Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৩২ || “ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গণতন্ত্র (সূরা আসরের আলোকে) ” ।। মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ || ২৪তম পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৩২ || “ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে একবিংশ শতাব্দীর গণতন্ত্র (সূরা আসরের আলোকে) ” ।। মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ || ২৪তম পর্ব

    আন নাসর মিডিয়াপরিবেশিত

    ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে
    একবিংশ শতাব্দীর গণতন্ত্র’’

    (সূরা আসরের আলোকে)

    ।।মাওলানা আসেম উমর হাফিজাহুল্লাহ ||
    এর থেকে৪তম পর্ব




    ৫. সুদব্যবস্থার জয়জয়কার


    কুরআন-হাদীসের অসংখ্য স্থানে সুদের দুর্নাম করা হয়েছে। এটিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ অবহিত করা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা, হোক সেটা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক, এটি সুদব্যবস্থার উপরই দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ গণতন্ত্র হোক বা রাজতন্ত্র, দারুল আমান হোক বা দারুল হারব, এ সময়ের যেসব দেশ জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত, সব দেশই সুদের সাথে জড়িত। যেন বিশ্বব্যবস্থা প্রত্যেক রাষ্ট্রের জন্য সুদকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। আর সব রাষ্ট্রই জনগণের উপর বিভিন্ন করারোপ করে সেই সুদ সংগ্রহ করে। করের নামে দেশে দেশে যে পরিমাণ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে, এর একটি বিশেষ অংশ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর কাছে কিস্তি আকারে পৌঁছে যাচ্ছে।

    আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন-

    فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ﴿البقرة: ٢٧٩﴾


    “অতঃপর যদি তোমরা পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।” (সূরা বাকারাহ: ২৭৯)

    الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ﴿البقرة: ٢٧٥﴾


    “যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।”(সূরা বাকারাহ: ২৭৫)

    নবী কারীম কতই না শক্তভাবে সুদের তুলনা বর্ণনা করেছেন-

    عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الرِّبَا اثْنَانِ وَسَبْعُونَ بَابًا، أَدْنَاهَا مِثْلُ إِتْيَانِ الرَّجُلِ أُمَّهُ، وَأَرْبَى الرِّبَا اسْتِطَالَةُ الرَّجُلِ فِي عِرْضِ أَخِيهِ.


    হযরত বারা ইবনে আযিব রাযি. বলেন, রাসূল ইরশাদ করেছেন, “সূদের (পাপের) ৭২টি দরজা বা স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে নিম্নতম স্তর হচ্ছে- স্বীয় মায়ের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া তুল্য পাপ এবং ঊর্ধ্বতম স্তর হল কোন ব্যক্তি কর্তৃক তার এক ভাইয়ের মান-সম্ভ্রমের হানি ঘটান তুল্য পাপ’(তাবারানী; সিলসিলা ছহীহাহ, হাদীস নং-১৮৭১)

    عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ غَسِيلِ الْمَلَائِكَةِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِرْهَمٌ رِبًا يَأْكُلُهُ الرَّجُلُ وَهُوَ يَعْلَمُ أَشَدُّ مِنْ سِتَّةٍ وَثَلَاثِينَ زَنْيَةً.


    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হানজালা (যাকে ফেরেশতাগণ গোসল দিয়েছিলেন) থেকে বর্ণিত, রাসূল বলেন, “এক টাকা সুদও যদি কেউ জেনেবুঝে খায়, তা ছত্রিশবার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে মারাত্মক।”(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-৩৬, হাদীস নং-২১৯৫৭,শামেলা)
    عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ


    হযরত জাবের রাযি. বলেন, রাসূল অভিশাপ দিয়েছেন সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদলেখক, সুদের সাক্ষ্যদাতার উপরআরো বলেছেন, এরা সবাই সমান (অপরাধী)। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪১৭৭, শামেলা)
    عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: مَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الرِّبَا، إِلَّا أُخِذُوا بِالسَّنَةِ، وَمَا مِنْ قَوْمٍ يَظْهَرُ فِيهِمُ الرُّشَا، إِلَّا أُخِذُوا بِالرُّعْبِ


    হযরত আমর ইবনুল আস রাযি. বলেন, আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, “যে জাতির মধ্যেই সুদ ব্যাপক আকার ধারণ করে, তারা দুর্ভিক্ষের শিকার হয়। যে জাতির মধ্যে ঘুষ ব্যাপক হয়ে যায়, তারা ভয়ের শিকার হয়।”(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-২৯, হাদীস নং-১৭৮২২,শামেলা)

    সুতরাং প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনার মতামত কী? যেটি সুদি ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে আছে; বরং এর গভীরে যাওয়ার পর মনে হয় যে, এটির মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম হলো, সুদের লেনদেন থেকে মানুষ যেন বাঁচতে না পারে। তাই তো একদম নিম্নস্তর পর্যন্ত সুদের কারবার।

    আপনারা দেখছেন, সুদি কারবার শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, রাষ্ট্রীয়ভাবে সুদি কারবারকে শুধু বৈধই বলছে না; বরং অনেক কাজের মধ্যে তা আবশ্যক করে দেওয়া হয়েছে। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মানুষ সুদে জড়িত হচ্ছে।



