Announcement

Collapse
No announcement yet.

পাঠচক্র- ৪৪ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। মাওলানা আসেম ওমর রহিমাহুল্লাহ।। বিংশ পর্ব

Collapse
This is a sticky topic.
X
X
 
  • Filter
  • Time
  • Show
Clear All
new posts

  • পাঠচক্র- ৪৪ || ইসলাম ও গণতন্ত্র ।। মাওলানা আসেম ওমর রহিমাহুল্লাহ।। বিংশ পর্ব


    আবাবিল প্রকাশন মিডিয়া পরিবেশিত
    ইসলাম ও গণতন্ত্র
    ।।মাওলানা আসেম ওমররহিমাহুল্লাহ।।
    এর থেকে–বিংশ পর্ব




    গণতন্ত্র কি মুহাম্মাদ সা. এর শরীয়ত থেকে উত্তম

    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-

    أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ


    তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? [সূরা মায়েদা : ৫০]

    এর তাফসীরে আল্লামা ইবনে কাসির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

    এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সে সব লোকদেরকে খণ্ডন করেছেন যারা এই সুদৃঢ় আইন- যাতে রয়েছে বহুমুখী কল্যাণ এবং অনিষ্ট প্রতিরোধের সুব্যবস্থা- থেকে বের হয়ে যায়এই আইন থেকে বের হয়ে এমন কোনো আইন গ্রহণ করে, যা নিছক মানুষের মতামত, অভিলাষ এবং এমন সব পরিভাষা কেন্দ্রিক, মানুষ যা শরীয়তে ইলাহীকে পাশ কেটে তৈরি করে নিয়েছেযেমন জাহেলী যুগের লোকেরা ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার দ্বারা ফয়সালা করতযেগুলো তাদের ব্যক্তি মতামত এবং প্রবৃত্তির দ্বারা গঠিত ছিলযেমন তাতারি চেঙ্গিস খানের তৈরিকৃত রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক আইনে ফয়সালা করতযাকে ইয়াসিক বলা হতএটি ছিল বিভিন্ন শরীয়ত (জায়নবাদ, ধ্রিস্টবাদ এবং ইসলাম) থেকে চয়িত আইনের সমষ্টিএতে এমন অনেক আইন ছিল, যা শুধুই ধারণা এবং প্রবৃত্তির চাওয়া-পাওয়ার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। তাদের সন্তানদের মধ্যে এই আইনের উপর আমল হতে থাকেআদালতে এরা এই আইনকে কুরআন এবং সুন্নাহ থেকেও অনেক বেশি প্রাধান্য দিতঅতএব এদের (তথাকথিত মুসলমানদের) মধ্যে হতে যারা এমন করেছে, তারা কাফেরতাদের সাথে কিতাল করা ওয়াজিবযতক্ষণ না তারা শরীয়ত প্রবর্তনের পথে ফিরে না আসে এজন্য শরীয়ত ভিন্ন অন্য কোনো আইনে কোনো ফয়সালা করানো যাবে না, চাই তা ছোট মামলা হোক কিংবা বড় মামলা হোক

    ফকিহ ইমাম আবু লাইস সমরকন্দি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতের তাফসীরে বলেন-

    يعني: يطلبون منك شيئا لم ينزله الله اليك في حكم الزني والقصاص كما يفعل أهل الجاهلية


    যেনা এবং কিসাসের তারা আপনার নিকট জাহেলী যুগের মানুষের মত তার (আইন) দাবি করে যা আল্লাহ তায়ালা আপনার উপর নাযিল করেননি ।

    আল্লামা শাবিবর আহমাদ উসমানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই আয়াতের তাফসীরে বলেন-

    অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাজত্ব, রহমতে কামেলা এবং ইলমে মুহিত-এর উপর পরিপূর্ণ ইয়াকিন রাখে, তার নিকট দুনিয়ার কারো হুকুমই আল্লাহর হুকুমের দিকে মনোযোগ দেয়া কিংবা ভ্রক্ষেপযোগ্য হতে পারে নাআহকামে ইলাহিয়্যাহর আলো আসার পরও কি এরা ব্যক্তি মতামত, প্রবৃত্তির কামনা বাসনা এবং কুফরি ও জাহেলিয়াতের অন্ধকারের দিকে যাওয়া পছন্দ করে?

