূর্ণ পন্থায় ব্যবহার করে মুসলমানদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    কুফর যে ধরনেরই হোক, সেটি একটি ধর্ম। যদিও সেটিকে ধর্মহীনতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, স্বাধীনতা বা ইসলামী গণতন্ত্রে নামকরণ করা হোক না কেন। এ ব্যাপারে আল্লামা আবূল হাসান আলী নদভী রহ. অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন।


    ‘কুফর শুধু একটি না বাচক বিষয় নয়; বরং তা হ্যাঁ বাচক ও প্রমাণিত বিষয়। শুধু আল্লাহর দ্বীন অস্বীকার করার নাম কুফর নয়; বরং সেটিও একটি ধর্মীয়, চারিত্রিক ব্যবস্থা ও বিশেষ একটি ধর্ম। যেখানে রয়েছে ফরয-ওয়াজিব। মাকরূহ-হারাম। তাই এ দুই ধর্ম এক স্থানে একত্রিত হতে পারে না। একজন মানুষ একই সময়ে দুই ধর্মের প্রতি আনুগত্য করতে পারে না।’






    আরও পড়ুন​
    ১৮তম পর্ব ------------------------------------------------------------------------------------ ২০তম পর্ব
    Last edited by tahsin muhammad; 1 week ago.
Working...
X