    ৬. জোরপূর্বক করারোপ

    আল্লাহর সৃষ্টি থেকে কর আদায় করা সুদের চেয়েও মারাত্মক গোনাহ বলে সাব্যস্ত করেছেন উলামায়ে কেরাম। কিন্তু বিশ্বকুফরী ব্যবস্থা প্রত্যেক রাষ্ট্রকে (গণতন্ত্র হোক বা রাজতন্ত্র) তার নাগরিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কর আদায় করতে বাধ্য করছে। রাষ্ট্রীয় সুদি লেনদেনের ঋণের বোঝা জনগণের করের টাকা দিয়েই পরিশোধ করা হয়। এভাবে তাতে উভয় ধরনের নোংরামি ও জুলুম একত্রিত হয়ে যায়।

    ইমাম হাকিম রেওয়ায়েত করেন-

    عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: لَا يَدْخُلُ صَاحِبُ مَكْسٍ الْجَنَّةَ


    উকবা ইবনে আমের রাযি. বলেন, আমি রাসূল কে বলতে শুনেছি যে, “কর আদায়ে জুলুমকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড-২৮, হাদীস নং-১৭৩৫৪,শামেলা)

    এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কাযী ইয়াজ রহ. বলেন-

    وقوله: لقد تابت توبة لو تابها صاحب مكس لغفر له : فيه دليل على عظيم ذنب صاحب المكس


    রাসূল বলেছেন, “গামিদিয়াহ রাযি. এমন তাওবা করেছেন, যদি কর আদায়কারীরাও এমন তাওবা করে, তবে তাদেরকেও মাফ করে দেওয়া হবে।” কর আদায় বড় গোনাহ হওয়ার এটি একটি দলিল ।

    ইমাম আবূ বকর জাসসাস রহ. বলেন-

    وَكَذَلِكَ حُكْمُ مَنْ يَأْخُذُ أَمْوَالَ النَّاسِ مِنْ الْمُتَسَلِّطِينَ الظَّلَمَةِ وَآخِذِي الضَّرَائِبِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ الْمُسْلِمِينَ قِتَالُهُمْ وَقَتْلُهُمْ إذَا كَانُوا مُمْتَنِعِينَ، وَهَؤُلَاءِ أَعْظَمُ جُرْمًا مِنْ آكِلِي الرِّبَا لِانْتِهَاكِهِمْ حُرْمَةَ النَّهْيِ وَحُرْمَةَ الْمُسْلِمِينَ جَمِيعًا. وَآكِلُ الرِّبَا إنَّمَا انْتَهَكَ حُرْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى فِي أَخْذِ الرِّبَا وَلَمْ يَنْتَهِكْ لِمَنْ يُعْطِيهِ ذَلِكَ حُرْمَةً، لِأَنَّهُ أَعْطَاهُ بِطِيبَةِ نَفْسِهِ. وَآخِذُو الضَّرَائِبِ فِي مَعْنَى قُطَّاعِ الطَّرِيقِ الْمُنْتَهِكِينَ لِحُرْمَةِ نَهْيِ اللَّهِ تَعَالَى وَحُرْمَةِ الْمُسْلِمِينَ; إذْ كَانُوا يَأْخُذُونَهُ جَبْرًا وَقَهْرًا لَا عَلَى تَأْوِيلٍ وَلَا شُبْهَةٍ، فَجَائِزٌ لِمَنْ عَلِمَ مِنْ الْمُسْلِمِينَ إصْرَارَ هَؤُلَاءِ عَلَى مَا هُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَخْذِ أَمْوَالِ النَّاسِ عَلَى وَجْهِ الضَّرِيبَةِ أَنْ يَقْتُلَهُمْ كَيْفَ أَمْكَنَهُ قَتْلُهُمْ، وَكَذَلِكَ أَتْبَاعُهُمْ وَأَعْوَانُهُمْ الَّذِينَ بِهِمْ يَقُومُونَ عَلَى أَخْذِ الْأَمْوَالِ.


    ‘যেভাবে সুদের কারবারীদের সাথে ঐ সময় যুদ্ধ করা হবে, যখন তারা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে একটি শক্তিশালী গ্রুপের রূপ লাভ করবে। তেমনি সেসব মানুষের হুকুমও একই, যারা মানুষ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করে এবং করারোপ করে। যখন তাদের শক্তির কারণে তাদের উপর ইসলামী আইনপ্রয়োগ করা সম্ভব হয় না, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাদেরকে হত্যা করা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য ফরয। এরা তো সুদি কারবারিদের চেয়েও বড় অপরাধী। কারণ, আল্লাহ তা‘আলার হারামকৃত হুকুমকে তারা পদদলিত করে এবং মুসলমানদের সম্মানকেও পদদলিত করে। সুদ কারবারিরা তো শুধু আল্লাহর হুকুমই পদদলিত করে। কিন্তু সুদগ্রহীতা দাতার সম্মানে আঘাত করে না; বরং সুদদাতা সন্তুষ্ট হয়েই সুদ দেয়। কর আদায়কারীরা ডাকাতের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, তারা আল্লাহর হুকুমকে যেমন অসম্মান করে, তেমনি মুসলমানদেরকেও অসম্মান করে। কারণ, তারা শক্তির বলে জোরপূর্বক কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া মুসলমানদের সম্পদ উসুল করে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বৈধ হলো, যেভাবে হোক তাদেরকে হত্যা করা। যে মুসলমানই এ কথা জানবে যে, সে জোরপূর্বক মানুষের কাছ থেকে কর আদায় করছে এবং তেমনিভাবে তার সহযোগীদেরকেও হত্যা করা বৈধ।’




    আরও পড়ুন
    Last edited by tahsin muhammad; 2 days ago.
Working...
X