    দ্বীনি মাদরাসাগুলোর তালেবে ইলমরা! হে তাওহীদের ফরজন্দরা! আসলাফ প্রশ্ন করছেন, আহকামে ইলাহিয়্যাহ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তাওহীদের সন্তানেরা সেই শরীয়তের দিকে ফিরে যাওয়া পছন্দ করবে, যেই শরীয়ত ও জীবন বিধান সংসদে বসা বদকার, মদ্যপায়ী, লুটেরা এবং জামেয়া হাফসার তোমাদের বোনদের খুনিরা অনুমোদন করেছে? মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র শরীয়ত আসার পর আপনি এই বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে চুপ থাকবেন, যেখানে গায়রুল্লাহর তৈরিকৃত (মানব রচিত) আইনকে সম্মানিত মনে করা হয়? আপনারা কি সেই আইন পবিত্র মনে করবেন যা আল্লাহর আইনের মোকাবেলায় প্রণয়ন করা হয়েছে এবং যার ইবাদত ও দাসত্ব করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে? একদিকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত প্রবর্তনের দাবিদার আর অন্যদিকে ইবলিসি নিযাম ও তাগুতি জীবনব্যবস্থা রক্ষাকারী শক্তি....আসলাফ জিজ্ঞাসা করছে যে, তোমরা কার পক্ষে যাবে? কাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে? কিয়ামতের দিন কাদের কাতারে উঠতে চাও?



    আল্লাহর লানত থেকে বাঁচুন

    يكون في آخرالزمان قوم يحضرون السلطان فيحكمون بغير حكم الله ولاينهونه فعليهم لعنة الله.



    আখেরী জামানায় এমন জাতি আসবে যারা শাসকদের নিকট যাবে তাদের (শাসক) রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে আল্লাহর আইন থেকে ভিন্ন এরা সে সব শাসকদেরকে এর থেকে নিষেধ করবে না । এদের উপর আল্লাহর লানত ।[1]

    يَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ، إِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ، وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَكْفَرُوكُمْ.



    তোমাদের উপর এমন শাসকবর্গ থাকবে, তোমরা যদি তাদের কথা না শোনো, তারা তোমাদেরকে হত্যা করে ফেলবে । আর যদি তাদের আনুগত্য কর, তবে তোমাদেরকে কাফের বানিয়ে দিবে [2]


    ইচ্ছার ভিত্তিতে আল্লাহর শরীয়ত অস্বীকার


    আল্লাহর শরীয়ত অস্বীকার করার একটা সুরত এটাও যে, মানুষ সব কিছু জানা সত্ত্বেও শুধু খাহেশাতের ভিত্তিতে হককে অস্বীকার করে এবং বাতিলকে বাতিল জানার পরও তা স্বীকার করা হতে বিরত থাকে না। আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাইলের অবস্থা চিত্রায়ন করতে গিয়ে বলেন-

    أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ


    তবে কি তোমাদের নিকট যখনই কোন রাসূল এমন কিছু নিয়ে এসেছে, যা তোমাদের মনঃপূত নয়, তখন তোমরা অহঙ্কার করেছ, অতঃপর (নবীদের) একদলকে তোমরা মিথ্যাবাদী বলেছ আর একদলকে হত্যা করেছ। [সুরা বাকারা : ৮৭]

    الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا ۚ أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ


    যারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাত থেকে অধিক পছন্দ করে, আর আল্লাহর পথে বাধা দেয় এবং তাতে বক্রতার সন্ধান করে; তারা ঘোরতর ভ্রষ্টতায় রয়েছে । [সূরা ইবরাহীম : ৩]

    দুনিয়ায় বিলাসিতা করা, পদের স্বাদ উপভোগ করা, গ্রেফতারীর ভয়ে বাতিলকে হক প্রমাণিত করা, ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে বাঁচানোর জন্য চিরস্থায়ী পরকালকে বিক্রি করাকে কৌশল (মুসলিহাত) নাম দেয়া- এটাই দুনিয়ার মোহ, এটাই দুনিয়ার ভালোবাসা আর আল্লাহর রাস্তা হতে বিরত রাখা হল-আল্লাহর দ্বীন প্রবর্তন করতে না দেয়া শরীয়তের হিদায়াতের বিপরীতে গণতন্ত্রের ভ্রষ্টতাকে পছন্দ করাগণতন্ত্রের কুফরির বন্দনা গাওয়া আর শরীয়ত প্রবর্তনের পদ্ধতিতে খুত বের করার চেষ্টা করা।

    আল্লামা জমখশরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

    যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধিবিধান অস্বীকার করে গায়রুল্লাহর বিধিবিধান গ্রহণ করে, সে প্রবৃত্তির অনুসারী[তাফসীরে কাশশাফ]

    মুহাম্মাদ ইবনে সীরিন রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

    ان أسرع الناس ردةأهل الهواء


    মানুষের মধ্যে প্রবৃত্তি পূজারীরাই সব চেয়ে দ্রুত মুরতাদ হবে ।

    আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘ইকফারুল মুলহিদীন' গ্রন্থে বলেন-

    কুফরির নতুন এক প্রকার হল, প্রবৃত্তিপূজা ও ঔদ্ধত্যের ভিত্তিতে অস্বীকার করা

    হাফেয ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'আস সারিমুল মাসলুল المسلول) (الصارم গ্রন্থের ৫২৪ পৃষ্ঠায় বলেন-

    কখনো অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (গ্রহণ না করা), এসব বিষয়ে ইয়াকিনি ইলম ও নিশ্চিত জ্ঞান থাকার পরেও- যার উপর ঈমান আনা আবশ্যক- শুধু ঔদ্ধত্য, অবাধ্যতা অথবা প্রবৃত্তিরপূজার কারণে হয়। আর বাস্তবে এটা কুফরিকারণ এ ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সম্পর্কে যা যা সংবাদ দেয়া হয়েছে, তার সবই জানে মনে মনে সে সব বিষয় সত্যায়নও করে, যা মুমিনরা সত্যায়ন করে থাকে কিন্তু শুধু এ কারণে যে (আহকামে শরইয়্যাহ) তার চাওয়া পাওয়া এবং প্রবৃত্তির অনুযায়ী হয় না। এটা পছন্দ করে না বরং এর প্রতি নাখোশ, নারাজ । আর বলে, ‘আমি তো ওগুলো বিশ্বাসও করি না এর পাবন্দিও করি না। আমি তো এই হককে ঘৃণার চোখে দেখি’। অতএব এটা কুফরির নতুন এক প্রকার (অন্তরে ঈমান আর মুখে কুফরি) যা প্রথম প্রকার থেকে ভিন্নআর দ্বীনের মূলনীতির আলোকে এর কুফরি হওয়া অকাট্যভাবে জানা আছেকুরআন এ প্রকারের নাফরমান ও অহঙ্কারীদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেবরং অন্য কাফেরদের তুলনায় এদের শাস্তি আরও বেশি মর্মদন্তু৷

    এজন্য যে ব্যক্তিই গণতন্ত্রের কুফরিকে ভালোভাবে চিনেছে এবং শরীয়ত প্রবর্তনের হকপথকেও জেনেছে, তার জন্য উচিত, ঈমানের দাবি পূরণ করে হককে হক আর বাতিলকে বাতিল স্বীকার করা এবং নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা

    [1] كنز العمال في سنن الأقوا ل والأفعال . الجزء3 .الفصل الثاني.في تعديد الأخلاق المحمودة.علاء الديىن علي بن حسام الدين المتقي الهندي البرهانفوري( المتوفي: 975.ه)
    [2] رواه الديلمي عن عبادة بن الصامت





    আরও পড়ুন

    ঊনবিংশ পর্ব --------------------------------------------------------------------------------------- একবিংশ পর্ব
    Last edited by tahsin muhammad; 23 hours ago.

  • #2
    গণতন্ত্র এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীন কখনো বিজয়ী হবে না। তাই আমাদেরকে মুহাম্মদে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখানো পথে তথা জিহাদ ও কিতালের পথে ফিরে আসতে হবে। তবেই আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বিইযনিল্লাহ।
    ‘যার গুনাহ অনেক বেশি তার সর্বোত্তম চিকিৎসা হল জিহাদ’-শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.

    Comment

    Working...
    X